হোমিও চিকিৎসক হতে কোথায় পড়বেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দিন যতই সামনে এগোচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। আমাদের দেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বলা হয়ে থাকে হোমিও ঔষধে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। হোমিও চিকিৎসা নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন হোমিও চিকিৎসকদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছোটখাটো কোর্স করেই হোমিও চিকিৎসক হওয়া যায়। কিন্তু হোমিও শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য উচ্চতর শিক্ষা পদ্ধতি চালু রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার হোমিও চিকিৎসার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকটাই সচেতন হয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতি ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে হোমিও চিকিৎসা আইন পাশ হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে এখন থেকে হোমিও চিকিৎসকরা আইনগতভাবে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারবেন এবং হোমিও চিকিৎসকরা তাদের নিজস্ব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

কীভাবে একজন হোমিও ডাক্তার হবেন?
সরকারি এবং বেসরকারি দুই মাধ্যমেই হোমিও চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। হোমিও চিকিৎসক হওয়ার জন্য বাংলাদেশে দুটি কোর্স চালু রয়েছে। বিএইচএমএস (ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) এবং ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। এই দুইটি কোর্সের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন।

বিএইচএমএস কোর্স কি?
ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি কোর্স হলো এমবিবিএস কোর্সের সমান মর্যাদা সম্পন্ন একটি কোর্স। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ভাবেই এই কোর্স শিক্ষাগ্রহণ করা যায়। এই কোর্সের মেয়াদকাল পাঁচ বছর। সরকারিভাবে এই কোর্স করতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য ৫০ টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ৫০ জন শিক্ষার্থী এখান থেকে হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন। বেসরকারিভাবে বিএইচএমএস কোর্স এ ১০০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবে শুধু তারাই বেসরকারিভাবে বি এইচ এম এস কোর্স করতে পারবেন। বিএইচএমএস কোর্সের একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই প্রতিষ্ঠানে কোর্সটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বমোট খরচ হয় চার-পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠান দুটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের আওতাধীন।

বিএইচএমএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে অনুষ্ঠিত হয়?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সার্কুলার দিয়ে থাকেন। সাধারণত এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার পরে এই সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর আবেদন করতে পারেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ডিএইচএমএস কোর্স কি?
ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি একটি ডিপ্লোমা কোর্স। যে কোনো বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে এই কোর্সে এ ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য তেমন কোনো শর্ত থাকে না। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় ৬৫টির বেশি ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক কলেজ রয়েছে। ডিপ্লোমা কোর্স ধারীরা বিএইচএমএস কোর্সের সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে না। তবে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে ভালো রেজাল্ট নিয়ে বিএইচএমএস কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ডিএইচএমএস কোর্স ধারীরা নামের পাশে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারে না। এই কোর্সের সময়কাল চার বছর। তবে এই কোর্স সম্পন্ন করতে খরচ খুবই সীমিত।

হোমিওপ্যাথিক কোর্স করে বিসিএসে অংশগ্রহণ করা যায়?
বিএইচএমএস কোর্স ধারীরা সরাসরি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ডিএইচএমএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে কেউ যদি ডি এইচ এম এস কোর্স সম্পন্ন করে বিএইচএমএস কোর্স সম্পন্ন করে তবে সে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিএইচএমএস কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অন্তর্ভুক্ত।

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের ক্যারিয়ার কি?
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানে হোমিওপ্যাথিক ডক্টররা নিয়োগ পান। দেশে অনেক বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানেও তারা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাছাড়া নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ রয়েছে। সম্মানের দিক থেকে এমবিবিএস ডাক্তারদের সমান গুরুত্ব দেয়া হয়।




প্রান ফিরে পেয়েছে বরিশাল নগর ভবন

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: নতুন মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে ক্রমেই প্রান ফিরে পেতে শুরু করেছে বিভাগীয় শহরের বরিশাল সিটি করপোরেশনের নগর ভবন। দীর্ঘবছর ধরে নানা কারণে যারা নগর ভবন থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন, সেইসব নগরবাসী এখন ক্রমেই তাদের প্রয়োজনে বরিশাল নগর ভবন মুখী হচ্ছেন। পাশাপাশি নগরবাসী বর্তমান দায়িত্বগ্রহণ করা নতুন সিটি মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের হাত ধরে হারিয়ে যাওয়া প্রাচ্যের ভেনিসের সুনাম ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছেন।

নগর ভবনের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, অতীতের মেয়র তার সুবিধাজনক স্থানে বসে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ফলে দীর্ঘবছর ধরে বরিশাল সিটি করপোরেশনের হল রুমে হয়নি কোন সভা কিংবা সেমিনার। যেকারণে হল রুমটি অনেকটাই ভূতুরে রুমে পরিনত হয়েছিলো। নতুন সিটি মেয়র হিসেবে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের পর সিটি করপোরেশনে নিয়মিত অফিস করার ঘোষণা করেছেন। ফলশ্রুতিতে গতকাল তিনি প্রথম নগর ভবনের হলরুমে (সম্মেলন কক্ষে) সভা করেছেন। ওইদিন থেকেই প্রান ফিরে পেতে শুরু করেছে নগর ভবনের হলরুম।

সূত্রমতে, প্রথম সভায় সিটি মেয়র নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তথা ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংস্কার, কাঁচা রাস্তা পাকা করা, চলমান রাস্তার মান উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পূণ-সংস্কার ও নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, বৈদ্যুতিক সমস্যা নিরসন, সমগ্র সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়ক বাতি প্রতিস্থাপন, বর্ধিত এলাকাসহ সমস্ত সিটি করপোরেশনে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের নাগরিক সেবা দিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের লক্ষ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়।

ওই সভার বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে কাউন্সিলরবৃন্দ, সিটি করপোরেশনের সচিব মাসুমা আক্তার ও সকল প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠিত সভায় সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত সকল কাউন্সিলর এবং প্রকৌশলীসহ সিটি করপোরেশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক করে সকলকে সু-শৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শতভাগ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া যেকোন ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সকলকে সাবধান করে দিয়ে মেয়র বলেছেন, অন্যায় ও অনিয়মকারীকে আইন অনুযায়ী বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

একান্ত আলাপনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেছেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হলেও কখন রাজপথে নেমে রাজনীতি করার সৌভাগ্য হয়নি। কেন হয়নি তা বরিশালবাসী ভাল করেই জানেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালবাসীর ভাগোন্নয়নের জন্য আমার হাতে নৌকা দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন। সচেতন বরিশাল নগরবাসীও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে বিজয়ী করেছেন। যেকারণে প্রধানমন্ত্রী নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইতোমধ্যে নগরীর উন্নয়নে প্রায় আটশ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল-৫ সদর আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত প্রার্থীকে সদর আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করা হলে, বরিশালের উন্নয়নে আরো নতুন নতুন চমক দেখানো হবে।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




যুক্তরাষ্ট্র সুপার পাওয়ার, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পারি না: মোমেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুপার পাওয়ার। আমরা তাদের প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। আমরা করিও না। আমাদের কোনো উদ্দেশ্যও নেই। সোমবার (২৭ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. মোমেন বলেন, উন্নত দেশ (যুক্তরাষ্ট্র), তাদের তো আমরা কখনো অগ্রাহ্য করতে পারি না। আমরা তো এজন্য তাদের পরামর্শকে অত্যন্ত গুরত্বসহকারে গ্রহণ করি। তবে আমাদের দেশের একটা বাস্তবতা আছে। বাস্তবতার নিরিখে তারা যদি কোনো প্রস্তাব দেয়… আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র কিছু চায় না– উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা কিন্তু বেশি কিছু চায় না। তারা চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। আমরাও চাই। তারা আমাদের সাহায্য করছে। আমরা নিজেরা একটা সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চাই। আমরা যদি এটা করি, আমেরিকা আমাদের সঙ্গে থাকবে। তারা আমাদের বন্ধু দেশ। শুধু নির্বাচন নয়, তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন রকম সম্পর্ক আছে। আমেরিকা সবসময় বাস্তববাদী।




বরিশাল-৫: প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক মনোনয়ন পাওয়ায় নগরে আনন্দ মিছিল

বরিশাল অফিস: বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ফের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় এমপি জাহিদ ফারুকের সমর্থকেরা উচ্ছ্বাসিত। আজ রোববার সন্ধ্যার পরপরই আতশবাজি ও আনন্দ মিছিলে বরিশাল উৎসবের নগরিতে পরিণত হয়। বিভিন্ন এলাকায় নেতা কর্মীরা এজন্য মিষ্টিমুখও করেন। এ অঞ্চলের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ছেলে সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আবারও এই আসনে মনোনয়ন পেলেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এজন্য তার ক্লিন ইমেজকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।

সন্ধ্যায় নগরীতে যে মিছিল বের হয় তাতে অংশ নেন এমপি জাহিদ ফারুকের সমর্থক ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা কাশিপুরের বাসিন্দা মো. নাসিম বলেন, ‘গত ৫ বছরে জাহিদ ফারুক বরিশালে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করেননি। পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সৎ ভাবে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে আবারও মনোনয়ন দিয়েছেন।’

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘জাহিদ ফারুক এ অঞ্চলে ভদ্র রাজনীতি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাধারণ মানুষের তার সঙ্গে দেখা করতে ধর্না দেয়া লাগে না। সংসদ সদস্য জাহিদ ফারুক এবং মেয়র খোকন ভাই মিলে বরিশালের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবেন বলে আশা রাখি।’

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ সহচর নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, ‘জাহিদ ফারুক গত ৫ বছরে কোনো বদনাম কুড়াননি। তার পিএস, এপিএস এবং সহযোগিরা অট্টালিকা করতে পারেননি। সাদাসিধে জীবনযাপন করেছেন তিনি। দুষ্টু লোক তার পাশে ঘেঁষতে পারেননি। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে মিশে যেতে পারেন। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুড বুকে ছিলেন তিনি। সামনের ভোটে তাকে বিজয়ী করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।’




জাপার দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করলেন গোলাম কিবরিয়া টিপু

বরিশাল অফিস: আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২১-বরিশাল-৩ বাবুগঞ্জ-মুলাদী সংসদীয় আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেছেন বাবুগঞ্জ-মুলাদী সংসদীয় আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর-মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ গোলাম কিবরিয়া টিপু। মঙ্গল বার ২১ নভেম্বর দুপুরে রাজধানীর বনানীস্থ জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয় থেকে তিনি এ মনোনয়ন পত্র ক্রয় করেন।

এদিকে দুপুর ১২ টার দিকে আলহাজ¦ গোলাম কিবরিয়া টিপুর নির্বাচনী এলাকা ১২১ বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে শতাধিক নেতাকর্মী বর্নাঢ্য মিছিল নিয়ে মনোনয়ন সংগ্রহ করতে বনানীর জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে আসলে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় টিপুর সমর্থকরা শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে রাখেন পুরো এলাকা। মনোনয়ন ক্রয় পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ¦ গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট গ্রহন হলে অবস্যই তিনি বরিশাল-৩ আসন থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন।

তিনি দাবী করেন, বাবুগঞ্জ-মুলাদীর প্রতিটি জনপদে অতীতের তুলনায় কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়েছে যা তাঁর অবদান। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সকলের সহযোগিতা নিয়ে বাবুগঞ্জ-মুলাদী বাসির প্রাণের দাবী মীরগঞ্জ সেতু বাস্তবায়ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। যে কারণে বাবুগঞ্জ-মুলাদীর সাধারণ মানুষ জাতীয় পার্টির সাথে রয়েছে। তাই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় ভোট দিয়ে আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত বলে দাবী করেন তিনি।

আলহাজ¦ গোলাম কিবরিয়া টিপু ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৪ শত ৬৩ ভোট পেয়ে পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই সংসদীয় আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৫৪ হাজার ৭ শত ৭৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।




ইসি সচিব: বাংলাদেশে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় জানতে চেয়েছে কমনওয়েলথ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিস্থিতি আছে কি না, সে বিষয়ে কমনওয়েলথের প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন কমিশন ইসির সঙ্গে বৈঠক করে। রোববার (১৯ নভেম্বর) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমনওয়েলথ প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলে ছিলেন চার সদস্য।

বৈঠক শেষে সচিব বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন কমনওয়েলথের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, চার সদস্যের প্রতিনিধি দল এসেছিলেন। বাংলাদেশের নির্বাচনের আইন কানুন, বিধি বিধান, নির্বাচনের দিনে যানবাহন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ইসির কাছ থেকে অবহিত হতে এসেছিলেন তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সব কিছু তাদের কাছে উল্লেখ করেছেন। এটা যেহেতু তাদের প্রাক-নির্বাচনী দল, এই দল কমনওয়েলথে যাবেন এবং রিপোর্ট দাখিল করবেন। পরে পূর্ণাঙ্গ টিম আমাদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসবেন।

রাজনৈতিক বিষয় আলোচনা হয়েছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির মুখপাত্র বলেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু নির্বাচন পদ্ধতি, আইন কানুনন ও বিধি বিধান নিয়ে কথা হয়েছে। কীভাবে ভোটাররা ভোট দেবেন কীভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভোট দেবেন এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও বিদেশে যারা আছেন তারা কীভাবে ভোট দেবেন এ বিষয়েও তারা জানতে চেয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে।

সিইসি সব বিষয়ে অবগত করেছেন, তারা সন্তুষ্ট। তারা সব কিছু দেখে রিপোর্ট পাঠাবেন এবং পর্যবেক্ষক আসবে কি না সে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান ইসি সচিব।




‘মানসিক চাপে’ রাঙাবালির ছাত্রলীগ নেতার আত্মহত্যা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল লিমন (২২) আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার দুপুরে তার লাশ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে তিনি একটি পোস্ট দেন।

লিমন উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামের আব্দুল জলিল আকনের ছেলে। রাজনীতির পাশাপাশি লিমন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘নগদের’ ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে সদর ইউনিয়নে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, মৃত্যুর আগে শুক্রবার রাতে লিমন ফেসবুকে ‘হয়তো হবে না আর একসঙ্গে পথচলা’ ক্যাপশন দিয়ে বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে তোলা বেশকিছু ছবি পোস্ট করেন। সেদিন রাতেই তিনি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী লিমনের কাছে ‘নগদ’ কর্তৃপক্ষের টাকা পাওনা ছিল। ইতোপূর্বে তার মা কিছু টাকা পরিশোধও করেছিলেন। বাকি টাকার জন্য মানসিক চাপে লিমন আত্মহত্যা করতে পারেন।




পটুয়াখালীতে লোহালিয়া ব্রিজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলায় এলজিইডি’র আওতায় লোহালিয়া নদীর উপর নির্মিত লোহালিয়া সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লোহালিয়া নদীর উপর ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিসি গার্ডার ব্রিজসহ ১২টি প্রকল্প এবং পায়রা নদীর উপর পায়রা কুঞ্জু সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ লতিফ হোসেন জানান, ২০১১ সালে ৪৬৪.৭৫ মিটার দীর্ঘ ওই গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ ব্রিজটি সমপ্রসারিত করে ৫৭৬.২৫ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি দ্বিতীয় পর্যায়ে চুক্তিমূল্য ৯৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ব্রিজটির প্রস্থ ৯.২৫ মিটার, ক্যারিজ ওয়ে ৭.৩ মিটার, ফুটপাথ ০.৯৭৫ মিটার।
লোহালিয়া ব্রিজ উদ্বোধনের ফলে পটুয়াখালী জেলা শহরের সঙ্গে বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার জনগণের সরাসরি যোগাযোগের পাশাপাশি ওই এলাকায় কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের গতি সঞ্চার হবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ জানান।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  সারা দেশে উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ উদ্বোধন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন গতকাল সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ৫ জন এমপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।




বাবুগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরন

 

বাবুগঞ্জ, প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার-বীজ, গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুখ, মসুর ডাল) বিতরণ করা হয়েছে। রবি ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ৩ হাজার ৯৯০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর ) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষন হল রুমে কৃষি অফিসের আয়োজনে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাকিলা রহমানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শাহ মো. আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মামুনুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল আহমেদ আজাদ, জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল আহসান খান হিমু, মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফ হোসেন ,উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুরুজ সিকদার,তারিকুল ইসলাম প্রমূখ। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত¡াবধায়নে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এক ইঞ্চি জমিও যেন খালি না থাকে সেই লক্ষ্যে ও খাদ্য মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিনামূল্যে কৃষকদের এই সার ও বীজ বিতরণ করছেন সরকার। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মামুনুর রহমান বলেন, ২০২২-২৪ অর্থ বছরে কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ৯৯০ জন কৃষকের মধ্যে চাহিদা মোতাবেক ধান, গম, ভুটা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুখ, মসুর বিতরণ করা হচ্ছে। এর আগে জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান উদ্বোধন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্যে ইঁদুরের দিন হবে শেষ গড়বো সোনার বাংলাদেশ।




সাতশ’ নেতাকর্মী নিয়ে সিনেমা হলে আতিক

বরিশাল অফিস:যেখানে সিনেমা শেষে দর্শক বের হয় আনন্দণ্ডউল্লাসের মধ্যদিয়ে, সেখানে মলিন মুখে বের হয়েছে দর্শক। কাউকে চোখ মুছতে মুছতে বের হতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার সিনেমা হলের মধ্যে বসেই হাউমাউ করে কেঁদেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর অভিরুচি সিনেমা হলে। আর ওই হলে ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান। প্রথম পর্যায়ে তিনি (আতিক) বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের সাতশ’ গ্রামবাসীকে নগরীতে এনে ঐতিহাসিক এ সিনেমাটি দেখিয়েছেন। এ সময় বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দদের সাথে দুই উপজেলার জনপ্রতিনিধিগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি উপভোগ করেন।

সিনেমা শেষে একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধুু সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি মা-বাবা ও এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে। কিন্তু ওইসময় এতোটা অনুভব করতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে। যখন সিনেমাটি দেখলাম তখন আমাদের চোখ পানিতে ভিজে গেছে। যে মানুষটি আমাদের একটি পতাকা ও মানচিত্র উপহার দিয়েছেন। সেই মানুষটিকে কি নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এর চেয়ে কষ্টের আর কি হতে পারে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হল না থাকায় শহরে এসে সিনেমাটি উপভোগ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। কিন্তু শিক্ষানুরাগী আতিকুর রহমান আমাদের এই সুযোগ করে দেয়ায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান মিলন ও ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান খান হিমু বলেন, এ সিনেমাটি আরো আগে নির্মান করা উচিত ছিল। তারপরেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমাটি বয়স্ক থেকে শুরু করে সকল বয়সের শিক্ষার্থীরা উপভোগ করে আসল তথ্য জানতে পেরেছে। এটা তাদের হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে।

বাবুগঞ্জ ও মুলাদী থেকে সাত’শ দর্শনার্থীদের বরিশাল শহরে এনে সিনেমা দেখানো এবং পরবর্তীতে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ছয়টি বাস ও শতাধিক মোটরসাইকেল ভাড়া করেছিলেন সমাজসেবক আতিকুর রহমান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মনোনীত একমাত্র প্রার্থী বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আতিকুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানেই বাংলাদেশ। তাকে নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম নানাকাহিনী শুনেছে। কিন্তু সেই কাহিনীর বাস্তবতা কোনভাবেই তাদের সামনে আসেনি। সামনে এসেছে কিছু ছবি এবং ধানমন্ডি যাদুঘরে রক্ষিত তার কিছু স্মৃতি। কিন্তু এ সিনেমা আমাদের প্রজন্মের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে বঙ্গবন্ধু না থাকলে বাংলাদেশের সৃষ্টি হতো না। আমরা পেতাম না একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।