মটরযান প্রশিক্ষন ও ইজিবাইক সার্ভিসের বরিশাল অফিস উদ্বোধন

বরিশাল অফিস:: বাংলাদেশ ইলেকট্রিক মটরযান প্রশিক্ষন ও ইজিবাইক সার্ভিস লিমিটেড’র বরিশাল অফিস উদ্বোধন। পারভেজ, বরিশাল প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ইলেকট্রিক মটরযান প্রশিক্ষন এন্ড ইজিবাইক সার্ভিস লিমিটেড’র বরিশাল সদর উপজেলা অফিসের শুভ উদ্বোধন সম্পন্ন হয়েছে । ১৯শে ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে টিটিসির বিপরীতে রওনক ম্যানশন দ্বিতীয় তলায় অফিসের উদ্বোধন হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি এন্ড মটর চালিত অটোরিকশা অটো বাইক সার্ভিস লিমিটেড এর মোঃ আবুল কালাম। উক্ত আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর বাংলাদেশ ইলেকট্রিক ব্যাটারি এন্ড মোটর চালিত অটোরিকশা অটো বাইক সার্ভিস লিমিটেড এর আক্তার আহমাদ। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সদর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ মজিবুর রহমান খান , অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন বরিশাল ব্যুরো মোঃ মাহফুজ ইসলাম সবুজ। উক্ত অনুষ্ঠানে দৈনিক সময়ের বার্তা পএিকার সাংবাদিক শাকিল সিকদার, দৈনিক বর্তমান সংবাদ এর পারভেজ সিকদার ,নলছিটি প্রতিনিধি মোঃ কামরুল ইসলাম । এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চালক ও মালিকরা।




বরিশালে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সিটি মেয়র

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে প্রধান উপদেষ্টা করে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠণ করা হয়েছে। এছাড়াও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠণ করা হয়েছে।

কমিটির নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে নৌকার প্রচার-প্রচরনায় মাঠে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, প্রতীক পেয়েই বরিশাল-৫ আসনের নৌকার প্রার্থী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নৌকার পোস্টার সাটানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নৌকার প্রার্থী নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগে নেমেছেন। ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে মিছিল

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর ওইদিন সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একযোগে নৌকার পক্ষে মিছিল করেছেন। একইসাথে ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দরা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারনা শুরু করেছেন।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসীম দেওয়ান বলেন, প্রত্যেক ভোটারের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরে আবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য গঠিত ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দরা কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি সবাইকে নির্বাচনী আচারনবিধি মেনে চলার জন্যও বলা হয়েছে।




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসছেন

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশহিসেবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল যাচ্ছেন। ওইদিন বিকেল তিনটায় বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু উদ্যানের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ভাষন প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার বলেন, দ্বাদশ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের উন্নয়নের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফরকে ঘিরে ভিন্নরকম এক উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পরেছে গোটা বিভাগজুড়ে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি-জামায়াত বিশ্বমোড়লদের দাঁড় করিয়েছিলো। কিন্তু বিশ্ব মোড়লদের রক্ষচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জানান দিয়েছেন-বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। তাই সকল বাঁধা উপেক্ষা করে দেশ আজ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত বিশ্ব মোড়লদের কাছে ধর্ণা দিয়েও কিছু করতে না পেরে হরতাল-অবরোধের নামে গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছে। এসব মানুষ পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্বমোড়লরা কথা বলে না। ওইসব বিশ্ব মোড়লরা একাত্তরে বাঙালির স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো। মানুষ পুড়িয়ে হত্যাকারী বিএনপি ও জামায়াতকে এ দেশের শান্তি প্রিয় মানুষ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছে।

বলরাম পোদ্দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। তৃণমূল ভোটারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করে আনতে হবে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে কমিটি গঠণ করতে হবে। কমিটির সবাইকে ভোটারদের হাতে পায়ে ধরে ভোট কেন্দ্রে আনতে হবে। বিশ্বমোড়লদের দেখিয়ে দিতে হবে-শেখ হাসিনার দ্বারাই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। এই নির্বাচনী সফরের খরচ আওয়ামী লীগের দলীয় তহবিল থেকে বহন করা হবে বলেও বলরাম পোদ্দার উল্লেখ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগমনের খবরে উজ্জীবিত বরিশালের নেতাকর্মীরা। তার এ আগমনের মধ্যদিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে নৌকার পক্ষে ভোট বিপ্লব ঘটবে দাবি করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, প্রাণের নেত্রীকে বরিশালবাসী নির্বাচনের আগ মুহুর্তে সামনে থেকে দেখবে। এর চেয়ে সুখের খবর আর কিছু হতে পারেনা। ওইদিন বঙ্গবন্ধু উদ্যানের সমাবেশে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো লোকের সমাগম ঘটবে।

সিটি মেয়র আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বরিশালের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সব কাজ শেষ হয়েছে। এবারে তার আগমনের মধ্যদিয়ে ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার বিষয়ের কাজটি আরও তরান্বিত হবে। নির্বাচনের আগে তার এই আগমন দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আরও সু-সংগঠিত করবে।




বিশ্বের সেরা বিমান বন্দরের স্বীকৃতি পেল ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাম্প্রতিক এক জরিপে বিশ্বের সেরা বিমান বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্ট। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক সাময়িকী গ্লোবাল ট্রাভেলার পরিচালনা করেছে জরিপটি।



প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেছে মানতা সম্প্রদায়ের জীবন

মো: আল আমিন পটুয়াখালী ও এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: অবশেষে নাগরিক অধিকারসহ স্থায়ী বাসস্থান পেল পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন নদীতে নৌকায় ভাসমান জনগোষ্ঠী মানতা সম্প্রদায়। মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমিসহ ঘর পেয়ে উচ্ছ্বসিত এ সম্প্রদায়ের মানুষ। মিশে যেতে চান সমাজের মুলধারায়। শিক্ষায় আলোয় আলোকিত করতে চায় নতুন প্রজন্মকে।

এ যেন এক আজব জীবনের গল্প। জলেই জন্ম-জলেই বসবাস। মৃত্যুর পর লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় নদী কিংবা সাগরের জলে। নিজ দেশে পরবাসী এমন এক গোষ্ঠীর নাম ‘মানতা সম্প্রদায়থ। তারপরও বেঁচে থাকার লড়াই তাদের। জন্মের পর থেকেই নৌকায় বেড়ে ওঠা। নৌকাতেই হয় বিয়ে এবং সংসার। তাদের জীবন চলে জোয়ার আর ভাটার ছন্দে। ছইওয়ালা ছোট্ট একটি ডিঙ্গি নৌকা। যে নৌকায় রয়েছে কয়েক প্রজন্মের জীবনের হাজারো গল্প। যাদের জন্ম, শৈশব, কৈশোর, যৌবন সবই নৌকাতেই।নৌকাকে নির্ভর করে নদীই জীবিকার উৎস। আবার মৃত্যু এবং সমাধি এ নদীতেই।এই হল পটুয়াখালীর নদীতে ভাসমান মানতা সম্প্রদায়। মুল ভূখন্ডে কোন স্থায়ী জমি না থাকায় নৌকা ইহল এদের মূল আবাস। মাছ শিকারের জন্য নদী থেকে নদীতে ছুটে চলা এ জন গোষ্ঠীর ছিলনা ভোটাধিকার। বঞ্চিত ছিল শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীসহ সকল নাগরিক সুবিধা থেকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণে এরই মধ্যে অনেকেই জল থেকে উঠে সুযোগ পেয়েছে ডাঙ্গায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তাদেরকে দেয়া হবে সব ধরনের সুযোগ। পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা। এ জনগোষ্ঠী পেয়েছে ভোটাধিকার। সরকারি খাসজমিতে নির্মান করে দেয়া হয়েছে মুজিবশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দৃস্টিনন্দন ঘর। পাচ্ছে চিকিৎসাসহ সামাজিক নিরপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা।

তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহন করেছের। এরই মধ্যে মন্ত্রী পরিষদের সচিব মাহবুব হোসেন মানতা পল্লী পরিদর্শনকালে মানতা শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন করার কথা জানান, ইতিমধ্যে এই সম্প্রদায়ের ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য বেসরকারী একটি বোডস্কুলে শিক্ষা গ্রহণ শুরু করছে মানতা সম্প্রদায়ের শিশুরা। এতে পাল্টে যাবে তাদের জীবনধারা।

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য যে গৃহায়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার দ্বারাবাহিকতায় আমরা রাঙ্গাবালী উপজেলায় চর মোন্তাজ ইউনিয়নের মানতা সম্প্রদায়ের মধ্যে ৩০ টি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি। এবং আরো ৩০ টি ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। মোট ৬০ টি পরিবারের ঠিকানা নির্মিত হয়েছে এই প্রকল্পটির অধিনে। এবং এখনো মানতা সম্প্রদায়ের অনেক পরিাবার নদীতে বসবাস করেন। এবং আমরা তাদেরও বিষয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এবিষয়টা আমরা নিশ্চিত করবো।

অন্যদিকে পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে ঘড় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের যেসব মানুষের স্বপ্ন ছিল নদীতে সীমবদ্ধ, মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে আজ তারা স্বপ্ন বুনছেন নতুন করে। নতুন ঘরে শুরু হবে তাদের নতুন জীবনের পথ চলা।




আগৈলঝাড়ার কচুরিপানায় আয় হবে ২৫ লাখ মার্কিন ডলার

বরিশাল অফিস ::  বরিশালের আগৈলঝাড়ার দুস্থ নারীদের সু-নিপুন হাতে তৈরী বড় দিনের শৌখিন খেলনা, উপহার সামগ্রী ও শান্তা ক্লজে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে পালন করা হবে যীশু খ্রিষ্টের আবির্ভাব দিবস শুভ বড় দিন।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “প্রকৃতি’র” উদ্যোগে আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি কারখানায় প্রায় দু’হাজার দুঃস্থ ও বিধবা নারীদের শ্রমে স্থানীয় পরিত্যক্ত ডোবা ও পুকুরের কচুরিপানা সংগ্রহ করে বিশেষভাবে নির্মিত কাগজ তৈরী করে ওই কাগজ দিয়ে তৈরি করছেন যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি, গীর্জা ও বাড়ি সাজানোর পন্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নানা উপহার সামগ্রী।

উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজে কর্মরত ওই গ্রামের বাসিন্দা মনি বালা (৫০) কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি করা বড় দিনের সান্তা ক্লজসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তৈরির সু-নিপুন কারিগরদের একজন। তিনি জানান, কচুরিপানা আর বড়দিন তার জীবনে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে। মনি বালার মত ওই এলাকার দু’হাজার অসহায় দুস্থ নারীরা আগৈলঝাড়ার ৫টি কারখানায় কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে থেকেছে। এখন এখানে কাজের মাধ্যমে তিনি ও তার সহকর্মীরা তিনবেলা ভাত খেয়ে সন্তানদের নিয়ে স্বাবলম্বী অবস্থায় আছেন এবং সংসারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা।

মনি বালার আরেক সহকর্মী বিধবা বীণা হালদার (৫৫) ও বিধবা শিউলী বেগম (৪৭) বলেন, ‘আমরা যেসব জিনিস তৈরি করছি, সেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দেশ-বিদেশের খ্রীস্টিয় সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা শুভ বড় দিন পালন করে আসছেন। প্রতিদিন একজন নারী শ্রমিক উৎপাদিত কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে চার থেকে সাড়ে চারশ টাকা আয় করছেন।

জোবারপাড় এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার পাপড়ী মন্ডল জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ৫টি কেন্দ্রের প্রায় দুই হাজার নারী শ্রমিক কাজ করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ হচ্ছেন স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবা কিংবা অসহায় ও দুস্থ। প্রোডাক্ট ডিজাইনার খোকন সমদ্দার জানান, উপজেলার জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ, কালুরপাড়ের বির্বতন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট, বড়মগরার কেয়া পাম হ্যান্ডিক্রাফট নগরবাড়ির চ্যারিটি ফাউন্ডেশন ও বাগধা এন্টার প্রাইজে প্রতিবছরই নতুন নতুন গিফ্ট আইটেমের কাজ করা হয়। এখানে চার হাজারের বেশি আইটেমের পণ্য তৈরী করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে কচুরিপানাকে ঘিরে এমসিসি (মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিউনিটি) আওতায় এলাকায় গড়ে ওঠে জোবারপাড় এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় এলাকার ডোবা ও মজাপুকুর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে তার সঙ্গে পাট, পরিত্যাক্ত কাগজ ও সিল্ক কাপড় দিয়ে মন্ড তৈরি করা হয়। এরপর তাতে রং দিয়ে রোদে শুকানোর পর তৈরি হয় কাগজ। এভাবে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে ৩ হাজার পিস কচুরিপানার কাগজ। সেই কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয় হস্তজাত উপহার সামগ্রী। ওই উপহার সামগ্রীতে বিভিন্ন ধরনের কাঁচা ফুলও ব্যবহার করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে অসহায় নারীদের হাতে তৈরি পণ্য বিদেশের বাজার দখল করে নিয়েছে।

একই বছর উপজেলার বাগধা এলাকায় বাগধা এন্টারপ্রাইজ নামে আরো একটি প্রকল্প চালু করা হয়। এ দুটি প্রকল্পের সাফল্যের পর ১৯৮৭ সালে গড়ে ওঠে কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট নামের আরো একটি প্রকল্প। এরপর ১৯৯৩ সালে বিবর্তন নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে।

তিনি জানান, কচুরিপানার কাগজ দিয়ে তৈরি তাদের উপহার সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে কানাডা, ডেনমার্ক, ইতালী, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। প্রতিবছরই ঐ সব দেশে এ উপহার সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে বড়দিনের উৎসব থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছে।

ওই সংস্থার মাধ্যমে শৌখিন এসব খেলনা ও উপহার সামগ্রী ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে রফতানির মাধ্যমে আসছে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা। দুস্থ নারীদের তৈরি করা কচুরিপানার শৌখিন উপহার সামগ্রী সর্বত্র প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে বিধবা ও দুস্থ নারীরা খুঁজে পেয়েছেন বেঁচে থেকে স্বাবলম্বী হওয়ায় সুযোগ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রকৃতি বাংলাদেশ’ এর মাদার প্রকল্প ‘এমসিসি আমেরিকা’র কান্ট্রি প্রতিনিধি মি. জর্জ জানিয়েছেন, ১৯৮৭ সালে আগৈলঝাড়ায় কেয়াপাম হ্যান্ডিক্রাফট মাত্র ৭ জন নারী কর্মী নিয়ে ৬ লাখ ডলার মূল্যের রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করে। বর্তমানে এখানকার হস্তজাত শিল্প এখন ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২৫ লাখেরও বেশী মার্কিন ডলার আয় করছে।




সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি, কাল থেকে শৈত্যপ্রবাহের আভাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) রংপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রাতের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে শীত আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাজশাহীতে। ঢাকায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একদিন আগে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

এ সময়ে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, দেশের পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা অঞ্চল) ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী অঞ্চল) কোথাও কোথাও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

বৃহস্পতি এবং শুক্রবার শীত আর বাড়তে পারে, কিন্তু শনিবার তাপমাত্রা বেড়ে শীত কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল টেকনাফে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।




আগামীকাল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: ট্রাফিক নির্দেশনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ জন্য কয়েকটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গমনাগমণ করবেন।

তাই ওই এলাকায় যানবাহনের সুষ্ঠু চলাচল নিয়ন্ত্রণকল্পে ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন (বাস/ট্রাক/হিউম্যান হলার/থ্রি হুইলার/রিকশা–ভ্যান ইত্যাদি) মিরপুর মাজার রোড (মাজার রোড ক্রসিং হতে মিরপুর ১নম্বর ক্রসিং পর্যন্ত) পরিহার করে বিকল্প সড়কে চলাচল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিকল্প সড়ক
১। যেসব যানবাহন আশুলিয়া থেকে বেড়িবাঁধ দিয়ে মিরপুর আসবে, সেসব যানবাহন নবাবেরবাগ ক্রসিং দিয়ে বামে মোড় নিয়ে শাহআলী থানা রোড ব্যবহার করবে।

২। যেসব যানবাহন মাজার রোড ক্রসিং দিয়ে শাহআলী মাজার সংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করবে, সেসব যানবাহন টেকনিক্যাল মোড় হতে বামে দারুসসালাম রোড ব্যবহার করবে।

৩। যেসব যানবাহন মিরপুর–১০ নম্বর হতে মাজার রোড হয়ে গাবতলীর দিকে যাবে, সেসব যানবাহন মিরপুর– ১নম্বর হতে বামে দারুসসালাম রোড ব্যবহার করে টেকনিক্যাল মোড় হয়ে চলাচল করবে।

অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে পুলিশের নির্দেশিত বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচল করতে অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত নগরবাসী, যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে ডিএমপি।




পর্যটক না থাকায় হতাশ কুয়াকাটার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা

বরিশাল অফিস:: বিএনপির ডাকা অবরোধের কারণে পর্যটক না থাকায় কোটি টাকার প্রস্তুতকৃত শুঁটকি নিয়ে হতাশ কুয়াকাটার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মৌসুমের শুরুতেই তাদের তৈরিকৃত বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি নিয়ে তারা তাদের ব্যবসা চলমান রেখেছেন। কিন্তু অবরোধের কারণে শুঁটকি মাছ নিয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায় যে, প্রতিটি ব্যবসায়ী তারা তাদের সাধ্যমত বিভিন্ন ধরনের শুঁটকি মাছ নিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে লাভের আশায় দোকান চালু করেছেন। চলমান অবরোধ তাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।তারই ধারাবাহিকতায় চলমান অবরোধের কারণে খুচরা ব্যবসায়ী এবং পাইকারি ব্যবসায়ী উভয়েই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

কুয়াকাটা শুঁটকি ব্যবসায়ী ও মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ সোহেল মাহমুদ বলেন, অবরোধের ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আমাদের পাশাপাশি হাজার হাজার লোকও তাদের কর্মসংস্থান হারাবে। শুঁটকি পল্লীর শ্রমিক ইব্রাহিম বার্তা২৪.কমকে বলেন , মালিকদের বেসা কিনা না হলে মোগো বেতন দেবে কি দিয়ে মোরা খামু কি,পোলাপানরে কি খাওয়াবো,আল্লাহ ভাল জানেন কি হবে!

কুয়াকাটা শুঁটকি পাইকারি মহাজন ইসমাইল বলেন, ‘আমাদের কোটি কোটি টাকার শুঁটকি মাছ প্রস্তুত করা আছে আমরা যদি খুচরা দোকানে বিক্রি না করতে পারি তাহলে আমাদের মাছ পচে নষ্ট হয়ে যাবে এবং আমরা পথের ভিখারি হয়ে যাব, কে দিবে আমাদের ক্ষতিপূরণ এটাই এখন চিন্তার বিষয়।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় তারা তাদের শুঁটকি প্রস্তুত করে রেখেছেন কিন্তু প্রত্যাশিত পর্যটক না হওয়ার কারণে তারা একটু হতাশ। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচনা করে আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব, কিভাবে তাদের তৈরিকৃত মাছ সংরক্ষণ করে রাখা যায় সে বিষয়ে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব।




আইপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় আছেন যারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন আসরের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১৯ ডিসেম্বর। তার আগে এই মিনি নিলামের জন্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। নিলামের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন ১ হাজার ১৬৬ জন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার। সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ৩৩৩ জন ক্রিকেটার। যার মধ্যে রয়েছেন ২১৪ জন ভারতীয় এবং ১১৯ জন বিদেশি ক্রিকেটার। দু’জন ক্রিকেটার রয়েছেন সহযোগী ক্রিকেট দেশ থেকে।