সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন রোনালদো 




আজ আমার টাকা অবৈধ নয় – সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দ্বাদস জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর (৫) আসনের সতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রিপন বলেছেন, আজ অনেকেই বলে বেড়ায় আমার টাকা নাকি অবৈধ। আমি বলতে চাই ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২দিন পূর্বে বর্তমান সংসদ ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আমার কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা নিয়ে তার নির্বাচনী কাজে ব্যায় করেছিলেন যদি আমার টাকা অবৈধ হয় তিনি তাহলে অবৈধ

টাকা নিয়ে ছিল।

আমি আপনাদের কাছ থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলবার নয়। আমি সাধারন মানুষের কাঙ্গাল আমি যেদিন আমার সাধারন মানুষের ভালবাসা পাব সেদিন মনে করব আমি আমার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে পরাজিত করতে পেরেছে।

তিনি এ সময় আরো বলেন, ৭ই জানুয়ারীর পর আমরা সবাই একসাথে থাকব। আমি কোন সহিংসতা প্রতিহিংসার ভোটের রাজনীতি করতে আসি নাই।

তিনি এ সময় আরো বলেন, আমার মা-বোনেরা যারা আমাকে ভালবাসেন আমি চাই তারা আমার সাথে আপনাদের নিয়ে মানীয় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশ গ্রহন করব। আজ বুধবার (২৭) ডিসেম্বর বিকালে বরিশাল বন্দর থানাধীন মৌলভীর হাট হিজলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার ট্রাক প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনা করে নির্বাচনী উঠান বৈঠক সভায় তিনি একথা বলেন।

এরপরপরই সালাউদ্দিন রিপন নগরীর বগুরোডস্থ চৈতন্য স্কুল মাঠে মহিলাদের ভোটারদের সাথে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য রেখে তার ট্রাক প্রতীকে ভোট কামনা করেন। এর আগে সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন গত ১৮তারিখের পর থেকে আমার প্রতি বরিশালের মা-বোনদের ভালবাসা দেখে নৌকার সমর্থক সদস্যরা বিভিন্নভাবে মা-বোনদের ভয়ভিতি দেখিয়ে আতংক সৃষ্টি করছে যাতে করে নির্বাচনের দিন মহিলা ভোটাররা কেন্দ্রে না যায়।

এছাড়া আমার প্রতিটি নির্বাচনী সভার পূর্বে আমার কর্মীদের উপর হামলা মারধর করা হচ্ছে। এমনকি আগামী ২৯ তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরিশালে আসা উপলক্ষে আমি একজন আওয়ামী লীগের সাধারন কর্মী হিসাবে প্রচার প্রচারনার মাইক নামিয়েছি সেই প্রচারনার গাগি ভাংচুর করা হয়েছে। যা আমি প্রতিটি মুহুর্তে জেলা রিটানিং অফিসার সহ প্রশাসনকে তাৎক্ষনিকভাবে অবগত করে যাচ্ছি। আমি গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বলছি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যশা কামনা করছি।




প্রধানমন্ত্রীর বরিশালে আগমনে সাজ সাজ রব

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: প্রায় পাঁচ বছর পর আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এদিন দুপুরে বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। মূলত তার সরকারের উন্নয়নের বার্তা আর আগামী নির্বাচন নিয়ে এ জনসভা।

এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী এই মাঠেই জনসভা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ভীষন ব্যাস্ত সময় পার করছেন আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকরা পাশাপাশি জনসভা ঘিরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়ক জুড়ে শুধু তোরন আর তোরন। নানা রকমের প্লাকার্ড ব্যানার আর ফেষ্টুনে ভরে গেছে নগরী। চলছে মাইকিং ও। জনসভার স্থান বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মাঠেও কাজ চলছে। মেয়রসহ জেলা, মহানগর নেতৃবৃন্দ প্রচার মিছিল ও গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করছেন।

ইতোমধ্যে আয়োজিত জনসভা সফল করার লক্ষ্যে ছয় সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ কে প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে।

বাকি সমন্বয়করা হলেন, বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত), মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একে এম জাহাঙ্গীর, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. বলরাম পোদ্দার ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এছাড়া যোগাযোগ ও আপ্যায়ন কমিটিতে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড. তালুুকদার মো. ইউনুস ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. লস্কর নুরুল হক। জনসভা সফল করতে গঠিত শৃংখলা কমিটিতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, অ্যাড. একে এম জাহাঙ্গীর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. আফজালুল করিম।

জনসভাকে সফল করতে দফায় দফায় সভা করছে। বিভাগের ৬ জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আনার প্রস্তুতি চলছে। সবার লক্ষ্য জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপান্তর করা।

১০ লাখের বেশী জনসমাগমের প্রত্যাশা। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন দলীয় প্রধানের আগমন বার্তায় দলের সর্ব পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। মহল্লায় মহল্লায় প্রচার মিছিল হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সাধারন মানুষের মধ্যে আগ্রহ কম নয়।

এদিকে নগরীর রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা নতুন করে সড়কে আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। যাতে করে অন্য জেলা-উপজেলা থেকে আসা মানুষ নতুন এক বরিশাল নগরী দেখতে পান।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনসভা সফল করার লক্ষ্যে সমন্বয় কমিটির প্রধান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বরিশালে ১০ লাখ লোকের জনসমাগম হবে। গত ১৫ বছরে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে যে উন্নয়ন হয়েছে তার (প্রধানমন্ত্রী) প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে মানুষ জনসমাবেশে আসবেন।

বরিশাল-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, আগামী ২৯ ডিসেম্বর বরিশালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসবেন বরিশাল বিভাগের নৌকার প্রার্থীরা মঞ্চে থাকবে এই বিশাল জনসভায় দক্ষিণাঞ্চলের জনগন আসবেন সেখানে আমাদের নির্বাচনের প্রচারণা হবে।

 




সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান আর নেই




ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) শুভ বড়দিন উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে মানুষ হিসেবে মানুষের সেবা করা। সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। তাই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

শুভ ‘বড়দিন’ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি দেশের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা মহামতি যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিনকে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ‘বড়দিন’ হিসেবে উদযাপন করে থাকেন। খ্রিষ্ট ধর্মানুসারে যিশু খ্রিষ্ট ছিলেন সত্যান্বেষী, মানবজাতির মুক্তির দূত এবং আলোর দিশারী। স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পৃথিবীকে শান্তির আবাসভূমিতে পরিণত করতে তিনি সৃষ্টিকর্তার মহিমা ও শান্তির বাণী প্রচার করেন। এজন্য তাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তিনি পথভ্রষ্ট মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে আহ্বান জানান। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সেবা, ক্ষমা, মমত্ববোধ, সহানুভূতি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাসহ শান্তিপূর্ণ অবস্থানের শিক্ষা দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাগতিক সুখের পরিবর্তে যিশু খ্রিষ্ট ত্যাগ, সংযম ও দানের মাধ্যমে পারমার্থিক সুখ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য স্থাপনসহ বর্তমান যুদ্ধবিগ্রহ পূর্ণ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’




শুভ বড়দিন আজ




৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলনের পক্ষে আরো তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর সারা দেশে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করবে দলটি।



মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা ৯ ফেব্রুয়ারি




বরিশালে তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : জেলার ছয়টি আসনের ৩৫ জন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার-প্রচারনার দেখা গেছে নৌকা, ট্রাক ও ঈগল মার্কার জয়জয়কার। ছয়টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনের মাঠে এখনও তারা জোরালো কোন ভূমিকা রাখতে পারেননি। অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে এখনও শুরু হয়নি কোন প্রচার-প্রচারনা। ছয়টি আসনের মধ্যে বরিশাল-১ ও ৫ আসনে আওয়ামী লীগ ও নৌকা বিহীন বরিশাল-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেকটা বিজয়ের পথে। বাকি তিনটি আসনে ত্রিমুখী লড়াই বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। এসব আসনের প্রবীণ প্রার্থীদের সাথে পাল্লাদিয়ে বেশ এগিয়ে গেছেন নবীন প্রার্থীরা।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) : এ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার হেভিওয়েট প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। এখানে নেই কোন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তার (হাসানাত) বিজয় অনেকটা সু-নিশ্চিত। কারণ ওই আসনে জাতীয় পার্টির সেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী লাঙ্গল ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মোঃ তুহিন আম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও দুই উপজেলার নির্বাচনী এলাকাতো দূরের কথা নিজ ভোট কেন্দ্রেও ওই দুই প্রার্থীর এজেন্ট দেওয়ার মতো কোন কর্মী-সমর্থক নেই।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) : এ আসনে প্রথমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিলো জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ক্লিন ইমেজের দুইবারের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসকে। শেষপর্যন্ত মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কারণে ১৪ দলের শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ওই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। যদিও রাশেদ খান মেনন নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। তালুকদার ইউনুস সভা করে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেননের পক্ষে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার জন্য অনুরোধ করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিষয়টি এখনও মেনে নিতে পারেননি। ওই আসনের হতাশ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, যাকে এ আসনে নৌকা প্রতীক ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন বরিশাল-৩ আসনের বাসিন্দা। তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করে এখানে নৌকা প্রতীক না দেয়ায় সবার মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাশাপাশি এ আসনে মনোনয়ন বঞ্চিতের পর ঢেঁকি প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শেরে বাংলার দৌহিত্র একে ফাইয়াজুল হক। ইতোমধ্যে বানারীপাড়ায় রাশেদ খান মেননের সভা চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সূত্রমতে, ওই আসনের আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা নৌকা ছেড়ে ঈগল মার্কার পক্ষে কাজ শুরু করছেন। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী নকুল কুমার বিশ্বাস গামছা, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, তৃণমূল বিএনপির আলহাজ¦ মোঃ শাহজাহান সিরাজ সোনালী আঁশ ও এনপিপি’র সাহেব আলী আম।

বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ) : এখানে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে অনেকটা নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছিলেন নৌকার প্রার্থী সরদার মোঃ খালেদ হোসেন স্বপন। কিন্তু তা বেশিদিন টিকেনি। শেষপর্যন্ত তিনিও (স্বপন) মহাজোটের সাথে আসন ভাগাভাগির কবলে পরে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এখানে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি (টিপু) লাঙল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন। আওয়ামী লীগের বৃহত অংশের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এখনো মহাজোটের প্রার্থী তাদের কাউকে ডাকেনি। বিগতদিনের ন্যায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তিনি কোণঠাসা করে রাখতে চাচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে তারা এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে নৌকা মার্কার প্রার্থী না থাকায় ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য মোঃ আতিকুর রহমানের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুম মাঝি বলেন, এ আসনে নৌকা প্রতীক না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। তাই এখানকার উন্নয়নের স্বার্থে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য আতিকুর রহমানের সাথে মাঠে নেমেছেন।
তবে নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন এ আসনের মুলাদী উপজেলার অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন, উন্নয়নের স্বার্থে দীর্ঘদিন থেকে তারা মুলাদী উপজেলার কোন বাসিন্দাকে দলীয় এমপি বানাতে চেয়েছেন। কিন্তু বরাবরেই বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের প্রার্থী দেয়ায় তারা হতাশ হয়েছেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়নের বাসিন্দা ড. মোহাম্মদ আমিনুল হক কবির ঈগল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তাই তারা একজোট হয়ে ঈগল মার্কার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ঈগল মার্কার বিজয় নিশ্চিত করে তারা সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় বরিশাল-৩ আসনকে সম্পৃক্ত করবেন। তবে ভোটের মাঠে এর কোনো প্রভাব পড়বে না দাবি করে জাতীয় পার্টির বাবুগঞ্জের কেদারপুর ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, গোলাম কিবরিয়া টিপু এর আগেও এ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এখানে জাতীয় পার্টির একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীই জয়লাভ করবে। এই আসনে অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান হাতুড়ি, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের আজমুল হাসান জিহাদ ছড়ি ও তৃণমূল বিএনপির শাহানাজ হোসেন সোনালী আঁশ।
বরিশাল-৪ (মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা) ॥ একসময়ের বিএনপি ও জামায়াত অধ্যুষিত এ আসনটি নানা কৌশলে বাগিয়ে আনেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ। টানা দুইবারের এমপি পঙ্কজ দেবনাথ ওই আসনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিনত করেছেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাথে তার বিরোধের সূত্রধরে নানা অপপ্রচারের কারণে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয় দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মি আহমেদকে। শুরু থেকেই বর্তমান সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ বলে আসছিলেন, তিনি নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচন করবেন না। কিন্তু শাম্মি আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়ার পর পরই পঙ্কজ অনুসারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা। ফলে উপায়অন্তুর না পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনুরোধে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন শেষসময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনলাইনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পঙ্কজ দেবনাথ। এরপরই ভাগ্য খুলতে শুরু করে পঙ্কজ দেবনাথের। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি (পঙ্কজ) নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত্য নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ এনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। যার প্রমান পাওয়ায় নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ রায়ের বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থী ইসির কাছে আপিল করেও কোন সুফল না পেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। সেখানেও নৌকার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। ফলে ভাগ্য খুলতে শুরু করেছে ঈগল মার্কা নিয়ে নির্বাচনী মাঠের পাকা খেলোয়াড় বর্তমান সংসদ সদস্য ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথের। ওই আসনে জাতীয় পার্টির মিজানুর রহমান লাঙ্গল, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের হৃদয় ইসলাম চুন্নু ছড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও তাদের তেমন কোন কর্মী সমর্থক নেই।

বরিশাল-৫ (সদর) : নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ১৯ ডিসেম্বরের এ রায়ের কারণে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। যেকারণে এ আসনে অনেকটা বিজয়ে পথে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচরনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুরো নির্বাচনী এলাকা সরগরম করে রেখেছেন। নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি এ আসনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া ট্রাক মার্কার প্রার্থী আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন রিপন। তার (রিপন) প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী এস.আর সমাজ কল্যাণ সংস্থা বিগত ২০ বছর ধরে বরিশাল সদর আসনের অসহায় ও দরিদ্র প্রায় দশ হাজার পরিবারকে পুরোপুরি স্বাবলম্ভী করেছে। সালাহউদ্দিন রিপন আরো ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। অতীত কর্মকান্ডের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ট্রাক মার্কার প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন। নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ আসনে নৌকার প্রার্থীর সাথে ট্রাক মার্কার প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ আসনের অপর প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা হলেন-জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস লাঙ্গল, এনপিপি’র আবদুল হান্নান সিকদার আম, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ আসাদুজ্জামান ছড়ি ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহাতাব হোসেন ডাব।

তবে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা ফিরে পেতে আবারও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবীর মাধ্যমে সাদিক আব্দুল্লাহ হাইকোর্টের আদেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদনটি দাখিল করেছেন। শেষপর্যন্ত সাদিক আব্দুল্লাহ তার প্রার্থীতা ফিরে পেলে পাল্টে যেতে পারে বর্তমানের নির্বাচনী মাঠের হিসেব নিকেশ।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) : টানা ২২ বছর পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক প্রচারণার মাঠে ভোট চাচ্ছেন। তবে জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সংসদ সদস্য নাসরিন জাহান রতনার পাশাপাশি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে নৌকার প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার পথটা মসৃণ হবেনা। সূত্রমতে, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে এই আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এরপর টানা ২৩ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মাঝের ২২ বছরে চারবার বিএনপি ও একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। আর ১৯৯৬ সালের পর ২০০১ সালেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হন। এরপর টানা তিনবার এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচবার বিএনপি, চারবার জাতীয় পার্টি ও দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসনটি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগে ভর করেই জাতীয় পার্টিকে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে হয়েছে। তবে টানা তিন বার জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার ও তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা এই আসনের সংসদ সদস্য থাকায় তাদের অবস্থানের সাথে দলেরও অবস্থান বেশ জোরালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতারা। হিসেব বলছে, ভোটের দিনের আগে মাত্র একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে নিজ দলের কোন্দল মেটাতে হবে নৌকার প্রার্থীকে। তা না হলে সদ্য অব্যাহতির পর ট্রাক মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু নৌকার প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। কারণ ২০০৯ ও ২০১৪ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলায় তিনি (চুন্নু) বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। এরপর ২০১৯ সালে এক যুগের উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম চুন্নু বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ বলছেন, ২ লাখ ৯৫ হাজার ৫১২ ভোটের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সংসদীয় আসনের যে সীমানা, উপজেলা নির্বাচনেও একই সীমানা। তাই সেই হিসেবে শামসুল আলম চুন্নু এখন ভোটের মাঠের পাকা খেলোয়াড়। নৌকাকে জিততে হলে জাতীয় পার্টির পাশাপাশি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল আলম চুন্নুর সাথেও হিসেবটা চুকিয়ে নিতে হবে। বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু বলেন, দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছেন এবং দেবেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্ধিতামূলক করতে চাই। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিপুল ভোটে আমি বিজয়ী হবো। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখনই কিছু বলতে নারাজ হলেও তার সমর্থকরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অপরদিকে নৌকা মার্কার প্রার্থী আবদুল হাফিজ মল্লিক বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন এবং যারা নেই তারাও অচিরে নৌকার পক্ষে কাজ শুরু করবেন। এ আসনের অপর প্রার্থীরা হলেন-তৃণমুল বিএনপির টিএম জহিরুল হক সোনালী আঁশ, এনপিপি’র মোঃ মোশারফ হোসেন আম, জাসদের মোহাম্মদ মোহসীন মশাল, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ মাইনুল ইসলাম ডাব, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শাহবাজ মিঞা ঈগল, কামরুল ইসলাম খান তরমুজ ও জাকির খান সাগর রকেট।

 

 

 




কীভাবে জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপক হয়ে উঠলেন গোলাম রাব্বী

নিউজ ডেস্ক :: গোলাম রাব্বী। কাছের মানুষদের কাছে তিনি রাব্বী হিসেবে পরিচিত। এই মুহূর্তে যে কজন সংবাদ উপস্থাপক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে, তাঁদের মধ্যে তিনি একজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াকালীন টেলিভিশনে কাজ করতে শুরু করেন। সেটা ২০১০ সাল। সেই থেকে প্রায় এক যুগ ধরে দেশের জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল সময় টিভিতে নিয়মিত সংবাদ দেশের জনপ্রিয় সংবাদভিত্তিক করছেন। এ বিষয়ে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স-ভিত্তিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় নিত্যনতুন নান্দনিকতা যুক্ত করায় তাঁর সংবাদপাঠ উপভোগের এক অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের নিউজ রুমের সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে গোলাম রাব্বী জানিয়েছেন তাঁর কাজের কথা, স্বপ্নের কথা।

নিউজ রুম : আপনি সংবাদের কঠিন সব বিষয়কেও সহজ ও বৈচিত্র্যময় করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। কীভাবে সম্ভব হলো কঠিন কাজটিকে এমন মজার ছলে তুলে ধরা?

গোলাম রাব্বী: আমি আসলে প্যাশনেটলি নিউজ অ্যাংকর। পেশাটা আমার ভালো লাগে। ধরুন আমি কোনো কারণে ভালো বোধ করছি না, কিন্তু আমি নিউজে বসলেই দেখি আমার ভালো লাগা শুরু হয়ে গেছে। তার মানে, নিউজ আমার কাছে একটা হিলিং ম্যাটেরিয়ালস। এতেই কারও বুঝতে বাকি থাকবে না যে, আমি নিউজের সময়টুকু কতটা উপভোগ করি। নিউজের সঙ্গে কতটা এনগেইজড থাকি। দেখা যায়, কখনো নিউজ দেখছি তো কখনো নিউজ নিয়ে ভাবছি। পাশাপাশি সব সময় নিউজের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। নিউজের টপিক নিয়ে একপ্রকার গবেষণা করি—কেন এই শব্দটি হলো, কেন এই শব্দটি হলো না? এই শব্দটা এভাবে না বলে এভাবে বললে কেমন হয়? একই সঙ্গে আমি যেহেতু মানুষকে সংবাদ জানাই, তাই চিন্তা থাকে কীভাবে তথ্যটি সবাই ধরতে ও বুঝতে পারবে। বলতে পারেন, ঘটনাটি সহজ করে বোঝাতে গিয়েই হয়তো আজকের এই অবস্থান তৈরি হয়ে যাওয়া।

নিউজ রুম : ছোটবেলা থেকেই কি ভাবনা ছিল একদিন সংবাদপাঠক হবেন টেলিভিশনে?

গোলাম রাব্বী: ব্যাপারটা একদমই ওরকম নয়। তবে ছোটবেলার একটা ঘটনা প্রায়ই মনে পড়ে—দেখতাম, বাবা খুব খবর শুনতেন। এমনকি তখন বাসায় টেলিভিশনও ছিল না। রেডিও ছিল। নানা সময়ে যখন ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতো, বিশেষ করে ওই দিনগুলোতে বাবা মনোযোগ দিয়ে খবর শুনতেন। আশপাশের সবাইকে জানাতেন। একদিন বাবার সঙ্গে খবর শুনছি; হঠাৎ বাবা বলে উঠলেন, ‘এমন খবরপাঠক হতে পারবা?’ বাবা তখন ওরকম গুরুত্ব দিয়ে বলেননি। আর আমিও সিরিয়াসলি নিইনি কথাটাকে। কিন্তু কেন জানি আমার মনের গহিনে কথাটা আজও বাজে। কীভাবে যে বিষয়টা সত্যি হয়ে উঠল, মিলে গেল; তা ভাবনায় এলেই খুব ভালো লাগে।
ওই যে বাবার সঙ্গে রেডিও শোনা। পাশাপাশি পছন্দের খেলা ক্রিকেটের ধারাভাষ্য শোনার পাগল ছিলাম। যেহেতু বাসায় টেলিভিশন ছিল না, রেডিওতেই নানা কিছু শুনতাম। তখন থেকেই উচ্চারণের কৌশল, কথা বলা ও ভয়েসের নানা রূপ-ঢং খুব টানত আমায়। সেটা হোক আবৃত্তি, গুণী মানুষের কথা বলা কিংবা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা। তত দিনে বুঝতে পারলাম, গলার স্বরের এই খেলাটা আমায় বেঁধে ফেলছে। শেখা বলতে গেলে, ওই থেকেই শুরু; যা আজও চলছে। এটা ঠিক যে, তখন ভাবনায়ও ছিল না এত বড় পরিসরে কখনো কাজ করা হবে। আর একদিন সবার পছন্দের তালিকায় উঠে আসব। এখনো সবকিছু স্বপ্নের মতোই লাগে।

নিউজ রুম : দেশে তো অনেকেই খবর পড়েন। অনেক দিন ধরে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে আপনার মতো প্রতিদিনকার ভিন্নতা অন্যদের মধ্যে কমই দেখা যায়। এই যে বিশেষ কিছু আয়ত্ত করার ব্যাপারটা নিজের মধ্যে এল কীভাবে?

গোলাম রাব্বী: একেবারেই নিজে নিজে। যেকোনো আলোচনা, টকশো, কথিকা, গানের কথা বা যেকোনো ধরনের সাউন্ড থেকে আমি শিখি। যেমন ধরেন, আমি মুভি দেখলেও মুভির কাহিনি বা অভিনয়ের চেয়ে ভয়েসের থ্রোয়িংটা বা প্রেজেন্টেশনের ঢংটা আমায় বেশি টানে। সেখান থেকেই শব্দ ও প্রেজেন্টেশনকে প্রতিদিন নিত্যনতুন স্টাইল দেওয়ার চেষ্টা করি। এমনও হয়েছে, গল্প-কবিতা বা যেকোনো কিছু পড়তে পড়তে গলা ব্যথা করে ফেলতাম। রেডিওতে বাংলা হোক, ইংরেজি হোক, শুনতে শুনতে কান ব্যথা করে ফেলতাম। তা হোক দেশীয় বা বিদেশি। এমনকি বিশ্বের প্রতিটি দেশের নেতৃত্বস্থানীয় রেডিও-টিভি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমি শুনেছি বা দেখেছি। সব জায়গা থেকেই কোনটি ভালো, কোনটি গ্রহণ করব তা নিয়ে ভাবতাম। এভাবেই আসলে একসময় নিজস্ব একটা স্বকীয়তা তৈরি হয়ে গেল।

নিউজ রুম : পরপর দুই দিন খবর দেখলেও এক দিন থেকে অন্য দিন ভিন্নতা পাওয়া যায়। কীভাবে সম্ভব?

গোলাম রাব্বী: এর জন্য সংবাদের ভেতরে ঢুকতে হবে। দেখুন, প্রতিদিনই কিন্তু নতুন ঘটনা, নতুন তথ্য। মানে নতুন কিছু। তাই আমার চিন্তায় এল, যদি আমি প্রতিদিন নতুন রূপে-ছন্দে না আসি, তাহলে আবেদনটা কমে যাবে। যেমন—আমরা কিন্তু ম্যাড়মেড়ে বা একঘেয়ে টাইপের কিছু বেশিক্ষণ ধরে রাখি না। সব সময় আমি নিজে শ্রোতা হিসেবে চিন্তা করি। বের করে আনি, কোন সংবাদ আমি কীভাবে শুনতে চাই। এমনকি খবর পড়ার সময়ও কান খাঁড়া করে শুনি। আর সেটা করতে গিয়ে ভিউয়ার্সের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠা। আরেকটি কথা, আগে বলা হতো দুঃখের খবর দুঃখ-দুঃখ ভাব আর আনন্দের খবরে হাসির ভাব আনতে হবে। এই দুটি স্টাইল দিয়ে এখন আর চলে না। এখন হচ্ছে ন্যানো সেকেন্ডের যুগ, সবাই বেশ আপডেট। প্রতিমুহূর্তে বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে। আমি তো মনে করি, প্রতিটা শব্দের মধ্যে আলাদা কথা আছে, আলাদা ব্যঞ্জনা আছে। এই নতুনত্ব ও বাস্তবতানির্ভর ভয়েস বা ফিল আনাটাতেই হয়তো মানুষের কাছে আপন লাগছে।

নিউজ রুম : যারা আপনার মতো এই পেশায় আসতে চায়, তাদের জন্য পরামর্শ কী?

গোলাম রাব্বী: প্রথমত বলব, প্যাশন থাকতে হবে। পেশাটা চ্যালেঞ্জিং। আপনাকে যেকোনো সময় ডাকতে পারে, যেকোনো সময় খবর পড়তে হতে পারে। একটানা ৮ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা নিউজ পড়া বা কাজ করতে হতে পারে। আরেটা জিনিস, শুদ্ধ ও সুন্দর করে পাঠ করার পাশাপাশি নিউজে বুদ্ধি, বিবেচনা, সাধারণ জ্ঞান অনেক কিছু নির্ভর করে। ইন্টারনেটে সার্চ করলে নিউজ ও অ্যাংকরিং নিয়ে ডকুমেন্টস পাবেন; সেগুলো দেখতে পারেন। তারপর নিউজ পড়তে হবে, দেখতে হবে, শিখতে হবে। সময়-সুযোগ থাকলে উপস্থাপনা ও নিউজ নিয়ে কোর্সও করা যেতে পারে।

নিউজ রুম : নিউজ প্রেজেন্টার হতে গেলে চর্চা বা প্র্যাকটিস কীভাবে করবে? আবার অনেকে নতুন মানুষ নিলেও কেউ আবার অভিজ্ঞতা চায়। সে ক্ষেত্রে কী করা যায়?

গোলাম রাব্বী: আসলে এখন চর্চার সুযোগও কিন্তু অনেক। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় থাকলে ক্রিয়েটিভ, ভলান্টিয়ার ও কালচারাল বিভিন্ন ক্লাবে যুক্ত হতে পারেন। ডিবেট করতে পারেন, লেখালিখি করতে পারেন। প্রিন্ট, অনলাইনসহ বহু গণমাধ্যমে কলাম, ফিচার লিখতে পারেন। ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল খুলেও কিছু করা যেতে পারে। মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে করে নিজেকে ডেভেলপ করা যায়।

নিউজ রুম : এই ক্যারিয়ারে আপনি অনেক বছর আছেন। মজার অভিজ্ঞতাও নিশ্চয়ই অনেক আছে?


গোলাম রাব্বী: এটা একটা চ্যালেঞ্জিং জব সত্যি। দায়িত্বশীলও বটে। তবে পেশাটাই এমন মজার যে রাজনীতি-অর্থনীতি ও সমাজের নানা দুঃখ-দুর্দশার গুরুগম্ভীর বিষয়ের সঙ্গে যেমন থাকতে হয়; তেমনি মজার, বৈচিত্র্যময়, খেলা-সাংস্কৃতিক নানা অর্জন-গর্জনের খবরও পড়তে হয়। নোরা ফাতেহির খবর যেমন পড়তে হয়, তেমনি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল; ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ নিয়েও পড়তে হয়। এই যে ক্ষণে ক্ষণে হাজারো খবর ও তথ্যের ভিন্নতা ও বৈচিত্র্য, সেটা আমাকে খুব মজা দেয়।  পাশাপাশি প্রতিদিনই মজার অভিজ্ঞতা আছে। সেটা যেমন পড়তে গিয়ে হয় আবার নিউজের বাইরেও হয়। কেউ দেখলে বলে, আপনাকে চেনা চেনা লাগে। অনেকে হাত ধরে বুঝতে চায়, অনুভব করতে চায় আমি স্বাভাবিক মানুষ কী না! আবার ধরুন সিএনজি অটোরিকশা বা রিকশায় উঠছি; হয়তো কারও সঙ্গে কথা বলছি, বারবার পেছনে তাকাচ্ছে। তার মানে, ভয়েস শুনে চিনতে পারছে। একপর্যায়ে বলে ফেলে, নিউজে আপনাকে দেখছি। এ রকম হাজারো অভিজ্ঞতা আছে। এমনও হয়, অনেক সময় পাঠাও বা উবারে যাচ্ছি। কিন্তু ড্রাইভারের পছন্দের উপস্থাপক চেনার পর আর ভাড়াই নিতে চাইছে না। এ রকম অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে।

নিউজ রুম : সংবাদ উপস্থাপনায় নতুন আর কী করা যায় বা অ্যাংকরিং নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী আপনার?

গোলাম রাব্বী: সংবাদ উপস্থাপনা নিয়ে প্রতিদিন নতুন ও নান্দনিক যা করি, তা তো সবাই স্ক্রিনে দেখবে। প্রতিক্ষণে তা ফিল করবে। আর নিউ মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার এই পরিবর্তনের যুগে নিউজের ডিজিটালাইজেশন নিয়ে বহু কিছু করার স্বপ্ন আছে।