বরিশালের লঞ্চ দূর্ঘটনায় আহত অর্ধশতাধিক

রিপন রানা, বরিশাল :: ঢাকা থেকে ছেড়ে আশা-বরিশাল গামী এমভি সুন্দরবন লঞ্চ ও লাইটার জাহাজের সংঘর্ষে ত্রিশজন আহত হয়। এছাড়াও বরিশাল থেকে মজু চৌধুরীর হাট উদ্দেশ্য চন্দ্রদ্বীপ ও এ্যাডভেঞ্চা লঞ্চের সংঘর্ষে বিশজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠে।

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২:৩০ টার সময় সুন্দরবন ১৬ লঞ্চটির সংগে লাইটার জাহাজের দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটে।

চাঁদপুর মেঘনা নদীর (একলাসপুর) নামক স্থানের একটি চরে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়।

ঐ’লঞ্চে থাকা যাত্রী শিবু দাস বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল গামী এমভি সুন্দরবন লঞ্চ ও লাইটার জাহাজের সাথে গন কুয়াশার জন্য সংঘর্ষ হয়। লঞ্চের কিছ অংশ ধুমসে মুচড়ে যায় ও লঞ্চের নিচের প্রশস্ত ফেটে পানি প্রবেশ করেন। তবে গুরুতর আহত না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কান্নাকাটি, আতংকের বিরাজ করছে।

সুমন নামে এক যাত্রী বলেন, দূর্ঘটনার পড়ে ঘটনা স্থানে সুন্দরবন ১৫ লঞ্চেটি এসে ডেকের কিছু যাত্রী নিয়ে ৪:৪০ মিনিট সময় বরিশালে চলে যায়। কিন্তু কেবিনের যাত্রীরা সকাল ৮:২০ মিনিট সময় সুন্দরবন ১৪ লঞ্চে উঠেন।

এদিকে একই রাতে ঢাকা থেকে আশা এ্যাডভেঞ্চার -১ লঞ্চে সাথে পলাশপুর মোহাম্মদ পুর চরের মাথায় এমভি চন্দ্রদ্বীপ লোকাল লঞ্চের সংগে সংঘর্ষ হয়। এসময় লঞ্চটির সামনে থেকে ধুমসে মুচড়ে যায়।

চন্দ্রদ্বীপ লঞ্চের মোঃমিলন মাষ্টার বলেন, শুক্রবার সকাল ৬: টার সময় বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে পাতারহাট টু মজুচৌধুরীর হাটের উদ্দেশ্য ঘাট ত্যাগ করেন। তার বিশ মিনিটের মধ্যে এ্যাডভেঞ্চার লঞ্চের সাথে দূর্ঘটার কবলে পড়ে। এসময় বিশ জনের মত আহত হয়। দুই নারী গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ভর্তি করানো হয়েছে। আর বাকি লোকজনকে স্থানীয় চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে।

এবিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের মোবাইলে ফোন দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।

এবিষয়ে সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আঃ জলিল বলেন, কীর্তনখোলা নদীতে লঞ্চ দূর্ঘটার বিষয়টি শুনে ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে গন কুয়াশার কারণে এই ঘটনা ঘটে।




আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা: র‌্যাব-৮

বরিশাল অফিস ::

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে টহল বাড়িয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৮)।

বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় নগরের সিএন্ডবি রোডসহ বিভিন্ন জায়গায় টহল শেষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী যুবায়ের আলম বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্স র‌্যাব সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ বরিশালে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের স্বাভাবিক টহল ও অভিযানিক কর্যক্রমগুলোর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা রোবাস্ট পেট্রোলিং করছে। গত কয়েকদিন ধরে আমরা এটি করে আসছি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সহিংসতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সে তথ্য পাওয়া মাত্রই আমরা সেখানে ফোর্স মোতায়েন করছি এবং দ্রুততার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পেরেছি।

কাজী যুবায়ের আলম বলেন, নির্বাচন ঘিরে বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ অনেক আগে থেকেই নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে এবং সুষ্ঠু ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে র‌্যাব-৮।

নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্বাচনবিরোধী অপপ্রচারণা প্রতিরোধ, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি কার্যক্রমসহ সার্বক্ষণিক র‌্যাবের ৫৪টি টহল দল দিবা-রাত্রি টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব-৮ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতকল্পে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটাকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।

তিনি বলেন, এলিট ফোর্স নির্বাচনকালীন যেকোনো সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও বরিশাল বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৮ এর সতর্কতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




৭ জানুয়ারি হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিজয়ের দিন: মেনন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বরিশাল ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির বিজয় হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ রা জানুয়ারি) উজিরপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনী গনমিছিল পরবর্তী সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে এদেশের তরুনরা এই আশা ব্যক্ত করে মেনন বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের পথ পেড়িয়ে দেশ এখন স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষে এগোচ্ছে। আগামি ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে তরুন ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রতিক নৌকায় ভোট দিয়ে সে লক্ষ্যকে এগিয়ে নিবে।

সভায় নৌকা প্রতিকে সমর্থন আহ্বান করে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস বলেন, উজিরপুর বানারীপাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঘাটি, এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির স্থান হবে না। নির্বাচনের যে স্বতঃস্ফূর্ততা চলছে তার ধারাবাহিকতায় নৌকা প্রতিক বিপুলভাবে জয়ী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকল ষড়যন্ত্রেকারীদের সকল অপচেষ্টা রুখে দিয়ে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নৌকা প্রতীকে রাশেদ খান মেননকে সমর্থন করেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শেখ হাসিনার পাশে দাড়ানোর আহবান জানান তিনি।

এর আগে উজিরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে উৎসব মুখর ভাবে মিছিল করে সভা স্থলে উপস্থিত হন হাজার হাজার মানুষ। গনমিছিলের পরে এ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত সাংসদ লুতফুন্নেসা খান বিউটি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ আল হাসান, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বেপারী,উজিরপুর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ফায়জুল হক বালী,ভাইস চেয়ারম্যান সীমা রানী শীল প্রমূখ। এছারাও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।




মাঠে নেই সাদিক, ‘নির্ভার’ জাহিদের দুশ্চিন্তা বাড়াতে পারেন ‘অচেনা’ সালাহউদ্দিন

বরিশাল অফিস :: বরিশালের রূপাতলী এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করছিলেন কয়েকজন ব্যক্তি। শীতের সকালে চায়ের আড্ডায় তাঁদের আলোচ্য বিষয় ছিল নির্বাচন। পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি বলছিলেন, ‘মনে অইলহে ভোটে কনটেস্ট না অইলেও এইবারের প্রচারে মাঠ খুব গরম থাকপে। কিন্তু আচুক্কা মাঠটা ক্যামন ঠান্ডা অইয়্যা গ্যালো।’ তাঁর কথার জবাবে চায়ের কাপ থেকে মুখ তুলে আরেকজন বললেন, ‘এহন ক্যামন কি অইবে আনে? গরম প্রার্থীই তো মাঠে নাই।’ তখন ওই ব্যক্তি বললেন, ‘অইবে আনে, রাহ (রাখ)। ট্রাক আছে না!’

বরিশাল-৫ (সদর-মহানগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর প্রার্থিতা হারানোর পর সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সর্বত্র এমন আলোচনা চলছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পরপরই সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় মহানগর আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় প্রার্থী পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক ও সাদিক আবদুল্লাহর মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকটাই ‘নির্ভার’ জাহিদ ফারুক।

সাদিকের প্রার্থিতা বাতিলের পর আলোচনায় উঠে আসছে সালাহউদ্দিন রিপনের নাম। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বরিশালের রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেও সাদিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। ঢাকায় ব্যবসা করেন। সাদিকের প্রার্থিতা বাতিলের পর প্রচার-প্রচারণার গতি বাড়িয়েছেন সালাহউদ্দিন। এমনকি প্রার্থিতা ফিরে পেতে সাদিক যখন আইনি লড়াই করছিলেন, তখন সালাহউদ্দিনকেও তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল। আপিল বিভাগে সাদিকের প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়ার পর সালাহউদ্দিন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন হয়তো সাদিকের প্রচ্ছন্ন সমর্থন পাবেন। তাঁদের ভাষ্য, বিএনপি এবার নির্বাচনের মাঠে নেই। সাদিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের সহানুভূতি সালাহউদ্দিন টানতে চাইবেন। তা পেলে জাহিদ ফারুকের সঙ্গে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠলেও উঠতে পারেন।

বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাদিক আবদুল্লাহ। কিন্তু দল বর্তমান সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুককে দলীয় মনোনয়ন দেয়। গত সিটি নির্বাচন ঘিরে বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিভেদ দানা বেঁধেছিল। সেই বিভেদে ঘি ঢালে মহানগর আওয়ামী লীগের সমর্থনে সাদিক আবদুল্লাহ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু সাদিকের প্রার্থিতায় বাদ সাধেন জাহিদ ফারুক। তিনি নির্বাচন কমিশনে সাদিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ করলে সাদিকের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়। উচ্চ আদালতে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি সাদিক। এরপর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সেই আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

সাদিকের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন তাঁর সমর্থকেরা। এখন নগরের ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা একটাই—সাদিক আবদুল্লাহ ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখন কার পক্ষে নির্বাচন করবেন। সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করব না, প্লিজ।’ দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘এ ব্যাপারেও কোনো কথা বলতে চাই না।’

জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আমিন উদ্দীন বলেন, বরিশাল-৫ আসনে জাহিদ ফারুক আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে দলের নীতি-আদর্শ ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি যাঁরা আস্থাশীল, দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন ও জয়ী করতে কাজ করা তাঁদের সাংগঠনিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই পড়ে। এটা না করলে তিনি দলীয় পরিচয় দেওয়ার নৈতিক অধিকার রাখেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন দুজনই বিএনপির ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। দুই প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রচারে নামায় মঙ্গলবার সদর উপজেলার একজন ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পর্যায়ের চার নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, জাহিদ ফারুক সজ্জন ব্যক্তি। এলাকার উন্নয়নে গত পাঁচ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন। দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির অভিযোগ না থাকায় মানুষ তাঁর প্রতি আস্থাশীল। এ ছাড়া প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না বলে মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। অন্যদিকে সালাহউদ্দিনের এলাকায় পরিচিতি নেই। টাকা দিয়ে কিছুটা মাঠ গরম করা সম্ভব হলেও ভোট নেওয়া যায় না। তাঁর (সালাহউদ্দিন) পেছনে যারাই থাকুক, জাহিদ ফারুক বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

তবে সালাহউদ্দিনের সমর্থকেরা বলছেন, সালাহউদ্দিন দীর্ঘদিন সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নারী-পুরুষকে তাঁর বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নানা সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বড় একটি ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সাদিক আবদুল্লাহ ও বিএনপির সমর্থক ভোটারদেরও তিনি সমর্থন পাবেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, এবারের নির্বাচনে বরিশালের সাধারণ ভোটাররা তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন বলে তিনি আশা করছেন। এটা বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর লোকজন তাঁর প্রচারে বাধা দিচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের হুমকি, মারধর ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনি জয়ী হবেন। অভিযোগের বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর আমিন উদ্দীন বলেন, এলাকায় তাঁর (সালাহউদ্দিন) গ্রহণযোগ্যতা একেবারেই নেই। নিজের গুরুত্ব বাড়াতে উল্টাপাল্টা অভিযোগ করে ভোটের মাঠে তিনি নিজের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছেন।

 




পায়রা সমুদ্র বন্দরের ব্যবহার বাড়ছে

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালী পায়রা সমুদ্র বন্দরের ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর হিসেবে এটি পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে দেশের সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পণ্য আমদানি-রপ্তানির জন্য পায়রা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এর ফলে বন্দরের আয় যেমন বাড়ছে তেমনি বন্দর কার্যক্রমও গতিশীল হচ্ছে।

পটুয়াখালি সমুদ্রবন্দরটি গত কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করছে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এর পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন সামগ্রী ও কয়লা পরিবহন করতো। সাম্প্রতিক সময়ে এই বন্দরের ব্যবহার বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বন্দরে এখন এলপিজি, ক্লিংকার এবং লাইমস্টোনবাহী জাহাজ আসতে শুরু করেছে।

গত ১২ই ডিসেম্বর প্রথমবারের মত তিন হাজার তিনশ টন তরল গ্যাস নিয়ে একটি জাহাজ পায়রা বন্দরে নোঙ্গর করে। এরপর গত ১৪ই ডিসেম্বর ভিয়েতনাম থেকে ৪৩ হাজার মেট্রিকটন ওপিসি ক্লিংকার এবং ১০ হাজার ১০০ টন লাইমস্টোন নিয়ে মেঘনা গ্র“পের একটি জাহাজ পায়রা বন্দরে এসেছে। এছাড়া নদী পথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণ সাশ্রয়ী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পায়রা বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক। এসময় তিনি স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট পোর্ট হিসেবে পায়রা সমুদ্র বন্দরকে গড়ে তোলার কথা জানান।




আগুন সন্ত্রাসীদের চিরদিনের জন্য রুখে দিতে হবে : আবুল হাসানাত

রফিকুল রেজা :: বরিশাল-১ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদানের মাধ্যমে আগুন সন্ত্রাসীদের চিরদিনের জন্য রুখে দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২রা জানুয়ারি) বিকেলে আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে গৈলা শিশু নিকেতন উঠান বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগতদিনে বরিশাল অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,শেখ হাসিনার আমলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে দিকে যাচ্ছে।




বরগুনায় পৌঁছাল নৌবাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য

বরিশাল অফিস :: জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য বরগুনায় পৌঁছেছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সকালে খুলনার বিএমএস তিতুমীর নৌ ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার ছয় উপজেলায় পৌঁছায় নৌবাহিনীর পাঁচ শতাধিক সদস্য।

আগামীকাল বুধবার (৩ জানুয়ারি) থেকে ক্যাপ্টেন এম মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে বরগুনায় দায়িত্ব পালন শুরু করবেন তাঁরা।

নৌবাহিনীর সদস্যরা ভোট গ্রহণের আগে, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণের পরে শান্তিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বরগুনা এবং ভোলাসহ উপকূলীয় ১৯টি উপজেলায় নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য নৌবাহিনীর সদস্যরা এসেছেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, ভোটারদের নিরাপত্তা দেবেন, টহলে দেবেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে কাজ করবেন। এ ছাড়া কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেখানেও তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।

 




ভোলার মনপুরা দ্বীপ থেকে রাসেল ভাইপার উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: এবার ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক এলাকার কামাল হুজুরের বাড়ি এলাকার মেঘনা নদী পাড়ে পরিত্যক্ত জালে আটকা পরে সাপটি। পরে স্থানীয়দের খবরে উদ্ধারের পর বনবিভাগের সংরক্ষিত গহীন অরণ্যে সাপটি অবমুক্ত করা হয়। এ নিয়ে ভোলায় ২০টি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

ভোলা বন বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মনপুরা উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, মনপুরা উপজেলার ১নম্বর মনপুরা কাউয়ারটেগ এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে জেলেদের পরিতক্ত একটি জালে রাসেল ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তারা বন বিভাগে খবর দেয়। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন বিষধর সাপটি উদ্ধার করে বনবিভাগের রামনেওয়াজ বিটের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করে।

তিনি আরও জানান, অনেকটা অজগরের মতো দেখতে রাসেল ভাইপার সাপটি ৩ ফুট ২ ইঞ্চি লম্বা এবং ওজন প্রায় ৬০০ গ্রাম। ওই এলাকাটি মেঘনা নদী তীরবর্তী হওয়ায় সাপটি জোয়ারের পানিতে ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভোলা বন বিভাগের বণ্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সাপটি অনেকটা অজগরের মতো দেখতে হলেও এটি আসলে পৃথিবীর অন্যতম বিষধর সাপ রাসেল ভাইপার। ভোলা থেকে এনিয়ে গত ৫ বছরে ২০টির বেশি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। বিষধর হলেও সাপটি শান্ত প্রকৃতির। এ প্রজাতির সাপ দেখলে না মেরে বন বিভাগে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।




বরিশালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে হামলা, ১২টি মোটরসাইকেল আগুন,আহত ৩০

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফাইয়াজুল হক রাজুর নির্বাচনী মিছিলে হামলা ও ফাঁকা গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মিছিলের ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে হামলাকারীরা। হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটে। বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অন্তরা হালদার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের ফাইয়াজুল হক রাজুর অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থকরা দুপুরে মরিচবুনিয়া থেকে মিছিল নিয়ে পৌর শহরের উদ্দেশে রওনা হয়।

তখন আমার কর্মীদের ওপর গুলি করে, এলোপাতাড়ি পেটায় এবং কোপায়। এতে আমার অন্তত ৩০ কর্মী আহত হয়েছে। হামলাকারীরা ১২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছে। এ ছাড়া চারটি পিটিয়ে ভেঙে ফেলেছে।

বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্তরা হালদার বলেন,গুলির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ১২টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও চারটি ভাঙচুর অবস্থায় পেয়েছি। এ ঘটনায় ওসিকে দ্রুত মামলা করা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




বরিশালে প্রতিদ্বন্ধিতায় জমে উঠেছে ভোটের মাঠ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: ভোটের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে, ততোই বাড়ছে বরিশাল জেলার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার হিসেব নিকেশ। সেই হিসেবে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া বরিশালের একটি আসনসহ দুইটি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দুইজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা এখন বেশ তুঙ্গে। ফলে ওই দুইটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক ট্রাক আতঙ্কে রয়েছেন জাপা মনোনীত দুইজন প্রার্থীর প্রতীক লাঙ্গল।

নির্বাচনের মাঠে দেখা গেছে, বরিশাল-১ আসনে নৌকার বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত। কারণ ওই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতায় থাকা দুইজন প্রার্থীর পক্ষে তেমন কোন প্রচার-প্রচারনা ও কর্মী সমর্থকদের মাঠে দেখা যায়নি। এমনটি জাপার স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে লাঙ্গলের প্রার্থীকে নির্বাচনী এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। এনপিপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে এজেন্ট দেওয়ার মতো কোন কর্মী সমর্থক নেই।

বরিশাল-২ আসনে নৌকার সাথে ত্রিমুখী ভোটের লড়াই হওয়ার আভাস মিলেছে। ওই আসনে নৌকার প্রার্থী রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শেরে বাংলার দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত গামছা মার্কার প্রার্থী কণ্ঠশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস ভোটের মাঠে বেশ আলোচনায় রয়েছেন।

বরিশাল-৩ আসনটি মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে জাপা প্রার্থীর চরম বিরোধ চলে আসায় এখনও তিনি ভোটের মাঠে তেমন কোন সুবিধা করতে পারেনি। তবে এ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ট্রাক মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করা মোঃ আতিকুর রহমান তৃণমূল ভোটারদের জনসমর্থনে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এ আসনের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের ভোটাররা আতিকুর রহমানকে জনতার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রচার-প্রচারনায় মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

আতিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৫ বছরে দেশ আজ উন্নয়নের মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি না থাকায় সবধরনের উন্নয়ন থেকে আমরা বঞ্ছিত রয়েছি। তাই এই নির্বাচনী এলাকার অবহেলিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করতে সর্বস্তরের ভোটারদের অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে বেশ সারাও পেয়েছি।

তিনি বলেন-‘উন্নয়নের স্বার্থে পরিবর্তন চাই’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জ-মুলাদীবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ভোটারদের মাঝে ট্রাক মার্কা যে সাড়া জুগিয়েছে তাতে সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি।

বরিশাল-৪ আসনে দ্বৈত্য নাগরিকত্বের কারণে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্তভাবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. শাম্মি আহমেদের মনোনয়নপত্র বাতিলের রায় বহাল রেখেছেন। ফলে তিনি (শাম্মি) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। যেকারণে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ওই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঈগল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ দেবনাথ।

বরিশাল-৫ আসনেও দ্বৈত্য নাগরিকত্বের কারণে মঙ্গলবার আদালত চূড়ান্তভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। ফলে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। বর্তমান সিটি মেয়র ও তার সহধর্মীনি দিনরাত সমান তালে আধুনিক বরিশাল গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান সাংসদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমের পক্ষে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। তবে ওই আসনে ট্রাক মার্কার অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ সালাহউদ্দিন রিপন নির্বাচনী মাঠে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

সচেতন বরিশালবাসীর মতে, সাদিক আব্দুল্লাহ চূড়ান্তভাবে নির্বাচন থেকে ছিটকে পরায় এবার তার সমর্থকরা ট্রাক মার্কার প্রার্থীর ওপর ভর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ আসনে নৌকা ও ট্রাকের সাথে হাড্ডাহাড্ডি ভোটের লড়াই হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

বরিশাল-৬ আসনের বর্তমান সাংসদ জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতনা আমিনের লাঙ্গল মার্কার সাথে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক এবং ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ শামসুল আলম চুন্নু। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দরা ট্রাক মার্কার ওপর প্রকাশে ভর করায় এখানে সুষ্ঠু ভোট হলে ট্রাক মার্কার বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা।