ভোলার বাজারে ইলিশ সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা নেই

বরিশাল অফিস :: বাজারে ইলিশ সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা নেই ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ধরা পড়ছে ছোট সাইজের ইলিশ। এতে কিছুটা মন খারাপ জেলেদের। এদিকে দাম বেশি হওয়ায় অখুশি ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, এসময়ে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ উঠে আসলেও এর বেশিভাগই ছোট। তাই হাসি নেই জেলেদের মুখে। ওই এলাকার জেলে মো. সোহেল জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে জাল ফেলে ছোট ইলিশ পাচ্ছি। বড় সাইজের ইলিশ তেমন একটা উঠে না। ছোট সাইজের ইলিশের দাম কম হওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছে না।

তুলাতুলি মৎস্য ঘাটের আড়তদার মো. আব্দুল খালেক জানান, নদীতে বড় সাইজের ইলিশের পরিমাণ কম হওয়ায় পাইকারি আড়তে বিক্রি করা যাচ্ছে না। জেলেরা যে ইলিশ পাচ্ছেন তার বেশি ভাগই ছোট সাইজের। ছোট ইলিশ আড়তে নিতে চায় না। যার ফলে এসব ইলিশ স্থানীয় বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। সকালে শহরের বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, নদীর ইলিশ, পোয়া, পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের ব্যাপক সবরাহ। মৎস্য বিক্রেতারা ওই সব মাছ নিয়ে সকালে ছুটে এসেছেন।

মো. সোয়েব নামের এক ক্রেতা জানান, বাজারে ইলিশসহ নদীর মাছের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে বসে আছেন যা ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে।

তিনি জানান, ভোলার চারদিকে নদী হওয়ায় মাছের পরিমাণ বেশি। আর নদীর মাছ কারো চাষ করতে কিংবা খাবার দিতে হয় না। এ জন্য তারা সরকারিভাবে মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি করেন।

মো. ইসমাইল হোসেন নামের এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, বাজারে ইলিশ উঠেছে কিন্তু ক্রেতা নেই। বড় সাইজের ইলিশ খুঁজছেন ক্রেতারা। ঘাট থেকে আমরা বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হয়।

তিনি জানান, খুচরা বাজারে ৩৫০-৪০০ গ্রামের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশের হালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, ৭০০-৯০০ গ্রামের ইলিশের হালি ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশের হালি সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা।

এছাড়াও পোয়া মাছের কেজি ৫০০-৮০০ টাকা, কোরালের কেজি ১২০০-১৪০০ টাকা ও পাঙাশের কেজি ৮০০-১২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এ এফ এম নাজমুস সালেহীন জানান, কয়েকদিনের মধ্যে নদীতে বড় সাইজের ইলিশের দেখা মিলবে। তখন বাজারে বড় সাইজের ইলিশেরও সরবরাহ বাড়তে। বিক্রেতারা যে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে বসে আছেন তার জন্য আমরা দ্রুত বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবো।




পাথরঘাটায় চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত সেই হরিণ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটার বিষখালী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হরিণটি সুস্থবোধ করছে। এটিকে চিকিৎসা শেষে বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্কের জঙ্গলে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিষখালী নদীতে ভাসমান অবস্থায় হরিণটিকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। পরে উদ্ধারকৃত হরিণটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় হরিণটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের গুরুতর জখম দেখা যায়। বন বিভাগ অসুস্থ হরিণটিকে চিকিৎসার জন্য পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় নেয়। তিন দিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে হরিণটিকে হরিণঘাটা বনে অবমুক্ত করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খান, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ, অমল তালুকদার, জাকির হোসেন খান ও ইমরান হোসাইন প্রমুখ।

বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষখালী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় হরিণটি উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। হরিণটি অসুস্থ থাকায় তিন দিন চিকিৎসা শেষে হরিণঘাটা বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

 




দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হলেন পটুয়াখালীর মহিববুর রহমান

বরিশাল অফিস :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হলেন মহিববুর রহমান দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসন থেকে নির্বাচিত মো. মহিববুর রহমানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

৭ জানুয়ারির নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসন থেকে ৫৬ হাজার ২৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. মহিববুর রহমান। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন।

গত ৯ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেজেট প্রকাশের পরদিন ১০ জানুয়ারি (বুধবার) শপথ নেন নবনির্বাচিত এমপিরা। আর এমপিদের শপথ গ্রহণের একদিন পর বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) শপথ নিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।




পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে বহাল জাহিদ ফারুক

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: বরিশাল-৫ আসন থেকে বিজয়ী জাহিদ ফারুক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে বুধবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন : জাহিদ ফারুক শামীমের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯৫০ সালে বরিশালের নবগ্রাম রোডে। বরিশাল জিলা স্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারী অর্জন করেন। তার পিতা খন্দকার মজিবুর রহমান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা আম্বিয়া বেগম ছিলেন গৃহিণী। তার স্ত্রী লায়লা শামীম সম্প্রতি ইন্তেকাল করেছেন। তার এক সন্তান রয়েছে।

কর্মজীবন : জাহিদ ফারুক ছাত্রজীবনই তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। ২০০৪ সালে তিনি কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন : জাহিদ ফারুক ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে হয়ে বর্তমানে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৫ আসন থেকে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বরিশাল-৫ আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। তিনি শেখ হাসিনার চতুর্থ মন্ত্রিসভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের এ প্রার্থী ৬২ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনের ফলাফলে জাহিদ ফারুক পান ৯৭ হাজার ৭০৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন রিপন পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩৭০ ভোট।

গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া স্বতন্ত্রদের মধ্যে বিজয়ী হন ৬২ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১টি আসনে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

এস এল টি/ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ /




সিটি মেয়রের নির্দেশে নগরীর নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টার অপসারণ শুরু

বরিশাল অফিস :: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার-ব্যানারসহ অন্যান্য প্রচারণাসামগ্রী অপসারণ শুরু করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)।

৭ জানুয়ারী ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১০ জানুয়ারী থেকে নগরীতে এই কার্যক্রম শুরু করে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগ। যা এখনো চলমান আছে। পুরো ৩০ টি ওয়ার্ডের এই কার্যক্রম শেষ করতে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের একাধিক টিম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে শহরের পরিবেশ রক্ষা করার জন্য বিসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। মেয়র বলেন, পাঁচ বছর পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় পোস্টার ব্যানার ব্যবহার করেছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করার জন্য। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ নগরবাসীকে অনুরোধ করছি- নির্বাচন শেষ, আর যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার লাগাবেন না। আমরা এই শহরকে নোংরা দেখতে চাই না। আমরা দূষণ চাই না।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সচিব মাসুমা বেগম বলেন, মেয়র মহোদ্বয়ের নির্দেশে আমরা নির্বাচনী পোস্টার ব্যানার অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে। দুদিন ধরে কাজ চলছে। যতক্ষন না নগরীর সকল পোষ্টার ব্যানার অপসারণ না হয় ততদিন কার্যক্রম চলবে।




ভোলায় দিন দিন কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা

 

বরিশাল অফিস :: ভোলায় গাঙ্গুইরার চরে দেশি গাঙচষা ও চখাচখির ঝাঁক। শীত এলেই প্রতিবছর দ্বীপ জেলা ভোলাসহ উপকূলের চরাঞ্চলে পরিযায়ী পাখি এসে জড়ো হতে শুরু করে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জেলার বিভিন্ন চরে অতিথি পাখিরা এসে জড় হতে শুরু করে। এর মধ্যে রয়েছে অনেক বিপন্ন পাখি।

বাংলাদেশে পাখিদের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ভোলা। তবে এ বছর ভোলায় আসা পরিযায়ী পাখির সংখ্যা আগের তুলনায় কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাবারক্ষেত্র ও প্রজননক্ষেত্র নষ্টের পাশাপাশি শিকারিদের দৌরাত্ম্য এজন্য দায়ী বলে মনে করছেন পাখি পর্যবেক্ষক ও গবেষকরা। তাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর ৩৬.৫ শতাংশ কম পাখি উপকূলে এসেছে।

চলতি বছরের গত ২ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ঢাকা থেকে ভোলায় জলপাখি গণনা করতে আসা সদস্যদের দলীয় প্রধান সায়েম ইউ চৌধুরী জানান, ১৯টি কাঁদাচরসহ ৪৪টি স্থান পর্যবেক্ষণ করে তারা এ বছর মোট ৬২ প্রজাতির ৩৪ হাজার ৩১২টি পাখি গণনা করেছেন ভোলায়, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬.৫ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে ৬৫ প্রজাতির ৫৪ হাজার ১৮০টি পাখি গণনা করেছিলেন তারা।

তিনি আরও জানান, এ বছর উপকূলে আসা উল্লেখযোগ্য প্রজাতির মধ্যে একটি মহাবিপন্ন চামচ-ঠুঁটো বাটন এবং ছয়টি বিপন্ন বড় নট পাখির দেখা মিলেছে গাঙ্গুইরার চরে। টেগরার চরে একটি দুর্লভ বৈকাল হাঁসের দেখা পাওয়া গেছে। এছাড়া আন্ডার চরে একসাথে ৩ হাজার ২৮৬টি পাতি চখাচখি দেখা গেছে। পাশাপাশি দেখা মিলেছে ১ হাজার ২০০টি বিপন্ন প্রজাতির দেশি গাংচশা, মেটে-মাথা টিটি হাঁস ১ হাজার ১০টি এবং ৯০০টি ধূসর রাজহাঁসের।

বন্যপ্রাণী গবেষক ও পাখি পর্যবেক্ষক সামিউল মেহেসনিন জানান, শীত এলেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবির বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে জড় হয় ভোলার চরাঞ্চলে। আর প্রতিবছর এসব পাখির মাঝে এসে ভিড় করে পৃথিবির মহাবিপন্ন কিছু পাখি। বিশ্বের বহু বিপন্ন পাখির টিকে থাকার জন্য ভোলা অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাখি-পর্যবেক্ষক ও পর্বত আরোহী এম এ মুহিত ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ভোলায় পাখিশুমারি করে আসছেন। তিনি জানান, ভোলার চরগুলোতে ৪ ধরনের বিরল পাখির দেখা মেলে। এগুলো হলো মহাবিপন্ন, বিপন্ন, প্রায় বিপন্ন ও সংকটাপন্ন। যে দেশে যত বেশি পাখি আসে সে দেশের প্রকৃতি তত নির্ভেজাল। যেহেতু পৃথিবীর মহাবিপন্ন পাখিরা তাদের আসার জায়গা হিসেবে ভোলা এসব চরাঞ্চল বেছে নিয়েছে, সেহেতু দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার জন্য সরকারের উচিত এসব জায়গা সংরক্ষ করা। বিশেষ করে এসব চরে মানুষ যাতে অবাধে বিচরণ করতে না পারে।

তিনি বলেন, আইন করে পাখিদের রক্ষা করা যাবে না। এজন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে। অনেকে জানেও না যে পাখি মারা অপরাধ। তাই আমরা পাখি রক্ষায় বার্ড ক্লাবের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছি।

 




বরিশালে ট্রলির চাপায় স্কুল ছাত্রী নিহত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলায় ইট বোঝাই ট্রলির চাপায় এক স্কুল ছাত্রী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে সাকরাল মডেল বাজার সংলগ্ন এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ তিনি জানান,ইট ভর্তি ট্রলি বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে ডাবেরকুল বাজারের দিকে যাচ্ছিল সে সময় ওই গ্রামের সোহরাব হাওলাদারের মেয়ে চতলবাড়ি আব্দুল মজিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত আক্তার (১৩) স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইট বোঝাই ট্রলিটি নুসরাত আক্তারকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তবে তাৎক্ষণিক চালক পালিয়ে যায়।

তিনি জানান,ট্রলি গাড়িটি আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হবে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঘাতক ট্রলিতে অগ্নিসংযোগ করে পড়ে তা ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।




তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন, ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

বরিশাল অফিস :: তীব্র শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন। বিশেষ করে ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। তাদের ভর্তি করা হচ্ছে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালের অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

শিশুদের চিকিৎসায় কর্তৃপক্ষ সর্বাধিক চেষ্টা করে যাচ্ছে চন্দ্রদ্বীপ নিউজকে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩৬ শয্যার বিপরীতে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন ছিলো আড়াই শতাধিক শিশু। বর্হিবিভাগেও চিকিৎসা নিয়েছে ২ শতাধিক শিশু। তাদের বেশিরভাগই গ্রামের।

পিরোজপুরের আকলিমা বেগম জানান, গ্রামে প্রচুর ঠাণ্ডা। ঠাণ্ডায় গত ৬ দিন আগে তার শিশু সন্তানের ডায়রিয়া হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় সুস্থ না হওয়ায় গত বুধবার তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন তারা।

উজিরপুরের রুবিনা বেগম জানান, শীতের কারণে তার শিশু সন্তান ডায়রিয়া, জ্বর ও বমিতে আক্রান্ত হয়।

উপায় না পেয়ে ২ দিন আগে তাকে শের-ই বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করেন তারা।
ভক্তভোগীরা শিশু ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও উন্নত করাসহ সকল ওষুধ সরকারিভাবে দেয়ার দাবি জানান।

ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী থাকার পরও শিশু ওয়ার্ডে সুষ্ঠু চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্থান সংকটের কারণে শিশুদের মেঝেতে বিছানা দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার অধিক রোগী এবং স্বজন বেশি থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা যায় না।

পরিচ্ছন্ন কর্মীরা একদিকে পরিষ্কার করে, অন্যদিকে তারা নোংরা করে। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ঠাণ্ঠাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষায় গরম কাপড়ে শিশুদের আবৃত রাখাসহ অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।




কুয়াকাটায় সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস :: কুয়াকাটায় কর্মরত মানবজমিন ও বিজয় টিভির প্রতিনিধি এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক হোসাইন আমিরকে মহিপুর থানা পুলিশ কর্তৃক মারধরের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ পাঠাবেন। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে এমনটি আশ্বস্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জুবায়ের আহমেদের নেতৃত্বে এতদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। পুলিশ সুপারের সাথে কুয়াকাটা, মহিপুর ও পটুয়াখালী জেলায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিকদের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছবি এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় মহিপুর থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আবদুর রব, কনস্টেবল আজিজ ও আল আমিন কর্তব্যরত সাংবাদিক হোসাইন আমিরকে মারধর ও টানাহেঁচড়া করে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়।

এ সময় সাংবাদিক হোসাইন আমিরকে পুলিশ ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক এ ঘটনা জানাজানি হলে কুয়াকাটা মহিপুর এলাকায় কর্মরত সংবাদ কর্মীরা থানায় ছুটে যায়। সেখানে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলোচনায় হোসাইন আমিরকে অহেতুক মারধর ও হেনস্তার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে উঠে আসে। মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার নানা কৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানিয়েন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মহিপুর থানার ওসির অপসারণ এবং দোষীদের বিচার দাবী করে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে কুয়াকাটা প্রেসক্লাব। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার জেলার সিনিয়র সাংবাদিকদের সমন্বয়ে বেলা ১১টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, পটুয়াখালী টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি কাজল বরণ দাস ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম আরিফসহ নেতৃবৃন্দ, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন, কুয়াকাটা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুল ইসলামসহ কুয়াকাটা, মহিপুর ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম বার, সাংবাদিকদের অভিযোগ শুনেন এবং গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপক গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।




বরিশালে মেয়েকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

বরিশাল অফিস :: পারিবারিক কলহের জেরধরে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে মেয়েকে খাবারের সাথে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর গর্ভধারীনি মা নিজে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে জেলার মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে। মুলাদী থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে মৃত মেহেনাজ আক্তারের (১৩) মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি মৃতের মা তাসলিমা বেগমকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি জানান, পারিবারিক কলহের জেরধরে ওই গ্রামের মাহাবুব হাওলাদারের সাথে তার স্ত্রী তাসলিমা বেগমের বুধবার সকালে তুমুল ঝগড়া হয়। এরপর মাহাবুব কাজের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সবার অজান্তে প্রথমে মেয়েকে বিষপান করিয়ে হত্যা করে নিজেও বিষপান করেন তাসলিমা।