বরিশালে আগৈলঝাড়ায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কনকনে শীতের তীব্রতা থেকে রেহাই পেতে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের দুই হাজার ছয়শ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মোশারফ হোসেন জানান, সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়  থেকে বরাদ্দকৃত দুই হাজার ছয়শ কম্বল শনিবার উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নের  চেয়ারম্যানদের কাছে বিতরণের জন্য প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ঠ ইউপি  চেয়ারম্যানগন ৪৫টি ওয়ার্ডের অসহায়, দুস্থদের মধ্যে ওই সকল কম্বল বিতরণ করেছেন।

রাজিহার ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াস তালুকদার ও গৈলা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত কম্বল পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে আমরা রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছি। পরে সংশ্লিষ্ঠ মেম্বরদের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কম্বলগুলো প্রেরণ করা হলে  মেম্বরগণ স্থানীয় অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।

কম্বল বিতরেন সময়ে উপস্থিত ছিলেন রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ সচিব গৌতম পাল, গৈলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তরিকুল ইসলাম চাঁন, মশিউর রহমান সরদার, সৌরভ মোল্লা প্রমুখ।

 




ভোলার কাঁকড়া যাচ্ছে বিদেশে, বিকল্প কর্মসংস্থানে খুশি জেলেরা

বরিশাল অফিস :: জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত ভোলার মনপুরাসহ কয়েকটি দ্বীপের বেশিরভাগ জেলে পেশা পাল্টে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন কাঁকড়া শিকার। মৌসুমজুড়ে কাঁকড়া পাওয়া গেলেও দাম চওড়া থাকায় শীতের সময়ে কাঁকড়া শিকারে আগ্রহ বেশি থাকে জেলেদের।

অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় এ পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন তারা।

ভোলার কাঁকড়ার চাহিদাও বেশ ভালো। এসব কাঁকড়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে চলে যাচ্ছে চীন, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ বিদেশে।

তাই পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাঁকড়া শিকার ও সংরক্ষণ করে একদিকে যেমন তারা লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে পারিবারিক সংকটও দূর হচ্ছে ভোলার জেলেদের।

জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে। আর এ কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলেরা। ঋলগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। এই সংকট মোকাবিলায় এবার জেলেরা বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে দলবদ্ধভাবে নেমে পড়েছেন কাঁকড়া শিকারে।

মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি ও নিঝুম দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার জেলে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন এ কাঁকড়া শিকার। আহরিত কাঁকড়া আড়তে বিক্রি করে পরিবারের খরচ জোগাড় করছেন তারা।

মনপুরার জেলে রতন দাস, শ্রীরাম, লক্ষণ, দিলিপ ও মোরশেদ জাফর বলেন, আগে আমরা মাছ শিকার করতাম। কিন্তু সারাদিন জাল বেয়েও তেমন মাছ পাওয়া যেতে না। এতে দিন দিন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। এখন কাঁকড়া শিকার করি। এতে কিছুটা হলেও সংকট দূর হচ্ছে। প্রতি পিস কাঁকড়া ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করি আড়তে। বেশি ধরতে পারলে বেশি লাভ।

আড়তদার নীরব দাস বলেন, জেলেদের কাছ থেকে কাঁকড়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার আড়তে কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে পাই। সেগুলো চলে যায় বিভিন্ন দেশে।

কীভাবে হচ্ছে কাঁকড়া শিকার প্রশ্নে জেলেরা জানান, উপকূলের ছোট ছোট খাল আর জঙ্গলের অল্প পানিতে সাবল, রড ও দড়ি নিয়ে মাটির ভেতর থেকে কাঁকড়া তুলে আনছেন তারা। এসব কাঁকড়া পানিতে পরিষ্কার করে আড়তে বিক্রি করেন।

ভোলার কাঁকড়া চাহিদা বেশি থাকায় পেশা পরিবর্তন করে অনেকেই হয়ে উঠছেন কাঁকড়া শিকারি। এমনটাই জানিয়েছেন মনপুরা ও চর কুকরি-মুকরির বেশ কয়েকজন আড়তদার। তারা বলছেন, দিন দিন কাঁকড়া শিকার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

এদিকে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে কাঁকড়া শিকার আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে মৎস্যবিভাগ।

মনপুরা উপজেলা মেরিন ফিশারিজ অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, কাঁকড়া শিকারের করে জেলেরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। তাদের পরিবেশবান্ধব উপায়ে কাঁকড়া শিকার ও সংরক্ষণে আমরা সহায়তা দিচ্ছি। জেলেরাও বিকল্প পেশা হিসেবে ঝুঁকছেন কাঁকড়া শিকারে।

কাঁকড়া শিকারিদের তথ্য মতে জানা গেছে, জেলেদের আহরিত এসব কাঁকড়া ঢাকার উত্তরায় পাইকারি বাজার হয়ে চলে যায় চীন, মালয়েশিয়া এবং হংকংসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রে। সারা মৌসুম কাঁকড়া হলেও শীতের মৌসুমে চাহিদা এবং দাম চড়া থাকে বলে মনে করছেন শিকারিরা।




কাউখালীতে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ অভিযুক্ত আটক

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের কাউখালীতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ধর্ষক যুবক ফারুক আটক।

জানা গেছে, কাউখালী উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের রাসেল খানের মেয়ে, পশ্চিম মাগুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ১৩ বছরের এক ছাত্রীকে একই এলাকার প্রতিবেশী ফরিদ হাওলাদারের ছেলে ওমর ফারুক (২৩) বিবাহের প্রস্তাব সহ বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি দেখিয়ে মেয়ের দাদার ঘর সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

স্কুলছাত্রী একাধিকবার ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাটি মাকে জানালে। ধর্ষিতার মা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগ দিলে বিষয়টি অর্থের বিনিময় ধর্ষক ওমর ফারুক ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে মেয়ের মা শনিবার রাতে (১৩ জানুয়ারি) বাদী হয় কাউখালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ রাতেই ধর্ষক ওমর ফারুককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




অস্তিত্ব সংকটে বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্প

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: কয়েক বছর আগেও ব্যাপক চাহিদাছিল বরিশালের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় প্রভাবক হয়ে উঠছিল এ খাত। কিন্তু বর্তমানে নানা প্রতিবন্ধকতায় শিল্পটি অস্তিত্ব সংকটের মুখে। কাজ না থাকায় সব ডকইয়ার্ডেই ঝুলছে তালা। এর পেছনে দায়ী করা হচ্ছে নৌ-রুটে যাত্রী সংকটকে। পাশাপাশি অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খাতসংশ্লিষ্টদের বিপদে ফেলেছে।

এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা জানান, সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে বরিশালে গড়ে ওঠা জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। প্রতি বছর অন্তত পাঁচ-ছয়টি জাহাজ নির্মাণ করা হতো এখানকার প্রত্যেকটি ডকইয়ার্ডে। কিন্তু এখন নির্মাণ শূন্যের কোটায় নেমে গেছে। এমনকি মেরামতের কাজেও ব্যবহার হচ্ছে না ডকইয়ার্ডগুলো।

জাহাজ ও লঞ্চ মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর এ অঞ্চলে নৌপথে যাত্রী সংকট তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রতি মাসেই বড় ধরনের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় জেলায় জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

সুরভী শিপিং লাইনসের পরিচালক রেজিন-উল কবির চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ‘বরিশালে এ ব্যবসার গোড়াপত্তন ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তখন বরিশালে দক্ষ কারিগর পাওয়া যেত না। ঢাকা থেকে শ্রমিক এনে বরিশালে জাহাজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছিল। তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে বরিশালের শ্রমিক ও কারিগররা এখন অনেক দক্ষ হয়েছেন। ফলে বাইরে থেকে আর শ্রমিক আনতে হয় না। দেশের যেকোনো স্থানের চেয়ে বরিশালে মজুরিও কম। এ কারণেই বরিশালে জাহাজ নির্মাণ করলে ৩০ শতাংশ ব্যয় সাশ্রয় হতো। কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি তেল এবং এমএস প্লেটের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি নৌরুটে চরম যাত্রী সংকট এ শিল্পের জন্য অশনিসংকেত বয়ে এনেছে।’ তার মালিকানাধীন ক্রিসেন্ট নেভিগেশন কোম্পানি এক বছর আগেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

১৯৬৪ সালে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের নয়ানী এলাকায় সাহেবের হাট খালের পাশে ছোট পরিসরে একটি ডকইয়ার্ড তৈরি করেন এখানকার লঞ্চ ব্যবসায়ী ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান প্রয়াত গোলাম মাওলা। সেখানে চারটি কাঠের লঞ্চ নির্মাণের মধ্য দিয়ে নৌযান নির্মাণের যাত্রা শুরু। এরপর গত এক দশকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০-১২টি ডকইয়ার্ড। এগুলোয় নির্মাণ করা হয় ছোট-বড় লঞ্চ, যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী জাহাজ। তবে এখন ডকইয়ার্ডগুলো নতুন করে কোনো নৌযান তৈরি হচ্ছে না। এর সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের বেশির ভাগই বেকার হয়ে পড়েছেন।

সুন্দরবন নেভিগেশনের স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান রিন্টু চন্দ্রদীপ নিউজকে বলেন, ‘একটি শিপইয়ার্ডে অনেক শ্রমিক কাজ করে। প্রত্যেকটি চারতলা লঞ্চ ও কোস্টার নির্মাণ করতে এক থেকে দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যায়। এ পুরোটা সময়ই শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের বেতন-ভাতা বহন করতে হয়। কিন্তু এখন নানা সংকট চলছে। নৌ-রুটে যাত্রী কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। তার ওপর সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা ব্যবসা গুটিয়ে বাঁচার পথ খুঁজছি।’

বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী বেশির ভাগ বিলাসবহুল নৌযানই তৈরি হতো এসব ডকইয়ার্ডে। দেশী-বিদেশী প্রযুক্তির মিশ্রণে স্থানীয় শ্রমিকরাই নির্মাণ করতেন এসব জলযান। এখন বৃহদাকার লঞ্চগুলো মেরামতের জন্যও এ ইয়ার্ডগুলো ব্যবহার হচ্ছে না। লঞ্চ মালিকরা বাইরে থেকে শ্রমিক এনে লঞ্চেই সারছেন মেরামতের কাজ।

এখনো বরিশালের নৌযান নির্মাণ শিল্পে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি। উচ্চ সুদের হারের সঙ্গে ব্যাংক ঋণ পেতে দীর্ঘ কালক্ষেপণসহ অসামঞ্জস্যপূর্ণ শর্তের বেড়াজালের কথাও জানিয়েছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তারা।




বরিশালে ১১ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমু তোফায়েল,আটবার আবুল হাসানাত

এস এল টি তুহিন,বরিশাল:: দক্ষিণাঞ্চলে অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে বেশিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বর্ষীয়ান দুই আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী আলহাজ আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ। ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেছে তার সবগুলোতে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ মোট ১১ বার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এরমধ্যে আমির হোসেন আমু সাতবার আর তোফায়েল আহমেদ নয়বার বিজয়ী হয়েছেন।

দলীয় সূত্রমতে, এ দুই বর্ষীয়ান নেতা ষাটের দশকে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রনেতা হিসেবে ছাত্রসমাজকে নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদের সমকক্ষ রাজনীতিবিদ এখন আর দক্ষিণাঞ্চলে নেই। দুজনেরই রাজনীতির সূচনা হয়েছিল বিএম কলেজের ছাত্রলীগের হাত ধরে।

আমির হোসেন আমু ষাটের দশকে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় একই সময়ে ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। আমির হোসেন আমু ১৯৭০ সালের প্রথম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বরিশাল সদর আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পরিষদেও তিনি নির্বাচিত হন ১৯৭৩ সালে। তখন তিনি ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একই আসনে ৭৯, ৮৬, ৯১ ও ৯৬ সালে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ১৯৯৮ সালে ঝালকাঠি-২ এর উপনির্বাচনে আমির হোসেন আমু এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও তিনি পরাজিত হন। ২০০৮ সালে ঝালকাঠী-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং ২০১৪ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আমির হোসেন আমু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে ঝালকাঠি-২ এর পাশাপাশি বরিশালের বানারীপাড়া ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি সংসদীয় আসনে এবং ১৯৯৬ সালে ঝালকাঠি-২ এর সঙ্গে ১ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আমির হোসেন আমু।

একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝালকাঠি-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এ নিয়ে আমির হোসেন আমু সাতবার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপরদিকে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৬ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি দ্বীপজেলা ভোলা-১ (সদর) থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৭৩, ’৯১, ’৯৬, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে। ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-২ আসন থেকে। ওই আসন থেকে ৯১ ও ৯৬ সালেও বিজয়ী হন তোফায়েল আহমেদ।

অর্থাৎ ওই বছরগুলোতে তিনি দুটি করে আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ ভোলা-১ আসন থেকে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এরমধ্যে তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আটবার আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনসহ আটবার অংশগ্রহণ করেছেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে বর্তমান বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশে বরিশাল পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।

’৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ বরিশাল সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বরিশাল-১ আসন থেকে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। ’৯৬ সালে বরিশাল-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন।




দক্ষিণাঞ্চলে নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে হাজারও পরিবার

বরিশাল অফিস :: নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলে বৃহৎ জনগোষ্ঠী সমুদ্রসহ নদ-নদী থেকে মৎস্য আহরণের পেশার সঙ্গে জড়িত। মৎস্য আহরণের কাজে জাল আর নৌকার ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে।

আর এ নৌকা তৈরি করে জীবিকা ও নির্বাহ করছেন এ অঞ্চলের অনেকেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহারও হচ্ছে মাছ ধরার নৌকাগুলোতে, তবে নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বাড়ায় দিন দিন বেড়েই চলছে নৌকা দাম। তারপরও পেশা ও প্রয়োজনের তাগিদে নতুন নতুন মাছ ধরার নৌকার চাহিদা কখনও কমেনি বলে দাবি এর কারিগরদের।

বরিশালের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় যুগের পর যুগ ধরে বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার নৌকা তৈরি করা হয়ে থাকে। এখানকার তৈরি নৌকা দিয়ে বৃহত্তর মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, তেতুলিয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদী এমনকি বঙ্গোপসাগরেও মাছ শিকারে যান জেলেরা।

নৌকার কারিগর মোজাম্মেল হক বলেন, কদর কমেনি মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত নৌকার, তবে কাঠসহ নৌকা তৈরির সব সামগ্রীর মূল্য বাড়ায় তুলনামূলক কমেছে কারিগরদের শ্রমের মজুরি।

তিনি বলেন, বাংলাবাজার এলাকায় নৌকা তৈরির কাজ যুগের পর যুগ ধরে চলছে। এ কাজে কোনো সহযোগীর প্রয়োজন হয় না, তাই এখানে একজন মহাজনের অধীনে বর্তমানে আটজন কারিগর কাজ করছি। প্রতিদিন মজুরি ছয় থেকে আটশ’ টাকা পর্যন্ত। তবে বর্তমান বাজারে এ বেতন দিয়ে সংসার চালানো দায়।

মামুন হোসেন নামে অপর নৌকার কারিগর বলেন, ‘৮০ টাকার ধূপ এখন দেড়শ’ টাকায় কিনতে হয়। আবার ৪-৬ শ’ টাকার কাঠ কিনতে হয় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। নৌকা তৈরির সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুই লাখ টাকার নৌকা বানাতে এখন সাত লাখ পড়ে যায়। যখন কোনো কিছুর দাম আর কমানো যাচ্ছে না, তখন সবার হাতটা পড়ে আমাদের মজুরির ওপর। ’

যদিও মৌসুমে ২০-২৫টি ছোট ও বড় মাছ ধরার নৌকা বানিয়ে বিক্রি করতে পারলে মহাজন ও কারিগরদের বছরটা তেমন একটা খারাপ যাবে না বলে জানিয়েছেন লাল চান।

তিনি বলেন, এখানে চিকন বা ছোট ডালি আর মোটা বা বড় ডালি এ দুই ধরনের মাছ ধরার কাজ বেশি হয়। সেক্ষেত্রে চিকন ডালি অর্থাৎ ২৫-২৬ হাত লম্বা নৌকার মূল্য ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ পর্যন্ত পড়ে যায়, আবার ৪০-৫০ হাত লম্বা নৌকার মূল্য পাঁচ থেকে আট লাখ পর্যন্ত পড়ে যায়।

২৫-২৬ হাত একটি নৌকা বানাতে ২০-২৫ দিন সময় লাগে জানিয়ে লাল চান বলেন, সারাবছরই বাংলা বাজারে আমরা নৌকা তৈরির কাজ করি। বিক্রিও সারা বছর ধরে হয়। তবে মৌসুমে ২০-৩০টি নৌকা বিক্রি হলে বছরটা ভালো যায়।

আর পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে নৌকা বানানোর কাজটি শিখেছেন জানিয়ে সাহাবুদ্দিন ও সাইফুল নামে অপর দুই নৌকার কারিগর বলেন, এখন যে অন্য কাজ করবো তারও সুযোগ নেই। নৌকার কাজ না থাকলে বসে বসে খেতে হয়, আর কাজ থাকলে তো ভালো।

তবে সারাবছর এ কাজ থাকে না জানিয়ে তারা বলেন, যখন কাজ থাকে না তখন অন্য কাজে গেলে এ স্থায়ী কাজটি হারানোর ভয়ও থাকে।

তবে সামনে ছোট মাছের মৌসুম হওয়ায় বেশ কিছু চিকন ডালির নৌকা বিক্রি হবে জানিয়ে আলাউদ্দিন বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নৌকার তৈরির সামগ্রী আমাদের এখানে বানানো হয়। তাই এখানের নৌকার মান ভালো হওয়ায় তুলনামূলক কাজ বছরজুড়েই থাকছে। অনেকে তো আগাম তৈরি করতে দেয়। এ সময়ে চিকন ডালির নৌকা বেশি বিক্রি হবে। আর এখানকার তৈরি নৌকা মেহগনি গাছের হওয়ায় এগুলো দীর্ঘস্থায়ীও হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী অন্য গাছের কাঠও নৌকা তৈরিতে ব্যবহার করি।

প্রসঙ্গত, বরিশালের হিজলা উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বছরে শুধু মাছ ধরার নৌকা বিক্রি হয় প্রায় দুই শতাধিক।




লেজ গজিয়েছে বুধ গ্রহের!

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধ। সূর্য থেকে বুধ গ্রহের সর্বনিম্ন দূরত্ব ৪৭ মিলিয়ন কিলোমিটার। অন্যদিকে পৃথিবী থেকে সূর্যের সর্বনিম্ন দূরত্ব ১৪৭ মিলিয়ন কিলোমিটার। অর্থাৎ পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের এক তৃতীয়াংশেরও কম দূরত্বে বুধ গ্রহের অবস্থান।

অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থানের ফলে সূর্যের উত্তাপে বুধ গ্রহের তাপমাত্রা দিনের বেলায় ৪৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। অথচ রাতের বেলায় তাপমাত্রা নেমে আসে মাইনাস ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রচণ্ড তাপমাত্রার প্রভাবে বুধ গ্রহের স্থায়ী কোন বায়ুমণ্ডল নেই। কিন্তু বুধ গ্রহের উর্ধাকাশে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম, সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম পরমাণুর একটি হালকা গ্যাসীয় আবরণ রয়েছে।

মজার ব্যাপার হলো, বুধ গ্রহ যখন সূর্যের কাছাকাছি চলে আসে তখন প্রবল সৌরবায়ুর প্রভাবে এই হালকা গ্যাসীয় আবরণটি থেকে সোডিয়াম গ্যাসের একটি দীর্ঘ লেজের সৃষ্টি হয়। সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধ গ্রহের সময় লাগে ৮৮ দিন। এর মধ্যে ১৬ দিন বুধ গ্রহ সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান করে। সৌর পরিক্রমায় কক্ষপথে কোন গ্রহ যখন সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসে, তখন তাকে বলে পেরিহেলিয়ন বা অণুসূর।

এই সময় বুধ গ্রহের লেজের দৈর্ঘ্যটি হয় সবচেয়ে বেশি। তখন এই লেজের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ২৪ মিলিয়ন কিলোমিটার।
কিন্তু দীর্ঘ এই লেজটি খালি চোখে দেখা যায় না। বুধ গ্রহের লেজের ছবি তুলতে হলে ক্যামেরায় ন্যানো ব্যান্ডের ফিল্টার ব্যবহার করতে হয়। অ্যাস্ট্রো ফটোগ্রাফাররা এজন্য তাদের ক্যামেরায় ৫৮৯ এনএম ব্যান্ডের বিশেষ ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করেন।

এই ফিল্টারে হালকা সোডিয়াম গ্যাসের আলো ধরা পড়ে। এই পদ্ধতিতে ছবি তুললে বুধ গ্রহকে একটি ধুমকেতুর মত দেখায়।
১৯৮০ সালে বিজ্ঞানীরা সর্বপ্রথম বুধ গ্রহের লেজের বিষয়টির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বুধ গ্রহের লেজের ছবি তোলা সম্ভব হয়েছিলো। বর্তমান সময়ে ক্যামেরা প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বিশ্বব্যাপী অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফাররা বুধ গ্রহের লেজের ছবি তোলার ব্যাপারে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিচ্ছেন।




বরিশাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১,আহত ২

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে মো: রহমতুল্লাহ রাকিব (২৫) ঝালকাঠিতে মোটর বাইক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় মো: শান্ত নামের আরেক যুবক মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে। শনিবার( ১৩ই জানুয়ারী) সকালে ৮ ঘটিকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ঝালকাঠি-খুলনা মহাসড়কের গাবখান সেতু টোল প্লাজার একটু আগে বিটিসিএল পানির ট্যাংকি সংলগ্ন এলাকায় মটরসাইকেল দূর্ঘটনায় ২জন গুরুতর আহত হয়।

উদ্ধারকারীরা আরও বলেন,আমরা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাদের বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে শেবাচিমে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো: রহমতুল্লাহ রাকিবকে মৃত ঘোষণা করে এবং চালক মো: শান্তকে অর্থপেডিক ইউনিটে ভর্তি করার নির্দেশ
প্রদান করেন।

এ বিষয় মৃত রহমতুল্লাহ রাকিব এর প্রতিবেশী ২৪ নং ওয়ার্ডের হামিদ খান সড়কের বাসিন্দা মো: বাবু জানান, মো: শান্ত এবং রহমতুল্লাহ রাকিব দুজনে বরিশাল থেকে খুলনা রওনা করেছিল। কিন্তু পথিমধ্যে ঝালকাঠির গাবখান সেতু এলাকায় দূর্ঘটনার শিকার হয়। স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দুজনকে প্রথমে ঝালকাঠি এবং পরবর্তীতে বরিশাল শেরে-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে শেবাচিম কর্তৃপক্ষ মো:
রহমতুল্লাহ রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেছে এবং শান্তকে ভর্তি করেছে।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ডিউটি অফিসার এসআই মো: আসাদুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি মৌখিক ভাবে শুনেছি লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বরিশালে নদী তীরের মাটি কাটায় ১৫ শ্রমিককে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: ইটভাটার জন্য নদী তীরের মাটি কেটে নেওয়ার অপরাধে বরিশালের বাবুগঞ্জে ১৫ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের জাম্বিয়া খাতুন মাদ্রাসা ও কাশিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে অভিযান চালানো হয়।

উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযানে নদী তীর থেকে মাটি কাটা অবস্থায় তিনটি ট্রলারসহ ১৫ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

এরা হলেন-সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম (২৩), বাবুল গাইন (২৭), সিরাজুল ইসলাম (৩৬), মনিরুল সরদার (৪০), জাকির গাজী (২৫), শাহিন সরদার (৩৬), আসাদুল (৩৫), ইয়াকুব (৩০), নজরুল ইসলাম (৪৫), রায়হান সরদার (৪০), মনিরুল ইসলাম (৪২), আল আমিন (৩৪), আসাদুল(৩৬) ও ইউনুচ (৫১), অজিয়র (৩৫)।

শ্রমিকরা জানান, তারা বাবুগঞ্জের ফাতেমা ব্রিক্সের হয়ে কাজ করছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম শাকিলা রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

তিনি জানান, আটক ১৫ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে সাত লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুসারে এ জরিমানা করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা রহমান।

এদিকে অভিযানে আটক তিনটি ট্রলারকে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা।




১ বছরে প্রথম ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গু শূন্য বরিশাল

বরিশাল অফিস  :: গত এক বছরের মধ্যে প্রথম গত ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগের সরকারী কোন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়নি। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায়। সর্বশেষ রাত দশটা পর্যন্ত কোন আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়নি।

শুক্রবার(১২ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল তিনি বলেন, গত এক বছরের মধ্যে এই প্রথম বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার হাসপাতাল ও দুইটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি হয়নি। মুলত গত এক মাস ধরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত কমতে শুরু করে। জানুয়ারীতে এসে রোগী ভর্তির সংখ্যা এক ডিজিটে চলে আসে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত বিভাগের হাসপাতালে মোট ৩৮ হাজার ১০৯ জন রোগী ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৮৭৭ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ২০৯ জন রোগী। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩ জন।