বরিশালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আ. লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

বরিশাল অফিস :: বরিশালের হিজলা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হাওলাদার ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিরন হাওলাদারের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন হাওলাদারের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আম্মান হাওলাদার, মাসুদ সিকদার, মো. আনিচ, বরকত সিকদার এবং অপর পক্ষের আলমগীর হাওলাদার, সোলায়মান হাওলাদার ও সোয়েব হাওলাদার। এর মধ্যে প্রথম চারজন এনায়েত হাওলাদারের অনুসারী ও বাকি তিনজন হিরন হাওলাদারের অনুসারী।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড়জালিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন হাওলাদার বলেন, সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না। তাই আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী পঙ্কজ নাথের পক্ষে কাজ করেছি। এ কারণে মনোনয়ন পেয়েও দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় প্রার্থিতা বাতিল হওয়া ড. শাম্মীর অনুসারীরা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

এনায়েত হাওলাদারের অভিযোগ, উপজেলার রেমিডি মেডিকেল সার্ভিসেস নামের ক্লিনিকে অন্তঃসত্ত্বা রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত দিতে যান তার অনুসারী মাসুদ সিকদার। তিনি রক্ত দিয়ে বের হওয়ার পর হিরন হাওলাদারের অনুসারী সোলায়মান, আলমগীর ও লোকমানের নেতৃত্বে ৬/৭ জন তার ওপর হামলা করেন। তারা বেধড়কভাবে মাসুদ সিকদারকে মারধর করেছেন। খবর পেয়ে এনায়েত হাওলাদারের আম্মান হাওলাদার সেখানে যান। তখন তার ওপরও হামলা করেন হিরন হাওলাদারের অনুসারীরা।

তিনি আরও জানান, হামলাকারীরা আম্মান, আনিচ ও বরকত সিকদারসহ ৬/৭ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সম্পর্কে বরজালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিরন হাওলাদার জানান, সোমবার কলেজে এনায়েত হাওলাদারের লোকজন আমাদের অপমান করেন। আজকের হামলার বিষয়ে কিছুই জানি না। ঘটনা শুনে হাসপাতালে এসে দেখি দুই ভাই ও ভাতিজা গুরুতর আহত। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর আহমেদ বলেন, দুই পক্ষের হামলায় ৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




নকল করায় ৪১ পরীক্ষার্থীকে শাস্তি দিলো বরিশাল শিক্ষাবোর্ড

বরিশাল অফিস :: নকলের দায়ে বরিশালে ৪১ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এরা সবাই ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছিলো। বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন ধাপে এই সাজা প্রদান করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ও চন্দ্রদীপ নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ‘পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে শৃঙ্খলা কমিটির ৪০ তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরাধের ধরণ ও প্রকৃতি অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করে ক খ ও গ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।ক শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ৩৩ জন। এদের ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৪ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

খ শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ৭ জন। এদের ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং ২০২৪ সালের পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৫ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

গ শ্রেণিভুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে একজন। এই পরীক্ষার্থীর ২০২৩ সালের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবে না সে। রেজিষ্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে তারা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।




শীতে বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: চলমান শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা সহ একের পর এক বৈরী আবহাওয়ায় মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি। বোরো বীজতলা, গোলআলু, গম ও শীতকালীন সবজি মারাত্মক সংকটের মুখে। চলমান শৈত্য প্রবাহ বোরো বীজতলায় ‘কোল্ড ইনজুরী’, গোল আলুর জন্য ‘লেট ব্লাইট ডিজিজ’ এবং গমের জন্য ছত্রাকবাহী ‘ব্লাস্ট’ সংক্রমন সহ সবজি ফসলে ঘনকুয়াশা ও শীতের বিরুপ প্রভাবে গুনগত মান বিনষ্ট হচ্ছে। গত অক্টোবরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় হামুনের পরে নভেম্বরে আরেক ঝড় ‘মিধিলি’ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দানাদার খাদ্য ফসল আমনের উৎপাদনে যথেষ্ট বিরুপ প্রভাব ফেলে।

পরপর দুই মাসের ওই দুটি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রবল বর্ষণে থোর এবং আধাপাকা আমনের বিপুল জমি প্লাবিত হওয়ায় উৎপাদন যেমন ব্যাহত হয় তেমনি শীতকালীন সবজি সহ অন্যান্য রবি ফসলের আবাদকে অনেকটা বিলম্বিত করে। এখন আবাদকৃত রবি ফসল নতুন দুর্যোগের কবলে। বিগত বছরগুলোতে যেখানে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই গম, গোল আলু ও পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হতো এবার তা মধ্য জানুয়ারী পেড়িয়েও অব্যাহত আছে অক্টোবর-নভেম্বরের অকাল বর্ষণের কারণে। ফলে ওই সব ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান ব্যাহত হওয়ারও সম্ভাবনা বাড়ছে।এর উপরে অগ্রহায়ণের বর্ষণ সব ফসলের জন্যই যথেষ্ট বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করে।

বর্ষায় বৃষ্টির আকালের পরে হেমন্তের অতি বর্ষণ ও অকাল বর্ষণের ধকল কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিযোদ্ধারা শীতকালীন সবজি, বোরো, গোল আলু, গম ও পেঁয়াজ সহ অন্যান্য ফসল আবাদে লক্ষ্য অর্জনে মাঠে থাকলেও কুয়াশার সাথে শীতের দাপট সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে। পৌষের শেষভাগ থেকে ঘন কুয়াশার সাথে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নামার পরে মাঘের প্রথম দিন, ১৫ জানুয়ারী বরিশালে তাপমাত্রার পারদ দেশের সর্বনিম্ন, ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যায়। যা ছিল স্বাভাবিকের ২.৯ ডিগ্রী নিচে। সাথে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া পরিস্থিতিকে আরো বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বরিশালে তাপমাত্রার পারদ ১৪ জানুয়ারী ১০.৫, ১৩ জানুয়ারী ১০.৭ ডিগ্রীতে নেমে যায়। প্রায় ৪৮ ঘন্টা পরে সোমবার সকালে বরিশালে সূর্যের দেখা মিললেও মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার আগে রোদে চোখে পড়েনি।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ১৭ লাখ টন বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪ লাখ হেক্টরে আবাদের জন্য যে বীজতলা তৈরী হয়েছে, তা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে।অপরদিকে ১৫ লাখ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে যে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে সেখানেও থাবা বসিয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়া সহ শৈত্য প্রবাহের কনকনে ঠান্ডায় ফুল কপি ও বাধা কপি সহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন ব্যাহত হবার পাশাপাশি গুণগত মানও বিনষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যে চলতি রবি মৌসুমে যে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গম আবাদ হয়েছে তাও ঝুঁকির মুখে ছত্রাকবাহী ‘ব্লাষ্ট’ রোগের শংকায়। বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতি সহ আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টির যে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ, তা ব্লাষ্ট সংক্রমনের উপযোগী বলে মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

অপরদিকে চলতি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টরে ৩ লাখ টন গোল আলু উৎপাদনের লক্ষে আবাদ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ঘন কুয়াশার সাথে শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত থাকায় সেই ফসল ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগের সংক্রমন নিয়ে শংকিত কৃষকরা।

এমনকি অক্টোবর ও নভেম্বরে দু দফার অকাল ও প্রবল বর্ষণের কারণে পেঁয়াজের আবাদও অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার প্রায় ৯৩ হাজার হেক্টরে ১১ লাখ ৮২ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির রয়েছে। দেশে উৎপাদিত মোট পেঁয়াজের প্রায় ৩৩ শতাংশই উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। গত বছর দেশে উৎপাদিত ৩৪.১৬ লাখ টন পেঁয়াজের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলেই সাড়ে ১১ লাখ টনেরও বেশী উৎপাদন হয়েছিল বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, আমরা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষনিক নজর রাখছি। প্রতিটি এলাকার ব্লক সুপারভাইজারদের পরিস্থিতি বুঝে কৃষকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লক সুপারভাইজারদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




ভোলায় শখের কবুতরে মিটছে পরিবারের চাহিদা, হচ্ছে বাড়তি আয়

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয় কবুতর। বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর, সবখানের মানুষের কাছেই ব্যাপক জনপ্রিয় এই কবুতর। এসব কবুতরের রয়েছে বিভিন্ন জাত। তবে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির কবুতরই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে কেউ শখ করে, আবার কেউ বানিজ্যিক ভাবেও পালেন কবুতর। এরকমই এক স্কুল শিক্ষক ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. ফারুক।

তিনি লালমোহন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার পাড়ার বাসিন্দা। এছাড়া উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চর কচ্ছপিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক। ১০ বছর আগে শখের বশে কবুতর পালন শুরু করে এখন পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে করছেন বাড়তি আয়। শিক্ষক মো. ফারুকের সংসারে স্ত্রীসহ দুই ছেলে এবং দুই মেয়ে রয়েছে।

স্কুল শিক্ষক মো. ফারুক বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে শখের বশে পালতে ৫ জোড়া কবুতর কিনে আনি। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কবুতরের সংখ্যা। বর্তমানে আমার ৮০ জোড়ার মতো কবুতর রয়েছে। এসব কবুতরের জন্য একটি ঘর তৈরি করেছি। সেখানেই থাকে কবুতরগুলো। এসব কবুতর ডিম পাড়ে, সেখান থেকে বাচ্চা ফোঁটে। ওইসব বাচ্চা দিয়ে নিজের পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। নিজেদের খাওয়ার পর যেসব বাচ্চা থাকে তা বিক্রি করি। বাজারে নেওয়া লাগে না এসব বাচ্চা। বাসা থেকে এসেই নিয়ে যান লোকজন। এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ও হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দিনে দুইবার কবুতরগুলোকে খাবার দেই। সকালে খাবার দিয়ে স্কুলে যাই এবং স্কুল থেকে ফিরে আবার খাবার দেই। প্রতিমাসে কবুতরের খাবারের জন্য প্রায় তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এসব খরচ বাদে মাস শেষে কবুতর বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। প্রতি জোড়া কবুতর আড়াইশত টাকা করে বিক্রি করি। বাড়ি থেকে লোকজন এসে নেওয়ায় দাম একটু কম। বাজারে নিয়ে বিক্রি করলে হয়তো দাম আরেকটু বেশি পাওয়া যেতো। তবে বাড়ি থেকে বিক্রি করে যা আয় হয় তাতেই আমি সন্তুষ্ট। কারণ এই কবুতর পালন আমার কেবল শখ।

শিক্ষক মো. ফারুকের প্রতিবেশী ও মাদরাসার শিক্ষক আব্দুল মান্নান লিটন জানান, তিনি নিজ বাড়ির আঙিনায় দীর্ঘ দিন পর্যন্ত দেশীয় জাতের কবুতর পালন করছেন। এই এলাকার সকলেই তার থেকে কবুতরের বাচ্চা কিনেন। মাঝে মধ্যে আমি নিজেও তার থেকে বাচ্চা কিনি।

তার আরেক প্রতিবেশী ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ তালুকদার বলেন, শিক্ষকতার পাশাপাশি কবুতর পালন একটি দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে তিনি পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন। একইসঙ্গে কবুতরের বাচ্চা বিক্রি করে বাড়তি উপার্জনও করতে পারছেন। সকলের উচিত কোনো জমি পরিত্যক্ত না রেখে যেকোনো কাজে ব্যবহার করা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল উদ্দিন জানান, উপজেলার সব ধরনের খামারিদের আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। একইসঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিচ্ছি। যার ফলে খামারিরা উপকৃত হচ্ছেন, লাভবানও হচ্ছেন তারা।

 




বরিশালে রোগীর দালাল সরকারী চিকিৎসকের সহকারী !

বরিশাল অফিস :: দালাল নির্ভর হয়ে পড়েছে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। হাসপাতালে বেশিরভাগ সময় চিকিৎসক অফিস সময়ে নিজেদের সাথেই রাখছেন দালালদের। চিকিৎসকদের সাথে থাকা এসব ব্যক্তিরা দালাল নামে পরিচিত হলেও মূলত এরা হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বেতনভুক্ত কর্মচারী।

রোগী দেখা মাত্রই এসব ডাক্তাররা ওই দালালদের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেন চুক্তিবদ্ধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। যেখান থেকে মোটা অংকের কমিশন পান ওই ডাক্তাররা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে গোটা হাসপাতালে দালাল ও ডাক্তারদের এই রমরমা বানিজ্য ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে নজর রেখেছিলো চন্দ্রদীপ নিউজ রিপোর্টার । সেখানে দালালদের সাথে ডাক্তারদের সম্পর্ক ও সখ্যতার বাস্তব প্রমান পাওয়া গেছে।

দেখা গেছে,হাসপাতালের বহির্বিভাগে থাকা প্রায় প্রত্যেক চিকিৎসকের সাথেই থাকছেন এক একজন দালাল। তারা এমনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন তাতে বোঝার উপায় নেই যে এরা হাসপাতালের কর্মচারী নাকি বাইরের লোক। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অবশ্য অকপটে স্বীকার করেছেন এই তথ্যের সত্যতা। তবে পাশাপাশি এর কারণ হিসাবে কিছু যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছেন ।

এ বিষয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, অভিযোগ যে একদম ভিত্তিহীন তা বলব না। তবে এর পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। এরমধ্যে প্রধান কারণ হচ্ছে হাসপাতালে জনবল সংকট। বহির্বিভাগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী দেখতে হয় দায়িত্বরত সকল ডাক্তারদের। রোগীদের লাইন ঠিক করা ও সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তারদের রুমে রোগী প্রেরণ করার জন্য একজন কর্মচারী বা ডাক্তারের সহকারীর দরকার হয়।

তিনি বলেন,কিন্তু হাসপাতালে জনবল কম থাকায় আমরা প্রতিজন ডাক্তারের সাথে একজন করে সহকারী দিতে পারি না। এখন একজন ডাক্তারের পক্ষে তো রোগীর লাইন ঠিক করা সম্ভব না। এ কারনে নিরুপায় হয়ে ডাক্তাররা বাইরের লোকদের সাহায্য নিচ্ছে। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তারপরও বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কয়েকটি সভায় আলোচনা করেছি। আশা করছি বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা: মারিয়া হাসান বলেন, প্রত্যেক ডাক্তারকে ডিউটি চলাকালীন সময়ে একজন করে সহকারী দিতে এরকম কোন বিধান নেই। অনেক সময় জনবল সংকট থাকলে রোগীর লাইন ঠিক করতে ডাক্তারকেও তদারকি করতে হয়। এই অযুহাতে বাহিরের কোন ডায়াগনস্টিকে লোক সহকারী হিসেবে রাখার কোন এখতিয়ার নেই। কোন ডাক্তার এরকম করে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালে দুস্থদ শীতার্তদের মধ্যে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র কম্বল বিতরণ

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অসহায়, দুস্থদ শীতার্তদের মধ্যে মন্ত্রী আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি’র নিজস্ব তহবিলের এক হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর আগেও ২৬শ কম্বল বিতরণ করা হয়। মন্ত্রী মর্যাদায় পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরীবিক্ষণ কমিটির আহŸায়ক,

বরিশাল-১ আসনের এমপি আলহাজ¦ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র নিজস্ব তহবিলের এক হাজার পিচ কম্বল সোমবার বিকেলে ও রাতে দলের নেতা-কর্মী ও চেয়ারম্যাগন বিতরণ করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন জানান- অসহায়, দরিদ্র শীতার্তদের দুর্দশা লাঘবের জন্য অন্যান্য বছরের মতো এবছরও মন্ত্রী আবুল আলহাজ্ব হাসানাত আবদুল্লাহ’র নিজস্ব তহবিল থেকে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা বাটরা, আস্কর, ফেনাবাড়ি, কদমবাড়ি, রামেরবাজার, নাঘার, ঐচা গ্রামের দুঃস্থদের

মধ্যে এক হাজার পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে সকল ইউনিয়নে দুই হাজার ৬শ পিচ কম্বল বিতরণ করা হয়।

বাটরা গ্রামে ২শ কম্বল বিতরণে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তালুকদার। রামের বাজারে ২শ কম্বল বিতরণে উপস্থিত ছিলেন গৈলা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল হোসেন টিটু, উপজেলা আওয়ামী লীগ এর দপ্তর সম্পাদক নিখিল সমদ্দার, ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সরদার, গৈলা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক জগদীশ মন্ডলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা।

 

 




বিএনপি-জামাত নির্বাচনে জনগণের কাছে কাছে পরাজিত হয়েছে: রাসেদ খান মেনন 

বরিশাল অফিস :: বরিশাল (২) উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের নৌকা প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী ও বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড রাসেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, বিএনপি-জামাত শুয়ে পড়ে এখন বলছে আমরা মাটিতে পড়ি নাই। তারা চেয়েছিল নির্বাচনকে নস্যাৎ করতে সেখানে তারা ব্যার্থ হয়ে এখনও সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমি মনে করি জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখান করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। আমি মনে করি বিএনপি-জামাত নির্বাচনে জনগণের কাছে কাছে পরাজিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৬) জানুয়ারী বেলা ১২টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক সৌজন্য স্বাক্ষাত ও মতবিনিময় করতে এসে তিনি সংবাদকর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গত ৭ই জানুয়ারী একটি অবাধ,সুষ্ট নির্বাচন হয়েছে তবে কিছু কিছু স্থানে প্রশাসনের কঠোর প্রদক্ষেপ গ্রহন করার কারনে কেন্দ্রে ভোট গ্রহনে ব্যাহত হয়েছে। প্রকৃত অর্থে সরকার একটি সফল নির্বাচন করতে সক্ষম হয়েছে।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঞ্চলনায় এখানে আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল ইনকিলাব পত্রিকার ব্যুরো প্রধান নাসিম-ইল আলম,বরিশাল বেতারের প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক এ্যাড. নজরুল ইসলাম চুন্নু।

এছাড়া আরো উপস্থিত ওয়াকার্স পার্টি বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক নজরুল হক নিলু, সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড.শেখ মোঃ টিপু সুলতান প্রমুখ।

এসময় রাসেদ খান মেনন এমপি আরো বলেন এখানকার সিটির কর্মকর্তারা অবৈধ দখল মুক্ত করে খালগুলো খনন করে জলাবদ্ধ দুর করার মাধ্যমে বরিশালকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানান।

তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরিশালে দিকে আলাদা তার সুদৃষ্টি রয়েছে তাই আমরা তারসাথে আলাপ আলোচনা করে বরিশালকে একটি পর্যটন শহর গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে যান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসময় বরিশালের বিভিন্ন ইলেক্টনিক্স,জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মী,ফটো সাংবাদিক সহ অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ঝালকাঠিতে শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর থানার একটি বিস্ফোরক মামলার পালাতক আসামি জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মো. সায়েমকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার রাত ১২ টার দিকে শহরের বিআইপি কলোনির সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, ডিবির একটি দল রোববার গভীর রাতে ঝালকাঠি শহরের বিআইপি কলোনি এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বিস্ফোরক মামলার পালাতক আসামি জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সায়েমকে গ্রেপ্তার করে।

সোমবার সকালে তাকে সদর থানায় সোপর্দ করা হলে তাকে আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জামিন নামঞ্জুর করে ঝালকাঠি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

 




বরিশালে আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে কম্বল বিতরণ

বরিশাল অফিস :: হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও সুবিধা বঞ্চিত দুঃস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

রোববার  দিবাগত রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের বোরাদী গরঙ্গল আশ্রয়ণ প্রকল্প ও রাস্তার পাশে অবস্থানরত সুবিধাবঞ্চিত দুঃস্থ পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আব্দুল্লাহ খান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা অশোক কুমার চৌধুরী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল আলিম উপস্থিত ছিলেন। প্রচন্ড শীতে বিপর্যস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ও সুবিধা বঞ্চিত দুঃস্থ পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কম্বল পেয়ে বেজায় খুশি হয়েছেন।




অধিনায়কের নাম ঘোষণা করল ফরচুন বরিশাল

বরিশাল অফিস :: আর মাত্র তিন দিন পরই মাঠে গড়াবে বিপিএলের দশম আসর। এই আসরে অভিজ্ঞতা ও শক্তির দিক থেকে বেশ শক্তিশালী ফরচুন বরিশাল। দলটিতে আছেন জাতীয় দলের সব চেয়ে তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তবে গুঞ্জন উঠেছিল সিনিয়রদের ছাপিয়ে বরিশালের নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে। তবে তামিমের কাঁধেই উঠেছে অধিনায়কের দায়িত্ব।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেন ফরচুন বরিশালের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল। তিনি বলেন, তামিমই অধিনায়ক হবে বরিশালের। ম্যাচ বাই ম্যাচ তো অধিনায়ক করা হয় না ওভাবে। আশা করি, পুরো টুর্নামেন্টেই তামিম অধিনায়কত্ব করবে।

এর আগে প্রথম দিনের অনুশীলনের আঙুলে চোট পেয়েছিলেন তামিম। এরপর অনুশীলন বন্ধ করেন তিনি। তবে চোট কাটিয়ে সম্প্রতি ব্যাটিং করা শুরু করেছেন তামিম। গত কয়েক দিনের অনুশীলনে তামিমের উন্নতি দেখে খুশি কোচ বাবুল এবং তামিম নিজেও।

তামিমের ফিটনেস সম্পর্কে বাবুল বলেন, তামিমের সাথে আমার কথা হয়েছে। সে নিজেও বলেছে যে ব্যাটিং করে এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে, ভালো লাগছে। শতভাগ ফিট আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে খুব ভালো অবস্থায় আছে। মিরপুরেই মনে হয়েছিল ভালো। আরও ভালো শেপে আছে।

ফরচুন বরিশাল স্কোয়াড : তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবরাহিম জাদরান, শোয়েব মালিক, পল স্টার্লিং, ফখর জামান, আব্বাস আফ্রিদি, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, সৌম্য সরকার, ইয়ানিক কারিয়াহ, কামরুল ইসলাম রাব্বি, প্রীতম কুমার, তাইজুল ইসলাম, প্রান্তিক নওরোজ নাবিল, মোহাম্মদ ইমরান, আকিফ জাভেদ, দীনেশ চান্দিমাল, নুয়ান থুসারা ও ডেভিড মিলার।