পদত্যাগ করলেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী স্কুফ

নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ইসলামবিরোধী রাজনৈতিক নেতা গির্ট উইল্ডারসের নেতৃত্বাধীন পিভিভি দল জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্কুফের পদত্যাগ ডাচ রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার সূচনা করতে পারে। সামনে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও, আগামী অক্টোবরের আগে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ ঐতিহাসিকভাবে দেশটিতে সরকার গঠনে দীর্ঘ সময় লেগে থাকে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পিভিভি দলের মন্ত্রীরা সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং বাকিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

এই রাজনৈতিক সংকটের সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থার উত্থান, অভিবাসন ইস্যু এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তন শুধু নেদারল্যান্ডস নয়, পুরো ইউরোপের রাজনৈতিক ভারসাম্য, অভিবাসননীতি এবং রাশিয়া ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের কৌশলগত অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

জোট ভাঙার পেছনে মূল কারণ হিসাবে গির্ট উইল্ডারস বলেন, “অভিবাসন ইস্যুতে আমাদের পরিকল্পনায় জোটের অন্য দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ায় পিভিভি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটের অন্য দলগুলো বিকল্প সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও বিশ্লেষকরা তা নাকচ করছেন। এদিকে বিরোধী দলগুলো নতুন নির্বাচন দাবি করে রাজপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারত থেকে পুশইনের সংখ্যা বেড়ে চলছে, মৌলভীবাজারে অনুপ্রবেশে উদ্বেগ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৩৩৭ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে পুশইন করেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও পাল্লথল সীমান্ত দিয়ে। এছাড়া জুড়ী উপজেলার রাজকি, কুলাউড়ার মুরইছড়া এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলই, বাগীছড়া ও চাম্পাছড়া সীমান্ত দিয়েও পুশইনের ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৭ জনকে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশের সময় আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ২৫১ জন, জুড়ীতে ১০ জন, কুলাউড়ায় ২১ জন এবং কমলগঞ্জে ৫৫ জনকে আটক করা হয়। তবে আরও কয়েক শতাধিক ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু রয়েছে। এদের অধিকাংশের বাড়ি নড়াইল, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আটক ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আসামে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ করে ভারতীয় পুলিশ তাদের বাড়িঘর ভেঙে হেলিকপ্টারে করে ত্রিপুরার মানিকভান্ডারে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের হাতে তুলে দেয়। পরে বিএসএফ তাদের সীমান্ত গেট খুলে ধলই দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়।

স্থানীয়রা অনেকে জানান, সীমান্ত দিয়ে এক হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যদিও বিজিবি কয়েকশ লোককে আটক করতে সক্ষম হয়েছে, বাকিরা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় বা বিভিন্ন যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গাও ছিলেন, যারা পরে চট্টগ্রামে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান ও ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া জানান, আটককৃতদের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।




মেজর সিনহা হত্যা: বহুল আলোচিত মামলার আপিলের রায় আজ হাইকোর্টে

বহুল আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দাখিল করা আপিলের রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ জুন) বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেবেন।

গত ২৯ মে এ মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শামীমা দিপ্তী, জসিম সরকার এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ ও লাবনী আক্তার।

২০২৩ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার যাবতীয় নথি বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সগীর হোসেনের বেঞ্চে পাঠানো হয়। এরপর ২৩ জুন শুরু হয় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের মূল শুনানি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। ঘটনার পাঁচদিন পর নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর র‍্যাব ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে সিনহার হত্যাকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আপিল করেন। আজকের রায়ে উচ্চ আদালত এ মামলার বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখবে নাকি সংশোধন করবে, তা নির্ধারিত হবে।




নতুন মামলায় ফের রিমান্ডে মমতাজ

হরিরামপুর থানায় দায়ের করা হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে কণ্ঠশিল্পী ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ আদেশ দেন। এর আগে সিংগাইর থানার একটি হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে আগের দুই দিনের মতো এবার আদালত চত্বরে বিএনপি কিংবা তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. আবুল খায়ের জানান, “সিংগাইর থানার হত্যা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপর হরিরামপুর থানার মামলায় তাকে আবারও দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।”

এর আগে ২২ মে সিংগাইরের চারটি হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একইদিন হরিরামপুর থানার আরেক মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ওই দিন আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে।

২৭ মে ফের আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে হরিরামপুর থানার মামলায় আবারও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ সময়ও প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মমতাজকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারে উত্তেজিত জনতা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন

বরগুনা সদর উপজেলার বড়ইতলা-বাইনচটকি খেয়াঘাটসহ জেলার সব খেয়াঘাটে ভাড়া কমানোর দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খেয়া ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফের দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে “আমরা বরগুনাবাসী” ব্যানারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে বড়ইতলা ও পুরাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা নুরুল আলম, ইসলামী যুব আন্দোলন বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম আকনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, “প্রতিদিন হাজারো গরিব ও অসহায় মানুষ জরুরি প্রয়োজনে এসব খেয়াঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হন। বর্তমানে জনপ্রতি ২৫ টাকা করে খেয়া ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তারা আরও বলেন, “এই ভাড়া কমিয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণভাবে ভাড়া মওকুফ করতে হবে। কারণ অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন খেয়া পারাপার করে স্কুলে যায়, যা তাদের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে।”

বক্তারা জানান, তাদের এ দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সামনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




নতুন নোট গুলো কেমন হতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়কে ঘনিষ্ঠভাবে উপস্থাপনের অংশ হিসেবে বাজারে আনছে নতুন ডিজাইনের টাকার নোট। এসব নোটে দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি নোটে রয়েছে নতুন গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষর। এই নোট গুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।

১০০ টাকার নোটে সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার

নতুন ১০০ টাকার নোটে ফুটে উঠেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্য ও প্রকৃতি। এক পাশে রয়েছে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ এবং জাতীয় প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছবি। অপর পাশে ম্যানগ্রোভ বন ‘সুন্দরবন’-এর চিত্র, যেখানে দেখা যায় এক ঝাঁক হরিণ ও একটি বাঘ। সাদা অংশেও রয়েছে বাঘের জলছবি।

২০০ টাকার নোটে ধর্মীয় সম্প্রীতির চিত্র

হালকা হলুদ রঙের নতুন ২০০ টাকার নোটে এক পাশে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অবস্থিত ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্য। অপর পাশে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির রূপ—মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় পোশাক ও উপাসনালয়সহ একটি চিত্র। মাঝখানে সবুজের ভেতর দেশের মানচিত্রও যুক্ত করা হয়েছে।

৫০০ টাকার নোটে শহীদ মিনার ও সুপ্রিম কোর্ট

নতুন ৫০০ টাকার নোটে একদিকে রয়েছে জাতীয় চেতনায় অনন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। অপর পাশে স্থান পেয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়—বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

১০০০ টাকার নোটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও সংসদ ভবন

সবচেয়ে বড় মূল্যমানের ১০০০ টাকার নোটে একদিকে রয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, যা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক। অপরদিকে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের ছবি, যা গণতন্ত্রের রূপক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নোটগুলোতে কোনো ব্যক্তির ছবি রাখা হয়নি। পরিবর্তে দেশের স্থাপত্য, প্রকৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ। তাদের মতে, এ ধরনের নোট দেশের সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয় আরও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করবে।




গণহত্যার বিচারে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার এখন শুধু দাবি নয়, এটি সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার—বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

সোমবার (২৬ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এ বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হয়।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তদন্তকারী অফিস ও প্রসিকিউশন ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়েছে। কয়েকটি মামলার তদন্ত শেষ করে একটি মামলার ফরমাল চার্জ গঠন করে তা ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, “ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ আমলে নেওয়ার মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান আসামি শেখ হাসিনার মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে অচিরেই।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালেই এই মামলার রায় পাব আমরা। গণহত্যার বিচার আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




‘কেএনএফ-এর ৩০ হাজার ইউনিফর্ম’ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণে সেনাবাহিনী

পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর জন্য ৩০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সোমবার (২৬ মে) সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা।

তিনি জানান, একটি কারখানায় বিপুল পরিমাণে কেএনএফ-এর পোশাক তৈরি হয়েছে বলে যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটি ভিত্তিহীন নয়। “আমরা সংবাদটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খতিয়ে দেখতে শুরু করেছি। এই পোশাক আসলে কার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেটি এখন যাচাই করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিম-উল-দৌলা আরও বলেন, “কেএনএফ মূলত বম জাতিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে গঠিত একটি সশস্ত্র সংগঠন। কিন্তু বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। সে প্রেক্ষাপটে ৩০ হাজার ইউনিফর্ম তৈরির বিষয়টি প্রশ্নের জন্ম দেয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক বিষয় এবং আমরা তা খুব গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছি।”

তিনি জানান, কেএনএফ-এর আক্রমণে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানিও ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পক্ষ বা সংযোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই আমাদের সীমান্ত কম্প্রোমাইজ করিনি, করবও না। যতদিন শক্তি থাকবে, আমরা আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যাব।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরও বলেন, “সরকার ও সেনাবাহিনী একসঙ্গে এবং সম্পূরকভাবে কাজ করছে। করিডর ইস্যু, সীমান্ত সুরক্ষা বা নিরাপত্তা—সবক্ষেত্রে আমরা একযোগে দায়িত্ব পালন করছি। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন যে, সরকার ও সেনাবাহিনী আলাদা অবস্থানে আছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




প্রতিদিন কেশর-এলাচ চা? মিলবে শরীর ও ত্বকের একাধিক উপকারিতা!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম::
বিশ্বব্যাপী পানির পর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় হলো চা। আর স্বাদ ও উপকারিতা বাড়াতে অনেকেই চায়ে মেশান নানা প্রাকৃতিক উপাদান। এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর দুটি হলো কেশর (জাফরান) ও এলাচ। প্রতিদিন কেশর-এলাচ মেশানো চা পান করলে শরীর ও ত্বকে মিলতে পারে বিস্ময়কর উপকার।

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর—বয়সের ছাপ রোধে সহায়ক

কেশর ও এলাচে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে মুক্ত র‌্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত এই চা পান করলে কোষের ক্ষয় রোধ হয়, ব্যথা কমে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে বয়সের ছাপ পড়ে ধীরগতিতে।

২. ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়

কেশর পরিচিত প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিকারক উপাদান হিসেবে। ত্বকের দাগ, রুক্ষতা ও ক্ষত মেরামতে এটি কার্যকর। এলাচ আবার শরীর ডিটক্সিফাই করে, ত্বক পরিষ্কার করে এবং পুনর্জীবিত করে। তাই কেশর-এলাচ চা হতে পারে আপনার রূপচর্চার আভ্যন্তরীণ সঙ্গী।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

এই দুই উপাদানে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন ও ম্যাঙ্গানিজসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। যা শরীরকে করে আরও বেশি রোগ প্রতিরোধী। নিয়মিত পান করলে ঠান্ডা, সর্দি বা মৌসুমি সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব।

৪. ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি

কেশরে থাকা ক্রোসিন ও সাফ্রানাল অনিদ্রা কমাতে সাহায্য করে। এলাচের সুগন্ধ মনকে করে শিথিল। রাতে ঘুমানোর আগে এই চা পান করলে ঘুম আসে সহজে, মানসিক চাপও কমে যায়।

সুস্বাদু, সুগন্ধি ও স্বাস্থ্যকর এই চা শুধু শরীর নয়, আপনার প্রতিদিনের জীবনের মান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখবে। তবে বিশেষ স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে নিয়মিত গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৪০ বছরের অপেক্ষার পর হজে গেলেন ইন্দোনেশীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী দম্পতি

চার দশকের সঞ্চয়, অগাধ ধৈর্য আর অটুট বিশ্বাস—এই তিন শক্তিকে সম্বল করে অবশেষে হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া করে জমিয়ে, ২০২৫ সালে এসে তারা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন পবিত্র হজ পালনের জন্য।

লেজিমান নামের এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী ‘মক্কা রুট’ নামক একটি বিশেষ হজ কর্মসূচির আওতায় এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের হজযাত্রীরা নিজ দেশেই ভিসা, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন, ফলে যাত্রা হয় সহজ ও সাশ্রয়ী।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজিমান বলেন,“আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি নিজের চোখে কাবা শরীফ দেখতে পাবো। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের পাশে ছিলেন।”

তিনি জানান,“১৯৮৬ সালে আমি প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া সঞ্চয় শুরু করি। আয় দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল, তবু আমরা হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেও আমরা একদিন হজে যাব—এই আশা নিয়েই টিকে ছিলাম।”

এই দম্পতির এই সাধনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া ছাড়িয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে। অনেকেই তাদের জন্য দোয়া করছেন যেন তারা সুস্থভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুসলিম জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ, যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া যায়। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে এ বছর প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /