ফুসফুস পরিষ্কার রাখবেন কীভাবে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফুসফুস সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যায় বিশ্বের প্রায় ৬৫ মিলিয়ন মানুষ ভুগছেন। ধূমপান ও দূষণই মূলত ফুসফুসের সমস্যার প্রধান কারণ।

তবে এর মানে এই নয় যে, দেহের গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গকে সুস্থ রাখার কোনো উপায় নেই। নিজেকে মেরামত করার জাদুকরী ক্ষমতা আছে ফুসফুসের। এজন্য আপনাকেও মেনে চলতে হবে কয়েকটি নিয়ম-

লবণ থেরাপি

লবণ থেরাপিকে হ্যালোথেরাপি বলা হয়। এটি হাঁপানি, ব্রংকাইটিস ও কাশির মতো ফুসফুসের সমস্যার বিকল্প চিকিৎসা। লবণের খনি কিংবা গুহা পরিদর্শন করলেও উপকৃত হবেন। একটি হিমালয়ান লবণের বাতি কিনে বাড়িতে ব্যবহার করতে পারেন।

পরিষ্কারক পানীয়

ডিটক্স ওয়াটার পানের মাধ্যমে ২-৩ সপ্তাহ কিংবা এক মাসের মধ্যেই আপনি ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারেন।

কিছু পানীয় আছে যেমন- মধু ও গরম পানি, লেবুর শরবত, সবুজ চা, গাজরের রস, হলুদ ও আদার মিশ্রণ, কলা-পালং শাক ও বেরির পানীয় আপনার শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করবে।

স্টিম বাথ

সপ্তাহে অন্তত ৩ বার গরম পানিতে গোসল করুন কিংবা স্টিম বাথ নিন। তবে তাপমাত্রা যেন ৯০ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে তা নিশ্চিত করুন।

জিহ্বা পরিষ্কার করুন

ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মুখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে হবে। এজন্য সঠিকভাবে যেমন দাঁত ব্রাশ করা জরুরি, ঠিক তেমনই জিহ্বাও পরিষ্কার করতে হবে। কারণ জিহ্বাতেই ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে বেশি। যা সহজেই দেহের ভেতরে প্রবেশ করে

শ্বাসের ব্যায়াম

ফুসফুসকে প্রাকৃতিক উপায়ে পরিষ্কার করতে কয়েকটি ব্যায়াম করাও জরুরি। এই ব্যায়ামগুলো ফুসফুসের বন্ধ কোষগুলোকে খুলে দেয়। ফলে বায়ু চলাচল উন্নত হয়।

এটি করতে আপনার ঘাড় ও কাঁধের পেশি শিথিল করুন। নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিয়ে মুখ বন্ধ রাখুন। খুব গভীর শ্বাস নেবেন না। এবার আপনার ঠোঁট পাউট করে ৪ পর্যন্ত গণনা করে তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। এই কৌশলটি দিনে ৪-৫ বার অনুশীলন করুন।

এছাড়া মুলা ও ভেষজ খাবার ফুসফুস পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তবে মসলাদার খাবার বাদ দিতে হবে। কিছু খাবার যেমন- পনির, মাখন, দই, দুগ্ধজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি ফুসফুসের শ্লেষ্মা বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র: ব্রাইট সাইড/মেডিকেল নিউজ টুডে/




হুইসেল বাজিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন ঝালকাঠির কাকন

বরিশাল অফিস :: ৫৭ সেকেন্ডে ৫৪ সেন্টিসেকেন্ডে সবচেয়ে বেশিবার বাংলা গানে হুইসেল বিভিন্ন সুরে বাজিয়ে ইন্টারন্যাশনাল বুকস অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন ঝালকাঠির ছেলে কুমার কাকন উজ্জ্বল।

হুইসেল ক্যাটাগরিতে পুরো বিশ্বে তিনিই প্রথম ‘লংগেস্ট টাইম টু হুইসেল’ টাইটেলে রেকর্ডটি অর্জন করেছেন। কাকন ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ঝালকাঠি পৌরসভার একজন কর্মকর্তা এবং তার মা একজন আইনজীবী। এক ভাই এক বোনের মাঝে তিনিই বড়।

কাকন বলেন হুইসেল নিয়ে পথচলা শুরু হয় ২০১৮ সালে। যখন দেখছি মানুষ এটাকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করছে, পছন্দ করছে, তখনই এটা নিয়ে স্বপ্নটা বড় হতে থাকে। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল হুইসেলের মাধ্যমে বাংলা গানকে পুরো বিশ্বের কাছে কিভাবে তুলে ধরা যায়। যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আমি মিউজিকের সাথে যুক্ত ছিলাম, তাই হুইসেল আমার আয়ত্ত করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। শুধু নিয়মিতভাবে প্র্যাকটিস করেছি।

এখন আমি যেকোনো গান শুনে সাথে সাথে সেই গানের হুইসেল বাজাতে পারি। সবথেকে বেশি ভালো লাগছে নিজের বাংলা ভাষার গানকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পেরে এবং সেই বাংলা গানে হুইসেল বাজিয়ে এটির বিশ্ব রেকর্ড করতে পেরে। ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ইন্টারন্যাশনাল বুকস অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির জন্য ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে আবেদন করেন কাকন। ১৪ ডিসেম্বর ভিডিও পাঠানোর পরে ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি তা গৃহীত হয়। ঐ বছরের মার্চ মাসেই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পান বাংলাদেশি এ তরুণ। কাকন ভারত সরকারের অধীনে ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের জেইন ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োকেমিস্ট্রি জেনেটিক্স এন্ড বায়োটেকনোলজি সাবজেক্টে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি ব্রজমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন।

নিজের এমন রেকর্ডে উচ্ছ্বসিত কাকন বলেন, ‘যে কোন কাজে লেগে থাকতে হয়।

আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম মানুষকে সফল করতে পারে। অনেক চেষ্টার ফলে অবশেষে পেরেছি। পড়ালেখার পাশাপাশি তার এমন রেকর্ডে খুশি পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।’




দুমকিতে গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামীর পরিবার উধাও 

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দুমকিতে এক গৃহবধূর মরদেহ বিছানায় রেখে উধাও হয়েছে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পায়রা সেতুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন বাসার থেকে গত কাল দিবাগত রাতে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় স্বামীর পরিবারের সদস্যদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

নিহত লামিয়া আক্তার হালিমা (২৩) ওই এলাকার ফোরকান মতব্বরের ছেলে গোলাম সাব্বিরের স্ত্রী ও উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আংগারিয়া গ্রামের ইব্রাহীম খানের স্ত্রী।

লামিয়ার মা লাইজু বেগম বলেন, রাব্বির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ঝামেলা চলছিলো লামিয়ার। এ ঝামেলা থেকে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে লামিয়া। এরপর তাকে নামিয়ে পালিয়ে যায় রাব্বি ও তার পরিবারের লোকজন। লামিয়াকে মারধরও করতো স্বামীর পরিবারের লোকজন। সবশেষে তারা আমার মেয়েকে মেরে পালিয়েছে। লামিয়া-রাব্বি দম্পতির তিন বছরের একটি সন্তান রয়েছে। রাব্বি পায়রা বন্দরের টোল সংরক্ষক হিসেবে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে দুমকি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, ঝুলন্ত মরদেহ বিছানায় রেখে স্বামীর পরিবারের লোকজন পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। তাই সঠিকভাবে আমরা বলতে পারছি না হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।




আবদুর রব সেরনিয়াবাত বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার( ৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টায় ৭ম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাড়ী। বিশেষ অতিথি ছিলেন,বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন, প্রধান শিক্ষক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বরিশাল মহবুবা হোসেন, প্রধান শিক্ষক জিলা স্কুল পাপিয়া জেসমিনসহ বিভিন্ন অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অতিথিরা।


জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা করেন। পরে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।




তাহেরপুরে বাসর রাতে স্বামীকে হত্যা

বরিশাল অফিস :: কুয়াকাটার তাহেরপুর বাসর রাতেই ওমর আলী (২৪) নামের এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মহিপুর থানাধীন লতাচাপলী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের একটি মরিচ ক্ষেত থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) ওমর আলীর সাথে একই ইউনিয়নের তাজেপাড়া গ্রামের শাহআলমের মেয়ে রুকাইয়ার (১৮) বিবাহ হয়। সোমবার দুপুরে কনের বাড়িতে বৌ-ভাতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার দিকে রুকাইয়াকে ওমর আলীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ভোর রাতে নামাজ পড়ার জন্য স্বামী-স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়। অজু করে স্ত্রী ঘরে ফিরলেও তিনি (ওমর আলী) ঘরে ফিরেননি। পরে সকাল ৭টার দিকে নববধুর (রুকাইয়া) সাথে বেড়াতে আসা তার চাচাত ভাই জুনাইদ (১০) ঘুঘুর বাসা দেখতে গিয়ে বাড়ির সামনে মরিচ ক্ষেতে তার লাশ দেখতে পায়। পরে শিশুর চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

তবে স্থানীয়দের ধারণা, নববধুর সাথে অন্য কোনো ছেলের সাথে প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে বলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় দা উদ্ধার করা হয়েছে। আসল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য বিষয়টির তদন্ত চলছে। লাশ সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে।’




বরিশালে মুলাদীতে দুই পাটের গুদামে আগুন

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মুলাদী উপজেলার খাসেরহাট বন্দরে আগুনে পুড়েছে দুইটি পাটের গুদাম।

সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগুন নেভাতে গিয়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তামিম, নাইম ও সাহিন নামে তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মুলাদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের খাসেরহাট বন্দরে অহিদ পালোয়ানের পাটের গুদামে আগুন লাগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

পরে আগুন পাশের রুহুল পাটোয়ারির গুদামে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তারা সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পৌনে ৯টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডে দুটি গুদামের ছয় লাখ টাকার পাট পুড়ে গেছে। এছাড়া ২০ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করা হয়েছে।

গুদাম মালিক রুহুল পাটোয়ারি জানান, দুটি গুদামে প্রায় ১৪ লাখ টাকার পাট ছিল। সন্ধ্যার দিকে বন্দরের ব্যবসায়ীরা গুদামে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়ে বন্দরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।

তিনি আরও জানান, আগুন নেভাতে গিয়ে তামিম, নাইম, আবু বকর, সাহিনসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে মুলাদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।




দক্ষিণাঞ্চলের গতিপথ পরিবর্তন করেছে ইলিশ

বরিশাল অফিস :: জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি উজানে প্রবাহ নিয়ন্ত্রনে ক্রমাগত নাব্যতা সংকট বৃদ্ধি এবং অবাধে শিল্প ও মনুষ্য বর্জ্য অপসারণের ফলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল ও সংলগ্ন উপকূলভাগে ইলিশের বিচরণ ক্রমাগত পূর্ব-দক্ষিণ উপকূলে সরে যাচ্ছে। মৎস্যজীবীদের দাবি, আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমার অভ্যন্তরে ভারতীয় জেলেদের অবাধ মৎস্য আহরণ মৎস্য সম্পদের ওপর আরো বিরুপ প্রভাব ফেলছে।

বিগত কয়েক বছরে বরিশালের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলভাগে যেখানে ৬৮ থেকে ৭০ ভাগ ইলিশ আহরণ হতো। গত কয়েক মাসে তা প্রায় অর্ধেকের মত হ্রাস পেয়েছে। একইসাথে বিগত গ্রীস্ম মৌসুমে অতিরিক্ত তাপ প্রবাহ ও মূল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ব্যাপক ঘাটতির সাথে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৩-৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পাবার কারণেও ইলিশের বিচরনস্থল পরিবর্তনসহ জেলেরা নদণ্ডনদী ও সাগর উপকূলে নামতে না পারায় ইলিশ আহরণ অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। মৎস্যজীবীরা আরও জানিয়েছেন, খুব সহসাই ইলিশের অবাধ ও সুস্থ বিচরণসহ প্রজনন ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটাতে না পারলে আগামীতে উৎপাদনেও বিরুপ প্রভাব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত বছরের ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের মূল প্রজনন মৌসুমের আহরণ নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে দেশের ইলিশ প্রজন্মে আরো অন্তত ৪১ হাজার কোটি জাটকা যুক্ত হয়েছে। যা পূর্ববর্তী বছরে ছিলো ৪০ হাজার ২৭৬ কোটি। বিগত মূল প্রজননকালীন সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় প্রজনন এলাকায় ৫২.০৪ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৫ ভাগ বেশী এবং আরো অন্তত ৩৫ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছাড়ারত ছিল।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউট এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, ইলিশ উৎপাদনের ক্রমবর্ধনশীল ধারায় এখনো খুব বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও ভবিষ্যতে বিরূপ পরিবেশ ও নানামুখি প্রাকৃতিক সমস্যা নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে। তাদের মতে, মনুষ্য সৃষ্টি নানা কর্মকান্ডের সাথে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনে এবার ইলিশের বিচরণ স্থলে নানামুখি বিরূপ প্রভাবে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলসহ সংলগ্ন উপকূলভাগে এবার ইলিশের বিচরণ কম থাকায় আহরণ কিছুটা কম লক্ষ্যনীয়। ফলে বাজারে ইলিশ সরবরাহ ঘাটতির সাথে মূল্যও আকাশচুম্বি।

সূত্রমতে, গত ১ নভেম্বর থেকে জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে জাটকার অবাধ বিপণন অব্যাহত রয়েছে। মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, এবার মূল বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাতের ঘাটতিসহ জীব বৈচিত্রের নানা পরিবর্তনের সাথে হাইড্রো-মেট্রোলজিক্যাল সমস্যায় ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র পরিবর্তন হচ্ছে। ইতঃপূর্বে বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, মনপুরা, ঢালচর, চরকুকরী-মুকরি, চর কচ্ছপিয়া ও সংলগ্ন সাগর এলাকায় ইলিশের যে বিচরণ ছিল, এবার তা অনেকটাই পূর্ব-দক্ষিণে সন্ধীপের দক্ষিণ হয়ে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন এলাকায় সরে গেছে। তাও অতীতের মত অফুরন্ত নয়। ধারণা করা হচ্ছে ইলিশ অনেকটাই গহীন সমুদ্রে চলে গেছে। এর পেছনে উজানে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের সাথে সময়মত বৃষ্টিপাতের অভাবে পদ্মা, মেঘনা ও এর শাখা নদণ্ডনদীগুলোতে প্রবাহ হ্রাসসহ পানির দূষনের মাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি কাজ করছে বলেও মৎস্য বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

মৎস্য গবেষনা ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম জানান, চাঁদপুরে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মোহনায় যে স্রােত অতীতে ছিল, তা বিগত বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অভাবসহ উজানে প্রবাহ নিয়ন্ত্রনের ফলে লক্ষ্য করা যায়নি। উপরন্তু চাঁদপুর থেকে সাগর মোহনা পর্যন্ত দেড়শরও বেশী ডুবোচর সৃষ্টি হয়ে ইলিশের গতিপথ রুদ্ধ হচ্ছে। আবার যেখানে নদীর গভীরতা বেশী সেখানে নৌপথের মূল চ্যানেল হওয়ায় জেলেরা জাল ফেলতে পারছেন না। এমনকি শীত মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের প্রায় ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচে নেমে যাবার সাথে লাগাতার মাঝারী থেকে ঘণ কুয়াশার কারণে জেলেরা সাগর ও নদণ্ডনদীতে নামতে না পারায় ইলিশ সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

ড. আশরাফুল আলমের মতে, অতিমাত্রায় শিল্প ও মনুষ্য বর্জ্য অপসারণের ফলে নদণ্ডনদীতে ইলিশের প্রধান খাবার ফাইটো প্লাঙ্কটন ও জু-প্লাঙ্কটনের ঘাটতি অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এবার প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেখানে প্রতি লিটার পানিতে ফাইটো প্লাঙ্কটন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার থাকার কথা, সেখানে তা দেড় হাজারের নিচে এবং জিও প্লাঙ্কটন ১৫শ’ স্থলে কোন কোন নদীতে ২-৩ শ’তে নেমে এসেছে। ফলে খাবারের অভাবেও ইলিশ সাগরের উপকূল অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ নদণ্ডনদীতে আসছেনা। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত তাপ প্রবাহের ফলেও ইলিশ সাগর থেকে নদীমুখী হচ্ছেনা। ইলিশ বিচরণের জন্য যেখানে অভ্যন্তরীণ নদণ্ডনদীর পানির তাপমাত্রা ২৮-৩০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন, সেখানে বিগত গ্রীস্ম মৌসুমে তা ৩৪-৩৫ ডিগ্রী অতিক্রম করেছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয়ের মৎস্য অনুষদের অধ্যাপক ড. সাজেদুল ইসলাম ইলিশের বংশ বিস্তারসহ নদণ্ডনদীর হাইড্রো-মেট্রোলজিক্যাল বিষয়গুলোর প্রতি নজরদারীর আহবান করেছেন।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ এবি সিদ্দিকের মতে, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমায় প্রতিবছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ছাড়াও আশি^নের বড় পূর্ণিমার আগে ও পরের ২২দিন সবধরণের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা এ সময় অবাধে বাংলাদেশের নৌ-সীমা থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায় বলে মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করে আসছেন।

তিনি আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় শুধুমাত্র ১৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মিয়ানমারেও জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ দুটি দেশের জেলেরা বাংলাদেশের নিষিদ্ধকালীন সময়ে বঙ্গোপসাগরের নৌ-সীমা অতিক্রম করে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিবেশী দেশের সাথে সমতা রেখে বাংলাদেশেও মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণার সময় বিবেচনা জরুরি হয়ে পরেছে।




কলাপাড়ায় এক রাতে ৫ বাড়িতে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক রাতে পাঁচ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নেয় চোরচক্র।

গতকাল রোববার মধ্য রাতে পৌর শহরের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এর মাসখানেক আগে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে নয়টি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। জনবহুল এ এলাকায় একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত পৌরবাসী।

স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, চুরি হওয়া পাঁচটি বাড়ির চারটিতে কয়েক দিন ধরে অনুপস্থিত ছিল পরিবারের সদস্যরা। প্রতিটি ঘরের সদর দরজাসহ ভেতর পর্যন্ত ছিল তালাবদ্ধ। এ বিষটি সম্ভবত নজরে রাখে চোরচক্র।

গতকাল গভীর রাতে এসব বাসায় হানা দেয় চোরেরা। প্রতিটি বাসার সদর দরজার তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ঘরে থাকা আলমারি, ওয়্যারড্রব এবং বিছানা ওলট-পালট করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতালিপ্রবাসী মেহেদী আজাদ বাবু। তাঁর স্ত্রী জানান, ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও আনুমানিক ১০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।

এ ছাড়াও তাদের পাশের আনিছ মোল্লার স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ঘর থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে।

এদিকে আলিম সিনেমা হল সংলগ্ন ঠিকাদার মাসুদ রানার ভাড়া বাসা থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও এক ভরি স্বর্ণ এবং একই ভবনের ওই বাড়ির মালিক ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের কক্ষ থেকেও স্বর্ণালংকার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেছারিয়া সড়কের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড সাবেক বিডিআর সদস্য মো. আক্তার হোসেনের বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে চোরেরা।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আহমেদ বলেন, ‘ঘটনা শোনার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সব বাড়ির তথ্য এবং পাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে চোর চক্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কারও কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




বরিশালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হয় আলাদা পোশাক নিয়ে!

বরিশাল অফিস  :: শেখের বেটি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মোগো কারেন্ট (বিদ্যুৎ) দিছে, বিভিন্ন ধরনের ভাতা দিছে। এ্যাহন এই অল্প একটু রাস্তা কইরা দিলেই মোরা খুশি হবো।  মাত্র ছয়শ’ ফুট দৈর্ঘ্যরে এ রাস্তাটির জন্য মোগো বাড়ির ছেলে-মেয়েদের ভাল কোন পরিবারের সাথে বিয়ে পর্যন্ত হচ্ছেনা। প্রতিবার ভোট আসলেই চেয়ারম্যান ও মেম্বর প্রার্থীরা আমাদের কাছে ভোট চাইতে এসে নির্বাচিত হয়েই রাস্তা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।  নির্বাচিত হওয়ার পর তারা আর রাস্তার ধারে কাছেও আসেন না। সোমবার এই কতা গুলোবলছে আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের পশ্চিম আস্কর গ্রামের গৃহবধু বনলতা মন্ডল।
এসময় একই এলাকার কৃষক বিশ্বনাথ মন্ডল, প্রদীপ বিশ্বাস বলেন,উপজেলার পশ্চিম আস্কর ও দক্ষিণ নাঘিরপাড় একটি গ্রামের কয়েকটি বাড়ির শত শত বাসিন্দারা। ওইসব বাড়ির ছেলে-মেয়েদের কাঁদা পানি পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় আলাদা পোশাক নিয়ে। বর্ষা মৌসুমে তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা।

স্থানীয় সূত্রে জান গেছে, বাড়ি থেকে যে পোশাক পরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তা কাঁদা পানিতে পরিধানের অযোগ্য হওয়ায় সাথে নিয়ে যাওয়া আলাদা ড্রেস পড়ে ক্লাস করেন ওইসব শিক্ষার্থীরা। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের পশ্চিম আস্কর ও দক্ষিণ নাঘিরপাড় গ্রামের সীমান্তবর্তী বিলমুখী প্রদীপ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে বিশ্বনাথ মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত মাত্র ছয়শ’ ফুট দৈর্ঘ্যরে কাঁদা-পানির নাম সর্বস্ত্র রাস্তার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র ছয়শ’ ফুট দৈর্ঘ্যরে ওই রাস্তাটির জন্য শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিকাজ, কৃষি পণ্য পরিবহন, মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসা সেবাসহ নানাবিধ ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন শত শত বাসিন্দারা। গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শত বছর পূর্বে তৎকালীন জমিদাররা প্রজাদের যাতায়াতের জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ও ২৫ ফুট প্রস্থের হালোটের জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। বর্তমানে ওই হালোটের জমি দখল করে নিয়েছেন স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাঘিরপাড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী লিনা অধিকারী বই ও খাতার সাথে বাড়তি স্কুল ড্রেস নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে। লিনা জানায়, আমার পরিহিত পোশাক জল ও কাঁদায় ভিজে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে গিয়ে বাড়তি নেওয়া ড্রেস পরিবর্তন করে ক্লাশে যাবো। নাঘিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী এনা মিস্ত্রী জানায়, রাস্তা না থাকার কারণে আমরা বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে পারিনা।

এ বিষয়ে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, আমার কাছে কেই বলেনাই এই রাস্তার জন্য। আমি এখন জানতে পেয়েছি চলতি শুকনো মৌসুমে বোরো ধান কাঁটার পর জরুরী ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তাটি নির্মান করে দেওয়া হবে।




বরিশালে অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

বরিশাল অফিস :: সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

সোমবার দুপুরে থানা পুলিশের সহায়তায় উপজেলা সদরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যামান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে ইমামা বানিন।।

অভিযানে উপজেলা সুপার মার্কেটের গ্রামীণ প্যাথলজির মালিক মনিরুজ্জামান স্বপনকে ভোক্তা অধিকার আইনে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই মার্কেটে অবস্থিত পপি ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক ডেন্টাল চিকিৎসক প্রদীপ কুমার রায় কোন চিকিৎসক না হওয়ায় তাকে রোগী দেখতে নিষেধ করেছেন ম্যাজিষ্ট্রেট। অভিযান পরিচালনার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অর্ণব সাহা, থানার এসআই নুরে আলম, আদালতের নাজির সোহেল আমিন উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট উম্মে ইমামা বানিন।