ঝালকাঠিতে গাঁজাগাছ-ইয়াবাসহ আটক ২

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে আটটি গাঁজা গাছসহ শাহারুম হাওলাদার (৫০) ও ১৫ পিস ইয়াবাসহ কবির হাওলাদার (৫১) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটক শাহারুম হাওলাদার ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিন চেচরী এলাকার মৃত মুজাহার আলী হাওলাদারের ছেলে ও কবির হাওলাদার নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকার মৃত আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দুল হাওলাদারের ছেলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিন চেচরী এলাকার শাহারুমের মরিচ ক্ষেতের মধ্যে থেকে আটটি গাঁজা গাছ ও নলছিটি উপজেলার ডুবিল এলাকা থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে নলছিটি ও কাঁঠালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। মাদক মুক্ত সামজ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।




প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, গ্রেফতার ১

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালির গলাচিপায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটে কিশোর মারুফের (১৫) বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মারুফকে আসামি করে গলাচিপা থানায় নারী শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। পরে অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করে গলাচিপা থানা পুলিশ।

রাতে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম খান বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড়গাবুয়া গ্রামের মো. ফেরদাউস আকনের ছেলে মো. মারুফ, একই গ্রামের গলাচিপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। সপ্তম শ্রেণির ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিত মারুফ। বুধবার বিকেলে ওই কিশোরী হরিদেবপুর থেকে বোনের বাড়িতে অটোরিকশায় করে রওনা দেয়। পথে বখাটে কিশোরও ওই অটোরিকশায় ওঠে। এ সময় সে কিশোরীকে বলে ‘তোকে পথে নামিয়ে দিয়ে, আমরা চলে যাবো’।

তবে কিছুদূর যাওয়ার পর অটোরিকশা থেকে নেমে যায় তারা। এরপর গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তা দিয়ে ভয় দেখিয়ে, বড়াগাবুয়ার ‘খলিল খানের’ পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে যায় ভুক্তভোগী কিশোরীকে। সেখানে মারুফ ওই কিশোরীকে নানারকম ভয় দেখায়। রাতে কয়েকবার ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এরপর তাকে ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে সে। পরে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানির ভয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে কিশোরীকে, তার বাবার বাড়ির সামনে নামিয়ে দিয়ে মারুফ পালিয়ে যায়। এ সময় মারুফ ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে শাসিয়েও যায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মারুফের বাবা ফেরদাউস আকন বলেন, আমার ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার রাতেও আমার ছেলে বাড়িতে ছিল। কী ঘটেছে, আমি তা জানি না।

ওসি মো. ফেরদৌস আলম খান বলেন, ভিকটিমকে (ভুক্তভোগী) উদ্ধার করে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, অভিযুক্ত মারুফকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

 




ভোলায় নিউমোনিয়ার প্রকোপ, এক শয্যায় ২-৩ শিশু

বরিশাল অফিস :: ভোলায় বেড়েছে শিশুদের নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। এতে রোগীদের চাপ বেড়েছে ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে।

চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও ডাক্তাররা। নশনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ১৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

যাদের মধ্যে নিউমোনিয়া আক্রান্ত ছিল ৯৮ জন। এদিকে আক্রান্তে সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট।

যে কারণে একটি বেডে গাদাগাদি করে ২/৩ জন রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেকেই আবার বাধ্য হয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রোগীর চাপ বেশি থাকায় তাদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার ও নার্সরা।
আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ভোলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের গিয়ে দেখা গেছে, রোগীদের ভয়াবহ চাপ। তবে ৬৫ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৩৮ জন। যার ফলে এক শয্যায় একাধিক রোগীর পাশাপাশি অনেকেই মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দিন বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেশি। আমরা সাধ্যমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছি। রোগীর সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে। তাই অভিভাবকদের আরও বেশি যত্নবান হতে হবে। তাদের যেন ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, জেলায় সাত উপজেলার হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এক সপ্তাহে যার সংখ্যা দাড়িয়েছে, ২৫২ জনে। এক মাসে সর্বমোট নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়েছে ৮১৮ জন। যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে দুটি শিশুর।

ভোলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে কিছুটা গরম অনুভূত হচ্ছে তবে রাতের তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। শনিবার দিনের তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী এক সপ্তা ধরে এ অবস্থা বিরাজমান থাকবে। এরপর ঘর কুয়াশা হতে পারে। ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।




ভোলায় ৫ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

বরিশাল অফিস :: ভোলায় পাঁচ কেজি গাঁজাসহ মো. রবি আলম (৪০) নামের এক যুবককে আটক করেছেন পুলিশ। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) দুপুর সোয়া ১ টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইলিশা-লক্ষীপুর গামী লঞ্চঘাটের পল্টনের উপর থেকে তাকে আটক করা হয়


আটককৃত মো. রবি আলম ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দক্ষিণ বাটামারা, বড় মানিকা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সেকান্তর আলীর ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছেন সে একজন সক্রিয় মাদক কারবারী।

ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার দুপুর সোয়া ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইলিশা-লক্ষীপুর গামী লঞ্চ ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পল্টনের উপর থেকে মো. রবি আলম নামের এক যুবককে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে।




বরিশালে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রেস্টুরেন্টে অভিযান, জরিমানা

বরিশাল  অফিস :: বরিশালে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি খাবার হোটেলে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বরিশাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারীর নেতৃত্বে নগরের পেয়ারা রোড ও গীজ্জামহল্লা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মডার্ন মেডিকেল সার্ভিসেসসহ দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২৭ হাজার টাকা এবং গির্জা মহল্লা রোডে হোটেল আল জামিয়াকে অপরিচ্ছন্নতা, খাবারে ভেজাল এবং বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস এবং কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।




পটুয়াখালীতে আলোচনায় অনেকে, মাঠে তিনজন

বরিশাল অফিস :: মনোনয়নপত্র জমার আগেই নির্বাচনী হাওয়ায় সরব পটুয়াখালী শহর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ না কাটতেই স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে পৌরশহর। রাস্তা, অফিসসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগের পাশাপাশি উঠান বৈঠক ও মিছিলও চলছে। তফসিল ঘোষণার আগে ছয়জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও মাঠে সক্রিয় বর্তমান ও সাবেক দুই মেয়রসহ তিনজন। এ ছাড়া ৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য অর্ধশতাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

জানা গেছে, পটুয়াখালী পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি। সেবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনে বিজয়ী হন বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হেরে যান। ওই সময়ের মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী কাজী আলমগীরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছিলেন। তিনি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০১১ সালে।

চলতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বর্তমান ও সাবেক দুজন মেয়র ছাড়াও মাঠে সরব ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক জেলা বাস ও মিনি-বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. রিয়াজউদ্দিন মৃধা, পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পানজা বিড়ি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান খান, পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনায়েত হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মো. ইকবাল হোসেন ভুঁইয়া।

নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সিদ্ধান্তে তিনজন ছাড়া সবাই নীরব হয়ে যান। সাবেক মেয়র সফিকুল ইসলাম ও বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও মো. এনায়েত হোসেন এখনও মাঠে সরব। তারা গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা করছেন। তাদের পক্ষে চলছে মিটিং-মিছিল।

১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত পটুয়াখালী পৌরসভা ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। ১৩২ বছরের এই শহরে ধাপে ধাপে উন্নয়ন হলেও গত ৫ বছরের কিছু উন্নয়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যে শহরের প্রবেশপথ কালিকাপুর চৌরাস্তা থেকে সার্কিট হাউস মোড় পর্যন্ত মূল সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, নান্দনিক সেলফি রোড-যেটি কাশ্মীরের ছবি বলে চালিয়েছিল ভারত, দুটি দৃষ্টিনন্দন লেক আধুনিকায়ন শহরের চিত্রকে বদলে দিয়েছে। তেমনি পুরান শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও বেহাল থাকার চিত্রও রয়েছে।

বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহমেদের দাবি গত ৫ বছরে পটুয়াখালী শহরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিগত ১৩০ বছরের ইতিহাসে হয়নি। সারা দেশে পটুয়াখালী এখন একটি মডেল শহর। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়নের পাশাপাশি নগর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছি।’

আর সাবেক মেয়র ডা. সফিকুল ইসলামের দাবি বর্তমান শহরের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার বেশিরভাগ বরাদ্দ তার সময়ের। বর্তমান মেয়রের মেয়াদে সুষম উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে একটি নির্দিষ্ট এলাকায়। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সুষম উন্নয়ন করব।’

সম্প্রতি সরকারি জমিতে বসবাসকারী শহরের কিছু মানুষকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ব্যাপারে বর্তমান মেয়রের দাবি এটা জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে হয়েছে। এখানে তার করার কিছু ছিল না, তবুও তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর সাবেক মেয়রের দাবি তার সময়ে এই শহরে কাউকে বাস্তুচ্যুত করা হয়নি, তিনি নির্বাচিত হলে তাদেরকে পুনরায় পুনর্বাসিত করবেন। উভয়ই নিজ নিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

পিছিয়ে নেই এনায়েত হোসেনও। তিনিও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এনায়েত হোসেন বলেন, ‘পটুয়াখালীকে একটি সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত পৌরসভা হিসেবে গড়তে চাই। আমার প্রত্যাশা জনগণ এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে বলে প্রত্যাশা।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে প্রার্থীকে সমর্থন না জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেও জেলা আওয়ামী লীগ ডা. সফিকুল ইসলামকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জরুরি সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করে কালক্ষেপণ না করে বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে সফিকুল ইসলামকে মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তাদের ভোট ও দোয়া চেয়ে পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহর। প্রতিদিন চলছে গণসংযোগ। পিছিয়ে নেই নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন।

বর্তমানে পটুয়াখালী শহরের লোকসংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী ভোটার ৫০ হাজার ৬৯৯। এর মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৯৪৭ আর নারী ভোটার ২৬ হাজার ৭৫০ জন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ইভিএমের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি। বাছাই-১৫ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২২ ফেব্রুয়ারি। আর ২৩ ফেব্রুয়ারি হবে প্রতীক বরাদ্দ।

রিটার্নিং কর্মকর্তা খান আবি শাহানুর খান বলেন, ‘এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণা হয়েছে। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। যারা রঙিন পোস্টার ও ব্যানার টানিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন, সেসব অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করছি।’




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী জান্নাত আবার হাঁটতে চান

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসি। লেখাপড়ার পাশাপাশি কাজ করতেন পথশিশু ও অসহায়দের নিয়ে। যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে। সব কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু ২৫ জানুয়ারি হঠাৎ এক দুর্ঘটনা যেন সব এলোমেলো করে দিলো।

সেদিন অসাবধানতাবশত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তিনতলা থেকে পড়ে গিয়ে জান্নাতের মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত লাগে। পরে তার স্পাইনাল কর্ডে ফ্র্যাকচার হয়েছে। সঙ্গে ডান পায়ের গোড়ালিও মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। স্পাইনাল ফ্র্যাকচারের কারণে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ডান পায়ের গোড়ালিতে করা হয়েছে প্লাস্টার। তার কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যারালাইজড হয়ে আছে। কোমরের নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত কোনো সংবেদন পাচ্ছে না। ঢাকায় একটি কক্ষ নিয়ে নিবিড় যত্নে আছেন তিনি।

জান্নাত বর্তমানে ঢাকার শ্যামলিতে ট্রমা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছয় মাসের ফিজিও থেরাপি ও অন্যান্য ট্রিটমেন্টের জন্য অন্তত সাত থেকে আট লাখ টাকার প্রয়োজন।

জান্নাতের ভাই জিওন জানান, প্রথমে বরিশালের শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ থেরাপি দেওয়ার জন্য তাকে ট্রমা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের সাবেক ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. আব্দুল গণি মোল্লার তত্ত্বাবধায়নে অস্ত্রোপচার করানো হয়। ডা. নাসির উদ্দীন থেরাপি দিচ্ছেন। তবে প্রতি মাসে দেড় লাখের বেশি খরচ হচ্ছে। যা পরিবারটির পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইংরেজি বিভাগের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সহ-সভাপতি নাহিদ আকন্দ বলেন, আমাদের বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি সহযোগিতা করার। বিত্তবানদেরও আহ্বান থাকবে এগিয়ে আসার।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক তানভীর কায়ছার বলেন, বিভাগ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা প্রয়োজন আমরা করছি।শিক্ষার্থীর বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।




কলাপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মোটরসাইকেল উল্টে মো. সুমন মোল্লা (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমন মোল্লা উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামের মো.খোকন মোল্লার ছেলে।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪ টার দিকে পৌরশহর সংলগ্ন নাচনাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবার জানান, কাজ শেষে সুমন বিকাল ৪ দিকে গ্রামের বাড়ি থেকে কলাপাড়াতে ফিরছিলেন। কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টে সড়কের ওপর পড়ে যান। আহতাবস্থায় তাকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরন করা হচ্ছে।




বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে দিয়ে আসলেন বাবা

বরিশাল অফিস:: বরগুনার তালতলীতে প্রেমিক সোলায়মানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে স্কুলছাত্রীর বাবা প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে মেয়েকে অনশনে দিয়ে আসসেন। অনশনের পর থেকেই কলেজ ছাত্র সোলায়মান আত্মগোপনে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) রাত থেকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতিপাড়া এলাকার প্রেমিক সোলায়মানের বাড়িতে অনশনে দিয়ে আসেন ঐ স্কুলছাত্রীর বাবা। এরপর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনশন করছেন ওই স্কুলছাত্রী। প্রেমিক সোলায়মান তাঁতিপাড়া এলাকার হাবিব মুন্সীর ছেলে ও তালতলী সরকারী কলেজর একাদশ শ্রেণীর ছাত্র। ভুক্তভোগী ওই স্কুলছাত্রী একই এলাকার বাসিন্দা। বিয়ের দাবিতে অনশনে থাকা স্কুলছাত্রী বলেন, ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঘর থেকে বের করে এনে শারীরিক সম্পর্ক করেন। এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করেন প্রেমিক সোলায়মান। বিয়ের কথা বললে বিভিন্ন টালবাহানা দেখায় সোলায়মানসহ তার পরিবার। পরে আমার বাবা আমাকে বিয়ের জন্য এই বাড়িতে দিয়ে যায়। আমি সোলায়মানকে বিয়ের জন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে অনশনে বসেছি। আমাকে বিয়ে না করলে এই বাড়িতেই অবস্থান করবো। এ ঘটনার পর থেকে প্রেমিক সোলায়মান বাড়ি থেকে পালিয়ে রয়েছেন। অনশনে থাকা স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করছে সোলায়মান। আমার ইজ্জত গেছে এখন আমার মেয়েকে সোলামানের সাথে বিয়ের জন্য তাদের বাড়িতে দিয়ে আসছি। আমার মেয়েকে বিয়ে না করলে আমি থানায় যাবো। এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে প্রেমিক সোলায়মানের পরিবারের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তালতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত (ওসি) রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ভেজাল বীজের সংবাদ , এসআর সিড কোম্পানির প্রতিবাদ

বরিশাল অফিস :: গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের বেশ কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ভেজাল শসা বীজে ভোলার কৃষকের সর্বনাশ’ নামে একটি প্রতিবেদন ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়৷

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেজাল বীজের কারণে ভোলার প্রায় ৫০০ একর জমির শসা পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় এসআর সিড কোম্পানি অ্যাগ্রো বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কোম্পানির জেলা এরিয়া ম্যানেজার মো. মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ভেজাল বীজের কারণে শসা গাছের ক্ষতি হয়নি। কৃষকদের সঠিক পরিচর্যার অভাব, মাটির গুনগতমান ও আবহাওয়াজনিত কারণে শসা বীজের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় ডিলার মাকসুদুর রহমানের কাছ থেকে এসআর সিড কোম্পানি টাকা পাবে। এ টাকার জেরে ডিলার মাকসুদুর রহমানের ইন্ধনে কৃষকরা গাছের সঠিক পরিচর্যা না করে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। যার কারণে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসআর সিড কোম্পানির একটি প্রতিনিধি দল রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন পরিদর্শন করে নষ্ট হওয়া গাছ ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এসআর সিড কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করার উদ্দেশে ডিলারের ইন্ধনে কৃষকরা এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে।

গেল মঙ্গলবারের প্রতিবেদনটি ছিল- প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কৃষকরা আশা করেছিল শসা চাষ করে সংসারের খরচ মেটাবেন। কিন্তু এ আশা তাদের গুড়ে বালি। ভেজাল শসার বীজ আবাদ করে ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছেন তারা। এ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার কৃষকেরা। এর মধ্যে অ্যাগ্রো বাংলাদেশ লিমিটেড কোম্পানির ‘এসআর সিড’ নামের জাতের শসার বীজ এবার সর্বনাশের ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। সম্প্রতি সরেজমিন গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বীজ বিক্রেতারা এমন অভিযোগ করেছিলেন।