বরিশাল আদালতে স্ত্রীকে হাতুড়ি পেটায় নৃশংসভাবে হত্যার দায় স্বীকার স্বামীর

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়ায় তেতলা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বিথী সমদ্দার (২৫) নামের এক গৃহবধুকে নৃশংসভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার স্বামী।

ঘাতক স্বামী সুমন রায় আজ সোমবার (১২ ফেব্রয়ারি ) বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বিকালে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। বিচারক খোকন হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে আসামীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরআগে রোববার ( ১১ ফেব্রয়ারি) রাতে নিহত বিথী সমদ্দারের ভাই বিবেক সমদ্দার বাদী হয়ে বোন জামাতা সুমন রায়, তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য সুধীর রায় ও মা সন্ধ্যা রায়কে আসামী করে বানারীপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইনুল ইসলাম জানান, আসামী সুমন রায়কে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে সে বিচারকের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে বিথীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পরে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কলহের জেরে রোববার (১১ ফেব্রয়ারি) বেলা ১১টার দিকে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুমন রায় হাতুড়ি দিয়ে স্ত্রী বিথীর মাথায় এলোপাথারি পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে সুমনকে আটক করেন। এসময় সুমন জনরোষ থেকে বাঁচতে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে স্ত্রীকে হাতুড়ি পেটা করে মার্ডার করেছেন জানিয়ে পুলিশের কাছে আাত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

জানা গেছে. ৫ বছর পূর্বে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি গ্রামের বাসুদেব সমদ্দারের মেয়ে বিথী সমদ্দারের সঙ্গে
বানারীপাড়ার উদয়কাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেতলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য সুধীর রায়ের ছেলে সুমন রায়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সুপ্তী রায় নামের তিন বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মাকে খুঁজে না পেয়ে শিশু সুপ্তীর কান্না কিছুতেই থামছেনা।

স্বজনসহ আগন্তুক নারীদের মাঝে মাকে খুঁজে ফিরছে সে। অবুঝ শিশুটির কান্না সবাইকে অশ্ররু সজল করছে।

 




বরিশালে একুশ উদযাপনের প্রস্ততি সভা

বরিশাল অফিস :: অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদীতে প্রস্ততি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২) ফেব্রয়ারি দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ চুন্নু ফকির, ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মোল্লা, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা মেজবা উদ্দিন আকন প্রমূখ। সভায় বিভিন্ন
দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন: জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস : শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবঃ)জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে এসেছেন। ২০৪১ সালে সমৃদ্ধশালী স্মার্ট বাংলাদেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তখন আমরা হয়ত থাকব না। কিন্তু আজ যারা তরুন প্রজন্ম আছ, তোমরাই হবে সেই ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশের কর্ণধার। এজন্য তোমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে
হবে।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের লেখাপড়া করতে হবে, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকেই গঠনমূলক কর্মকান্ড করতে হবে। তোমরা যদি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের যদি গড়ে তুলতে পার, তাহলেই তোমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কর্ণধার হতে পারবে।

সোমবার (১২ ফেব্রয়ারি) সকালে বরিশাল জিলা স্কুল এর ১৭০ তম বার্ষিক ক্রীয়া প্রতিযোগীতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো দেশের নাগরিক বা মানুষ শারীরিকভাবে সুস্থ না হতে পারলে সে দেশ কখনও সমৃদ্ধ লাভ করতে পারে না। জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা গড়ার। কিন্তু আমরা জনসাধারণ যদি শারীরিকভাবে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারি তাহলে এটা সোনার বাংলা হবে না, রুগ্ন বাংলা হবে।

সুতরাং সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের প্রতিটি নাগরিককে শরীরের দিকে নজর দিতে হবে। আর এজন্যই সরকার খেলাধুলার দিকে নজর দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস ও আমরা আশা করবো এখনকার শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলার প্রতিও মনোযোগী হবে। একজন শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলায় মনোযোগী হলে তারা অন্যান্য খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারবে।

বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বরিশাল আঞ্চলিক উপপরিচালক,মোঃআনোয়ার হোসেন, বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডঃলষ্কর নুরুল হক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ভোলায় ইপিআই ভ্যাকসিন সংকট, টিকা কার্যক্রম ব্যাহত

বরিশাল অফিস :: ভোলায় দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া ও পোলিও টিকাসহ বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে টিকা কেন্দ্রে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় টিকা দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন তারা। এনিয়ে ক্ষোভ ঝরছে তাদের কণ্ঠে। টিকার জন্য ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

টিকা নিতে আসা অভিভাবক মিজি বাড়ির নাহিদা লায়লা নাসরিন, ফাতেমা জানান, শিশুর টিকার জন্য এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্র ছুটছেন সন্তানের বাবা-মা। এরপরও মিলছে না টিকা। তাই ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়েই। দুই মাস ধরে ভোলায় নিউমোনিয়া ও পোলিও টিকাসহ বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট তারিখে শিশুদের টিকা নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে অভিভাবকরা। ইউনিয়নের টিকা কেন্দ্র থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতালেও মিলছে না এই টিকা।

আকলিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের তিনটি টিকা দেয়া হয়েছে। ৪র্থ ধাপের টিকার জন্য স্থানীয় স্যাটেলাইট ক্লিনিকে গেলেও টিকা মেলেনি। পরে হাসপাতাল এসেছি, সেখানেও নেই। এতে আমরা খুব চিন্তার মধ্যে আছি। সঠিক সময়ে যদি টিকা না দিতে পারি তাহলে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। এতে দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাই দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করার দাবি অভিভাবকদের।

স্বাস্থ্য সহকারী জান্নাতুল নাঈম ও মো. হোসেন জানান, শিশুদের পিসিভি, আইপিভি, পেন্টাভ্যালেন্ট এই তিনটি ভ্যাকসিন না থাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে পারছেন না তারা। এতে টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান আহমেদ জানান, টিকার জন্যে আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি। যেন দ্রুত টিকা আসে। তবে টিকা দিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও তা শিশু স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ভোলা জেলায় এক বছরে ৬৪ হাজার শিশুকে টিকা দিতে হয়। জেলার ৬৭টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ২৪টি টিকা কেন্দ্রে মাসে একবার করে টিকা দেয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা সদর হাসপাতালে ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন টিকা দেয়া হয়। বর্তমানে ১০টি রোগের টিকার মধ্যে কেবল ৩টি টিকা মজুদ রয়েছে।




ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ৪০ জনের নিয়োগ

বরিশাল অফিস :: ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে ‘মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার’ পদে ৪০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানের নাম: ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বাংলাবাজার, ভোলা

চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
কর্মস্থল: বাংলাবাজার, ভোলা

বয়স: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ ১৮-২৫ বছর

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা pbsbho.teletalk.com.bd এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে।

আবেদন ফি: টেলিটক প্রি-পেইডের মাধ্যমে অফেরতযোগ্য হিসেবে ১১২ টাকা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখ বিকেল ০৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

সূত্র: যুগান্তর, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪




বরিশালে ট্রলি উল্টে চালক নিহত আহত ৩

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে নিচে চাপা পড়ে মো:মেহেদী হাসান (২৮) নামের এক যুবক চালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুইজন।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সি এন্ড টি রোড এলাকা এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মেহেদী বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভারপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার গ্রামের আবুল হালদারের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আফজাল হোসেন তিনি জানান, বাকেরগঞ্জ উপজেলা পৌরসভার পাড় বটতলা থাকা থেকে ট্রলি চালিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল। এমনই সময় যুবক চালক ট্রলির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সাথে থাকা আরো ৪ শ্রমিক আহত হয়েছে।

তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হলে চালক মেহেদী কে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওপর তিন জনকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে । এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 




গলাচিপায় এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে গাব গাছের ডালে এক গৃহবধূর গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে গলাচিপা থানা পুলিশ। রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী সকালে ডাকুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের হোগলবুনিয়া গ্রামে দুই সন্তানের জননী চঞ্চলা রানী (৪০) এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বজনরা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ অবসাদগ্রস্থ ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করা হয়েছে।  গতকাল রাত থেকে হঠাৎ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজা খুঁজির পরে সকালে তাকে একটি গাব গাছের ডালে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পায় স্বজনরা। তাৎক্ষণিক গলাচিপা থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। স্বজনদের দাবি, বিভিন্ন কারণে হতাশাগ্রস্ত থাকায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফেরদৌস আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।




গলাচিপায় স্কুল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

বরিশাল অফিস :: গলাচিপার ডাকুয়া ইউনিয়নের হোগলবুনিয়া গ্রামে এক শিক্ষার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বান্ধবীর বাড়ি থেকে আপন ছোট বোনসহ নিজ বাড়িতে ফেরার পথে একই এলাকার শাহ আলম শরিফের ছেলে খায়রুল শরিফ, মৃত শহিদুল মেলকারের ছেলে সোহাগ মেলকারসহ আরো একজন মিলে ছোট বোনকে ধাক্কা দিয়ে বড় বোনকে নিয়ে সুইসগেটের পাশের এক জঙ্গলে নিয়ে তিনজন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আসমিরা। পলাতক অন্য এক আসামিকে গ্রেপ্তার করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ওসি মো. ফেরদৌস আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান বিপিএম পিপিএমের দিক নির্দেশনায় শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতেই গজালিয়া এলাকা থেকে তিন জনের মধ্যে দুই জনকে আটক করা হয়েছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের পটুয়াখালী জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমকে পটুয়াখালী হাসপাতালে পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেপ্তার করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




বরিশালে সরস্বতীর পুজা উপলক্ষে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল অফিস :: বিদ্যা ও নৃত্য কলার দেবী সরস্বতী পুজা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)। অন্যান্য বছরের মতো মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব বীনা পানি অর্চনা বা সরস্বতী পুজা। পুজা উপলক্ষে সরস্বতীর প্রতিমায় রং তুলির শেষ আঁচড় দিতে এখন মহাব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

আর মাত্র দুইদিন পর জ্ঞানের আলো ছড়াতে অনুষ্ঠিত হবে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পুজা। তাই একেবারে শেষ সময়ে প্রতিমায় রংয়ের কাজ শেষ করতে মৃৎশিল্পীদেরও পাশাপাশি তাদের বাড়ির নারী শিল্পীদেরও বিশ্রামের সময় নেই। দিন-রাত সমান তালে প্রতিমা তৈরীতে এখন ব্যস্ত তারা। খড়, কাঠ, বাঁশ ও মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমা রোদে শুকিয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে রং তুলির আঁচড়। উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা পাল পাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী শিবু পাল, তার স্ত্রী মায়া রানী পাল, একই বাড়ির জয়দেব পাল এবং তার স্ত্রী সবিতা রানী পাল, গৌরাঙ্গ পালের স্ত্রী মঞ্জু রানী পাল, উপেন পালের স্ত্রী আরতী রানী পাল, প্রেমানন্দ পালের স্ত্রী মিনতী রানী পাল জানান, তারা প্রায় সারাবছরই বিভিন্ন পুজার জন্য দেব দেবীর প্রতিমা বাড়িতে বসেই তৈরি করে থাকেন। এ ছাড়া ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বাড়িতে গিয়েও বড় আকারের প্রতিমা তৈরী করেন পুরুষ সদস্যরা। বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন পুজার মৌসুম অনুযায়ী তারা প্রতিমা তৈরী করেন। তাদের নির্মিত প্রতিমা হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত আগৈলঝাড়া উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়।।

এ ছাড়া পাইকাররা বাড়ি থেকেও প্রতিমা ক্রয় করে নিয়ে যায় বিভিন্ন হাট ও বাজারে বিক্রির জন্য। মৃৎশিল্পীরা আরও বলেন, তারা দুইরকমের প্রতিমা তৈরী করেন। এরমধ্যে একটি ছাঁচে (ঢাইস) নির্মিত ও অপরটি ব্যানায় নির্মিত প্রতিমা। ছাঁচে নির্মিত প্রতিমা দুইশ’ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা ও ব্যানায় নির্মিত প্রতিমা এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। পঞ্জিকা মতে, ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত ৮ টা ৪২ মিনিটে পঞ্চমী তিথি শুরু হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার এই তিথি থাকবে সন্ধ্যা ৬ টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত। তাই আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে পঞ্চমী তিথিতে প্রতিটি হিন্দু বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরস্বতী পুজা অনুষ্ঠিত হবে।

 




মাছ সংকটে শুঁটকি পল্লীর বাসিন্দারা

বরিশাল অফিস : দেশি প্রজাতের মৎস্য অঞ্চল হিসেবে পরিচিত জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজাপুর ও তার পাশ্ববর্তী রামশীল শুঁটকিপল্লীতে চলছে ভরা মৌসুম। এ পল্লীর শুঁটকির চাহিদা রয়েছে বিদেশেও। তবে দেশি প্রজাতের মাছ সংকটে চরম হতাশায় ভুগছেন পল্লীতে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলোর সদস্যরা।

রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে পল্লীর বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আগের তুলনায় পুঁটি, দেশি সরপুটি, পাবদা, কই, শোল, রয়না, খলসেসহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছের সংখ্যা অনেকাংশে কমে গেছে। তাই ভরা মৌসুমেও আগের তুলনায় কাজ অনেক কমে গেছে। আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম সীমান্তবর্তী বাকাল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের শুঁটকি ব্যবসায়ী অবনী রায় জানান, এ অঞ্চলের পাঁচ শতাধিক পরিবার শুঁটকি মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। একপাশে পয়সারহাট নদী, অন্যপাশে কোটালীপাড়ার বিল এলাকার মধ্যবর্তী পয়সারহাট, ত্রিমুখী ও রাজাপুর গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। পল্লীতে প্রক্রিয়াজাত করা বিলাঞ্চলের স্বাদু বা মিঠাপানির নানা প্রজাতের মাছের শুঁটকি অতীতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চল ও ভারতের আগরতলা পর্যন্ত এখানকার শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। শুঁটকি পল্লীর সাথে জড়িত পরিবারগুলো মৌসুমি ব্যবসায় লাভের আশায় বছরের আশ্বিন মাসের প্রথম থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ছয় মাস নিয়োজিত থাকে। এখানকার শুটকির চাহিদা রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেও। দেশি-বিদেশি পাইকাররা এসে এখান থেকে শুঁটকি নিয়ে যান। আবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে গিয়েও পল্লীর ব্যবসায়ীরা শুঁটকি বিক্রি করেন। তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা মহাজনের কাছ থেকে দাদন ও স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলেও মৌসুম শেষে ওই দাদন ও ঋণের টাকা পরিশোধ করে তাদের হাতে আর তেমন কিছুই থাকে না। স্থানীয় নিখিল মন্ডল ও মহাদেব বাড়ৈ জানান, একযুগেরও অধিক সময় ধরে ভৌগলিক পরিবেশের কারণে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা পয়সারহাট, রাজাপুর ও ত্রিমুখী শুঁটকি পল্লীতে দেশি প্রজাতের বিভিন্ন প্রকার মাছের মধ্যে পুঁটি, শোল, টেংরা, খলসে, পাবদা, কই, শিং, মাগুর, মেনি, ফলি, বজুরি, বাইম মাছের ব্যাপক কদর ছিলো।

এ শুঁটকি পল্লীতে দেশি প্রজাতির মাছগুলো কেটে, পানিতে পরিস্কার করে প্রাকৃতিক নিয়মে রোদে শুকিয়ে বিক্রির জন্য মজুত করা হয়। এখানকার শুটকি পল্লীতে ফরমালিনের মতো বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক মাছে মেশানো হয়না। তাই সবখানে এ পল্লীর শুটকির কদর রয়েছে। ব্যবসায়ী অখিল মন্ডল জানান, চাহিদার মধ্যে ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ পুঁটি মাছের শুঁটকিতে। ব্যবসায়ী মনমথ রায়, অশোক রায়, জয়নাল চৌকিদার, মঙ্গল অধিকারী, ন

রেশ তালুকদার বলেন, বাজার থেকে এক মন কাঁচা মাছ কিনে শুকানোর পর ১৫ থেকে ২০ কেজি শুঁটকি মাছ পাওয়া যায়। গড়ে প্রায় তিন মন কাঁচা মাছ শুকালে এক মন শুঁটকি মাছ পাওয়া যায়। এক মন পুঁটি মাছের শুঁটকি আট থেকে নয় হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পল্লীতে মাছ কাটায় নিয়োজিত রাজাপুর গ্রামের সন্ধ্যা অধিকারী, আয়না বেগম, পপি অধিকারী, শোভা রানী জানান, বছরের ছয় মাস মাছ কাটার কাজে নিয়োজিত থাকলেও বাকি ছয়মাস কাটে তাদের অনেকটা অর্ধাহারে-অনাহারে।

তারা বলেন, ছেলে-মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। মাছ কেটে যা আয় হয়, তা দিয়ে বহু কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, শুকনো মৌসুমের শুরুতে দেশী মাছ বেশি পাওয়া গেলেও কার্তিক মাসের পর বিলে মাছ কম থাকায় তাদের দুঃখ দুর্দশা আরও বেড়ে গেছে। দেশি মাছ কমে যাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। শুঁটকি ব্যবসায়ী রাজাপুরের অবনী রায় জানান, সরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় তারা বছর শেষে ঋণের জালে আটকেই থাকছেন।

শুঁটকিপল্লীর সাথে জড়িত পরিবারগুলো বছরের পর বছর সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে সহজ শর্তে ঋণ দাবি করে আসলেও বরাবরই তা উপেক্ষিত হয়ে আসছে।