ভোলার মেঘনার তীরে নোঙর করে রাখা সারি সারি জেলে নৌকা যেন মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবিকার সংকটে থাকা মানুষগুলোর দুর্ভোগের। নদীতে নেই মাছ, নেই উপার্জন—আর সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে ঈদের আনন্দও।
আজ শনিবার ঈদের দিনে দুপুরে ভোলা সদরের শিবপুর জেলেপল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত নৌকা অলস পড়ে আছে পাড়ে। মাছের অভাবে জেলেরা আর আগের মতো নদীতে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন, তারাও ফিরে আসছেন খালি হাতে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ ধরার অনুমতি পেলেও নদীতে আশানুরূপ মাছ মিলছে না। আবহাওয়াজনিত কারণে বহু দিন নদীতেও নামতে পারেননি। ফলে সংসার চলছে ধারদেনায়, আর ঈদের আনন্দও হয়ে উঠছে ঋণের বোঝা।
শিবপুরের জেলে আসাদ মাঝি বলেন,“ধার করে ছেলেমেয়েদের মুখে এক টুকরো মাংস তুলে দিয়েছি। জানি না, আর কতদিন এভাবে চলতে হবে।”
ডালিম মাঝি ঈদের রুটি ও মাংসের আয়োজন করেছেন ধার করা টাকায়। তার নৌকাতেই পরিবারকে রুটি বানাতে দেখা গেছে। আক্কেল বেপারী সন্তানকে দান করা সামান্য মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছিলেন—চোখে মুখে মিশে ছিল অজানা শঙ্কা।
চরফ্যাশনের জেলে আলাউদ্দিন মাঝি বলেন,“ছেলেকে নিয়ে ঈদ করতে ধার করেছি। নদীতে মাছ না থাকায় অনেক সময় খরচই উঠছে না।”
জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীর পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও দূষণের কারণে আগের মতো মাছ মিলছে না। অথচ এই সময়টাই ছিল মাছ ধরার মৌসুম।
বরিশাল বিভাগীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলা সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত জানান, দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ জেলে পরিবার চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন,“সরকার মাসে ৪০ কেজি করে চাল দিচ্ছে মাত্র অর্ধেক জেলেকে। বাকি অর্ধেক বঞ্চিত। আমরা চাই, সবাইকে সমান সহায়তা দেওয়া হোক এবং চালের পরিমাণও বাড়ানো হোক।”
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অফিসের সহকারী পরিচালক এসএম আসাদুজ্জামান জানান,“বিভাগে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৯ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে তাদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে।”
তবে অনেক জেলে এখনও তালিকার বাইরে রয়েছেন। বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, নতুন জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। তালিকাভুক্ত হলে তারাও সহায়তার আওতায় আসবেন।
এইভাবে ঈদের দিনও জেলেপল্লীতে আনন্দের পরিবর্তে ছায়া ফেলেছে অনিশ্চয়তা ও চরম দারিদ্র্য।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫