দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আরও স্মার্ট করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মহিববুর রহমান বলেছেন, ১৯৬৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় আমি আমার ভাই-বোনকে হারিয়েছি, বাড়ি-ঘর হারিয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ হিসেবে আমাকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে আমি এ মন্ত্রণালয়কেও স্মার্ট মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আমরা আরও স্মার্ট হব।

তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটে দেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল কুয়াকাটা রাখাইন নারী মার্কেট মাঠে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব মুজিব কেল্লাকে শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য আমার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি। যাতে প্রতিটি মুজিব কেল্লা সর্বদা ব্যবহার হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী দিনগুলোতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সিপিপিকে সম্পৃক্ত করা হবে। যে সমস্ত স্বেচ্ছাসেবক অসহায়, দুস্থ রয়েছেন, তাদের ঈদ, কোরবানিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এছাড়া মৃত স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবারকে ও অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ও ত্রাণ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রবিউল ইসলাম, উপসচিব ফারুক হোসেন, কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস্টার রামদাস, সিপিপির মহাসচিব কাজী শফিকুল আজম, আই ও এম এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস্টার আব্দুস সাত্তার ইসোয়েভ, জাগো নারী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হোসনেয়ারা হাসি, দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রবিউল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিপির পরিচালক প্রশাসন মো. আহমেদুল হক।

এর আগে নয়জন অসুস্থ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবককে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। এছাড়া এসময় ১০ হাজার জেলের মধ্যে বয়া বিতরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠানস্থলে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে মাঠ মহড়া ও রাখাইন শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।




পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষের ১০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

বরিশাল অফিস :: প্রায় দশ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পরিশোধ করছে না পটুয়াখালী পৌর কর্তৃপক্ষ। যদিও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) থেকে জানানো হয়েছে প্রতি মাসে পৌরসভায় চিঠি পাঠালেও পুরো টাকা পরিশোধের উদ্যোগ নেয়নি মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ।

জানা গেছে, পৌরভবন, কমিউনিটি হল, পানির পাম্প ও পৌর এলাকার রাস্তাসহ প্রায় ৩২টি হিসাবের বিপরীতে পৌরসভা এ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। গত সাড়ে চার বছর ধরে পটুয়াখালী পৌরসভায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এর আগে বিভিন্ন মাসে পৌর কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল দিলেও বেশিরভাগ মাসেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে না।

বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক বাতি জ্বালিয়ে রাখছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু সড়ক বাতি নয় সার্কিট হাউজ থেকে কলাতলা পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ফোর লেনের সড়কটিকে রঙ-বেরঙের বাতি জ্বালিয়ে আলোকসজ্জার কাজ করা হয়েছে। এমন দৃশ্য দেখে সমালোচনার সৃষ্টি করেছে বাসিন্দাদের মনে।

পটুয়াখালী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মহিম জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই পৌরসভার কাছে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। যা এখন প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে বর্তমান মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদকে বারবার জানানো হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের জুন থেকে মাসের বিল মাসে দিলেও, এখনও বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সভায় পৌরসভার বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সভায় উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি জেনে জেলা প্রশাসক মহোদয়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বর্তমানে পৌরসভা নির্বাচন চলমান থাকায় বিষয়টি নির্বাচনের পর দেখার ব্যাপারে আলোচনা হয়। নির্বাচনের পর যদি পৌর কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করে তখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে জানানো হয়।

পৌরসভার বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘এটি যেহেতু বড় বিষয় সেহেতু মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে আলাপ করলে ভালো হয়।’

তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেওয়ার জন্য পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।




বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন এর ২১তম ইন্তেকাল বার্ষিকীতে দুআ কামনা

বরিশাল অফিস : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার সমাজ সেবক ও সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার এর ২১তম ইন্তেকাল বার্ষিকী আজ ২১ ফেব্রুয়ারী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার ২০০৩ সনের ২১ ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার, বাদ আছর ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুমের জেষ্ট পুত্র মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কাউন্সিল সভাপতি শহিদুল ইসলাম কবির তার বাবার রুহের মাগফেরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দুআ চেয়েছেন।




মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ছেলে, চিন্তায় গামছা বিক্রেতা বাবা

বরিশাল অফিস :: গ্রামের হাটে ফেরি করে গামছা বিক্রি করেন ফিরোজ খান। তা দিয়ে টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে তার। আর্থিক অনটনের কারণে ছেলে সাব্বিরের লেখাপড়ায় খুব বেশি সহায়তা করতে পারেননি। তবে অদম্য মেধাবী সাব্বির খান নিজের চেষ্টায় এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছেন। তাকে ভর্তি করতে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা জোগাড় করতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফিরোজ খান।

ফিরোজ খান বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দামোদরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।

ফিরোজ খান বলেন, পৈত্রিক ১২ শতক জমির ওপর আমার বাড়ি। এ ছাড়া আমার কোনো সম্পত্তি নেই। দুই সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে এ বাড়িতে থাকি। অন্যের জমিতে কাজ করার পাশাপাশি হাটে লুঙ্গি-গামছা বিক্রি করে যা আয় হয় তাতে সংসার চলে। আমার ছেলে সাব্বির ছোটবেলা থেকেই অনেক মেধাবী। ২০২১ সালে সে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পায়। ২০২৩ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পায়। এরপর ঋণ করে তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় দেওয়াই। সে কোনো কোচিংয়ে পড়েনি। এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। তবে তার মেডিকেলে ভর্তি হতে ২০ হাজার টাকার মতো প্রয়োজন। এ টাকা আমি কোথা থেকে জোগাড় কবর, এ চিন্তায় ঘুম আসে না।

সাব্বির খান বলেন, ৬৭.৭৫ নম্বর পেয়ে আমি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। আমার পরিবারের অস্বচ্ছলতায় কোনো কোচিংয়ে পড়ার সুযোগ ছিল না। আমার ছোটবোন তার স্কুল থেকে একটি ট্যাব উপহার পেয়েছিল। সেটি দিয়ে অনলাইনে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ধারণা নিয়েছি। মূলত ইউটিউব থেকে টিউশন নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। আমি ভর্তি পরীক্ষায় ৪৭৪১তম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আবেদন যাতায়াত সবমিলিয়ে বাবা একটি এনজিও থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ করে এনেছিলেন। সেই টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া সাব্বির খানের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তার ভর্তির বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা আছে। তার ভর্তির ব‍্যাপারে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মহোদয়কে সার্বিক সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়েছে।




শহীদ মিনার নেই বরিশালের ৩১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

বরিশাল অফিস :: ভাষা আন্দোলন ৭২ বছরে পা রাখলেও বরিশালের শতবর্ষীসহ অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। ফলে শহীদ মিনার না থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভাষা শহীদদের স্মরণে পুম্পস্তবক অর্পণ করতে পারে না।

এমনকি অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ছুটি ভোগ করেন। আর এ কারণেই মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতির প্রতি দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা নিবেদন ও ভাষা সৈনিকদের অবদান সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন কবি ও সাহিত্যিক শিকদার রেজাউল করিম।

সূত্রমতে, জেলার দশ উপজেলায় মোট ৭৭৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পেরিয়ে গেলেও ৩১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও দেখা পাওয়া যায়নি ভাষা শহীদের প্রতিক। এরমধ্যে শতবর্ষী স্কুলও রয়েছে। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠণ করা হলেও কমিটির সভাপতি কিংবা সদস্যরাও শহীদ মিনার নির্মানের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী বরিশাল সদরে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে মোট ১৫২টি। যারমধ্যে ৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও ৫৪টিতে নেই শহীদ মিনার। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছ মাদ্রাসাগুলো। মুলাদী উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে ছয়টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। একটিতে নেই শহীদ মিনার। ৩৯টি স্কুলের মধ্যে ৩৪ টিতে থাকলেও পাঁচটিতে নেই শহীদ মিনার। ওই উপজেলায় ২০টি মাদ্রাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার। উজিরপুর উপজেলার ১২টি কলেজের চারটিতে নেই শহীদ মিনার। ৫১টি স্কুলের মধ্যের ৪৭টিতে থাকলেও চারটিতে নেই। ওই উপজেলায় ২১টি মাদ্রাসার মধ্যে সাতটিতে নেই শহীদ মিনার। বানারীপাড়া উপজেলার সাতটি কলেজের মধ্যে দুইটিতে ও ৩৫টি স্কুলের মধ্যে দুইটিতে নেই শহীদ মিনার। ওই উপজেলার ১৮টি মাদ্রাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই।

গৌরনদীতে ছয়টি কলেজে শহীদ মিনার থাকলেও শতবর্ষী গেরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। ১৫টি মাদ্রাসার মধ্যে ১০টিতে নেই শহীদ মিনার। আগৈলঝাড়ায় দুইটি কলেজের একটিতে নেই, ৩৪টি স্কুলের মধ্যে ছয়টিতে নেই এবং ছয়টি মাদ্রাসার একটি টিতেও শহীদ মিনার নেই।

বাকেরগঞ্জের ২৪টি কলেজের মধ্যে ১০টিতে এবং ৮৪টি স্কুলের মধ্যে ১৫টিতে ও ৬৩টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। বাবুগঞ্জের চারটি কলেজের মধ্যে একটিতে, ৬৩টি স্কুলের মধ্যে ১৪টি এবং ১৮টি মাদ্রাসার একটিতেও নেই শহীদ মিনার। মেহেন্দিগঞ্জের ছয়টি কলেজের মধ্যে একটিতে, ৬৩টি স্কুলের মধ্যে ১০ টিতে, ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে ২৫টিতেই শহীদ মিনার নেই। হিজলা উপজেলার দুইটি কলেজের একটিতে, ১৭টি স্কুলের মধ্যে তিনটিতে ও নয়টি মাদ্রাসার একটিতেও শহীদ মিনার নেই। নগরীর এ. কাদের চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও নেই শহীদ মিনার।

তথ্যের সত্যতা স্বীকার করে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি এখানে আসার পর অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে সফল হয়েছি। পর্যায়ক্রমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মান করা হবে।

 




কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ৩দিন ব্যাপী মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: তোমরা স্বপ্নের ঘরে চলে এসো এখানে মুছিয়া যাবে হৃদয়ের ব্যথা এমন অনেক কাব্যিক লাইনের রচয়িতা, রূপসী বাংলার কবি, নির্জনার কবি, প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ। ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো সাংস্কৃতিক সংগঠন উত্তরণ এর আয়োজনে তিন দিনব্যাপী জীবনানন্দ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে কবির কর্মস্থল ব্রজমোহন কলেজ মাঠে উত্তরণের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী জীবনানন্দ মেলার আজ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম। বরিশাল উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি সুদীপ্ত দাসের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিভাগীয় সরকারি গ্রন্থাগার বরিশালের উপ পরিচালক ড. মোঃ আহসান উল্লাহ, কনসালটেন্ট ও আবাসিক সার্জন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ বরিশাল ডাঃ সৌরভ সুতার সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে অতিথিরা রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৫তম জন্মদিন উপলক্ষে কবির বর্ণিল কর্ম জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম। আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।




ভারতে ফিরে যেতে চায় বরিশালে পাচার হয়ে আসা সঙ্গীতা

বরিশাল অফিস ::  নিজ জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায় বরিশালে অবস্থানরত সঙ্গীতা মন্ডল। সে কলকাতার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ভূরগাছি গ্রামের মেয়ে। তার পিতা গুরুপদ মন্ডল এবং মা পার্বতী মন্ডল বলে জানা গেছে।

বরিশালের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরে শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) শিল্প নগরীর একটি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ পলিমার এ কর্মরত সঙ্গীতা সঙ্গে কথা হলে চন্দ্রদ্বীপ নিউজকে তিনি এ কথা বলেন।

বিসমিল্লাহ পলিমার ও প্যাকেজিং এর স্বত্বাধিকারী নাজমুন নাহার রিনা জানান, বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসনের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ এর সহযোগিতায় সমাজসেবা দপ্তরের পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে কয়েকজন মেয়েকে আমার এই প্রতিষ্ঠানে কাজে দেয়া হয়েছে। তাদের একজন সঙ্গীতা মালা। সে এখানে কাজ করছে বটে তবে সবসময় মনমরা হয়ে থাকে। জিজ্ঞেস করলেই কান্নাকাটি করে ও বলে ‘আমি আমার বাবা-মায়ের কাছে যেতে চাই।

সঙ্গীতা মালা জানান, তার যখন সাতবছর বয়স তখন একজন আত্মীয় তাকে গোপনে বাংলাদেশের মাদারীপুরের এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে তার বয়স চৌদ্দ বছর। এতো কম বয়সেই তাকে জীবনের অনেক জটিলতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। সর্বশেষ দুবছর আগে মাদারীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় হাসপাতাল ও আদালত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কিশোরী সঙ্গীতা বলেন, আমার বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজন তো জানেন না আমি কোথায় আছি। আমার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। সেখানে ডায়মন্ড হারবারের ভূরগাছি গ্রামে এখনো আমার বাবা-মা রয়েছেন। আমার চাচার নাম রাহুল মন্ডল। নিজ জন্মস্থান ও মা-বাবার কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ে সঙ্গীতা মন্ডল। তাকে শান্তনা দিতে ছুটে আসে সহকর্মী বিসমিল্লাহ পলিমার এর অন্য মেয়েরা।


বরিশালের সামাজিক আন্দোলনের নেতা কাজী মিজানুর রহমান জানান, কলকাতার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার শিশু সঙ্গীতা এখন কিশোরী। সে বাবা-মা ভাই-বোনের কাছে ফিরে যেতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য সরকারি উদ্যোগে ভারতীয় দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা, তার সম্পর্কে জানানো।

তিনি বলেন, বাবা-মা ভাই-বোন হয়তো তাকে চিনতেই পারবে না। কিন্তু তার ফিরে যাওয়ার আকুতী হয়তো একদিন পৌঁছে যাবে বাবা-মায়ের কাছে। বরিশালে আমরা শুধু তাকে প্রচারের চেষ্টাই করতে পারি, মূল ভুমিকা সরকারের।

বরিশালের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, সঙ্গীতাকে মাদারীপুর আদালতের মাধ্যমে আমরা সামাজিক মেয়েদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসি। ওর সুন্দর জীবনের জন্য পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। সেখান থেকে সঙ্গীতা এখন স্বাবলম্বী হতে বরিশাল বিসিকের বিসমিল্লাহ পলিমার এ নাজমুন নাহার রিনার কাছে কাজ করছে। সে তার নিজ বাবা-মা ভাই-বোন এর কাছে ফিরে যেতে চায়। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো আত্মীয় পরিজন যোগাযোগ করেননি।




দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহিদ মিনার পটুয়াখালীতে

বরিশাল অফিস :: এক বছর আগেও পটুয়াখালী পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হতো জেলার সর্বস্তরের মানুষকে। অমর একুশের প্রথম প্রহরে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনা ঘটতো। আর অপ্রশস্ত সড়কের কারণে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় যানজটে দুর্ভোগে পড়তে হতো স্থানীয়দের।

তবে সম্প্রতি সময়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে পটুয়াখালীতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দৃষ্টিনন্দন শহিদ মিনার নির্মাণ করেছে পটুয়াখালী পৌরসভা কতৃপক্ষ। এতে সকল প্রকার ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা স্থানীয়দের। নব নির্মিত শহিদ মিনারের বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা যাবে বলে খুশী স্থানীয়রা।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর বলেন, আমাদের নীতি ও নৈতিকতার যে আদর্শের পাদুপিট সেটা হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। আর এই ভাষা আন্দোলন এর পাদুপিট থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর্জিত হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে আসা করছেন ২১ শে ফেব্রুয়ারীর আগেই মূল কাজ শেষ করা হবে। তবে আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি থাকবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পটুয়াখালির এই শহীদ মিনারটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নান্দনিক ও দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার হিসেবে স্থান পাবে বলে মনে করছেন সকলে।

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহীদ মিনার, মুক্তমঞ্চ ও পুকুর সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। ফোর লেনের পাশেই বিশাল খোলা স্থানে আধুনিক গাড়ি পাকিংয়ের ব্যবস্থা, সাধারণ মানুষ এক পাশ দিয়ে হেটে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে অন্য পাশ দিয়ে চলে যাবে। এতে জটলা থাকবে না। এটি মূলত তুর্কীর ভাসকিন স্পর্টের আদলে নির্মিত হয়েছে।

 

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু জানান, সরকারের উল্লেখিত অর্থায়নে পটুয়াখালী পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন শহীদ মিনারটি ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে করা হলেও এটি হবে আরো উন্নত ও দৃষ্টিনন্দন। এটি হবে দেশের অদ্বিতীয় শহীদ মিনার। এটি দেখতে দেশ-বিদেশের লোকজন আসবে বলে বিশ্বাস করেন পৌরসভার এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

পটুয়াখালী পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ১৪ মিটার (৪৬ ফুট) উচ্চতার এ শহিদ মিনার নির্মান করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০০ ফুটের গ্যালারি সহ ১০ একর এলাকায় পুকু‌রের দ‌ক্ষিণ পা‌শে থাক‌বে মুক্তমঞ্চ, সেখা‌নে বি‌ভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন তাদের অনুষ্ঠান কর‌তে পার‌বে।




বিআরইউ’র আয়োজনে ভাষা স্মারক ও সাহিত্য প্রদর্শণীর উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) এর আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী ভাষা স্মারক ও সাহিত্য প্রদর্শণীর উদ্বোধন হয়েছে । সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সংগঠন কার্যালয়ে এ প্রদর্শণীর উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ।

পরে ভাষাসৈনিক মোশারেফ হোসনে নান্নু, ইউসুফ হোসনে কালু, নিখিল সেনকে ভাষা সৈনিককে মরনোত্তর সন্মাননা প্রদান করা হয়। এর আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক গৌতম বাড়ৈ। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি নজরুল বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সাবেক সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী মজুমদারের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো: ইউনুস, প্রফেসর শাহ সাজেদা, বরিশাল চারুকলার সভাপতি অধ্যাপক দিপংকর চক্রবর্তী।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি বরিশাল জেলার সভাপতি কাজল ঘোষ, শিশু সংগঠক নজমুল হোসেন আকাশ, নারী নেত্রী টুনু কর্মকার, বরিশাল রিপার্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান স্বপন, সুশান্ত ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক মিথুন সাহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল রির্পোটার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি গাজী শাহ রিয়াজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুশফিক সৌরভসহ সদস্যরা।




বরিশালের উপকূলে আমের মুকুলে সৌরভ ছড়াচ্ছে

বরিশাল অফিস :: অপরূপ সৌন্দর্য নিয়ে যথা নিয়মে প্রকৃতিতে ফাল্গুন এসেছে। তবে এরই মধ্যে আমের গাছে গাছে উঁকি দিয়েছে আমের মুকুল। সারি সারি আমের গাছে এখন সৌরভ ছড়াচ্ছে মুকুল। আম চাষিরাও পরিচর্যায় নেমেছেন বাগানে বাগানে। এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

তীব্র শীত পেরিয়ে আম গাছগুলোতে মুকুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্তত মাস খানেক আগেই মুকুলের দেখা মিলেছে এবার। গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন।

বরগুনার বেতাগীতে অনেক আম গাছে মুকুলের দেখা মিলছে। দেশি জাতের আম গাছে মুকুল দেখা গেছে। এতে খুশি চাষি ও বাগানের মালিকেরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শীতের প্রকোপ অনেকটাই কমে গেছে। প্রকৃতি তার রূপের মাধুরি নিয়ে বসন্ত এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে।

উপজেলার কয়েকটা গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, আম গাছে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে। সোনারাঙা সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে।

আমচাষি ও বাগান মালিকরা জানান, বিভিন্ন এলাকা জুড়ে সব আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। মাঘের মাঝামাঝি সময় থেকেই গাছে মুকুল আসার লক্ষণ দেখা যায়। অনেকটা গাছে মুকুল থেকে দানা দানা গুঁটি পরিনত হয়েছে। এ কারণে বাগানে পরিচর্যা বাড়িয়েছেন তারা।

পৌর শহরের আম চাষি কৃষ্ণ কান্ত ঘরামী বলেন, মুকুল আসার পর থেকে উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে গাছের পরিচর্যা করছি।’

কৃষিবিদ লিটন কুমার ঢালী বলেন, আমের মুকুলে যখন পরাগায়ন ঘটবে তখন স্প্রে করা যাবে না। আমার যখন মুকুল থেকে দানাদানা গুঁটিতে পরিনত হবে তখন স্প্রে করা যাবে। ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা লেবাসিড ৫০ ইসি চা চামচের ৪ চামচ ৮.৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে দেশি জাতের বিশেষ করে আঁটি ও ফজলি আম গাছের মুকুল ছত্রাকে নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে। গত বছরের তুলনায় কুয়াশা কম পড়েছে , এসব মুকুলে ভালো আম হবে।’

বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন,’ শীতের প্রকোপ কেটে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর আমের ভালো ফলন হবে।