সংযোগ সড়ক নেই, ক্ষেতের মাঝে সেতু

বরিশাল অফিস :: বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশের খালের ওপর সেতুটির দুই পাশে নেই কোনো সড়ক।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশের খালের ওপর প্রায় সাত বছর আগে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো সড়ক। কাজে আসছে না সেতুটি।

সেতুর সুফল বঞ্চিত এলাকাবাসী বলছে, সড়ক না থাকার পরও সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের সাত বছর পার হলেও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। চলাচলের সড়ক না থাকায় এই সেতু দিয়ে কখনও কোনো যানবাহন চলেনি। সড়কবিহীন সেতু সরকারের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই না। এদিকে সেতু ব্যবহার না হলেও নির্মাণকাজে অনিয়মে এর বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে।

গত শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মল্লিকডুবা বাজারের দক্ষিণ পাশে মল্লিকডুবা-ভরিপাশা গ্রামের সীমানা খাল। খালের পশ্চিম মাথায় উত্তর-দক্ষিণমুখী সেতুটি নির্মিত। এর দক্ষিণ পাশে পুরোপুরি ফাঁকা, বন-জঙ্গলে ভরা। সেতু থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নুরাইপুর-ভরিপাশা পাকা সড়ক। আর সেতুর উত্তর পাশে শুকনো মৌসুমে মানুষ চলাচলের উপযোগী সরু মাটির রাস্তা, যা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। ওই মাটির রাস্তা দেড় কিলোমিটার দূরে কেশবপুর ডিগ্রি কলেজের কাছে গিয়ে পাকা সড়কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, কেশবপুর ইউনিয়নের উত্তরদিকে অবস্থতি কেশবপুর, বাজেমহল ও মল্লিকডুবা গ্রামের সঙ্গে ইউনিয়নের দক্ষিণের নুরাইপুর বাজার, ভরিপাশা, তালতলি গ্রামে যোগাযোগের জন্য সহজ ও কম দূরত্বের পথ এটি। এই পথে সেতু নির্মাণ করা হলেও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। যার কারণে সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে বেশি দূরত্বের পথ দিয়ে এসব গ্রামে মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মজিব হাওলাদার বলেন, ‘সেতু আছে, সড়ক নেই। তাতে কী লাভ হলো? সড়কের অভাবে গাড়ি চলতে পারে না। যার কারণে আমাদের বিকল্প বেশি দূরত্বের পথে চলাচল করতে হয়।’ মো. আনোয়ার খলিফা নামের আরেকজন বলেন, ‘সেতু নির্মাণের সাত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এই সেতু নির্মাণ করা সরকারের টাকা অপচয় ছাড়া কিছু না।’

মাহাবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুটি দিয়ে মানুষ কিংবা যানবাহন কখনও চলাচল করেনি। মাত্র সাত বছরে সেই সেতুটির ঢালাইয়ের ইট-সুরকি খসে পড়ছে, রড বেরিয়ে গেছে। তিনি নিম্নমানের কাজের জন্য ঠিকাদার ও তদারক কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আসাদুল হক জুয়েল বলেন, সেতু নির্মাণের পর যদি যাতায়াতের জন্য সড়ক নির্মাণ করা হতো, তাহলে ভরিপাশা ও তালতলি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সহজে মল্লিকডুবা ও কেশবপুর বাজার, কেশবপুর কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারত। আর মল্লিকডুবা গ্রামের মানুষ খুব সহজে নুরাইনপুর বাজার ও শিক্ষার্থীরা নুরাইনপুর কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারত।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩৬ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্থ এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজিব বিশ্বাস বলেন, ‘দুই গ্রামের চলাচল সহজ করতে সেতু নির্মাণ করা হয়। সড়ক না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না; এটা সত্য। সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ করতে প্রকল্প নেওয়া হবে, যা দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এমনটা হলে তা খুবই দুঃখজনক। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।




বরিশালে অগ্নিনির্বাপক ৭০টি মোটরসাইকেল অকেজো

বরিশাল অফিস :: অগ্নিকাণ্ড থেকে সুরক্ষায় ২০১৭ সালের মার্চে বরিশাল বিভাগের প্রায় সবক’টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে যুক্ত হয় অগ্নিনির্বাপক ৭০টি মোটরসাইকেল। চায়নাএইড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে পাওয়া যায় বাইকগুলো কিন্তু গত পাঁচ বছর কোনো কাজে আসছে না সাড়ে ৬ কোটি টাকা দামের এসব অগ্নিনির্বাপক মোটরসাইকেল। সবই বিকল হয়ে ফায়ার সার্ভিসের গ্যারেজে পড়ে আছে।

প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি নেয়া সম্ভব নয়, এমন স্থানে দ্রুত আগুন নেভাতে মোটরসাইকেলগুলো দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিকল হয়ে গ্যারেজে পড়ে থাকায় সে উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ারম্যান (ড্রাইভার) আনোয়ার হোসেন জানান, ফায়ার বেল বাজার সঙ্গে সঙ্গে তারা অন্তত চারটি মটরসাইকেল নিয়ে সরু গলিপথ দিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যেতেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক কাজ শুরু করে দিতেন তারা। পরে বড় গাড়ি এলে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হতো।

২৫০ সিসি মোটরসাইকেলগুলোয় ৩৯ লিটার পানি, ১ লিটার ফোম ও ৩০ গজ পাইপ সংযুক্ত থাকায় এগুলো ব্যবহার করে দোতলা ভবন পর্যন্ত আগুন নেভানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এর ড্রাইসেল ব্যাটারি ও চার্জার। ফায়ারম্যান লিডার ফজলুর রহমান বলেন, ‘এসব মোটরসাইকেলের ব্যাটারিগুলো ছিল ড্রাইসেল। এগুলো বেশিক্ষণ চার্জ ধরে রাখতে পারত না। এছাড়া চার্জারগুলো ছিল নাজুক। দুই থেকে চার চার্জ দেয়ার পর আর কাজ করত না। সমস্যা হলো এই ব্যাটারি ও চার্জার খোলা বাজারে পাওয়া যায় না।’

বরিশালে আসার পর প্রথম ছয় মাসে বিভাগের প্রায় ২৪৯টি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় দ্রুত সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এসব মোটরসাইকেল। তারপর থেকেই এর একে একে এগুলো অচল হয়ে পড়তে শুরু করে। ২০১৯ সাল নাগাদ সবই অচল হয়ে পড়ে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের প্রধান মেকানিক হাবিবুর রহমান জানান, মোটরসাইকেলগুলো আসার অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোয় সমস্যা দেখা দেয়। পরে দুবার দাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসে পাঁচ থেকে সাতটি বাইক ঠিক করে দিয়ে যান। পরে আবারো আসার কথা থাকলেও তারা আর আসেননি। অন্যদিকে মোটরসাইকেলগুলোও অচল হয়ে পড়েছে।

অগ্নিনির্বাপক বাইকগুলোর জন্য নির্ধারিত জনবল না থাকলেও ফায়ারম্যানদের এ ব্যাপারে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। ফলে ঠিকমতো মেরামত করা গেলে এগুলোকে কাজে লাগানো যাবে। বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, ফায়ারম্যানদের মধ্য থেকে মোটরসাইকেল চালকদের বাছাই করে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এখন বাইকগুলো অপারেশনের উপযুক্ত করা গেলে সেগুলো পরিচালনায় দক্ষ জনবল প্রস্তুত রয়েছে।

মোটরসাইকেলগুলো দ্রুত মেরামত করে কর্তৃপক্ষ এগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান।

 

 




পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভায় হামলা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির তলবি সভা এবং এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় দুইজন আইনজীবী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সভা চলাকালীন সময় বহিরাগতদের হামলায় অ্যাডভোকেট তরুণ ভট্টাচার্য ও আহাসানুল কবির হিমু আহত হয় বলে অভিযোগ আইনজীবীদের একাংশের।

দুই পক্ষের হট্টগোলে সভা পণ্ড হয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আহতদের দেখতে যাওয়ার পথে আইনজীবী সাইদুর রহমান টিটুর ওপর হামলা করে তাকে মারধর করে বহিরাগতরা।

গণতন্ত্র মঞ্চের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা আইনজীবীরা জানান, পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যলয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সমিতির সাধারণ সদস্যরা বৃহস্পতিবার তলবি সভার আহবান করে। অন্যদিকে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ একটি মুলতবী সভা আহবান করে। উক্ত সভায় কয়েকজন আইনজীবীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু হলে সভা পণ্ড হয়ে যায়। এসময় আইনজীবীদের দুই পক্ষের সাথেই বহিরাগতদের দেখা যায়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসিকুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে উক্ত ঘটনায় এখনও কোন অভিযোগ পাই নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশালে সয়াবিন বীজ থেকে তেলের কারখানা চায় কৃষকরা

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: তেল শুধু বাংলাদেশের নারী-পুরুষের নয় সারা বিশ্বের ভোজনরসিক মানুষের জন্য অতি জরুরী নিত্যপ্রয়োজনীয় তরল পদার্থ। যা উদ্ভিদ থেকে পিষন প্রক্রিয়ায় তরল তৈলে পরিণত হয়ে খাবারের জন্য ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ভোজ্য তেলের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। আর তেলের চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজার দর। সরিষা কিম্বা সয়াবিন দুটিরই বাজার দরে অস্থির ক্রেতা। অথচ দুটোতেই রয়েছে বাংলাদেশের কৃষকদের চমৎকার অভিজ্ঞতা এবং পর্যাপ্ত বীজ উৎপাদন করছেন তারা। কিন্তু চমৎকার উৎপাদন থাকার পরও সয়াবিন বীজ থেকে তেল উৎপাদনের কোনো সুযোগ বা আগ্রহ নেই বাংলাদেশে। ফলে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি করতে হয় বিশ্বের আটটি দেশ থেকে।

বরিশালের মুলাদি উপজেলার কৃষক এম কবীর বলেন, সরিষা থেকে যেভাবে তেল উৎপাদন হয়, একইভাবে সয়াবিন বীজ থেকেও তেল উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু সরিষার তেল উৎপাদন লাভজনক হলেও সয়াবিন বীজ আমরা বিভিন্ন কোম্পানির কাছে আগাম বিক্রি করে দেই। কৃষি কর্মকর্তারাই এ কাজে আমাদের সাহায্য করেন। সয়াবীজ চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। তিনি বলেন, বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীতে তেল উৎপাদন কারখানা হলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। তাহলে বাজারে তেলের দামও কমে যেত।

আর বরিশাল অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমাদের দেশে সয়াবিন বীজ উৎপাদন ভালো হলেও তেল উৎপাদনের কোনো কারখানা আজ পর্যন্ত হয়েছে কিনা জানা নেই। ঘানি পদ্ধতিতে সয়াবিন উৎপাদন সম্ভব হলেও তা নিরাপদ নয় বলে জানান জেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জালালউদ্দিন।

তিনি এবং তার আশেপাশের সহকর্মী কবীর হাসান, মজিবরসহ কয়েকজন বলেন, আমাদের দেশে অপরিশোধিত তেল থেকে শোধন করে সয়াবিন তৈরি কারখানা রয়েছে। বড় বড় তেল কোম্পানি অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে তা পরিশোধিত করে বোতলজাত করছে। কিন্তু সয়াবিন বীজ থেকে তেল তৈরি কারখানা এখনো হয়নি। খুব সম্ভব এটি খুবই ব্যয়বহুল এবং একটি কারখানার খোরাক উপযোগী সয়াবিন বীজ উৎপাদন হয় কিনা তাও গবেষণার বিষয় বলে জানান তারা।


তবে ঘানি পদ্ধতিতেও সয়াবিন তেল উৎপাদন সম্ভব এবং তা নিরাপদ বলে দাবী একাধিক কৃষকের। বরিশালের হাটখোলা এলাকার মরিচপট্টিতে সরিষার ঘানি থেকে সরাসরি তেল বিক্রেতা তসলিম জানান, তার ঘানিতে আগে সয়াবিন বীজ থেকে তেল তৈরি করা হতো, এখন আর সয়াবিন তারা পাননা।

 

বরিশাল অঞ্চলের কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লক্ষ্যমাত্রার অধিক সয়াবিন উৎপাদন হবার পরও বাংলাদেশে সয়াবিন তেল তৈরির কোনো কারখানা আজ পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার সয়াবিন আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কারণ, বাংলাদেশে সয়াবিন ফসল ও ভোজ্যতেল হিসেবে খুবই জনপ্রিয় এবং বর্তমানে এর বাজার মূল্য অতিচড়া। পাঁচ লিটার এখন ৮৪০ থেকে ৮৬০ টাকা। এই সয়াবিন তেল সবটাই বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। আর এতে প্রতিবছর খরচ পড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা। বিপুল পরিমানের এই অর্থ পুরোটাই চলে যায় বিদেশে। এছাড়া ভোজ্য তেল নিয়ে বছরজুড়ে রয়েছে সিন্ডিকেটের তেলেসমাতি। অথচ শুধু বরিশাল অঞ্চলেই চলতি বছর সয়াবিন বীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৪ হাজার ৬১২ মেট্টিকটন। আর বরিশাল জেলার মুলাদি, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জের তিন উপজেলায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এ জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৫০ মেট্টিকটন। বরিশালের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বরিশালে।

এরপর ভোলা জেলায় প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমির বিপরীতে ১৬ হাজার ৫০০ টন, পিরোজপুরে ১০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১০ মেট্টিক টন, ঝালকাঠিতে ১৪ হেক্টর জমির বিপরীতে ১৮ টন, পটুয়াখালীতে ১৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ২৭ টন, বরগুনায় ৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ৭ টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানালেন বিভাগীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা।


এদিকে গত ২০০৩ সাল থেকে একটু একটু করে সয়াবিন চাষ ও তেল উৎপাদন শুরু করেছে বাংলাদেশ। গত ২০২০ সালে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন তেল উৎপাদন হয় ( তিন লাখ টনের বেশি)। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ২ লাখ ৯৩ হাজার টন সয়াবিন তেল উৎপাদন হয়। ২০১৯ সালে তা আরো ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টনে। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশে সয়াবিন তেল উৎপাদন বেড়েছে ৩২ হাজার টন। যা বর্তমানে স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব এবং দেশে উৎপাদিত সয়াবিন তেল বিদেশে রপ্তানীও সম্ভব বলে মনে করেন অনেক কৃষিবিদ।

এরআগে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিশেষ করে বরিশালে শিল্প নগরী স্থাপন এবং সয়াবিন উৎপাদন কারখানা তৈরি জরুরী বলে মনে করেন কৃষিবিদ ও বরিশাল ইসলামি ফাউন্ডেশনের পরিচালক নুরুল ইসলাম।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্প বিপ্লবের আগে গৃহপালিত পশু দিয়ে ঘানিতে সরিষার তেলের মতই সয়াবিনের বীজ পিষে তেল সংগ্রহ করা হতো। ঘানি পদ্ধতিতে এখনো সয়াবিন উৎপাদন সম্ভাবনা থাকলেও তা ক্রমশ বিলুপ্তির পথে হাটছে। সরিষার ক্ষেত্রে ঘানি পদ্ধতিতে মিডিয়া ও প্রশাসন উৎসাহ দিলেও অজ্ঞাত কারণে সয়াবিন বীজ ঘানিতে পেষা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। এখন বৈদ্যুতিক স্ক্রু প্রেস বা মেকানিক্যাল প্রেস ব্যবহার করে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত সয়াবিনের তেল সংগ্রহ করা হয় এবং তেল পরিশোধন করা হয়। আর আমাদের দেশীয় উৎপাদিত সয়াবিন বীজ গো-খাদ্য বা মাছের ফিড হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে গত একযুগ ধরে।




ল্যাপটপ পেলেন ভোলার ২১০ নারী প্রশিক্ষণার্থী

বরিশাল অফিস :: নারী ই-কমার্স প্রফেশনাল ও নারী ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভোলার তিন উপজেলার ২১০ নারী প্রশিক্ষণার্থীকে ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের মধ্যে এ ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।

ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরামে ‘হার পাওয়ার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত প্রযুক্তির সহায়তায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন শীর্ষক প্রকল্পে অধীনে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে এ ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।

ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আরিফুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এ ল্যাপটপ তুলে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল চন্দ্র শীলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ভোলা সাবেকুন নাহার, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ প্রমুখ।

ভোলা উপজেলা প্রশাসন এবং তথ্য ও যোগাযাগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়: আজাদ চৌধুরী

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী বলেছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের যে প্রান্তেই সৃষ্টি হোক না কেন তার কাজ হচ্ছে জ্ঞানের প্রজ্বলন করা। জ্ঞান সৃষ্টি করা। মানবতার উন্নয়ন ঘটিয়ে অনেক উচ্চ স্তরের সমাজ গড়ে তোলা। কোনো খণ্ডিত পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যখন সৃষ্টি হয় তখন তার জ্ঞানের কোনো পরিসীমা থাকে না।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. এ কে আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এর মান রক্ষার দায়িত্ব এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় একদিন নিজেকে নিয়ে যাবে ঈর্ষান্বিত পর্যায়ে। একদিন আমরা গর্ব করে বলতে পারব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির। রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন এবং ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট আরিফ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি বাহাউদ্দিন গোলাপ, গ্রেড ১১-১৬ কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূরউদ্দিন এবং গ্রেড ১৭-২০ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আরিফ সিকদার।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, প্রক্টর, প্রভোস্ট, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, দপ্তর প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ অন্যান্য অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সকাল ১১ টায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা ফেস্টুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের মুক্ত মঞ্চ থেকে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এছাড়াও স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং বিকেলে মুক্ত মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার কর্নকাঠী এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি অনুষদের ২৫টি বিভাগে ১০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

 




বরিশালে মাতৃভাষা দিবসের প্রভাতফেরিতে ইংরেজি ব্যানার

বরিশাল অফিস :: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ব্যানার নিয়ে প্রভাতফেরি করেছে বরিশালের একটি বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ওই ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে এটা তুচ্ছ বিষয়। বুধবার বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ব্যানার নিয়ে প্রভাতফেরি করে বরিশাল নগরীর জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। নগরীর কলেজ রোড থেকে প্রভাতফেরি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে আসে। এ সময় শহীদ মিনার চত্বরে পৌঁছানোর পর ইংরেজি ব্যানার দেখেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকে।

পরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত খোদ অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অভিভাবক বলেন, স্কুলে এসে ইংরেজিতে লেখা ব্যানার দেখেই আমরা আলোচনা করেছি যে এটা ঠিক হয়নি। কেন না যে বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম, সেই ভাষাকে একভাবে অপমান করা হয়েছে ইংরেজি ব্যানার দিয়ে প্রভাতফেরি করে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সুশান্ত ঘোষ বলেন, মাতৃভাষা দিবসে এমন কাজ নিজের ভাষাকে অপমান করার শামিল। রাষ্ট্রকে অপমান করা হয়েছে এমন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। বাংলা ভাষার অপমান যারা করেছে তারা নিজের মাকে অপমান করেছে। মূলত এসব স্কুল ব্যবসা করতে এসেছে। দেশের প্রতি এদের কোনো দায়িত্ব কর্তব্য নেই। গবেষক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, শহীদ দিবস তো বাঙালি জাতির ত্যাগের দিন। বাংলা ভাষার জন্য কত মানুষ শহীদ হয়েছে। ইংরেজি ব্যানার নিয়ে বাঙালিদের প্রভাতফেরি করা বাংলা ভাষাকে অপমান করার সমান। একজন ইংরেজি ভাষার মানুষ যদি ইংরেজি অক্ষরে লেখা ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে এসে তার মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানায় সেটা একটা বিষয়। আর যদি বাংলা ভাষার মানুষ ইংরেজি ব্যানার নিয়ে শহীদ মিনারে আসে তাহলে বাংলাকে অপমান করা এবং শহীদদের অমর্যাদা করা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম, এটা বাঙালি জাতির সঙ্গে বেইমানি করা এবং ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে। যারা শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিল তাদেরই উচিত ছিল ব্যানারটি ছিঁড়ে প্রতিবাদ করা। কারণ, এই ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি, যারা এই কাজটি করেছে তারা ভাষার সঙ্গে বেইমানি করেছে। তাছাড়া ওই প্রভাতফেরিতে থাকা শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে বাংলা ভাষার ওপর।

এসব বিষয়কে তুচ্ছ হিসেবে দাবি করে জাহানারা ইসরাইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান সালেহ মাহামুদ শেলী বলেন, আন্তর্জাতিক ভাষা তো ইংরেজি। তাই ইংরেজি ব্যানার নিয়ে প্রভাতফেরি করা হয়েছে।




স্বাচিপের সম্মেলন ও পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

বরিশাল অফিস :: স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারীর সম্মেলন বাতিল চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টায় বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন ইন্টার্ন ডক্টর ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা।

বিক্ষোভকারীরা জানায়, স্বাচিপের পকেট কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারী নগরীর বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে সভা করা হবে। বরিশাল বিভাগের সকল সিনিয়র চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতৃবৃন্দকে এড়িয়ে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেটা কোনভাবে মেনে নেয়া হবে না। আমরা সকল নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কমিটি গঠন করার দাবী জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাচিপের এই কমিটি রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের বদলী বানিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

 




বরিশালে পানি সেচ ট্যাংকি থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য’র লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের পীরের পাড় গ্রামে ব্লকের জমির পানি সেচ ট্যাংকি থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য’র লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জল্লা ইউনিয়নের পীরেরপাড় ৭নং ওয়ার্ডের মৃত মানিক জমাদ্দারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আঃ করিম জমাদ্দার (৬২) এর লাশ উল্টা অবস্থায় পীরের পাড় বাড়ৈ বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বের ব্লকের পানির ট্যাংকির মুখে উল্টো ভাবে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় চৌকিদার বিষয়টি উজিরপুর মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করে। পরে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ এর নির্দেশে এসআই আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং লাশ উদ্ধার করে। তবে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সূত্রে জানা যায়, নিহত আঃ করিম জমাদ্দার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির সামনে ব্লক সংলগ্ন তার নিজ জমিতে কাজ করতে যান।

স্থানীয়রা জানান, নিহত আঃ করিম জমাদ্দারের সাথে ওই এলাকার কারো সাথে বিরোধ ছিলো না।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাফর আহম্মেদ জানান, কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।




ভোলার গ্যাস কেন বরিশালবাসী পাবেন না?

বরিশাল অফিস :: নদী যুগ যুগ ধরে বরিশালকে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। সেটা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জন্মগত দুঃখ। আর এই বিচ্ছিন্নতার কারণে কৃষি, মৎস্য, পর্যটনশিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা পিছিয়ে ছিল। উন্নয়নের দিক দিয়েও ছিল পশ্চাৎপদ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে রাষ্ট্রীয় বণ্টন ছিল অসম।

কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের সেই দুঃখ মোচন হয়েছে। খুলে গেছে ভাগ্যদুয়ার। যোগাযোগব্যবস্থা মসৃণ হওয়ায় এখন বরিশাল আর ঢাকার দূরত্ব মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার। সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপিত হওয়ায় বরিশালকে ঘিরে দেশের অর্থনীতিতে নতুন এক স্বপ্ন দানা বেঁধেছে।

কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতি মন্থর করেছে শিল্প বিকাশের সুযোগ-সুবিধা কম। বরিশালে গ্যাস নেই। অথচ বরিশালের ভোলায় দেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সেখানে উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার পাওয়া গ্যাস সেখানকার চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে ৮১ থেকে ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভোলা আরও একটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কৃত হয়েছে।

ইলিশায় আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসকূপকে ভোলার শাহবাজপুর আর ভোলা নর্থ নামে বর্তমানে আলাদ যে দুই গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, তা থেকে আলাদা মনে করছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা। শাহবাজপুর বা ভোলা নর্থ ফিল্ড থেকে এটা আলাদা একটা এলাকা, মাটির নিচে আলাদা একটা ফল্টে রয়েছে ইলিশার ক্ষেত্রটি। এখানে মাটির প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গ্যাস রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর ভোলার উদ্বৃত্ত সেই গ্যাস ক্যাসকেড সিলিন্ডার পদ্ধতিতে অন্যত্র সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপন না করায় সেই গ্যাস ভোলাবাসী যেমন পাচ্ছে না, তেমনি বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অথচ ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে করে নিয়ে ঢাকার রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটাকে অন্যায্য পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

প্রায় ছয় শ থেকে সাত শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য সরকার সিএনজিতে রূপান্তর করে কনটেইনারে ভরে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে ভোলার গ্যাস রপ্তানিনির্ভর শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে এই গ্যাস নেওয়া হচ্ছে।

গত মার্চ মাসে এ জন্য ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ বছরের জন্য কোম্পানিটির এই সরবরাহ কাজ করার কথা।

পরিতাপের বিষয় হলো বরিশাল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভোলা গ্যাস পুরো দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক ও শিল্প খাতে সরবরাহের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে বরিশালের এক জনসভায় এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর এই দাবি শতভাগ যৌক্তিক। বরিশালের যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, তাকে কাজে লাগাতে হলে গ্যাস আনার কোনো বিকল্প নেই।

এখন ঢাকা থেকে কিংবা খুলনা থেকে কুয়াকাটা যেতে আর কোনো ফেরি নেই। কিন্তু এরপরও নিরবচ্ছিন্ন এই যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন না বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। এর পেছনে একমাত্র কারণ গ্যাস। গ্যাস সংযোগ স্থাপন না হওয়ায় কেবল বিদ্যুতের ওপর ভর করে এখানে এখনো শিল্পকারখানা স্থাপনের ঝুঁকি নিচ্ছেন না কেউ।

পদ্মা সেতু উন্মুক্ত হওয়ার পর মাওয়া থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশকে ঘিরে দেশের বড় শিল্পোদ্যোক্তারা জমি কিনেছেন। আবার বেকুটিয়া সেতু উন্মুক্ত হওয়ার পর খুলনা ও মোংলার সঙ্গে বরিশাল ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগে নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। দুটি সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে আন্তযোগাযোগ সহজ হওয়ায় এখানে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতেও কোনো বাধা নেই।

এখন ঢাকা থেকে কিংবা খুলনা থেকে কুয়াকাটা যেতে আর কোনো ফেরি নেই। কিন্তু এরপরও নিরবচ্ছিন্ন এই যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন না বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। এর পেছনে একমাত্র কারণ গ্যাস। গ্যাস সংযোগ স্থাপন না হওয়ায় কেবল বিদ্যুতের ওপর ভর করে এখানে এখনো শিল্পকারখানা স্থাপনের ঝুঁকি নিচ্ছেন না কেউ।

গ্যাস কেন প্রয়োজন:–

জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব, তার বড় ভুক্তভোগী এ অঞ্চলের মানুষ। সে ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না, দারিদ্র্য হার কমছে না বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা অশনিসংকেত। এ জন্য এ অঞ্চলে দারিদ্র্য কমাতে, সম্ভাবনাগুলোকেও কাজে লাগাতে ভোলার গ্যাস কার্যকর সমাধান হতে পারে।

বরিশালকে ঘিরে বিপুল সম্ভাবনার কথা আলোচিত হচ্ছে জাতীয়ভাবে। এরই মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর ও বরগুনার তালতলী উপজেলা ঘিরে দেশের অন্যতম বিদ্যুৎ উৎপাদনের হাব গড়ে তোলা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বরিশালের লামছড়িতে আরও একটি ইপিজেড করার আলোচনাও চলছে। এসব সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে বরিশালে ভোলার গ্যাস আসা না–আসার ওপর। কেননা, গ্যাস ছাড়া শিল্পের বিকাশ একেবারেই অকল্পনীয়। পদ্মা সেতু চালুর পর যে গতিতে বরিশালের অর্থনৈতিক খাত এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। গত দুই বছরেও বরিশালে ভারী কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার নজির নেই। এ জন্য এ অঞ্চলের দারিদ্র্য আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

রংপুরকে একসময় বলা হতো মঙ্গাকবলিত এলাকা। কিন্তু গত ছয় বছরের ব্যবধানে রংপুরে দরিদ্রতা কমেছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ দরিদ্রতা বেড়েছে বরিশাল বিভাগে। শুধু তা–ই নয়, জাতীয়ভাবে দরিদ্রতার চেয়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হার বেশি বরিশালে। এটা কোনোভাবেই আশার খবর নয়।

ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারজাত করে ঢাকার শিল্পাঞ্চলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বরিশালে এর প্রতিবাদে নাগরিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাসদ নেতা মনীষা চক্রবর্তী। এই দাবিতে বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলায় নাগরিক কমিটিও গঠিত হয়েছিল। এই কমিটির নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন হলেও ভোলার গ্যাস ঢাকার শিল্পাঞ্চলে নেওয়া যেমন রোধ হয়নি, তেমনি পাইপলাইন স্থাপনের ব্যাপারে সরকারি কোনো উদ্যোগের কথা শোনা যায়নি।

তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতাকে অস্বীকার করা যায় না। কারণ, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে বরিশাল অঞ্চলের নেতাদের ঐকমত্যের নজির এই বিভাগে খুব কমই আমরা দেখেছি। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার ব্যাপারেও তা ব্যতিক্রম নয়।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে সেখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দলীয় মতপার্থক্য ভুলে স্থানীয় উন্নয়নের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছানোর নজির আছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক খাতে সমৃদ্ধির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব এক এবং অভিন্ন অবস্থানে থাকেন, এটা ওই অঞ্চলের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ।

কিন্তু বরিশালে কেন আমরা সেই ধরনের নজির স্থাপন করতে পারিনি, সেটা বড় প্রশ্ন। কারণ, গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়টি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। শুধু নাগরিকদের আন্দোলন সেখানে খুব বড় একটা চাপ তৈরি করতে পারে না। যতটা পারে রাজনৈতিক নেতৃত্বে সক্রিয় তৎপরতা। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সোচ্চার ভূমিকা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে দলমত–নির্বিশেষে আঞ্চলিক উন্নয়নকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতিটা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গত ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ নির্বাচন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ একটানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে। বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসীন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হলে সরকারের পক্ষে এই দাবি অগ্রাহ্য করা অসম্ভব।

একটা কথা তো সত্য, এ অঞ্চলে শিল্পের বিকাশ হলে অর্থনীতি গতি পাবে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য কমবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও জীবনব্যবস্থায়। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্যই হয়ে থাকে, তাহলে এ অঞ্চলের মানুষ তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে এতটুকু কি খুব বেশি চাওয়া।