বরিশালে ১০ টাকা বাজারে সুবিদা বঞ্চিত অসহায় দুস্থদের মধ্যে হাজার টাকার টাকার পণ্য বিক্রি

বরিশাল অফিস :: আসন্ন মাহে রমজানকে সামনে রাখা সহ বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারনে চাল,ডাল, ভোজ্যতেল,ছোলা,চিনি,লবণ,আটা,ডিম,নুডলুস,মাছ,মোরগ খাতা-কলম সহ ১৮টি আইটেমের মধ্যে পচন্দমত জন প্রতি ১০ টাকার সুপারশপ বাজারের মাধ্যমে

হাজার টাকার ১০টি পন্য বরিশাল সদরের সুবিদা বঞ্চিত অসহায় দুস্থ, ও নিম্ন প্রান্তিক কলোনী বাসিদের হাতে প্রতিকী মূল্যে তুলে দেওয়ার আয়োজন করেছে বিদ্যানন্দ
ফাউন্ডেশন।

বুধবার (২৮) ফেব্রয়ারি বরিশাল নগরীর রাজা বাহাদুর সড়কস্থ মহিলা ক্লাবে দিনব্যপি ১০ টাকার বাজারে হাজার টাকার বাজার ব্যবস্থার উদ্ধোন করেন বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনদীপ ঘড়াই।

বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশন বোর্ড মেম্বার সদস্য মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, বাজারে যখন ১ লিটার তেলের মূল্য ১৮০ টাকা সেখানে এই সুপারশপে ১ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চাল কেজি ১টাকা, ছোলা বুট,চিনি,এ্যাংকর ডাল, আটা ২ কেজি,ডিম ১২ পিচ,জুস,বয়লার মুরগি,মাছ,ফ্যামিলি নুডলুস সহ ১৮ পণ্যের মধ্যে সুবিদা বঞ্চিত গ্রাহক সদস্য তাদের পচন্দমত ১০ টি পণ্য ১ টাকা ধরে এই বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশনের ১ দিন ব্যাপি সুপারশপের বাজার থেকে কিনে নিতে পারছেন।

এসময় ১০ টাকার বাজারের ক্রয় করতে আসা বেশ কয়েকজন সুবিদা বঞ্চিত ক্রেতা সহ বৃদ্ধ রহিমা বেগম বলেন এই ১০ টাকার বাজারে এসে খুব ভাল লাগছে এত কম দামে জিনিস পাওয়ার কথা চিন্তা করতে পারি নাই। গরিবের জন্য এই বাজারের ব্যবস্থা করায়সত্যি খুব খুশি হয়েছি। আজকে কেনা কাটা করেছি তা মন খরে খেতে পারবো। তিনি বলেন এবারের রমজানে এই বাজার অনেক উপকার হইছে।

বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেনের বাজারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক মিজানুর রহমান বলেন, বরিশাল শহরের ২ শতাধিক প্রান্তিক পরিবার মাত্র ১০ টাকায় যেপণ্যগুলো তারা পাচ্ছে তা বাজারে মূল্য প্রায় ১২ থেকে ১৩০০টাকা। এই বাজারের প্রতিটি পণ্যের মূল্য ১ টাকা মাত্র। সুবিদা বঞ্চিত মানুষ নিজের পচন্দমত পণ্য বাছাই করে ক্রয় করার স্বাধীনতা তৈরী করতে এধরনের বাজার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তাড়া যেন মনে না করেন যে এটি কোন দান, এই জন্য তাদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে নেয়া হচ্ছে

 

বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশনের মেম্বার সদস্য মোঃ জামাল উদিন বলেন,আমাদের টিম সদস্যরা বরিশালের ৪টি কলোনীর মধ্যে সুবিদা বঞ্চিত,অসহায় ও দুস্থদের সারবে করা ও যাচাই- বাছাই করে আমরা ২ শতাধিক মানুণের মধ্যে এই বাজারের পন্য তাদেরকে দেওয়ার ব্যবস্থার আয়োজন করেছি। তিনি আরো বলেন তাদের বাজারে মহিলা ও পুরুষ সহ ২০ জন নিজস্ব বলানটিয়ার সদস্য সর্বক্ষণ কাজ করছে।

১০ টাকার বাজারে ২হাজার টাকার পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্ধোধন করতে এসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনদীপ গড়াই বলেন বর্তমান সময়ে সমাজে আর্থিকভাবে যারা খারাপ
আছে এদের পাশে দাঁড়ানো কাজে সব সময় বরিশাল জেলা প্রশাসক তাদের পক্ষে আছে ও পাশে থাকবে।

 




বরগুনায় গৃহবধূকে মারধর করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলী গৃহবধূকে মারধর করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের শানুর বাজার এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় বাড়িতে নুরুলের পুত্রবধূ নিলুফা আক্তার (৩০) ও নাতনি ঈভা (১৮) উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় আহত নিলুফ বর্তমানে বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত নিলুফা জানান, পুরুষদের অনুপস্থিতির সুযোগে ডাকাতদল (আফাজ, রহমান, সুমন, ইব্রাহীম) বাড়ির সীমানায় এলে নিলুফাকে একা পেয়ে তার ওপর হামলা চালায়। কয়েকজন তাকে টেনে হিঁচড়ে পার্শ্ববর্তী টিউবওয়েলের পাশে নিয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন।ঘরে টাকা কোথায় আছে জানতে চেষ্টা করে। এসময় নাতনী ইভা, দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়।

কয়েকজন ডাকাত ইভার পিছু ছুটে জানালা কেটে ঘরে ঢুকে ইভার কানের দুল ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এবং সমস্ত ঘর তছনছ করে ঘরে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাতদল। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর ৯৯৯-এ কল দিলেও তালতলী থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার বাচ্চু ডাকাতদের পক্ষ হয়ে মিট করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে, ডাকাতদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। এ বিষয়ে তালতলি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ কল করার কথা জানা নেই। তবে আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।




সিস্টেম-লাইনের ফাঁদে বরিশাল পাসপোর্ট অফিস

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের জন্য পাতা রয়েছে নীরব ফাঁদ। অফিসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল ফেরত দেন। দালালদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেন তাদের।

দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি পাসপোর্ট অফিসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত পুলিশ, আনসার সদস্যদেরও প্রকাশ্যে টাকা নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের সামনে ও আশপাশের কম্পিউটারের দোকানগুলো তাদেরকে ‘পার্টি’ ধরিয়ে দেয়। সবাই মিলেই গড়ে তুলেছেন শক্ত সিন্ডিকেট। সহজে এবং ভোগান্তি ছাড়া কাজ করতে এই সিন্ডিকেটের দ্বারস্থ হতেই হয়।

সব কার্যক্রম ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করলেও অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসেন কোনো ব্যবস্থা নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফাঁদের ধরন :-
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার কলেজছাত্র শহিদুল ইসলাম সব কাগজপত্র সঠিকভাবে নিয়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের আবেদন জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়ান। দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেনের হাতে জমা দেওয়ার পর তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে টিক দিয়ে জানান- আনতে হবে পরিচয়পত্রের ভেরিফিকেশন।

এ সময় শহিদুল তার সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্রের মূলকপি বের করেন। তবে কর্মকর্তা এতে সন্তুষ্ট নন। বাধ্য হয়ে শহিদুল সেখান থেকে বেরিয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে ২১০ টাকায় সত্যায়িত জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে ফেরেন। তবে ততক্ষণে দেড়টা বেজে যাওয়ায় পাসপোর্টের আবেদন নেয়া বন্ধ হয়ে যায়।

শহিদুল কর্মকর্তা মোশারেফের সঙ্গে দেখা করে ফাইলের বিষয়ে আলাপ করলে তিনি জানান, জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভেরিফিকেশন করলে হবে না। উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে করে আনতে হবে এটি। জেলা আর উপজেলা নির্বাচন অফিসের মধ্যে পার্থক্য কী জানতে চাইলে ঐ কর্মকর্তা রুম থেকে বের করে দেন শহিদুলকে।

তিনি বলেন, পাসপোর্ট অফিস থেকে বেরিয়ে আসার সময় দুইজন লোক আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। সম্ভবত তারা দালাল।

একই অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন মেহেন্দীগঞ্জের বাসিন্দা আতিকুর রহমান। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক করে ফাইল জমা দেওয়ার পর কাউন্টার থেকে ফাইল ফেরত দেওয়া হয়। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন লোক তাকে জিজ্ঞাসা করেন- ভাই ফাইল ফেরত দিয়েছে? আপনি তো লাইনে বা সিস্টেমে নাই ভাই। এই লাইনে এলে সাধারণ লাইনেও দাঁড়াতে হবে না।

ঐ দালালকে দেড় হাজার টাকা দিলে আধা ঘণ্টার মধ্যে আতিকুরের সব কাজ ক্লিয়ার হয়ে যায়।

যেভাবে বাধ্য করা হয় লাইনে আসতে:
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক নিজের পাসপোর্টের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং স্ত্রী-সন্তানের পাসপোর্ট করাতে যান রোববার সকাল সাড়ে ১০টায়। লাইনে দাঁড়িয়ে ফাইল জমা দেন। তবে তিন ঘণ্টা চলে গেলেও ডাকা হচ্ছিল না তার নাম। অবশেষে দুপুর ১টার দিকে তার নাম ডাকা হয়। তবে তার স্ত্রী এবং সন্তানের নাম ডাকায় কাউন্টারে গিয়ে হতাশ হয়ে ফেরেন।

এ বিষয়ে ফজলুল হক বলেন, আমাকে পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীরা বলেছিলেন তিনটি পাসপোর্টে সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে প্রতিটিতে দুই হাজার টাকা করে অর্থাৎ তিনটিতে ছয় হাজার টাকা দিতে। এতে কোনো ভোগান্তি হবে না, বরং সব কাজ তারা করে দেবে বলেও জানানো হয়। তবে এতে রাজি হইনি আমি। পরে প্রস্তাব দেয় পাঁচ হাজার টাকা দিতে। তাতেও রাজি না হওয়ায় আমাকে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তারা হয়তো বিভিন্ন ছুতোয় নিজেদের লাইনে নিতে চাইছে।

সহজ লাইনের সন্ধান :
ঢাকার বাসিন্দা জাহিদ হোসেনের মূল বাড়ি মেহেন্দীগঞ্জে। তিনি বলেন, আমি তাড়াহুড়ো করে আসায় ইউনিয়ন সার্টিফিকেট আনতে পারিনি। পাসপোর্ট অফিসের এক স্যারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে একটি কম্পিউটারের দোকান দেখিয়ে দিলেন তিনি। এতেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সেখান থেকেই আমার ফাইল রেডি করে দেওয়া হয়। তারা আরেক ইউনিয়নের প্রত্যয়ন আমার ফাইলে দিয়ে দেন। তবে এতে কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু চার হাজার টাকা বেশি দিতে হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ পথে হাঁটলে কোনো সমস্যা কিংবা ভোগান্তি নেই। সব অফিসের একটা পালস আছে। আপনাকে সেটা বুঝতে হবে। লাইনে আসতেই হবে এই অফিসে।

ফাইলের ওপর চিহ্ন দেখে হয় কাজ:
বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনেই ফিশারি রোড। সেখানকার এক দোকানদার তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র আর টাকা নিয়ে আসবেন। সব কাজ গুছিয়ে দেব আমি। পুলিশ ভেরিফিকেশনের টাকা যদি পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তি দেন তাহলে সাড়ে সাত হাজার টাকা দিতে হবে। ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব আমার ওপর দিলে টাকা লাগবে নয় হাজার। পাসপোর্ট অফিসে আমার যাওয়াও লাগবে না। ফাইলের ওপর একটা চিহ্ন দিয়ে দেব। এতেই দেখবেন সবার আগে কাজ হয়ে গেছে আপনার। আর কাজ হবেই না কেন, ভাগ তো পায় সবাই।

কয়েকজন দোকানি বলেন, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা আছে। আমদের ধরা ফাইল থেকে তাদেরও ভাগ দিই। কোনো ফাইলে দুই হাজার টাকা আয় হলে তাদের ৫০০ দিতে হয়। এ ভাগ শুধু কর্মকর্তারা নয়, বড় চেয়ারে বসে থাকা ব্যক্তিরাও পান।

একই কথা জানান ঐ এলাকায় দোকান চালানো প্রায় পঞ্চাশজন। টাকা নিয়ে সমস্যার সমাধান দেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা কর্মকর্তা কাউন্টার থেকে একের পর এক ফাইল ফেরত দেন। আর এসব কিছু ফাইলের সমস্যা সমাধানে দেন দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যরাও। প্রয়োজনে নিজে গিয়ে তারা ফাইল জমা দেন। এজন্য তাদের খুশি করতে হয়, এতে লাগে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

এছাড়া পুলিশ ভেরিফিকেশনে লাগে বকশিশ। পাসপোর্ট নিতে কয়েকজন জানান, তাদের কাছে যে পুলিশ সদস্য গিয়েছিলেন তিনি মোটরসাইকেলের তেল খরচ বাবদ দুই হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তারা এক হাজার করে টাকা দিয়েছেন।

এছাড়া পাসপোর্ট করতে নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় বলেও অভিযোগ করেন সেবাপ্রত্যাশী। এছাড়া পাসপোর্ট অফিসে সাংবাদিক প্রবেশে দেওয়া হয় বাঁধা।

এসব বিষয়ে মুঠোফোনে উপ-পরিচালক আবু নোমান মো. জাকির হোসেন বলেন, আপনি কেন পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন আমি তো বুঝি না। আর এসেছেন তা আমার সঙ্গে আগে কথা বলবেন না? এটি পাবলিক সেক্টর তো। বরিশালের এমন কোনো সরকারি অফিস নেই যেখানে ‘ই’ নেই। নোয়াখালীসহ অন্যান্য এলাকায় পাসপোর্ট যেভাবে করে, বরিশালে সেই সংখ্যক মানুষ পাসপোর্ট করে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালায়। সে সময় আবু নোমান মো. জাকির হোসেন অনিয়ম রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে অফিসটিতে পূর্বের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।




বরিশাল ছাড়তে হবে পুলিশের পৌনে দুইশ সদস্যকে

বরিশাল অফিস :: বহুবছর বরিশালে থাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রায় পৌনে দুইশ সদস্যকে এবার ছাড়তে হচ্ছে বরিশাল। কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা আছেন এ তালিকায়। তাদের ৫০-৬০ জন চাকরির শুরু থেকেই আছেন বরিশালে। কম করে হলেও ১৬-১৭ বছর আছেন অন্যরা। নানা কৌশলে বরিশালে থাকাই কেবল নয়, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। কেউ আবার জমি-বাড়ি কিনে গড়েছেন সাম্রাজ্য। এমন ১৭৬ জনের তালিকা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। স্বেচ্ছায় পছন্দমতো স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে তাদের। দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়। তারপর শুরু হবে বদলি প্রক্রিয়া। বিষয়টিকে শুদ্ধি অভিযান আখ্যা দেওয়া হলেও সংবাদকর্মীদের কাছে মুখ খুলছেন না কেউ। পুলিশের চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া-এমনটাই বলছেন বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

৪ থানা, ৪ ফাঁড়ি, ডিবি, সিটি এসবি ও পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় মিলিয়ে বিএমপিতে কর্মরত সদস্যের সংখ্যা ১ হাজার ৭৩১। তাদের মধ্যে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) থেকে কমিশনার পদে ৫৯৬ জন কর্মরত। বাকিরা নায়েক হাবিলদার কিংবা কনস্টেবল। কাঠামো অনুযায়ী এরপরও ৩৬৯টি পদ শূন্য।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা সবাই মাঠপর্যায়ে কর্মরত। আশপাশের জেলা কোঠায় নিয়োগ পেয়ে পোস্টিং নেন বরিশালে। তারপর থেকেই আছেন। দাপ্তরিক নিয়ম মানতে মাঝেমধ্যে হয়তো যান এ থানা থেকে ওই থানায়। ২-৪ মাসের জন্য ঘুরে আসেন ডিবি, এসবি অন্য জেলা অথবা আদালতে। দিনের শেষে সবাই কিন্তু থেকে যান বরিশালেই। বিয়ে করে বানিয়েছেন আত্মীয়ের দীর্ঘ তালিকা। নগরবাসীর কাছেও তারা ঘনিষ্ঠ পরিচিত। তাদের দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায়ই বাধে জটিলতা। পরিচিত মুখ হওয়ায় দেখেই পালায় আসামি। আত্মীয়তা কিংবা পরিচয় সূত্রে অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টাও থাকে কারও কারও মধ্যে। এসব বিবেচনা করেই তাদের সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আলোচ্য পৌনে দুইশর বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। তাদের মধ্যে নগরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সুদৃশ্য ভবন রয়েছে পরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার। মাঝে কদিন অন্য জেলায় থাকা ছাড়া চাকরির শুরু থেকেই তিনি আছেন বরিশালে। আরেকজন শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে আছেন এখন পর্যন্ত। পরিদর্শক পদের এ কর্মকর্তা রয়েছেন একটি থানার দায়িত্বে। এছাড়া এক নিরস্ত্র পরিদর্শক আছেন চাকরির শুরু থেকেই। পিছিয়ে নেই উপপরিদর্শক (এসআই) পদের কর্মকর্তারাও। নগরের জিয়া সড়কে ভবন, কলেজ অ্যাভিনিউ এলাকায় ফ্ল্যাট, রুইয়ার পোল এলাকায় জমি ও সিঅ্যান্ডবি রোডে প্লটের মালিক ৪ উপপরিদর্শক এখানে আছেন এক যুগেরও বেশি সময়। এছাড়া এএসআই পদের এক কর্মকর্তা সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি মূল্যে কিনেছেন জমি। যিনি ১২-১৩ বছর আছেন মেট্রো পুলিশে। এর পাশাপাশি স্ত্রী, ছেলেমেয়ে কিংবা ভাইয়ের নামে বিত্তের মালিক হয়েছেন বিভিন্ন পদমর্যাদার মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

নাম না প্রকাশের শর্তে মেট্রো পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সঠিক পন্থায় অভিযোগ না আসায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। এছাড়া দাপ্তরিক কিছু জটিলতাও আছে। এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে মেট্রো পুলিশে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখা। এ কারণেই এই শুদ্ধি অভিযান।

পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, বছর দুয়েক আগেও এরকম শুদ্ধি অভিযান চালানো হয়েছিল। হাইওয়ে পুলিশের বর্তমান প্রধান অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন তখন ছিলেন এখানকার পুলিশ কমিশনার। একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় মেট্রো পুলিশের মাঠপর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বরিশাল থেকে। বরিশালের পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির বলেন, বদলি পুলিশের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এটাকে ভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ নেই। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সবাইকে নতুন জায়গায় বদলি করা হয়। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, পুলিশ প্রবিধান আর প্রভিশন কিন্তু এক নয়। এটা ঠিক যে একই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে খানিকটা হলেও জটিলতা হয়। দীর্ঘ সময়ে ওই কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ একটা বলয় তৈরি হয়। জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে একটা নিয়ম আছে নিজ জেলায় কোনো পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি করতে পারবেন না। মেট্রোর ক্ষেত্রে বিষয়টি জটিল। তবু আমি মনে করি, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন প্রশ্নে একই স্টেশনে কোনো কর্মকর্তার যেমন ৩ বছরের বেশি থাকা উচিত নয়, তেমনই তাকে রাখাও উচিত নয়।




বাবুগঞ্জ স্থানীয় সরকার দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: “স্মার্ট হবে স্থানীয় সরকার, নিশ্চিত করবে সেবার অধিকার” এ প্রতিপাদ্য বিষয় কে সামনে রেখে বরিশালের বাবুগঞ্জে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৪ উদ্যাপন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাকিলা রহমানের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম খালেদ হোসেন স্বপন, সাধারণ সম্পাদক ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃধা মুহাম্মদ আক্তার উজ জামান মিলন, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল ইসলাম রাকিব, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ সুমন, বাবুগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক বাবুল আকন, বাবুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ করিম হাওলাদার, মাধবপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, চাঁদপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন রাড়ী, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রমূখ। এছাড়াও আলোচনা সভায় বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার পরিষদ চত্তরে একটি রেলী অনুষ্ঠিত হয়।




বরিশালে জেলে পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ

বরিশাল অফিস ::বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৭৩টি জেলে পরিবারের প্রধানের মাঝে ফেব্রুয়ারি মাসের ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের সামনে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার গৌরাঙ্গ প্রসাদ গাইন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মৃধা, ইউপি সদস্য জসীম উদ্দীন, হাবিবুর রহমান, স্বপন কুমার হালদার, সোলায়মান মৃধা, আশরাফ সেরনিয়াবাত, নাজমা খানম প্রমুখ।




বরিশালে ৪৮ বেসরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবৈধ

বরিশাল অফিস : সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ৪৮টি অবৈধ বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের একটিও বন্ধ হয়নি। লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগ গত ২৬ জানুয়ারি এগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে দ্রুত বন্ধ করার জন্য চিঠি দেয়। তবে সে চিঠির কোনো বাস্তবায়ন হয়নি।

এর মধ্যে বরিশাল জেলায় লাইসেন্সবিহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক রয়েছে ১১টি, ভোলায় ৭টি পটুয়াখালীতে ৪টি, বরগুনায় ১৮টি ও পিরোজপুরে ৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধে কার্যকর সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এগুলো বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ১২ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে, বাস্তবতা হলো মাঠ পর্যায়ে কাজ এখনো শুরু হয়নি।

বরিশালের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার বন্ধে তাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এবিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আর বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী বলেছেন, ‘বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তাদেরকে এখন পর্যন্ত কিছুই অবগত করেনি।’

তবে, অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে মন্থর গতিতে ক্ষিপ্ত বৈধ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জেলা সিভিল সার্জন।

একার্যক্রম অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল জানিয়েছেন, এটি আমাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম। দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটছে। সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের সম্মতি পত্র, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ যদি থাকে তবে ডিগ্রিধারী থাকতে হবে। এসব নির্দেশনা না মানলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানুষ যাতে মানসম্মত চিকিৎসা পায় সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে।

এ সময় হাসপাতাল গুলোর বিভিন্ন কাগজপত্রে অনিয়মের পাশাপাশি রোগীদের সেবা প্রদানে নানা অনিয়ম ধরা পরে। তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।




বরিশালে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

বরিশাল অফিস : বরিশালের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। একই ঘরে আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক সদস্য। চিকিৎসকরা বলছেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। সাধারণত তিন থেকে সাতদিন জ্বর, সর্দি ও কাশির তীব্রতা থাকছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

অসুস্থ হওয়ার অন্যতম উপসর্গ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলে দু-তিনদিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু জ্বর তিনদিনের বেশি থাকলে চিকিৎসাসেবা নেওয়াটা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে নগরির মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, এই হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় মেডিসিন বিভাগে। হাসপাতালের তথ্যে জানা যায়, অন্য সাধারণ সময়ের তুলনায় রোগী বেড়েছে ২৫ শতাংশ। তাদের বেশিরভাগই জ্বর-ঠান্ডাজনিত রোগী।

একই পরিবারের ১১ বছরের শিশু রুকাইয়া ও পাঁচ বছরের শিশু রুশাইদা। দুজনেরই তিনদিন ধরে জ্বর, সঙ্গে সর্দিও লেগে আছে। সাধারণ প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল তাদের। এক পর্যায়ে সর্দি থেকে কানে সমস্যা দেখা দেয় রুকাইয়। এরপর তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। রুকাইয়া মা শামসুন নাহার বলেন, ‘সাধারণ সর্দি-জ্বর মনে করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ ওর কানে ব্যথা শুরু হয়। ডাক্তারের কাছে নিয়ে এসেছি। বলছেন, কানের পর্দায় সমস্যা হয়েছে। ড্রপ দিয়েছেন। এখন দেখি…।’

বরিশালের একাধিক ফার্মেসিতে (ওষুধের দোকান) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শীতকালীন সময়ে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে মোনাস, ফেক্সো বা এজাতীয় অন্য ওষুধ। তবে ঠান্ডা একটু কমে যাওয়ার পর থেকে প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ নাপা, এইস ও সর্দির ওষুধ বিক্রি অনেক বেড়েছে।

সদর রোডের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, শীতকালীন সময়ের তুলনায় এখন জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগের ওষুধ বিক্রি বেড়েছে। সাধারণত শীতকালে রোগের প্রকোপ একটু কম থাকে। শীত কমার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর-সর্দির মতো অসুখ বেড়ে যায়।

হাসপাতালের চিকিৎসক জানান , সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রায় ৯০ জন রোগী দেখেছি। গত সপ্তাহ থেকে রোগী বাড়ছে। বেশিরভাগই জ্বর, ঠান্ডা-কাশি, ডায়রিয়া, অ্যাজমা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস ও শ্বাসকষ্টের রোগী। অনেকের চর্মরোগের সমস্যাও অনেক বেড়েছে। ২-৩ শতাংশ করোনা রোগীও পাওয়া যাচ্ছে।বেশিরভাগ শিশুর শুরুতেই তীব্র জ্বর আসছে। ১০৪-১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। সাধারণ জ্বর তিনদিন পর এমনিতেই সেরে যায়। কিন্তু সর্দি-কাশি বা অন্য উপসর্গ থাকছে অনেকের, তাই জ্বর দ্রুত কমছে না। হাসপাতালে এখন এ ধরনের রোগীর সংখ্যাই বেশি।

তিনি বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এখন ভাইরাসজনিত জ্বর হচ্ছে। এই জ্বর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াচ্ছে। তিনদিনের বেশি জ্বর থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। পরীক্ষা করানো উচিত। যেহেতু এখন আবার নতুন করে করোনা হাতছানি দিচ্ছে। এছাড়া ডেঙ্গুও পুরোপুরি যায়নি। বিশেষত, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও ক্রনিক রোগীদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া উচিত। জ্বরের সঙ্গে ঘাড় বা শরীরে ব্যথা, উচ্চ তাপমাত্রা, বমি করা বা খাবার খেতে না পারা, তিনদিনের বেশি জ্বর থাকা, শুধু রাতে জ্বর আসা, শরীরে র‌্যাশ বের হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া ও খিঁচুনি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।




বরিশালে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসে অলোচনা সভা

বরিশাল অফিস :: স্মার্ট পরিসংখ্যান উন্নয়নের সোপান এই স্লোগান নিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের আয়োজনে মঙ্গলবার ( ২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২ টায় সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে র‌্যালি ও অলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল পরিসংখ্যান বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয় চেয়ারম্যান মোঃ সাইফ উদ্দীন রাশেদ, বরিশাল জেলা পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্মউপপরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলামসহ পরিসংখ্যান অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন থেকে বণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান দিবসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

 




বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান

বরিশাল অফিস :: শেখ হাসিনার বারতা নারী-পুরুষ সমতা এই স্লোগান নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতায়, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর আয়োজনে ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার(২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান ২০২২অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কেয়া খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালক জাকিয়া আফরোজ,বরিশাল অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শহিদুল্লাহ,

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির সদস্যরা এবং সংবর্ধিত নারী জয়ীতারা এবং তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে অতিথিরা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। পরে ৫টি ক্যাটাগরিতে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

বিভাগীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন, পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ও সংবর্ধিত জয়িতারা হলেন-সফল জননী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ বিলকিচ বেগম (বরগুনা), অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে নাজমুন নাহার রীনা (বরিশাল), সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ সালমা বেগম (ঝালকাঠি), নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছে যে নারী ক্যাটাগরিতে মোসাঃ জাহানারা বেগম (বরগুনা), শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে প্রফেসর শাহ সাজেদা (বরিশাল)।


৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। এছাড়াও জেলা পর্যায়ের নির্বাচিত ২৫ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা নারীকে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট, নগদ ২ হাজার টাকা এবং সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।