রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রবণতা জাহিলী যুগকেও হার মানিয়েছে: পীর সাহেব চরমোনাই

বরিশাল অফিস :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন,দেশের মানুষ বর্তমানে কঠিন একটা মুহূর্ত অতিক্রম করছে। হত্যা , খুন, গুম, ধর্ষণ ক্ষমতাসীনদের নিত্যদিনের ঘটনা।

শুক্রবার ( ১লা মার্চ) ঐতিহাসিক চরমোনাই বার্ষিক মাহফিলের তৃতীয় দিন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ প্রবণতা জাহিলী যুগকেও হার মানিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা ধর্ষণের সেঞ্চুরি করে মিষ্টি বিতরণ করার সাহস পায়।

 

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আওয়ামী ছাত্রলীগের ছেলেরা দেশকে লুটপাটের মহোৎসবে মেতে উঠেছে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই অবস্থায় এদেশকে মানুষের দেশ বলা যায় না। এটাকে পরিবর্তন করতে হবে। এ পরিবর্তনের জন্য ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল বশর আজিজীর সভাপতিত্বে গণজমায়েতে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি জি এম রুহুল আমিন, এম হাসিবুল ইসলাম, নূরুল করীম আকরাম, শরিফুল ইসলাম রিয়াদ প্রমুখ।

 

আগামীকাল( ২ মার্চ’) শনিবার সকাল ৮.৩০টায় হযরত পীর সাহেব চরমোনাই’র আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশাল এ মাহফিলের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

 

 

মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে বুধবার দুইজন বার্ধক্যজনিত কারণে, বৃহস্পতিবার একজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তন্মধ্যে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান নিবাসী মো. আজমত শেখ, পাবনা নিবাসী মো. নওসের এবং ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ক্বারী আব্দুল আউয়াল। জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।




বেইলি রোডের ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: রাজধানীর বেইলি রোডে আগুন লাগা বহুতল ভবনটিতে কোন অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। যার কারণে আমাদের এরকম একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে।অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, সেটা কেউ আর মানে না। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা খুব জরুরি।’

শুক্রবার ( ১ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জাতীয় বীমা দিবস-২০২৪’ উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, অগ্নি নির্বাপণে সরকারের সব প্রস্তুতি থাকলেও সচেতনতার অভাবে হতাহত বাড়ছে।এই যে বৃহস্পতিবারের আগুনে ৪৬ জন মারা গেছেন, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে। অথচ অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছি, সেটা কিন্তু আর মানে না। এসব ক্ষেত্রে সচেতনতা খুব জরুরি।

নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সব সময় আমাদের যারা আর্কিটেক্ট তাদের অনুরোধ করি, আপনারা অন্তত পক্ষে যখন ঘরবাড়ি তৈরি করেন, একটু খোলা বারান্দা, ফায়ার এক্সিট বা ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করবেন। আমি খোলা জায়গা রাখতে বলি, কিন্তু স্থপতিরা ওই রকম ডিজাইন করেন না। আবার মালিকরাও এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে চান না।

বীমা সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বীমা করলে কী সুবিধা সেটা মানুষকে জানাতে হবে। সামান্য একটা প্রিমিয়াম দিয়ে একটা বীমা করলে, পরে কিন্তু অনেক সমস্যা হয় না। বীমার টাকা যেন মানুষ সহজে পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় তিনি বীমা নিয়ে যারা দুই নম্বরি করে তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বীমা নিয়ে অনেকেই দুই নম্বরি করে পার পেয়ে যায়। কারণ, তারা ম্যানেজ করে ফেলে। কেউ যাতে ম্যানেজ করতে না পারে, আর সত্যিকার যাদের প্রাপ্য তারা যেন সহজে পায় বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

 




বরিশালে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: বিদ্যুৎখাতে খাতে ভুলনীতি ও দূর্নীতির দায় জনগণ নেবে না এই শ্লোগানকে সামনে রেখে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির অযৌক্তিক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট বরিশাল জেলা শাখা।

আজ শুক্রবার (১লা মার্চ সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বরিশাল নগরীর প্রাণ কেন্দ্র সদররোডে একর্মসূচি পালিত হয়।

অধ্যাপক নৃপেন্দ নাথ বাড়ৈর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা সদস্য সচিব ডাঃ মনিষা চক্রবর্তী, বরিশাল জেলা কমিউনিস্ট পার্টি সভাপতি অধ্যাপক মিজানুর রহমান সেলিম, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক দুলাল মজুমদার,বিরেন রায় ও বিজন সিকদার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাত থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহারের কথা বলে বিদ্যুৎ খাতে ইউনিট প্রতি ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বৃদ্ধির যে গনবিরোধী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সরকার জনগনের টাকায় ভর্তুকি দেয় যা জনগনের জন্যই খরচ করতে হবে। সরকার এতদিন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ভর্তুকি দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়েছে অথচ জনগনের টাকা জনগণের জন্য ব্যয় করতে আজ তারা অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নির্বাহী আদেশে তারা গণশুনানি বাতিল করে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের কথা বলে বিদ্যুৎ খাতে ভুলনীতি ও দুর্নীতির দায় জনগণের পকেটের উপর চাপানোর চক্রান্ত করছে। অথচ প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে যা দিয়ে জ্বালানিখাতে ভর্তুকি দেয়ার অর্থসংস্থান করা খুব ভালভাবে সম্ভব।

বক্তারা অবিলম্বে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।




এখনও কেউ নিতে আসল না শিশুটিকে, অপেক্ষায় এক নারীর মরদেহও!

বরিশাল অফিস :: ভোজনরসিকদের কাছে রাজধানীর বেইলি রোড অনেক জনপ্রিয়। একটা উপলক্ষে পেলে পরিবার পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে এখানে ছুটে আসেন। সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার, তার উপর অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার! খাবারের সঙ্গে বেশ আড্ডা জমেছিল বেইলি রোডের রেস্টুরেন্টগুলোতে।তবে সন্ধ্যা রাতের আনন্দ আড্ডা বিষাদে রূপ নিলো গ্রীন কোজি কটেজের আগুনে।

বৃহস্পতিবার রাতের আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের জীবন প্রদীপ নিভেছে। জীবন মৃত্যুর দোটানায় আছেন আরও ১২ জন। নিহত ৪৬ জনের মধ্যে স্বজনরা বুঝে নিয়েছেন ৩৯ জনের মরদেহ। তিনজনের মরদেহ বুঝে নিতে এখনও কেউই আসেনি। এর মধ্যে রয়েছে অজ্ঞাত ৫ বছর বয়সী এক শিশু। তার পাশেই পড়ে রয়েছে আরও এক নারীর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগের মর্গের মেঝেতে পড়ে আছে দুজনের মরদেহ।

শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঢামেকের জরুরি বিভাগের মর্গে গিয়ে দেখা যায়, আগুনের ধোঁয়ায় নিহত শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। গায়ে নতুন গেঞ্জি, পাজামা। পায়ে গোলাপি রঙের মোজা। দেখে বোঝাই যাচ্ছে পরিবারের সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে এসেছিল শিশুটি। কিন্তু আগুনের লেলিহানে এখন অজ্ঞাত মরদেহ। তার পাশে এক নারীর মরদেহ।

ধারণা করা হচ্ছে, তারা সম্পর্কে মা এবং মেয়ে হতে পারে। তবে নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

শিশুটির শরীরের কোন অংশ পুড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া পাশে থাকা নারীর মরদেহও পোড়েনি। দুজনের মুখই কালসে হয়ে আছে।

জানতে চাইলে মর্গের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এই সুন্দর ফুটফুটে একটা মেয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি মেনে নেয়ার মতো নয়। এখন পর্যন্ত এই শিশুর কোন স্বজন আসেনি। আমরা অজ্ঞাত হিসেবেই মরদেহটিকে রেখেছি। এছাড়াও আরও ৭টি মরদেহ এখন কেউ নিতে আসেনি।




বেইলি রোডে আগুন: ভিকারুননিসার শিক্ষক ও তার মেয়ে নিহত

বেইলি রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের মূল প্রভাতি (৭ম-১০ম) শাখার সিনিয়র শিক্ষক লুৎফুন নাহার করিম (লাকী) ও তার মেয়ে জান্নাতিন তাজরীর মৃত্যু হয়েছে। তাজরী অত্র প্রতিষ্ঠানের সাবেক ছাত্রী ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সকল সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত।

গণমাধ্যম বার্তায় তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং সহমর্মিতা জানানো হয়।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বেইলি রোডে একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। এতে অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।




মৃত বেড়ে ৪৬, দগ্ধ ১২ জনও শঙ্কামুক্ত নন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: রাজধানীর বেইলী রোডে একটি বহুতল ভবনে লাগা আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৬ জন মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামান্ত লাল সেন।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢামেক হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি রোগিদের অবস্থা পরিদর্শন শেষে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বার্ন ইউনিট ও ঢাকা মেডিকেলে এখন পর্যন্ত ৪৬ জন মারা গেছেন। বর্তমানে বার্ন ইউনিটে ১০ ও ঢামেকে ২ জন ভর্তি আছেন।

মন্ত্রী বলেন, ধোয়ার কারণে শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। যারা বের হতে পারে নাই তারা মারা গেছে। আর যারা বের হতে পেরেছে তারা এখনও বেঁচে আছে। তবে কেউই শঙ্কা মুক্ত নন। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। আমি চিকিৎসকদের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করব কিভাবে ভালো চিকিৎসা দেওয়া যায়। তবে সকলের কাছে অনুরোধ যেনো হাসপাতালে ভিড় না করে। প্রধানমন্ত্রী সব রোগীর দায়িত্ব নিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় সরকারের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও ওষুধ সঙ্কট, দুর্ভোগে রোগীরা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি প্রিন্টার নষ্ট থাকায় এক্স-রে মেশিন বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সমস্যায় অ্যাম্বুলেন্স সেবাও বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

গুরুত্বপূর্ণ এ সেবাগুলো বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাটালটিতে রয়েছে ওষুধ সঙ্কটও।

এদিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন হাসপাতালটি উদ্বোধন হলেও সেবা কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। তবে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বলছেন শিগগিরই এসব সমস্যা সমধান করা হবে।

জানা যায়, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৬টি। এরমধ্যে আছেন ১৭ জন। তাদের মধ্যে অন্য হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক এখানে সংযুক্ত হয়ে কাজ করছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুরুষ নাস কম থাকায় জরুরি সেবায় বিঘ্ন ঘটে। রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিরও সঙ্কট।

১০০ শয্যার ঝালকাঠির সদর হাসপাতালে প্রতিদিন ৮০০ থেকে এক হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এরমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল অফিসার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় যথাযথ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানষ। এই হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় অহরহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য থাকায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এসব রোগীদের পার্শবর্তী বরিশালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে রয়েছে ওষুধ সঙ্কটও।
সব ধরণের ওষুধ নেই দীর্ঘদিন ধরে।

জেলা সদরের এই হাসপাতালের প্যাথলজিতে আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। এর ফলে এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করাতে হয় রোগীদের। এতে করে সরকারি ধার্যকৃত টাকার চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা গুনতে হয় তাদের। গত ছয় মাস ধরে হাসপাতালটির এক্সরে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সেটিকে সচল করার কোনো পদক্ষেপ নেননি তারা। ঝালকাঠি সদর হাসপালে কে এমসি কর্নার নেই। এনআইসিউ না থাকায় নবজাতক শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়কের চাপিয়ে দেয়া নিয়মের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালনি ক্রয় বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গত ছয় মাস ধরে রোগীরা নিজ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের খরচ বহন করছেন।

এদিকে ২৫০ শয্যার জন্য ৯ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ হলেও জনবল কাঠামো অনুমোদন না হওয়ায় এখনি চালু হচ্ছে না ২৫০ শয্যার কার্যক্রম। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে রোগীদের এক্স-রেসহ সকল সেবা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা চাঁদকাঠি এলাকার শিউলী আক্তার বলেন, আমার ছেলের ঘাড়ে সমস্যা। এখানে এসেছিলাম চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক পেলাম না। এখানের চিকিৎসকরা বরিশালে গিয়ে এই সমস্যার যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাদের কাছে যেতে বলেছেন।

নলছিটি উপজেলার মগড় গ্রামের আলতাফ হোসেন বলেন, আমার ছেলের হাঁটুতে ব্যাথা, তাই সদর হাসপাতালে এলে চিকিৎসক এক্স-রে করাতে বলেন। হাসপাতালের এক্সে-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল, তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেশি টাকা দিয়ে করাতে হয়েছে। এই হাসপাতালে সব ধরণের প্যাথলজিও নেই। শুধু ডা. আবুয়াল হাসান ও ডা. ইমাম হোসেন জুয়েল ছাড়া ভালো কোনো চিকিসক নেই। এই দু’জনের কক্ষে ভিড় লেগে আছে। যত রোগী, তারাই সামলাচ্ছেন।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুয়াল হাসান বলেন, চিকিসক ও নার্স সঙ্কট অনেক আগে থেকেই। ২৫০ শয্যার নতুন ভবনটি উদ্বোধন হওয়াতে রোগীর চাপ বেড়েছে। কিন্তু নতুন হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। আমরা এক্স-রে মেশিনের প্রিন্টার সারানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। শিগগিরই এসব সমস্যা সামাধান হয়ে যাবে।




বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনের ঘটনায় ইতালি প্রবাসী সৈয়দ মোবারকসহ একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এক মাসের মধ্যে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল মোবারকের।

শুক্রবার (১ মার্চ) সকালে বিষয়টি জানান মোবারকের চাচাতো ভাই সৈয়দ ফয়সাল।

তিনি বলেন, ‘রাত ৮টার দিকে সৈয়দ মোবারক তার স্ত্রী স্বপ্না, মেয়ে সৈয়দা তাশফি, ছেলে সৈয়দা নূর ও সৈয়দ আব্দুল্লাহকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন ‘কাচ্চি ভাইতে’ খাওয়ার জন্য। তারা সেখানে পৌঁছানোর পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তারা সবাই মারা যান।’

সৈয়দ ফয়সাল বলেন, প্রবাসী মোবারকের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। তিনি ঢাকার মগবাজার এলাকায় থাকতেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।




বেইলি রোডে আগুন: নিহত ৩০ জনের মরদেহ শনাক্ত

বরিশাল অফিস : রাজধানীর বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের ৩০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোস্তফা আবদুল্লাহ আল নূর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাত ২টা থেকে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়।




সন্ধ্যায় বিপিএল ফাইনালে মুখোমুখি কুমিল্লা-বরিশাল

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দশম আসরের ফাইনাল মাঠে গড়াবে আজ। যেখানে শিরোপা নির্ধরণী মঞ্চে মুখোমুখি হবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও ফরচুন বরিশাল। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়। এছাড়াও টিভিতে দেখা যাবে আরও বেশ কিছু ম্যাচ।

বিপিএল: ফাইনাল
কুমিল্লা-বরিশাল
সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট, টি স্পোর্টস ও গাজী টিভি

ওয়েলিংটন টেস্ট-২য় দিন
নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া
ভোর ৪টা, টফি লাইভ

আবুধাবি টেস্ট-৩য় দিন
আফগানিস্তান-আয়ারল্যান্ড
দুপুর ১২টা, ইউরোস্পোর্ট

মেয়েদের আইপিএল
গুজরাট-উত্তর প্রদেশ
রাত ৮টা, স্পোর্টস ১৮-১, টি স্পোর্টস অ্যাপ

সৌদি প্রো লিগ
আল হিলাল-আল ইত্তিহাদ
রাত ১১টা, সনি স্পোর্টস ২

বুন্দেসলিগা
ফ্রাইবুর্গ-বায়ার্ন
রাত ১টা ৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস ২

সিরি আ
লাৎসিও-এসি মিলান
রাত ১টা ৪৫ মিনিট, স্পোর্টস ১৮-১