জনশুমারিতে সংখ্যায় বেশি, ভোটার সংখ্যায় পিছিয়ে নারীরা

বরিশাল অফিস :: ৯ বছর আগে রাজধানীর মধুবাগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সন্তানের জননী শিল্পী আহমেদের (৩৫) টিনশেড ঘরটি পুড়ে যায়। তার কিছুদিন পর স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করে। তারপর থেকে সন্তানদের নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

শিল্পী আহম্মেদ বলেন, ধর্মীয় রীতি পালন করি, ছবি তুলতে হবে তাই আমি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করিনি। অগ্নিকাণ্ডে ঘর পুড়ে যাওয়ার পর সবাই সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ-সহযোগিতা পেলেও এনআইডি না থাকায় কোনো সহায়তা পাইনি।

শিল্পী আহম্মেদের মত ঢাকার মোমিনবাগের বাসিন্দা শরীয়তপুরের উম্মে কুলসুম কুসুম (৩৮) বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। ছয় নাবালক সন্তান রেখে স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। মুখচ্ছবি দিতে সম্মতি না দেওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি। কোথাও কাজ নিতে গেলে সবাই আগে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চায়।

নানাবিধ কারণে শিল্পী আহম্মেদ ও উম্মে কুলসুমের মত এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন করেননি। ফলে নাগরিক সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন এনআইডি না নেওয়া নারীরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও ইসির ভোটার তালিকায় বেশি পুরুষ ভোটার সংখ্যা। সেখানে দেখা যায়, ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন জনসংখ্যায় পুরুষ রয়েছে ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা আট কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। সেই হিসেবে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটার ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৭ ভোটার কম।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসংখ্যায় যেহেতু নারীর সংখ্যা বেশি, স্বাভাবিকভাবে নারী ভোটারও বেশি থাকার কথা। কিন্তু কিছু লোকের ধর্মীয় বিশ্বাস, ছবি তুলতে অসম্মতি, এনআইডির গুরুত্ব নিয়ে প্রচারের অভাব, নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আগ্রহ বা সুযোগের অভাব ভোটার সংখ্যায় ওই উল্টো চিত্রের কারণ ঘটাতে পারে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীরা নানান কুসংস্কার বিশ্বাস করে বিধায় এখনো কেউ কেউ ভোটার হচ্ছে না। সমাজে নারীদের পিছিয়ে রাখার জন্য একটি মহল কাজ করছে, যাতে নারীরা এগিয়ে যেতে না পারে। এর পেছনে পরিবার ও সমাজ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে ভোটার হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মের নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে অনেক নারী এনআইডি গ্রহণ করছেন না। ফলে রাষ্ট্র নারীকে যে অধিকার দিয়েছে, সে অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা চাই, সকল নারী যেন এনআইডি গ্রহণ করুক। সেখানে যেন কো নো পশ্চাৎপদ চিন্তা ভাবনা ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে ওঠে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা কার্যক্রম হাতে নেয় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। সেই সময় ৯ কোটি ভোটারের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর এ পর্যন্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে সাতবার। ২০২১-২২ সালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ইসি। ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরুর পর থেকে নারী-পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান থাকলেও গত ১৫ বছরে হালনাগাদে নারী ভোটারদের সাড়া মিলেছে কম।

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নারী ভোটার না হওয়ার একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছিলেন। সেখানে দেখা যায়, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহে অনীহা, হিন্দু অবিবাহিত মেয়েদের পিত্রালয়ে নিবন্ধন করতে অনীহা; অবিবাহিত, অনগ্রসর ও নিরক্ষর মেয়েদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম; মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়া, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্র দূরে হওয়া, আবহাওয়া অনুকূল না থাকা, সামাজিক সংস্কার ও ধর্মীয় অজুহাতে ছবি তুলতে অনীহা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অসচেতনতা। তখন একাধিক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছিল বলেও কমিশন সূত্রে জানা যায়। তারপরও নারীদের ভোটার সংখ্যা বাড়াতে পারেনি কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে দেশে মোট ভোটার ছিল ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন। আর পুরুষ ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন। সেখানে পুরুষের চেয়েও ১১ লাখ নারী ভোটার কম। ২০২১ সালে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ৬৬৯। সেখানে নারী ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫১ লাখ ২২ হাজার ২২৩ জন। পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫ জন। ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ বৃদ্ধি পেলেও নারী ভোটার বেড়েছে মাত্র ৮ লাখ।

একইভাবে দেশে ২০২৩ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪১ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৯ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮৪৯ জন। সর্বশেষ হালনাগাদের খসড়ায় দেখা যায়, ১২ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫০ জন ভোটার; এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ১৩৭ এবং নারী ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৯ এবং ৯২৪ জন হিজড়া ভোটার। এখানেও পুরুষের চেয়েও ২৪ লাখ নারী ভোটার কম। কিন্তু বিবিএসের জনশুমারিতে দেশে পুরুষের চেয়েও নারীর সংখ্যা সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৫৯৮ জন। সেখানে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৩১ হাজার ৩২০, আর নারীর সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯১ হাজার ২৭৮ জন। এখানে নারীর চেয়েও ৫০ লাখ বেশি। এই সংখ্যা ২০১১ সালের জনশুমারিতে নারী ও পুরুষের সংখ্যা সমান হয়।

কিন্তু বিবিএসের সর্বশেষ ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন। পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ৪১ লাখ ৩৪ হাজার ৩ জন। নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৮৪ জন। হিজড়ার সংখ্যা ৮ হাজার ১২৪ জন। ২০০১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত গত ২০ বছরে পুরুষের সংখ্যা চেয়েও নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এখানে পুরুষের চেয়েও সাড়ে ১৫ লাখ বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রে ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে আন্দোলন করছে আঞ্জুমান মহিলা পরিষদ। ওই পরিষদ নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনে তাদের দাবির বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে। স্মারকলিপি দিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।

আঞ্জুমান মহিলা পরিষদের শারমিন ইয়াসমিন জানান, ভোটার না হওয়ায় আমরা বেশ কয়েকটি অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে আমরা কেউ ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছি না। আমাদের অনেক বোনেরা কোথাও চাকরির আবেদন করতে পারছে না।

তিনি বলেন, আমরা চাই পর্দাশীল নারীদের জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা পদ্ধতি শিথিল করা হোক। এই জন্য আমরা দুইটা দাবি করেছিলাম। ছবি ছাড়া আঙুলের ছাপের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড দেওয়ার জন্য।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ভোটার হতে অনাগ্রহ রয়েছে এমন বিষয় না থাকলেও কিছু কুসংস্কার রয়ে গেছে অনেক এলাকায়। ধর্মীয় কুসংস্কারের কারণে অনেক নারী ভোটার হতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে যেসব নারী পর্দা করে তারা ছবি তুলতে চায় না বলেই নারী ভোটারের সংখ্যা কম। নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ছাড়াও জাতীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা সবসময় বলি জাতীয় পরিচয়পত্র যে ভোট দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সেটা না, জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমির দলিল করতে পারে না।

নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে নারী-পুরুষ সকলকে ভোটার হতে আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা।




সকালে ‘কাচ্চি ভাই’-এ নিয়োগ, রাতে পুড়ে অঙ্গার ভোলার নয়ন

বরিশাল অফিস :: বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সকালেই রাজধানী ঢাকার বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে চাকরিতে যোগ দেন ভোলার মো. নয়ন। ১২ ঘণ্টায় মাথায় ভয়াবহ আগুনে পুড়ে জীবনের প্রথম কর্মস্থল থেকে ফিরলেন লাশ হয়ে।

আর্থিক সংকটে থাকা কৃষক বাবাকে সহযোগিতা করতেই ঢাকায় গিয়েছিলেন ভোলা সদর উপজেলার চরকুমারিয়া গ্রামের যুবক নয়ন। তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের বহুতল ভবেনে অগ্নিকাণ্ডে আদরের ছোট ছেলেকে হারিয়ে প্রলাপ করছেন মা, আর নির্বাক বাবা ছেলের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।

শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে নয়নের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, আদরের ছোট ছেলে মো. নয়নের ছবি নিয়ে বিলাপ করছেন মা নাজমা বেগম। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর পান নাজমা ও তার পরিবার। সেই থেকেই চলছে তার বিলাপ।

ছেলের মৃত্যুর খবরে নির্বাক মো. সিরাজ। ছেলের এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর খবর কোনভাবেই মানতে পারছেন না তিনি। শুক্রবার সকালে ছেলের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকেই নির্বাক বসে আছেন। ছেলের লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে এসেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

নয়নের স্বজনরা জানান, নয়ন (১৯) নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় যান। বাবুর্চির সহকারী হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে যোগ দেন। ওই রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় তার। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শুক্রবার সকালে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর আসে।

এদিকে নিহতের ভাই দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ শনাক্ত করেন। তবে কর্মস্থলে এমনভাবে আর কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয় সেই দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা মো. সিরাজ ও মা নাজমা বেগম।

শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে শোক জানাতে আসেন স্থানীয় উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনসুর আলম। তিনি জানান, নয়নের সঙ্গে থাকা নাগরিকত্ব সনদ থেকে নম্বর নিয়ে রমনা থানা পুলিশ তাকে বিষয়টি জানান। পরবর্তীতে বিষয়টি পরিবারকে জানান তিনি। নিহতের পরিবারের জন্য সরকারি সহযোগিতার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

সিরাজ- নাজমা দম্পতির ৬ সন্তানের মধ্যে নয়ন সবার ছোট। নয়নের আরও ৪ ভাই ও এক বোন আছে।

 

 




বেইলি রোডে নিহতদের মধ্যে ভোলার চার জন

বরিশাল অফিস :: ঢাকার বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অন্তত চার জনের বাড়ি ভোলা জেলায়। অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার তরুণের মৃত্যুতে এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

বেইলি রোডে নিহতদের মধ্যে একজনের নাম নয়ন। ভোলা সদরের উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের চর কুমুরিয়া গ্রামে দিনমজুর সিরাজ উদ্দিনের ছেলে তিনি। দুর্ঘটনা কবলিত কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্টে বয়ের কাজ করতেন তিনি।

নিহত নয়নের পরিবারের সদস্যরা জানান, পাঁচ দিন আগে বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে ঢাকা গিয়েছিলেন। তিন দিন আগে চাকরি পান তিনি। ভাগ্যের নির্মমতায় এই কর্মস্থলেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে।

নয়নের মা নাজমা বেগম জানান, ছেলে ফোনে জানিয়েছি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসবে। কিন্তু তার তো আর ফেরা হলো না।

তার চাচি জুয়েনা আক্তার বলেন, পরিবারটি খুবই দরিদ্র। কাজের জন্য ঢাকা গিয়ে প্রাণ হারাতে হলো। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে অভাবের কারণে আর পড়া হয়নি নয়নের। বাধ্য হয়েই ঢাকায় গিয়ে কাজ শুরু করেছিল। তার মর্মান্তিক এমন মৃত্যুতে শোকে স্তব্দ পুরো পরিবার।

ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তামিম আল ইয়ামিন বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। যে কোনও প্রয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

নিহত আরেকজন হলেন জুনায়েদ। তিনি ভোলা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিএভিএস সড়কের বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শোকে পাখর হয়ে গেছে জুনায়েদের পরিবারও। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা তারা। জুনায়েদের বাড়ি ভোলা হলেও তারা পরিবারসহ ঢাকায় থাকতেন। তবে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে বিষাদে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।

বেইলি রোডের আগুনে ভোলার আরও দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন দোলা ও মাহী। তাদের বাড়ি দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গুপ্তগঞ্জ বাজারে। তবে তারা ২০ বছর আগে ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ঢাকার গাজীপুরে তারা বসবাস করে আসছিলেন। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাতায় শোকের ছায়া নেমে আসে।




স্বামী বিদেশ যাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে মারা গেলেন পটুয়াখালীর নববধূ তানজিলা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাউফলে এক মাস আগে বিয়ে হয় তানজিলার। এক সপ্তাহ আগে বিদেশে চলে যান স্বামী সাইদুল ইসলাম। মঙ্গলবার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে গিয়েই মারা যান তানজিলা।

হাতে মেহেদির রঙ না মুছতেই তানজিলা নামের (১৮) এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। তানজিলা উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের ছালাম তালুকদারের মেয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১ মাস আগে একই ইউনিয়নের উত্তর লক্ষ্মীপাশা গ্রামের সোবাহান মোল্লার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইদুল ইসলাম ওরফে সোহরাব হোসেনের সঙ্গে তানজিলার বিয়ে হয়। ১ সপ্তাহ আগে তানজিলার স্বামী মালয়েশিয়া চলে যান। এরপর তানজিলা তার বাবার বাড়ি বেড়াতে যেতে চাইলে শ্বশুর সোবাহান মোল্লা বাধা দেন। বিয়ের সময় তানজিলার বাবার দেওয়া আসবাবপত্র নিয়ে খোঁটা দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেন। এছাড়া গত ৪-৫ দিন পর্যন্ত তানজিলাকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি।

শ্বশুর-শাশুড়িকে অনেক অনুরোধের পর ৫ দিনের শর্তে তানজিলাকে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসতে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তানজিলা। এরপর তাকে দ্রুত পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানজিলার মৃত্যু হয়।

তানজিলার চাচাতো বোন হেলেনা বেগম বলেন, বিয়ের পর তানজিলার ওপর তার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করেছে। এ কারণেই তানজিলার মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, বরিশালে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় তানজিলার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

তানজিলার মা শিউলি বেগম বলেন, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

অবশ্য নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিলার শ্বশুর সোবাহান মোল্লা বলেন, আমার বাড়িতে কিছুই ঘটেনি। তানজিলা বাবার বাড়ি গিয়ে বিষ জাতীয় কিছু খেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীতে স্বামীকে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পণ করলেন স্ত্রী

বরিশাল অফিস ::পটুয়াখালীতে স্বামীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন স্ত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীকে হত্যার পর থানায় এসে আত্মসমর্পণ করলে ওই নারীকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় তার স্বামী মারা গেছেন।

শুক্রবার (১ মার্চ) বিকেলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম রাকিব ইসলাম (২০) আর তার স্ত্রীর নাম মীম আক্তার (১৮)।

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর ছয় মাস আগে রাকিব ও মীম বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। তিন মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে রাকিব তার মাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

শুক্রবার বিকেলে মীমের সঙ্গে রাকিবের ঝগড়া হলে তা শুনতে পান রাকিবের ছোট ভাই পাভেল। পরে রাকিবের বাবা নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে মীম ঝগড়ার কথা স্বীকার করেন এবং রাকিব ঘুমিয়ে পড়েছে বলে শ্বশুরকে জানান।

এর পরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পটুয়াখালী সদর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মীম। তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে বলেন, ‘আমার স্বামীকে আমি ছুরি মেরে এসেছি।’ তখন পুলিশ তাকে আটক করে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পায়। পরে পুলিশ বসতঘর থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে।

রাকিব ভোলার লালমোহন উপজেলার ফুলবাগিছিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামে ছেলে ও মীম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবারিয়া ইউনিয়নের জুয়েল আকনের মেয়ে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমাদ মাঈনুল হাসান বলেন, সন্ধ্যায় মীম নামের এক নারী স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করে সদর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আমাদের কাছে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য পাঠাই এবং ঘটনার সত্যতা পাই। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।




কুমিল্লার দম্ভচূর্ণ করে বিপিএল শিরোপা বরিশালের

বরিশাল অফিস :: চারবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যতবার ফাইনাল খেলেছে, শিরোপা তাদের হাতেই উঠেছে। চার শিরোপার দুটি আবার বরিশালকে হারিয়েই জেতা কুমিল্লার। এমন প্রতিপক্ষের সামনে ফরচুন বরিশালের আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হতে পারত। স্নায়ুচাপে খাবি খেতে পারত তারা। কিন্তু তামিম ইকবালের এই বরিশালকে দমিয়ে রাখতে পারল না কুমিল্লা। ৬ উইকেটের জয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএল শিরোপা জয় করল বরিশাল।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে কুমিল্লার ব্যাটিং শুরু থেকেই ছিল এলোমেলো। প্রথম ওভারে জীবন পেয়ে এক বল পরই উইকেট ছুঁড়ে দেন সুনীল নারাইন। প্রথমবার তার ক্যাচ হাতে জমাতে না পারলেও দ্বিতীয়বাড় দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে নারাইনকে সাজঘরের পথ চেনান ওবেড ম্যাকয়।

নারাইন তড়িঘড়ি ফিরলেও লিটন দাস এবং তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল কুমিল্লা। কিন্তু কীসের কি! জেমস ফুলারের বলে দুজনই ক্যাচ দিয়েছেন ডিপ থার্ডে থাকা মাহমুদউল্লাহর হাতে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রেকর্ড জুটি গড়ে দলকে জেতানো লিটন (১৬) আর হৃদয়ের (১৫) ব্যাট থেকে কুমিল্লা ফাইনালে পেয়েছে সাকুল্যে ৩১ রান।

পাওয়ার প্লে শেষে প্রথম তিন ব্যাটারকে হারানো কুমিল্লার স্কোর দাঁড়ায় ৪৯ রান। এলোমেলো ব্যাটিংয়ের অবশ্য সেখানেই শেষ নয়। মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামা দুই বিদেশি জনসন চার্লস এবং মঈন আলিও দলকে খুব একটা নির্ভরতা জোগাতে পারেননি।

ধীরগতিতে ব্যাট চালিয়ে কুমিল্লার রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখ মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। দুটি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে খোলসমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে রান তোলার তাড়ায় সাইফউদ্দিনের বল স্কুপ করতে গিয়ে উল্টো বোল্ড হতে হয় তাকে। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান।

শেষদিকে আন্দ্রে রাসেলের ১৪ বলে ৪ ছক্কায় খেলা ২৭ রানের ক্যামিও দেড়শ ছাড়ায় কুমিল্লার সংগ্রহ। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৪ রানে থামে কুমিল্লা। বরিশালের পক্ষে ৪৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন জেমস ফুলার।

জবাব দিতে নেমে শুরু থেকে কুমিল্লার বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। তাদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ ওভারে ৭৬ রান স্কোরবোর্ডে জমা করে বরিশাল। অষ্টম ওভারের শেষ বলে মঈন আলির বলে তামিম বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। ফেরার আগে সমান তিনটি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ৩৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তামিম। যার সুবাদে ১৫ ম্যাচে ৪৯২ রান করা তামিম কুমিল্লার তাওহিদ হৃদয়কে টপকে বনে গেছেন বনে গেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

তামিম ফেরার পর তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন মিরাজ (২৯)। স্লটে থাকা বলে বড় শট হাঁকাতে গিয়ে টাইমিংয়ের গরমিলে ধরা পড়েন লং অনে থাকা জনসন চার্লসের হাতে।

দুই ওপেনার ফেরার পর বরিশালের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম এবং কাইল মায়ার্স। এর মধ্যে মায়ার্সকে দুইবার আউট করার সুযোগ পেয়েও হেলায় হারিয়েছে কুমিল্লা। মঈনের বলে কুমিল্লার ফিল্ডাররা দুইবার মায়ার্সের ক্যাচ ছেড়েছেন।

দুইবার জীবন পেয়ে বরিশালকে জয়ের হাতছোঁয়া দূরত্বে পৌঁছে দেন মায়ার্স। আন্দ্রে রাসেলের করা ১৫তম ওভারে দুটি করে চার-ছক্কার সাহায্যে তোলেন ২১ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে মঈন আলির তালুবন্দি হয়ে আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫ চার এবং ২ ছয়ে ৪৬ রান।

মুস্তাফিজের করা সেই ওভারেই ১৩ রান করে আউট হন মুশফিকও। তবে ডেভিড মিলার (৮*) এবং মাহমুদউল্লাহ (৭*) বরিশালকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন।




বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বরিশালে আনন্দ উল্লাস

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১০ম আসরের ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে ফরচুন বরিশালের প্রথম বিজয়ে আনন্দ উল্লাস বইছে বরিশালে। আজ শুক্রবার নগরের বিনোদনকেন্দ্রসহ পাড়া মহল্লায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখেন বরিশালবাসী।

বিজয়ের খবরে ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নগরীর সড়কে উল্লাস করেন মানুষ। এ সময় শতাধিক ট্রাক মিছিল নিয়ে নগর ঘুরেছেন যুবকরা।

নির্বিঘ্নে খেলা উপভোগের জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বিনোদনকেন্দ্রসহ পাড়া মহল্লায় বসানো হয়েছে বড় পর্দা। পাশাপাশি রাতে বনভোজন ও খিচুরি পার্টির আয়োজন করা হয়।

নগরী ঘুরে দেখা যায়, বিবির পুকুর পাড়, বেলস্ পার্ক, নতুন বাজার, টেম্পু স্টান্ড, জিলা স্কুল মোড়, আমানতগঞ্জ, কাউনিয়া, আলেকান্দা, রূপাতলী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজসহ পাড়া মহল্লায় বড় পর্দায় খেলা দেখেছে নগরবাসী।

নগরীর ব্রাঞ্চ রোডের সফিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, ফরচুন বরিশালের প্রথম বিজয় এ অঞ্চলকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিল। ঐতিহ্যের এ নগরী ক্রীড়াঙ্গনে উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক।

চৌমাথার বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, প্রতিযোগিতামূলক চমৎকার এ খেলায় বরিশালের বিজয়ে আমরা আনন্দিত। খেলা উপলক্ষ্যে পিকনিক-আলোকসজ্জা করে দিনটি আনন্দে পার করেছি। শেষ সময়ে ফরচুন বরিশালের বিজয়ে সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এদিকে খেলা উপভোগকে কেন্দ্র করে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম টহল দিয়েছে।




আগুন কেড়ে নিলো বরিশালের বাক প্রতিবন্ধী বাবার মেধাবী সন্তান

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: ঢাকার বেইলী রোডের একটি ভবনে আগুনে পুড়ে নিহত ৪৬ জনের তালিকায় রয়েছে বরিশালের মেধাবী ছাত্র নাহিয়ান আমিন। সে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ছিলো। কাচ্চি ভাই বিরিয়ানি ঘরে খেতে গিয়ে নিহত হয়েছে সে। শুক্রবার বিকালে তাঁর মরদেহ বরিশালের ১৫ নং ওয়ার্ডের পলিটেকনিক রোডে আনা হলে কান্নার রোল পড়ে যায়। নাহিয়ান ওই এলাকার বাকপ্রতিবন্ধী রিয়াজুল আমিন বাবুর একমাত্র ছেলে। গতকাল বাদ আছর পলিটেকনিক মসজিদ প্রাঙ্গনে নামাজে জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হয়।


বরিশাল জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে নাহিয়ান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এ পড়াশুনার সুযোগ লাভ করে। গত ২৯ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার বেইলী রোডের ৭ তলা ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুন নেভানোর পর হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।আগুন লাগা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকান রয়েছে। যেখানে খাবার খেতে যেয়ে বেশিরভাগ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এখানে তৃতীয় তলায় একটি পোশাকের দোকান ছাড়া ওপরের তলাগুলোতেও রয়েছে খাবারের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে খাবারের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় হয়। অনেকেই পরিবার নিয়ে সেখানে খেতে যান। অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতের তালিকায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রবাসী, বুয়েট ছাত্র-ছাত্রী সহ ৪৬ জন রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার পর তা ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি ক্রেনের সাহায্যে ভবনের সপ্তম তলা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামিয়ে আনতে থাকেন তাঁরা।

ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সর্বশেষ ৪৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেন এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন ভর্তি আছেন।




কুমিল্লাকে উড়িয়ে ইতিহাস লিখলো বরিশাল

বরিশাল অফিস :: এক যুগ ধরে লালন করা স্বপ্ন অবশেষে বাস্তব হলো ফরচুন বরিশালের। এ যেন এক রূপকথার গল্প। রোমাঞ্চকর বিপিএলগল্পের সব পর্বকে ছাড়িয়ে অন্যরকম এক পর্বের বাস্তব রূপায়ণই যেন দেখালো তামিম ইকবালের বরিশাল।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মতো শক্তিশালী দলকে উড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জেতার স্বাদ, এ যেন অন্যরকম অনুভূতি বরিশালের। বিপিএলে এর আগে তিনবার ফাইনাল খেললেও জিততে পারেনি শিরোপা। অবশেষে বরিশালের সেই হাহাকারের আনন্দময় সমাপ্তি হলো তামিমের হাত ধরে।

দারুণ এই জয়ে স্বপ্নপূরণ হয়েছে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহর মতো তারকাদের। এক যুগ ধরে শিরোপা ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষার করছিলেন বাংলাদেশের এই বড় দুই তারকা। আজ শেরে বাংলা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শেষ হলো তাদের সেই অপেক্ষার প্রহর।

ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে এসে হলেও অন্তত একবারের জন্য শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পেরেছেন ভায়রা ভাই মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। মাহমুদুল্লাহ তো ব্যাট হাতে বিজয়ীর বেশেই মাঠ ছেড়েছেন। যে কারণে, বিপিএলে নিয়ে আর কোনো আফসোস হয়তো থাকবে না এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারের।




ফাইনালে টস জয় বরিশালের, আগে ব্যাটিংয়ে কুমিল্লা

বরিশাল অফিস :: প্রায় দেড় মাসব্যাপী চলা দেশের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ, বিপিএলের পর্দা নামতে যাচ্ছে আজ (শুক্রবার)। আসরের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। দলটির সামনে একাধিক কীর্তি হাতছানি। হ্যাটট্রিক শিরোপাসহ মোট পাঁচটি শিরোপার।

এদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সেই রংপুরকে হারিয়েই ফাইনালের আরেক দল ফরচুন বরিশাল। এর আগে একবারও শিরোপা জয়ের স্বাদ নেওয়া হয়নি বাংলার ভেনিসের দলটির। এবার তাই দেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের হাত ধরে সেই স্বপ্নই বুনছে বরিশাল।

ঢাকা থেকে সিলেট, সিলেট থেকে ঢাকা, ফের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং শেষে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরে ফাইনাল মিরপুর হোম অব ক্রিকেটে। সেখানে ফাইনাল ম্যাচে টসে জিতেছে ফরচুন বরিশাল। সেখানে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির অধিনায়ক তামিম ইকবাল। আগের ম্যাচের অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই নামছে তারা।

বরিশাল একাদশ:
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, কাইল মায়ার্স, ডেভিড মিলার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জেমস ফুলার, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ওবেদ ম্যাককয়, তাইজুল ইসলাম।

কুমিল্লা একাদশ:
লিটন দাস (অধিনায়ক), মাহিদুল ইসলাম অংকন, তাওহিদ হৃদয়, জাকের আলী, জনসন চার্লস, মঈন আলী, আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারাইন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, রোহানাত দৌলা বর্ষণ।