শোভা ছড়াচ্ছে বসন্তের শিমুল ফুলের সৌন্দর্য

বরিশাল অফিস :: শীত বিদায় হয়েছে প্রকৃতি থেকে। প্রকৃতিতে চলছে বসন্ত। এরই মধ্যে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। শিমুল গাছে তাকালেই দেখা মিলছে লাল রঙের ফুল। যেন আকাশে ডানা মেলেছে। গাছের ডালে ও ফুলে বসে কোকিল মধুর কণ্ঠে কুহুতান করছে।

ভর দুপুরে এ দৃশ্য আকৃষ্ট করে পথচারীদের। শনিবার (২ মার্চ) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

ফসলের মাঠ সবুজে ছেয়ে আছে। মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে। ভেসে আসছে শিমুল ফুলের ঘ্রাণ। কোথাও টুকটুকে লাল, কোথাও হলুদ, কোথাও কমলা। দেখে মনে হয় কে যেন মুঠো মুঠো রং ছড়িয়ে দিয়েছে চারপাশে। প্রকৃতির এ রং, রূপ, বৈচিত্র্যের কারণ ঋতুরাজ বসন্ত।

মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কলকাকলিতে মুখর এলাকা। এ যেন কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতানে ফাগুনের উত্তাল হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে এসেছে ফাগুন।

স্থানীয়রা জানান, ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি রাঙিয়ে দেয় শিমুল ফুল। তবে কালের বিবর্তনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন কমে যাচ্ছে। এক যুগ আগেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিত এসেছে বসন্ত। এ ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন হচ্ছে শিমুল গাছ।

জানা যায়, এ গাছের সব অংশেই রয়েছে ভেষজগুণ। শীতের শেষে শিমুলের পাতা ঝরে পড়ে। বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে যায়। বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই নতুন গাছের জন্ম হয়। অন্য গাছের মতো এ গাছ কেউ শখ করে রোপণ করে না। নেওয়া হয় না কোনো যত্ন। প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর প্রিয় খাদ্য।

বর্তমানে মানুষ এ গাছ কারণে-অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি, দিয়াশলাইয়ের কাঠি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ কমে যাচ্ছে শিমুল গাছ।




মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই : এসএম জাকির হোসেন

বরিশাল অফিস :: আসন্ন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেছেন, একমাত্র খেলাধুলাই পারে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে। মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়তে খেলাধুলার বিকল্প নেই তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে।

শনিবার (২মার্চ) বরিশাল সদর উপজেলার সাহেবের হাট বি.কে ক্রিকেট টিভি কাপ টুর্ণামেন্ট এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসবক কথা বলেন তিনি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কমিনিউনিটি পুলিশ কেন্দ্রীয় ফেরামের সাধারন সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এসময় আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শিক্ষা ও ক্রীড়াঙ্গণে ব্যপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইনশআল্লাহ আমি বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হলে যুব সমাজ যাতে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই ডলার ইনকাম করতে পারে সেবিষয়ে ট্রেনিং সহ নানাভাবে সহযোগীতা করবো।

লঙ্কা বাংলার হেড অব এসএমই কামরুজ্জামান খান মাসুমের সভাপতিত্বে এসময় সাহেবেরহাট সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা শাহ পরান সুজন, চাঁদপুরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মোঃ টিটু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন প্রধান অতিথি এসএম জাকির হোসেন সহ অন্যান্য অতিথিরা।




কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের মৃত্যুতে রাশেদ খান মেনন এমপি`র শোক

খবর বিজ্ঞপ্তি  :: শহীদ আবদূর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক আজকের বার্তার সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুলের মৃত্যুতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি,

বরিশাল-২ আসনের সাংসদ কমরেড রাশেদ খান মেনন গভীর শোক এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

একই সাথে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি বরিশাল জেলা সভাপতি কমরেড নজরুল হক নিলু সাধারণ সম্পাদক এড.টিপু সুলতান, জেলা নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ফিরোজ এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ও যুব মৈত্রীর জেলা নেতৃবৃন্দ।




‘আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার নাঈম

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: ছেলেটার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষে চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবে। ডিগ্রিতে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে এক মাস আগে ঢাকায় যায়। মার্চে তার ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। গত মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ নেয়। তিন দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভবনে আগুন লেগে ছেলে মারা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না গ্রামের নান্টু হাওলাদার। বেইলি রোডের আগুনে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ছেলে নাঈম হাওলাদারসহ ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। নাঈম ওই ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় সর্বশেষ ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নান্টু হাওলাদার।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোন দিয়ে সে কান্দন লইছে। সে বলে, “আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো। আমার মার্কেটে আগুন লাগছে। আমি ছাদের ওপর আছি। আমার জন্য দোয়া কইরো।” আমি বললাম, লাইন কাটিস না। আমার কথা শোন, ছাদে উঠছো ছাদে থাক। আল্লায় একটা ব্যবস্থা করবেই। ছাদে তো আরও মানুষ আছে। সে বলে, “আমার ফোনে টাকা নাই।” আমি বলি, টাকা না থাকলে তুই ফোন কাইট্যা দে। আমি ফোন ব্যাক করতেছি। আমার সাথে কথা বললে তোর মনে সাহস বাড়বে। কিন্তু ফোনটা কেটে দেওয়ার পর আমি ফোন দিলে আর রিসিভ হয় না। শুধু রিং বাজে।’

 

একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন নান্টু হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘পরে টিভিতে খবরে দেখলাম ফায়ার সার্ভিস আইস্যা আগুন নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ছাদ থেকে লোকজন নামাইতেছে। তখন আশা নিয়া বসেছিলাম, আমার ছেলেও তো ছাদে আছে। ছাদের সব লোক নামাইছে কিন্তু আমার ছেলেকে তো কোথাও দেখি না। আধা ঘণ্টা পরে দেখি হঠাৎ কইরা দু-তিনজন আমার ছেলেকে ধরে ট্রলিতে শোয়াইয়্যা নিতেছে। তখন আমি চিৎকার মারছি, ওই আমার আব্বুকে নিয়া যায়। আমার আব্বু আর পৃথিবীতে নাই।’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনিএকমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি


নাঈমের বাবা ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন আর মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও নিজের পড়াশোনার খরচ জোটাতে নাঈম কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় কাজ নিয়েছিলেন। ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি থামছে না। নাঈমের বাবা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে, সেই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘আগুন আমার ছেলেটার স্বপ্ন পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারিয়ে গেছে। আমি অসুস্থ। আমাদের দেখাশোনার মতো আর কেউ থাকল না। আশা ছিল, ছেলেটা বড় হয়ে আমাদের দুর্দশা দূর করবে। সেই ছেলেটাই পৃথিবী থেকে চলে গেল। দেনায় জর্জরিত আমরা। ছেলের জন্য যে দোয়া অনুষ্ঠান করব, সে জন্যও অন্যের কাছে হাত পাততে হবে।’

ছেলেকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছেন নাঈমের মা লাকি বেগম। তিনি ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে। লাকি বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলেকে কল দিয়া বলি, এ গেদু তুই তো কাইলও একটু কল দিলি না। ও বলে, “মা একটু ব্যস্ত ছিলাম। একটা মার্কেটে কাজ নিছি। তুমি টেনশন করবা না। আমি সাবধানেই আছি। রাইতে ভিডিও কলে কথা বলমু আনে, বলে ফোন কাইট্যা দেছে।” এই পর্যন্ত আমার সোনা বাবার সাথে আমার কথা হয়। এই শেষ কথা ওর সাথে। আমার আব্বায় আর কথা কয় নাই।’

লাকি বেগম বলেন, ‘এই রকম হইবে বুঝলে আমি কইতাম, তুমি ওইখান দিয়া এখনই যাও। আমি যা কইতাম হেইআই আমার ময়নাডা শোনতে। হের আগে যেহানে ছিলা অনেক শান্তিতে ছিলা। ডেইলি দুইফির তিনফির ফোন দিয়া কথা কইছে। কইছে, “মা আমি শান্তিতে আছি। তুমি টেনশন করবা না। তোমার আর কষ্ট করা লাগবে না। আমি আইছি কামাই (কাজ) করতে। তোমাগো আর কষ্ট লাগবে না। যত মানে (লোকে) টাহা পয়সা পায়, সব আমি শোধ করমু।”’ তিনি বলেন, ‘এখন কেডা দেখবে আমাগো। আর জিগাইন্যা মানুও নাই।




বরিশালে ভোটার দিবসে র‌্যালি

বরিশাল অফিস :: “সঠিক তথ্যে ভোটার হবো, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো” শ্লোগানকে সামনে রেখে নগরীতে জাতীয় ভোটার দিবসের র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি তরুণ প্রজন্মের প্রতি জ্ঞানার্জন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাহসী ভূমিকা পালনের উপদেশ দিয়েছেন। তিনি উপস্থিত সকলকে আগামী নির্বাচনগুলোতেও বরিশাল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক ও যোগ্য প্রার্থীদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহবান করেন।

শনিবার সকালে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ পারভেজ হাসান। এর আগে নানাবিধ সেবা কার্যক্রম, বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

একইদিন গৌরনদীতে ভোটার দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার সকালে উপজেলা চত্বর থেকে বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। শেষে উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান সহ অন্যান্যরা।




বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ ও মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: বরগুনা প্রেসক্লাবে ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বেলা ১১টায় বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বরে ঘন্টাব্যাপী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ ও মানববন্ধনে বরগুনার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বরগুনা প্রেসক্লাব, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, জেলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম, জেলা প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিক ফোরাম, জেলা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মোস্তফা কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ মিয়া, বরগুনা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি অ্যাড. এম মজিবুল হক কিসলু, অ্যাড. সঞ্জীব কুমার দাস, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার, জেলা প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, জেলা অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবু জাফর সালেহ, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক গ্রামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক মিঠু, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মইনুল আবেদীন খান সুমন, অ্যাড. মাইনুল ইসলাম, বরগুনা জেলার রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান মান্নু, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি ইত্তিজা হাসান মনির প্রমুখ।

 

সমাবেশ ও মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বরগুনায় অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলো। তাদের এসব অপকর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বরগুনা প্রেসক্লাবের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এ হামলা চালায়। বক্তারা এই হামলার সাথে জড়িত আসামিদেরকে দ্রুত গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বরগুনা প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য যখন শিক্ষা সফর উপলক্ষে কোলকাতা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি কুচক্রী দল বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। এসময় তারা প্রেসক্লাব দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজসহ একাধিক সদস্যকে লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা। বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাসুদ তালুকদারের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় ২৯ ফেব্রুয়ারি দ্রুত বিচার আইনে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করা হয়।

বরগুনা প্রেসক্লাবের পক্ষে মামলা (নং ১৮/২৪) দায়ের করেন সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার। এ মামলার আসামীরা হলেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাসুদ তালুকদার (৪৫), মুশফিকুল ইসলাম আরিফ (৪০), হারুন অর রশীদ রিংকু (৪৫), সগির হোসেন (৪০), শাজনুস শরীফ (২৫), আল আমিন (৩২), জাফরুল হাসান রুহান (৪০), রাকিবুল ইসলাম রাজন (২৮), মো. মিরাজ (৩৪), আনোয়ারুল ইসলাম (৫০), সানাউল্লাহ (৩০), জহিরুল ইসলাম (৩৮), জুয়েল মোল্লা (৩৬), রিমন (৩৮), জুলহাস (৪২), রিমন (৪০) এবং রাশেদ আহমেদ বশির (৪৯)।




বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল’র পরবর্তী আসরের খেলা আয়োজনের দাবি

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) দশম আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৬ ইউকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরচুন বরিশাল। তবে বরিশাল স্টেডিয়ামে সরাসরি বিপিএল খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। দশম বিপিএল’র একটি ম্যাচও হয়নি বরিশাল স্টেডিয়ামে। এর আগের ৯টি আসরেও বিপিএল’র কোনো ম্যাচ হয়নি বরিশালে।

এমনকি বিপিএল’র আগামী আসরেও বরিশাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়নি কোনো ম্যাচ। এতে ক্ষোভ আর হতাশা সৃষ্টি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। ২৯.১৫ একর আয়তনের বরিশাল শহীদ আবদুর রব সেরনিয়বাত স্টেডিয়াম দেশের অন্যতম বৃহতম। গত ১৯ জানুয়ারী ১০ম বিপিএল শুরু হয়।

১ মার্চ ফাইনালে ফরচুন বরিশালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে এবারের আসর শেষ হয়। এবারের বিপিএল এ ৪৬টি ম্যাচের একটিও আয়োজন করা হয়নি বরিশাল স্টেডিয়ামে। ঢাকার মিরপুর এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিপিএল’র সব ম্যাচ। টানা ১০ম বার বিপিএল খেলা অনুষ্ঠিত হলেও বরিশাল স্টেডিয়ামে কোন ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ক্রিকেটাররা।

সাবেক ক্রিকেটার ও স্থানীয় কোচ মাহমুদুল হায়দার তামিম বলেন, বরিশালে বিপিএল তো দূরের কথা। ৭ বছর ধরে স্থানীয় লীগের খেলা বন্ধ। স্টেডিয়াম রেডি না। আবাসনের ব্যবস্থা নেই। ব্রডকাস্টের ব্যবস্থা নেই।

ঘরের মাঠে নতুন প্রজন্ম জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে পাড়লে তাদের খেলায় উন্নতি হয়। নতুন খেলোয়াররা উৎসাহিত হয়। বরিশাল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করে আগামীতে বিপিএলসহ আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট কোচ তাসরিকুল ইসলাম টোটাম বলেন, বিপিএল আন্তর্জাতিক মানের খেলা। ওই মানের খেলা আয়োজনের মাঠ নেই বরিশালে। আড়াই বছর ধরে স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজই শেষ হয় না। বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল খেলা হলে স্থানীয় ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নতি হবে। ওই মানের খেলা বরিশালে আনতে পারলে ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই ভালো। অবকাঠামো সহ সবকিছু ডেভলপ হবে। কিন্তু বরিশালে বিপিএল কিংবা আন্তর্জাতিক মানের খেলা হচ্ছেনা। তিনি বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল, এনসিএল এবং বিসিএল এর ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানান।

বরিশালের ক্রীড়া সংগঠক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর প্রদীপ কুমার গাঙ্গুলী বলেন, ১০ম বিপিএলের কোনো ম্যাচ হয়নি বরিশালে। এর আগের ৯টি আসরেও বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল’র কোনো খেলা হয়নি। এটা হতাশার।

তিনি বলেন, আগামী বছর খুলনায় বিপিএল’র ভেন্যু দেয়া হয়েছে। বরিশাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের ৫টি পিস নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ ফিল্টারিং হয়েছে। অথচ আগামী বছর বিপিএল’র জন্যও বরিশালে ভেন্যু দেয়া হয়নি। এটা দুঃখজনক। বরিশালের স্থানীয় ক্রিকেটের উন্নয়নে আগামী বছর বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল সহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানান তিনি।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী স্প্রিংলার সিস্টেম আউট ফিল্ড, আন্তর্জাতিক মানের ড্রেসিং রুম, ভিভিআইপি বক্স, মিডিয়া সেন্টার, প্রেস কনফারেন্স রুম, ব্রডকাস্ট রুম, রেডিও রুম, ধারাভাষ্য রুম, সাংবাদিক লাউঞ্জ, কন্ট্রোল রুম, থার্ড আম্প্যায়ার স্পেস, প্যাভেলিয়ান ভবনের দুই পাশে উন্নত মানের টেপরন গ্যালারী সেড এবং স্টেডিয়ামের বাইরে ডরমেটরী ভবন, ইনডোর ক্রিকেট প্রাকটিস, প্লেয়ার ড্রেসিং রুম, অভ্যন্তরীন সড়ক ও প্রধান গেট নির্মাণের কথা রয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রকৌশলী শিবু লাল খাসকেল জানান, বরিশাল স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়েছে। নতুন করে ফ্লাড লাইটের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। ফ্লাড লাইট স্থাপনের মধ্য দিয়ে বরিশাল স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের কাজ শেষ হবে।




বরিশালের অগ্নিকান্ডে পাঁচটি বসতঘর ভষ্মিভূত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের পূর্ব বয়সা গ্রামের পাঁচটি বসতঘর অগ্নিকান্ডে সম্পূর্ন ভষ্মিভূত হয়েছে। খবরপেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

শনিবার ( ২ রা মার্চ) বিকেল ৫ টার দিকে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার মোঃ বিপুল হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ন
ভষ্মিভূত হয়েছে। চুলার আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থর। অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের কাজ চলছে বলে।




প্রধানমন্ত্রী দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন: জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের গড়ে দেয়া শক্ত ভিক্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (২রা মার্চ) ‘জাতীয় ভোটার দিবস
উপলক্ষে,বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তৃতা তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের জ্ঞানার্জন, শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাহসী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে,সন্ত্রাসমুক্ত,মাদকমুক্ত উন্নত ও আধুনিক বরিশাল গড়া সম্ভব। এ সময়ে তিনি, উপস্থিত সকলকে আগামী নির্বাচনগুলোতেও বরিশাল এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আন্তরিক ও যোগ্য প্রার্থীদেরকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গৌতম বাড়ৈ, বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দীন এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী।




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে’ বরিশালে ঠাঁই হয়েছে হাজারও ভূমিহীন পরিবারের

বরিশাল অফিস :: উপজেলা সদরের চরমোনাই গিলাতলী ও টুঙ্গিবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের দৃষ্টি-নন্দন গৃহগুলো নজর কেড়েছে বরিশাল জেলার বাসিন্দাদের। বেদে সম্প্রদায়, সহায় স্বম্ভলহীন, অসহায় ভূমিহীন সেই সব মানুষগুলো এখন স্বপ্ন দেখছে সুন্দর ভাবে বেচেঁ থাকার। বর্তমান সরকার প্রধান ৪র্থ ধাপে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ জেলার ভূমিহীনদের আয়বর্ধক পরিবারে উন্নীত করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি উদোগ্যের ১টি উদোগ্য। প্রায় প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গিলাতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পে আসা দশনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’র গৃহ নির্মাণের সঠিক নির্মাণ কৌশল দেখে প্রশংসাও করেছেন দর্শনার্থীরা।

বরিশাল জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিগত প্রায় ১ মাস ধরে গিলাতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহগুলো দেখতে আসেন। বর্তমানে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’ টেকসই ঘর নির্মানে জেলার সদর উপজেলার গিলাতলা, টুঙ্গিবাড়িয়া, সাপানিয়া, তালুকদার হাটসহ বেশ কিছু স্থানে উপকার ভোগীদের মধ্যে ৪র্থ ধাপের গৃহ নির্মাণ করে তা প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, ‘আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জেলার বহু অসহায় মানুষের মাঝে ৪র্থ ধাপে জমিসহ গৃহ বুঝিয়ে দেয়। জেলার সদর উপজেলায় ৮১২টি, বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৫৪৩টি, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ৯১৫টি, উজিরপুর উপজেলায় ৫৩৩টি, বানারীপাড়া উপজেলায় ৬৮৫টি, গৌরনদী উপজেলায় ৭৪১টি, মুলাদী উপজেলায় ৪৪৫টি, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৪৬৬টি, হিজলা উপজেলায় ৫৭৩টি, ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২২২টি।

সর্বমোট প্রায় ৫ হাজার ৯ শত ৩৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমি ও গৃহ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাঝেই নির্মাণ করা হয়েছে শিশুদের খেলাধুলার জন্য একটি পার্ক।

সরোজমিনে জেলার একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখাগেছে, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’-এর আওতায় জমিসহ গৃহ পেয়ে এই মানুষগুলোই আজ আয়বর্ধক পরিবারে উন্নীত হয়ে উঠেছে। নদী ভাঙ্গনের শিকার, ভূমিহীন, বেদে সম্প্রদায়, সহায় স্বম্ভলহীন প্রতিটি মানুষের বসতি যেন আজ বর্তমান সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে। জমিসহ গৃহ পেয়ে তারা আজ নিজ নিজ আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছে এক একটি খামার। কেউ গড়ে তুলেছে সবজি বাগান, কেউবা হাসঁ-মুরগীর খামার। তারা তার পরিবারকে গড়ে তুলেছে আয়বর্ধক পরিবারে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার নাসরীর বেগম কষ্টের দিনগুলো মনে করে কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তিনি বলেন, এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছি। সেই সব কষ্ঠে দিন এখন আমাদের পরিবারে আর নেই। সেই সব ভাবনা এখন আর নেই। নিজেদের একটা ঠিকানা হয়েছে এই যথেষ্ঠ। এজন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, স্বামী শহরে রিকশা চালায় ও আমি একটি হাসঁ-মুরগীর একটি ছোট খামার গড়ে তুলেছি। সেই খামার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করি।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম চলমান প্রকল্পের সাফল্যর উদাহরন দিয়ে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুনর্বাসিত সুবিধাভোগীরা আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। পর্যায়ক্রমে জেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের ভূমি ও গৃহ নেই, তাদের বসবাসের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় বাসিন্দাদের বর্তমান সরকার শুধু থাকার সুযোগই সৃষ্টি করেনি। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ, স্বাস্থ্য সেবা, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিদ্যুতায়ন, শিশুপার্ক এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।