বরিশালে আন্তজার্তিক নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: নারীর সমঅধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ এই স্লোগান কে সামনে রেখে শুক্রবার( ৮ মার্চ) সকালে বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে গিয়ে শেষ হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার বরিশাল মোঃ শওকত আলী।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম সভাপতিত্বের বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জুলফিকার আলী হায়দার,নারী নেত্রী অধ্যাপিকা শাহ্ সাজেদা, বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুল নাহার মুন্নিসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দরা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

 




ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে বরিশালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধায়

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিসিসি মেয়র সহ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ এবং নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড সভাপতি সম্পাদক সহ সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং সকল প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তা ফুলের শ্রদ্ধায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ কর্মসূচি পালন করে।

বৃহস্পতিবার (৭ই) মার্চ সকালে নগরীর বান্দরোডস্থ বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ম জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বিভিন্ন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতি কর্মীদের সাথে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এরপরই মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীর হোসাইন ও সাধারন সম্পাদক সাবেক বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে মহানগর সহ ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গভীরভাবে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবসটি স্মরন করে।

 




বম্বে মরিচ চাষ করে পটুয়াখালীর গাজী হেমায়েত উদ্দিনের লাখ টাকা আয়

বরিশাল অফিস :: গাজী হেমায়েত উদ্দিন (৩০) স্নাতকোত্তর পাস করার পর চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে কৃষিকাজে জড়িয়েছেন, পেয়েছেন সাফল্যও। চলতি বছর তিনি শুধু বম্বে মরিচ চাষ করে উপার্জন করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে বছরব্যাপী বম্বে মরিচ চাষ করে এমন সাফল্য পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সবজি চাষ করে তাঁর আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু হেমায়েত নন, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের কৃষকদের দিন ফিরেছে বম্বে মরিচ ও সবজি চাষ করে। অথচ কয়েক বছর আগেও আমন ধান ছিল এ অঞ্চলের একমাত্র ফসল।

জেলা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা গ্রামে হেমায়েতের বাড়ি। বাড়ির পাশেই পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জমিতে হেমায়েত গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। ওই খামারে গিয়ে সম্প্রতি দেখা যায়, ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচের গাছ। পুরো খেতজুড়ে তিনি পলিথিনের ছাউনি দিয়েছেন, যাতে অতিবর্ষণ বা অধিক তাপে মরিচগাছের ক্ষতি না হয়।

হেমায়েত বলেন, দেশে চাকরির অভাব। তাই তিনি স্নাতকোত্তর পাস করার পর স্বাবলম্বী হওয়ার চিন্তা করেন। তিনি ধনে, লালশাক, পালংশাক, মুলা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মিষ্টি আলু, তরমুজসহ বছরব্যাপী মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করেন। বর্ষাকালে পানিতে খেত যেন তলিয়ে না যায়, সে জন্য মাটি দিয়ে উঁচু করে খেত করেছেন। তিনি ২ বছর ধরে ৩৫ শতাংশ জমিতে বম্বে মরিচ চাষ করেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় মরিচ থেকে ভালো লাভ হয়েছে তাঁর।

শুধু হেমায়েত নন, তাঁর কলেজপড়ুয়া অপর দুই ভাই মাহফুজ গাজী ও আবদুল্লাহ গাজীও সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে সফল হয়েছেন। তাঁদের সাফল্য দেখে এলাকার আরও ১৪-১৫ জন কৃষক বম্বে মরিচ উৎপাদন করছেন।

একই এলাকার কৃষক জাকির বলেন, তিনি তরমুজসহ মৌসুমভিত্তিক সব ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে বম্বে মরিচ চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। গ্রামে উৎপাদিত বম্বে মরিচ স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেন। সুগন্ধিযুক্ত হওয়ায় তাঁদের উৎপাদিত বম্বে মরিচের চাহিদা বেশি। প্রতিটি বম্বে মরিচ ২ থেকে ৩ টাকা এবং প্রতি কেজি মরিচ ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন।

জাকির আরও বলেন, বম্বে মরিচ ছাড়াও পাখিমারা, কুমিরমারাসহ আশপাশের ১৫টি গ্রামে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি শাকসবজির খেত আছে। এসব সবজি কলাপাড়া উপজেলা শহরের চাহিদা মিটিয়ে পটুয়াখালী, বরিশাল, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্ধারমানিক নদের একটি শাখানদী বা খাল নীলগঞ্জের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পাখিমারা এলাকায় এটি পাখিমারা খাল এবং কুমিরমারা এলাকায় কুমিরমারা খাল নামে পরিচিত। এই খালের পানির লবণাক্ততার কারণে নীলগঞ্জে একসময় একটিমাত্র ফসল হতো। ২০০৫ সালে স্থানীয় কৃষকেরা সারা বছর ফসল চাষের জন্য খালের পানি সংরক্ষণে চারটি অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেন এবং এই প্রচেষ্টার ফলে তাঁরা মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হন। এরপর ধীরে ধীরে ১৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার কৃষক আমন ধানসহ সবজি চাষে সাফল্য পেতে শুরু করেন।

এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান, একসময় উচ্চ লবণাক্ততার কারণে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে শুধু আমন ধানের চাষ হতো। তবে এখন এ এলাকায় বছরজুড়ে রাসায়নিকমুক্ত সবজির চাষ হচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আর এম সাইফুল্লাহ জানান, নীলগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে সুগন্ধিযুক্ত বম্বে মরিচের উৎপাদন হয় এবং বছরব্যাপী উৎপাদন হওয়ায় এ মরিচের চাহিদা ও দাম ভালো। গ্রামের কৃষকেরা বছরব্যাপী শাকসবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তাঁরা কৃষকদের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন। ওই এলাকায় বম্বে মরিচসহ প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ টন সবজি উৎপাদিত হচ্ছে, এর মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা।




বরিশালে আবাসিক হোটেলে মাসজুড়ে অভিযানে আটক -২৫

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীরআবাসিক হোটেলে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। অভিয়ানে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় নারী, পুরুষসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল।

মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা রুবিনা আক্তার প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিএমপির বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ গত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বিভিন্ন দিনে মহানগরের বেশকিছু আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে।

যারমধ্যে নগরের নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হোটেল সুইডেন প্যালেস, ফলপট্টি মোড় এলাকার হোটেল নক্ষত্র প্যালেস, মহসিন মার্কেট এলাকার হোটেল মনপুরা, চাঁদমারি এলাকার হোটেল আজাদ, পোর্ট রোডস্থ বাকেরগঞ্জ আবাসিক হোটেলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকায় নারী ও পুরুষসহ ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




বরিশালে ‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী, ইমামের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে মসজিদের ইমামের ধর্ষণে দশম শ্রেণিপড়ুয়া ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বার অভিযোগে আদালতে নালিশি মামলা হয়েছে।

বুধবার (৬ মার্চ) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। বিচারক মো. ইয়ারব হোসেন অভিযোগ এজাহার হিসেবে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

আসামি আবু বক্কর ছিদ্দিক বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কাজলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দক্ষিণ কাজলাকাঠী মিরুল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কাজী হুমায়ুন কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আবু বক্কর ছিদ্দিক চার বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করেন। মসজিদের পাশের একটি কক্ষে বাস করতেন তিনি। সেখানে ওই মেয়েকে তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ১৭ জুন তাকে প্রথম ধর্ষণ করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হলে তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ৩ মার্চ তাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যায় পরিবার। তখন শারীরিক পরীক্ষায় তার ৩৫ সপ্তাহ ৬ দিনের অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি সামনে আসে।’

এ ঘটনায় প্রথমে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে আদালতে মামলা হয়েছে।

 




বরিশালে দুর্নীতির মামলায় ভূমি কর্মকর্তা কারাগারে

বরিশাল অফিস :: বরিশালে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান পান্নাকে জেলে পাঠিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত।

বুধবার (৬ মার্চ) এ নির্দেশ দেন আদালত। এর আগে সদর উপজেলার চন্দ্র মোহন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা পান্না বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। কিন্তু সেটি মঞ্জুর না করে বরিশাল বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মেহেদি আল মাসুদ তাকে জেল হাজতে পাঠানের আদেশ দেন।

মিজানুর রহমান পান্না বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মনসা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৭১৭ টাকার তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৩৫ লাখ ২৫ হাজার ৩১৮ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পান্নার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুদকের বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক রণজিৎ কুমার কর্মকার এ মামলা করেন।

২০২৩ সালের ১০ অগাস্ট বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাজ কুমার সাহা একমাত্র আসামি চরকাউয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পান্নাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

তিনি আরও বলেন, আজ (বুধবার) সরকারি কর্মকর্তা পান্না আসামি হিসেবে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করেন। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলে পাঠিয়েছেন।




বাংলার শষ্য ভান্ডার’ খ্যাত বরিশালে কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেই প্রায় ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃাষ অঞ্চলে ফসল আবাদ ও উৎপাদনে নানা বৈচিত্র কৃষকদের সাথে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তবে এখনো প্রকৃতির রুদ্ররোষের বিরুদ্ধে নিরন্তর লড়াই করেই এ অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাদের জীবন কাটে। অতীতে বরিশাল অঞ্চলে কৃষি ব্যবস্থা বলতে শুধু ধান’কে বোঝালেও কালের বিবর্তনে সেখানে গম, ভুট্টা, ডাল সহ নানা দানাদার খাদ্য ফসল সহ তরমুজ ও সূর্যমুখীর মত অপ্রচলিত রসালো ও তেল জাতীয় ফসল স্থান করে নিচ্ছে। ফলে কৃষিতে নানা বৈচিত্রের মত কৃষকের ভাগ্যেরও ক্রমে পরিবর্তন ঘটছে। বিশে^র শতাধিক দেশে বাংলাদেশের যে কৃষিপণ্য রপ্তানী হচ্ছে, সেখানে বরিশালের অবদানও অপরিসীম। এ অঞ্চলে শুধু দানাদার খাদ্য উৎপাদনের পরিমান এখন প্রায় ৫০ লাখ টন।


‘বরিশালের বালাম চাল’এর খ্যাতী এ উপমহাদেশ জুড়েই ছিল অনেকের মুখে। নানা প্রবন্ধ ও কবিতা সহ শিল্পীর গানেও এ কথা উঠে এসেছে বার বার। সেই বরিশালের কৃষি ব্যবস্থায় নানা ফল ও ফসল উৎপাদনেও বৈচিত্র এসেছে। এমনকি ‘মাচান পদ্ধতি’ এবং ‘সারজন পদ্ধতি’ সহ নানা আধুনিক লাগসই প্রযুক্তিতে বরিশাল অঞ্চলে শাক-সবজি সহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চারা বীজ সারা দেশে বিক্রী হচ্ছে। প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপদনের লক্ষ্য নিয়ে ৩ লাখ ৭০ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদও প্রায় শেষের পথে। বিদায়ী ‘খরিপ-২’ মৌসুমে তিন দফার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে প্রায় ২৩ লাখ টন আমন চাল ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বরিশালের কৃষিযোদ্ধারা। দেশে উৎপাদিত আউশের প্রায় ৬০ ভাগের উৎপাদন এ অঞ্চলে।

 


সারা দেশে উৎপাদিত মুগ ডালের ৮০ ভাগ ও খেশারী ডালের ৪০ ভাগ এ অঞ্চলে আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মিষ্টি আলুর প্রায় ৬০ ভাগই আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। এমনকি গম আবাদেও বরিশাল কৃষি অঞ্চল ক্রমে সৃমদ্ধ হচ্ছে। সারা দেশে আবাদকৃত তরমুজের ৮০ ভাগেরও বেশী আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। গত রবি মৌসুমে দেশে আবাদকৃত ৭৫ হাজার হেক্টরের ৬৪ হাজার হেক্টর তরমুজের আবাদ হয় বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ত-ডিএই’র মতে, গত বছর প্রায় ৩০ লাখ টনের মত তরমুজের উৎপাদন হয় শুধু বরিশালেই।

কৃষি উৎপাদনের ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ উন্নতজাতের ডাল ফসল ও তেল ফসল সহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ফলনশীর জাত উদ্ভাবন করেছে। এমনকি ‘বারি আম-১১’ নামের বারমাসী নতুন জাতের আম-উদ্ভাবন করেছে কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট। যার আবাদ ও উৎপাদনও ক্রমশ বাড়ছে বরিশালে। ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বরিশালের ১২ মাসী আম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন কৃষিবীদরা।

আটঘর-কুড়িয়ানা সহ ভিমরুলী এলাকার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতিবছর অন্তত ৩০ হাজার টন পেয়ারা এখন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে পাশর্বর্তী দেশের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতেও যাচ্ছে। বরিশালের অমড়া’র সুখ্যাতিও দীর্ঘদিনের। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও ‘বরিশালের আমড়া’ বাজার করে নিয়েছে।

সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সুমিষ্ট মাল্টার চাষ ও উৎপাদন হতে শুরু করেছে। যার চারা-কলম সরবরাহ হচ্ছে বরিশালের বানরীপাড়া ও নেছারাবাদ থেকে। এমনকি সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে বরিশালে প্রায় ১০ হাজার টন মাল্টার উৎপাদন হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বরিশাল অঞ্চলে সীমিত আকারে স্ট্রবেরী’ এবং ‘ক্যাপসিকাম’এর সফল আবাদের আশাব্যঞ্জক সম্প্রসারণ ঘটছে।

চলতি রবি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ হেক্টর জমিতে ডাল, তেলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল সহ বিভিন্ন ধরনের রবি ফসল আবাদের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন কৃষিযোদ্ধারা। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে প্রায় ১৫ লাখ টন শীতকালীন শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া ৬০ হাজার হেক্টরে ১.৬০ লাখ টন গম, ১৪ হাজার হেক্টরে মিষ্টি আলু, ১০ হাজার হেক্টরে গোল আলু, ১২ হাজার হেক্টরে ভুট্টা, আড়াই হাাজার হেক্টরে আখ, সাড়ে ৬ হাজার হেক্টরে শশা-ক্ষিরাই ও মর্মা ছাড়াও প্রায় দেড় হাজার হেক্টরে ফুট আবাদের লক্ষ্য অর্র্জনে কাজ শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি যোদ্ধারা।

এমনকি বরিশাল অঞ্চলে এবার প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টরে মসলা জাতীয় ফসলেরও আবাদ হচ্ছে। যার মধ্যে মরিচই আবাদ হচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরে। সারা দেশে আবাদ ও উৎপাদনের ৩৫ ভাগ পেয়াজের উৎপাদন বরিশাল কৃষি অঞ্চলে। পাশাপাশি রসুন ছাড়াও ধনিয়া,আদা,কালোজিরা ও হলুদেরও আবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ‘বারি’ উদ্ভাবিত পেয়াজ ও রসুন সহ অন্য সব ধরনের ফসলের উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার সহ আবাদ সম্প্রসারণের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাগিদ দিয়েছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।


একই সাথে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উন্নত জাত ও উচ্চ ফলনশীল সব ধরনের ফসলের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগকেও কাজে লাগানোর পরামর্র্শ দিয়েছেন কৃষিবীদরা। এ লক্ষে ডিএই’র জেলা থেকে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব পালনে সমন্বিত ও আন্তরিকতাপূর্ণ কর্মকান্ডের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদরা।

 




বরিশালে প্রতিশ্রুতির জালে বন্দী গ্রামের অসংখ্য সড়ক

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: কিছু সড়কের কাজ হয়েছে। কিছু আছে অসমাপ্ত, আবার কিছু সড়কের আধাআধি বরাদ্দ হয়েছে বাকী অর্ধেক অনিশ্চিত। তবে হবে এমন প্রতিশ্রুতির জালে আটকে আছে বরিশালের ৮৭ ইউনিয়নের ১ হাজার ১১৬টি গ্রামের উন্নয়ন।

একই চিত্র সড়কের উপর বেইলি ব্রিজ ও কালভার্টের। গত পাঁচ বছরে স্থানীয় সরকার ও সড়ক বিভাগের বরিশালের চিত্র তুলে ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিভিন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের অনেকেই। বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নের গত ১৫ বছরের সড়কের উন্নয়ন চিত্র তুলনা করলে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে অনেক পিছিয়ে বরিশাল জেলা। পদ্মা সেতুর সুফল পেতে মহাসড়কের মহা উন্নয়ন অগ্রগতি চলমান থাকলেও অবহেলিত থেকে গেছে মহাসড়ক সংলগ্ন সংযোগ সড়কগুলো। সবচেয়ে বেশি অবহেলিত চর এলাকা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদি উপজেলার সড়ক ব্যবস্থা।

বরিশাল সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামে স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক কিছু উন্নয়ন কাজ শুরু করলেও বিগত বছরগুলোতে তার কাজের বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নিজ দলের লোকেরা। তারপরও ২০১৯ সাল থেকে বরিশাল সদর উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে দুইশ’ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও পাকাকরণের মাধ্যমে উপজেলার দশ ইউনিয়নের গ্রামগুলোর মধ্যে সড়ক যোগাযোগের উন্নতি করার চেষ্টা হয়েছে। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজসহ সাড়ে ৪শ’ মিটার সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হবার সুবাদে তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে সদরের চরকাউয়া ও চরবাড়িয়া এলাকায়।

সে তুলনায় মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা ও মুলাদি উপজেলার কোনো উন্নয়নই হয়নি বলে দাবী উপজেলা চেয়ারম্যানদের। এসব উপজেলার বাসিন্দারা এখনো রাত হলে গৃহবন্দী জীবন যাপন করছেন বলে জানান, বরিশাল মুলাদি উপজেলার চেয়ারম্যান তারিকুল হাসান মিঠু, হিজলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মাহফুজুল আলম।

সড়ক ও নদী ভাঙনের বেহাল অবস্থা তুলে ধরে হিজলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, বরিশালে বসে ফোনে নয়, একবার আমাদের মাঝে এসে আমাদের সাথে দুটো দিন কাটিয়ে দেখুন।

 

তাহলে এখানকার বাসিন্দাদের অবস্থা বুঝতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, স্প্রিডবোটে নয়, সড়ক পথে বরিশাল থেকে হিজলা আসলেই স্পষ্ট হবে কতটা উন্নয়ন হয়েছে এখানের সড়কের। আর মেহেন্দিগঞ্জের জলবন্দী উপজেলার চিত্রতো সর্বজন স্বীকৃত বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের কল্যানে। আর উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম বলেন, সড়কে বরিশাল যাওয়ার তুলনায় নদীপথে বরিশাল যাওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ। তবে রাত আটটার পর গৃহবন্দী জীবন আমাদের। অসুস্থ হয়ে মরে গেলেও শহরে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, এই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।

অসংখ্য সড়ক ও সংযোগ সেতু প্রয়োজন। সারা শরীরে রোগ। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যতটুকু বরাদ্দ পেয়েছি তা দিয়ে যেটুকু সম্ভব উন্নয়ন হয়েছে। আগামী ১০ বছর লেগে যাবে এর উন্নয়নে।


সেদিক দিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জ, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও সদর উপজেলার চিত্র অনেক উন্নত। আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, বিগত পাঁচ বছরে এলাকার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। কিছু অভ্যন্তরীণ সড়ক ও সেতুর কাজ টেন্ডার হয়েছে, বরাদ্দ না আসায় এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। তবে সড়ক ও সেতু নিয়ে সংকটে উজিরপুর ও বানারিপাড়ার বেশকিছু গ্রাম। বিগত সময়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহ আলম এর সাথে বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের দ্বন্দ্বে আটকে ছিলো এই এলাকার উন্নয়ন। এমনকি ফেরী আটকে রেখে নৌকায় চলাচলে বাধ্য করা হয়েছে বলেও একাধিক অভিযোগ এখানে। বহুল আলোচিত উজিরপুরের শাপলা বিলের সাতলা গ্রামের সড়কের তার প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে আছে এখনো।

সেদিক দিয়ে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে সদর উপজেলার গ্রামে দাবী করে বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বরিশাল সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ২শ’ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ এখনো চলমান রয়েছে । ঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে দশ ইউনিয়নে নির্মাণ করা হয়েছে ১১৫টি সাইক্লোন শেল্টার। শুধু তাই নয় গ্রামাঞ্চলে নিরাপদ পানির জন্য এ পর্যন্ত ১ হাজার ২১০টি ডিপটিউবয়েল স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাসহ দশ ইউনিয়নের ৫৩৪টি গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়া হয়েছে । আর্থিক প্রণোদনা ও সার-বীজ প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




র‍্যাবের হাতে ধরা ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে ইমাম হাসান নামে ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ইমাম হাসান নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৮।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) পটুয়াখালীর নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ইমাম হাসান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন বহিষ্কৃত সদস্য। ইমাম হাসান ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বিমান বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ যুবককে আটকে রাখা এবং টাকা দাবির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হয়, যেখানে দেখা যায় ইমাম হাসান ডিজিএফআই কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে একজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ভিডিও চিত্রটি পটুয়াখালী র‍্যাব-৮ এর নজরে আসে। এ সময় তার সম্পর্কে ভুয়া ডিজিএফআই কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তার কাছ থেকে ডিজিএফআইয়ের একটি ভুয়া আইডি কার্ডসহ লক্ষাধিক টাকার একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭১৮০ (সাত হাজার একশত আশি) টাকা পাওয়া যায়।

ইমাম হাসানকে পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 




বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্তাল- সংগঠিত হতে শুরু করে মুক্তিপাগল মানুষ

বরিশাল অফিস :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর পরই উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা বরিশাল।

সংগঠিত হতে শুরু করেন এতদাঞ্চলের মুক্তিপাগল মানুষ। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বরিশালে চালু হয় ‘স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয়’। যা একমাস কার্যকর ছিলো। সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। যুদ্ধও পরিচালিত হয়েছে স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয় থেকে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সামরিক সরঞ্জাম, খাদ্য-অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হতো ওই সচিবালয়ের মাধ্যমে।

সে সময় বরিশালে পত্রিকা আসতো একদিন পর। তাই বঙ্গবন্ধু কি বলেছেন, ঢাকার খবর কি? এসব জানতে স্থানীয় নেতাদের বাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় করতেন মুক্তিপাগল মানুষ। বিশেষ করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও এমএলএ নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের বাসা হয়ে উঠেছিলো মুক্তিপাগল মানুষের সমাবেশস্থল।

শহরের পেশকার বাড়ির আঙ্গিনায় মানুষের ঠাঁই দেয়া একসময় অসম্ভব হয়ে পরে। পেশকার বাড়ির অপরপ্রান্ত হেমায়েত মঞ্জিলের সামনে এবং কৃষি অফিস চত্বরে মানুষ অবস্থান করতো মধ্যরাত পর্যন্ত। প্রচন্ড উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ পাওয়ার জন্য অস্থির ছিলেন বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ। বরিশাল শহরে স্থায়ী মঞ্চ করে প্রতিদিন চলতে থাকে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণসংগীত।

বরিশাল অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও তৎকালীন এমএলএ নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের আত্মজীবনীমূলক বইয়ে স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি স্থাপন করা হয়েছিল বর্তমান বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে পরে স্থাপন করা হয়েছে ‘স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয়’এর একটি স্মারক।

ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন অন্যতম সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমার পুতুল বলেন, আমি তখন বরিশাল ল’ কলেজে আইনের ছাত্র ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষনের পর আমাদের কাছে (ছাত্রসমাজ) এটাই মনে হলো, পাকিস্তানীদের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য। এটা আর রোধ করা সম্ভব নয়। আর সেসময় আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম মঞ্জুরের বাসা ছিলো আমাদের কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই আমাদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।

রাত-দিন ২৪ ঘন্টাই ছিলো তার বাড়িতে আমাদের অবস্থান। তিনি আরও বলেন, যেহেতু বঙ্গবন্ধু ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে’ বলেছেন। তাই বরিশালেও প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে। যদিও যুদ্ধ সম্পর্কে আমাদের তখন কোন ধারণা ছিলোনা। শুধু দেশপ্রেম ও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আমরা কাজ শুরু করে দেই। প্রায় প্রতিদিনই মিটিং মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করি।

এতদাঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট ছিন্টু জনকণ্ঠকে বলেন, ৭ মার্চের ভাষনের পর অগ্নিঝরা মার্চ মাসেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারাদিয়ে বরিশালেও স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাথমিক প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করা হয়। প্রত্যেক পাড়া-মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ গঠণ করা হয়েছিলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই যুদ্ধের প্রস্তুতি চলে। পরবর্তীতে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুুর স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যদিয়ে চূড়ান্তরূপে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা হয়।

 

আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যোগ দেয় মহান মুক্তিযুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষনের পর থেকে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের মধ্যে রাখার জন্য সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় অনুষ্ঠিত হতো সভা, সমাবেশ, গণসঙ্গীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে মুক্তিকামী মানুষের ঢল নামতো। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শ্রোতারা শ্রবণ করতেন রক্তে আগুন জ্বালা সেসব গান ও কবিতা। স্বাধীনতায় উজ্জীবিত করা সেসব গণসঙ্গীতে উদ্বেলিত হতো সাধারণ মানুষ। সেসব গানের মধ্যে গণসঙ্গীত শিল্পী আবু আল সাঈদ নান্টুর ‘জয় স্বাধীন বাংলা’ গানটি সব সভার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতার ঘোষণায় সর্বস্তরের জনতার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় করণীয়।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মঞ্জু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন। তার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চল’ বইয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের শেষদিকে যা বলেছেন তার নিরপেক্ষ বিচার-বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট করেই বোঝা যাবে ওইদিনই (৭ মার্চ) বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলশ্রুতিতে ৭ মার্চের ভাষনের পর পরই বরিশালে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ প্রস্তুতি।

নুরুল ইসলাম মঞ্জু তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ২৪ মার্চ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে তার সাথে দেখা করে মেজর জলিলের দেয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রস্তুতিমূলক কিছু তথ্য জানিয়ে ওইদিনই আবার বরিশালের উদ্দেশে ফিরে আসি। ওইদিন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে বসে মঞ্জু সাথে দেখা হয়েছিলো কর্নেল ওসমানী ও ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হকের। বরিশাল ফিরে ২৫মার্চ দিনভর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করা হয়।

২৫ মার্চ রাত ১১টার দিকে আকস্মিকভাবে ট্রাঙ্কলযোগে ছাত্রলীগ নেতা খালেদ মোহাম্মদ আলী তাকে (মঞ্জু) জানান, ঢাকায় হানাদার বাহিনী হিংস্র হায়নার মতো রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, পিলখানা ইপিআরের হেড কোয়ার্টারসহ নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করতে শুরু করেছে। তাৎক্ষনিক মঞ্জুরের বাসভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচিত জাতীয় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (শহীদ), মহিউদ্দিন আহম্মেদ, আমির হোসেন আমু (সাবেক শিল্পমন্ত্রী) এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক খানসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে জরুরি সভা করা হয়।

 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিক এ্যাডভোকেট সরদার জালাল উদ্দিনকে (শহীদ) নির্দেশ দেয়া হলো-রাজধানীতে পাকিস্তানী বাহিনীর পৈশাচিক ঘটনা মাইকিং করে শহরে প্রচারের জন্য। পাশাপাশি বরিশাল শহরবাসীকে পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং যাদের লাইসেন্সভুক্ত অস্ত্র আছে তাদের অস্ত্র আমার (মঞ্জু) বাড়িতে অবস্থিত কন্ট্রোল রুমে জমা দেয়ার জন্য।

মঞ্জু তার বইতে আরও উল্লেখ করেছেন, ওইদিনই (২৫ মার্চ) ভোররাতে বরিশালের একদল সাহসী মুক্তিকামী তরুণকে নিয়ে ছুটে যাই বরিশাল পুলিশ লাইনে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আইয়ুবুর রহমান, পুলিশ সুপার ফখরুদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাজী আজিজুল ইসলাম, ডিএসবির এসআই বাদশা মিয়া, হাবিলদার আকবরসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যর সহযোগিতায় আমরা পুলিশ বাহিনীর অস্ত্রাগারে রক্ষিত সব অস্ত্র বের করে নিয়ে শহরের বগুড়া রোডের পেশকার বাড়ি এলাকার আমার বাড়িতে আসি। ওই বাড়িতেই গড়ে তুলি মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রাগার। পেশকার বাড়ির পুকুরে অজু করে আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের আমি শপথবাক্য পাঠ করাই। এরপর ২৬ মার্চ সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে অস্ত্র বিতরণ করি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দ্রুত বরিশাল শহরে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শুরু করতে মেজর জলিলের কাছে খবর পাঠাই। একইদিন বাড়ির সামনে সদর গার্লস স্কুলে প্রতিষ্ঠা করা হয় “স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয়”। গঠণ করা হয় একটি শক্তিশালী বিপ্লবী পরিচালনা পরিষদ। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ওই পরিষদের মাধ্যমেই দক্ষিণাঞ্চলের সবকিছু পরিচালিত হতো। ১৭ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী প্রথম বরিশালে আক্রমণ করে এবং ২৬ এপ্রিল বরিশাল শহরের দখল নেয়।

ফলে সদর গার্লস স্কুলে স্থাপিত স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রথম সচিবালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, হাজার-হাজার প্রাণ ও মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর পাকহানাদারের কবল থেকে দখলমুক্ত হয় বরিশাল।