বরিশালে লাখ টাকার ফসল লুটপাটের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে অতিরিক্ত জমি দাবী করা মামলায় আদালত থেকে রায় বঞ্চিত হওয়া সহ পুলিশ সুপার নিকট ও বিভিন্নস্থানে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হয় । যা প্রতিটি অভিযোগ তদন্তে প্রমানিত না হওয়ায় খারিজ হয়ে যাওয়ার জেড় হিসাবে সৎভাই অহিদ রাঢ়ির ৫ বছরের জন্য লিজ নেওয়া দেড় একর জমির ঘেড় থেকে মাছ চাষ ও কৃষি চাষাবাদ ফসল জোড় পূর্বক বিভিন্ন লোকজন নিয়ে এসে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মিষ্টি কুমড়া প্রকাশ্য দিবালোকে ঘেড় থেকে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী আবদুল মোতালেব রাঢ়ির বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল জেলা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গাগুরিয়া আননুর জামে মসজিদ সংলগ্ম অহিদ রাঢ়ির ঘেড়ে।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন সহ অহিদ রাঢ়ি বলেন ২৩ সালের অক্টোবর মাসে পিডিবিতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার সেলিম ও তার নিকটতম আত্বিয় সৌদি মিশনে থাকা র‌্যাব সদস্য বাবুলের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৫ বছরের জন্য দেড় একর সম্পত্তি লিজ নিয়ে অহিদ রাঢ়ি একটি মাছের ঘেড় সহ ঘেড়ের চারপাশে কৃষি ফসলাধী চাষাবাদ
করেন।

সৎভাই মামলাবাজখ্যাত মোতালেব রাঢ়ির নেতৃত্বে স্ত্রী,পুত্র,কন্যা,জামাই ও কিছু ভাড়াকরা লোকজন নিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে অহিদ রাঢ়ি বরিশালে থাকার সুযোগে তার ঘেড়ে লুটপাঠ চালায়।

এসময় ঘেড়ের খেতে থাকা প্রায় লক্ষাধিক বড় বড় মিষ্টি কুমড়া কেটে নিয়ে যায়। এসময় অহিদ রাঢ়ির স্ত্রী ও বাড়ির লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদেরকে হাতে থাকা দা নিয়ে মোতালেব তেড়ে আসলে ভয়তে তারা বাড়ির ভিতর চলে যায়।

ঘেড় সংলগ্ম আননুর জামে মসজিদের ইমাম মাওঃ আবুল হাসান বলেন,শুক্রবার সকাল থেকে ১০টার মধ্যে আব্দুল মোতালেব রাঢ়ি লোকজন নিয়ে এসে ঘেড়ে হামলা চালিয়ে ফসলাদী কেটে নিয়ে যায়। কেন অহিদের ঘেড়ের ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তা জানতে চাইলে মোতালেব বলেন আমার জমির ফসল আমি কেটে নিচ্ছি

একই এলাকার ইলিয়াস বেপারী বলেন অহিদের যে ঘেড় থেকে লক্ষাধিক টাকার ফসল কেটে নিয়ে গেছে মোতালেব। ঐ জমি অহিদ র‌্যাব সদস্য বাবুল ও ইঞ্জিনিয়ার সেলিমের কাছ থেকে লিজ নিয়ে ঘেড় তৈরী করে সেই ফসল কেটে নিয়ে যায় মামলাবাজ মোতালেব সহ তার দলবল।

এব্যাপারে উক্ত এলাকার উকিলবাজারে বসে মোতালেব রাঢ়ির কাছে অহিদের ঘেড়ে লুঠপাট করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি মামলায় রায় পেয়েছি সেই কারনে আমার জমি থেকে সামান্ন কয়টা মিষ্টি কুমড়া কেটে আনছি আমি কোন লুঠপাট করি নাই। তবে লোকজন ঘেড়ের পাশে থাকা আমার জমির ফসল কেটে আনার কথা অকপটে স্বিকার করেন।

উল্লেখ্য পৈত্তিক বিরোধীয় সম্পত্তি নিয়ে আবদুল মোতালেবের সৎভাই অহিদ রাঢ়ির
বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন উক্ত মামলায় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ ভোগ দখলীয় জমিতে থাকার কারনে বিবাদী অহিদ রাঢ়ির বিরুদ্ধে স্থাপিত প্রসিডিং চুরান্ত গেল
না এবং উভয়পক্ষদ্বয়কে তাদের দখলীয় সম্পত্তিতে শান্তিপূর্ণ ভোগ দখলে থাকার জন্য আদেশ দিয়ে এবং মামলাটি নিস্পত্তি করে দেন বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মোঃ রফিকুল ইসলাম।

উক্ত আদেশ পেয়ে মামলাবাজ আবদুল মোতালেব রাঢ়ি মনে করেন আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে বলে নিজ এলাকায় প্রচার করে বেড়ান। অন্যদিকে মামলার বিবাদী অহিদ রাঢ়ি নিজ ভোগ দখলীয় জমির পাশে ২৩ সালের অক্টোবর মাসে দেড় একর জমি ৫বছরের লিজ নিয়ে ঘেড় সহ কৃষি ফসলাদী চাষাবাদ করেন। এব্যাপারে অহিদ রাঢ়ি বলেন আমার সেই লিজের ঘেড়ের থাকা মোতালেব দলবল নিয়ে লক্ষাদিক টাকার ফসল কেটে নিয়ে গেছে আমি আদালতে ২/১দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি বলে জানান।




কাফনের কাপড় নিয়ে ১৩ বছর ধরে নৌকায় বসবাস পিরোজপুরের সুলতানের

বরিশাল অফিস :: ভাঙাচোরা একটি নৌকাই সম্বল। অসহায় প্রতিবন্ধী সুলতান মিয়ার নেই কোনো ঘর কিংবা এক ইঞ্চি জমিও। তাই ঘর বেঁধেছেন নৌকাতেই। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও কোনোরকমে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন তিনি।

এক টুকরো মাটি না থাকায় তিনি মারা গেলে তার কবর হবে কোথায় সেটিই চিন্তা দরিদ্র এই মানুষটির। এসব চিন্তা থেকেই নৌকায় ১৩ বছর ধরে দাফনের কাপড় রেখে দিয়েছেন সুলতান মিয়া। কাফনের কাপড়ের সঙ্গেই কবর দেওয়ার জন্য রেখেছেন ভিক্ষা করে জমানো কিছু টাকাও।

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের পরিষদের সামনের একটি খালে নৌকায় বসবাস করছেন প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক সুলতান মিয়া। নৌকার সামনে বড় প্লেকার্ডে লেখা তার জীবন কাহিনি, ছোট্ট খালের পাশে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়বে তার মনের আকুতি দিয়ে লেখা জীবন কাহিনি।

এই বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামে জন্ম সুলতান মিয়ার। যৌবনে কাঠ কাটতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসা খরচ মেটাতে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। একটি ঘরের আশায় ইউনিয়ন পরিষদের সামনেই বসবাস করেন তিনি। দীর্ঘ ১৩টি বছর অপেক্ষা করেও পাননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা।

মাত্র ৮ মাসেই কোরআনের হাফেজ ১২ বছর বয়সী সোহেল নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, কখনো কোনো জনপ্রতিনিধি হতদরিদ্র সুলতান মিয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানায়নি। এখন তাকে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এলাকাবাসী বলছেন, সুলতান মিয়া খুবই অসহায়। দীর্ঘদিন ধরে এই নৌকায় বসবাস করছেন। সহায়-সম্বলহীন এই মানুষটির কিছুই নেই। অসুস্থ হওয়ায় নেই কোনো উপার্জন। তাই সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর এবং বয়স্ক বা ভূমিহীন ভাতার ব্যবস্থা করে দিলে খেয়ে পড়ে বাঁচতে পারত এই মানুষটি।




বরিশালেও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম

বরিশাল অফিস :: রমজান ঘিরে বরিশালেও বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলা, ডাল ও আলুর দামে বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। আর গত বছরের রমজানের আগ মুহুর্তের তুলনায় এবছরের এ সময়টাতে দ্বিগুন দামে বিক্রি হচ্ছে খেজুর।ভোক্তারা বলছেন, অভিযান হচ্ছে, তবে তা যেন কোন কাজেই আসছেনা, তাই অভিযানগুলো শুধু লোক দেখানোই কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বরিশাল নগরের বটতলা এলাকার বাসিন্দা সুজন হাওলাদার বলেন, টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকায় দেখছি বাজার দর নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর।

তবে কার্যত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলাবুট, শশা, টমেটো, বেগুন, খেজুর, বিভিন্ন ধরণের ডালের দাম বেড়েই গেল। তাহলে অভিযান কি কাজে আসলো। বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বাজারে বিভিন্ন মানের ছোলাবুট, চিড়া, খেজুর এবং বিভিন্ন ধরণের ডাল পাওয়া যাচ্ছে। যার মানভেদে দামেও তারতম্য আছে। আবার শসা, আলুসহ ফলও মানভেদে বিভিন্ন দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরো বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের তথ্যানুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৯৫ টাকার ছোলা ঠেকেছে ১১০ টাকায়। এক লাফে ৪০ টাকা বেড়েছে মুগ ডালে। বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকায়। বাজারে খেসারি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। মুড়িতে কেজি প্রতি বেড়েছে ১০ টাকা। চিড়ার কেজি ৬০ টাকা। চিনি ১৪০ টাকা।এদিকে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ১শ টাকা বেড়েছে ফলের দাম। পাঁচ টাকা বেড়ে আলুর কেজি ৩৫ টাকা। তবে দাম কমেছে সয়াবিন তেলের। ১৭৩ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ১৬২ টাকায়। যদিও পাইকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ায় কিছু কিছু কাঁচা পন্যের দাম উৎপাদন পর্যায়ে বেড়েছে, তবে ছোলাবুট-চিড়াসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম তুলনামূলক ঠিক রয়েছে। তবে খুচরো বাজারে কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে সেক্ষেত্রে পাইকারদের কিছু করার থাকে না। এদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদেরও সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান ক্যাব বরিশালের সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত।

আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনদীপ ঘরাই জানিয়েছেন, বাজার দর নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসন মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছে। সেইসাথে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে বাজার মনিটরিং অভিযান। রোজার আগে বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে গত ৮ ফেব্রয়ারি চাল, চিনি, তেল ও খেজুরের শুল্ক-কর কমানোর ঘোষণা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে, বরিশালের বাজারে তেল ব্যতিত অন্য পণ্যের দাম না কমায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা।




বরিশালে চিকিৎসককে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন

বরিশাল অফিস :: রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে ফেরার পথে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও তার সাথে থাকা ওষুধ কোম্পানীর এক প্রতিনিধিকে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের কতিপয় বখাটে যুবক নির্যাতনের পর ওই দুইজনের সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাশাইল গ্রামে।

নির্যাতনের শিকার গৌরনদী উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মোঃ জাকির হোসেন সোমবার (১১ মার্চ) দুপুরে অভিযোগ করে বলেন, ছোট বাশাইল গ্রামে গত শুক্রবার রাতে ওষুধ কোম্পানীর এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে নিয়ে অসুস্থ এক শিশুকে চিকিৎসা দিতে যাই। চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে রোগীর বাড়ির পাশ্ববর্তী রাস্তার ওপর বসে ২০/২৫ জন অপরিচিত লোক আমাকে (জাকির) এবং ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি মাহমুদ হোসেনকে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করে। একপর্যায়ে আমাদের দুইজনের সাথে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে আরো দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলাকারীরা।

অন্যথায় আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা দিতে যাওয়া শিশুর বাড়ির লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করেন। ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি মাহমুদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা আমাদের আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করে।
নির্যাতনের একপর্যায়ে আমাদের হত্যার হুমকি দিয়ে বিভিন্নধরনের ভিডিও ধারন করে রাখে। অসুস্থ শিশুর মা মুন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন পূর্বে আমার পাঁচ বছর বয়সের ছেলের সুন্নাতে খৎনা করিয়েছি।

শুক্রবার রাতে আমার ছেলে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পরলে পূর্ব পরিচিত চিকিৎসক জাকির হোসেন স্যারকে অনেক অনুরোধ করার পর সে আমাদের বাড়িতে আসেন এবং ছেলের চিকিৎসা করে চলে যান। পরে জানতে পারি রাস্তায় বসে আমার (মুন) শশুর বাড়ির লোকজন ওই চিকিৎসক ও তার সাথে থাকা একজনকে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। খবরপেয়ে আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেছেন। মুন আক্তার আরো জানান, হামলার ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




বরিশালের বিনোদন স্পটে পুলিশের অভিযান

বরিশাল অফিস :: নগরীর বিনোদন স্পট গুলোতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস সময় ফাঁকি দিয়ে বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে আড্ডা দেয় তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মার্চ) সকাল দশটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা এই অভিযান চালিয়েছে। এ সময় বেশ কয়েক যুগলদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের পরিবারের সাথে কথা বলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে শিক্ষার সময়সূচীতে এমনভাবে যেন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হতে না পারে তার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোর্ট ও ড্রেস পরে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে এসে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে। এ থেকে রক্ষা পেতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ অভিযান পরিচালনা করেছে ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

 




দুমকীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: 

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে “নারীর সম‌অধিকার, সমসুযোগ এগিয়ে নিতে হোক বিনিয়োগ ” স্লোগানকে ধারণ করে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।

সোমবার (১১মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ কনফারেন্স রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনামিকা নজরুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশীদ হাওলাদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শফিউর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদা ইয়াসমিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাহিদা বেগম ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সাবেক সভাপতি রেজ‌ওয়ানা হিমেল প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে  প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।




বরিশালে ঘুমন্ত অবস্থায় তিনজনের ওপর এসিড নিক্ষেপ

বরিশাল অফিস :: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয় দফায় এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বরিশালে। এবার ঝলসে দেওয়া হয়েছে দুই কিশোর ও এক যুবকের মুখমন্ডল। গুরুত্বর আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার দিবাগত গভীররাতে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রফিয়াদি গ্রামে।

সোমবার( ১১ মার্চ) দুপুরে আহত ও তাদের স্বজনদের বরাত দিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুল আলম জানান, ওই গ্রামের যতিন বাবুর বাড়িতে তিনদিন ব্যাপী নামকীর্তনে গিয়েছিলো আহতরা। দ্বিতীয় দিনের কীর্তন শুনে আহতরা পাশের ব্যাপারী বাড়িতে ঘুমাতে যায়। রবিবার দিবাগত গভীররাতে ঘুমন্ত অবস্থায়

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা জানালা দিয়ে এসিড ছুঁড়ে মারে। ওসি আরও জানিয়েছেন, এসিডে মুখ ঝলসে যাওয়া উৎপল হালদার নবম শ্রেণি ও আশিষ মল্লিক কৃষি ইন্সটিটিউটের পঞ্চম
ব্যাচের ছাত্র এবং জয় বিশ্বাস স্বর্ণ ব্যবসায়ী। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জেরধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে পুরো বিষয় নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করেছে।

শেবাচিম হাসপাতালের সার্জারী ইউনিট-৩ এর সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসিড বিক্রি করার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এসিডে গুরুত্বর আহত তিনজনের জীবন শঙ্কামুক্ত হলেও সারাজীবনের জন্য তাদের মুখমন্ডলে ছাপ থেকে যেতে পারে। এমন ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে যত্রতত্র এসিড বিক্রি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।




সন্ত্রাসী পথে ববি’র অর্ধশত শিক্ষার্থী, আতঙ্কে নিরীহ শিক্ষার্থীরা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে দিনে দিনে ভয়ংকর হয়ে শিক্ষার্থীদের মনে আতঙ্কিত হয়ে উঠছে রিদম ও আরাফাত নামের দুইটি গ্রুপ। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নির্যাতন ও মাদক সেবনসহ ক্যাম্পাস ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে শিক্ষকদের কক্ষে তালা দেয়া, সড়ক অবরোধ ও প্রশাসনকে বাঁধা দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে নানা তথ্য।

গ্রুপ দু’টির প্রধান নেতা হিসেবে চিহ্নিত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আবুল খায়ের আরাফাত ওরফে মদারু জুয়েল এবং গণিত বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী মোবাশ্বের রিদম ওরফে প্যাদা তানভিন৷ তাদের ছত্রছায়ায় ববি’র অনেক শিক্ষার্থী মিলে করছে নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম। দু’গ্রুপের অধিকাংশ সমর্থকের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলা। পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দেবার ঘটনায় কারাভোগও করেছেন আরাফাত। কারাভোগ করার পর জামিনে বেড়িয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে আরাফাত।

২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ববিতে ছাত্রলীগের এক পক্ষের ওপর অন্য পক্ষের হামলার পর ক্যাম্পাসে শক্ত অবস্থান করে মোবাশ্বের রিদম ও তার সহযোগিরা। সেই ঘটনায় মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আয়াত উল্লাহ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেয়। ববি’র প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আহত শিক্ষার্থী অনশন করেছে। অনশনরত আহত আয়াত উল্লাহ মার্কেটিং বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র। এ ঘটনার মামলায় রিদমসহ তার সহযোগিদের আসামী করা হয়। এরপর থেকেই দল বেঁধে ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একের পর এক অপরাধ করে দিনে দিনে ভয়ংকর রুপে ফুটতে উঠতে শুরু করেছে রিদম ও আরাফাতের সাঙ্গপাঙ্গরা।

গত অক্টোবরে ববি’র বঙ্গবন্ধু হলের একটি রুমে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদ কে আটকে রেখে রাতভর বেদম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পরে সে। এ ঘটনায়ও রিদম ও আরাফাত গ্রুপের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ববি’র প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন নির্যাতিত শিক্ষার্থীর বাবা। মুকুলকে নির্যাতনের রাতে বঙ্গবন্ধু হলে মদের বোতল হাতে মোবাশ্বের রিদমের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বরে বন্দর থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন মোসা: ডলি বেগম নামের এক নারী। এ মামলার আসামী হলেন ববি’র ৮ শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন। অভিযুক্তরা নগদ অর্থসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ববি’র সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪- ১৫ সেশনের মো: মুয়ীদুর রহমান বাকি বাদী হয়ে বরিশাল বন্দর থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ এনে ৪২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ১৫/২০ জন বহিরাগত আসামী রেখে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০২৩ সালের ১৬ আগষ্ট ববি’র মার্কেটিং বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের আয়াত উল্লাহ হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিটের অভিযোগ এনে বরিশাল বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামী হয় চিহ্নিত সেই মোবাশ্বির রিদমসহ ববি’র ৮ শিক্ষার্থী এবং অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন।

গত ২৭ জানুয়ারি কুয়াকাটা সৈকতে মাতাল অবস্থায় ব্যাবসায়ীকে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয় তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত ৩১ অক্টোবর গাঁজাসহ পুলিশের কাছে আটক হয় রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান রাফিন। জামিনে বের হয়ে মোবাশ্বের রিদমের সঙ্গে যুক্ত হয়। একাধিক মামলার আসামী এই গ্রুপটির অন্যতম সদস্য ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী আল সামাদ শান্তকে গত ২ ফেব্রুয়ারী বিকেলে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঐ ঘটনার জেরে রাতেই বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারী এ গ্রুপের আরেক সদস্য ইংরেজি বিভাগের তানজিদ মঞ্জুর আদালতে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

বিশ্বস্ত এক সূত্র জানায়, ববি’র ছাত্র নামক সাইনবোর্ডটি ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতার পরামর্শে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী এই চক্রটির সঙ্গে গোপন বৈঠকে বসতে বাধ্য হয় কলেজ প্রশাসন।

শিক্ষা জীবনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম লিপ্ত থাকলে আইনের দৃষ্টিসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ব্যক্তিত্বের সুফল বয়ে আনবে না বলে ব্যক্ত করেছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আ.লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ। তারা জানিয়েছেন, দলের অঙ্গ সংগঠনের পরিচয় দিয়ে কেউ অপরাধ করলে পার পেয়ে যাবার সুযোগ নেই। কলেজ জীবনে শিক্ষা অর্জনের সময়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সকল অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

ববির আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, এখানে বর্তমানে রাজনীতি আর মারামারি ছাড়া অন্য কিছু হয় না। প্রায়ই ববিতেই বিভিন্ন ঘটনা গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়ে উঠে। আমরা এই শিক্ষার্থী হিসাবে এই অপরাজনৈতিক পরিহার চাই। সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু ভালোই কোন কিছু শিখতে চাই। আমরা যারা রাজনৈতিক করি না তারা বিভিন্ন সময় আতঙ্কে থাকী কখন আমাদের উপরেও কোন না কোন ভাবে হামলা হয়।

ববি’র প্রক্টর ড. মোঃ আবদুল কাইয়ুম বলেন, আমার কক্ষে তালা দেবার ঘটনা সত্য। যারা তালা দিয়েছিল তাদের কিছু দাবি ছিল। বিষয়টি তখন ভিসি (উপাচার্য) স্যারকে জানানো হয়।

ববি’র উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ড. মোঃ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে এখন নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রয়োজনে আমরা আরো কঠোর হবো৷

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর মুকুল বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এর গুটিকয়েক চিহ্নিত শিক্ষার্থীই বারবার নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে। তাদের তালিকা করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ কোন আইনি পদক্ষেপ নিতে গেলেই বাঁধার সম্মুখীন হয়। বিষয়টি দুঃখজনক। আশা করি, ববি’র সকলেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে।

 




বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজনে সোমবার ( ১১ মার্চ) সকাল ১০ টায় কমিশনারের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ৩০তম বরিশাল বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে,বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ পারভেজ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা, গবেষণা ও উন্নয়ন) বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ঢাকা, এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন,বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি বরিশাল মোঃ জামিল হাসান। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও ৬ জেলার জেলা প্রশাসক বৃন্দরাসহসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ৬ টি জেলা ও বিভাগীয় ইউনিটের অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।


শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অতিথিবৃন্দরা পরে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা শেষে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে ক্রীড়াবিদদের প্যারেড ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

 




বরিশালে ফসল উৎপাদন করে  ঘরে বসেই বিক্রি, কম খরচে বেশি লাভ

এস এল টি তুহিন বরিশাল:: উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত বীজ রোপণ এবং ওষুধ-কীটনাশক না লাগায় এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় সয়াবিন চাষ বাড়লেও তেল উৎপাদন হচ্ছে না। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তবে ঘরে বসেই বিক্রি করা যায়। এতে অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে যে পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হয়, তা দিয়ে পশুখাদ্যের চাহিদাও পূরণ হয় না। তেল উৎপাদনে যেতে হলে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি বাড়াতে হবে। তবে ঘরে বসেই বিক্রি করে ভালো লাভ হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। ভালো ফলন এবং লাভের আশায় ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় বরিশালে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের

দিন দিন জেলায় সয়াবিন চাষ বাড়ছে জানিয়ে বরিশালের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চলতি বছর সদরের শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের ছয় গ্রামের ১৩০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এর সঙ্গে জড়িত ২১৫ চাষি ও তাদের পরিবারের সদস্য। আগে এসব জমিতে মুগ ডাল চাষ হতো। কিন্তু যেভাবে পরিশ্রম করতেন সেভাবে লাভ হতো না চাষিদের। এ কারণে সয়াবিন চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। কারণ সয়াবিন চাষে তেমন খরচ নেই। গরু-ছাগলে খায় না। পোকাও আক্রমণ করে না। বিক্রিতে ঝামেলা নেই। ঘরে বসেই বিক্রি হওয়ায় লাভের পরিমাণ বেশি। এজন্য দিন দিন বাড়ছে চাষাবাদ।’

এক বিঘা জমি চাষ, বীজ রোপণ, সার এবং ওষুধে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খরচ হয় উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিপরীতে ১০-১২ মণ সয়াবিন পাওয়া যায়। ১৪০০-১৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে ২০ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। অন্য ফসলে এত লাভ হয় না। জমিতে বীজ রোপণের তিন-চার মাসের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এরপর ফলন বাড়ি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নেন।’

শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের কৃষক জাকির মীর, কামরুল শরীফ ও গোলাম মোর্শেদসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, আগে ওসব জমিতে মুগ ডাল চাষ করতেন। কিন্তু তেমন লাভ হয় না। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে খরচ তোলাও যায় না। কিন্তু সয়াবিন চাষ অধিক লাভজনক। এ কারণে যার যতটুকু জমি আছে, তাতে চাষ করেছেন। আগামী মে মাসে ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। বিক্রি করতে পাইকারদের কাছে যেতে হয় না। পাইকাররা লোক পাঠিয়ে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে সয়াবিন কিনে নিয়ে যান। এতে পরিবহন খরচ বেঁচে যায়।

বরিশাল জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বরিশাল জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে

চাষাবাদ বাড়ার কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, অন্য ফসল চাষ করলে গরু-ছাগল ও পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে সময় দিতে হয়। কিন্তু সয়াবিন নিয়ে সে চিন্তা নেই। গরু-ছাগল সয়াবিন গাছ খায় না। পোকা আক্রমণ করে না। এমনকি অন্যান্য ফসলে নিড়ানি দিতে হয়। সয়াবিনে দিতে হয় না। পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার এবং ওষুধ ফ্রি দেওয়ায় চাষাবাদে খরচ কম হয়। এতে লাভের পরিমাণ বেশি থাকছে। এসব কারণে সয়াবিন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা।

বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন বরিশাল জেলায় উৎপাদন হয় বলে জানালেন বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শওকত ওসমান। তিনি বলেন, ‘এবার জেলায় ২৮ হাজার ৫০ মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এটি পূরণ হবে। এরপর ভোলায় ১১ হাজার হেক্টর জমির বিপরীতে ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, পিরোজপুরে ১০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১০ মেট্রিক টন, ঝালকাঠিতে ১৪ হেক্টর জমির বিপরীতে ১৮ মেট্রিক টন, পটুয়াখালীতে ১৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ২৭ মেট্রিক টন, বরগুনায় পাঁচ হেক্টর জমির বিপরীতে সাত মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।’

এই পরিমাণ সয়াবিন থেকে তেল উৎপাদন সম্ভব নয় উল্লেখ করে শওকত ওসমান বলেন, ‘এগুলো পশুখাদ্যের জন্য ব্যবসায়ীরা কেনেন। পশুখাদ্যের জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন, তাও উৎপাদন হচ্ছে না। তবে প্রতি বছর উৎপাদন বাড়ছে। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ গুণ উৎপাদন সম্ভব হলে তেল উৎপাদন করা যাবে। সে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছি আমরা।