প্রথম দিনেই জমজমাট বরিশালের ইফতার বাজার

বরিশাল অফিস :: রমজান শুরুর প্রথম দিন একটু আগেভাগেই যেন পসরা সাজিয়ে বসেছেন ইফতার বিক্রেতারা। আর তাই ক্রেতারাও যেন একটু আগেভাগে পছন্দের ইফতার কিনতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে জোহরের নামাজ শেষে একটু ঘোরাঘুরি করে ইফতার কিনে তাড়াতাড়ি বাসায় যাওয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছেন। ক্রেতা-বিক্রেতাদের আলাপচারিতা, হাঁক-ডাকের মধ্য দিয়ে সব মিলিয়ে এবারের বরিশালের বিভিন্ন এলাকার ইফতার বাজার প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে।

রমজান শুরুর প্রথম দিনে অনেক আইটেমের ইফতার সাজিয়ে বসে ঐতিহ্যবাহী বরিশাল নগরীর বগুড়া রোডের নাজেম’স রেস্তোরাঁ। বিভিন্ন আইটেমের ইফতার নিয়ে বসেছেন সকাল সন্ধ্যা সুইটস্, নিউ আকাশ রেস্তোরাঁ, রোজ গার্ডেনসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ। নগরীর বাজার রোড, সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে ইফতারের আইটেম নিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এসব স্থানে সাধারণ আলুরচপ, বেগুনি, পিঁয়াজু, সবজির চপ, চিকেন চপ, ডিমের চপ, চিকেন পুলি, ফিরনি, বোরহানি, চিকেন ফ্রাই, তেহারি, বুন্দিয়া, ছোলাবুট, জিলাপি, মোরগ পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি, হালিম, শাহি জর্দা, মুরগি মোসাল্লাম, খাসির রান, গরুর কালো ভুনা ও ঘোলসহ নানা ধরনের ইফতার আইটেমে ঠাসা ইফতার বাজার। এছাড়া মৌসুমি ফল কলা, আনারস, পেয়ারা ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ফলফলাদির দোকানও বসেছিল নগরীর ফুটপাতজুড়ে।

নগরীর গোরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুর রহিম জানান, ব্যস্ততা ও নানা ঝামেলার কারণে প্রতিবারই রোজায় ইফতারের কিছু আইটেম বাইরে থেকে কিনতে হয়। বিকেল ৪টা থেকে নামিদামি ও ছোটখাটো প্রায় বহু দোকান ঘুরে দেখেছেন তিনি। এবারে ইফতারের বাজারে আইটেম প্রতিবারের মতো একই থাকলেও এবারে প্রথম রোজা হওয়ায় একটু ক্রেতা সমাগম বেশি।

এদিকে, নগরীর বিবির পুকুর পাড়ের ইফতার ব্যবসায়ী মনির জানান, ক্ষুদ্র এ দোকানে ইফতারের আইটেমভেদে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় তাদের ব্যবসাও ভালো জমজমাট হবে বলে জানান তিনি।




চাঁদা তুলে ভিক্ষুকের মরদেহ ভোলায় পাঠালো বাঁশখালী পুলিশ

বরিশাল অফিস :: ১০ মার্চ বিকেলে বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে একা এসে ভর্তি হন এক ভিক্ষুক। সোমবার (১১ মার্চ) সকাল ৯টায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর ১০ টায় বাঁশখালী থানার ডিউটি অফিসারকে ফোন দেওয়া হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফায়েল আহমদকে অবগত করেন দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার।

ওসি তোফায়েল আহমদ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদকে দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে এসআই নুর মোহাম্মদ ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন এবং জানা যায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি ফর্ম অনুসারে মৃত ব্যক্তির নাম নাসির (৬০)। সেখানে তার পিতার নাম আনিসুল হক লেখা আছে।

ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে টকবি, থানা-বোরহানগঞ্জ, জেলা-বরিশাল। কিন্তু জানা যায়, বোরহানগঞ্জ নামে কোনো থানা বরিশাল জেলায় নেই। কিন্তু থেমে যাননি বাঁশখালী থানার ওসি তোফায়েল আহমদ।বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসআই নুর মোহাম্মদ ভিক্ষুকের ঠিকানা সুদূর বরিশাল এবং ভোলা জেলা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার টকবি ইউনিয়নের কাইচ্ছা কাজী বাড়ীর আনিসুল হকের ছেলে বলে জানতে পারেন। বহু কষ্টে ওই ভিক্ষুকের আত্মীয়-স্বজনের সাথে যোগাযোগ করলেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

বাঁশখালী থানার অপারেশন অফিসার মো. কায়কোবাদ বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজনের ঠিকানা পাওয়া গেলেও আর্থিক অভাবের কারণে তারা মৃতদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। বহু চেষ্টায় ভিক্ষুকের আপন বোন সুফিয়া কামালের সাড়া মেলে। কিন্তু তিনি শর্ত দেন যে, তারা মৃতদেহের দাফন কাফনসহ পরিবহনের কোনো ব্যয় বহন করতে পারবেন না। পরবর্তীতে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ তোফায়েল আহমেদ মৃত ব্যক্তির সকল ব্যয়ভার বহন করবেন বলে মৃত ব্যক্তির বোনকে আশ্বস্ত করলে মৃত ব্যক্তির বোনের ছেলে মো. কামাল মৃতদেহ গ্রহণ করতে আসেন।’

বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতে আমি নিজে এবং পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার, এসআই কায়কোবাদ, এসআই আহসান হাবীব, এসআই নুর মোহাম্মদসহ থানার সকল অফিসারদের সহযোগিতায় মৃতদেহ পরিবহন ও দাফন কাফন করার জন্য নগদ ২৩ হাজার টাকা দান করি।’




পরিবেশ রক্ষায় ববি’র শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

বরিশাল অফিস :: আসুন আমাদের পরিবেশ বাঁচাতে একসাথে হাত মেলাই” শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ক্যাম্পাস পরিস্কার কর্মসূচির উদ্বোধণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ১২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডফ্লোরে ফিল্ডওয়ার্কটির উদ্বোধণ করেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আফরোজ।

বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের “সোসোলজি অফ এনভায়রনমেন্ট” কোর্সের অধীনে ফিল্ডওয়ার্কের অংশহিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব পাটের তৈরি ব্যানারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় এমন আয়োজন আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে ভিসি বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করি।

 




ভোলায় কাউন্সিলর থেকে উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান

বরিশাল অফিস :: মো. মনিরুজ্জামান মনির। ২০০২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। তিনি ঐ ওয়ার্ডেরই স্থায়ী বাসিন্দা। কাউন্সিলর থাকাকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে দিয়েছেন মানুষকে সেবা। এবার তিনি নিজে উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাওন বাজার এলাকায় তার খামারটি। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের গরু। তার খামারটির নাম রেখেছেন ‘নবনী এগ্রো ফার্ম’।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, এক সময় লালমোহন পৌরসভার কাউন্সিলর ছিলাম। তখন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থেকে সেবা করার। গত ৮ মাস আগে আমার মেজো ভাই বিশিষ্ট ঠিকাদার রাশেদুজ্জামান পিটারের অনুপ্রেরণায় শুরু করি গরুর খামার। শুরুতে খামারে মাত্র ১৭টি গরু ছিলো। বর্তমানে গরুর সংখ্যা ৫১টি। যেখানে রয়েছে- অস্ট্রেলিয়ান, শাহিওয়াল এবং দেশীয় জাতের গরু। যার মধ্যে ১২টি গাভী এবং ৩৯টি ষাঁড়। এসব ষাঁড়ের মধ্যে ২৫টিকে এ বছরের কোরবানিতে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, খামারের গরুগুলোকে খাওয়ার জন্য বয়লার, ভুসি, খড়-কুটা ও ঘাস দেওয়া হয়। গরুর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিদিন চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। প্রতি মাসে গরুর খাবার ব্যয় ও শ্রমিকদের মজুরি বাবদ অন্তত আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। এ বছরের কোরবানিতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার গরু বিক্রি করার আশা করছি। সেখান থেকে খরচ বাদে আট থেকে দশ লাখ টাকার মতো লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই উদ্যোক্তা বলেন, সরকারিভাবে বিনাসুদে ঋণ পেলে অনেক সুবিধা হতো। বিনাসুদে ঋণ পেলে খামার আরো সম্প্রসারণ করতে পারতাম। একইসঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকার অসংখ্য বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো। তাই সরকারের কাছে আমাদের মতো উদ্যোক্তাদের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

মনিরুজ্জামানের খামারের শ্রমিক মো. কুদ্দুস, হেলাল ও মিলন বলেন, আমরা শুরু থেকেই এই গরুর খামারে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুগুলোর পরিচর্যা করাসহ নিয়মিত খাবার দিই। এ জন্য খামারের মালিক মনির মিয়া আমাদের নিয়মিত বেতন দেন। যা দিয়ে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুন্দরভাবে সংসার চালাতে পারছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা সবসময় খামারিদের পাশে রয়েছি। খামারিদের যেকোনো সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মনিরুজ্জামান নামে ঐ ব্যক্তি নতুন করে গরুর খামার দিয়েছেন। আমরা তার খামারটিও নিয়মিত পরিদর্শন করছি। তার যেকোনো সমস্যায় তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছি। এছাড়া নতুন করেও যদি কেউ খামার করতে আগ্রহী হয় তার পাশেও সবসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ থাকবে।




বরিশালে কারাগার গেট থেকেই শুরু লেনদেন

থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, সাক্ষাৎ-সবকিছুতে লাগে টাকা * সহজেই মিলে মাদক★

বরিশাল অফিস :: বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে বড় করে লেখা আছে ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ।’ তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্নকথা। সামনে আলোর পথ লেখা থাকলেও ভেতরে যেন পুরোটাই অন্ধকারে ভরা। প্রধান গেট থেকে দুর্নীতি শুরু হলেও শেষটা কোন পর্যন্ত তার সীমারেখা নেই।

আসামিদের সঙ্গে দেখা করতে লাগে টাকা। খাবারের দাম বাইরের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ। যাচ্ছেতাই খাবার হলেও বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হয় ক্যান্টিন থেকে। যাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল তাদের জন্য বরিশাল কারাগার যেন নরক।

এখানে টাকা দিলে মেলে ভালো বিছানা। না দিলে থাকতে হয় বাথরুমের সামনে কিংবা ম্যাটের ইচ্ছামাফিক জায়গায়। কারাগারের ভেতরের মেডিকেল কক্ষে কোনো অসুস্থ আসামি থাকে না, যাদের টাকা আছে কেবল তাদের ভাগ্যেই মেলে আরামদায়ক বিছানা। আর মেডিকেলের বিছানা পেতে লবিং তদবির করতে হয়।

এখানে সহজেই মিলে নেশা, ইয়াবা, গাঁজা ও ঘুমের ট্যাবলেট। এসবের লেনদেন হয় পিসি বইয়ের মাধ্যমে। নির্দিষ্ট কারারক্ষী ও কয়েদিদের দিয়ে চলে মাদক বাণিজ্য। কারাসূত্রে জানা যায়, খাবার তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে একজন কয়েদি ১১৬ গ্রাম ও হাজতির জন্য ৮৭ গ্রাম আটার রুটি, ১৪ গ্রাম আখের গুড়, দুপুরে কয়েদির জন্য ২৯১ গ্রাম ও হাজতির জন্য ২৪৭ গ্রাম চালের ভাত, ডাল, সবজি এবং ২৯ গ্রাম ওজনের মাছ অথবা মাংস দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। রাতেও প্রায় একই মেন্যু। প্রতি মাসে ২০ দিন মাছ এবং ১০ দিন মাংস খাওয়ানোর নিয়ম রয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে আবার ৪ দিন গরু, একদিন খাসি এবং ৫ দিন মুরগির মাংস খাওয়ানোর কথা।

বন্দিদের দাবি, খাবারের এসব মেন্যু তালিকাতেই সীমাবদ্ধ। এখানে খাবারের মাপ কম দেওয়াসহ নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে বছরের পর বছর। তবে রক্ষীদের নির্যাতনের ভয়ে কেউ টুঁ শব্দ করেন না।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ‘খাবারের মান অনেক ভালো। মেডিকেল বেডে কেবল অসুস্থ আসামিরাই থাকে। টাকা দিয়ে মেডিকেল কক্ষে থাকার সুযোগ নেই।’

দীর্ঘদিন ধরে থাকা জেলখানার সহকারী সার্জন এসএম মিরাজ হোসেন মেডিকেলের সিট বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এসএম মিরাজ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।’

সদ্য কারামুক্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলার হারুন হাওলাদার বলেন, ‘পারিবারিক একটি মামলায় এক মাস কারাবন্দি ছিলাম। এক মাসে থাকা খাওয়া বাবদ চল্লিশ হাজার টাকা জেলখানার পিসি বইয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। অথচ আসামিদের খরচ বহন করে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘মেডিকেলে এক মাসের জন্য আট হাজার টাকা দিতে হয়েছে। বাকি টাকা ক্যান্টিনের খাবার বিল ও পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে এলে দেখার ঘরে দায়িত্বরতদের দিতে হয়েছে। এতে চল্লিশ হাজার টাকা এক মাসে খরচ হয়।’

উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৬২) জায়গাসংক্রান্ত মামলায় সাত দিন ছিলেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে। তিনি বলেন, ‘সারাজীবন শুনেছি জেলখানা মানে সরকারি ভাত। অথচ সাত দিনে আমার আট হাজার চারশ টাকা খরচ হয়েছে। মেডিকেলের সিট ভাড়া বাবদ দিয়েছি পাঁচ হাজার টাকা। বাকিটা খাবার বাবদ। কারণ জেলখানায় যে খাবার দেয়, তা মুখে দেওয়ার মতো নয়।’

সদ্য কারামুক্ত একাধিক আসামির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘মাসিক চুক্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ড ও মেডিকেলের কক্ষ বেচাকেনা হয় আসামি গুণে। মানুষ বেচাকেনার এ বাণিজ্যে ম্যাটদের (কয়েদি) সঙ্গে সরাসরি জড়িত কারারক্ষী। আর মেডিকেল কক্ষের নিয়ন্ত্রণ করেন সহকারী সার্জন এসএম মিরাজ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসির দায়িত্বে থাকলেও তার মূল কাজ মেডিকেলের সিট বাণিজ্য। টাকার ভাগ পান কারারক্ষী থেকে জেলখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মেডিকেল কক্ষ ছাড়াও আমদানি-রপ্তানি ওয়ার্ডের আসামি বেচাকেনা চলে আসছে বছরের পর। সাত দিন, পনেরো দিন ও এক মাস চুক্তিতে আমদানি-রপ্তানি ওয়ার্ডে চলে আসামি বেচাকেনা। আর এই আসামি বেচাকেনার বাণিজ্য নিয়ে ম্যাটের (কয়েদি) মারামারি নিত্যদিনের ঘটনা।

কারাগেটের ক্যান্টিনে আসামিদের খাবারের দাম কয়েকগুণ বাড়তি রাখলেও ভাউচার দেওয়া হয় না। এ নিয়ে কথা বাড়ালে আসামিদের খাবার দেয় না ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ। পোশাক কিংবা বিছানা-চাদরের জন্যও গুনতে হয় টাকা। আর ভেতরের ক্যান্টিনে রান্না করা খাবারের দাম বাইরের চেয়ে তিন-চারগুণ বেশি। কেউ প্রতিবাদ করলে পড়তে হয় ঝামেলায়। তাই মুখ বুঝে সহ্য করা ছাড়া উপায় থাকে না বন্দিদের।

কারাগারে আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা যেন আরেক দুষ্প্রাপ্য বিষয়। নিয়মমাফিক স্লিপ কেটে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারপর পাঁচ থেকে দশ মিনিট দেখা মেলে। অনেক সময় আসামি খুঁজে পাওয়া যায় না, এমন কথা শুনে চলে যেতে হয় পরিবারের সদস্যদের। তবে দুইশ থেকে পাঁচশ টাকা দিলে অপেক্ষা করতে হয় না এক মুহূর্তও। আসামি ঘুমানো থাকলেও ঘুম ভাঙিয়ে নিয়ে আসা হয়।

এসব অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে জেল সুপার রত্না রায় বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা।’ এরপরই তিনি ফোন কেটে দেন।




পটুয়াখালীতে বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ২ মামলা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নে বড় ভাইয়ের অবৈধ পিস্তলের গুলিতে সাব্বির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মামলা দুটি করা হয়।

নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে বাউফল থানার এসআই ইমরান বাদী হয়ে অস্ত্র মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায় অভিযুক্ত সজিব হোসেনকে (২১) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে রোববার সকালে উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে বড় ভাই সজিব হোসেনের (২১) পিস্তলের গুলিতে তারই ছোট ভাই সাব্বির হোসেন (১৭) নিহত হয়। পরিবারের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিদ্যুৎতায়িত হওয়ার খবর দিয়ে সাব্বির হোসেনকে নিয়ে বরিশাল যান। এরপর মাথায় গুলির চিহ্ন থাকায় গুরুতর অবস্থায় বরিশাল থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে রোববার গভীর রাতে যায় সাব্বির হোসেন।

বড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর অভিযোগবড় ভাইয়ের গুলিতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সজীব একটি পুরানো মরিচা ধরা পিস্তল নিয়ে নাড়াঁচাড়া করতে গিয়ে হঠাৎ ট্রিগারে চাপ পড়ে। এ সময় একটি গুলি তাঁর ছোট ভাই সাব্বিরের কপালের বাম পাশে চোখের উপরে গিয়ে বিদ্ধ হয়। এরপর স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরিবারের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সাব্বির বিদ্যুতায়িত হয়েছে বলে প্রচার করেন।




রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।

সোমবার ( মার্চ ১২) সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রফেসর আঃ সালাম।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূর কুতুবুল আলম। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্‌) রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের।

আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান, ক্যাব পটুয়াখালী জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ক্যাব বরিশাল বিভাগীয় সম্পাদক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ্ শোয়াইব মিয়া। সভাপতি পটুয়াখালী প্রেস ক্লাব জাফর খান, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্স সহ অন্যান্য সকল দপ্তর ও অধিদপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ ।

১/ তরমুজ কেজি তে বিক্রি হবে না পিচ হিসেবে বিক্রি করতে হবে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনে ব্যবহার বন্ধ রাখব।

২/ ব্যবসা করতে হলে লিখিত কাগজ থাকতে হবে। কথা কথি হবে না, লেখা লেখি করতে হবে না হয় প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

৩/ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্‌) রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের বলেন ৫০ পয়সার
জিনিস ২ টাকায় বিক্রি করা যাবে না ( একই ৫০ পয়সার পন্য বিদেশি কোন নাম দিয়ে)

মূর্দা কথা অতিরিক্ত মুনফার চিন্তায় জিম্মি করা চলবে না তাহলে নিয়মিত আইন প্রয়োগ করা হবে ভোক্তা সাধারনের কথা মাথায় রেখে।

পরিশেষে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বাজার বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে লাভ হবে না ১৫/১৬ বছর চাকরি করে এই পর্যায় এসেছি আপনাদের চুরি সম্পর্কে অবগত আছি উপরের নির্দেশনা আছে বাজার নিয়ন্ত্রণে যেকোন পদক্ষেপ গ্রহণের।




গলাচিপায় মহিষের আঘাতে এক কৃষকের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মহিষের শিংয়ের আঘাতে মনির হোসেন (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের নলুয়াবাগী গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

মনির হোসেন গোলখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াবাগী গ্রামের স্কানদার চকিদারের ছেলে।

জানা গেছে, পার্শ্ববতী কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নমরহাট থেকে মনির হোসেন দুই লাখ ৪৫ হাজার টাকায় সোমবার একটি মহিষ ক্রয় করেন। মহিষটিকে মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশে ঘাস খাওয়াতে নিতে যান মনির। তখন মহিষটি শিং দিয়ে এলোপাতারি আঘাত করে তাকে। স্থানীয়রা তাৎক্ষনিকভাবে তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গাজীর বন্দরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে শাখারিয়া নামক স্থানে তার মৃত্যু হয়।

গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো: নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।




ভোলার দৌলতখানে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক খুন

বরিশাল অফিস :: ভোলার দৌলতখানে প্রতিপক্ষের হামলায় আসিফ (২০) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পাঁচজন। সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় হামলার এ ঘটনা ঘটে।

আসিফ উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের দিদারুল্লাহ গ্রামের বাবুলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, স্কুল পড়ুয়া এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসিফের সঙ্গে একই এলাকার কবির ও ফাহাদের দ্বন্দ্ব হয়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আসিফ নিহত হন।

এসময় আহত হন পাঁচজন। তবে পুলিশ বলছে, প্রেম ঘটিত কারণ নিয়ে শত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় আফিসকে উদ্ধার করে ভোলা হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আছাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।




ভোলার লালমোহনে মৎস্যজীবীদের নিয়ে ‘যুব উৎসব’

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্যজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ)সকাল ১১ টায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) আয়োজনে দিনব্যাপী এ উৎসব উপলক্ষ্যে প্রথমে র‌্যালি বের হয়। পরে র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে দেশের মৎস্য চাষ ও মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে গেছে। জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। এ জন্য দেশের জেলেরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছেন।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুব উৎসবের সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইমরান-মাহমুদ-ডালিম, সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ, এসডিএফের জেলা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রওনক ফেরদৌস, যুব ও কর্মসংস্থান ভোলার আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, লালমোহন প্রেস ক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।