সোমালিয়ার দস্যুদের হাতে জিম্মি স্বামীর জন্য কাঁদছেন ইয়ামনি

বরিশাল অফিস : পিরোজপুরের কাউখালীর ইয়ামনি তার স্বামীর জন্য কাঁদছেন। ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে রয়েছেন তার স্বামী আলী হোসেন।

মাত্র আট-নয় মাস আগে আলী হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় ইয়ামনির। স্বামী হারানোর শঙ্কায় কাঁদছেন তিনি।

জলদস্যুদের হাতে আটক আলী হোসেন জেলার কাউখালী উপজেলার ইমাম হোসেন মল্লিকের ছেলে। আলী হোসেন জাহাজের ওয়েলার হিসেবে চাকরি করেন।

আর জিম্মি আলী হোসেনের পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী গ্রামে থাকেন।
জলদস্যুদের হাতে আলী হোসেন জিম্মি হওয়ার পর তার বাড়ি গেলে আলী হোসেনের স্ত্রীসহ পরিবারের সবাইকে ভীষণ উদ্বিগ্ন দেখা যায়।

তার বাবা ইমাম হোসেন মল্লিক জানান, ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায়। এর আগে সেদিন বিকেল ৩টার দিকে ফোন দিয়ে তিনি জানান যে তাদের জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। সর্বশেষ সন্ধ্যায় ফোন দিয়ে তিনি জানান যে তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সোমালিয়ার দিকে। এখন থেকে যোগাযোগের সবকিছু মানে মোবাইল ফোন ও জাহাজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে জলদস্যুরা। ফলে মুক্তি পাওয়া কিংবা বেঁচে না ফেরা পর্যন্ত আর কথা হবে না পরিবারের কারও সঙ্গে।

বাইশারীর কুমাড়ের পাড় বিশারীকান্দি সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর নারায়ণগঞ্জের মেরিন একাডেমিতে চার বছরের কোর্স সম্পন্ন করেন আলী হোসেন। এরপর চাকরি নেন জাহাজে। যে জাহাজটি ছিনতাই হয়েছে ওই কোম্পানিতেই আলী প্রথম চাকরি করেন। এর আগেও দুবার জাহাজে চেপে বিদেশে গিয়েছিলেন আলী হোসেন। এটা তার তৃতীয় সমুদ্রযাত্রা।

দুই ভাইয়ের মধ্যে পরিবারের ছোট ছেলে আলী হোসেনের আরেক ভাই জুলফিকার চাকরি করেন পল্লী বিদ্যুতে। দুই ভাই বাবা, মা, ভাবি আর স্ত্রীকে নিয়েই আলীর সংসার।

আলী হোসেনের বাবা জানান, মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় শেষবারের মতো কথা হওয়ার পর বহু চেষ্টা করেও আলীর মোবাইল ফোনে আর কল যাচ্ছে না। ফলে ছেলের সঙ্গে কথাও বলতে পারেননি তিনি। আলী হোসেন যে জাহাজে চাকরি করেন, সেই কোম্পানির পক্ষ থেকে ফোন কল দিয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, যেভাবেই হোক তার সন্তানসহ জিম্মি জাহাজের ২৩ নাবিককে যেন উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার দস্যুদের কবলে পড়ে চট্টগ্রামের শিল্প গ্রুপ কবির স্টিলসের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি আবদুল্লাহ’।




বরগুনায় সেতুটি এখন গ্রামের ১০ হাজার মানুষের আশীর্বাদ

বরিশাল অফিস:: বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের করুনা গ্রামের তালবাড়ি খাল পারাপারে সেতু নির্মিত হওয়ায় এলাকার জনদুর্ভোগ কমেছে।

সেতু নির্মাণের আগে কাঠের ভাঙা সেতু দিয়ে এলাকার লোকজন যাতায়াত করতেন।
নতুন সেতু নির্মিত হওয়ায় এলাকায় জনসাধারণের মনে স্বস্তি ফিরেছে। এক সপ্তাহ আগে সেতু সংলগ্ন সংযোগ সড়ক এবং রং তুলির কাজ শেষ হওয়ায় মনোমুগ্ধ দৃশ্যতে পরিণত হয়েছে সেতুটি। স্থানীয় দশ হাজার জনসাধারণ এখন এ সেতুকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াতের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু-কালভার্ট কর্মসূচির আওতায় ১৩ মিটার দৈর্ঘ্যের বেতাগী উপজেলার করুণা গ্রামের তালবাড়ি খালের ওপর সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৯ টাকা।

সেতুটি বরগুনার পরীর খালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ নেওয়াজ সেলিম ২০২২ সালের ১৫ মার্চ এ কাজটির কার্যাদেশ পায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথাসময় সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করেছে। দুই সপ্তাহ আগে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এবং এক সপ্তাহ আগে রং তুলির কাজ শেষ করেছে। এতে নতুন করে সেজেছে সেতুটি এবং চলাচলের দুর্ভোগ কমেছে এখানকার মানুষের।

সেতু নির্মাণ হওয়ায় স্থানীয়রা গ্রাম থেকে কৃষিপণ্য নিয়ে বেতাগী পৌর শহর, মোকামিয়া মাদরাসা ও মোকামিয়া মাদরাসা বাজারসহ আশপাশের এলাকার মানুষ অতি সহজে চলাচল করতে পারছেন। সেতু নির্মাণের আগে জনদুর্ভোগের চরম পর্যায়ে থাকলেও বর্তমানে সেতু এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ হওয়ায় করুণা গ্রামের মানুষের জনদুর্ভোগ কমেছে। মোকামিয়া ইউনিয়নের করুনা গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের ১০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে।

করুণা গ্রামের বাসিন্দা রুস্তুম আলী সিকদার বলেন, তালবাড়ি সেতুটির দক্ষিণ পাশে একটি মসজিদ রয়েছে। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকার মানুষ এখন স্বস্তিতে নামাজ পড়তে আসতে পারছে।

বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিএম অলিউল ইসলাম বলেন, অগ্রাধিকারভিত্তিতে মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে যথাসময় সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় এলাকার মানুষের জন্য মঙ্গল হয়েছে।




নির্মাণাধীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদের একাংশে ধস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নির্মাণাধীন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দার ছাদ ঢালাইয়ের সময় ধসে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ঢালাই শ্রমিকদের সেন্টারিং ত্রুটির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে।  

প্রত্যক্ষদর্শী নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্মাণাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বারান্দা অংশের ছাদ ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। শেষ মুহূর্তে ঢালাই চলাকালীন সময়েই বারান্দার অংশের সেই ছাদ ধসে পড়ে। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ছাদ ঢালাইয়ের শ্রমিকদের মধ্যে তখন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

ওইদিন রাতেই সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বারান্দার অংশের ছাদ ধসে পড়ে আছে। সেখান থেকে রড সরিয়ে নিচ্ছে নির্মাণ শ্রমিকরা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাউকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। আর সন্ধ্যায় কেন ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা রাহাত হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালের পুরো ছাদটি ১০ হাজার স্কয়ার ফুট। এরমধ্যে বারান্দার অংশটুকু শুধু ২২ ফুট। আমরা সবাই যখন ইফতারি করতে যাই। তখন আমাদের না বলেই বারান্দার সেই অংশটুকু ঢালাই দেওয়া শুরু করে শ্রমিকরা। এ সময় সেন্টারিং ভালভাবে না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটে।’

জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) অধীনে পটুয়াখালীর প্রাইম কনস্ট্রাকশন নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজটি করছিল। প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি পায় এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত বছরের জুলাই মাসে কাজটি শুরু করে তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুর্বল সেন্টারিংয়ের কারণে সামনের বারান্দার অংশটির ছাদ ধসে পড়েছে। তারাহুরো করে কাজটি করতেছিল মিস্ত্রীরা। তাই ঢালাই দেওয়ার পরপরই পড়ে গেছে। আমরা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর মূল ঘটনাটি সম্পর্কে জানা যাবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য মাত্র এক টাকায় সাত পদের ইফতারি দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’।

সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ইফতারি দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি চলবে পুরো রমজানজুড়ে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন রোজাদারের মধ্যে এ ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

কলাপাড়া শহরের দিন মজুর আবুল হোসেন জানান, মাত্র এক টাকায় ইফতার পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাল-ডাল কেনাই দুরূহ। সেখানে ইফতারি কিনে খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ সংগঠনের লোকজন নামমাত্র মূল্যে খাবার দেওয়ায় আমরা কিছুটা হলেও তৃপ্তিসহ ইফতার করতে পারছি।

শহরের অটো রিকশা চালক বাবুল মিয়া বলেন, রমজান মাসের শুরু থেকে সব কিছুর দাম আরও বেড়েছে। দোকান থেকে ইফতারি কিনে খেতে একজনের কমপক্ষে ৫০-৬০ টাকা লাগে। এক টাকায় সাত পদের ইফতারি পেয়ে আনন্দ লাগছে।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা চাঁদা তুলে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথম রমজান থেকে ইফতারি বিতরণ করছি। তারা একেক দিন একেক মহল্লায় ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এক টাকার প্যাকেজে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, পিয়াজু, চপ, বেগুনি ও আপেল।

‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব জানান, এক টাকা আসলে মূল বিষয় না। মানুষ যাতে এটাকে ত্রাণ বা দান মনে না করে সেজন্য আমরা এক টাকা নিচ্ছি। করোনা কালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০২০ সালের রমজান মাসে এটি শুরু করেছিলাম। সেই থেকে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে পারেন।




জনতার কাতারে সামিল হয়ে সদর উপজেলার উন্নয়ন করতে চাই : এসএম জাকির

বরিশাল অফিস :: দড়জায় কড়া নারছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতার লক্ষে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এসএম জাকির হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর বাজার, বেলতলা বাজার এবং বিশ্বাসের হাট বাজারে গণসংযোগ করেছেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম জাকির হোসেন।

এ সময় জনগণের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে বরিশাল সদর উপজেলার উন্নয়নের লক্ষ্যে বরিশাল সদর আসনের সাংসদ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীমকে নিয়ে সদর উপজেলার এবং মানুষের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাবো। সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে ভালো কোন চিকিৎসা সেবা না থাকার কারণে চিকিৎসা সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তি হয়। এ কথা চিন্তা করে আমি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় কে বিষয়টি অবগত করেছি এবং ভালো একটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র করার জন্য কথা বলেছি।

এসএম জাকির হোসেন আরো বলেন, জনগণের কাতারে সামিল হয়ে জনগণের জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাবো। স্মার্ট বরিশাল সদর উপজেলা গড়তে যা যা প্রয়োজন তাই করবো ইনশাআল্লাহ।

এসময় চরমোনাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক নুরুল ইসলাম মাষ্টার, ইউপি সদস্য মো: জুয়েল, আব্দুস সালাম, শাকিল রাঢ়ি, পান্নু চৌকিদার সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

বরিশাল অফিস : পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার মনিটরিং, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার( ১৪ মার্চ) বিকালে সাড়ে ৫ টার দিকে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরিশাল শহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে বরিশাল নগরীর কয়েকটি বাজারে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরুখ আলম শান্তনু।


এ সময় তিনি বাংলা বাজার ও নথুল্লাবাদ কাচা বাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে কৃষিপণ্য বিপণন আইনে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এসময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ইফতারির প্রতিটি আইটেমের দাম ১ টাকা

 

বরিশাল অফিস :: এক টাকার মধ্যে ইফতারির সাতটি আইটেম পাওয়া যায়। যারমধ্যে-আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, সবজির বড়া, কুমড়োর বড়া, শিমের চপ, কলার চপ প্রতিটির প্রতি পিসের দাম একটাকা। এর বাহিরে ডিমের সাসলিক ১০ টাকা, মুরগির সাসলিক ২০ টাকা এবং গরুর সাসলিক মাত্র ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।


রমজান মাসে কতিপয় ব্যবসায়ী যখন অধিক মুনাফালোভে ব্যস্ত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ঠিক তখনই এমন মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে খাবার হোটেল পরিচালনা করা দুই বন্ধ। আর এক টাকায় ইফতার পণ্য পেয়ে ব্যাপক খুশি নগরীর নিন্ম আয়ের রোজদারসহ ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে নগরীর ফকিরবাড়ি রোডে খাবার হোটেল পরিচালনা করে আসছেন রবিউল ইসলাম মিঠু ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুরুল ইসলাম সম্রাট। দুই বন্ধুর ওই হোটেলে সারাবছর ভাতের পাশাপাশি তৈরি হয় আলুর চপ, পেঁয়াজু, বেগুনি, সবজির বড়া, কুমড়ো বড়ার মতো নানা পদ। নাস্তার এ পদগুলোর দামও অন্যান্য হোটেল বা রেস্টুরেন্টের মতোই। কিন্তু চলমান রমজান মাসে ওই দুই উদ্যোক্তা নিয়েছেন অভিনব এক উদ্যোগ। বছরজুড়ে যেসব পদ তারা ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এবারের রমজান মাসজুড়ে সেগুলোর দাম রাখছেন মাত্র এক টাকা করে। ফলে ওই দুই বন্ধুর এমন উদ্যোগে হাসি ফুটেছে নগরীর খেটে খাওয়া মানুষের মুখে।

রবিউল ইসলাম মিঠু জানান, রমজান মাস আসলেই কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এ সময় গরীব ও মধ্যবিত্তদের কেনাকাটা করা অনেক কষ্ট হয়। তাই আমরা চিন্তা করেছি কীভাবে সমাজের গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। সেই চিন্তা থেকে রমজান মাসে আমরা এক টাকায় ইফতারের পদ বিক্রি করার চিন্তা করি।


অপর উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম সম্রাট বলেন, চারদিকে যে হারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এতে সবার খারাপ অবস্থা। তাই রমজান মাসে সবাইকে একটু স্বস্তি দেওয়ার জন্য আমরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন, আমরা বছরের ১১ মাসইতো ব্যবসা করি। রমজান মাসে না হয় একটু কম ব্যবসা করে মানুষের পাশে দাঁড়াই।

 


ইফতার সামগ্রী ক্রয় করতে আসা আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমান বাজারে এক টাকায় ইফতারের পদ পাওয়া এটা আসলেই অকল্পনীয় ব্যাপার। আসলেই উদ্যোগটা দারুণ। সাধ থাকলেও যাদের সাধ্য নেই, যারা অল্প পয়সায় ইফতার কিনতে চান তারা এখান থেকে অনায়াসে কিনতে পারছেন।


রিকশাচালক আব্দুর রহিম বলেন, এই দোকানটা না থাকলে ইফতার কিনে খাওয়ার সাহস পাইতাম না।




রমজানে বাজার মনিটরিং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা টাস্কফোর্স মতবিনিময় সভা

বরিশাল অফিস :: পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার মনিটরিং, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা টাস্কফোর্স ও অংশীজনের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার(১৪ মার্চ) সকাল ১১ টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ খঘরাই,বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাকেরগঞ্জ সার্কেল মোঃ ফরহাদ সরদা। বীর মুক্তিযোদ্ধা কেএসএ মহিউদ্দিন মানিক বীর প্রতিক,বরিশাল মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বৃন্দ, বাজার কমিটির সদস্যরা, বিভিন্ন ব্যবসায়িরা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে অতিথিরা পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার মনিটরিং, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথিরা পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার মনিটরিং ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হবে৷ সবাইকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একসাথে কাজ করতে আহবান জানান তিনি।

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

উপাচার্য হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই তিনি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রতি জোর দেন এবং এ লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ১ এর সম্মুখে এরকম একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন উপাচার্য।

পরিদর্শন শেষে উপাচার্য এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিকশিত হয়। ক্যাম্পাস যদি অপরিচ্ছন্ন হয়, অসুন্দর হয় সেখানে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যা যা করার আমি তা করব। আমার লক্ষ্য হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া।

এসময় উপাচার্যর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 




বরিশালের ‘মলিদা’ এখন শুধুই স্মৃতি

বরিশাল অফিস :: আমাদের সময় ইফতারিতে সাধারণত একটা মিষ্টি থাকত আর সেটা হচ্ছে শিন্নি, আমরা আধুনিকতায় যা বলি ফিরনি। সেটা খেজুরের রস কিংবা আখের গুড়ে তৈরি হতো। এছাড়া মুড়ি, খই, কলাসহ বিভিন্ন দেশীয় ফল থাকত। তবে সবচেয়ে বেশি প্রচলন ছিল “মলিদা” নামে একটি খাবারের, যেটা এখন সচরাচর দেখা যায় না।

“মলিদা” চালের গুঁড়া, গরুর দুধ, নারিকেল দিয়ে তৈরি হতো। এটি অনেক জনপ্রিয় খাবার ছিল, যেটা সবার ঘরেই একটা সময়ে তৈরি হতো। তবে এখন আর তেমন দেখা যায় না। এছাড়া আমাদের সময়ে ইফতারি হতো খুব অল্প সামগ্রী দিয়ে—অর্থাৎ চিড়া, কলা, মুড়ি মাখিয়ে ইফতারি করতাম। তারপর মাগরিবের নামাজ পড়ে এসে পান্তা (পানি দেওয়া) ভাত খেতাম।’ বলছিলেন বরিশাল নগরীর বিশিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ৯৩ বছর বয়সি মানবাধিকার জোটের জেলা শাখার সভাপতি ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান।

গত শতকের ৬০-৭০ দশকে যারা বরিশালে বড় হয়েছেন, তারা জানান, ইফতারের সময় সাইরেন বাজলে পানি মুখে দিতাম। প্রচণ্ড গরমকালের রোজায় বরফ কিনতে পাওয়া যেত। সেই বরফে কাঠের গুঁড়া মাখানো থাকত, যাতে চটজলতি গলে না যায়। কারণ এখনকার মতো ঘরে ঘরে ফ্রিজের ব্যবহার ছিল না। রমজান মাসে পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ইফতারি পাঠানো হতো।

এসব ইফতারিতে আখের গুড়ের শরবত, বুট বিরাজ, ডালের বড়া, চালের বিরান, মুড়ি থাকত। আর মসজিদে ইফতারিতে থাকত চাল ও পানি দিয়ে রান্না করা জাউ। তার সঙ্গে গুড় দিয়ে পরিবেশন করা হতো। মাঝে মাঝে বুট ভাজি হতো সঙ্গে মুড়ি অথবা চালের পায়েস—যাতে নারিকেল, তিল ও গুড় থাকত।

সত্তরোর্ধ্ব সিনিয়র সাংবাদিক ও গবেষক আনিসুর রহমান স্বপন বলেন, ‘আমার ছোটবেলায়, অর্থাত্ কিশোর বয়সে ইফতারিতে বেশি থাকত চিড়া, ঘোল-মুড়ি. দেশীয় বিভিন্ন ফল। মায়ের হাতে তৈরি করা ছোলাবুট, ডালের বড়াসহ বিভিন্ন খাবার। এছাড়া থাকত গরুর মাংস, মুরগির মাংস, লাল চালের তৈরি রুটি, ভাত। সেই আমলে যদি কোনো বাড়িতে ইফতারের দাওয়াত দিত, তখন এই খাবারগুলো বেশি খাওয়াত। আগের দিনে রোজাদারেরা ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি রাখতেন। কিন্তু বর্তমানে রোজাদারেরা যে সমস্ত খাবার খান, তাতে শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।’

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ্ সাজেদা (৬৩) বলেন, ‘আমাদের শৈশবে সাধারণত আমরা চিড়া, মুড়ি, খই, কলা খেতাম ইফতারিতে। পাশাপাশি আমাদের মায়েরা আলাদা করে ডালের বড়া, বিভন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করতেন। এছাড়া দেশীয় বিভিন্ন ফল খেতাম। এখন যেমন ইফতারিতে খেজুর খাওয়া হয়, আমাদের সময়ে খেজুর তেমন একটা পাওয়া যেত না আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ছিল না।

আবার আমাদের সময় কাবুলিওয়ালা ছিল, যারা কিনা চালের বিনিময়ে কিশমিশ ও পেস্তা বাদাম দিত, সেটাও সাধারণ মানুষ খেতে পারত না। আমাদের সময়ে জিলাপির অনেক প্রচলন ছিল, আমরা ইফতারিতে জিলাপি খেতাম। সে সময় খেজুরের গুড় অনেক পাওয়া যেত, আমরা চিড়া, মুড়ি, খই, চালভাজা সেই গুড় মাখিয়ে খেতাম। আসলে সেই খাবারই ছিল সেই সময়ের জনপ্রিয় খাবার। আর এখন মানুষ ফাস্টফুডের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।’