ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, লোকসানের শঙ্কায় বরগুনার বাঙ্গি চাষিরা

বরিশাল অফিস:: বরগুনায় নদীর মাঝে জেগে ওঠা সবুজে ঘেরা একটি চর মাঝেরচর। চতুর্দিক থেকে নদীবেষ্টিত এ চরটিতে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার প্রায় সকলেরই আয়ের প্রধান উৎস কৃষি কাজ। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঠিক পরামর্শের অভাবে এবার লোকসানের ঝুঁকিতে রয়েছেন এই এলাকার বাঙ্গি চাষিরা।

সরেজমিনে বরগুনার মাঝেরচর ঘুরে দেখা যায়, শীত মৌসুমের বিভিন্ন ফসল উৎপাদন শেষে এখন মাঠজুড়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন তরমুজ, বাঙ্গি, মরিচ, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি আবাদে। তবে এর মধ্যে বাঙ্গি চাষির সংখ্যাই বেশি। নারী ও পুরুষ সমানভাবে কাজ করছেন প্রত্যেকটি বাঙ্গির ক্ষেতে। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি চাষ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে কৃষি অফিস থেকে কোনো ধরনের পরামর্শ না পেয়ে সঠিক কীটনাশক ব্যবহার করতে না পারায় লোকসানের শঙ্কা করছেন মাঝেরচর এলাকার বেশির ভাগ বাঙ্গি চাষি।

ইসুফ কবিরাজ নামে এক চাষি  বলেন, রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছের পাতা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের পোকা আক্রমণ করেছে। পোকা দমন করতে পারিনি। এতে গাছের ফুল ও ফল মরে যাচ্ছে। সঠিক কোনো ওষুধ পাইনি আমরা, যে যা বলে তাই ব্যবহার করি। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয় না। দুই লাখ টাকা খরচ করে এখন এক লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারবো না।

চাষিদের সঙ্গে বাঙ্গি চাষে সহযোগিতায় মাঠে কাজ করছেন জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, আমারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার দেনা করে কৃষি কাজ করি। আমদের একটাই আসা থাকে উৎপাদন ভালো হলে ফসল বিক্রি করে সকল ধার দেনা পরিশোধ করবো। কিন্তু আমাদের কৃষিতে এখন লোকসান হয়। সরকারি বেসরকারি কোনো সহযোগিতা আমরা পাই না। এমনকি কোনো প্রকার সার ও কীটনাশকও আমরা পাই না।

মাঝেরচরের আরেক বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন দুই একর জমিতে এবার বাঙ্গি চাষ করেছেন। তিনি  বলেন, আমরা বাঙ্গি চাষে কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা পাই না। এমনকি কৃষি অফিস থেকেও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের কৃষকদের কৃষি কাজে অনেক সমস্যা হয়। আমরা অফিস চিনি না আর সরকারি কোনো অফিসারও আমাদের কাছে আসেন না। বাঙ্গি চাষে যে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় তা আমাদের কাছে না থাকায় গাছ পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। প্রত্যেকটি গাছে এখন ফল থাকার কথা থাকলে তেমন কোনো ফল নেই। আমাদের এখান থেকে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার বাঙ্গি বিক্রি হলেও সঠিক কোনো ওষুধ আমরা পাই না। এ কারণে আমাদের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন কীটনাশকের ডিলার থেকে যখন যা পাই তখন তা ব্যবহার করি।

মো. কালু নামে এক শ্রমিক  বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফল অনেক কম। গত বছর আমরা মাঠ থেকে ব্যাপক পরিমাণ ফল সংগ্রহের কাজ করেছি। যা এ বছর নেই। এবার গাছে ফল হলেও বড় হওয়ার আগে তা মরে যায়।

কৃষকদের উৎপাদিত এসব বাঙ্গি কিনতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঝেরচরে ভিড় করছেন পাইকাররা। তবে সাইজ ও মান ভালো না হওয়ায় কম দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাঙ্গি চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় জানিয়ে বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মো. জোবায়দুল আলম  বলেন, বরগুনাতে গত বছরের তুলনায় এ বছর বাঙ্গির আবাদ কিছুটা কম। কৃষি অধিদপ্তর এ ফসলকে উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে কৃষকদেরকে আমরা সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করি। এছাড়া এ ফসলের আবাদ ও যত্ন নেওয়া অন্য সব ফসলের থেকে একটু কঠিন। আমাদের কারিগরি দিকসহ প্রকল্পের আওতায় যে কোনো সহযোগিতা যেমন সার ওষুধসহ যা থাকে তা আমরা সবসময়ই কৃষকদের দিয়ে থাকি।

বরগুনার মাঝেরচর নামক এ চরটিতে ২০০৫ সাল থেকে মানুষের বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা। পরে জেলা প্রশাসনের সহোযোগিতায় আবারও ঘরবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন মাঝের চরের বাসিন্দারা।




ঝালকাঠিতে বন বিভাগের অবহেলা: নষ্ট হচ্ছে শত শত গাছ

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাজুরতলা থেকে শিমুলতলা জুরকাঠি সড়ক নির্মাণে দুই পাশের সারি সারি গাছগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলেছেন। ফলে রাস্তার দুই ধারে পড়ে থাকা গাছগুলো রোদ–বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। গাছগুলো বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি সম্পদ।

জানা গেছে, রাস্তা নির্মাণে গত বছরের মার্চে গাছ অপসারণের জন্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বরাবর চিঠি দেন নলছিটি উপজেলা প্রকৌশলী। বনবিভাগ ৪১৪টি ছোটবড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মার্কিং করেন। যথা সময়ে গাছগুলো না সরানোর কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সকেভেটর দিয়ে গাছগুলো উপড়ে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। বর্তমানে সেগুলো রাস্তার পাশে জমিতে ও খালে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা এ সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন বিভাগের গাফিলতির কারণে এভাবেই শতশত গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো যদি এখনো উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয় তাহলে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে। এভাবে সরকারি কোটি টাকা সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তা আমরা মানতে পারছি না।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. সহিদ উদ্দিন বলেন, এলজিইডি থেকে আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠি দেওয়ার ১ থেকে দেড় মাসের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। কিন্তু গাছ মার্কিং করে হিসাব করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বরাবর রিপোর্ট দেওয়া লাগবে। এরপর টেন্ডার হয়ে গাছগুলো অপসারণ করা হবে। কিন্তু সেই সময় আমাদের না দিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কারণ গাছ টেন্ডার দেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। আমি বারবার তাদের চিঠি দিয়েছি। গাছগুলো সংগ্রহ করতে অনেক খরচের ব্যাপার। আমাদের যদি সরকারি বাজেট দেন তাহলে গাছগুলো সংগ্রহ করতে পারবো।

এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তাকে দ্রুত সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। এর আগে যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ছিলেন উনি নাই নতুন যে এসেছেন তার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।




পবিপ্রবিতে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪’র দিনব্যাপী কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ পালিত হচ্ছে।

রবিবার(১৭ মার্চ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধু’র আবক্ষ ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে স্বাধীনতা চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

সকাল ১০টায় কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে বঙ্গবন্ধু’র জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪ উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর এ বি এম মাহবুব মোর্শেদ খান’র সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত,বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার প্রফেসর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি নয় পুরো বিশ্বে নেতৃত্বের দৃষ্টান্তে অবধারিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই লড়াই-সংগ্রাম, কারাবরণের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন করে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

একই সময়ে পবিপ্রবি পরিচালিত সৃজনী বিদ্যানিকেতনে প্রামান্য চিত্র প্রদর্শণী এবং শিশু কিশোরদের জন্য রচনা,উপস্থিত বক্তৃতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও যোহরের নামাজের পর পবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মোনাজাত এবং দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

 




গলাচিপায় শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম-বার্ষিকী ও জাতীয়

মোঃ নাসির উদ্দিন, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিন¤্র শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম-বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার (১৭ মার্চ) সকাল ৯ টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর জন্ম- বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১শত ৪তম শুভ জন্ম-বার্ষিকী উপলক্ষে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচীর আলোকে দিবসের সূচনায় উপজেলা প্রশাসন চত্ত¡রে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বাংলাদেশ আ’লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ বাহিনী, পৌরসভা, প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দোয়া মোনাজাত, র‌্যালি মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সুদক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আ’লীগের জনপ্রিয় নেতা মু. শাহিন।

আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার ভ‚মি মো. নাছিম রেজা, গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফেরদাউস আলম খান, আ’লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা সরদার মু. শাহ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুমসুদ্দিন সানু ঢালী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী
মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস সালমা ওয়াহিদ, প্রেসক্লাব সভাপতি ও কলামিস্ট মু. খালিদ হোসেন মিলটন প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান শিবলী। আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ শিশু কিশোরদের নিয়ে কেক কেটে শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন এবং রচনা ও চিত্রাঙ্কণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলা আ’লীগ বিভিন্ন কর্মসূচী সহ আলোচনা ও শিশুদের নানা প্রোগ্রাম পালন করে।




চাকরি না পেয়ে হতাশায় বরিশালে যুবকের আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস :: বিএসি ইঞ্জিনিয়ার হয়েও চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছে না পেয়ে শেষে হতাশায় হয়ে আত্মহত্যা করেছে বরিশালে শুভদ্বীপ কর্মকার (২৬) নামের এক যুবক । বরিবার (১৭ মার্চ ) সকালে বরিশাল নগরীর ঝাউতলা দ্বিতীয় গলিতে নিজ বাসা থেকে শুভদ্বীপের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ । শুভদ্বীপ ওই এলাকার রনজিৎ কর্মকারের একমাত্র ছেলে ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম আরিচুল হক বলেন, শুভদ্বীপ নামের এক যুবককে উদ্ধার করে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ । লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে আইন অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

শুভদ্বীপের বড় বোন স্বর্ণা বলেন, গতকাল রাতে সবাই এক সাথে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাই,সকালে রুমের দরজায় আঘাত করলে তার কোন সাড়া পাইনি। তখন দরজার ফাঁক দিয়ে ওকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই ।

তিনি বলেন,আমাদের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে মহাবিপদে রয়েছি। আমার একমাত্র ভাই শুভদ্বীপ বিএসি ইঞ্জিনিয়ার হয়েও চাকরি পাচ্ছিল না। সে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেছে এবং হতাশায় ভুগছিল। সে কারণেই আমার ভাই আত্মহত্যা করেছে।

 




পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বর্নিল আয়োজনে পটুয়াখালীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালিত হচ্ছে।

রোববার (১৭ মার্চ) সকাল ৮টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিত পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদ সদস্য নাজনীন নাহার রশীদ, জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ সাইদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আলমগীর, পৌর মেয়র মহিদ্দিন আহম্মেদ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. গোলাম সরোয়ারসহ বিভিন্ন সরকারি বে-সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পটুয়াখালী প্রেসক্লাব, আওয়ামী লীগের সহযোগী সঙ্গঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সঙ্গঠনসমূহ।

এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি স্কয়ার মাঠে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে” প্রতিপাদ্যে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

এর আগে সকাল ৬ টায় জেলা আওয়ামী কার্যালয় প্রাঙ্গনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।

বিভিন্ন মন্দির ও মসজিদে বিশেষ প্রর্থনা করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে কেক কাটা ও বিভিন্ন স্থাপনায় আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।




বরিশালে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন

বরিশাল অফিস : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই দিনে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ ১০৪তম জন্মশতবর্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন বরিশালের আয়োজনে যথাযথ মর্যাদায় শিশু-কিশোর সমাবেশ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন করেন।

এ সময় বরিশাল জেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে সেখান থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন কর্তিক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক বিতরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী।


বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের
সভাপতিত্বে। বিশেষ অতিথি ছিলেন,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির । বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ সোহরাব হোসেন,বরিশাল রেঞ্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ শহিদুল্লাহ,বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুসসহ বিভিন্ন প্রশাসনের উধ্বর্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা সভায় অতিথিরা তার জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন। সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা শিশু একাডেমির পরিবেশনায় মনোজ্ঞা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ মার্চ উপলক্ষে বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীরা বিজয়ী দের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করেন অতিথিরা।

এ দিকে, বরিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এর মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ কমিশনার বিএমপি জিহাদুল কবির, এসময় বিএমপি’র সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




মেঘনা নদীর তীর থেকে আ.লীগ নেতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার হিজলায় মেঘনা নদীর তীর থেকে জামাল মাঝি (৬০) নামে এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকার নদী তীরের একটি সয়াবিন ক্ষেত থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বরিশাল হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবাইর জানান, বেলা ১২টার দিকে পালপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনা এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। এ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিহত জামাল মাঝি পালপাড়া গ্রামের মৃত কাদের মাঝির ছেলে। সে উপজেলার ৬ নম্বর ধুলখোলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর পালপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়াও বরিশাল-৪(হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথের অনুসারী।

 




পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমীর আয়োজনে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ক খ গ তিনটি বিভাগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিসি স্কয়ারে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।




বরিশালে জনপ্রতিনিধির উদ্যোগে পারিবারিক সাশ্রয় বাজার চালু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উদ্যোগে চালু হয়েছে পারিবারিক সাশ্রয় বাজার।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড রোডে এ বাজারে বেচা বিক্রি শুরু হয়।

খোলা বাজারে যে দামে বিক্রি হয়, তার চেয়ে কম দামে এখানে পণ্য পাওয়া যায়। যার কারণে প্রথম দিনেই এ বাজার সাড়া ফেলেছে ওয়ার্ডবাসীদের মাঝে।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শাহিন সিকদার জানান, এই বাজারে পণ্যের মূল্য এমন হবে যেন একটি পরিবারের মাসে কম করে হলেও ৩ হাজারের বেশি টাকা সাশ্রয় হয়। সেই হিসাব করেই পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আমার লক্ষ্য বা ইচ্ছা হলো সাশ্রয়ের পাশাপাশি মানুষকে ফ্রেস খাবার খাওয়ানো। সে লক্ষ্যেই কাজ করছি।

আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে পুরো বরিশালে এই সাশ্রয় বাজার ছড়িয়ে দেব।
তিনি আরো বলেন, ২০১২ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকার মোহাম্মদপুরে সাশ্রয়ী বাজার চালু করেছিলেন। সেটাই আমার প্রেরণার উৎস। আমি তাকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে তখন থেকেই মাথায় নিয়েছি বরিশালে এই বাজার চালু করার বিষয়ে। আপাতত আমার নির্বাচিত এলাকা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে শুরু করলাম। ভবিষ্যতে গোটা নগরে ছড়িয়ে দেব। সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষগুলো একটু ভাল থাকুক এটাই আমার এই প্রচেষ্টার মূল উদ্দেশ্য।

বাজারের মাংস বিক্রেতা মো. সুমন জানান, প্রথম দিনে জুম্মা নামাজের পর বিক্রি শুরু হয়। বিকেল চারটার মধ্যে ১৪০ কেজি গরুর মাংস বিক্রি করেছেন। বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতিকেজি ৭৮০ টাকা। কিন্তু তারা বিক্রি করেছেন মাত্র সাড়ে ৬শত টাকা দরে।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা ছেলেকে কোচিং থেকে নিতে এসে পাশের বাজারের আসেন। এক কেজির গরুর মাংসের দাম মাত্র সাড়ে ছয়শ টাকা দেখে আড়াই কেজি কিনে নিয়েছেন।

বাজার পরিচালনায় থাকা মো. ফেরদৌস জানালেন, এ বাজারে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাক সবজি, ফল ও মুদী মালামালসহ একটি পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্য রয়েছে। অন্যান্য বাজারের চেয়ে এখানে কম দাম। এ বাজারের পণ্য সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে আনা হয়। গ্রামের প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে গরু কেনা হবে।

পারিবারিক সাশ্রয় বাজারের প্রবেশ মুখে টানানো রয়েছে পণ্যমূল্যের তালিকা ও অন্যান্য বাজারের একই পণ্যের মূল্যে। সেই তালিকায় দেখা গেছে, অন্যান্য বাজারে কোরাল মাছ প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সেই মাছ পারিবারিক সাশ্রয় বাজারে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এ বাজারের প্রতি কেজি গাজর ২৫ টাকা, টমেটো ৫০, লেবু হালি ৪৫, কাচা মরিচ ৬০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, ঢেড়শ ৫০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, চাল ৫৫ টাকা, মিনিকেট ৬৮, বেশন ৯৫ টাকা, ছোলা ১০৫, চিনি ১৩৮, সায়াবিন ১৬৪, আদা ১৮০, রসুন ১৯৫, দেশি রসুন ১৩০, পেঁয়াজ ৭২, আলু ৩০, পাবদা মাছ ৩৩০, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা ও চিংড়ি মাছ সাড়ে ৭শত টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে।