ঝালকাঠিতে শিশু হত্যা : এক যুবকের ফাঁসি, এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বরিশাল অফিস::  ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় শিশু হত্যার দায়ে ইয়াসিন জোমাদ্দার (২০) নামে এক যুবকের ফাঁসি ও রেহেনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিকেলে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: মাসুদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

এ সময় শাহাদাত হোসেন নামে অপর এক আসামিকে খালাস দেয়া হয়। এর আগে শিশু আদালত থেকে মামলার তিন শিশু আসামি খালাস পায়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাঁঠালিয়া উপজেলার জোরখালী গ্রামের শাহিন জোমাদ্দারের মেয়ে মাদরাসায় যাতায়াতের পথে প্রতিবেশী ইয়াসিন জোমাদ্দার উত্যক্ত করত। এতে বাঁধা দিতো শাহিনের শিশুপুত্র মেহেদী হাসান (৮)। এতে মেহেদী হাসানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ইয়াসিন। ২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট বিকেলে বাসা থেকে বের হলে শিশু মেহেদী হাসান নিখোঁজ হয়। পরে ৩১ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় আনসার আলির বাড়ির বাগানে ধারলো অস্ত্রদিয়ে ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় শিশু মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় ৩১ আগস্ট মেহেদী হাসানের বাবা শাহিন জমাদ্দার প্রতিবেশী তিন শিশুসহ ছয় জনকে আসামি করে কাঁঠালিয়া থানায় মামলা করে। ২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ঝালকাঠি সিআইডির এসআই সিদ্দিকুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে রায় ঘোষণা দেন। রাষ্ট্র পক্ষে অতিরিক্ত পিপি আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান মনু ও আসামিদের পক্ষে নাসির উদ্দিন কবির মামলা পরিচালনা করেন। এই মামলার আসামি মো: শাহাদাত হোসেন এবং অপর তিন শিশু আসামিকে শিশু আদালত থেকে খালাস প্রদান করা হয়।




সাগরে নিখোঁজ ২৫ জেলের সন্ধান আজো মেলেনি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চার মাস আগের ঝড়ের ঘটনা, পেটের তাগিদে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘূর্ণিঝড় মিধিলির ঝড়ের কবলে নিখোঁজ হয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ জেলে। যাদের সন্ধান আজো মেলেনি। এখন পরিবারের আকুতি-নিখোঁজ জেলেদের ভাগ্যে কি ঘটেছে? তা জানতে চান তারা।

জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কবলে পড়ে নিখোঁজ হয় ২৫ জেলে। ঘটনার চার মাস হয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে তিন বোনের তিন ছেলে রয়েছে।
তারা হলেন- উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের জিসান, নয়াভাঙ্গুনি গ্রামের তামিম ও কামরুল।
ওই ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তিন খালাতো ভাই। কিন্তু ঝড়ের পর বাড়ি ফেরা হয়নি তাদের। তাই দিশেহারা তাদের পরিবার।

নিখোঁজ তিন জেলের মামা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসনকে জানিয়েছি। আমরা ট্রলার নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। ওরা বেঁচে আছে নাকি নাই তাও জানতে পারছি না।’

শুধু এ তিন জেলে পরিবারের এমন হতাশা নয়-বাকি ২২ জেলে পরিবারের ভাষ্যও এক।

তারা বলছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সুন্দরবন, মংলায় খোঁজাখুঁজি ছাড়াও ভারতেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির পর থেকে নিখোঁজ হয় উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বাসিন্দা হাসান জোমাদ্দারের ট্রলারের জিসান, তামিম, কামরুলসহ আটজন জেলে, মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা দিদার মৃধার ট্রলারের আটজন জেলে এবং একই এলাকার হিমু হাওলাদারের মালিকানাধীন ট্রলারের ৯ জন জেলে।

উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘জেলেদের নিখোঁজের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি। সুন্দরবন, মংলা এবং ভারতের বর্ডারেও ট্রলার নিয়ে খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু কোথাও তাদের কোনো সন্ধান পাইনি আমরা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘নিখোঁজদের বিষয়ে আমরা এখনও কোনো তথ্য পাইনি। তাদের সন্ধানে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোস্টগার্ড বিষয়টি অবগত রয়েছে।




অবহেলায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম-গঞ্জে জন্মানো ভাটিফুল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে রাস্তার পাশে, জঙ্গলে জন্মানো বনজুঁই বা ভাটিফুল সহজেই মানুষের নজর কাড়ে।

ঋতুরাজ বসন্তের শুরু থেকেই ঝোপ-ঝাড়ে, জঙ্গলে, রাস্তার ধারে নিজের সুন্দর রূপ ছড়িয়ে থাকে ভাটিফুল। ভাঁট গ্রাম বাংলার চিরচেনা বনফুল।

স্থানভেদে এটির নাম ভাটি ফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ থাকলেও এ অঞ্চলে ‘ভাটি ফুল’ নামেই পরিচিত।

সনাতন ধর্মালম্বীরা ভাটি পূজায় এই ফুল ব্যবহার করে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লোরোডেনড্রাম ভিসকোসাম, ভারবেনাসেই গণের এই ফুল ল্যামিয়াসেই পরিবারভুক্ত। এটি ইনফরচুনাটাম প্রজাতির এবং বাংলাদেশের আদি ফুল। ভাটিফুল দেশজ গুল্মজাতীয় বুনোফুল। ছোট আকৃতির নরম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় গাছে তোড়ার মতো ভাটিফুল ফোটে।

ফুলের রং সাদা। পাঁচটি পাপড়ি। প্রতিটি ফুলের অভ্যন্তরে বেগুনি রঙের ঢেউ যেন ব্রাশ দিয়ে টেনে দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে সাদা বেশ দীর্ঘ কয়েকটি মঞ্জরি। রাতে ভাটিফুল গন্ধ ছড়ায়। ভাটিফুল ঔষধি উদ্ভিদ। এর পাতা কবিরাজরা অ্যাজমা, টিউমার ও সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা জ্বর, চর্মরোগ ও বিছার হুল ফোটানোতে এর পাতা, ফুল, ফল ও মূল ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করেন। জেলার গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই ভাটিফুলের কম বেশি দেখা মেলে। তবে অচাষকৃত বহু বিলুপ্ত উদ্ভিদের মতোন ভাটিফুলও বিলুপ্তির পথে।




বরিশালে দুইটি সাংবাদিক সংগঠনের কমিটি গঠণ

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি জেলার গৌরনদী শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর নবগঠিত কমিটি ঘোষণা করেছেন। উপজেলার টরকী বন্দর ফুড ভিলেজ রেস্তোরায় উল্লেখিত দুই কমিটির আয়োজনে সোমবার ইফতার মাহফিলের পূর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু আবদুল্লাহ খান। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর।


সংগঠনের গৌরনদী উপজেলা শাখার সভাপতি এসএম মিজানের সভাপতিত্বে ও বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন, ওসি (তদন্ত) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম রসুল মোল্লা, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, গিয়াস উদ্দিন মিয়া, আসাদুজ্জামান রিপন, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তপন বসু, বিএমএসএফ’র জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মৃধা মোঃ আফসার উদ্দিন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ নকিবুল হক প্রমুখ। সভার শুরুতে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার। শেষে দেশ ও জাতির কল্যানে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ইফতার শেষে অনুমোদিত ও ঘোষিত বিএমএসএফ’র ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দরা হলেন-এসএম মিজান সভাপতি, এইচএম খায়রুল ইসলাম সহসভাপতি, হাসান মাহমুদ সাধারণ সম্পাদক, সাইফুল ইসলাম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, প্রেমানন্দ ঘরামী সাংগঠনিক সম্পাদক, জিএম জসিম হাসান কোষাধ্যক্ষ, কেএম সোহেব জুয়েল দপ্তর সম্পাদক, পার্থ হালদার প্রচার সম্পাদক, এইচএম লিজন, নাসির উদ্দিন লিটু ও এইচএম আলামিন নির্বাহী সদস্য। সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস সভাপতি, তারেক মাহমুদ আলী সহ-সভাপতি, জামিল মাহমুদ সাধারণ সম্পাদক, রনি মোল্লা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, আরেফিন রিয়াদ সাংগঠনিক সম্পাদক, মাজহারুল ইসলাম রুবেল কোষাধ্যক্ষ, উৎপল চক্রবর্তী দপ্তর সম্পাদক, রাসেদ আহমেদ প্রচার সম্পাদক, ফাহাদ মিয়া, এনায়েত হোসেন মুন্না ও বিনয় শিয়ালী নির্বাহী সদস্য।

 




কীর্তনখোলা নদীতে নিখোঁজ জেলের পা উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল কীর্তনখোলা নদীতে পারাবাত-১১ লঞ্চের নিচে পড়ে আবেদ আলী (৩০) নামের এক জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার একটি পা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মার্চ) দুপুরে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ নদীবন্দর এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জলিল জানান, আমরা শুনতে পাই যে কিছুক্ষণ আগে দুপুরে বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় একজন জেলে মাছ ধরছিলো। এসময় তার জাল লঞ্চের ইঞ্জিনের পাখার সাথে আটকে যায়। এতে ওই জেলে জাল ছাড়াতে পানির নিচে যায়। হঠাৎ করে ওই লঞ্চ চালু দিয়ে অন্য জায়গায় নোঙ্গর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে পাখায় আঘাত পেয়ে ওই জেলে নিখোঁজ হয়।

তিনি বলেন, আমরা আসার পর ফায়ার সার্ভিসেরকে ফোন করলে তারা এসে খোঁজাখুঁজি করে নিখোঁজ জেলের একটি বাম পা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনা তদন্ত সাক্ষেপে আইনগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




দুমকীতে আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ মামলার আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

র‌্যাবের জালে পটুয়াখালীর দুমকীতে ১২ বছরের কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা মামলার পলাতক আসামী দুলাল খন্দকারকে (৩৫) মামলা রুজু হওয়ার মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে আটক হয়েছে। 

রবিবার(১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‌্যাব-৮ (সিপিসি-১) পটুয়াখালী ক্যাম্পের বিশেষ আভিযানিক দলের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা’র নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনা জেলার সদর থানার ফুলঝুঁড়ি এলাকা থেকে দুলালকে আটক করা হয়।

আটক আসামী দুলাল খন্দকার উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বারেক খন্দকারের ছেলে। সে ৩ সন্তানের জনক।

আট মাস আগে ধর্ষণের ঘটনায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ কবির খন্দকারের মেয়ে ভুক্তভোগী সাদিয়া আক্তার (৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগে দুলাল খন্দকারের নামে দুমকী থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা হলে ঘটনাটি র‌্যাবের নজরে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মেজর সোহেল রানা জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী দুলালকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 




উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: গ্রামে গ্রামে প্রার্থীদের জনসংযোগ বাড়ছে

বরিশাল অফিস : : জানাজা, ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিম্বা মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে সম্পৃক্ত হবার জোর প্রতিযোগিতা চলছে বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে। যদিও সাধারণ মানুষের এ নিয়ে খুব একটা ভাবান্তর নেই। এই নির্বাচন নিয়ে চা দোকানেও নেই কোনো আলোচনা। এমনকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করার পর সোজা সরল উত্তর – পেটনীতি কইরা বাচিনা, উপজেলায় আর কি? জাতীয় নির্বাচনেইতো উপজেলা লেখা আছে। যানতো ভাই। এমন আচরণ চন্দ্রমোহন ও চাঁদপুরা ইউনিয়নের বাজারে।


আবার টুঙ্গিবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চরবাড়িয়া ও চরমোনাই এলাকার গ্রামের সাধারণ মানুষের মুখে এখন নির্বাচন মানেই চরম বিরক্তি। এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহ না থাকলেও সোমালিয়া থেকে বাংলাদেশের নাবিকরা উদ্ধার হয়েছে কিনা, পাকিস্তানের ইমরান খান সরকারে আসবে কিনা জানার আগ্রহ গ্রামবাসীর। কেউ কেউ আবার বাজারের দরে বিএনপির সিন্ডিকেট কীভাবে করলো, দেশে এতো আত্মহত্যা কেন হচ্ছে, জাহাঙ্গীর নগর ও জগন্নাথের আত্মহত্যা হইলো কেন? এমন অসংখ্য প্রশ্ন তোলেন গ্রামের অশিক্ষিত- অর্ধমূর্খ কৃষকেরা।

সরজমিন, বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরার চেষ্টায় (১৮ মার্চ) শনিবার এমন পরিস্থিতিতে পরতে হয়েছিলো টুঙ্গিবাড়িয়ার লাহারহাট ও চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের চন্দ্রমোহন বাজারে। বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এবার মনিরুল ইসলাম ছবি, মাহমুদুল হক খান মামুন, এসএম জাকির এবং মাহবুবুর রহমান মধু নামে চারজনের ব্যানার পোস্টার ও প্রচারণা চোখে পড়ে। কীর্তনখোলা নদী তীরবর্তী এলাকাসহ ওপারে ঝুলছে এসব ব্যানার পোস্টার।

বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৪৭টি গ্রামকে ঘীরে চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত চারজনের প্রচারণা চোখে পড়ে। সকলের চেষ্টা এই উপজেলার প্রায় সোয়া দুই লক্ষ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার। এদের মধ্যে ভোটার সংখ্যা রয়েছে প্রায় দুই লক্ষ। তবে ২০১১ সালের জনসংখ্যা পরিসংখ্যানে মোট লোকসংখ্যা ১,৯৮,৭৩৯ জন, পুরুষ ৯৭,৭৩২ জন, মহিলা ১,০১,০০৭ জন উল্লেখ রয়েছে। একই হিসেবে ভোটার সংখ্যা ১,২০,৫৮১ জন,পুরুষ ভোটার ৫৯,৪৫৫।

তবে আপডেট করা হলে এ সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হবে বলে জানান জনপ্রতিনিধিরাই। এ অঞ্চলের বরাবরই নারী ভোটার বেশি। তাই জাতীয় বা স্থানীয় উভয় নির্বাচনেই নারীদের ভোট বেশি গুরুত্ব বহন করে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যানরা।


বরিশাল এক বা সদর আসনের ১০ ইউনিয়নের মধ্যে নদীর ওপারে চরকাউয়া, চাঁদপুরা, চরমোনাই, চন্দ্রমোহন এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় সব জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান) জানালেন, তারা নিজেদের এলাকার সড়ক ও ব্রীজের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাচ্ছেন না। অনেক সড়ক, ব্রীজ ও কালভার্টের কারণে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। এগুলো নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এর কাছে ছুটোছুটি করছেন। তাই উপজেলা চেয়ারম্যান নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না বলে জানান বেশিরভাগ চেয়ারম্যান।

 

তারা বলেন, এখনোতো তফশিল ঘোষণা হয়নি। যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের অনেকেই হয়তো ততদিনে উইড্র হয়ে যাবেন বলে জানান টুঙ্গিবাড়িয়ার চেয়ারম্যান নাদিরা রহমান। তার এলাকায় বদিউল্লাহ, শালুকা ও চর কেউটিয়া গ্রামে ফুলতলা নদীর উপর তিনটি ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে আন্দোলন করছে গ্রামবাসী। যা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন চেয়ারম্যান নাদিরা রহমান।

তিনি বলেন, যেহেতু সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক চর কেউটিয়াতে একটি ব্রীজের ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে একই ইউনিয়নে আরো দুটি ব্রীজ কি করে চাইবো?

এদিকে চরমোনাই ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ বেশিরভাগ গ্রামেই কোনো উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি। যতটুকু উন্নয়ন তার সবটাই চরমোনাই মাহফিল ময়দান ও মাদ্রাসা এলাকায়। আশেপাশের গ্রামগুলোতে এখনো মাটির সড়ক চোখে পড়ে

 

চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক অবশ্য চারজন প্রার্থীকেই সময় দিয়েছেন দাবী করে বলেন, মনিরুল ইসলাম ছবি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী, আবার এসএম জাকির যখন এসেছেন তখন ইউনিয়ন পরিষদের সব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবার মাহমুদুল হক খান মামুন এসেছিলেন একটি ক্রিড়া প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি হিসেবে। এলাকার মানুষের সাথে আমিও ছিলাম সেখানে।

চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বললেন, বরিশাল ৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এর নির্দেশনার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। চাঁদপুরা ইউনিয়ন বাসী জাহিদ ফারুকের সমর্থন যেদিকে সেদিকেই তারা থাকবে বলে জানান চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন।


চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি নিজেই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পরপর চারবারের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান মনিরুল ইসলাম ছবি। তিনি বলেন, সাংগঠনিক ভাবে আমার অবস্থান প্রচণ্ড শক্ত রয়েছে। তাই মানুষের ভোটও আমি পাবো।

এদিক দিয়ে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মধু। লাহারহাটের গ্রামে প্রচারণারত মধুর দাবী ১০ ইউনিয়নের ১৪৭টি গ্রামের প্রতিটি ঘরে আমি গিয়েছি। যতটুকু পেরেছি ততটুকু সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছি। তারপরও সংবাদমাধ্যমগুলোতে অনেকের নাম লেখা হয়, আমার নাম লেখা হয়না।

তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, সাংবাদিকরাতো সবাই জাকিরের লোক। কেউ কেউ অবশ্য প্রতিমন্ত্রীর সমর্থন যেদিকে সেদিকে থাকবেন। তারউপর খান মামুন এর অঢেল টাকাও রয়েছে। তিনি তা দিয়ে দান দক্ষিণা করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান মধু। তিনি আরো বলেন, দৈনিক মতবাদ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম জাকিরতো শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হবার সুযোগে সাংবাদিকদের বড় একটা অংশের সুনজরে রয়েছেন। যে কারণে তার নিজের পত্রিকাসহ অনেক পত্রিকার প্রভাব বিস্তার হচ্ছে ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্য মহলে। তাই তার জনসভায় সব চেয়ারম্যান মেম্বার উপস্থিত থাকতে বাধ্য হয় বলে জানালেন ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান মধু।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক কাউন্সিলর এসএম জাকির বলেন, মানুষেরা জানেন আমি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমাকে ভোট দিলে কারো প্রতারিত হবার ভয় নেই। আমি দুই লক্ষ ভোটারের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবো বলে জানান এসএম জাকির।

অন্যদিকে প্রকাশ্যে প্রতিমন্ত্রীর ছবি সমেত ব্যানার পোস্টার ঝুলিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মধু দুজনেই। এই দুজনের মধ্যে খান মামুন প্রচার প্রচারণায় এবং প্রতিটি ইউনিয়নের স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসার উন্নয়নে, ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অবদান রাখছেন। এপারে কাশীপুর, কড়াপুর, চরবাড়িয়া ও শায়েস্তাবাদের প্রতিটি সড়কের মোড়ে মাহমুদুল হক খান মামুন এর ব্যানার পোস্টার লক্ষ করা গেছে। যা তাকে স্থানীয়ভাবে আলোচিত করে তুলছে। তার সম্পর্কে লোকেরা জানান, ত্যাগী নেতা তিনি। রাজনৈতিক জীবনে দল থেকে প্রাপ্তির খাতা শূন্য হলেও জনগণের কাছ থেকে অনেক ভালবাসা পেয়েছেন তিনি।

বরিশালের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনসহ তৎপরবর্তী প্রায় সব আন্দোলন সংগ্রামে মাহমুদুল হক খান মামুন এর ভুমিকা সবচেয়ে প্রশংসনীয় ছিল। তার কারণেই বরিশালের রাজনৈতিক যে পরিবর্তন তা চাক্ষুষ হচ্ছে। অথচ এই মানুষটি বঞ্চিত থেকে গেলেন সবসময়।


তবে বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন বলেন, কোনো পদপদবি মোহে নয়, সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করা, তাদের বিপদে এগিয়ে আসা, ছোটখাটো উপকার এসব আমরা পারিবারিক ভাবেই করছি। কারণ বংশপরম্পরায় আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার বাবা প্রয়াত শামসুল হক এই বরিশালের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ছিলেন। কতশত মানুষের ঠিকানা দিয়েছেন তিনি এই বরিশালে আমার বড় ভাই শহীদুল্লাহ আওয়ামী লীগ করতেন। ১৯৮১ সাল থেকে আমি বিএম কলেজে ছাত্রলীগের ভিপি ছিলাম। তিল তিল করে আজকের এই অবস্থানে এসেছি। যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আছি। জেল খেটেছি। ২০০৮, ২০১৩ ও ২০১৮ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিতে চেষ্টা করেছিলাম। দল থেকে মনোনয়ন পাইনি। এবার কেন্দ্রীয় সহ স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা করছি। এভাবে হলেও বরিশালবাসীর সেবা করার একটা সুযোগতো পাবো। আশাকরি গ্রামবাসী আমাকে সে সুযোগ দেবেন বলে জানান খান মামুন।

আগামী ৪ মে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন বরিশালের নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তাওয়াহিদুজ্জামান মুন্সি। তিনি বলেন, ৪ মে থেকে ২৫ মে সারাদেশের উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সেই ধারাবাহিকতায় বরিশালে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে বলে জানান তিনি।




বরিশালে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে জুনিয়র সিনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্বে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রবিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর শশী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত কলেজছাত্র হলো ইমাম হোসেন মইন ওরফে মাহী। সে নগরীর বগুড়া রোড বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের গলির বাসিন্দা মৃত আহসান হাবীবের ছেলে। নগরীর সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এ বছর তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মাহী বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জুর শ্যালক। তিনি জানান, মাহী বন্ধুদের নিয়ে শশী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পাশে দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো। এ সময় তার জুনিয়র সাইভি এসে সিগারেট কিনে দিতে বলে। এতে মাহী রাগ করে সাইভিকে সরিয়ে দেয়। সেখান থেকে সাইভি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবারও এসে মাহীকে ডেকে পাশের একটি গলিতে নেয়। সেখানে আগে থেকে সাকিব ও রাফাতসহ সাইভি মাহীকে চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করে।

মঞ্জু জানান, মাহীর ডাক-চিৎকারে বন্ধুরা এসে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

মাহীর ঘাড়ে, গলায় ও মাথায় তিন স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে জানিয়ে মঞ্জু বলেন, চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। তা ঘাড়ের ওপ জখম গুরুতর। তাকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মঞ্জু।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আরিচুল হক  বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কারা জড়িত ছিলো তাদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




বরিশালে দেড়শ টাকার তরমুজে সাড়ে ৬শ টাকা লাভ!

বরিশাল অফিস :: খেত থেকে বাজার পর্যন্ত আসতে একটা তরমুজে ৬ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এই চিত্র বরিশালের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত। যে তরমুজ ৭ থেকে ৮শ টাকায় কিনে খাচ্ছে মানুষ, সেই তরমুজই ফড়িয়া দালালরা কৃষকের কাছ থেকে কিনছে মাত্র ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। দু-তিন হাত ঘুরে বাজার পর্যন্ত আসতে এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আরও ৬ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা। মাঝের এই মোটা অঙ্ক চলে যাচ্ছে ওই ২-৩ জনের হাতে। যার খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। মৌসুমি এই ফলের বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারি কোনো দপ্তরের নজরদারি না থাকায় ঘটছে এমনটা। আড়তদাররাও এক্ষেত্রে প্রকাশ করেছেন অসহায়ত্ব। আড়ত থেকে ৩শ টাকা দরে বিক্রি করা তরমুজ মাত্র ১-২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে কী করে ৭-৮শ টাকা হয়ে যাচ্ছে সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই তাদের কাছেও।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কৃষক মশিউর রহমান বাবুল এবার ৩০ একর (স্থানীয় হিসাবে প্রায় ১৯ কানি) জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন। বিক্রির জন্য তরমুজ নিয়ে ঢাকায় যাওয়া বাবুলের সঙ্গে কথা হয় মোবাইল ফোনে। তিনি বলেন, ১৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি করেছি তরমুজ। একেকটির ওজন ছিল ৫ থেকে ৬ কেজি। খেত থেকে সরাসরি বিক্রি করলে ১৪০-১৬০ টাকা পেতাম।

বরিশাল নগর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বাকেরগঞ্জে ২৪ কানি (১৬০ শতাংশে ১ কানি) জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন শফিকুর রহমান মুন্সি। দালাল-ফড়িয়াদের কাছে কিছু বিক্রিও করেছেন। শফিক মুন্সি অবশ্য পিস হিসাবে নয়, বেচেছেন খেত অনুযায়ী। তিনি বলেন, তরমুজের ওজন হয়েছিল ৫ থেকে ৬ কেজি। প্রতি কানি বেচেছি ৩ লাখ টাকা দরে। প্রতি পিস তরমুজের দাম পড়েছে ১৩০-১৩২ টাকা।

প্রায় একই দরে তরমুজ বিক্রি করা গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের মোন্তাজ ব্যাপারী বলেন, আমার তরমুজের সাইজ কিছুটা বড় হয়েছিল। ফড়িয়ারা প্রতি পিসে ১৪৫ টাকা দিয়েছে।

দেশের তরমুজের চাহিদার ৬৮ ভাগের জোগান যায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে। যে কারণে মৌসুম এলে বরিশাল অঞ্চলের দিকেই চোখ থাকে সারা দেশের ফড়িয়া-দালালদের। বরিশালের প্রসিদ্ধ পাইকার দত্ত অ্যান্ড সন্সের মালিক গণেশ দত্ত বলেন, চাষিরা তরমুজ নিয়ে আমাদের আড়তে আসেন। তাদের ধরে দেওয়া দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি আমরা। এই বেচা-কেনায় খরচ বাদ দিয়ে আড়তের কমিশন থাকে। এ বছর অবশ্য কৃষকরাও বেশ বাড়িয়েছেন তরমুজের দাম। এ পর্যন্ত যত লট এসেছে তাতে সাড়ে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের তরমুজ ৩০০-৩৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি করেছি আমরা। আড়তে ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া তরমুজ খুচরা বাজারে গিয়ে ৭-৮শ টাকা হচ্ছে কী করে- জানতে চাইলে নিরুত্তর থাকেন গণেশ। শুধু বলেন, এটা খুচরা বিক্রেতারা বলতে পারবেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে দেখছি তরমুজের সিজন এলে সক্রিয় হয় একটি চক্র। এরা নিয়মিত নয়, সিজনাল ব্যবসা করে। বেশি লাভের আশায় এরাই বাড়িয়ে দেয় দাম।

বরিশাল নগরের আরেক ব্যবসায়ী বাজার রোডের নান্টু হাওলাদার বলেন, এই যে খেতে গিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তরমুজ কিনে নিয়ে আসে, এইসব ফড়িয়া দালালরা কিন্তু স্থানীয় নয়। ঢাকা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সারা দেশ থেকেই এরা আসে। খেতে বসেই বিক্রি করতে পারে বলে কৃষকরাও দিয়ে দেন।

তরমুজ কেনাবেচায় দেশের সবচেয়ে বড় আড়তপট্টি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার ব্যবসায়ী মিজান তালুকদার বলেন, শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দোষ দিলেই হবে না। এবার কৃষকরাও খেত পর্যায়ে দাম বাড়িয়েছেন। তাছাড়া সব সাইজের তরমুজ তো ৭-৮শ টাকায় বিক্রি হয় না। ৮-৯ কেজি ওজনের ক্ষেত্রেই শুধু দামটা বেশি। আমাদের কাছে ফড়িয়া, দালাল এবং কৃষকরা এই সাইজের তরমুজ ৪-৫শ টাকার নিচে পিস বিক্রি করেন না। এরসঙ্গে আড়তের খরচ আর কাঁচামালের ড্যামারেজ ধরে সাড়ে ৫-৬শ টাকায় বিক্রি করতে হয় আমাদের। এখন আড়ত থেকে ৬শ টাকায় কিনে কি করে খুচরা বিক্রেতারা ৮শ টাকায় বিক্রি করছেন সেই উত্তর আমরা দিতে পারব না। তবে খুচরা বাজারে ছোট সাইজের তরমুজ ৩শ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল নগরের সিএন্ডবি রোড এলাকার খুচরা তরমুজ বিক্রেতা আল আমিন ব্যাপারী বলেন, আড়ত থেকে যদি আমাদের ৬-৭শ টাকায় কিনতে হয় তাহলে পচা কিংবা বাতিল বাদ দিয়ে ৮শ টাকার নিচে বিক্রি করলে লাভ তো দূরে থাক জমি বেচে ব্যবসা চালাতে হবে।

বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, মূল সমস্যা হচ্ছে ফড়িয়া-দালাল নামের মধ্যস্বত্বভোগী এবং হাতবদলের পাইকার। শুধু তরমুজ নয়, খেত থেকে বাজার পর্যন্ত আসতে সব পণ্যের দাম ২-৩ গুণ বেড়ে যায় এদের কারণে।

ভোক্তা নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশালের সহকারী পরিচালক সুমি রানী মিত্র বলেন, গলদটা শুরু হয় খেত থেকেই। কৃষকরা তরমুজ বিক্রি করার ক্ষেত্রে কোনো রসিদ দেওয়া-নেওয়া করেন না। আর খুচরা বিক্রেতাদের হাতে থাকে পাইকার কিংবা আড়তদারদের দেওয়া রসিদ। ফলে ভেতরের গলদ ধরা মুশকিল হয়ে পড়ে। কৃষক সচেতন হলেই মূল্য নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারব আমরা।

 




বরগুনায় সাড়া ফেলেছে হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্ট

বরিশাল অফিস:: বরগুনা জেলায় নেই কোনো বিমানবন্দর কিংবা হেলিপ্যাড। এ জেলা সদরের প্রবেশের আগে পৌরসভার টাউনহল মাঠ প্রাঙ্গণে দেখা মিলবে একটি হেলিকপ্টার। সেই হেলিকপ্টারে চড়ে বসতে পারবেন, সময় কাটাতে পারবেন। এটি দেখতে হেলিকপ্টার হলেও আদতে এটি একটি রেস্টুরেন্ট। যা হেলিকপ্টারের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে। পটুয়াখালীর তিন বন্ধু মিলে এ রেস্টুরেন্টটি দিয়েছেন। প্রতিদিন হেলিকপ্টারটি দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর ১৬ ডিসেম্বর পটুয়াখালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভ্রাম্যমাণ হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্টির উদ্বোধন করা হয়। এর প্রায় দুই মাস পর সাধারণ মানুষদেরকে হেলিকপ্টারটিকে দেখাতে নিয়ে আসা হয়েছে বরগুনায়। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি জেলার মানুষকে দেখাতে হেলিকপ্টারের আদলে এ রেস্টুরেন্টটি নিয়ে সব জেলা ভ্রমণ করবেন এর উদ্যোক্তারা।

এর আগে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের কাজীর হাট বাজারের ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি মো. মেহেদি হাসান তার দুই বন্ধু আরিফ ও আল-আমিন মিলে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে ভিন্ন কিছু তৈরি করার উদ্যোগ নেন। পরে নিজেদের ওয়ার্কশপে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে ৭ মাসের চেষ্টায় ভ্রাম্যমাণ হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্টটি তৈরি করেন।

সকাল গড়িয়ে বিকেল হলেই বরগুনার টাউনহল মাঠ প্রাঙ্গণে হেলিকপ্টারটিকে দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিশেষ করে বরগুনায় এটি এখন শিশুদের বিনোদনের বিকল্প একটি মাধ্যম। এ ছাড়া হেলিকপ্টার নিয়ে শিশুদের বিভিন্ন কৌতূহল থাকায় শিশুদেরকে নিয়ে ঘুরতে আসেন তাদের অভিভাবকেরা।

বরগুনার বাঁশ বুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সদর রোড এলাকার বাসিন্দা চন্দন পাল ছেলেকে নিয়ে ঘুরতে এসে  বলেন, বাচ্চাকে শুধু ছবিতে দেখানো হয় হেলিকপ্টার দেখতে কেমন। তাই বাস্তবে ছেলেকে দেখাতে নিয়ে এসেছি। এখানে এসে আমার ছেলে খেলাধুলা করেছে এবং এটি উপভোগ করেছে।

মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসে রঞ্জিত কুমার সরকার বলেন, বরগুনায় অনেক রেস্টুরেন্টে থাকলেও আমি মনে করি এটি একটি ভিন্ন আয়োজন। বরগুনায় কোনো হেলিপ্যাড নেই। এ ছাড়া অনেক বাচ্চা খুব কাছে থেকে হেলিকপ্টার দেখেনি। এর মাধ্যমে হেলিকপ্টার সম্পর্কে বাচ্চারা ধারণা পাবে, এটি তাদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয়।

ফাতিমা সিকদার নামের এক শিক্ষার্থী  বলেন, এখানে এসে ও হেলিকপ্টারটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমরা এর আগে হেলিকপ্টার দূর থেকে দেখেছি। তবে কাছে থেকে হেলিকপ্টারের আদলে এ রেস্টুরেন্টটি দেখে খুবই ভালো লেগেছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য এটি বিনোদনের একটি ভালো মাধ্যম তৈরি করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্টির উদ্যোক্তা তিন বন্ধুর মধ্যে মো. আরিফুল ইসলাম  বলেন, আমাদের প্রথম চিন্তা ছিল আমরা একটি বড় বিমান তৈরি করব। তবে আর্থিক ব্যবস্থা এবং পরিবারের তেমন সামর্থ্য না থাকায় আমরা ছোট আকারে এ হেলিকপ্টারটি তৈরি করেছি। পরে দেখি এটিও আকারে একটু বড় হয়ে গেছে। পরবর্তীতে এর ভিতরে কি করা যায় এমন চিন্তায় আমার আরেক বন্ধুর পরামর্শে এবং ব্যবসায়িক চিন্তায় একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করি।

বিভিন্ন জেলায় হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্টটি নিয়ে ঘুরতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে কিছু সমস্যায় পরতে হয়। হেলিকপ্টারটি বিভিন্ন গাড়ির সঙ্গে যুক্ত করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিতে হয়। ভিন্ন জেলার কেউ আমাদের না চেনায় প্রথমে অনেকে ইতস্তত বোধ করেন। তবে আমাদের এ কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার পরে সকলেই বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন।

আরিফ আরও বলেন, আমরা কারো কাছ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক সহযোগিতা চাই না। জেলা পর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক, ইউএনও, মেয়র যারা রয়েছেন তারাসহ পুলিশ প্রশাসন যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন তাহলে আমরা আমাদের এ কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারব।

ভ্রাম্যমাণ হেলিকপ্টার রেস্টুরেন্টটিতে বর্তমানে তিন বন্ধুসহ মোট সাতজন কর্মরত রয়েছেন। প্রতিদিন এ রেস্টুরেন্ট থেকে গড়ে ১০ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের খাবার বিক্রি হয়। এ আয়ের টাকায় কর্মরত চারজনকে মাসে মোট ৩৩ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। বাকি টাকায় প্রতিমাসে তিন বন্ধু তাদের নিজেদের ধার দেনা পরিশোধ করেন।