পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

“উদ্ভাবনায় বন, সম্ভাবনায় বন” শ্লোগান নিয়ে পটুয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত হয়েছে।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও উপকূলীয় বন বিভাগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা ও সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয় এবং এর মাধ্যমে দিবসটিকে পালন করা হয়েছে।

উপ বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ওবায়দুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ তারিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানস কান্তি দত্ত, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয় প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সামাজিক বনায়নে উপকার ভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারী দিকের কথা তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে প্রত্যেককে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করার আহবান জানান।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০১৩ সালের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৪ সাল থেকে জাতিসংঘভুক্ত অন্যান্য দেশের ন্যয় বাংলাদেশেও প্রতি বছর ২১ মার্চ আন্তর্জাতিক বন দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে মো. রিয়াজ উদ্দিন সুমন (৪৫) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন বাইকে থাকা মো: বেল্লাল নামের আরেক আরোহী ।

নিহত সুমন (৪৫) নগরীর নিউ ভাটিখানা রোডের বাসিন্দা সৈয়দ আলীর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টায় নগরীর রূপাতলী র‌্যাব-৮ এর সদর দপ্তরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আরিচুল হক জানান,সুমন ও বেল্লাল মোটরসাইকেলে নগরীর কালিজিরা ব্রিজ থেকে রূপাতলী বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। বিপরীতমুখী কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে দুজনই গুরুতর আহত হন।

তিনি জানান, তাদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন কে
মৃত্যু ঘোষণা করেন। অপর ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

দুর্ঘটনার সাথে সাথেই কাভার্ড ভ্যান নিয়ে চালক পালিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 




কারণ ছাড়াই ট্রাকভাড়া দ্বিগুণ – বাড়তে পারে তরমুজের দাম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

দেশের বিভিন্ন সেক্টরে বেড়েছে অসাধুদের দৌরত্ম। এবার কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই তরমুজ পরিবহন করা ট্রাকের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে ২২-২৫ হাজার টাকায় প্রতিটি ট্রাক চলাচল করলেও এ সপ্তাহে নেওয়া হচ্ছে ৪৫-৫০ হাজার টাকা। এ অবস্থায় ট্রাকমালিকদের কাছ জিম্মি হয়ে পড়েছেন পটুয়াখালী জেলার তরমুজ চাষি ও ব্যাপারীরা। এতে আরেক দফা দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে তরমুজের।

সারাদেশে যে পরিমাণ তরমুজের চাহিদা রয়েছে তার বড় একটি অংশ পটুয়াখালীর কৃষকরা উৎপাদন করে থাকেন। এ বছর রমজানকে কেন্দ্র করে কৃষকরা তরমুজের আগাম আবাদ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো।

তবে এবার তরমুজ চাষিরা অনেকটাই জিম্মি ট্রাকমালিকদের কাছে। রমজানের শুরুর দিকে পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় যে ট্রাক ভাড়া ছিল তার তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে তরমুজের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে পরিবহন বাবদ বড় একটি অংক যুক্ত হচ্ছে। ফলে তরমুজের দাম আরও বাড়ছে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আমি ৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়া ট্রাকভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ১৫ মার্চ যে ট্রাকভাড়া ছিল ২৮ হাজার টাকা, ৬ দিনের ব্যবধানে তা এখন ৪০ হাজার টাকা হয়েছে। আমার প্রশ্ন, কীভাবে ৬ দিনের ব্যবধানে ১২ হাজার টাকা ভাড়া বেড়ে যায়?’

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কৃষকদের কাছ থেকে যাতে বেশি ভাড়া আদায় করা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক বলেন, ‘সব জিনিসপত্রের দাম বেশি, তেলের দাম বেশি। ট্রিপ দিয়ে এলে দুই তিন হাজার টাকার বেশি থাকে না। ট্রাকচালকরা এতো কম রেটে গাড়ি চালাইতে চায় না। সেজন্য ভাড়া বাড়ছে। আর এখন তো ট্রাকই পাই না। যে যেভাবে পারছে চুক্তি করে মাল নিচ্ছে।’

উল্লেখ্য, জেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয় কলাপাড়া, গলাচিপা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায়। বিগত বছরগুলোতে তরমুজ পরিবহনে নৌপথ ব্যবহার করলেও পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে এসব এলাকার কৃষকরা সড়কপথেই বেশিরভাগ তরমুজ পরিবহন করছেন।

 




বাউফলে মাদ্রাসায় বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে মোহসেনুদ্দীন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য করে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

অভিযোগ আছে,পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে কমিটির বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির সংক্রান্ত চলমান মামলার তথ্য গোপন করে এবং পত্রিকায় গোপনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তিন পদের নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন অধ্যক্ষ।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি বিনামূল্যের বই বাইরে বিক্রি করে দেওয়া, মৃত ব্যক্তিকে মাদ্রাসা কমিটির সদস্য করা, অফিস না করে মাস শেষে একসাথে হাজিরা খাতায় সাক্ষর দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য ও কমিটির বিরুদ্ধে চলমান মামলার বাদী নুর উদ্দিন আফসারি বলেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম স্ট্যাম্প, মাদ্রাসার অফিসিয়াল প্যাডে লিখিত দিয়ে এবং নিজ একাউন্টের চেক জমা দিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন মানুষের থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি কারী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, নিয়োগ কমিটির বিষয় রেজুলেশনে ও আদালতে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমার নামের সাক্ষরটি আমার নয়, এটি অন্য কেউ দিয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রীমহল মিথ্যা রটাচ্ছে।  বিধিবহির্ভূত কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অধিদপ্তরের ডিজি অবগত আছেন।

নিয়োগের জন্য ঘুষ নিয়েও চাকরি না দেওয়ার অভিযোগের বিষয় তিনি বলেন, ওই টাকা আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ধার নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেই টাকা আমি পরিশোধও করে দিয়েছি।




ক্যান্সারে আক্রান্ত সাইদুল বাঁচতে চান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর দুমকিতে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন মো. সাইদুল (২৫) নামের এক যুবক। তিনি বাঁচতে চান; কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না তার পরিবার। ছেলের এমন অবস্থা দেখে পাগলপ্রায় সাইদুলের বাবা। তিনি বিত্তবানদের সাহায্য চেয়েছেন।

সাইদুল উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মালেক শরীফের ছেলে। তিনি উপজেলার সরকারি জনতা ডিগ্রি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক পাশ করেছেন। বর্তমানে ঢাকা মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, সাইদুল টিউমার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন।

সাইদুলের বাবা বলেন, চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আরও চিকিৎসা করাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। আমার পক্ষে এত টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই সমাজে বিত্তশালী, ধনবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সাহায্য কামনা করছি।

জানা যায়, সাইদুলের পিতা এলাকায় অটো গাড়ি চালাতেন এবং সাইদুল ডিগ্রি পাশ করে চাকরি না পেয়ে বিদ্যুতের ওয়্যারিংয়ের কাজ করতেন। বাবা-ছেলের রোজগার দিয়েই তাদের সংসার চলত। হঠাৎ দুই মাস আগে সাইদুলের শারীরিক অবনতি হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। একপর্যায়ে সাইদুলের টিউমার ক্যান্সার ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সাইদুলের বাবা অটোরিকশা বিক্রিসহ ধারদেনা করে ৭ লক্ষাধিক টাকা জোগাড় করে ঢাকা ক্যান্সার হাসপাতালে ছেলের অপারেশন করান। এখন সাইদুলকে কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে যার অর্থ পরিবার বহন করতে পারছে না।

প্রতিবেশী মো. জসিম উদ্দিন জানান, সাইদুল অত্যন্ত বিনয়ী, ভালো ছেলে। হঠাৎ করে তার এমন রোগ ধরা পড়ল, যা সত্যিই দুঃখজনক। তার বাবা একজন অটোচালক। তার বাবার সামর্থ্য নাই সাইদুলের চিকিৎসা করার।




তরমুজে সয়লাব বরিশালের বাজার

বরিশাল অফিস :: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌসুম শুরুর আগেই বরিশালের বাজার রসালো ফল তরমুজে সয়লাব হয়ে গেছে। তবে বাড়তি মুনাফা নিতে অপরিপক্ব তরমুজই বিক্রি হচ্ছে বেশি। তরমুজের দাম নিয়েও চলছে টালবাহানা। খেত থেকে পাইকাররা ঠিকা কিনলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। কৃষক আগেভাগে তরমুজের চাষাবাদ করে বাড়তি দামের আশা করছে।

আর পাইকারা (মধ্যস্বত্বভোগী) তাদের কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে তরমুজ ক্ষেত ক্রয় করে তার সুফল ভোগ করছেন।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর চৈত্রের মাঝারী বর্ষণে তরমুজ চাষীদের কপাল পোড়ায় এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। গত বছর ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হলেও এবার ৪৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলে উৎপাদনও গত বছরের ২৭ লাখ টন থেকে এবার ২০ লাখ টনে নেমে আসার শঙ্কা করেছেন কৃষিবিদরা। সূত্রমতে, গত এক দশকেরও বেশী সময় ধরে সারাদেশের ৭০ ভাগ তরমুজের আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। গত বছর সারাদেশে আবাদকৃত ৯২ হাজার হেক্টরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই ৬৫ হাজার হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়েছিলো।

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক ইমরান হোসেন এবার প্রায় ১৩০ একর জমিতে আগাম তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। ১০ রমজান থেকে তিনি তার খেতের তরমুজ বাজারজাত করবেন। এতে লাভবান হওয়ার আশা করছেন ইমরান। পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ট্রলারযোগে গত ২০ মার্চ সকালে ১৭শ’টি তরমুজ নিয়ে বরিশাল নগরীর ফলের আড়তে এসেছেন কৃষক খোকন হাওলাদার। ১৬০ টাকা প্রতিটি করে ১০০ পিস তরমুজের দর উঠেছে ১৬ হাজার টাকা। তার চাহিদা ছিলো ২০ হাজার টাকা। খোকন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী আড়ৎদার দাম না বলায় আমি চরম হতাশ। কারণ সার, ওষুধ ও শ্রমিকের খরচ মিটিয়ে ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পরতে হবে।

বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড হাওলাদার ফল ভান্ডারের স্বত্বাধীকারি মনির হোসেন হাওলাদার বুধবার ( ২০ মার্চ) দুপুরে বলেন, এবছর সব কিছুর দাম বেশি। তাই তরমুজেরও দাম বেড়েছে। চৈত্রের শেষদিকে তরমুজের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকার ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ঠিকা এবং কেজি দরে। নগরীর সব জায়গাতেই মৌসুমী রসালো ফল তরমুজ একইভাবে বিক্রি হচ্ছে। যা কিনে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা।

 

তরমুজ ক্রয় করতে আসা বরিশালের একটি বেসরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রমজান আলী বলেন, একটি মাঝারি তরমুজ ক্রয় করে হলে চার থেকে পাঁচশ’ টাকা লাগে। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা-দাদারাও কোনোদিন কেজিতে তরমুজ কিনে খায়নি। আমাকে কিনতে হচ্ছে। তাই সাধ থাকলেও সাধ্য না থাকায় মৌসুমী ফল খেতে আগ্রহ হারাতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা গৃহিনী মমতাজ বেগম বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আসার আগে আমি ৮০ টাকা কেজি দরে তরমুজ ক্রয় করেছি। তখন কেজি দরে তরমুজ বিক্রিতে আপত্তি জানালে ব্যবসায়ীরা আমার কাছে তরমুজ বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। কিন্তু যখন ম্যাজিষ্ট্রেট আসে তখন তরমুজ মাপার মিটারের দাড়িপাল্লা লুকিয়ে রেখে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করা হয়। ম্যাজিষ্ট্রেট চলে গেলে আবার সেই আগের অবস্থায় কেজি দরে বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসেনর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান করে সতর্ক করলেও বাস্তবে মানছে না কেউ। তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিংবা ফলের দাম বেশি রাখা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি বাজার নজরদারির অংশহিসেবে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা এবং সতর্ক করা হয়েছে ।

চলতি মৌসুমে আবাদ ৩০ ভাগ হ্রাস :: গত বছর চৈত্রের মাঝারী বর্ষণে তরমুজ চাষীদের কপাল পোড়ায় এবার বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। ফলে গতবার চাষ হওয়া ৬৬ হাজার হেক্টর থেকে চলতি মৌসুমে ৪৬ হাজার হেক্টরে নেমেছে। ফলে উৎপাদনও গত বছরের ২৭ লাখ টন থেকে এবার ২০ লাখ টনে নেমে আসার শঙ্কা করেছেন কৃষিবিদরা।

সূত্রে জানা গেছে, উৎপত্তিস্থল আফ্রিকা মহাদেশ ছাড়িয়ে সুমিষ্ট রসালো ফল তরমুজ বাংলাদেশের নদীবহুল বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যে অর্থকরী ফসলের তালিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরী করেছে। সারাবিশ্বসহ দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই তরমুজের আবাদ হলেও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এর আবাদ ও উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। যার সিংহভাগ অর্জনই বরিশালের কৃষি যোদ্ধাদের। বেলে দো-আঁশ থেকে এটেল দো-আঁশ পর্যন্ত সবধরনের মাটিতে তরমুজের চাষ হচ্ছে। এমনকি নদ-নদীবহুল বরিশলের নোনা পানিমুক্ত চরাঞ্চলের পলি মাটিতে তরমুজের ভাল ফলন হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে অকাল বর্ষণ ও অব্যাহত অনাবৃষ্টিসহ আবহাওয়ার খেয়ালী আচরণ বিরুপ পরিস্থিতি তৈরী করছে। গতবছর টানা প্রায় পাঁচ মাস পরে মার্চের মধ্যভাগ থেকে কয়েক দফা হালকা থেকে মাঝারী ও ভারি বর্ষণে জমিতে পানি জমে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয় তরমুজ খেত। অনেক এলাকার চাষীরা মাঠ থেকে তরমুজ উত্তোলনই করতে পারেননি। কিছু এলাকার নিমজ্জিত তরমুজ উত্তোলন করে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের পাইকারি বাজারে নিয়ে আসা হলেও তাতে পচন ধরায় নগরীর জেলখালসহ কীর্তনখোলা নদীতে তরমুজগুলো ফেলে দিয়েছিলেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। ওইসময় চাষীদের অনেক কষ্টের হাজার হাজার টন তরমুজ ভোক্তার পরিবর্তে নদী ও খালে ভেসেছে। ফলে আরো একবার ভাগ্যবিপর্যয় ঘটে বরিশালের তরমুজ চাষীদের। পাশাপাশি মধ্যস্থভোগীদের সিন্ডিকেটের কারণে মাঠ থেকে কৃষকরা অনেক কমমূল্যে তরমুজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় এবার দেশের ৭০ ভাগ তরমুজের যোগান দেওয়া বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ প্রায় ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্র তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এবছর রাঙ্গাবালীসহ সংলগ্ন এলাকায় তরমুজ বাগানে একধরনের মড়ক লেগেছে। এতে করে গাছের ডগার রঙ বিবর্ণ হয়ে কখনো পচন শুরু হয়। সাথে ফলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়ে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে।

সূত্রের দাবি, একই জমিতে অব্যাহত তরমুজ আবাদের ফলে এ ধরনের রোগ দেখা দিচ্ছে। প্রতি তিন বছর অন্তর ফসল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মাঠপর্যায়ের কৃষিকর্মী বা ব্লক সুপারভাইজাররা নিবিড় পর্যবেক্ষন ও সুপারিশ করলেও চাষীরা কর্ণপাত না করার কারণেই ফসল বিপর্যয় হচ্ছে। কৃষি ও পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে তরমুজে যথেষ্ট পরিমান ভিটামিন-এ, রিবোফ্লাভিন, থায়ামিন ও পেপটিন বিদ্যমান রয়েছে। চীনা ভেষজবীদদের মতে তরমুজের রস রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। পাকা তরমুজের রসালো শাস স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হবার পাশাপাশি তা অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক ও তৃষ্ণা নিবারক। উন্নত বিশ্বে তরমুজ দিয়ে নানাধরনের সরবত, জ্যাম, সিরাপ ও জেলি পর্যন্ত তৈরী হচ্ছে। তবে বরিশালসহ সারাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টন তরমুজ উৎপাদন হলেও তা প্রক্রিয়াজাত করে কোনধরনের খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতের উদ্যোগ নেই। বরিশালে দীর্ঘদিন থেকে একটি ‘কৃষি ও মৎস্য ভিত্তিক রফতানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা’ প্রতিষ্ঠার দাবী সাধারণ মানুষের। এঅঞ্চলের ইলিশ ছাড়াও উন্নতমানের পেয়ারা ও তরমুজসহ অন্যান্য ফল এবং ফসলকে কেন্দ্র করে একটি রফতানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠিত হলে তা আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় যথেষ্ট ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী অর্থনীতিবীদরা।




বরিশালে জবিতে ছাত্রীর আত্মহত্যার বিচারের দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

বরিশাল অফিস ::জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র রায়হান সিদ্দিকী আম্মান ও সহকারী প্রক্টর দীন ইসলাম কর্তৃক আইন বিভাগের ছাত্রীর আত্মহত্যা প্ররোচরণার ঘটনায় বরিশালে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০) মার্চ সকাল ১১টায় মহিলা পরিষদ,বরিশাল জেলা শাখা দেশব্যাপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে নগরীর সদররোডে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। মহিলা পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার সহ সভাপতি অধ্যাপিক (অবঃ) শাহ্ সাজেদার সভাপতিত্বে ও নারী নেত্রী প্রতিমা সরকারের সঞ্চলনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন

বক্তারা বলেন,আজ বিচারহীনতা সংস্কৃতির কারনে দেশে একর পর এক নারী ধর্ষন,খুনের মত ঘটনা ঘটার পরও এর কোন বিচার হয়না বলে অপরাধীরা সবসময় ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

আমরা অভিলম্বে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা সহ যৌন নিপিড়ন,হয়রানি ও ধর্ষনের মত ন্যাকারজনক সকল ঘটনার সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে অপরাধাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন শাখা সভাপতি এ্যাড.একে আজাদ, মহিলা পরিষদ সাধারন সম্পাদিক পূষ্পরানি চক্রবর্তী, নারী নেত্রী অধ্যাপিক টুনু রানি কর্মকার, বিএম কলেজ সাবেক অধ্যক্ষ ননী গোপাল, উন্নয়ন সংগঠক রনজিৎ দত্ত, রফিকুল আলম,শুভংকর চক্রবর্তী,হাসিনা বেগম নিলা,ছাত্র ইউনিয়ন নেতা তুষার সেন প্রমুখ।

 




বরিশালে লঞ্চের পাখায় জাল ছাড়াতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর নৌ-বন্দরের পন্টুনে থামানো লঞ্চের পাখায় আটকে পড়া জাল ছাড়াতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২০মার্চ) দুপুর ১২ টায় দিকে কীর্তনখোলা নদী থেকে সদর উপজেলা কোম্পানি কমান্ডার মোঃ মনির হোসেন, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সদর উপজেলা কোম্পানি কমান্ডার মোঃ মনির হোসেন, তিনি বলেন,গত সোমবার (১৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেঁদে সম্প্রদায়ের আবেদ আলী নিখোঁজ হয়। এসময় অনেক খোঁজাখুঁজি করে নিখোঁজ জেলের একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়েছে।

বেঁদে সম্প্রদায়ের নিখোঁজ ওই জেলে ৯ নংওয়ার্ড রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা সোহরাব সরদারের ছেলে আবেদ আলী (৩০)।

নিহত আবেদের স্ত্রী রুমা জানান, স্বামী, সে ও ভাগিনা ইয়াসিনকে নিয়ে কীর্তনখোলা নদীর নৌ-বন্দর এলাকায় জাল ফেলেন। স্রোতের টানে জাল গিয়ে নৌ-বন্দরে থাকা বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবাত-১১ লঞ্চের ইঞ্জিনের পাখায় আটকে যায়। লঞ্চের পেছনে থাকা এক কর্মচারীকে বলে পাখা থেকে জাল ছাড়াতে যায় স্বামী আবেদ। জাল ছাড়ানোর সময় ইঞ্জিন চালু দেয়। তখন কর্মচারীদের বললেও তারা বলে তাদের করার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী’র লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ মামলা মোকদ্দমা করতে চাই না।

বরিশাল সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, নিখোঁজ জেলে আবেদ এর লাশটি কীর্তখোলা নদী থেকে উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুরতহাল করার জন্য পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল শেষে লাশটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 




বরিশালে লঞ্চ থেকে তরুণীর নদীতে ঝাঁপ

বরিশাল অফিস:: বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি মানামী লঞ্চ থেকে কীর্তনখোলা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক তরুণী।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাতে বরিশাল নৌবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। নৌ পুলিশ ও ঘাটে থাকা লোকজন ওই তরুণীকে নদী থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এমভি মানামী লঞ্চের মাস্টার আসাদুজ্জামান জানান, এক তরুণ ও এক তরুণী লঞ্চের নিচতলার সম্মুখভাগে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। তারা দুজনে ঝগড়াও করেছেন। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তরুণ ওই তরুণীকে চড় দেন। এরপরই তরুণী নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে এক লোক সঙ্গে সঙ্গেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।




শিক্ষা সবার জন্য নমুনা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমেনা ছয় সন্তানের জননী। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না পেলেও ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তিন ছেলে আর তিন মেয়ে নিরক্ষর। বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কাশেম চরের বাসিন্দা আমেনা বেগম। স্বামী আজাদ জেলে। সাগরের মোহনায় জাল ফেলে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। চরে স্কুল না থাকায় আমেনা সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। মেয়ে আইরিন, আলভী ও মনিকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে রাফিক গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছেলে শাকিল ও শাহিন বাবার সাথে মাছ ধরায় ব্যস্ত। ‘লেখাপড়া শিখতে পারি নাই, সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর আশা ছিল।’ স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে না পারায় আক্ষেপ।

ওই চরের বসবাসকারী সব পরিবারেই এই আক্ষেপ রয়েছে। চরে ৬০০ লোকের বাস থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ছেলেমেয়েরা নিরক্ষর।

চরের বাসিন্দা রফিক সরদার জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেননি। ছেলেরা তার সাথে নদীতে মাছ ধরে আয়ে সহযোগিতা করছে।

রেজাউল হাওলাদারের তিন ছেলে। এদের মধ্যে দুই ছেলেকে শিক্ষিত করতে না পারলেও ছোট ছেলে দ্বীন ইসলামকে অন্য চরের প্রাইমারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। নদী পার হয়েই পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলটিতে যেতে হয় ইসলামকে। তাই নিয়মিত যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুম এলে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকায় বছরের প্রায় ছয় মাস স্কুলে যাওয়া হয় না দ্বীন ইসলামের। রেজাউলেরও আক্ষেপ চরে স্কুল থাকলে সব ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। তিনি জানান, সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে রঙিন টিনের ঘর পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের লেখাপড়া শিখানোর স্বপ্ন রঙিন হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, এই চরে প্রায় ৭০০ লোকের বসবাস। ৬০ পরিবারকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের রঙিন টিনের ঘর দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘর পেয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ‘এই চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারতাম।’ এই চরের দু’চারজন শিশু অন্য চরে লেখাপড়া করছে। তারা না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তিনি বলেন, এই চরের শতাধিক স্কুলে গমনোপযোগী শিশু রয়েছে। অবিলম্বে এই চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘চর কাশেম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অফিস থেকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নতুন স্কুল করার ব্যাপারে সরকারের বিধিমালা আছে। পর্যায়ক্রমে কাজটি সম্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন জানান, ‘আমরা উপজেলা থেকে ওই চরে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা থেকে চরটি বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ আপডেট জানাব।’