ঝালকাঠিতে পিতৃত্ব অস্বীকার, কারাগারে যুবদল নেতা

বরিশাল অফিস:: ঝালকাঠিতে পিতৃত্ব অস্বীকার ও ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে সন্তানের দায়ের করা মামলায় যুবদল নেতা হিরন মৃধাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বাদী নাবালক ছেলে আব্দুল্লাহ মৃধার পক্ষে মা আয়েশা আক্তার সুমা রাজাপুর সহকারী ও পারিবারিক আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

গত ১৮ মার্চ আদালত হিরন মৃধার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। সোমবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের কুমারপট্টি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে সোপর্দ করলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলার নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের মেয়ে আয়েশা আক্তার সুমার সঙ্গে ১২ অক্টোবর ২০২০ তারিখ বিয়ে হয় ঝালকাঠির মোকছেদ আলী মৃধার ছেলে যুবদল নেতা হিরন মৃধার। তবে মাত্র দু’মাস সংসার করার পর একই বছর ৭ ডিসেম্বর হিরন মৃধার সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু এরইমধ্যে স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ২০২১ তারিখ ছেলেসন্তান আব্দুল্লাহ মৃধার জন্ম হয়। তবে হিরন মৃধাকে বার বার সংবাদ পাঠানো পরেও তিনি ছেলের কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ দেননি। উল্টো সন্তানকে অস্বীকার করায় গত ২২ সেপ্টেম্বর ভরণপোষণের দাবিতে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার শুনানি শেষে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ রাজাপুর সহকারী ও পারিবারিক আদালত হিরন মৃধাকে দোষী সাবস্ত্য করে ছেলে আব্দুল্লাহ মৃধার পক্ষে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা ডিক্রি ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন। আদালতের রায় পালন না করায় বাদীপক্ষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালতে ডিক্রি জারি মামলা করে। উক্ত মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।




মাহে রমজানে বরিশাল জেলা প্রশাসনের সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমান ডিম বিক্রয়

বরিশাল অফিস :: মাহে রমজান উপলক্ষে বরিশাল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের আয়োজনে গাজী পোল্ট্রি ফার্ম ও এসএস পোল্ট্রি সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১ টায় সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমান ডিম বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন, প্রধান অতিথি বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ান, বরিশাল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নূরুল আলম, বরিশাল জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত (সার্বিক) মনদীপ ঘরাইসহ আরো অনেকে।


বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম সাধারণ ক্রেতাদের হাতে সুলভ মূল্যে ডিম তুলে দেন।




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক নিহত, আহত ৫

বরিশাল অফিস ::বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সড়কের গুয়াচিত্রা বাজারের অদূরে সিএনজি দূর্ঘটনায় চালক নিহত এ সময় আহত হয়েছে আরও ৫ যাত্রী।

বুধবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত চালক হায়দার (২৫) বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, বরিশাল শহর থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে বানারীপাড়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সিএনজি সড়কের গুয়াচিত্রা বাজারের অদূরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের রেইন্ট্রি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ধুমরে মুজরে যায়। এতে চালকসহ যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরে চালক হায়দার সেখানে মারা যায়।

আহত ৫ যাত্রী হলেন হাসান মাহমুদ, আরাফাত,নাহিয়ান,গোলাম সরোয়ার ও রেজোয়ান। তারা ঢাকার ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে আইটি সেক্টরে কর্মরত । বরিশালে একটি প্রজেক্ট দেখতে এসে বানারীপাড়ায় ঘুরতে যাওয়ার পথে তারা দূর্ঘটনার শিকার হন।

বরিশাল বানারীপাড়া থানার ওসি মাইনুল ইসলাম তিনি জানান. দূর্ঘটনাস্থল ঝালকাঠি থানা এলাকায় হওয়ায় এ ব্যপারে সেখানকার থানা পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে ঝালকাঠি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

 




বাউফলে শিয়ালের ৪ শাবক উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া জোড়াপুল এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখা চারটি শিয়ালের শাবক উদ্ধার করেছে উপজেলা বন বিভাগ ও বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চন্দ্রপাড়া জোড়াপুল এলাকার একটি বাড়িতে শিয়ালের চারটি শাবক আটকে রাখা হয়েছে। এমন খবর পেয়ে উপজেলা বন বিভাগ এবং পটুয়াখালীর অ্যানিম্যাল লাভার’স নামে বন্য প্রাণী নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা আটক শিয়ালের চারটি শাবককে বুধবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে উদ্ধার করে উপজেলা বন কর্মকর্তার অফিসে এনে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখেন। পরে শিয়ালের শাবকগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

আরো পড়ুন : আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে ‘দলীয় প্রার্থী’ ঘোষণা করলেন প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

উপজেলা বন কর্মকর্তা বদিউজ্জামান খান বলেন, শিয়ালের শাবকগুলো ছোট। আর শাবকগুলোর বাবা ও মা ওই এলাকার জঙ্গলেই আছে। এ কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে সন্ধ্যার পরে ওই এলাকায়ই শাবকগুলো অবমুক্ত করা হয়।




আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে ‘দলীয় প্রার্থী’ ঘোষণা করলেন প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে দুজনের নাম ঘোষণা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের ইয়ুথ ইন চত্বরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত সবার সামনে তিনি ওই দুজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচন গুলোয় দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ কাউকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যাঁর যাঁর মতো করে স্বতন্ত্র ভাবে দলের নেতারা নির্বাচন করতে পারবেন। যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতারা ভোট করতে পারবেন।

গতকালের অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা দল থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীকে দল থেকে মনোনীত করেছি।’

আরো পড়ুন : গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ৫০ মেধাবী শিক্ষার্থী  

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অনেক প্রার্থী আসবেন, কিন্তু দুর্দিনে যাঁরা দলের জন্য শ্রম দিয়েছেন ও দলকে আগলে রেখেছেন— এমন দুই নেতাকে দল থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-সংগঠনের একাধিক নেতা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের অনেকে তৃণমূল ভোটারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের ঘোষণাকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয়ভাবে গণসংযোগ করছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আল সাইফুল। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি এভাবে নিজের খেয়াল-খুশি মতো কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না। কারণ, ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনসহ সব স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। কেউই দল মনোনীত প্রার্থী হবেন না। এমনকি আমাদের দল থেকে যাঁরা নির্বাচন করবেন, তাঁরা দলীয় পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।’
দল থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্য সভায় প্রার্থী ঘোষণা করে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছেন বলে মনে করেন যুবলীগ নেতা শামিম। এ বিষয়ে তাঁরা দলের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদকসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করেছেন বলে জানান।

উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছেন টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান। প্রতিমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতবার সামান্য ভোটে হেরে গেছি। এবারও চেয়ারম্যান পদে আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। হঠাৎ প্রতিমন্ত্রী একজনকে প্রার্থী ঘোষণা দিলেন, এটা হতে পারে না। তিনি দলীয় নিয়ম ভঙ্গ করে এ কাজটি করেছেন। আমরা এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানাব।’

আরো পড়ুন : জমি জখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দল থেকে তাঁরা প্রার্থী, তাঁরা তাঁরা দাঁড়াতে চান, সেটা বলেছি। দলীয় প্রার্থী তো দেওয়ার সুযোগ নেই।




গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ৫০ মেধাবী শিক্ষার্থী  

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহায়তায় ও গলাচিপা স্কিল ল্যাব এর আয়োজনে মেধাবীদের শিক্ষা বৃত্তি, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

২৭মার্চ গলাচিপা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তন কক্ষে ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।
এছাড়া  উপজেলা গণিত উৎসব -২০২৩ এ সেরা ৭০ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ আয়োজন করে তাদেরকে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।

গলাচিপা উপজেলা  কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃমহিউদ্দিন আল হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক, পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন এবং গলাচিপা স্কিল ল্যাব এর গঠনতন্ত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মু.সাহিন, উপজেল আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) সর্দার মু. শাহ আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সানু ঢালী, গলাচিপা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো.ফোরকান কবির,অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস আলম খান প্রমুখ।




আমার কাছে ধনী-গরীবের কোন ভেদাভেদ নেই : এসএম জাকির হোসেন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান প্রার্থী ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন বলেছেন, আমার কাছে ধনী-গরীব কোন ভেদাভেদ নেই, সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে সমান। আমি সকলের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

বুধবার (২৭ মার্চ) বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের আশ্রায়ন প্রকল্পের সাধারন মানুষের সাথে কুশলবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

এসএম জাকির বলেন, আপনারা ভোট দিয়ে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করলে আমি ইনশাআল্লাহ আপনাদের নিরাশ করবো না। বরিশাল সদর উপজেলার উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন তাই করবো।

কুশলবিনিময়কালে এসএম জাকির হোসেনকে পেয়ে কাছে নেয় আশ্রায়ন প্রকল্পের নিন্ম আয়ের মানুষগুলো। এসময় তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন এসএম জাকির হোসেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ছাত্রনেতা ও এসএম জাকির হোসেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এ্যাড.আবুয়াল মাসুদ মামুন, ১৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক জুয়েল রাফি, রায়পাশা কড়াপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিরন, চরমোনাই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শীষ মামুনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার উপজেলার টিয়াখালীতে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় সূর্যমুখী চাষ ও বাজারজাতকরন বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) বেলা বারোটায় পশ্চিম টিয়াখালী গ্রামে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি)।

ইরি’র এআরডিও (এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিধি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষনা ইনস্টিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. খাইরুল বাশার।

আরো পড়ুন : চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

বক্তারা, গুনগত ও মানসম্পন্ন তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়ানোসহ পতিত জমিকে চাষের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। স্বল্প মেয়াদী ধান চাষের পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসল সূর্যমুখী, বাদাম, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য উসাহিত করেন।

এসময় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল প্রদর্শনসহ ফসল চাষের আর্থিক সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন।, ফসল চাষে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

উত্তর ঠিয়াখালী গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার বলেন, আমন ধানের পরে এসব জমি পতিত পড়ে থাকত। ইরির পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই জমিতে বাদাম, সরিষা, আলু চাষ করেছি। এখন সূর্যমুখী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায়।

একই গ্রামের কৃষক খলিল মৃধা, সাইফুল ইসলাম বলেন, ধান চাষ করে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাতো। এখন বারো মাস সবজি চাষে আর্থিক সাবলম্বীতা ফিরে পাচ্ছি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

আর্ন্তজার্তিক ধান ইনস্টিউট (ইরি) এগ্রিকালচারাল রিচার্স এন্ড ডেভলপমেন্ট অফিসার) মানিক দেবনাথ বলেন, পটুয়াখালী জেলার মাঠিতে লবনাক্ততা বেশি। তাই ফসলের সঠিক জাত ও সময় নির্বাচন করে কৃষকদের চাষের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এরমাধ্যমে এক ফসলী এসব জি কে চার ফসলে রূপান্তর করা হচ্ছে।




চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও সূর্য উদয়ের বেলা ভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। আর এই কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠেছে যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ।

মৌসুম জুড়েই হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত।

এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসাইন বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তুু এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি, চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা অন্য এক ব্যবসায়ী মনিরুল হক লোটাস বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাকরা আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার, যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ ফেলে এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে।সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবার : পায়রাবন্দরের সড়ক নির্মাণ শুরু



স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীন নিদর্শন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: বরিশালের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ । দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদ শুধু বরিশালের নয়, বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বরিশাল সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে অবস্থিত দ্বিতল এ মসজিদটি মিয়া বাড়িতে এটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে। মনে করা হয়ে থাকে ১৮শ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এখনো নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয় মসজিদটি,বর্তমানে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ পিপাসু দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসে মুঘল আমলে নির্মিত বরিশালের এ ঐতিহ্য দেখতে।

ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তৎকালীন হায়াত মাহামুদ এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের সাথে দুটি বিশালাকার দীঘিও খনন করেন। যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে। মসজিদটি লম্বায় প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থে ৪০ ফুট। বলা হয় চুন, সুরকির সঙ্গে মাষকলাই ও চিটাগুড় পচিয়ে এর নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা হয়েছিল। এর অন্যতম নির্মাণবৈশিষ্ট্য হলো, ছাদে কোনো ধরনের রড কিংবা লোহার ব্যবহার হয়নি। ইট, সুরকি ও চুনের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ছাদের পুরুত্ব প্রায় এক ফুট । মসজিদটি দ্বিতলবিশিষ্ট ও সম্পূর্ণ কারু কার্যমণ্ডিত। মূল মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে দ্বিতীয় তলায়। নিচ তলায় রয়েছে ছয়টি দরজা বিশিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা। যেখানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে তিনটি দরজা।

ছাদের মাঝখানে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ। মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। ভিতরের অংশেও রয়েছে কারুকার্যময় সুন্দর নকশার সমাহার। চারপাশে পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে আটটি বড় মিনার। বড় মিনারগুলোর মাঝে রয়েছে ১২টি ছোট ছোট মিনার। ছোট মিনারগুলোর মাঝের স্থানকে সুন্দর কারুকার্যময় নকশা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠার জন্য প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ির নিচে দুটি বাঁধানো কবর রয়েছে। কিন্তু ওই কবর কাদের সেটা জানেন না এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হায়াত মাহমুদ সম্ভবত মালদার খাঁর ছেলে, যিনি চন্দ্রদ্বীপের রাজার সামরিক ফৌজে নিযুক্ত ছিলেন। মাহমুদও চন্দ্রদ্বীপ সামরিক ফৌজে ভর্তি হন। একবার, নিকটবর্তী চাখার এলাকার মীর ও মজুমদার জমিদার খান্দানদ্বয় চন্দ্রদ্বীপের রাজাকে অপহরণ করে। গভীর রাতে রাজাকে আজাদ করে মাহমুদ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজা দুটি তালুক প্রদান করেন মালদার খাঁ এবং হায়াত মাহমুদকে, যা পরবর্তীতে কড়াপুরের মিঞা খান্দান (মাহমুদের বংশধরদের) দ্বারা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া যায়। বুজুর্গ-উমেদপুর পরগণাও হায়াত মাহমুদের তালুকগুলির মধ্যে একটি ছিল ।

আরও জানা গেছে, দক্ষিণ বাংলার একজন মজবূৎ জমিদার হয়ে উঠলে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাহমুদের মর্যাদার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদ বাংলায় কোম্পানির শাসন মেনে-চলতে এবং বুজুর্গ-উম্পেদপুর পরগণা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ, ইংরেজ কোম্পানি বরিশালের সমস্ত জলপথ বন্ধ করার নির্দেশ দিলো। মাহমুদকে ডাকাত সরদার হিসাবে এলান করা হয়। কোম্পানির সিপাহীরা ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দে তাঁকে বন্দী করতে সক্ষম হয় এবং তাঁকে জাহাঙ্গীরনগরের তৎকালীন নায়েব নাজিম ইংরেজপন্থী নুসরত জং-এর কাছে নিয়ে যায়। ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে নায়েব নাজিম মাহমুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পরামর্শ দেন। লর্ড কর্নওয়ালিস মাহমুদকে ব্রিটিশ মালয় প্রিন্স অফ ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত করেন এবং বুজুর্গ-উমেদপুরের জমিদারি কেড়ে নেন। মাহমুদ ১৮০৬ খ্রীষ্টাব্দে আজাদী পান এবং তারপরে শান্ত জীবনযাপন শুরু করেন। কড়াপুরে ৩০ একর জমিতে বাড়ি তৈরি করেন তিনি। মাহমুদকে ১৮০৭ খ্রীষ্টাব্দে মিয়া বাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয়,যদিও অল্প কয়েকজন দাবি করেছে যে মসজিদটি তাঁর ছেলে মাহমুদ জাহিদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাহমুদ জাকির নামে তার আরেকটি ছেলেও ছিল ।

স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক মসজিদের মুসল্লি চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, হায়াত মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি মিয়াবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা করেন বলে আমরা জানি । মোগল আমলের এ স্থাপনাটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাসিত হন তিনি। এ সময় তার জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এলাকায় দু’টি দীঘি ও দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কড়াপুর মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো: জামাল উদ্দিন চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, আমি প্রায় ৩৩ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতী করে আছি। আমাদের পূর্বপুরুষ ও মুরুব্বিগণ বলে থাকেন এটি মোগল সম্রাটের সময় এটি নির্মাণ করা হয়েছে। আনুমানিক ৭শত বছরের আগে এটা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানেও মিয়া বাড়ির যে বংশধর তারাই এই মসজিদটি এখনো পরিচালনা করে থাকেন। এই মসজিদটি সিঁড়ির নিচে দুইটি কবর রয়েছে। তবে কেউ জানেন না এ কবর দুটি কাদের। তবে ধারণা করা হচ্ছে যারা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা তাদের স্বামী-স্ত্রীদের দুই জনের এ কবর আবার বলে হয়ে থাকে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ তাদের দুই ভাইয়ের কবর । যারা এই মসজিদটি তৈরি করেছে তারা খুব ভালো মানুষ ছিল সেই সময় তারা মনে করছিল এই মসজিদের দোতলায় উঠতে হলে সিড়ির নিচে তাদের কবর থাকলে অনেক আল্লাহর ওলী বুজুর্গ এখানে পর্দচারণা করার কারণে আল্লাহ তাদের গুনার্হ মাফ করে দিবেন এমন অনুমাণ করে মানুষ । এ মসজিদটিতে এক সাথে ১শত মানুষের অধিক নামাজ আদায় করতে পারে। ২০১৩ সালে এটা কিছু সংস্কার করা হয়েছিল । এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন ও অনেকেই নামাজ আদায় করেন ।

মসজিদটি দেখতে আসা রাহাত রাব্বি নামের এক দর্শনার্থী চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান,আমার জীবনের প্রথম কোন পুরানো দিনের জিনিস দেখলাম সেটা এত কারুকার্য নকশা করা যা যত দেখি আরো বেশি ভালো লাগে । এখানে এসে জামাতে নামাজ আদায় করলাম বাহিরে গরম থাকলেও মসজিদটির ভিতরে অনেক ঠান্ডা । এটাই আমার কাছে আরো ভালো লাগলো ।

জমিদারী মিয়া বাড়ির বংশধর মো: মিজানুর রহমান চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, ইসলাম প্রচারের জন‌্য পারর্শ দিয়ে এসে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ এই মসজিদ নিমাণ করেছেন তাদেরও পৃর্ব পুরুষ এই জায়গায় এসে বসবাস শুরু করতেন । এখানেই ২ টা বাড়ি আমারা তাদের এই ১৩ তম বংশধর । তারা এই দেশের শাসন করে ছিল ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কিছু নির্যাতিত হয়েছিল। অমিতপুরে তাদের আরও একটি জমিদারি ছিল সেটিও তারা নিয়ে নিয়েছিল দীপান্তরে অনেক মানুষকে তারা যাবজ্জীবন দিয়ে হত্যা করেছিল। আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে শুনেছি পরবর্তীতে তাদের এক শাষক মাহমুদ জাহিদ উনার মুক্তির জন্য বাঁশি বাজিয়ে আন্দোলন করা হয়েছিল তখন। তারপর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই মিয়া উপাধি এটা ব্রিটিশ রায়াই দিয়েছেন। আমাদের পূর্বের বংশ পুরুষ আসলে আগে ছিল তারা মালদার খান। ব্রিটিশদের দেওয়া নামেই থেকেই মিয়া উপাধি আমাদের বংশধররা ব্যবহার করে আছে। আমার আপন বড় চাচাও আব্দুল মান্নান মিয়াও জমিদারি করেছেন। তারপর শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সময় জমিদারি প্রথা স্থগিত হয়। আমাদের জমিদারী চলে যায় ।

তিনি জানান, ১৯৯০ সালে আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছিল তখন আমার বড় চাচা আব্দুল মান্নান মিয়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি কিছুটা সংস্কার করেন । তারপর আমার ভাই আবার হাইকোর্টের রিট করে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনে ২০১৩ সালে আমারা এককভাবে সংস্কার করি । এখানে প্রতিনিয়ত দেশ ‍বিদেশ থেকে হাজাও মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নিদর্শন দেখতে আসেন বেশ কয়েক বছর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূত এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছিলেন এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখানে এসেছিলেন।