কোনো কালেই কপালে সুখ জুটলো নায় পটুয়াখালীর আদুরীর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘কোনো কালেই আমার কপালে সুখ জুটলো না! ছোটবেলায় বাবাকে হারালাম। ঢাকায় পরের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম। ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হবো। কিন্তু অভাবের কারণে তা আর হলো না। মা-ভাই দেখেশুনে বিয়ে দিলো। সেখানেও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাইয়ের ঘরে থাকি। ঠিকমতো খাবারও পাই না। নিজেদের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই আর ছেলেটাকে যদি মানুষ করতে পারতাম, তাহলে জীবনে আর কিছু চাইতাম না।’

এ ভাবেই নিজের দুঃখের কথা বলছিলেন আদুরী বেগম।

২০১৩ সালে ঢাকার পল্লবীতে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হন আদুরী বেগম। এ ঘটনায় সে বছর ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের ভগ্নিপতি চুন্নু মিয়া ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন নওরীন।

আরো পড়ুন : সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন 

আদুরীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের জৈনকাঠি গ্রামে। তারা নয় ভাই-বোন। তার বয়স যখন ছয় বছর, তখন বাবা খালেক মৃধা মারা যান। অভাবের সংসারে দু’মুঠো ভাতের জন্য গ্রামের চুন্নু মিয়ার কাছে আদুরীকে কাজের কথা বলেন তার মা। চুন্নু মিয়া প্রথমে বরিশালের শায়েস্তাবাজার এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে কাজ দেন আদুরীকে। সেখানে এক বছর কাজ করার পর তিনি ঢাকার পল্লবীতে তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম মাসুদের বাসায় আদুরীকে কাজ দেন।

আদুরী বলেন, ‘তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। ঠিক মতো কাজ করতে পারতাম না। সবসময় কারণে-অকারণে আমাকে মারধর করতো। ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিত, আগুন দিয়ে জিহ্বা পুড়িয়ে দিয়েছে। ব্লেড দিয়ে হাত-পা কেটে দিয়েছে। আমাকে বাসি, পচা ভাত দিত। তার মধ্যে অনেক লবণ দিয়ে রাখতো যাতে আমি খেতে না পারি। আদা বাটা, রসুন বাটা জোর করে খাওয়ানো হতো। এখনও সারা শরীরে মাঝে মাঝে ব্যথা করে। ভাত খেতে পারি না, গলা ও পেট জ্বলে। জিহ্বা পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্পষ্ট করে কথা বলতেও কষ্ট হয়।’

আদুরীর পরিবারের লোকজন জানান, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে থাকাকালীন আদুরীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় গৃহকর্তী নওরীন জাহানের তীব্র রোষের শিকার হয় সে। খাবার এবং পুষ্টির অভাবে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে ছোট্ট আদুরী। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের পর মারা গেছে ভেবে আদুরীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ রাতের অন্ধকারে পল্লবী এলাকার একটি ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায় নওরীন। পরদিন সকালে ডাস্টবিন থেকে আদুরীকে উদ্ধার করেন লিলি আক্তার নামে এক পথচারী। পরে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ আদুরীকে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে। গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। এক মাস চিকিৎসা শেষে আদুরী বাড়ি ফিরে আসে।

আরো পড়ুন : ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আদুরী বর্তমানে স্বামী ও দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে তার ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. ইমরানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও সুখ জোটেনি আদুরীর কপালে।

আদুরী বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি বড় ভাই জুয়েলের ঘরে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটি ছোট। এখানে-ওখানে ভাঙা। এই ভাঙা ঘরেই নয়জন মানুষকে থাকতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন।

আদুরী জানান, তার স্বামী জেলে। এখন সাগর ও নদীতে মাছ কম পাওয়ায় আরো অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।
তিনি ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কপালে আল্লাহ সুখ রাখেননি। সেদিন ডাস্টবিনে যখন পড়ে ছিলাম, একেবারে মরে গেলেই হয়তো ভালো হতো। এখনও অশান্তির শেষ নাই। স্বামীর জালে মাছ উঠলে কপালে ভাত জোটে, না হলে না খেয়ে থাকতে হয়।’

আদুরীর প্রতিবেশী রহমান খা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীরা টাকা তুলে আদুরীকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও তার সুখ হয়নি। মেয়েটা জনমদুঃখী।’

হোসনেয়ারা নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, ‘ওর (আদুরীর) স্বামী সাগরে মাছ না পেলে এখনও অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। আমারা প্রায়ই সহযোগিতা করি। তার একটা থাকার ঘর খুব দরকার। সমাজের বিত্তবানরা আদুরীর পাশে দাঁড়ালে তার সন্তানের লেখাপড়াও হতো, পরিবারও ভালোভাবে চলতে পারতো।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব দাশ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

মামলার রায় : আদুরীকে নির্যাতনের মামলার রায়ে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির জন্য রয়েছে।




সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারের বড় ভাই পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ৩টায় দুমকির সরকারি জনতা কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ আসর নিজ বাড়িতে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আরো পড়ুন : ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ-সদস্য ও সাবেক চিফ-হুইপ আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম, দুমকি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ড. হারুনুর রশিদ হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌর মেয়ার আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আঃ মান্নান, মরহুমের একমাত্র ছেলে দুমকি উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান মাসুদ আল মামুন। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীসহ বহু লোক উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

উল্লেখ্য, সুলতান আহমেদ হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গুলশান আজাদ মসজিদ প্রাঙ্গণে।




ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র জুমাতুল বিদা, শবেকদর, ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ছুটির সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব আবাসিক হল। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

২৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র জুমাতুল বিদা, শবেকদর, ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ ২৯ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসহ সব শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভাগের অফিস কার্যক্রম বন্ধ কয়েছে। সেই সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের হলে অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির সঙ্গে হল বন্ধ রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা জানান, এর ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে যানবাহনে। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তাঁদের টিউশনি করে চলতে হয়। হল বন্ধ রাখায় দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে টিউশনি হারাতে হয় অনেককে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

শিক্ষার্থী ফাইজুর আলম মঈন বলেন, ‘করোনা-পরবর্তী সময়গুলোতে সেমিস্টার পরীক্ষা ও পড়াশোনার চাপ দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি হলে থেকে এখন চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছি। এই ছুটিতে হল বন্ধ করে দেওয়ায় এখন পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে হল বন্ধ ঘোষণা করায় বাধ্য হয়ে আমাকে আমার গ্রামের বাড়ি চলে আসতে হয়েছে। অথচ আমাদের ঈদের ছুটির কিছুদিন পরেই ফাইনাল পরীক্ষা।’

শিক্ষার্থী মো. ফরহাদ ইসলাম  বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ রকম মাঝারি ছুটিতে হল বন্ধ ঘোষণা করা হয় না।’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘প্রভোস্ট কাউন্সিল মিটিংয়ের মাধ্যমে আমাদের যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ী নোটিশ করেছি।’

এম কেরামত আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আশরাফুল বলেন, ‘হল বন্ধেও শিক্ষার্থীরা থাকার আগ্রহ প্রকাশ করে আগে থেকে আবেদন দিলে আমরা বিবেচনা করতাম।
এখন আর সুযোগ নেই।’




মহানবীকে অবমাননা করার প্রতিবাদে দৌলতখানে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস:: ভোলার দৌলতখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম কে অবমাননাকর বিষোদগার ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা দৌলতখান উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে দৌলতখান শহরে আসে। পরে সব কয়টি মিছিল একত্রিত হয়ে দৌলতখান শহর প্রদক্ষিণ করে। উপজেলা ওলামা আয়িম্মাঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সবার ডাক দেন ।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ও উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) কে নিয়ে ভোলা তজুমদ্দিন উপজেলার এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ‘‘বসু দাস” কর্তৃক বিষোদগার ও কুরুচিপূর্ণ অবমাননাকর মন্তব্য করায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল শেষে দৌলতখান মধ্য বাজারে এইচ এম মার্কেটের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দৌলতখানের সম্মানিত ওলামা মাশায়েখ গণ। বক্তারা বলেন, বাসু দাস মুসলমানদের হৃদয় স্পন্দন কলিজার টুকরা প্রিয় নবী, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম কে অবমাননা করে মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করেছেন।

সমাবেশে উপস্থিত মুসল্লিদেরকে নিয়ে দোয়া মোনাজাত করেন দৌলতখান চরখলিফা ইজ্জাতুল ইসলাম মাদ্রাসার সম্মানিত আলেম হযরত মাওলানা নুরুল্লাহ হুজুর। সমাবেশে মুসলিম উম্মাহ তথা ফিলিস্তিনে ইসরাইলের বর্বরতা বন্ধ, বাংলাদেশের উন্নয়ন, সুখ সমৃদ্ধ ও বিশ্বের মুসলমানদের নিরাপত্তা কামনা করা হয়।




বরগুনায় স্বামীর সাথে অভিমান করে পিত্রালয়েই আত্মহত্যা

বরিশাল অফিস:: বরগুনার তালতলীতে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে বাবার বাড়ি বসে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী খুশি আক্তার (২১)। নিহত খুশি আক্তার উপজেলার নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজানপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল আকন এর মেয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের আনিস মোল্লার ছেলে মো. শামীমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে খুশি আক্তারের বিয়ে হয়।

বিয়ের ছয় মাস পরে শামীম সৌদি চলে যান। স্বামী প্রবাসে যাওয়ার পর থেকেই গৃহবধূ খুশির চলাফেরা ও কাজকর্ম নিয়ে প্রতিনিয়ত শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে সংসার জীবনে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা চলছিলো। ঝগড়াঝাঁটির এক পর্যায়ে গত এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়িতে চলে আসেন খুশি। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে খুশির সঙ্গে মোবাইল ফোনে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তার স্বামী শামীমের সঙ্গে কথার কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে বাবার বাড়িতে থাকা কীটনাশক পান করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে যাওয়ার পথেই খুশি মারা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, খুশি আক্তারের সাথে শশুর-শাশুড়ির বাকবিতন্ডা হওয়ায় গত এক সপ্তাহ আগে বাবার বাড়িতে চলে আসে।

পরে বৃহস্পতিবার রাতে তার স্বামীর সাথে মুঠোফোনে কথার-কাটাকাটি খাওয়ার পর খুশি বিশ্পানে আত্মহত্যা করে হয়। তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, খুশি আক্তার পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরা যায়। তাই ওই হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




ঈদ যাত্রায় দুর্ভোগের অপর নাম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক

বরিশাল অফিস: আসন্ন ঈদ-উল ফিতরে সারাদেশের সাথে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কে বড়ধরনের বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ নিয়ে শংকিত পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ঘরমুখি এবং ঈদ পরবর্তী কর্মস্থলমুখি মানুষের বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ নিয়ে শঙ্কায় সবাই।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হবার পর বরিশাল ও সন্নিহিত এলাকার সাথে রাজধানীসহ প্রায় সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কটিতে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় চারগুন বেড়ে গেছে। কিন্তু ঢাকা থেকে ছয়লেনের বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পদ্মা সেতু পার হয়ে ৬৫ কিলোমিটার দূরে ভাঙ্গায় পৌঁছানোর পর বরিশাল পর্যন্ত ২৪ ফুট প্রশস্ত ৯১ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

জানা গেছে, ১৯৬০ থেকে ’৬৬ সালের মধ্যে মাত্র পাঁচ টন বহনক্ষম এ মহাসড়কটি দুই যুগ আগে জাতীয় মহাসড়কের মর্যাদা লাভ করলেও ১২ ফুট থেকে ২৪ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত হয়েছে। কিন্তু বহন ক্ষমতা আর বাড়েনি। উপরন্তু দুই পাশের নানা অবৈধ স্থাপনা মহাসড়কটিকে গলা টিপে ধরেছে। পাশাপাশি বাড়তি ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে মহাসড়কের অবৈধ যানবাহনের আধিক্য। এতে করে বৃদ্ধি পেয়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যা।

সড়ক অধিদপ্তর ও হাইওয়ে পুলিশের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে এখন প্রতিদিন গড়ে ১৮ হাজারেরও বেশী যানবাহন চলাচল করছে। যা ছয় লেনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় সমান। এ অবস্থায় বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কটি সিঙ্গেল লেনের হওয়ায় প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচটি করে দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ২০ মার্চ পূর্ববর্তী ছয় মাসে এ মহাসড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো দুই শতাধিক। এসব দুর্ঘটনাজনিত কারণ ছাড়াও নিত্যদিনের যানজটে প্রতিদিন নাকাল হচ্ছেন এ মহাসড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার যাত্রীরা। এসব দুর্ঘটনা ও যানজটে এ মহাসড়ক ব্যবহারকারী পণ্য পরিরবহনেও দীর্ঘসময় ব্যয় হচ্ছে।

সূত্রমতে, ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর, টেকেরহাট, ভাঙ্গা, তালমামোড়, গৌরনদী, বাটাজোর, ভূরঘাটা, বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ, নবগ্রাম রোড, চৌমহনী, আমতলা মোড়, রূপাতলী ও বাকেরগঞ্জে যানজট এখন নিয়মিত ঘটনা। যেকারণে পদ্মা সেতু চালু হবার পর ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেই এখন বিভিন্ন যানবাহনের প্রায় তিনঘন্টা সময় চলে যাচ্ছে। ফলে সেতু চালুর পরে দ্রুত সময়ে ঢাকা ও সন্নিহিত এলাকায় পৌঁছানোর যে আশা করা হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বরিশালের গৌরনদী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে মাদারীপুর সীমানার ভুরঘাটা পর্যন্ত মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৪২ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৩২ কিলোমিটারেই ২৭ টি ব্ল্যাক স্পট বা দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে তারা চিহ্নিত করেছেন। দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো হলো-ভুরঘাটা, ইল্লা, বার্থী, তারাকুপি, কটকস্থল, সাউদের খালপাড়, নীলখোলা, টরকী, গয়নাঘাটা, গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড, আশোকাঠী, কাসেমাবাদ, বেজহার, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল, সানুহার, জয়শ্রী, সোনার বাংলা, ইচলাদী, শিকারপুর-দোয়ারিকা টোল প্লাজা, মেজর এমএ জলিল সেতুর ঢাল, নতুনহাট, রহমতপুর ব্রিজের ঢাল, রেইনট্রিতলা ও কাশিপুর ব্র্যাক অফিসের মোড়। এসব স্পটগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু জায়গায় সতর্কতামূলক চিহ্ন বসানো হচ্ছে।

ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে চলাচলরত সাউদিয়া পরিবহনের সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর বদৌলতে যানবাহন কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় অপ্রশস্ত মহাসড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। তাই ব্যস্ততম এ মহাসড়কটি ছয়লেনে উন্নীত করা এখন খুবই জরুরি হয়ে পরেছে।

সড়ক অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতিক্রমে ২০১৫ সাল থেকে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কটি সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয়লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করে। যা ২০১৮ সালে শেষ হয়। এমনকি সমীক্ষার পথনকশা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে ১৮শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে একটি আলাদা প্রকল্পও অনুমোদন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তিনবছর পরেও ভূমি অধিগ্রহণ কাজের অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। তবে ওইসব জমির বর্তমান বাজার মূল্য দ্বিগুনেরও বেশী বৃদ্ধি, নতুন পথনকশা অনুযায়ী বাড়তি প্রায় দুইশ’ হেক্টরসহ জমির মূল্য পরিশোধে দ্বিগুনেরও বেশী অর্থের প্রয়োজন হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলোর দাবি, বাস্তবতার আলোকে ইতোমধ্যে বরিশাল মহানগরীর পরিবর্তে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বাইপাস নির্মানের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পটুয়াখালীতেও পথনকশার কিছু পরিবর্তন করতে হচ্ছে। ফলে এ দুটি স্থানে আরো অন্তত দুইশ’ হেক্টর বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। এজন্য ইতোমধ্যে সংশোধিত ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ তৈরীর কথাও জানিয়েছে সড়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল ।

অপরদিকে মহাড়কটির বরিশাল বিমানবন্দর ও ফরিদপুরে একটি প্রতিববন্ধী স্কুলের কাছে এলাইনমেন্ট নিয়েও কিছুটা জটিলতা তৈরী হয়েছে। এ দুটি স্থানের এলাইনমেন্ট নিয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে ।

সূত্রের দাবি, অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলে এডিবি ছাড়া আরো কয়েকটি দাতা সংস্থার সাথে প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়ে কথা চলছে। অপরদিকে ২০১৫ সাল থেকে ’১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও পথনকশা অনুযায়ী ২১১ কিলোমিটার মহাসড়কটির জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ২১ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও ভূমি অধিগ্রহণেই অন্তত দেড় হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে। যার পুরোটাই দিতে হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, অনন্ত ঈদ-উল ফিতরের আগে ও পরে মহাসড়কে চলাচলরত পরিবহনগুলো যেন বেপরোয়াগতিতে এবং প্রতিযোগিতার মনোভাব পরিহার করে ওভারটেকিং করতে না পারে। স্ব-স্ব এলাকার হাইওয়ে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে সকল দুশ্চিন্তার অবসান ঘটবে। এতে করে ঈদ মৌসুমে সড়ক দূর্ঘটনা জিরোতে নামানো সম্ভব হবে। তবে হাইওয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বরিশাল অফিসের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখাসহ সময়নুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ঈদে নারীর টানে বাড়ি ফেরা যাত্রীরা যেন নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, এজন্য বরিশালে পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের সাথে সমন্বয় করে ভুরঘাটা থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দূর্ঘটনা প্রবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং যানজটের সৃষ্টি হতে পারে এমন সব এলাকায় ট্রাফিক পরিদর্শকদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ঈদে ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে ভাঙ্গা পর্যন্ত ছয়লেনের এক্সপ্রেসওয়ে পৌঁছলেও সেখান থেকে ৯১ কিলোমিটার দক্ষিণে বরিশাল, ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ফরিদপুর শহর এবং ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে পায়রা সমুদ্র বন্দর ও ২০৩ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পৌঁছানোর মহাসড়কের কোনটিই মানসম্মত নয়। এসব মহাসড়ক এখনো মাত্র ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রস্থ। ফলে আসন্ন ঈদ-উল ফিতরের আগে ও পরে দেশের ৮ নম্বর বরিশাল-ফরিদপুর জাতীয় মহাসড়কে সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন ।




বাকেরগঞ্জে অনুমোদন বিহীন দূরপাল্লার গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি

বরিমাল অফিস:: রুট পারমিট ছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ডিসি রোডে অনুমোদন বিহীন ঢাকাগামী দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম অনুমোদন বিহীন ছাড়া ওই রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি, বাকেরগঞ্জ, বরিশাল (রেজি নং-১৯৬৮/০৯) এর আওতাধীন রুটে প্রায় ৪০/৫০টি বাস ও মিনিবাস গাড়ি বরিশাল বিআরটিএ কর্তৃক অনুমতি নিয়ে বাকেরগঞ্জ থেকে বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। হাইওয়ে ব্যতীত তাদের সমিতির আওতাধীন আঞ্চলিক রুটে কোনো রকমের অনুমোদন ছাড়াই দূরপাল্লার পরিবহন বেআইনিভাবে চলাচল করে।

বাকেরগঞ্জ টু ডিসি রোডের রাস্তাটি খুবই সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই রাস্তায় ছোট ছোটো ব্রিজ ও কালভার্ট রয়েছে। যার ওপর দিয়ে পরিবহন চলাচল করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।




পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শ্রমিক লীগ সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লতাচাপলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলার মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম ফরাজী।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় মো. আবুল কালাম ফরাজী লিখিত বক্তব্য বলেন, আমি জাতীয় শ্রমিক লীগ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছি। আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোন অপরাধনীতি করি নাই। কিন্তু আপনারা জানেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বহিষ্কারের সুপারিশ প্রাপ্ত এবং লতাচাপলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আনসার উদ্দিন মোল্লা গত ২৫ মার্চ আলিপুরস্থ বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ২৪ মার্চ গভীর রাতে তার বাসভবনে হামলা হয়েছে এমন দাবি করে আমি ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। আমি যতটুকু খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি যে তার বাসভবনের হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। আমি ও আমার লোকজনকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চক্রান্তে এমন নাটক সাজানো হয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

তিনি আরো বলেন, গত ২৭ মার্চ মহিপুর থানায় জিআর ৩৪/২৪ নং একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার বাদী জোলেখা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা যারা আনছার উদ্দিন মোল্লা সকল অপকর্মের সহযোগী ও অনুসারী। দায়েরকৃত মামলায় আমাকে সহ আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করেছে। দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রত্যাহারের দাবি করছি।

আবুল কালাম ফরাজী বলেন, মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সাথে আমিও আমার লোকজনের কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমি ও আমার লোকজন প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল না মর্মে দূঢ়ভাবে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। আনসার উদ্দিন মোল্লা ইউনিয়নের অপরাধনীতির মূল হোতা এবং মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে পারদর্শী বলেও মন্তব্য করেন।




পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীরা 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ১৫ দিন ধরে ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে বাউফলগামী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এতে বাউফল ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ যাত্রী, ব্যবসায়ী, ঘাট ইজারাদার ও শ্রমিকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মব্যস্ত ঘাটগুলোতে শুনশান নিরবতা বিরাজ করছেন। নেই কোনো হাক-ডাক। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকেরা। অসল সময় কাটাচ্ছেন ইজারাদারেরা।

লঞ্চঘাট ইজারাদার ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কালাইয়া, নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে ঢাকার সঙ্গে নৌপথে লঞ্চ চলাচল করে। বাউফল এবং দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রী যাতায়াত ও ব্যবসায়ীরা কম খরচে নিরাপদে পণ্য পরিবহন করে থাকেন। ঘাটগুলোতে প্রায় অর্ধশত শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী সংখ্যা কিছু কমেছে। তারপরেও ৩০০ থেকে ৩৫০ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন।

তবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেন লঞ্চ মালিকেরা। টানা ৭ দিন বন্ধ থাকে লঞ্চ। এরপর ১৬ দিন চলাচল করার পর আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ কালাইয়া ঘাট থেকে এমভি বন্ধন-৫ ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে আর কোনো লঞ্চ ঢাকা থেকে আসেনি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।

মো. আনোয়ার নামে এক যাত্রী বলেন, আমার বাবা অসুস্থ। ঢাকাতে নিয়মিত চিকিৎসকের চেকআপে নিতে হয়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় খুব ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। অ্যাম্বুলেন্সে নিতে ব্যয় বেশি। দুঘর্টনার ঝুঁকি আছেই।

আরো পড়ুন : বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

সোহরাব নামে আরেক যাত্রী বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে লঞ্চে ঢাকা যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে যেতে হচ্ছে। এতে ব্যয়ও বাড়ছে। জার্নি করতেও কষ্ট হচ্ছে।

ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের ইদযাত্রা নিরাপদ সহজ ও সুন্দর করতে শীঘ্রই লঞ্চ চালুর দাবি যাত্রীদের। ঢাকা থেকে মুদি, পোশাক, ইলেকট্রনিকস, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হত।
একই সঙ্গে বাউফল থেকে মাছসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য কম খরচে ঢাকায় পরিবহন করা হত। লঞ্চ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে পণ্য পরিবহনে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কালাইয়া বন্দরের পোশাক ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, সামনে ঈদ। ইতোমধ্যে ঈদের বেচাকেনা বাড়ছে। ঢাকা থেকে লঞ্চে পোশাক আনা সহজ ও পরিবহন খরচ কম। লঞ্চ বন্ধ থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর শহরের ইলেকট্রনিকস ব্যবসায়ী শংকর সাহা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে ঢাকা থেকে লঞ্চে মালামাল পরিবহন করে আসছি। ঢাকা থেকে লঞ্চে তুলে দিলে পরের দিন দোকানে পৌঁছে দেয় ঘাট শ্রমিকেরা। লঞ্চ বন্ধ থাকায় গাড়িতে মালামাল আনতে হয়। অনকে সময় গাড়ির ঝাঁকুনিতে মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

লঞ্চ বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকেরা অর্থ সংকটে মানবতর জীবনযাপন করছেন তারা।

কালাইয়া ঘাটের শ্রমিক সরদার মো. কালু বলেন, লঞ্চ বন্ধ, তাই কাজও বন্ধ। এতে আমার সংসার চলাতে কষ্ট হচ্ছে।

কালাইয়া লঞ্চঘাট ইজারাদার মো. শামিম হোসেন বলেন, লঞ্চ বন্ধ থাকায় ঘাট স্টাফ নিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছি। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকার লোকসান হচ্ছে।

নিমদী, নুরাইপুর ও ধুলিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। এসব ঘাটের ইজারাদারেরা বলেন, বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লাভ করে নিয়েছেন লঞ্চ মালিকেরা। এখন যাত্রী কম থাকায় তারা লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। এটা হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

এই রুটে চলাচলকারী এমভি ইগল লঞ্চের সুপারভাইজার মো. বাদশা মিয়া বলেন, ঈগল-৮ যান্ত্রিক ত্রুটি ও ঈগল-৫ সংস্কার কাজ চলায় বন্ধ রয়েছে। কাজ শেষ হলেই লাইনে ফিরবে।

আর এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল ও এমভি সাব্বির-২ লঞ্চের সুপারভাইজার সুমন বলেন, যাত্রী কম। যে যাত্রী হয় তাতে মালিকের লস হয়। তাই লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে ঈদের আগে চালু হবে। কিন্তু ঠিক কবে চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা।

পটুয়াখালী নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক দিনেশ কুমার সাহা বলেন, লঞ্চ চলাচল বন্ধ আছে এটা সত্য, কেন বন্ধ আছে সেটা আমি জানি না, এ ব্যাপারে আমরা আফিসকে জানিয়েছি। লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।




১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে পবিপ্রবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ১৯ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) থেকে ১৯ দিনের ছুটি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত’র অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র জুমাতুল বিদা, শব-ই-কদর, ঈদ-উল-ফিতর এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আগামী ২৯ মার্চ হতে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসসহ সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিভাগসমূহের অফিস কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী ২৯ মার্চ বিকাল ৫ টা হতে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সকল আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে এবং ১৬ এপ্রিল সকাল ৬ টায় আবাসিক হলসমূহ খুলে দেওয়া হবে।

বন্ধকালীন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হলে অবস্থান না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও জররি বিভাগ/ শাখাসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে এবং উক্ত বিভাগ/শাখাসমূহে রোস্টার ভিত্তিতে ১জন কর্মকর্তা ও ১জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন।