পটুয়াখালীতে ১টি সেতুর অভাবে ৮ লাখ মানুষের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: একটি সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ৮ লাখ মানুষ। পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষ দেশের সার্বিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফেরি ও ট্রলারে পারাপারে সময় নষ্টের পাশাপাশি নানামুখী ভোগান্তি পোহাচ্ছে বিভাগীয় শহর ও রাজধানী গামী যাত্রীরা। তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের বহু বছরের লালিত স্বপ্ন লোহালিয়া নদীর ওপরে বগা সেতু নির্মাণ হবে। রাজধানী ঢাকা যেতে বগা ছাড়া অন্যকোথাও ফেরি পারাপার হতে হয় না।

এ অঞ্চলের ভুক্তভোগী জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে বিভক্ত করেছে লোহালিয়া নদী। প্রতিদিন এই নদীর বাউফল উপজেলার বগা পয়েন্টের ফেরি পারাপার হয়ে জেলা, বিভাগ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। প্রতিনিয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে আটকে থেকে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে ট্রলারে করে এই নদী পাড় হতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চোর চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

জেলার ভিতর সবচেয়ে বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বাউফল। এই উপজেলাতেই রয়েছে দেশের প্রাচীণতম বাণিজ্যিক এলাকা কালাইয়া ও কালিশুরি বন্দর। এই বাণিজ্যিক এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায় শতশত ভাড়ি ও মাঝাড়ি আকৃতির ট্রাক। এছাড়াও বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে বগা ফেরি হয়ে রাজধানীতে চলাচল করে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।

ঢাকা থেকে বাউফল আসা যাত্রী আরিফুর জানান, ঢাকা থেকে বাউফল আসতে সময লেগেছে ৪ঘন্টা অথচ ফেরি ঘাটে এসে ১ঘণ্টা বসে আছি এটা খুবই দুঃখজনক।

অপর যাত্রী বলেন, সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।

পরিবহন চালক আব্দুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছি না আমরা। বগা ফেরিতে এসে ১/দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এই দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে চাই।

এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফেরি কারণে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়ে ইমার্জেন্সি রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক সময় ফেরিতে দেড়ির কারণে রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে বলেও জানান তারা।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, সেতু না থাকায় রোগীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। ফেরিতে দেড়ি হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পেতে দেড়ি হয় এতে মৃত্যু ঝুকি বেড়ে যায়।

বাউফলের ৮ বারের এমপি দীর্ঘ ৪০ বছর বিভিন্ন সময়ে জনগণকে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তা আজও বাস্তবায়ন না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ।

আরো পড়ুন : বাউফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, বগা সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চল হবে শিল্পাঞ্চল এবং এই অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঞ্চলের মানুষ। বদলাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান, কমবে বেকারত্ব। প্রধানমন্ত্রী বগা সেতু নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আ স ম ফিরোজ বলেন, সেতু নির্মানে বিলম্ব হওয়ার বিষয় সরকারের কোনো হাত নেই। চীনা সরকার বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করতেছে। তারা ইতিমধ্যে সেতুর সম্ভব্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বগা ফেরি ঘাটে ৯ম চীন-মৈত্রী সেতু নির্মিত হবে। চীনের প্রতিনিধি দল গত বছর সেতু সম্ভব্য স্থান পরিদর্শন করেছে। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে একটি ঋণ চুক্তি সাক্ষরের পড়ে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এবিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে কতদিনের মধ্যে সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে তা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে সেতু নির্মাণ হলে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন আসবে। সারাদেশের সাথে চালু হবে ফেরি বিহীন সড়ক যোগাযোগ। এই অঞ্চলের ৮ লাখ মানুষের কমবে পথ, বাঁচবে সময়। দেশের অর্থনৈতিতে অপার সম্ভাবনায় রূপান্তরিত হবে এই অঞ্চল।




বরিশালে ৩ পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা, গ্রেফতার ১

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই মনোসিজ ও দুই পুলিশ কনস্টেবল রাসেল ও মাসুদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সুমন (৪০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) রাতে নগরীর নবগ্রাম রোডের যুবক হাউজিং এলাকায় গত এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এরপর ওই রাতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন ভূক্তভোগী এএসআই মনোসিজ। ঘটনার কিছু সময় পরই সুমনকে গ্রেফতার করে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

সোমবার (১ এপ্রিল) নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আরিচুল হক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা নিয়ে মারামারির খবর পেয়ে শুক্রবার রাত দশটার দিকে নবগ্রাম রোডে ঘটনাস্থল যায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় আজিজ হাওলাদারের ছেলে সুমনসহ ১০/১২ জন হামলা চালায়। এ হামলায় এএসআই মনোসিজ, কনস্টেবল রাসেল ও মাসুদ আহত হন। এ ঘটনায় বাদী কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছে এএসআই মনোসিজ।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম আরিচুল হক বলেন, মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ গেলে তাদের ওপর হামলা চালায় ১০/১২ জন। এ ঘটনায় সুমন নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

 




পায়রা বন্দরে শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে বারেক আঁকন (৩৫) নামের এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল দুপুরে লালুয়া ইউনিয়নের চিংগড়িয়া এলাকার প্রথম টার্মিনাল সংলগ্ন নির্মাণাধীন ব্রিজ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত বারেক পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার পূর্ব ঝারাখালী এলাকার সত্তার আঁকনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে বারেক তার বাড়ি থেকে ওই প্রকল্প এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতে আসে। সেখানে নদীতে কাজ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এসময় বন্দর কর্তৃপক্ষ পুলিশকে অবহিত না করেই লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে স্বজনরা তার বুকে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশে অবহিত করলে আজ সকালে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অটোরিকশা উদ্ধার, চোর চক্রের হোতা আটক

মৃত বারক আঁকনের বড় ভাই আ: খালেক আঁকন জানান,আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারন তারা তাড়াহুড়ো করে লাশ বাড়িতে নিয়ে এসেছে। আমরা তার বুকে আঘাতের চিহ্ন না দেখলে বুকতেই পারতাম না। তারা লাশ থানায় না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বাড়িতে নিয়ে আসলো কেন? আমরা তাই এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তার ভাগিনা সোহাগ জানান, আমার মৃত মামার ছোট ছোট দুটি বাচ্চা রয়েছে, এখন তার পরিবার অসহায়।

পায়রা বন্দরের ওই প্রকল্প এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মোহিমিনুল চৌধুরী জানান, ওই শ্রমিকের লাশ বাড়ি পাঠানোর পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। যার কারনে আর পুলিশে অবহিত করা হয়নি।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, ওনারা আমাদের না জানিয়ে লাশ তালতলী বাড়ী পাঠিয়ে দেয়,আবার না জানিয়েই লাশ থানায় নিয়ে আসে। আজ সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।




পটুয়াখালীতে অটোরিকশা উদ্ধার, চোর চক্রের হোতা আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ব্যাটারি চালিত তিনটি বড় ও একটি ছোট অটোরিকশা উদ্ধারসহ চোর চক্রের হোতা মো: মিলন খানকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃত অটোরিকশা গুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ লাখ টাকা।

রবিবার (৩১ মার্চ) রাতে কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি বাজার সংলগ্ন আবাসন মাঠ থেকে চোরাই অটোরিকশা উদ্ধার করা হয় এবং আসামীকে আটক করা হয়। আসামী একই ইউনিয়নের মাড়াইপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন খানের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহয়তায় অটোরিকশা চোর চক্রের হোতা মো. মিলন খানের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। পরে রবিবার রাতে জেলা ডিবির ওসি একেএম আজমল হুদার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কলাপাড়া থেকে আসামীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আসামীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী আবাসন মাঠ থেকে চোরাই ৪ টি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। আসামী মিলনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোর চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

আরো পড়ুন : ১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, অটোরিকশা গুলো প্রকৃত মালিকের কাছে আইনী প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে। আসামীর বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।




বাউফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তফসিল ঘোষণা না হলেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী দলীয় সমর্থন আদায়ের জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের দারস্থ হচ্ছেন। সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার মশিউর রহমান লাভলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য ও সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত জিএম মো. আলাউদ্দিন এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা সহো আরো অনেকে।

আরো পড়ুন :১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী



১ সপ্তাহে পটুয়াখালীর হাসপাতালে ভর্তি ২৬৪ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে হঠাৎ করে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত এক সপ্তাহে প্রায় তিনশ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে দিন যত যাচ্ছে গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গত এক সপ্তাহে ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন রোগীর সংখ্যাও কম নয়।

এদিকে ডায়রিয়া রোগীর চাপে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে হাঁটার পথ, বারান্দা সবখানেই অস্থায়ী বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এরমধ্যে মশা-মাছি এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ভোগন্তিতে আছেন আগত রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী এলাকার রোগী আয়শা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয়। রাতে পাঁচ থেকে ছয়বার টয়লেটে যাওয়ার পর সকালে আর দাঁড়ানোর শক্তি ছিল না। এরপর সরাসরি পটুয়াখালী হাসপাতালে এসে ভর্তি হই। সেই থেকে স্যালাইন চলছে। এখন শরীর কিছুটা ভালো। তবে হাসপাতালে কোনো বেড পাইনি, তাই বারান্দায় ফোম বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমাদের বাড়িতে আরও কয়েকজনের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে তারা বাড়িতেই চিকিৎসা করাচ্ছে।

একই কথা জানান কলাপাড়া থেকে আসা রোগী ইসমাইল ফরাজী। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হইছি, কিন্তু কোনো সিট খালি নেই। রাস্তার পাশে ছিট লাইচ্চা স্যালাইন ফুরতেছি। স্যালাইন-ওষুধ হাসপাতালই দেছে। তয় মশা মাছির কারণে টেকতে পারছি না। চার দিকে গন্ধ আর প্রচণ্ড গরম, ভোগান্তির যেন শেষ নাই।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ২৬৪ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বাউফল উপজেলায় ২৯ জন, দশমিনা উপজেলায় ২৬ জন, দুমকি উপজেলায় ১৮ জন, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১২ জন, কলাপাড়া উপজেলায় ৩২ জন, গলাচিপা উপজেলায় ৩৪ জন এবং পটুয়াখালী সদরে ১১৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

এছাড়া গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ২১০৩ জন রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসা নিলেও কোনো রোগী ডায়রিয়া আক্রন্ত হয়ে মারা যাননি।

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছরগুলোতেও এমন ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব বিষয় মাথায় রেখে ডায়রিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সকলের খাবার গ্রহণ এবং পানি পানের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্তিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। খাবার স্যালাইনসহ অনান্য ওষুধেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

অপরদিকে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জেলায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ১৬২ জন নিউমোনিয়ায় আক্রন্ত হয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। তবে ডায়রিয়া কিংবা নিউমোনিয়ায় এ বছর জেলায় কোনো রোগী এ পর্যন্ত মারা যাননি।




কুয়াকাটা উপকূলীয় হিজবুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৪ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কোরআনের পাখি হাফেজদের উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করার লক্ষ্য প্রথমবারের মত কুয়াকাটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর আয়োজনে” কুয়াকাটা উপকূলীয় হিজবুল কোরআন প্রতিযোগিতা -২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে

রোববার (৩১ মার্চ) সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। মুহুমুহু উৎসবের মধ্যদিয়ে বিকাল ৪টায় সমাপ্তি হয় ।

উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাফেজ মোহাম্মদ মুবাশ্বের হোসেন , পেশ ইমাম- কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র জনাব আনোয়ার হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন ও কুয়াকাটা ইভেন ম্যানেজমেন্ট এর ব্যবস্থাপক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক হোসাইন আমির, অথিতি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন সাংবাদিক জুয়েল ফরাজী,জনী আলমগীর, জাকারিয়া জাহিদ এবং ভিবিন্ন মাদ্রাসার প্রধানগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ বেলালা হোসাইন, ইমাম ও খতিব আলীপুর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, হাফেজ মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম,পরিচালক তারবিয়াতুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসা, কলাপাড়া।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

উক্ত প্রতিযোগিতায় ৮ টি প্রতিষ্ঠানের ২৩ জন প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করেন। এতে ১ম পুরুষ্কার অর্জন করেন-মোহাম্মাদ মুহিন, মারকাজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা মহিপুর , ২য় পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোঃ ইসমাইল, মিরা বাড়ি হাফেজী মাদ্রাসা,কুয়াকাটা । ৩য় পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোহাম্মাদ তাওহীদ, ৪র্থ পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোহাম্বামদ ইজিদ, ৫ ম পুরুষ্কার অর্জন করেন- মেহেদি হাসান তাওহীদ, মারকাজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা মহিপুর।এবং সকল প্রতিযোগিদের জন্য সান্তনা পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন।

বক্তারা বলেন, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রজন্মকে অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখে এবং আগামীতেও অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ৪ দিন ধরে কিশোর নিখোঁজ



গলাচিপায় ৪ দিন ধরে কিশোর নিখোঁজ

পটুয়াখালী সংবাদদাতা :: গলাচিপায় মো: জুনায়েদ (১৫) নামের এক কিশোর ৪ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) তার বাবা গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর ১১৭৬

জুনায়েদ কল্যাণ কলস নেছারিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার অফিস সহকারী মো: রুহুল আমিনের একমাত্র ছেলে ও গলাচিপা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে গলাচিপা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড রতনদী (রুপনগর) এলাকা থেকে জুনায়েদ নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। জুনায়েদকে খুঁজে পেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে নিখোঁজের বাবা, মা ও আত্মীয়-স্বজন।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার



ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানায় সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগে মোট ১২টি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার সাইদুর রহমান মানিককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৩।

শনিবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে র‍্যাব-৩ এর একটি দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ইপিজেড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার মানিক পটুয়াখালী সদরের দক্ষিণ বাজারঘোনার আ. সাত্তার মৃধার ছেলে।

র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, গ্রেপ্তার সাইদুর রহমান মানিক পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার মূর্তমান আতঙ্ক সশস্ত্র আন্তঃজেলা ডাকাত দল মানিক বাহিনীর সর্দার। তার নেতৃত্বে পটুয়াখালীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রায় ২০টিরও বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে বরগুনা জেলার আমতলী বাজার থানায় ৫টি ডাকাতি মামলা ও ২টি অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। এছাড়াও পটুয়াখালী সদর থানায় ৫টি ডাকাতি মামলাসহ তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার মানিক মামলাগুলোর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মানিক জানায়, বহুল আলোচিত ২০১৫ সালে পটুয়াখালী সদর থানাধীন মাদারবুনিয়া ও বোতলবুনিয়া গ্রামে একই রাতে তিনটি বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনাটি তার নেতৃত্বেই ঘটেছিল। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রেপ্তার মানিকের নেতৃত্বে ডাকাত দলের অপরাপর সদস্য নড়াইল শহীদ, নাদ্রা আল আমিন, রাসেল তালুকদার, জব্বার, রাকিব হাওলাদার, আলামিন মাতুব্বর, কামাল মাতুব্বর, চাঁন হাওলাদার, বশির সরদারসহ ১০/১২ জন সদস্যের একটি ডাকাত দল মানিকের বাড়িতে বসেই ডাকাতির প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। একই রাতে বোতলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মমতাজের বাড়িতে মমতাজের পার্শ্ববর্তী পাড়ার বাসিন্দা আজিজ মাঝির বাড়িতে ও মাদারবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী চৌধুরীর বসতবাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে ডাকাতি করে।

আরো পড়ুন : সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন উপকূলের হাজারও কৃষক

গ্রেপ্তার মানিক সম্পর্কে এএসপি শামীম বলেন, মানিক আলিম পাস। সে চাকরি না পাওয়ায় ২০০৪ সাল হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত নিজ এলাকায় রাইড শেয়ার করতো। তখন তার ডাকাতি কার্যক্রমের অন্যতম সহযোগী নড়াইল শহীদের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে ২০১৫ সালে ডাকাতির কাজে জড়িয়ে পড়ে। ২০২০ সালে একাধিক ডাকাতির মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া শুরু হলে সে পালিয়ে নিজ এলাকা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন চর সুমিলপাড়া এলাকায় আত্মগোপন করে।
আত্মগোপনে থাকাকালে সে একটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করতো এবং প্রকৃত নাম পরিচয় গোপন করে সে নিজেকে সাঈদ নামে পরিচয় দিত। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।




স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৫) তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুর রহমান আমির (২৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন ।

ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরো পড়ুন : সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন উপকূলের হাজারও কৃষক

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী উপজেলা সদরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে পড়ে। ৭ বছর আগে তার মা ও বাবার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তার বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে মাধবখালী ইউনিয়নের চৈতা বাজারে ভাড়া বাসায় এবং মা আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় বসবাস করে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী মায়ের সঙ্গে থেকেই লেখাপড়া করে। স্কুল বন্ধ থাকায় সে চৈতা বাজারে বাবার বাসায় বেড়াতে যায়। ঘটনার দিন ২২ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টায় সৎ মায়ের সঙ্গে রাগারাগি করে সুবিদখালী যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেয়। চৈতা বাস কাউন্টারে আসলে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান আমির প্রথমে তাকে কোথায় যাবে জিজ্ঞাসা করে আলাপচারিতা শুরু করে। আলাপচারিতার এক পর্যায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে হোটেলের রিসিপশনে চাকুরি দেয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে কুয়াকাটা নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত একটি হোটেল কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের চিত্র অভিযুক্ত তার মোবাইল ফোনে ধারণও করে রাখে। কুয়াকাটা হোটেলে দুইদিন আটকে রাখার পর গত ২৫ মার্চ ভুক্তভোগীকে নিয়ে এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যায়।

এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে আব্দুর রহমান আমিরের বিরুদ্ধে গত বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করলে, অভিযান চালিয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রীর বোনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত আব্দুর রহমান আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু দমন নির্যাতন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।