বাউফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ১৫০ টি অগ্নিকাণ্ড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ করা হয়েছে।

আজ (৪ এপ্রিল) বৃহস্পতি বার দুপুর বারটায় বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায়   স্থানীয় সাংসদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ  মন্ত্রণালয়  সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব  আ.স.ম ফিরোজ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার ১৫০ টি পরিবারের প্রত্যেককে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও ৩ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।

আরো পড়ুন : কলাপাড়াতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন খান, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার শামসুল আলম মিয়া, বাউফল পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম ফারুক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব কুমার বিশ্বাস, সাংবাদিক ও সুবিধাভোগী পরিবারের সদস্যগন প্রমুখ।




কলাপাড়াতে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ

পটু্য়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুর ইউনিয়নের বিপীনপুর গ্রাম। বছর পাঁচেক আগেও এ মৌসুমে এ গ্রামে প্রচুর পরিমাণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ হতো। কিন্তু জমিতে লবণাক্ততা বাড়ায় বিগত দিনের তুলনায় কমে যায় ফলন। এতে অনেকটা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন কৃষক। পরে এই অবস্থার উত্তরণ ঘটান ১৫ জন কৃষক।
কৃষক খোকন সিকদারের নেতৃত্বে এই ১৫ জন কৃষক ২৮ বিঘা জমিতে চাষ করেন সূর্যমুখী ফুলের। বর্তমানে তাদের আবাদকৃত জমি ছেয়ে গেছে সূর্যমুখী ফুলের হলুদ আভায়। বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।

শুধু বিপীনপুরের কৃষকরাই নয় এই উপজেলার সহস্রাধিক কৃষক প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন সূর্যমুখী ফুলের। উপজেলা হিসেবে দেশের সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে কলাপাড়ায়। আর এসব ফুলের বীজ দিয়ে ১০ লাখ টন ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন।

মহিপুরের বিপীনপুর গ্রামের কৃষক খোকন সরদার জানান, ৫ বছর আগেও আমরা এখানে লাউ, শশা, সিম ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করতাম। কিন্তু উৎপাদনের লক্ষমাত্রা কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়ি। পরে আমরা কৃষকরা একত্রিত হয়ে সূর্যমূখী ফুলের আবাদ শুরু করি। গত বছরও করেছিলাম। আমাদের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। আমরা অনেক খুশি। আমাদের বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করেছে ব্র্যাক।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

অপর কৃষক নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সাইদুল ইসলাম বলেন, জমিতে লবণের পরিমাণ বেড়েছে। তাই বোরো বাদ দিয়ে আমি একাই ১০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছি। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এখন তেলের দামটা ভালো পেলেই আমরা পুষিয়ে উঠতে পারবো।

কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, অনেক কৃষক দলবদ্ধভাবে অনেক বেশি জমিতে আবার অনেক কৃষক সীমিত পরিসরে কম জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করছে। আমাদের কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে অধিকাংশ স্থানেই বাম্পার ফলন হয়েছে। আর আমাদের উপজেলায় দেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সবচেয়ে বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। আমরা ১০ লাখ টন ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আশা করছি আগামী বছর এই এলাকায় আরো বেশি পরিমাণ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হবে।




পবিপ্রবির ভিসি-রেজিস্ট্রারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) সেকশন অফিসার নিয়োগ বাতিল চেয়ে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন শাহানা সুলতানা ও মোসা. হেলেনা বেগম নামের দুজন ভুক্তভোগী। গতো মঙ্গলবার পটুয়াখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি করা হয়।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রিজেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত, রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু, ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ূন কবির বাদশা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার বাদী (ভুক্তভোগী) আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন এবং আদালত সমন নোটিশ ইস্যু করেছেন।’

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর ৩ জনসহ অন্য পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর। সেকশন অফিসার পদের জন্য মুরাদিয়ার বাসিন্দা শাহানা সুলতানা ও দুমকির বাসিন্দা হেলেনা বেগম আবেদন করেন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর বাদীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হলে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদে বাছাইয়ের জন্য একাধিক কমিটি গঠন করে। যা বিধিবহির্ভূত বলে বিবরণে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ড কমিটির চেয়ারম্যান উপাচার্য হওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান হন ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী এবং রেজিস্ট্রার কামরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুকে সদস্যসচিব এবং অধ্যাপক ড. পূর্ণেন্দু বিশ্বাসকে রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১, ২, ৪ ও ৭ নভেম্বর নিয়ম বহির্ভূতভাবে দুটি বাছাই বোর্ড কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু, উপ-রেজিস্ট্রার জসিম উদ্দিন বাদলের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা, পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ভাই মো. আরিফুর রহমান পিয়েল, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের ভাই মো. হাফিজুর রহমান, দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের ছেলে তানভীর হাসান স্বাধীন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী তাকছিনা নাজনীনকে সুপারিশ করে।
গত ২ ডিসেম্বর রিজেন্ট বোর্ডের সভায় উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং সেকশন অফিসার পদে বিজ্ঞপ্তিতে ৩ জন নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাছাই বোর্ড ৬ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। পরে ৩ ডিসেম্বর নিয়োগদের ডাক্তারি পরীক্ষার কথা থাকলেও ওই দিনই তারা যোগদান করেন।

বিবরণে আরও বলা হয়, সেকশন অফিসারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও টাকা লেনদেনের গুঞ্জন রয়েছে। এ প্রক্রিয়ার কারণে মামলার বাদী শাহানা সুলতানা ও মোসা. হেলেনা বেগম উপযুক্ত প্রার্থী হয়েও নিয়োগ বঞ্চিত হয়েছেন। এজাহারে সেকশন অফিসারসহ অন্য পদের নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

আরো পড়ুন ; পটুয়াখালীতে ট্রাকচাপায় রিকশাচালক নিহত, আটক চালক-হেলপার

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রার (অ. দা.) অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘জানা নেই, এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি।’

এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর পবিপ্রবিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপাচার্যের ছেলেসহ ৫৮ জনকে নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা (মাউশি) বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানা যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ইউজিসির সচিব ফেরদৌস জামানকে আহ্বায়ক ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম শেখকে সদস্যসচিব এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল আলিমকে সদস্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি ক্যাম্পাসে সরেজমিন তদন্ত সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।




পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল মাসে পটুয়াখালীসহ
দক্ষিণাঞ্চলে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গরমের সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে ৫২৩ জন রোগী আক্রান্ত হয়েছেন এতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীর চাপে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। হাসপাতালের মেঝে থেকে শুরু করে হাঁটার পথ, বারান্দা- সবখানেই অস্থায়ী বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে মশা-মাছি এবং নোংরা পরিবেশের কারণে ভোগান্তিতে আছেন আগত রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী এলাকার রোগী শিশু সাবিহার মা বলেন, ‘হঠাৎ করেই পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয় সাবিহার। পরে হাসপাতালে নিয়ে এসে স্যালাইন দেই। তবে হাসপাতালে কোনো বেড পাইনি, তাই বারান্দায় ফোম বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ট্রাকচাপায় রিকশাচালক নিহত, আটক চালক-হেলপার

একই কথা জানান হাজিখালি থেকে আসা রোগী চাঁদনী দেবনাথের মা সুস্মিতা দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি করেছি, কিন্তু কোনো সিট খালি নেই, তাই রাস্তার পাশে স্যালাইন দিতেছি। মশা-মাছির কারণে টেকা দায়। চারদিকে গন্ধ আর প্রচণ্ড গরম।’

পটুয়াখালী সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিগত বছর গুলোতেও এমন ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এসব বিষয় মাথায় রেখে ডায়রিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সবার খাবার গ্রহণ এবং পানি পানের ক্ষেত্রে এই সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিস্থিতি এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। খাবার স্যালাইনসহ অনান্য ওষুধেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত সাত দিনে জেলায় ৫২৩ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন উপজেলায় ভর্তি হয়েছেন। এরইমধ্যে ৩৫৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।




পটুয়াখালীতে ট্রাকচাপায় রিকশাচালক নিহত, আটক চালক-হেলপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শহরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশাকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক ধাক্কা দিলে অটোরিকশার চালক ট্রাকের নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেলে শহরের পুরাতন হাসপাতাল মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা (৩০) সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের মালেক মৃধার ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কালিকাপুর ইউনিয়নের ডিবুয়াপুর গ্রামে শ্বশুর রফেজ মৃধার বাড়িতে বাস করতেন।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে। আটক করা হয় ট্রাকের চালক মামুন খান ও হেলপার মারুফকেও। জব্দ করা হয়েছে ট্রাকটি। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বাড়ি আমখোলার রামানন্দ ও বাঁশবাড়িয়া গ্রামে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটুয়াখালী সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল জানান, বিকেলে পটুয়াখালী শহরের রেজিস্ট্রি পুল মোড় থেকে বেপরোয়া গতিতে একটি ট্রাক পুরাতন হাসপাতাল সড়ক মোড় অতিক্রমকালে রাস্তার পাশে দাঁড়ানো একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটির চালক ট্রাকের চাকায় চাপা পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় রিকশাচালককে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১৩ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের বেলা শহরের মধ্যে ট্রাক চলাচল নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতির ট্রাকটির কারণে প্রাণ গেল রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাকের।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জানান, পুরাতন হাসপাতাল মোড়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে জেলা প্রশাসকের বাংলার মোড়ে ট্রাকটিকে আটক করা হয়। ট্রাকের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে ট্র্যাকটি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
দিনের বেলায় শহরে যাতে ট্রাক প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ আরও কঠোর নজরদারি করবে বলেও তিনি জানান।




বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে আতংকিত গ্রামবাসি

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়ন আধুনা বেদগর্ভ গ্রামের কাওছার বালীর ছেলে পেশকার ইলিয়াস বালীর বাড়ী সংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। এতে আতংকিত হয়ে পড়েছে গোটা গ্রামবাসি।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার( ৩ এপ্রিল) ভোর রাতে ইলিয়াস বালীর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। এরমধ্যে ১টি বোমা দোকানের সামনে বিস্ফোরিত হয়। বাড়ির ভেতরে বোমা বিস্ফোরণের শব্দে পরিবারের লোকজনসহ এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চন্নু বাবলী জানান,গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিল তখন হঠাৎ বোমার বিকট শব্দে সবার ঘুম ভাঙে। এ সময় তারা বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ৯৯৯ জরুরী সেবায় ফোন করলে দ্রুত পুলিশ উপস্থিত হয়। এদিকে বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বরিশাল গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, গতকাল রাতে আমরা জরুরী হেল্পলাইন নাম্বার ৯৯৯ এ কল পেয়ে বোমা বিস্ফোরণের ও হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ছুটে গেলে । কিছু আলামতের ককটেল বিস্ফোরণের কিছু চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনা কে বা করা ঘটিয়েছে তাদেরকে কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




সিপিপির সেচ্ছাসেবকদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর  কলাপাড়া উপজেলা সিপিপির সেচ্ছাসেবকদের দুইদিন ব্যাপি দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বুধবার(০৩ এপ্রিল) বেলা১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে সিপিপির সেচ্ছাসেবকদের দুইদিন ব্যাপি এ প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলে স্থানীয় সাংসদের সাথে মতবিনিময় সভা 

সিপিপি’র সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খাঁন’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিমলীডার সিপিপি কলাপাড়া উপজেলা মো.মোতালেব হাওলাদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির ।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সিপিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলে।




বাউফলে স্থানীয় সাংসদের সাথে মতবিনিময় সভা 

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় সাংসদের সাথে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠত হয়।

আজ (৩ এপ্রিল) বুধবার বিকেল ৫টায় বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বশির গাজীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সাবেক চিফ হুইপ দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আ স ম ফিরোজ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১৩ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

সভায় বাউফল উপজেলা প্রশাসন, বাউফল সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বশার তালুকদার, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ব্যাংক, এনজিও, সাংবাদিক প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে মুসলিম উম্মা, সরকার ও দেশবাসীর জন্য দোয়া মোনাজাত করা হয় এবং উপস্থিত সকলের মাঝে ইফতার বিতরন করা হয়।




ঈদের উপহার নিয়ে অনাথ শিশুদের পাশে ইউএনও ফারিহা তানজিন

বরিশাল অফিস :: ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। ঈদ মানে পরিবারের সকলকে নিয়ে একসাথে আনন্দ করা। আত্মীয়-স্বজনের সাথে সাক্ষাত করে ভাব বিনিময় করা। কিন্তু ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে হয়ে আসছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলায় অবস্থিত বরিশাল বিভাগীয় বেবী হোমে আশ্রিত পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন অনাথ শিশুরা। তবে, এবার ওই সকল অনাথ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে, তাদের ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য তাদের পাশে দাড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন।

বুধবার ( ৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন বিভাগীয় বেবী হোমে গিয়ে সেখানে বসবাসরত শিশুদের সাথে কিছু সময় কাটিয়ে ঈদের উপহার হিসেবে তাদের নতুন পোষাক প্রদান করেন। এসময় তিনি ঈদের দিনে অনাথ শিশুদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফল, দুধ, চিনি, সেমাই, পোলাও চাল,নুডুলসসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। এ সময় বেবী হোমের উপ-তত্বাবধায়ক ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুশান্ত বালা, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন, গৈলা মডেল ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র মতে, বেবী হোমে আশ্রিত শিশুদের অপনজন বলতে কেউ নেই। অধিকাংশ অনাথ শিশুদের জন্ম হয়েছে কোন অন্ধকার গলিতে, কারো ফুটপাতে, আবার কারো পরিচয় না থাকায় পথশিশু হিসেবে এখানে তাদের ঠাঁই মিলেছে এখানে। সমাজের কাছে তারা পরিত্যাক্ত শিশু। বেবী হোমে আশ্রিত অনাথ শিশুদের কোনদিনই তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, তাদের অনেকের বাবা-মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকের বাবা-মায়ের পরিচয়ও জানা নেই। তাই বাবা-মায়ের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার তাদের কোন সুযোগও নেই। তার পরেও পিতৃ- মাতৃ স্নেহে লালন-পালন করা বেবী হোমের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনাথ শিশুদের ঈদের আনন্দ দেয়ার জন্য প্রতিবছরই সাধ্যমতো চেষ্টা করেন।

ছোটমনি নিবাসের তত্ত্ববধায়ক উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সুশান্ত বালা জানান, বর্তমানে ছোট মনি নিবাসে বিভিন্ন বয়সের ১৫ জন অনাথ শিশু রয়েছে। ঈদের আগে এসব শিশুদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত নতুন জামা কাপড় দেয়া হয়। ঈদের দিন বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাসহ আনন্দ বিনোদনের জন্য দিনভর নানা কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। বিভিন্নভাবে চেস্টার মধ্য দিয়ে এই সকল শিশুদের সকল রকমের বিনোদন দেয়া হয় ঈদের দিনে।




গলাচিপায় ফায়ার সার্ভিসের মহড়া অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিমের সদস্যরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (কনসালটেন্ট) ডা. মো. আল আমিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১৩ বছরের শিশু ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

এসময় আগুন নিভানো যন্ত্রের ব্যবহারবিধি ও প্রকারভেদ, যন্ত্র ব্যবহারে সতর্কতা, আগুন নিভানোর জন্য বিভিন্ন ধাপে করণীয়, সর্বোপরি অগ্নিকাণ্ডরোধে নানান পদক্ষেপ বিষয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে মাঠে আগুন জ্বালিয়ে সেই আগুন ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে নিভানোর পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে হাতের কাছে থাকা ভেজা কম্বল বা বস্তা, ছোট বালতি দিয়ে কীভাবে সহজে আগুন নিভানো যায় তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ ও মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন রিস্ক অ্যান্ড পারফরমেন্স ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ইলেকট্রিক্যাল সেইফটি এসোসর ইমতিয়াজ মাহমুদ। এসময় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনতলা নতুন ভবনটিকে বৈদ্যুতিক ও অগ্নি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।