পটুয়াখালী থেকে অপহৃত কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বহুল আলোচিত পটুয়াখালী জেলার বাউফল এলাকা হতে অপহৃত কিশোরীকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপহরণকারী মো. মাসুম বিল্লাহ আকনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩।

ঢাকা মহানগরীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, অপহৃত ভিকটিম কিশোরী পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানাধীন বাউফল সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেশির ছাত্রী। গত ১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায় ভিকটিম প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে তার প্রাইভেট টিউটরের বাড়ির দিকে রওনা করে। পথিমধ্যে বিলবিলাস বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী মাসুম অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের সহায়তায় ভিকটিমকে পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক ভিকটিমকে একটি মাহিন্দ্রো গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও ভিকটিম নিজ বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে প্রাইভেট টিউটরের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে। প্রাইভেট টিউটর জানায় ভিকটিম তার কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়নি। এমতাবস্থায়  ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমকে খোঁজাখুঁজির জন্য বের হলে প্রত্যক্ষদর্শী একজন পথচারীর নিকট হতে অপহরণের বিষয়টি জানতে পেরে তারা নিশ্চিত হয় যে, ভিকটিমকে গ্রেপ্তারকৃত মাসুম অপহরণ করেছে।

আরো পড়ুন :দুমকিতে হটাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৪৫ রোগী

পরবর্তীতে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানায় গ্রেপ্তারকৃত মাসুম এবং অজ্ঞাত আরও ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। এপ্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থান শনাক্ত করে আজ ভিকটিমকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।




দুমকিতে হটাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৪৫ রোগী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর দুমকিতে আবারো হটাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, হাসপাতালে বেড়েছে রোগীদের ভীড়। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়াক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৪৫ জন রুগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ জন নারী, ১২ জন পুরুষ, ৮ শিশুসহ মোট ৪৫ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ঋণ আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. এজিএম এনামুল হক বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের ফ্রি স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ২৮ জন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে ৯ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাব, প্রচন্ড গরম, রমজানে ইফতারিতে তৈলাক্ত খাবারের প্রভাবে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ঔষধ পত্র মজুত আছে।




দশমিনায় ১৫ জেলেকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনা উপজেলায় অভয় আশ্রম তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে র‍্যাব-৮ পটুয়াখালী, উপজেলা মৎস্য অফিস দশমিনা, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন অবৈধ মাছ ধরায় ১৫ জেলেকে আটক ও ৭ লক্ষ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা যৌথ অভিযান জন্য করেন র‍্যব-৮ পটুয়াখালী, উপজেলা মৎস্য অফিস দশমিনা, নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি, কোস্টগার্ড।

আরো পড়ুন : ঋণ আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

পড়ে সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কর্যালয় জিয়াউল হাসান সৌরভ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫জেলেকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জব্দ জাল তেঁতুলিয়া তীরবর্তী হাজিরহাট লঞ্চ ঘাট এলাকায় পুরিয়ে ফেলা হয়।

সহকারি কমিশনার (ভুমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্যরেট  জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ১৫ জেলেকে আটক করে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয় এবং জব্দ ৭ লক্ষ মিটার জাল(বাঁধা, কারেন্ট, চরবেড়া, ফ্যার) পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ অভিযান অব্যহত থাকবে।




ঋণ আত্মসাৎ মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ন্যাশনাল ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার ঋণ খেলাপি মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. জাহাঙ্গীর গাজীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক পটুয়াখালী শাখার ব্যবস্থাপক মনি শংকর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ডিবি হেডকোয়ার্টারের একটি আভিযানিক দল প্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাঙ্গীর গাজীকে গ্রেফতার করে। এরপর দিন তাকে পটুয়াখালী যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩ ডায়রিয়া রোগী

মনি শংকর আরো বলেন, জাহাঙ্গীর গাজী ২০১৮ সালের ১৫ অক্টোবর ন্যাশনাল ব্যাংক পটুয়াখালী শাখা থেকে ২৮ লক্ষ টাকা সিসি ঋণ নিয়ে সময়মত তা পরিশোধ না করে চুক্তি ভঙ্গ করেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে বারবার নোটিশ করা সত্ত্বেও তিনি ঋণ পরিশোধ না করে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি কর্তৃপক্ষকে তার একাউন্টের ৩৩ লক্ষ ১০ হাজার ৯৬৮ টাকার চেক প্রদান করেন। একই দিন চেকটি তার একাউন্টে জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅর্নার হয়। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হলেও তিনি কোন যোগাযোগ না করায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আপিল শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর জাহাঙ্গীর গাজীর অনুপস্থিতিতে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের টাকা পরিশোধের আদেশ দান করে আদালত। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে গত ২৮ মার্চ তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।




দক্ষিনের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের একমাত্র নিদর্শন মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ

বরিশাল অফিস :: দক্ষিনাঞ্চলের প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের একমাত্র নিদর্শন প্রায় ছয়’শ বছরের পুরানো মজিদবাড়িয়া শাহী মসজিদ। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে এখন ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে মসজিদটি। মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন হারাতে বসেছে তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য। মসজিদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সকল প্রকার সহযোগীতা দেয়ার কথা জানালেনজেলা প্রশাসক।

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরের ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে সাড়ে পাঁচশো বছরের ইতিহাস কাঁধে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক মজিদ বাড়িয়া শাহি মসজিদটি।

 

মসজিদের গায়ে প্রাপ্ত একটি শিলালিপি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন বাংলার ইলিয়াস শাহীর শাসনামলের শেষের দিকে সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহের পুত্র রুকনউদ্দিন বারবক শাহের (১৪৫৯-১৪৭৬খ্রীঃ) শাসনামলে খান-ই মোয়াজ্জম উজিয়াল খান ১৪৬৫ খ্রীষ্টাব্দে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের গায়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্প কর্মের কারুকাজ এখনো যে কারও নজর কুরাবে।

মসজিদটির দৈর্ঘ্যে ৪৯ ফুট এবং প্রস্থ ৩৫ ফুট। এছাড়া পূর্ব দিকে রয়েছে সাড়ে ২১ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৮ ফুট প্রস্থ একটি বারান্দা। মসজিদটির প্রধান কামরা বর্গাকারে নির্মিত এবং প্রত্যেকটি বাহু সাড়ে ২১ ফুট লম্বা। মসজিদের দেয়াল গুলি প্রায় সাড়ে ৬ ফুট চওড়া। মসজিদের পূর্ব দিকে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৪টি করে দরজা। মসজিদটির প্রধান কামরার ৪ কোনায় ৪টি এবং বারান্দার ২ কোনায় ২টি মিনার আছে। মসজিদে পাশেই রয়েছে এক বিশাল দীঘি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃটিশ আমলের শেষ দিকে সুন্দরবন এলাকার জঙ্গল পরিষ্কার করার সময় এই মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। আবার কেউ কেউ ধারণা করছে মসজিদটি মাটির নিচ থেকে অলৌকিকভাবে উঠে এসেছে। ১৯৬০ সালে মসজিদটি মানুষের নজরে আসে। মসজিদটির নামানুসারেই স্থানীয় গ্রাম ও ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় মজিদ বাড়িয়া।

স্থানীয় যুবক মোঃ রাব্বি ইসলাম বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকেই দেখেছি মসজিদটা এমনই। আমার দাদা দাদিও বলছে তারা ছোট থেকে মসজিদটা এভাবেই দেখছে। আমাদের মসজিদে একটা অজুখানা নেই এবং এই মসজিদের রাস্তাটা খুব জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। তাই আমাদের এই মসজিদে একটি অজুখানা ও মসজিদের রাস্তাটা সংস্কার করা খুব জরুরি।

মদজিদের ইমাম মোঃ ইব্রাহীম খলিল বলেন আমরা শুনেছি এই মসজিদ খান উজিয়াজ খান কতৃক বাদশাদের আমলে নির্মিত হয়েছে। প্রতিদিন এলাকার বহু মানুষ এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসে। মসজিদটির চারদিক ভাঙা, যেকোন সময় ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভেঙে পরার পূর্বেই সংস্কারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সংরক্ষন করা জরুরী।

মসজিদ কমিটির সদস্য মোঃ তৈয়েবুর রহমন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সংস্কার করার৷ যেহেতু এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় রয়েছে তাই আমরা মসজিদটির ঐতিহ্য রক্ষা ও মেরামতের মধ্যে দিয়ে সংরক্ষণ করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করছি। সরকার বাহাদুরের সুনজর থাকলে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে যোগাযোগ করবো তারা যাতে একটা ফান্ডের ব্যবস্থা করে। কারন ভালো কিছু করপ্তে গেলে অবশ্যই ভালো ফান্ডের দরকার। যদি তারা বরাদ্দ দিতে না পারে যতটুকু ম্যানেজ করা যায় ততটুকু দিয়ে আবশ্যক সংস্কার করা দরকার সেটা করা হবে। আমরা মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলবো যাতে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করেন।

মসজিদটি দ্রুত সংস্কাররে মাধ্যমে বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস, মুসলমানদরে অবদান ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার দৃষ্টি দেবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

 




বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি

বরিশাল অফিস :: বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর পুলিশ সদস্য মোঃ জালাল আহমেদ তালুকদারের বাসায় নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও সাত ভরি স্বর্ণলংকারসহ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকালে বরিশালে নগরীর ভিআইপি গেট এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর পুলিশ সদস্য মোঃ জালাল আহমেদ তালুকদার তিনি জানান, তিনি ও তার মেয়ে কামরুন নাহার একই বিল্ডিংয়ের নিচতলায় ও তার মেয়ে চতুর্থ তলায় বসবাস করেন। দু’দিন আগে স্বামী’র সাথে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। এই সুযোগে ঘরের তালা কেটে আলমারি ভাংচুর করে নগদ চল্লিশ হাজার টাকা ও সাত ভরি স্বর্ণলংকার ও জরুরী কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

তবে চুরির ঘটনা কখন ঘটছে তা এখন পযন্ত নির্ধারিত ভাবে বলা যায় না। তবে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে চুরির ঘটনার নির্ধারণ
করা যাবে বলে তিনি জানান ।

জালাল আহমেদের মেয়ে কামরুন নাহার জানায়,আমি দু’দিন আগে স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়ি বাকেরগঞ্জ বেড়াতে যাই, আজ আমার বাবা ফোন দিয়ে জানায় আমাদের বাসার দরজার করা কেটে আমার রুমের চুরির ঘটনা ঘটছে। আমি এসে দেখি বাসার আসবাবপত্র এলোমেলো, আলমিরা ও ওয়ার্ড্রব খুলে স্বর্ণলংকার, নগর চল্লিশ হাজার ও ছেলে মেয়ে টাকা নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.এটিএম আরিচুল হক বলে, বিষয়টি শুনে ঘটনা স্থানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ট্রাকের ধাক্কা, ব্যবসায়ী নিহত

বরিশাল অফিস : বরিশালের কাশিপুরে বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক উল্টে রবিন রঞ্জন দে (৬৫) নামের এক গাছ ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ট্রাকচালকের সহকারী মো. হৃদয় (২৯)।

তবে দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালকের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কাশিপুর চৌমাথা এলাকায়।

নিহত রবিনের বাড়ি উপজেলার চৌদ্দ পুড়িয়া এলাকায়। আহত হৃদয়কে উদ্ধার করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডের আন্দলিয়া গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস দক্ষিণের স্টেশন অফিসার মো. বাহাউদ্দিন জানান, বেপরোয়া গতির একটি ট্রাক কাশিপুর চৌমাথা এলাকায় রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর আছড়ে পড়ে।
পরে সেটি ভেঙে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। খবর পেয়ে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে ট্রাক কেটে বের করা হয়। তার দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। তার অবস্থাও মুমূর্ষু।

বরিশাল মেট্রোপলিন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুল আলম জানান, সিলেট থেকে কাঠের গুঁড়ি নিয়ে পটুয়াখালীতে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। বেপরোয়া গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির ওপর আঘাত করে আছড়ে পড়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। এতে চালকের সহকারী ও গাছ ব্যবসায়ী আহত হয়।

তিনি আরও জানান, বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গাছ ব্যবসায়ীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়েছেন। তাকে না পেলে বিস্তারিত বলতে পারছি না।




দশমিনায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫০০০ হাজার ৭৫ জন দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকল ১০ টায় দশমিনা সদর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মোঃ ইকবাল মাহমুদ লিটনের উপস্থিতি  চাউল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো.আল মামুন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান, মোঃ দেলোয়ার হোসেন সহ  প্রমুখ।

এ সময় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মান সম্পন্ন ১০ কেজি চাউল পেয়ে আমাদের সংসারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে।




বাউফল কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৪২৫ জন কৃষককে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাচন অফিস মাঠে এ উপকরণ বিতরণ করা হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এইচএম সামীম, উপজেলা কৃষি অফিসার অনিরুদ্ধ দাস, উপজেলা উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. রেদাওয়ান তালুকদার, উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম এবং মো. মিলন হোসেন প্রমুখ।’

আরো পড়ুন : একসঙ্গে ৩ ছেলে সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ



একসঙ্গে ৩ ছেলে সন্তানের জন্ম দিলেন গৃহবধূ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে একসঙ্গে ৩ টি ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক গৃহবধূ।

বুধবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে গলাচিপা উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই তিন নবজাতকের জন্ম হয়।

তিন শিশু জন্ম দেওয়া প্রসূতির নাম আছিয়া বেগম (১৯)। তিনি  রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙ্গা গ্রামের রাজিব হাওলাদারের স্ত্রী।

দুটি শিশু সুস্থ থাকলেও একটি শিশুর শ্বাসকষ্ট রয়েছে। মা সুস্থ আছেন।

বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার রাজিব হাওলাদারের স্ত্রী আছিয়া বেগকে ক্লিনিকে ভর্তি হয়। পরে আছিয়ার সিজার ছাড়া সন্তান প্রসবের জন্য চিকিৎসকরা অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় রাত ৩টার দিকে আছিয়া বেগম পর পর তিনটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুর মা আছিয়া বেগমের সুস্থ হতে সময় লাগবে। চার জনকেই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন : বাউফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

ওই শিশুদের বাবা রাজিব হাওলাদার বলেন, ‘আমি দরিদ্র জেলে। আমার একার আয় দিয়ে সংসার চলে। স্ত্রী বুধবার দুপুরে অসুস্থ হলে গলাচিপা নিয়া আসি। এখানে আসার পর জানতে পারি তার গর্ভে একাধিক সন্তান রয়েছে। রাত ৩টায় পরপর তিনটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়। এখন মা ও বাচ্চাদের চিকিৎসা খরচ চালানো আমার পক্ষে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ডাক্তাররা একটি বাচ্চার শ্বাসকষ্ট হলে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলছে। কী করব বুঝতে পারছি না।’