মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এমন একটি রাত নির্ধারণ করেছেন, যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাত এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে, তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। যে বেশির পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

এ রাতকে পাওয়ার জন্য মন ও দেহের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। রমজানের শেষ দশক লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা নাজিল করেছেন।

একবার নবিজি (সা.) সাহাবিদের সম্মুখে বনি ইসরাইলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল ধরে ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি।

নবিজি (সা.) এর পবিত্র জবান থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে নবিজি (সা.) এর কাছে এমন সময় এ সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন। (তাফসিরে মাজহারি)।

এ রাতের বিরাট মাহাত্ম্য ও অপরিসীম মর্যাদার কারণে রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটি নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা আল কাদর : ১-৫)

‘নিশ্চয় আমি তা (কুরআন) এক মোবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা আদ দুখান : ১-৪) এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির মেয়াদ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়।

নবিজি (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতের কথা বলেছেন। মুমিন বান্দারা এ রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে তারা ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন।

নবিজি (সা.) বলেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও, তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো।’ যদি কেউ ইমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে, তবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি)।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরুদসহ নফল আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি একবার নবিজিকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি, তবে আমি কী করব? তখন রাসুল (সা.) আমাকে এ দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ (তিরমিজি)

যে লোক শবেকদর থেকে বঞ্চিত হয়, সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হলো। যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল, কিন্তু ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাতে পারল না, তার মতো হতভাগা দুনিয়ায় আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেজন্য রাসুল (সা.) শেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম)।

লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন, ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত। কারণ নবিজি (সা.) কখনো বলেননি, ২৭ রমজানের রাতই কদরের রাত। তবে ২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতই শবেকদর হতে পারে।

লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবিজি (সা.) বলেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খোঁজ করো। (বুখারি)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদরকে রমজানের ৯ রাত বাকি থাকতে অথবা সাত রাত বাকি থাকতে অথবা পাঁচ রাত বাকি থাকতে অথবা তিন রাত বাকি থাকতে অথবা রমজানের শেষ রাতে (অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতে) তালাশ করবে। (তিরমিজি)।

২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতেই শবেকদর হতে পারে। শবেকদরের সম্ভাব্য রাতগুলোর মধ্যে আর মাত্র দুটি রাত আমাদের হাতে রয়েছে। আজ রমজানের ২৭তম রাতে হাজার বছরের চেয়ে দামি সৌভাগ্যের সময়টুকু অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে, যাতে আমরা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কেয়াম করেই ক্ষান্ত না হয়ে যাই এবং সেই রাতের ফজিলতের ওপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ না করি।

তাই আমাদের উচিত হবে- শেষ দশকের কোনো বেজোড় রাতকেই কম গুরুত্ব না দেওয়া এবং সব বেজোড় রাতেই ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা। আল্লাহর কাছে বেশি পরিমাণে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রাতের বরকত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দেশ ও মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শবেকদর রজনিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।




ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় জেলা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পটুয়াখালী বরিশাল বিভাগের একটি সম্ভাবনাময় জেলা। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এ জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ দৃশ্য যা বিশ্বে বিরল। তাই পর্যটকদের কাছে পটুয়াখালী “সাগরকন্যা” নামে পরিচিত। উপজেলা সংখ্যানুসারে পটুয়াখালী বাংলাদেশের একটি“এ”শ্রেণীভুক্ত জেলা। মেঘনা নদীর অববাহিকায় পললভূমি এবং কিছু চরাঞ্চল নিয়ে এই জেলা গঠিত। পটুয়াখালী জেলা শহর একটি পূর্নাঙ্গ প্রশাসনিক অঞ্চল। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ আছে প্রচুর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী মহুকুমাকে একটি জেলায় উন্নীত করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তৃতীয় বৃহৎ সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর, সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা সেনানিবাস সহ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।

তাই এই ঈদের লম্বা ছুটি কিংবা ঝটিকা সফরের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে পটুয়াখালী।

দর্শনীয় স্থান :

১/ কুয়াকাটা

স্থান :- পটুয়াখালী

কিভাবে যাওয়া যায় :- ঢাকা থেকে সরাসরি একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। এছাড়া যে কোন স্থান থেকে রেন্ট-এ-কার যোগেও আসতে পারেন। লঞ্চের উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে বা পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকেন।

বিস্তারিত :- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ওসূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটারদৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকলঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। তাইতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন  ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে। প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে আত্মস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিজড়িত দৃশ্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তেরদৃশ্য অবলোকন করা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানোঐতিহ্য শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত অপতার “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তিসহ শ্বেত পাথরের নির্মিত ছোট-বড় অসংখ্য মূর্তি রয়েছে। আরাকান রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এর নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর এ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওই সময় ৩একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে।

২/ কুয়াকাটার কুয়া

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে ভ্যানে বা পায়ে হেটে ।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে রয়েছে প্রাচীন কুপ গুলোর মধ্যে একটি কুপ। তবে বারবার সংস্কারের কারণে এর প্রাচীন রূপটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়।

৩/ কেরানীপাড়া রাখাইনপল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানীপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। শীত মৌসুমে পোশাক তৈরির ধুম পড়ে কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীগুলোতে। দিন-রাত পরিবারের সবাই মিলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক। আর এই পোশাক কিনতে ভিড় করে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

৪/ ক্র্যাব আইল্যান্ড

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেলে আছে ক্র্যাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জন পরিবেশে দূর থেকে লাল কাঁকড়ার দলের আনাগোনা দেখলে সৈকতে লাল গালিচা পাতা আছে ভেবে ভুল হয়। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে।

৫/ গঙ্গা-মতির জঙ্গল

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গা-মতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। উল্লেখ্য যে, কুয়াকাটা যে অংশ থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালো দেখা যায়, তাহলো এই গঙ্গামতির বাঁক। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে রয়েছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি।

৬/ চর বিজয়

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলার কুয়াকাটাতে ।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর গঙ্গামতী থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জেগে উঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপ চর বিজয়। দ্বীপটির আয়তন আনুমানিক ৫ হাজার একর। লাল কাঁকড়া আর হাজারো অতিথি পাখির বিচরণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে এই দ্বীপ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরের নামকরন করা হয় চর বিজয়; যা স্থানীয়দের কাছে হাইরের চর নামেও পরিচিত।

বছরের ৬ মাস জেগে থাকে এই চর। মূলত এ চরে জেলেদের অস্থায়ী বসবাস। চর বিজয়ের চারপাশে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তারা তিন মাসের জন্য চরে অস্থায়ী আবাস তৈরী করে মাছের শুঁটকি প্রস্তুত ও বিক্রি করেন। কুয়াকাটা থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় এই অনিন্দ সুন্দর বিজয় দ্বীপে পৌঁছানো যায়।

৭/ মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে রয়েছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে, এ মন্দিরের ভেতরে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে রয়েছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি।

৮/ পানি জাদুঘর

স্থান :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে

কিভাবে যাওয়া যায় :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পাখিমারা নামক  জায়গায়

বিস্তারিত :- নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনাতা বৃদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি দ্বিতল ভবনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। একশন এইড নামের এনজিও কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে বাংলাদেশের নদী-কেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতি, বাংলাদেশের সকল হারিয়ে যাওয়া ও বর্তমান নদ-নদীর পরিচিতি, ছবি, নদীর ইতিহাস এবং নদীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পানি জাদুঘরে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, আন্ধারমানিক, মেঘনাসহ ৯০ টির অধিক নদীর পানির নমুনা সংরক্ষিত আছে।

৯/ ফাতরার বন

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে।

বিস্তারিত :- আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন যা বইয়ের ভাষায় টেংরাগিরি বনাঞ্চল নামেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের অংশ হলেও এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। দিনে দুইবার এটি জোয়ার- ভাটায়  প্লাবিত হয়। জোয়ার- ভাটার উপস্থিতির কারণে, বনে সুন্দরি, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা সহ দেখা মিলবে আরো বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলবে অজগর, গোখরা গুই সাপের মতো সরীসৃপের। এছাড়া ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাকে বিমোহিত হওয়ার সুযোগতো রয়েছেই। বন মোরগ, বানর আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরেরও দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিন নৌকাযোগে।

১০/ শুঁটকি পল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৭ কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। অবলোকন করে জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য।

কোথায় থাকবেন?

থাকার হোটেল, খাবার হোটেল আর দর্শনীয় স্থানগুলো প্রায় একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে অবস্থিত। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১০ হাজার টাকা মানের অনেক থাকার হোটেল আছে কুয়াকাটা সাগর সৈকতের একদম কাছে। আর খাবার হোটেলগুলোর প্রায় সবগুলোই সৈকত থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের হাঁটা পথ।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার



কলাপাড়ায় দুই শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষ পেলো ঈদ খাদ্য সামগ্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুই শতাধিক গরীব,অসহায় ও দুস্থ মানুষ পেলো ঈদ খাদ্য সামগ্রী।

প্রত্যেকে ২ কেজি সেমাই, ১ কেজি চিনি, ২৫০ গ্রাম গুড়া দুধ ও মশলা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার বেলা ১১ টায় উপজেলা মহিপুর থানা যুবগীগের নেতা কর্মীর এর আয়োজন করে। ঈদ উপলক্ষে এসব খাদ্য সামগ্রী হাতে পেয়ে অনেকটা উচ্ছসিত ছিলো হতদরিদ্র মানুষগুলো।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে আগুনে ভস্মীভূত ২৩ মাছের আড়ত

এসময় মহিপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, সদর ইউনিয়ন যুবলীগ আহবায়ক মো.ফেরদৌস হাওলাদার, যুবলীগ যুগ্ন আহবায়ক ইব্রাহিম হাওলাদার, মো.মনির হাওলাদার, সদর ইউনিয়ন সেচ্ছা সেবকলীগ সভাপতি মো.ছিদ্দিক মোল্লা সহ স্থানীয় যুবলীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

মহিপুর থানা যুবলীগের আহবায়ক এ এম মিজানুর রহমান বুলেট বলেন, এভাবে প্রতি বছর গরীব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী দিয়ে আসছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে । তবে তিনি সমাজের সকল বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।




পটুয়াখালীতে আগুনে ভস্মীভূত ২৩ মাছের আড়ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় মৎস্য বন্দর মহিপুরে আগুন লেগে অন্তত ২৩টি মাছের আড়ত পুড়ে গেছে।

শুক্রবার (৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে জাপান মৎস্য আড়ত থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সড়ক সরু হওয়ার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হলেও পাশেই নদী থাকায় খুব কম সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি জানার কাজ চলছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। ক্ষয়ক্ষয়ি জানতে উপজেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ক্ষতিক্ষগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে টিন এবং নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




পটুয়াখালী জেলায় ২ হাজার কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এসব তরমুজের বাজার মূল্য দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করছেন জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

উৎপাদিত এসব তরমুজ উচ্চমূল্যে বিক্রি করতে পেরে খুশি কৃষক। গত বছরের বৃষ্টিতে তরমুজ চাষের ক্ষতি পুষিয়ে এবার লাভবান চাষিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ তরমুজ ক্ষেত। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তরমুজ। ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে জড়ো করে রেখেছেন বিক্রির জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা তরমুজ কিনতে ক্ষেতে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন। এই তরমুজ ট্রাক-ট্রলি ও ট্রলারে বোঝাই করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকরা। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে তুলে বাজারজাতে ব্যস্ততা দেখা গেছে চাষিদের মাঝেও।
এসব দৃশ্য দেখা গেছে পটুয়াখালীর গলাচিপা, দশমিনা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তরমুজ ক্ষেতে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ষড়যন্ত্রে দিশেহারা আ.লীগ সভাপতি, মামলা দিয়ে হয়রানি

চাষিরা জানান, জেলার গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীতে প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। তবে বরি মৌসুমে অল্প সময়ে তরমুজ আবাদ ও লাভজনক হওয়ায় পটুয়াখালীর চাষিদের মধ্যে আগ্রহ অনেক বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে গলাচিপা উপজেলায়। এ উপজেলায় ৮ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে রসালো ফলটির চাষ হয়েছে। এ ছাড়াও রাঙ্গাবালীতে ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বাউফলে ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর, কলাপাড়ায় ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর, দশমিনায় ১ হাজার ৭২০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, দুমকি উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত এসব তরমুজ বাজারে বিক্রি দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।




প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন বরিশালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

বরিশাল অফিস :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বরিশালের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মাঝে শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে খাদ্য সামগ্রী উপহার তুলে দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বটিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনদীপ ঘরাই, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদারসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনারবৃন্দরা।

এ সময় তারা সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০ টি পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সামগ্রী উপহার তুলে দেন। পাশাপাশি বাসিন্দাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকার উপকারভোগী বরিশাল সাপানিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা নাজমা বেগম বার্তা২৪.কমকে জানান,স্বামী হারুন হাং গাছ কাটার শ্রমিক। তাদের গ্রামের বাড়ি মুলাদী উপজেলায়। নদী ভাঙনে তারা ভিটেমাটি হারায়। কর্মের তাগিদে বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী বাজারে ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। তাদের তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গাছ কাটার কাজ করে হারুন যে কয় টাকা উপার্জন করত তা দিয়ে ঘর ভাড়া এবং সংসার চালিয়ে তিনটি সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। একসময় মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের জমিসহ ঘর উপহার পেয়ে এখন তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। এখন তাদের আর ঘর ভাড়া দিতে হয় না। ঘর ভাড়ার টাকা দিয়ে এখন সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারছেন। নিজের আঙ্গিনায় নিজের জমিতে বিভিন্ন শাক সবজির চাষ করছেন। পান্তু এখন স্বাবলম্বী নারী আশ্রয়ণে ঘর পেয়ে এখন তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে।

এ সময় বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অসহায় হতদরিদ্রদের জন্য জেলা প্রশাসনের ঈদ উপহার দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম জেলার সকল উপজেলায় অব্যাহত থাকবে।

 




কলাপাড়ায় ষড়যন্ত্রে দিশেহারা আ.লীগ সভাপতি, মামলা দিয়ে হয়রানি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে জামায়াত নেতা ও ধর্ষণ মামলার আসামি আবু হানিফের মিথ্যা মামলা ও ষড়যন্ত্রে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন ও এলাকার দরিদ্র মানুষেরা। তার অবৈধ একাধিক ব্যবসা নির্বিঘ্নে করতে ও পাওনা টাকা না দেয়ার ফন্দি হিসেবে তাদের গ্রামছাড়া করতে এ মামলা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আজ (শুক্রবার) সকাল ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা আবু হানিফ, ইউনুস সিকদার ও ইউনুস হাওলাদার দীর্ঘদিন একসাথে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করতেন। তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এবিষয়ে মাননীয় ত্রাণ ব্যবস্থাপনা ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট একটি অভিযোগ আসে। তিনি স্থানীয় মহিপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিষয়টি সমাধানের জন্য আবু হানিফসহ সকলকে ডাকলে আবু হানিফ কিছুদিনের সময় চেয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ করে মামলা করে।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

মহিপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি মালেক আকন বলেন, কারিতাস ভবনের পাশে যে বিল্ডিং নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথা সে বলেছে তার মালিক আবু হানিফ নয়। ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। এ  ভবনের মালিক ইব্রাহীমের কোন অভিযোগ নেই। রাইচ মিল ও তেলের মিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এটা সম্পূর্ন মিথ্যা। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক ইউনুস সিকদারের কোন অভিযোগ নেই। অথচ এসব মিথ্যা মনগড়া তথ্য দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে চাদাবাজি মামলা দায়ের করেছে।

আরো পড়ুন : ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে ১ বছর পর লঞ্চ চলাচল শুরু

তিনি আরো বলেন, আবু হানিফ ছাত্র জীবনে ইসলামি ছাত্র শিবিরের সদস্য থেকে পরবর্তীতে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত। সরকার বিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত থেকে একের পর এক মিথ্যা ভিত্তিহীন নাটকীয় কাহিনীর অবতারনা করে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করে আসছে। ইতিপূর্বে তিনি একটি ধর্ষন মামলায় এক মাস জেলহাজত বাস করেন। তার রয়েছে একাধিক অবৈধ ব্যবসা। মহিপুর বাজারে তার আবাসিক হোটেল থেকেই এসব ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। এর প্রতিবাদ ও জামায়াত নেতা আবু হানিফের শাস্তি দাবি করেন মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতারা।




ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে ১ বছর পর লঞ্চ চলাচল শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-গলাচিপা নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে। ঈদ সার্ভিস ছাড়া সবসময়ই এই রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি স্থানীয়দের।

শুক্রবার ঢাকা থেকে বাগেরহাট-২ লঞ্চ ছেড়ে আসার মধ্যে দিয়ে এই সার্ভিস শুরু হয়। এই সার্ভিসে যুক্ত হবে সাত্তার খান-১ লঞ্চ।

লঞ্চ মালিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর লোহালিয়া ব্রিজের কাজ চলার কারণে এই রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া পদ্মা সেতুর চালুর কারণে যাত্রীরা সড়ক পথে বেশি যাতায়াত করছে। যাত্রী সঙ্কটে এক বছর আগে থেকে ঢাকা-গলাচিপা রুটে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

নৌ-পরিবহন যৌথ মালিকানা প্রতিনিধি মো: মজিবুর রহমান জানান, লঞ্চ বন্ধ থাকায় মালিক ও কর্মচারী আর্থিকভাবে সমস্যায় রয়েছে। লঞ্চঘাট কেন্দ্রিক ৫০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।

পটুয়াখালীর নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো: মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে দো-তলা লঞ্চের সার্ভিসের কথা শুনেছি। লঞ্চের এ রুটটি বন্ধ হওয়ার কারণ গলাচিপা – ঢাকা গ্রীন লাইনের বাস সার্ভিস চালু ।’




সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো পুণ্যভূমি আছে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। সারা বছরই এই দরবার মুখর থাকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পদচারণে। তাদের কেউ আসেন দান কিংবা মানতের মাধ্যমে নেক মনোবাসনা পূরণের জন্য আবার কেউ আসেন স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য। পীর-মুরিদহীন ব্যতিক্রমী এই দরবারে শুধু বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিলেই লাখো মানুষের সমাগম হয়।

মির্জাগঞ্জ দরবারে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো দরবার বা পুণ্যভূমি আছে, তার প্রতিটিতেই একজন করে পীর থাকেন। থাকেন অসংখ্য মুরিদ বা অনুসারীও। বংশপরম্পরায় পরিবারের বড় ছেলেই পীর নির্বাচিত হন এসব দরবারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফ। এই মাজারে কোনো পীর নেই, কোনো মুরিদও নেই। এ ছাড়া ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনেই চলে এ মাজারের সব কার্যক্রম। তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এ মাজারের সুনাম রয়েছে।

আরো পড়ুন : গুঠিয়া মসজিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ইয়ার উদ্দীন খান। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম সরাই খান। যুবক বয়সেই তার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে মৃত্যুবরণ করেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এসে প্রথমে মুদি ও মনোহরি পণ্য বিক্রি শুরু করেন ইয়ার উদ্দিন। এতে তাকে সাহায্য করতেন গগন মল্লিক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপর পেশা পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়রা তাকে খলিফা উপাধি দেন। জীবিকা নির্বাহের কাজের পেছনে তিনি স্বল্প সময় ব্যয় করতেন। দিন ও রাতের সিংহভাগ সময় তিনি নামাজ ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের মগ্ন থাকতেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সব মানুষকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। তাই তার দোকানের কোনো পণ্য তিনি পরিমাপ করে ক্রেতাদের দিতেন না। ক্রেতারাই পরিমাপ করে পণ্য নিয়ে দাম দিয়ে যেতেন। তবে ইয়ার উদ্দীন খলিফা কবে জন্মগ্রহণ করেন ও কবে মির্জাগঞ্জে আসেন এবং কবে মৃত্যুবরণ তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি কেউই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ১৯২০ সালের দিকে ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মির্জাগঞ্জ আসেন এবং ১৯৩০ অথবা ১৯৩৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে প্রতিবছর ২৪ ও ২৫ ফাল্গুন দুদিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি দর্শন ও মাজার জিয়ারত করতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষের আগমন ঘটে।

খুলনার পাইকগাছা থেকে চার বন্ধুর সঙ্গে মো. ওমর ফারুক (২৫) এসেছেন মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে। তিনি বলেন, এর আগেও আমি একাধিক দরবারে এসেছি। সেসব স্থানে মাহফিলে আসা মুসল্লিদের পীর তাদের মুরিদ বানান। তাদের নিজস্ব কিছু রীতি-রেওয়াজ পালনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখানে এ রকম কিছু নেই। এখানে শুধু কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনাই করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক দরবারে দেখেছি, বার্ষিক এসব অনুষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও নারী-পুরুষ মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু এখানের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাইলেই এখানে নারীরা পুরুষদের স্থানে যেতে পারেন না আর পুরুষরাও নারীদের স্থানে যেতে পারেন না। এসব কারণেই দরবারটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। তাই পরবর্তীতেও আমি এখানে আসতে চাই।

বরিশালের উজিরপুর থেকে মানতের একটি গরু নিয়ে এ দরবারে এসেছেন পৌঢ় হামিদ গাজী। তিনি বলেন, নেক মনোবাসনা পূরণে এ দরবারে দানের জন্য যদি কেউ মানত করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতে তার মনোবাসনা পূরণ হয়। পারিবারিক একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এ দরবারে আমি গরু মানত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাই মাহফিলের শেষ দিন আমি মানতের গরু নিয়ে এখানে এসেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পৌঢ় আহমদ আলী বলেন, বর্তমানে সিংহভাগ দরবার ধর্মীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই ধরবারে ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখন পর্যন্ত সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে এই দরবার। তাই কোনো পীর-মুরিদ না থাকার পরও লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।

সাড়ে আট একর জমি নিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত হজরত ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ, একটি আলিম মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি নুরানি মাদরাসা, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী থেকে অপহৃত কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে উদ্ধার

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ মল্লিক বলেন, আমাদের সমাজে মাজার মানেই গানবাজনাকে বোঝায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মাজার ও দরবার। আমাদের প্রিয় ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না, এমন কোনো কাজ এ মাজার ও দরবারে করা হয় না

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনে চলা হয় বলেই এখানের বার্ষিক মাহফিলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শত শত মানুষ আসেন মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি দান ও মানত করতে।




বরিশালে ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ৪ বছরের সাজা

বরিশাল অফিস :: বাদির ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা জজ মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর হেউলিবুনিয়া গ্রামের সোহরাব হোসেন গাজীর স্ত্রী লাইলী বেগম। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেন বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান।

জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লাইলী বেগম বাদি হয়ে ওই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন, তার স্বামী রাজমিস্ত্রি কাজ করতে যায়। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৮ টায় লাইলী বেগম ঘরের বাইরে নামে। এই ফাঁকে বাড়ি খালি থাকার সুযোগে আবদুল মোতালেব মিয়ার ছেলে জলফু মিয়া লাইলী বেগমের বসত ঘরে ঢুকে। লাইলী বেগম ঘরে গেলে জলফু মিয়া লাইলী বেগমকে জোর করে ধর্ষণ করে।

প্রায় সাত বছর মামলা চলার পর বাদির মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হলে আসামি জলফু মিয়া বাদি হয়ে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে ওই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। সাক্ষ্য প্রমাণে লাইলী বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন বিচারক।

রাস্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই রায়ের বার্তা সবার কাছে পৌঁছলে মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা কমে আসবে। বাদী একদিকে যেভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করেছে, তেমনি আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে।