পটুয়াখালীতে পৌর এলাকার ইমাম, মুয়াজ্জিনদের মাঝে ঈদ সম্মানী বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী পৌরসভার অর্থায়নে পৌর এলাকার সকল মসজিদের খতিব ও ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে শহরের ১১৫টি মসজিদের ১২৫ জন খতিব ও ইমাম এবং ১০৯ জন মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের হাতে এ সম্মানির অর্থ তুলে দেন পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ।

আরো পড়ুন : গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতা চলছেই, নিহত বেড়ে ৩৩১৩৭

এবছর প্রতিটি মসজিদের খতিব ও ইমামদের ছয় হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের তিন হাজার পাঁচশত টাকা করে প্রায় ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। যা গতবারের তুলনায় খতিব ও ইমামদের এক হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাঁচশত টাকা করে বর্ধিত করা হয়েছে।

মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদের ২০১৯ সালে প্রথম বার পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নিজ অর্থায়নে পৌর এলাকার খতিব ও ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানির ব্যবস্থা করেন এবং তা এবছর থেকে পৌর সভার বাজেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান উক্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও কার্যক্রম সমন্বায়ক খন্দকার ফরহাদ জামান বাদল।

আরো পড়ুন : নানা বর্জ্য স্তূপে ভরে আছে আন্দারমানিকের পাড়

অনুষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বায়ক খন্দকার ফরহাদ জামান বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের অন্যান্যের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, যুবলীগ নেতা রেজাউল করিম সোয়েব, পৌরসভার সচিব মাসুম বিল্লাহ, পটুয়াখালী জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাদের, কাউন্সিলর সহ পৌর পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।




নানা বর্জ্য স্তূপে ভরে আছে আন্দারমানিকের পাড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রধান নদের নাম আন্ধারমানিক নদ। এটি এখন মৃত্যু প্রায়। আন্ধারমানিক নামটি শুনে অনেকেই হয়তো বলবেন অন্ধকারে আবার মানিক হয় কী করে! অবাক হওয়ার মতো হলেও এ এলাকায় মানুষের জীবন যাত্রায় নদটি এক কালে ‘মানিক’ ছড়িয়েছে। নিজের বুকের পলি মাটি ও পানি দিয়ে ফলিয়েছে সোনালি ফসল। বুকে আগলে রাখছে সাদা সোনা খ্যাত রুপালি ইলিশ।

কিন্তু পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ আন্দারমানিক এখন দখল ও বর্জ্যরে চাপে বিপর্যস্ত। কলাপাড়ায় এর পাড় জুড়ে ফেলে দেয়া ছেঁড়া কার্টন কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিন বর্জ্যরে স্তূপ। ঝড়ঝঞ্ঝা আর বাতাসে সেগুলো গিয়ে মিশছে নদের বুকে। বিনষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও ভরাট হচ্ছে তার বুক। বহমান নদের এমন পরিণতির জন্য তীরবর্তী ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন অনেকে। আবার সঙ্কট কাটাতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় অভিযোগ উঠছে পরিবেশ অধিদফতরের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) তথ্য মতে, আন্ধারমানিক নদের পানি প্রবাহের দৈর্ঘ্য ৩৯ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৩৩০ মিটার। এই নদীর গভীরতা ১৫ মিটার। এখন অবশ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ ফুট করে কমে যাচ্ছে নদের প্রস্থ। নদটির দুই পাড়ে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

সরেজমিন দেখা গেছে, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, কলাপট্টি, লঞ্চ ঘাট, হ্যালিপোর্ট, ব্রিজের প্রবেশ মুখ এলাকায় নদের তীরের অবস্থা একেবারেই বেহাল। হোটেল-রেস্তেরাঁর পচা ও উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা ধরনের বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে নদের পাড়ে। নদের তীরে ফেলা এসব বর্জ্য গড়িয়ে গড়িয়ে পানিতে পড়ছে। এসব ক্ষতিকর বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিশেষ করে নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিতষ্ঠান গুলোর কারণেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নদটি।

কাঁচা বাজারে নদীর পাড়েই হোটেল দোকান। এর চারপাশে স্তূপ হয়ে আছে নানা রকমের বর্জ্য। ভাগাড়ের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজের কার্টন, ডাবের খোসাসহ নানা ধরনের ফেলনা সামগ্রী। শুধু কাঁচা বাজারই না, নদের পাড় ঘেঁষে থাকা অধিকাংশ মুদি ও স্টেশনারি দোকান, ওয়ার্কশপ, মিল-কারখানাগুলোর ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে পাড়ে। বহুতল ভবনসহ টিনশেড স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। সবচেয়ে বেশি স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের উত্তর পাড়ে। নদের পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা অন্তত ১০টি ইটভাটার ময়লাও ফেলা হচ্ছে আন্দারমানিকের বুকে।

পৌরশহর এলাকার নাচনাপাড়া ফেরিঘাট থেকে ফিশারি পর্যন্ত আন্ধারমানিকের তীরসহ নদের পাড় দখল করে তোলা হয়েছে এসব স্থাপনা। আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি সুইস সংযুক্ত খাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পলি পড়ে এবং নতুন চর জেগে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদের প্রায় ২৫ কিলোমিটারই স্থায়ীভাবে শুকিয়ে গেছে।
আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় শহরের মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত চিংগড়িয়া খালটির অস্তিত্বও আজ বিপন্ন প্রায়। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় পৌর এলাকায়। এ ছাড়া কচুপাত্রা নদীর প্রবেশ মুখে দেয়া হয়েছে বাঁধ। আর পাঙ্গাশিয়ার সংযোগ স্থলটিও ভরাট প্রায়।

আরো পড়ুন : আগুন থেকে নিজের জানমাল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশকর্মী মেজবা উদ্দিন মান্নু বলেন, আমাদের এই নদ এক সময় সৌন্দর্যে ও রূপেগুণে পূর্ণ ছিল। সেই সৌন্দর্যে এখন জং ধরেছে। বিষয় গুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। সবাই সচেতন না হলে নদ ও নদের পাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

কলাপাড়ায় প্রবীণ সাংবাদিক শামসু আলম আক্ষেপ করে বলেন, ভয়াবহ নাব্যতা সঙ্কটে আন্ধারমানিক নদের অববাহিকায় নেমে এসেছে পরিবেশ বিপর্যয়। কৃষি আবাদেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই দুই পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবি অতি দ্রুত নদটিকে ড্রেজিং করে এর পানি প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। আন্ধারমানিক আমাদের ঐতিহ্য। স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। এটি রক্ষা করতেই হবে। নদটি রক্ষার পাশাপাশি নদের চর পড়ে ভরাট অংশ যাতে কেউ দখল করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও যৌক্তিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে আমি পৌরসভার সাথে আলাপ করে একটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করব।




ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পদ্মাসেতুর দ্বার খুলে দেওয়ার পর থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটক বেড়েছে কয়েকগুণ। টানা ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় এসে ভিড় জমান পর্যটকরা।
কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের হয়রানি রোধে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন পৃথক সভা করেছে। পর্যটকের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।

পর্যটকদের বরণে সাজসজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে। তবে ঈদে পর্যটকের বেশ সাড়া পাচ্ছেন প্রথম সারির হোটেল গুলো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে এখনও কোনো বুকিংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করলেও ঈদের টানা ছুটিতে রমযানের লোকসান কেটে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যার ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্রকে ঘিরে পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। দেশ তথা বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক দৃশ্যের এক তীর্থস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। যেখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতে আগত পর্যটকদের আধুনিক সেবাদান এবং চিত্ত বিনোদনে চলছে সৈকত এলাকায় উন্নয়ন অবকাঠামো। পৌর এলাকায় পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে প্রশস্তকরণসহ বাকি থাকা কিছু কাচা রাস্তা পাকা করার কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আগত পর্যটকের পৌর শহরের মূল কেন্দ্রে ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পর্যটক যাতায়াতের প্রধান সড়কে ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট সংলগ্ন একটি পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে যা ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ধারণাতীত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। সৈকতের মূল কেন্দ্র থেকে পূর্বে জাতীয় উদ্যান ফটক পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন লেক ও পার্কসহ বিনোদনের নানা মাত্রা যোগ করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোস্টাল টাউন প্রকল্পের আওতায় ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প ব্যয়ে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা। এই প্রকল্পের আওতায় যে সকল পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা পাল্টে যাবে, হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র সৈকত। এমনটাই জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এদিকে পর্যটকের সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। কুয়াকাটায় চলমান বছরে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিশেষ দিনগুলোতে আগত পর্যটকের আর আবাসন সংকট দেখা দিবেনা। এছাড়াও নিরলস কাজ করছে আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

তারা বলছেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা।




আগুন থেকে নিজের জানমাল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেছেন, আমাদের অসচেতনতা ও দায়িত্ববোধের অভাবেই সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটছে। তাই আগুন থেকে নিজেদের জানমাল রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে পটুয়াখালীর বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুরে আগুনে পুড়ে যাওয়া ২৯টি মৎস্য আড়ত শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা বিতরণকালে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় ভবন ছাড়া কাউকে ভবন নির্মাণে অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া মহিপুরে একটি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেন প্রতিমন্ত্রী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

এ সময় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ডা. শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আ. মালেক আকন, মহিপুর মৎস্য আড়ত সমবায় সমিতির সভাপতি মো. দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম, মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হাওলাদার, থানা যুবলীগ আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বুলেট আকনসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তাওরিন আহমেদ (২০) উপজেলা ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড়চত্রা গ্রামের মাহাতাব হাওলাদারের ছেলে।

তার চাচা জালাল হাওলাদার জানান, তাওরিন ঢাকার উত্তরায় একটি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি পরিবারের কাছে মোটরসাইকেলে কেনার জন্য বায়না ধরেন। পরে শুক্রবার বাবা-মা চিকিৎসার জন্য বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে তিনি আত্মহত্যা করেন। আমরা ধারণা করছি, সে অভিমানেই এমন কাজ করেছে। শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে বাবা-মাসহ স্বজনরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

জালাল হাওলাদার আরও জানান, তাওরিন মাদকাসক্ত ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে তাদে মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও পাঠানো হয়েছিলো।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

এদিকে ঘটনার দিনগত রাত দুইটার দিকে তাওরিন তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ভালো থেকো আব্বু-আম্মু। তোমাদের অনেক কষ্ট দিছি, তার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ। তোমাদের আর কষ্ট দিতে চাইনা আমি তাই তোমাদের ছেড়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি, ভালো থেকো। তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমাদের কষ্ট দেওয়ার জন্য।’

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদাউস আলম খান জানান, মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।




দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে লোহালিয়া নদীতে ভাসমান যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, তার পরিচয় জানা যায়নি।

শনিবার দুপুরে দুমকি থানা পুলিশের একটি দল মুরাদিয়া ইউনিয়নের রাস্তার মাথা লঞ্চঘাটের কাছের লোহালিয়া নদী থেকে ২৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় তার পরনে ছিলো ফুলপ্যান্ট ও গেঞ্জি।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

মুরাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার জানান, শনিবার সকালের দিকে মরদেহটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হান্নান জানান, ওই যুবকের পরিচয় মেলেনি। পুলিশ ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে।




শেষ দিকে ক্ষতির মুখে বাউফলের তরমুজ চাষিরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: রমজানের প্রথমে বাজার দর ভালো পেতে আগে ভাগে অপরিপক্ব পাকা, আধা পাকা তরমুজ বাজারজাত করছে চাষিরা। রমজানে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় তরমুজের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তরমুজের দাম ক্রয় ক্ষমতার নাগালে না আসা পর্যন্ত তরমুজ বয়কটের ডাক দেন ভোক্তারা।  ব্যাপক সাড়াও মেলে তাতে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজার দর পড়ে যায়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ শতাধিক তরমুজ চাষি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের তুলনায় তরমুজের আবাদ বেড়েছে পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপের চরকচ্ছবিয়া, চরওয়াডেল, রায়সাহেবে, চরঈশান, মমিনপুর, বাসুদেবপাশা, চরশৌলাসহ বিভিন্ন চরে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

কালাইয়া শৌলা চরে প্রায় ১৮ একর জমি লিজ নিয়ে করা তরমুজ চাষি শৌলা গ্রামের বাদল গাজী (৩০) জানান, এবার ১৮ একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। ক্ষেত তৈরি, বীজ, সার-ওষুধ, বছর হিসেবে জমি কেনা, পরিবহনসহ আগের তুলনায় সবকিছুর দাম বেড়েছে হু-হু করে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষে আমার ২০ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১২-১৩ লাখ টাকার মতো। মাঠে যা আছে তাতে আরো ২-১ লাখ টাকা হাতে পেতে পারি। সবমিলিয়ে আমার ৫ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখনকার উৎপাদিত তরমুজ চলে যায় রাজশাহী, বগুড়া, ঝিনাইদহ, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ এলাকায়। ওখানের নিয়মানুযায়ী আমার ক্ষেতের ১০-১২ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৫০-৬০ টাকা দরে, মধ্যম মানের ৮-১০ কেজি ওজনের তরমুজ কেজি হিসেবে ৩০-৩৫ টাকা ও ছোট মানের তরমুজ ১৮-২৫ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি শুরু হইছিল। অন্যান্য এলাকার আড়তে দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা পিস হিসেবেও বিক্রি হয়।

চাষিদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফাখোরি মানসিকতা বদলাতে হবে। দাম চড়িয়ে ভোক্তাদেরও বঞ্চিত করা যাবে না। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছেন। কৃষিতে একমাত্র তরমুজ চাষেরই দায়ভার সরকার নেয় না। দুঃসময়ে চাষিদের পাশে থাকতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে ৩৮৯ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, চাষিরা বেশি লাভের আশায় পরিপক্ব তরমুজ বাজারজাত করেছে। এতে ভোক্তারা তরমুজের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে। ফলে তরমুজের চাহিদা কমে যায়। এ কারণে দামও কমে যাওয়ায় চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা সবসময়ই চাষিদের খোঁজখবর নিচ্ছে।




গলাচিপায় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপা ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১০ জন রোগীকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৪৫ জন নারী, ৩২ জন পুরুষ ও ৩৩ শিশুসহ মোট ১১০ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : এক টানেই জালে ১৩০ মণ ইলিশ

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. আল-আমিন জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের ফ্রি সালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ দিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে ৪০ জন ভর্তি রুগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডা. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব, গরম, অতিরিক্ত তরমুজ খাওয়া, রমজানে ইফতারিতে তৈলাক্ত খাবারের প্রভাবে ডায়রিয়া ছড়াচ্ছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও অন্যান্য ওষুধপত্র মজুদ আছে।




এক টানেই জালে ১৩০ মণ ইলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে সূর্য মাঝি (৫৫) নামে এক জেলের জালে এক টানে ধরা পড়েছে ১৩০ মণ ইলিশ।

শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে এসব মাছ বিক্রির জন্য আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কুয়াকাটা থেকে ৬০ কিলোমিটার গভীর সাগরে এসব মাছ ধরা পড়ে।

আরো পড়ুন : ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়

গত বুধবার সূর্য মাঝি ১৭ জেলেসহ বাঁশখালীর আল্লাহর দয়া-১ নামে একটি ট্রলার নিয়ে আলীপুর থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যান।

একবার জাল টান দেওয়ার পরই প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ে। এসময় সব মাছ ট্রলারে তুলতে না পেরে অর্ধেক জাল সাগরে ফেলেই চলে আসেন তারা।

এসব ইলিশের দাম ৪০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে জেলেরা। আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসব বিক্রি করা হবে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়ছে। আমরা আশা করছি বৃষ্টি শুরু হলে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়বে।




বাউফলে রিকশাচালক ছদ্মবেশে মাদক ব্যবসায়ী আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ১ কেজি গাঁজা সহ রমিজ আকন (৪৯) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাউফল থানা পুলিশ।

শুক্রবার দুপুর ২.০০ সময় বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন খেজুঁরবাড়ীয়া এলাকায় থানার একটি চৌকস পুলিশ টিম অভিযান চালিয়ে রমিজ আকনকে ১ কেজি গাঁজাসহ হাতে-নাতে আটক করে।

আরো পড়ুন : ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়

আটককৃত রমিজ আকন বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন বাশঁবাড়ীয়া গ্রামের মৃত মোসলেম আকনের ছেলে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, আটককৃত রমিজ আকনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়া চলছে।মামলার প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পেরণ করা হবে।