বাউফলে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে গতরবিবার (৭মার্চ) সকাল ১০ টা ৩৫ মিনিট স্থায়ী কাল বৈশাখী ঝড়ে ৬শতাধিক বসত ঘর আংশিক এবং শতাধিক বসত ঘর সম্পুর্ন বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভুক্তোভোগী পরিবার গুলো। অর্ধশত নারী- পুরুষ আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘটেছে একাধিক প্রাণহানীর ঘটনা।

এখনো নিখোঁজ রয়েছে উপজেলার চন্দ্রদীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল রাঢ়ী নামে ১জেলে।

আরো পড়ুন : ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

দু’দিন পরেই মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর। এর মধ্যে আকস্মিক ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদ উৎসব। আকস্মিক ঝড়ে রাতুল (১৬) নামে এক কিশোর, সুফিয়া বেগম (৮৫) নামে এক নারী এবং ইব্রাহিম ফরাজি (৫০) নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। নিহত রাতুল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রায় তাঁতের কাঠি গ্রামের জহির সিকদারের ছেলে। সুফিয়া বেগম উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামের মৃত আহম্মেদ প্যাদার স্ত্রী। নিহত ইব্রাহিম উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের খানকা বাজার এলাকার বাসিন্দা মো: মন্নান ফরাজীর সেজো (৩য়) ছেলে।

নিহতের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। এদিকে নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী গ্রামের বেল্লাল কবিরাজের স্ত্রী মোসাঃ কুলসুম বেগম (৩৫) গাছের চাপায় মারা গেছে।

বাউফল পৌর এলাকার ৭নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্তোরর্ধো বিধবা ফুলভানুর ১৪ জনের সংসার। সবাইকে নিয়ে এক ঘরে বসবাস করতেন তিনি। গত রবিবারের কাল বৈশাখী ঝড়ে গাছ পড়ে সম্পূর্ন ঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। এতে ছেলে, পুত্রবধু, নাতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফুলভানু বেগম। ফুলভানুর পুত্রবধু মানজিলা বেগম জানান, ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় রাতে খোলা জায়গায় থেকেছেন। ঘরে খাবার না থাকায় ছোট ছোট বাচ্ছা এবং বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
তিনি আরো জানান, সাহরী না খেয়ে তারা আজকে রোজা থেকেছেন। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের পূর্ব কালাইয়া এলাকার মো: আবদুল জলিলের ঘরটি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এখন ভিটিতে ২টি চৌকি ছাড়া খাবার,কাপড় কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। স্ত্রী এবং ৩বছরের শিশু পুত্র নিয়ে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন জলিল।    মো: আবদুল জলিল জানান, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা না খেয়ে আছি। ৩ বছরের ছেলেটার জন্য বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সরকারি সহযোগিতা না পেলে নতুন ঘড় তোলা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ড শান্তিবাগ এলাকার যুগিবাড়ীর সুধাংশ চন্দ্র দেবনাথের বসত ঘড় সম্পূর্ন ভেঙ্গে যায়। সুধাংশ তার পবিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। অর্থিক অনটনের কারনে ঘর মেরামর করতে পারছেনা সুধাংশ।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজি বলেন, আমরা প্রাথমিক ভাবে ৭শ’র মতো ঘরের তথ্য পেয়েছি এর মধ্যে ৬শতাধিক ঘড় আংশিক এবং শতাধিক ঘড় সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চলমান রয়েছে। ২হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন ঘড় নির্মানের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, ঢেউটিন ছাড়াও প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এক মাসের বেশি সময় মাছ ধরা বন্ধ। তাই সম্পূর্ণ কর্মহীন পটুয়াখালী তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারী জেলেরা। বেকার এসব জেলেদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। এ অবস্থায় এবারের ঈদ যেন জেলে পরিবারের কাছে এসেছে খুশির বদলে দুঃখ নিয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় জেলে দম্পতি মিলন সরদার ও লিপি বেগমের সঙ্গে। এসময় মিলন সরদার জানান, পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ এক মাস ধরে মাছ ধরা বন্ধ। এদিকে জেলে নিবন্ধন না থাকায় সরকারি কোন সহায়তাও পাননা তারা। এ কারণে দুই শিশু সন্তান নিয়ে তাদের দিন কাটছে খুবই কষ্টে।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

তাদের মতো একই অবস্থা তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারী হাজার হাজার জেলের। তাদের দিন কাটছে  খেয়ে না খেয়ে। এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ নেই জেলে পল্লীতে। পকেটে টাকা না থাকায় সন্তানের নতুন পোশাক কিনে দিতে না পেরে  ঈদ যেন অনেক জেলে বাবার কাছে এসেছে অনেকটা বঞ্চনা নিয়ে। কর্মহীন জেলেদের জন্য  সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হলেও, নিবন্ধন না থাকায় তা থেকেও বঞ্চিত হন অনেক জেলে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সব ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, বাজারজাত বন্ধ থাকে। একারণে নিবন্ধিত বেকার জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইলিশসহ সব ধরনের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের ৬ অভায়শ্রমে মার্চ- এপ্রিল দুই মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভোলার ভেদুরীয়া থেকে পটুয়াখালীর তেতুলীয়া নদীর একশো কিলোমিটার এলাকা।




নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় ধরা পড়ছে ইলিশের ঝাঁক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরে জাল ফেললেই উঠে আসছিল জেলিফিশ। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরা কার্যত বন্ধই রেখেছিলেন। তবে এখন জেলিফিশের উপদ্রব কমে গেছে। জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

গত এক সপ্তাহে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহীপুরে কমপক্ষে দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করার সুফল পাচ্ছেন জেলেরা।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

সরজমিনে দেখা গেছে, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেপল্লী ও কলাপাড়া উপজেলার দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর এবং মহিপুরে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে দুই হাজার মণ ইলিশ মাছ বেচাকেনা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এফবি আল্লাহর দয়া-১ নামের একটি ট্রলার ১৫০ মণ ইলিশ নিয়ে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নোঙর করে। ওই ট্রলারে পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় ২০ মণ ইলিশ মাছ যায়। বাকি ১৩০ মণ ইলিশ নিলামে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগমুহূর্তে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ায় জেলে পল্লীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় আগের চেয়ে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ মানার সুফল পাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। বর্তমানে সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি, এবার বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে।’




বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ব্যাপকভাবে পর্যটন দেখা গেছে কুয়াকাটায়। তাই এবারের ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য গতি পাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ হোটেল মোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে বলে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

খুশির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের, ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাজিয়ে নিচ্ছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ , বেচাকেনার জন্য তৈরি রয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাই, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ক্যামেরাম্যান সহ, চটপটি ফুচকার দোকানে দেখা গেছে মানুষের আনাগোনা, কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করাতে প্রস্তুত , মোটরসাইকেল ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক,কুয়াকাটা থেকে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণ করানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বোট,স্পিড বোট এবং ওয়াটার বাইক ।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমি রয়েছে। পর্যটকরা এখানকার ট্যুরিজম পার্ক , জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া কুয়াকাটার পশ্চিমে সমুদ্র পথে ফাতরার বন, সোনাকাটা ফকিরহাট ( ইকোপার্ক),লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী ও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।

আচার বিক্রেতা মো. জহির রায়হান বলেন, নানা ধরনের দেশি বিদেশি আচার ও চকলেট উঠেয়েছি দোকানে। টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে। তাদের হাতে আমরা বাহারী স্বাদের আচার ও চকলেট বিক্রি করব। দামে মানে ও গুনে আমরা পর্যটকদের কথা মাথায় রাখি বরাবরই।

অভিজাত আবাসিক সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলার্স এবং ওসান ভিউ হোটেল এন্ড কনভেনশন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আল-আমীন খান বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ অগ্রীম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিক্ষণই পর্যটকরা ফোনে খোঁজ খবর নিচ্ছে। আশাবাদী শতভাগ রুম বুক হয়ে যাবে। আমরা পর্যটকদের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রেখেছি।

হোটেল মোটেল ওনার্স অসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ বলেন, আমরা আশাবাদী পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় অনেক ট্যুরিস্টের আগমন হবে।আবার আগের মত প্রাণ খুঁজে পাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, হাসি ফুটবে সকল ব্যবসায়ীদের মনে। হোটেল মোটেল গুলোতে ৬০% এর মত আগাম বুকিং হয়েছে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “ঈদ পরবর্তী সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এমন ধারণা মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি সভা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। চিকিৎসক দল, ফায়ার সাভির্স অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদসরাও তৈরি রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের সেবা দেওয়া ও আইনি সহায়তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটক আসবে তাই আমরা অনেক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা টহলে থাকবেন। আশা করছি আমরা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারব।




বরিশাল থেকে পাহাড়ি তরুণী উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: রাঙ্গামাটির দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়ন থেকে হারিয়ে যাওয়া বিউটি চাকমা নামের এক পাহাড়ি তরুণীকে নয়দিন পর বরিশাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার রাতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাজেক থানার ওসি আবুল হাসান খান।

ওসি বলেন, গত ৩০ মার্চ সাজেকের নিজের বাসা থেকে বিউটি চাকমা বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর তার পরিবার সাজেক থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ তৎপর হয় এবং ৮ এপ্রিল বরিশাল শহর থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভিকটিমের পরিবার তাদের মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয় এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

 




ঈদের আনন্দ নেই বেইলি রোডে আগুনে নিহত জুয়েল রানার দুই সন্তানের

বরিশাল অফিস :: কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে গেছে বেইলি রোডের আগুনে নিহত পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জুয়েল রানার আশির্ধো বৃদ্ধ বাবা ইসমাইল গাজীর। সামনে ঈদ। ছোট নাতি নাতনির জন্য এখনও নতুন জামা কাপড় কিনতে পারেননি । ঘরেও খাবার বাড়ন্ত। এই বয়সে কোন কাজ নেই, তাই প্রখর রোদের মধ্যে দুই নাতি নাতনি কে নিয়ে ছেলে জুয়েলের কবর পরিষ্কার করছে সে। ওর বাবা কখন ঘুম থেকে উঠবে জানতে চাইছে জুয়েলের ছোট্ট ছেলে তাহমিদ। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে তার বোন তাসমিম।

সোমবার সকালে কলাপাড়ার মধুখালী গ্রামের জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে চোখে পড়ে দৃশ্য। ঈদ যে পরিবারে স্বজনদের ভীরে থাকতো কোলাহল মুখর, সে বাড়িতে আজ সুনশান নীরবতা। আর ছোট ছেলেমেয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধ শশুর শাশুড়িকে নিয়ে ঘরের কোণে বসে চোখের জল ফেলছে নিহত জুয়েলের স্ত্রী। গত ঈদেও বাবা-মাকে নতুন জামা কাপড় ও সন্তানদের দিয়েছিল চাহিদা মত পোশাক। স্ত্রীকেও দিয়েছিল নতুন কাপড়। অথচ এ বছর ঈদের একদিন আগেও এ পরিবারের সবার আদরের সন্তান তাসনিম ও তাহমিদের জন্য কিছুই কেনা হয়নি। এ কারণে নতুন পোশাকের জন্য বারবার বায়না ধরছে আট বছরের তাসমিম। একটু পর পর মাকে জড়িয়ে ধরে বলছে,আব্বা বলেছিল এ বছর ঈদে লেহেঙ্গা নতুন জুতা,লিপস্টিক দিবে। আমার জন্য কিনবা কবে। কিন্তু যেই ঘরে এখন শুধুই অন্ধকার ঈদের সকালে এই ঘরের শিশুদের মুখে হাসি ফুটবে কিভাবে এই চিন্তায় চোখের জল ফেলছেনিহত জুয়েলের স্ত্রী।

প্রশাসন ও স্থানীয়ভাবে কিছু সহায়তা পেলেও সবাই ভুলতে বসেছে জুয়েলের পরিবারকে। জুয়েলের বৃদ্ধ বাবা-মা জানায়, কিভাবে এখন সংসার চলবে, কিভাবে শিশুদের খাবারদাবার ও তাদের নতুন পোশাক দিব তার কোন উপায় নেই। বৃদ্ধ বয়সে কেউ কাজও দিতে চায় না। তাই জানিনা ঈদের দিন কি হবে। আর আট শিশু বছরের তাসমিম জানায়, আব্বায় বলেছিলো এবার ঈদে আমাকে লেহেঙ্গা, নতুন জুতা, ভাইকেও নতুন সবাই কিনে দেবে। কিন্তু আব্বার তো নাই, আর কেউ দেয়ারও নেই। আর ছেলের মৃত্যুর পর যেন নানা রোগ বাসা বেধেছে জুয়েলের বৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগমের শরীরে।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকে সে শয্যাশায়ী। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। গত বছর ছেলে চিকিৎসা করিয়েছিল, কিন্তু এবছর তাকে রেখেই চলে গেছে পরিবারের একমাত্র সম্বল জুয়েল। ছেলের মৃত্যুর পর কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের জলও শুকিয়ে গেছে। আর জুয়েলের স্ত্রী রেবা আক্তার বলেন, ছেলে মেয়েদের আবদার কিভাবে মেটাবো। ওরা তো সকাল বিকাল আবদার করে।

মুখ লুকিয়ে কান্না ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমার। ঘরে ঈদে বাচ্চাদের মুখে কি দেব সে উপায়ও নেই। আর প্রতিবেশীরা বলেন, এ পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা না করলে ছোট দুটি সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার থেকে যাবে। কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল বলেন, এপরিবারটি এখন খুবই অসহায়। পরিষদের পক্ষ থেকে ও ব্যক্তিগত ভাবে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।




বরিশালে কখন কোথায় ঈদের জামাত

বরিশাল অফিস:: বরিশালে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে নগরীর বান্দরোডস্থ হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগা ময়দানে। সকাল ৮ টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসরাইল হোসেন। এছাড়াও দ্বিতীয় প্রধান জামাত হবে নগরীর আমতলা মোড়ে অবস্থিত বরিশাল মডেল মসজিদে। এখানেও জামাত হবে সকাল ৮ টায়। এই দুই স্থানে এবার ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে একটি করে।

জেলার সর্ববৃহৎ জামাত হবে সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের চরমেনাই পীরের দরবার শরীফে। চরমোনাই মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম সানাউল্লাহ জানিয়েছেন সকাল ৯টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহৎ ঈদের জামাত হবে উজিরপুরের গুটিয়া নান্দনিক বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে।

https://www.chandradipnews24.com/2024/04/26014/

এখানের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮ টায়। দুইটি করে জামাত হবে নগরীর সদর রোডের বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও জামে কসাই মসজিদে। বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মান্নান জানান, সকাল ৮টায় প্রথম জামাত হবে। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। নগরীর গীর্জামহল্লা জামে কসাই মসজিদের খতিব জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৮ টায় প্রথম ও সকাল ১০ টায় দ্বিতীয় জামাত হবে।

নগরীর মুসলিম গোরস্থান মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল ৮টায়, অক্সফোর্ড মিশন রোড বাইতুন নূর ইদ্রিসিয়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত সাড়ে ৮টায় এবং চকবাজার জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় নামাজ ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, জেলায় মোট ৮ হাজার ৭৩৪ টি মসজিদ রয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে এজন্য আমাদের থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। মসজিদ কর্তৃপক্ষ জামাতের সময় নির্ধারন করে দিবেন।

বরিশাল মহানগর ঈমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য কোনো সময় বেধে দেয়া হয়নি। তবে আমরা নগরীতে সকাল ৮ টা থেকে ১০ টার মধ্যে সব জামাত শেষ করতে চাই।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহেল মারুফ বলেন, আপাতত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরিশাল মডেল মসজিদে সকাল ৮টায় একটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দুটির প্রয়োজন হলে আমরা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেব।

https://www.chandradipnews24.com/2024/04/26014/




গলাচিপায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩৭ হাজার ৬’শ ৮৩ জন দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার সকল ইউনিয়নে সকাল থেকে দিনভর ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। দরিদ্র ও দুস্থ লোকেরা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মান সম্পন্ন ১০ কেজি করে চাল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

আরো পড়ুন : গাছের ডাল কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস জানান, দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় ঈদুল ফিতর-২০২৪ উপলক্ষে উপজেলার সকল হত দরিদ্রদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার বলেন, ১২ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের জন্য চাল পাঠানো হয়েছে।

এ সময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. শাহিন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হত দরিদ্র বান্ধব সরকার। তিনি হত দরিদ্রদের পাশে থেকে ভিজিএফের চাল বিতরণ করে যাচ্ছেন। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৩৭,৬৮৩ জন হত দরিদ্রদের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাউল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, গলাচিপা উপজেলায় ৩৭৬.৮৩০ মে. টন চাল হত দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যার বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে।

এ সময় বিভিন্ন ইউনিয়নে ও পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছিম রেজা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান শিবলী প্রমুখ।




এশিয়ার তৃতীয় সর্বোচ্চ মিনার-সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থী ঈদের জন্য প্রস্তুত

খোকন আহম্মেদ হীরা,বরিশাল :: ভৌগলিক দিক থেকে চন্দ্রদ্বীপ, বাকলা পরবর্তীতে বরিশালে পরিণত হওয়া ৫০ হাজার বছর বয়সের এই জনপদের নবপরিচয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মাত্র ১৭ বছর বয়সের অনিন্দ্য সুন্দর স্থাপনা। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসুরা বরিশালে ছুটে আসেন এই স্থাপনার গোধূলী আর সন্ধ্যা পরবর্তী সৌন্দর্য উপভোগ করতে। আগত দর্শনার্থীরা এখানে এসে প্রকৃতি ও নয়নাভিরাম এই স্থাপনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।

ধারনা করা হচ্ছে-আসন্ন ঈদ-উল ফিতরের সময় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও হাজার-হাজার দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে অবস্থিত সৌন্দর্যে ঘেরা বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স এলাকা।

https://www.chandradipnews24.com/2024/04/26014/

গুঠিয়া ইউনিয়নে স্থাপিত হওয়ায় এটি গুঠিয়া মসজিদ নামে সবার কাছে ব্যাপক পরিচিত। বরিশাল শহর থেকে নয়নাভিরাম মসজিদের দূরত্ব মাত্র ২১ কিলোমিটার। চাংগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু ব্যক্তি উদ্যোগে ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেন। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ একর জমির ওপরে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয় ২০০৬ সালে। নির্মাণকাজে ২ লাখ ১০ হাজার নির্মাণ শ্রমিক কাজ করেছেন। মসজিদ এলাকায় রয়েছে ছোট-বড় ১৩টি গম্বুজ। মসজিদের মূল মিনারের উচ্চতা ১৯৩ ফুট।

বিবেচনা করা হয় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ মিনার। বায়তুল আমান জামে মসজিদের মূল ভবনে একসাথে জামায়াতে প্রায় দেড় হাজার মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন। আর ঈদগাহ ময়দানে একসাথে ২০ হাজারেরও বেশি মুসুল্লী অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশপথের বামে নির্মিত হয়েছে একটি স্তম্ভ। মসজিদের স্তম্ভটি বিশ্বের ২১টি পবিত্র স্থানের মাটি ও জমজমের পানি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। মাটি সংগ্রহ করা স্থানগুলো হলো-পবিত্র কাবা শরিফ, আরাফার ময়দান, মুজদালিফা, ময়দানে মিনা, জাবালে নূর, জাবালে সূর, জাবালে রহমত, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্মস্থান, হযরত হাওয়ার (আ.) কবরস্থান, মসজিদে রহমত, মসজিদে কু’বা, অহুদের যুদ্ধের ময়দান, হযরত হামজা (রা.) মাজার, মসজিদে আল কিবলাতাইন, মসজিদে হজরত আবু বকর (রা.), জান্নাতুল বাকি, মসজিদে নববী, জুলহুলাইফা-মিকাত, বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) হাতের লেখা তাবিজ ও মাজারে পাওয়া দুটি পয়সা এবং হযরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.) এর মাজারের মাটি।

প্রধান ফটক থেকে মসজিদের ভেতর সবখানেই সু-দৃশ্য ক্যালিওগ্রাফি, বর্ণিল কাচ, দামি মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরে মোঘল আর আধুনিক স্থাপত্যকলার সমন্বয়ে ফুটিয়ে তোলা
হয়েছে ইসলামিক নির্মাণশৈলী। মসজিদের মূল কাঠামোতে নয়টি গম্বুজ। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় গম্বুজের ভেতরের চারিদিকে বৃত্তাকারের ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা হয়েছে সুরা আর রহমান। অন্য আটটি মিনারের নিচে মদিনা থেকে নিয়ে আসা ঝাড়বাতি বসানো হয়েছে।

মসজিদের সামনে নীল ও ফিরোজা রঙের টাইলসে নির্মিত দুটি ফোয়ারা নান্দনিকতার অপূর্ব চিত্রায়ন। মসজিদে প্রবেশের দোয়া অঙ্কিত প্রধান খিলান, সু-দৃশ্য কারুকাজ খচিত কাঠের ছয়টি দরজা, মূল্যবান ঝাড়বাতি, সিরামিকস, গ্যাস, মার্বেল ও গ্রানাইট পাথরে সজ্জিত ভেতরকার আবহ বিমোহিত করছে আগত দর্শনার্থীদের।

মসজিদের চিত্তাকর্ষক সৌন্দর্য ফুটে ওঠে পড়ন্ত বিকেলে সূর্যের সোনালি আলোয় আর সন্ধ্যার পরে পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে বৈদ্যুতিক আলোকচ্ছটায়। কখনো লোহিত, কখনো গোলাপি, সাদা আর হলুদ রঙের মসজিদ যেন আলোর সাথে সাথে প্রতি মুহুর্তে রঙ বদলায়।

মসজিদ ভবনের পূর্বে বিশাল দিঘি, শান বাঁধানো প্রশস্ত ঘাটলা, কম্পাউন্ডের চারদিকে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল-ফলদ বৃক্ষশোভায় হৃদয় জুড়িয়ে যায় দর্শনার্থীদের। এখানে নারী ও পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান। রয়েছে কবরস্থান। যেখানে সম্বলহীনদের মরদেহ বিনামূল্যে দাফন করা হয়। এছাড়াও এতিমখানা, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা, লেক ও হ্যালিপ্যাড বাড়তি সুবিধা যুক্ত করেছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা সরদার মোঃ সোহেল বলেন, প্রতি ওয়াক্তে অনেক দূর থেকে এই মসজিদে অসংখ্য ব্যক্তিরা নামাজ আদায় করতে আসেন। তিনি আরও বলেন, একেক সময় মসজিদের একেক রূপ এতো ভালো লাগে যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তাছাড়া এই অঞ্চলে এতো বড় মসজিদ আর নেই। আগত দর্শনার্থী জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশে নতুন ও পুরাতন অনেক মসজিদ রয়েছে। তবে বায়তুল আমান জামে মসজিদের মতো এমন সুন্দর মসজিদ আমি দেখিনি। তাই বরিশালে কেউ আসলে সবার আগে গুঠিয়া মসজিদ দেখতে যান। সাধারণত দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর ও গুঠিয়া মসজিদ একই যাত্রায় দেখতে পারছেন।

অরুন কান্তি নামের এক ভ্রমন পিপাসু বলেন, রাজশাহী সদরে আমার বাড়ি। পরিবারসহ কুয়াকাটা যাচ্ছি। কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলেও বায়তুল আমান জামে মসজিদ দেখতে এসেছি। এই মসজিদের ছবি, ভিডিও অনেক দেখেছি। এখানে এসে আমাদের খুব ভাল লেগেছে। তিনি আরও বলেন, হতে পারে স্থাপনাটি নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের কিন্তু এর সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে এটা অনস্বীকার্য।

https://www.chandradipnews24.com/2024/04/26014/

মসজিদের ইমাম হাফেজ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মসজিদটি দেখভালের জন্য ১৯ জন স্টাফ রয়েছেন। স্টাফ ছাড়াও এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টুর মায়ের নামে এতিমখানা ও হাফেজী মাদরাসা আছে। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রাস্তার পাশে রয়েছে একটি ফিলিং স্টেশন। যা সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু করে দিয়েছেন। কারণ ওই ফিলিং স্টেশন থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই মসজিদের স্টাফ ও এতিমখানা পরিচালিত হয়। ইমাম হাফেজ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান

আরও বলেন, বায়তুল আমান জামে মসজিদটি শুধুমাত্র ইসলাম ধম্বাবলম্বীদের কাছে প্রিয় তেমন নয়; প্রতিদিন শত শত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। মুসলিমরা সাধারণত নামাজ আদায় করার জন্য আসেন। অন্যরা এসে মসজিদের সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হন।




গাছের ডাল কাটতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গাছের ডাল কাটকে গিয়ে বশির হাওলাদার (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউপির পূর্ব টিয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত বশির ওই গ্রামের বারেক হাওলাদারের পুত্র।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

নিহতের চাচাতো ভাই রফিক হাওলাদার জানান, দুপুরে তার বাড়িতে একটি চাম্বল গাছের ডাল কাটতে ওঠেন বশির। এ সময় আচমকাই তিনি নিচে ছিটকে পড়ে যান। তাৎক্ষনিক গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেনন।

কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।