পটুয়াখালীর ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পটুয়াখালীর ২১টি গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ বুধবার (১০ এপ্রিল) ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন।

আজ সকাল সাড়ে ৮টায় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গনে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

আরো পড়ুন : আগামীকাল ঈদুল ‍ফিতর

এছাড়া, জেলার সদর উপজেলার চারটি, কলাপাড়ার সাতটি, রাঙ্গাবালীর দুটি, গলাচিপার তিনটি, দুমকির দুটি ও বাউফল উপজেলার তিনটি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।

চম্পাপুর থেকে নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফে ঈদের জামাতে আসা ফরিদ শিকদার বলেন, আমার বাপ-দাদারা চট্টগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চানটুপির অনুসারী ছিলেন। আমরাও শাহ সুফির অনুসারী। আজ এখানে হাজারো মানুষ একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েছি। আমরা দুনিয়ার প্রতিটি মুসলমান এক সঙ্গে চলতে পারি আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করেছি।

উত্তর নিশান বাড়িয়া এলাকার সায়েম মিয়া বলেন, আমার পরিবারের সবাই আজ ঈদ উদযাপন করছি। ঈদের নামাজ আদায় করেছি। ভালোই কাটছে সময়। 

উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের পরিচালক নিজাম বিশ্বাস জানান, এখানে এক হাজারেরও বেশি মুসুল্লি একত্রে নামাজ আদায় করেছেন। এখানে আমরা মিষ্টান্নের আয়োজন করেছি। এছাড়া কলাপাড়ার বেশ কয়েকটি স্থানে আজ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা মূলত দেশের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলেই ঈদ উদযাপন করি। কারণ ইসলামে আছে চাঁদ দেখলেই ঈদ উদযাপন করতে হবে। তাই সব মুসলমানদের আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ করছি।




ধুয়ে মুছে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ

বরিশাল অফিস :: সারাদেশের ন্যায় বরিশালের প্রতিটি জেলাতেই চলছে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি। এজন্য ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন করা সহ বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ও মুসল্লিদের সুষ্টমত নামাজ আদায় করার জন্য ত্রিপল দিয়ে বিশাল প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ মাঠ। এখানে একসাথে ৫ হাজারের বেশি মুসল্লী জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ঈদের দিন সকাল ৮ আটটায় এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন।

একই সময় বা কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বরিশালের সাড়ে ৫শ মসজিদের প্রায় সবগুলোতেই সকাল ৮ থেকে সাড়ে ৯টা ও ১০টায় মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান। তবে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগার্হ মাঠে। অন্যদিকে জামাত অনুষ্ঠিত হবে নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোডস্থ আঞ্জুমান ই হেমায়েত ইসলাম মাঠে, নগরীর পলাশপুরস্থ কাজীর গোরস্থান। প্রতি বছরের মতো এখানে বরিশাল সদর আসনের এমপি, (পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী) কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম, প্রথমবারের মত সিটি মেয়র হিসাবে আবুল খায়ের (খোকন) সেরনিয়াবাত প্রধান ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, শওকত আলী জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে নামাজ আদায় করবেন।

অপরদিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই পির দরবার ময়দানে সকাল ৮টায়, উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও নেছারাবাদ দরবার শরীফে সকাল আটট ও সাড়ে আটটায় টায় ঈদের সবচেয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর জামে বায়তুল মোকাররম মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও জামে কসাই মসজিদে দুটি করে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবাদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত সকাল আটটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে নয়টায়। জামে কসাই মসজিদে সকাল সাড়ে আটটা ও সকাল সাড়ে নয় টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণ আলেকান্দার খান বাড়ি জামে মসজিদ, সাগরদি ইসলামিয়া জামে মসজিদ, মল্লিক বাড়ি মসজিদসহ নগরীর প্রায় তিনশ ছোট বড় মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ইমাম সমিতি বরিশাল জেলা সভাপতি মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান জানান, বরিশাল মহানগরীর সাড়ে পাঁচ’শ মসজিদের মধ্যে তিন শতাধিক মসজিদে ঈদের জামাত সকাল আটটা থেকে সকাল সাড়ে নয় টার মধ্যে শেষ হবে।




ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ

 প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসুল্লির ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায়ের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জাসহ ইতিমধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পৌরসভা। মেয়র ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দফায় দফায় সকল কাজ তদারকি করছেন।

পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ঈদের দিন বৈরি আবহাওয়া থাকলেও মুসুল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য ঈদগাহের প্যান্ডেলের উপরে এবং চারপাশে ত্রিপল দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আলো, বাতাসের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। মুসুল্লিদের নিরাপত্তায় ঈদগাহের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। এবারে ঈদগাহে যাতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য ঈদগাহের বাইরেও প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষ যাতে ঈদের দিনে যানজট মুক্ত ভাবে চলাচল করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন রাস্তাকে ওয়ান ওয়ে করে দেয়া হচ্ছে। আনন্দ বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ব্যাবস্থা গ্রহণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বপরি পটুয়াখালী পৌর শহরের মানুষ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।

এদিকে শহরের চরপাড়ায় জেলা প্রশাসক ঈদগাহ এবং মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার সংলগ্ন ঈদগাহে আরো দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহে ৫১১টি এবং বিভিন্ন মসজিদে ১৭৪১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।




জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নভেম্বর থেকে জুন এই ৮ মাস জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম। এ সময়ে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের তরফ থেকে নিবন্ধিত জেলেদের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ৪ মাস প্রতিমাসে ৪০ কেজি হারে চাল সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়। চলতি বছর এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জেলেদের মাঝে জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু চাল বিতরণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকা তৈরিতে রয়েছে সমন্বয়ের অভাব ও করা হয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা। এতে অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন প্রকৃত জেলেরা।

জেলার গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮৫৬ জন।  চলতি জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ভিজিএফ বরাদ্দ হয়েছে ৮০৮ জন জেলের নামে। এসব জেলেরা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছেন ৪০ কেজি। আবার চালের তালিকায় নাম লেখাতে দিতে হয়েছে উৎকোচ। চাল পেয়েছেন সখ্যতার কারণে নিবন্ধনের আওতায় থাকা অন্যান্য পেশাজীবীরা। ভোট না দেয়ায় চাল বিতরণের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন প্রকৃত জেলেরা। তাই যাচাই বাছাই সাপেক্ষে নিবন্ধিত তালিকা হালনাগাদ করার দাবি প্রকৃত জেলেদের।

আরো পড়ুন : ১০ দিনে কলাপাড়ায় মৎস্য আড়তে ৪৭৫ টন ইলিশ বিক্রি

ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ মোফাজ্জেল বলেন, আশেপাশের অনেক ইউনিয়নের জেলেরা ২ মাসে ৮০ কেজি চাউল পাইছে আমরা কেন পামু না? এই চেয়ারম্যান ক্ষমতায় আসার পর   আমরা একবারও  পুরা চাউল পাইনাই। যারা জেলে না, সাগর চোখে দেখে নাই, কোনদিন নদীতেও যায় নাই  হেরাও চাউল পাইতে আছে। আমাগো চাউল ভাগ কইরা তাগো দেতে আছে।

মোঃ আলমিন মোল্লা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আমাগো নামে ৮০ কেজি করে চাউল আসছে কিন্তু সেই চাউল আমাগো দেয় না। অনেক ওয়ার্ডে কোন জেলে নাই কিন্তু তালিকা কইরা অন্য মানুষের নাম ঢুকাইয়া আমাগো চাউল কম দিয়া তাগো ভাগ কইরা দেয়। আমরা আমাগো ন্যায্য অধিকার চাই।

মোঃ বিল্লাল উদ্দিন নামের আরেক জেলে নিজের কার্ড দেখিয়ে বলেন, আমি আগে চাউল পাইতাম এই চেয়ারম্যান আওয়ার পরে তালিকা দিয়া আমার নাম কাইট্টা দেছে। যারা ভ্যান চালায়, দোকান দেয়, কৃষি কাজ করে তাগো চাউল দেয়। কিন্তু আমি জাইল্লাগিরি করলেও চাউল পাই না।

একই অভিযোগ ৪ নং ওয়ার্ডের কবির খাঁ, ২ নং ওয়ার্ডের আইয়ুব সরদারসহ অন্যান্য জেলেদের।

৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মনিরুল ইসলাম শোভন বলেন, চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোক দিয়া তালিকা করছে। আমি যে তালিকা করছি সে তালিকা সে নেয় নাই। আমার ওয়ার্ডে ১৪৬ জন নিবন্ধিত জেলে আছে এরমধ্যে ৮২ জনের নামের তালিকা করা হয়েছে। এই ৮২ জনের মধ্যেও ১৮ জন চাল পায় নাই। আমি স্লিপ দিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে পাঠালেও তিনি তাদের চাল দেননি। ৮০৮ জন জেলের নামে ৮০ কেজি হারে চাল বরাদ্দ এসেছে। এই চাল যাতে বেশি সংখ্যক মানুষ পায় তাই ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ দাদন মিয়া বলেন, আমি রানিং মেম্বার কিন্তু জেলেগো তালিকা করতে পারি নাই। তালিকা করে দলের নেতা কর্মীরা। তারা টাকা পয়সা নিয়া তাগো পছন্দের লোক জনের নাম তালিকায় ঢুকাইছে। যাগো চাউলডা প্রয়োজন তারা না পাইয়া পাইছে অন্যরা। তাছাড়া তালিকায় অনেকের নাম আছে যারা এখন এদেশে থাকেনা। তাগো নামের চাউল নিল কেডা?

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সাহেবরে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমারে বলছেন এ ব্যাপারে আপনারে পরে বলবো।

আরো পড়ুন : আগুনে পুড়ে ছাই ঈদের আনন্দ

দাদন মিয়া আরো বলেন, বরাদ্দ আসছে ৮০৮ নামে কয়েকজন মেম্বারের জোগসাজেসে চাউল বিতরণের তালিকা করা হয়েছে ১৬১৬ জনের। এই কারণে জেলেদের নিবন্ধনের তালিকায় থাকা মোটরসাইকেল ড্রাইভার, ভ্যান ড্রাইভার,  দোকানদার, ফার্মেসিওয়ালারা চাউল পাইছে।

একই অভিযোগ ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ স্বপনের। তিনি বলেন চেয়ারম্যান সাহেব জেলেগো চাউল ভাগ কইরা দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হইয়া আমার কাছে আসে। যারা  পাওয়ার যোগ্য তারা চাউল না পাইয়া  যখন জবাব চায় আমরা কি জবাব দিতে পারি? এবিষয়ে তারে বারবার বলা স্বত্ত্বেও কোন সুরাহা হয়নি।

২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কামাল হোসেন বলেন, ২০০৭/২০০৮ সালে যখন ঢালাও ভাবে জেলেদের নিবন্ধন হয়েছে তখন অনেকের নাম ঢুকছে যাদের অনেকে এখন পেশা পরিবর্তন করছে। এমন ব্যাপক নাম প্রায় সব ইউনিয়নেই আছে। এদের দেখেই সবাই অনুযোগ করে যে ভ্যান চালক অটো চালকেরা চাউল পায়। তবে বরাদ্দ কম প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে কেন এসব ভ্যান চালক অটো চালকদের চাল দেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্তের  আলোকে সরকারের বরাদ্দকৃত সুবিধা  অধিক সংখ্যক জেলেদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার এবং আমি মিলে তালিকা অনুমোদন দিয়েছি।

তালিকায় স্বজনপ্রীতিসহ অন্যান্য পেশাজীবীদের নাম থাকা ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন জবাব দিতে পারেননি তিনি।

গলাচিপা উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ জহুরুন্নবী বলেন, গলাচিপা উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৮৩৫ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০০০ নামে ২ মাসের চালের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বেশি সংখ্যক জেলে বাদ পরার বিষয়টি উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা স্থানীয় সংসদ সদস্য এস.এম শাহাজাদার উপস্থিতিতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা উত্থাপন করেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সরকারের এ বরাদ্দকৃত চাল অধিক সংখ্যক জেলেদের মাঝে বণ্টনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে যে জেলে এক মাসের চাল পেয়েছেন তাকে অন্য মাসে বাদ রেখে অন্যদেরকে চাল দেয়া হয়েছে।

তালিকা হালনাগাদের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালে জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে আবারো এ তালিকা হালনাগাদ করা হবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল তালিকা তৈরি ও বিতরণ ব্যাবস্থাপনায় কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সরকার শ্রেণি অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু চাল বিতরণের সময় জেলেদের আলাদা  শ্রেণি বিভাগ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে বরাদ্দের চেয়ে বেশি জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ করতে হয় তাই স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সকলের সাথে পরামর্শ করে এ কাজটি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, জেলে নয় এমন কিছু লোকের নাম তালিকায় আছে। পেশা পরিবর্তণের কারণে এমনটি হতে পারে। এজন্য আমরা আবেদন চাচ্ছি যারা জেলে নেয় আমরা বাতিল করব এবং যারা নতুন করে এ পেশার সাথে যুক্ত হয়েছে ওদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে।




১০ দিনে কলাপাড়ায় মৎস্য আড়তে ৪৭৫ টন ইলিশ বিক্রি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত ১০ দিনে মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরসহ কলাপাড়ার বিভিন্ন আড়তে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ। এবার ইলিশের দাম অনেক চড়া। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সাগরে জেলিফিশের প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে বলে দাবি মৎস্য বিভাগের।

সরেজমিনে কলাপাড়ার বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, ধুলাসার, ধোলাইবাজার ও আঁশাখালী আড়তে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কারণ, গত ১০ দিন গভীর সাগর থেকে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নিয়ে ঘাটে এসেছে ট্রলারগুলো।

জানা গেছে, মৎস্য বন্দরগুলোতে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ গ্রামের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা, ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকা। বাজারে জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে।

আরো পড়ুন : আগুনে পুড়ে ছাই ঈদের আনন্দ

মহিপুরের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী সলেমান মিয়া বলেন, গত ১০দিন (সোমবার পর্যন্ত) সব জেলেরাই সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফিরেছেন। দামও ভালো পেয়েছেন তারা। মূলত পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মাছের দাম কমেনি। আমরা যারা পাইকারি ব্যবসা করি আমরাও ঢাকায় মাছের ভালো দাম পেয়েছি।

ধুলাস্বর এলাকার জেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা মূলত ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করি। প্রতিদিন সাগরে যাই আবার ফিরে আসি। সাগরে জেলিফিশ কমে যাওয়ার পর আমাদের জালে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। এভাবে মাছ আসলে আমরা ধারদেনা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

কলাপাড়া মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা ফজুল মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের প্রচুর দাম চাচ্ছেন। যেভাবে দাম চাচ্ছে মনে হয় সোনা কিনতে এসেছি। আমরা বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

অপর ক্রেতা সাইফুল মিয়া বলেন, বিক্রেতারা ১ কেজি ইলিশের দাম চাচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকা। এভাবে ইলিশের দাম বাড়লে আমরা কোনোভাবেই এই মাছটি আর কিনে খেতে পাড়বো না। বাজারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়লে ইলিশের দাম কমতে পারে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গত ১০ দিনে কলাপাড়া উপজেলার জেলেরা ৪৭৫ মেট্রিকটন ইলিশ বিক্রি করেছেন। এছাড়া চিংড়ি, লইট্যা, পোয়া, তুলার ডাডি ও সোনাপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছও পাচ্ছেন জেলেরা। আশা করছি, বৃষ্টি হলে মাছের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বাজার মনিটরিং করছি। পণ্যের দাম বেশি রাখলে তার (ব্যবসায়ী) বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আগুনে পুড়ে ছাই ঈদের আনন্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদের দুই দিন আগে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আগুনে পুড়ে গেছে দুটি বসতঘর। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- ওই গ্রামের আজাহার ফরাজী ও তার ছেলে রনিপ ফরাজী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

এদিকে, আগুনের ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ত্রাণসামগ্রী ও নগদ টাকা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ছুটে যান ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মু. কামরুজ্জামান শিবলী।

চেয়ারম্যান মু. কামরুজ্জামান শিবলী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান মুহিব এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় তাৎক্ষণিক ত্রাণসামগ্রী ও নগদ টাকা প্রদান করেছি।’




পটুয়াখালীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাস টার্মিনালগুলোতে শুরু হয়েছে নাড়ির টানে গ্রামে ফেরা মানুষের ঢল।

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার।

আরো পড়ুন : বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চায় দেশের জনগণ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

তিনি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কিনা এসব বিষয়ে জানতে চান।

এছাড়া পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে ঈদযাত্রার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। বাস মালিক সমিতির এবং বাস কাউন্টারের লোকদের উদ্দেশ্য করে বলেন কোনোভাবেই যেন লেবুখালী বা কোনো স্থানে অহেতুক কালক্ষেপন না করে গাড়িগুলো তাহলে বাড়তি গাড়ির চাপে সড়কে যান চলাচল বিঘ্নিত হবে জনগণের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না আর আপনারা জানেন এলাকায় একটা দুর্ঘটনা মানে এই এলাকার আনন্দ ম্লান হওয়ার সামিল। তাই আপনারা ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন। ঈদ আসলে স্কুল, কলেজ পড়ুয়ারা চাবে একটু গাড়ি নিয়ে মজা করতে। এই মজা যেন কারো কষ্টের বা দুঃখের না হয় তাই লাইসেন্স না থাকলে কাউকে গাড়ি দিবেন না। আমরা পটুয়াখালী জেলার ঈদ আনন্দ নির্বিঘ্ন করতে চুরি, চিনতাই বা যেকোনো আপত্তিকর পরিস্থিতি রোধ কল্পে ইতোমধ্যে সকল প্রকার নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আহমাদ মাঈনুল হাসান।




বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চায় দেশের জনগণ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিএনপি এখন আর প্যালেষ্টাইনের পক্ষে নেই। জঙ্গি বিএনপি, জামায়াত মুসলমানদের পক্ষে কথা বলছেনা। একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার প্যালেষ্টাইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মুসলমানদের পক্ষে কথা বলছে। তাই দেশের জনগণ স্বাধীনতা বিরোধী দল বিএনপির নিবন্ধন বাতিল চায় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যক্ষ মো. মহিববুর রহমান এমপি।

আজ মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে মহিপুর, লতাচাপলী, ডালবুগঞ্জ, ধূলাসার ও কুয়াকাটা পৌরসভার সহস্রাধিক দুস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ঈদ উপহার বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।

আরো বলুন : পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির

মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আ: মালেক আকনের সভাপতিত্বে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম, কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মহিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদ নুরুল ইসলাম হাওলাদার, সহ-সভাপতি ডাক্তার খলিলুর রহমান, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অনন্ত মূখার্জী, মহিপুর থানা যুবলীগের আহ্বায়ক এএম মিজানুর রহমান বুলেট।

বিতরণকৃত ঈদ উপহার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনে গুঁড়া এবং ১ লিটার সয়াবিন তেল।




পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পচনধরা নাড়া উপরে পলিথিনি মোড়ানো দোচালা কাচা ঘর। ঘরটির সামনের অংশে কোনো রকম কাঠের বেড়া থাকলেও পেছন অংশে সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে সাঁটানো। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলেই ঘরটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘরেই বসবাস করছেন বৃদ্ধা আয়শাবিবি (৭০)।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আয়েশা বিবির সংসারের কর্তা মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর হয়ে গেল। এরপর থেকেই শুরু হয় সংসারে টানাপোড়ন। দুই মেয়ে আর এক ছেলে থাকলেও কেউ খোঁজ নেন না। পাশের বাড়িতে গৃহস্থলি কাজে সহায়তা করে ডাল-ভাত খেয়ে কোনো রকম জীবন যাপন করছেন তিনি। এত টানাপোড়নের পড়েও নিরুপায় হয়ে একটি ঘরের জন্য ঘুরেছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। সবাই শুনেছেন জীবনের করুণ চিত্র। কিন্তু দু’হাত ভরে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ। অথচ এ উপজেলায় সরকারের দেয়া বিনামূল্যের ঘর পেয়েছেন প্রায় দুই হাজার অসচ্ছ্বল মানুষ। সে সময়েও বৃদ্ধা আয়েশা নজরে পড়েনি কারো।

আরো পড়ুন : বাউফলে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়

আক্ষেপ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ঘরের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি দিতে পারিনি। তাই ভাগ্য অনুকূলে আসেনি।

সরেজমিনে কথা হয় আয়শা বিবির প্রতিবেশীদের সাথে। তারাও একই কথার সাথে সুর মিলিয়ে বললেন, যারা টাকা দিয়েছে তারা সরকারি ঘর পেয়েছে। অথচ বয়স্ক এই মানুষ ঘর, কাপড় ও খাবারের জন্য প্রতিনিয়ত কষ্ট করে থাকে। আমরা প্রতিবেশীরা যখন যা পারি তাকে দিয়ে টেনে রাখি। কিন্তু তিনি লোকলজ্জার ভয়ে অনেক সময় না খেয়েই দিনপার করেন। ছেলে-মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেন না। স্বামীর যে ভিটে রয়েছে সেখানে ছাপড়া দিয়েই বসবাস করছে। তার এমন কষ্ট আমাদেরও ব্যথিত করে। বৃদ্ধার পাশে খুঁটি হয়ে সহায়তা নিয়ে কেউ একজন আসুক এমনটি প্রত্যাশা তাদের।

অশ্রুঝরা নয়নে বৃদ্ধা আয়শা বলেন, ‘কেমনে ঘর তুলব বাবা? মানুষের বাড়ি কাজ করে খাই। বৃষ্টি নামলে ঘরে থাকা যায় না। ঘরের আসবাবপত্র অন্যের বাড়িতে রাখছি। অনেক সময় মানুষের বাড়িতে ঘুমাই। ঘরের জন্য নাম নেছে। দুইবার কইরা কাগজপত্র সব জমা দিছি ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু ঘর পাই নাই। টাকা চায় হেরা।
আমার জন্য একটা ঘর ব্যবস্থা কইরা দিলে ভালো হয়। মরার আগে ভালো একটা ঘরে ঘুমাইতে চাই।

আরো পড়ুন : ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আপাতত ঘর সংস্কারের জন্য টিন ও নগদ টাকা দিবো। এরপরে সরকারি ঘর এলে তাকে দেয়া হবে।




ফিলিস্তিনের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এ মাসেই