মুন্সিগঞ্জে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার তরুণী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার, বাড়ি ভোলায়

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণীর বাড়ি ভোলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে যাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, সে তরুণী মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. ফিরোজ হোসেন বলেন,
“আমার মেয়ে ঢাকায় ছেলের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। রোববার সকালে আমরা তাকে ভোলায় নিয়ে আসি। এখন সে বাসায় মোটামুটি সুস্থ আছে।”
গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলার সজীব ফিলিং স্টেশনের কাছে থেকে স্থানীয়রা ওই তরুণীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্নজন তার পরিচয় জানতে পোস্ট দেন। এনআইডি কার্ডসহ ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারকে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
ভুক্তভোগী তরুণীর বড় বোন বলেন,
“শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে আমি, আমার ছোট বোন ও ভাই তিনজন মিলে যাত্রাবাড়ী থেকে গজারিয়ায় মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাই। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনজনই পড়ে যাই। আমার বোন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয় এবং পুলিশ আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
আজ সকালে ধনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিয়া গ্রামে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সে আহত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে। কথা বলতে পারছে না, ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তার হাতে ও হাঁটুতে আঘাতের দাগ স্পষ্ট দেখা গেছে।
মেয়েটির মা বলেন,
“আমার মেয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। অথচ কিছু মানুষ ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়েছে। এটা আমাদের পরিবারের জন্য লজ্জার ও কষ্টের। মেয়ের সড়ক দুর্ঘটনাকে কেউ যেন অন্যভাবে না দেখে।”
ভোলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত তরুণীর আরেক ভাই বলেন,
“আমার দুই বোন ও ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বিষয়টি দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়।”
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








