অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে কিশোরীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকিতে চলন্ত অটোরিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লেগে বৈশাখী সাহা (১৪) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস-ভক্ত বাড়ি সড়কের মজুমদার বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বৈশাখী সাহা উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নিমাই চন্দ্র সাহার মেয়ে। সে কচা বুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

আরো পড়ুন : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকদের মিলন মেলা

জানা যায়, ২ দিন আগে বৈশাখী সাহা তার ছোট বোন শ্রাবণী সাহা, চাচাতো ভাই লিটন চন্দ্র সাহা, চাচাতো বৌদি তন্দ্রা ভক্তের সঙ্গে দক্ষিণ মুরাদিয়ায় শ্যামল ভক্তের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন বিকালে ঘুরতে বের হয়ে অটোরিকশাযোগে ভক্ত বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। মজুমদার বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত গাড়ির চাকায় গলায় পেঁচানো নিজের ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগে। সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুমকি থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ হান্নান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় পর্যটকদের মিলন মেলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের মিলন মেলা বসেছে।

ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টার পর থেকে সৈকতে হাজারো পর্যটকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে, আগতদের মধ্যে বেশির ভাগই স্থানীয়। তারা সৈকতের বালিয়াড়ীতে দিনটি উদযাপন করছেন।

আগামীকাল শুক্রবার থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসতে শুরু করবেন বলে জানিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, সৈকতে আগতদের নিরাপত্তায় ট্যুরিষ্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যদের কাজ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পর্যটক সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসাচ্ছেন। কেউবা আবার সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সৈকতের বুকে আছড়ে পড়া ছোট বড় ঢেউ। অনেককে আবার ঘোড়াসহ বিভিন্ন বাহনে দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সৈকত ঘুরে দেখতে দেখা গেছে। অনেককেই মোবাইলে সেলফি তুলে বেড়াতে আসার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা

আমতলী থেকে আসা পর্যটক সালেহীন আহম্মদ বলেন, আমি মূলত ঢাকায় চাকরি করে। অনেকদিন পর বাড়িতে এসেছি। নামাজ শেষ করেই বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে এসেছি। এখন জোয়ার চলছে। তাই সবাই মিলে সাঁতার কাটছি। দারুন অনূভূতি হচ্ছে।

পটুয়াখালী থেকে আসা নাইম হোসেন বলেন, আমরা পটুয়াখালী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। নামাজ পরেই বন্ধুরা মিলে কুয়াকাটায় এসেছি। এখন বেঞ্চিতে বসে সমুদ্র তটের ছোট বড় ঢেউ দেখে সময় অতিবাহিত করছি। সময় ভালোই কাটছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি আমাদের টহল টিম মাঠে রয়েছে। অপৃতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর রয়েছি।




ঝড়ে বিধ্বস্ত কলেজ পরিদর্শন করলেন এমপি রুহুল আমিন হাওলাদার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি  :: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ৭ এপ্রিল মাত্র ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া কদমতলা কলেজ পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

বুধবার দুপুর ২টায় কলেজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে এলাকা দেখে গেলাম এবং কলেজটি নিজের দেখা প্রয়োজন ছিল। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কলেজটি পাকা ভবন নির্মাণ ও এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

কলেজ প্রতিষ্ঠাতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় এরকম একটি কলেজ হওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। এ এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কলেজটি ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।

তিনি আরও বলেন, কলেজটি এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব; প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অনুরোধ করব। এটা নিঃসন্দেহে এই কলেজের শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশীদ হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আকন সেলিম, জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ আল মামুন, আয় লেবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম তুহিন, দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মোহাম্মদ হান্নান প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল আট টায় পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বড় এ জামাতে ঈদগাহের ভিতরে ও বাইরে মিলে প্রায় ২০ হাজার মুসুল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

আরো পড়ুন : এলো খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

ঈদের নামাজের জামাতে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মডেল মসজিদের পাশে অস্থায়ী ঈদগাহে মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসক ঈদগাহ, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার দরবার শরিফ সহ জেলার ৫১১টি ঈদগাহ এবং ১৭৪১টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহ সহ পুরো পটুয়াখালী শহরকে সুসজ্জিত করায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মুসুল্লিরা।




কুয়াকাটায় আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিতে আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছেন কুয়াকাটার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বুকিং হয়েছে ৮০ শতাংশ হোটেল মোটেলের কক্ষ। তাই নতুন করে সাজানো হয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে রমজানে একমাস পর্যটকশূন্য থাকায় সৈকতের প্রকৃতি তার নিজস্ব রুপে সেজেছে। ঈদের পরে আগত পর্যটকরা এ মনভোলানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে সুনসান নিরবতা। ফাঁকা পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চিসহ ভাসমান দোকান। তবে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্যবসায়ীরা। কেউ তাদের ভাসমান দোকান নতুন করে তৈরি করেছেন। কেউ রং তুলির আঁচড়ে সাজিয়েছেন। কেউবা আবার ধোয়া মোছা করছেন। শুধু সৈকতের ভাসমান দোকানই নয়, নতুন করে প্রতিষ্ঠান সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল মোটেলসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীরাই।

আরো পডুন : সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

কুয়াকাটা সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী নুরুল হক জানান, একমাস পর্যটকশূন্য ছিলো কুয়াকাটা। আমরাও বাড়িতে অলস সময় কাটিয়েছি। এখানে আমার যে বেঞ্চ ছিলো এসে দেখি কয়েকটির রং জলে গেছে। তাই নতুন করে রং করছি।

সৈকতে আচার ব্যবসায়ী মোকলেছ মিয়া জানান, আমার মূলত ভাসমান দোকান। কয়েকটি কাঠ ছুটে গেছে। তাই নতুন করে কাঠ লাগিয়েছি। আশা করছি ঈদে কুয়াকাটায় লাখ লাখ পর্যটক আসবে। এবং আমরা এই এক মাসে যে লোকসানে পড়েছি তা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েসন অফ কুয়াকাটার (টোয়াক) সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জানান, এবছর ঈদের সঙ্গে পহেলা বৈশাখেরও ছুটি রয়েছে। তাই আমরা আশা করছি আজ ঈদের দিন থেকেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে উঠবে কুয়াকাটা। আড়াই লাখ পর্যটক আগমনের আশা করছি আমরা। সেভাবেই সাড়া পাচ্ছি। ইতোমধ্যে ফাইভ স্টার মানের হোটেল মোটেলগুলো শতভাগ বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য হোটেল মোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগে সকল হোটেল মোটেল বুকিং হয়ে যাবে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, ঈদে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি পর্যটকরা নির্বিঘ্নে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।




সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক অসহায় বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন। ওই বৃদ্ধার নাম আয়শা বিবি (৭০)। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে ঈদসামগ্রীর প্যাকেজ বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠানো হয়। এতে ছিল ১০ কেজি চাল, এব কেজির মশুর ডাল, চিনি, হলুদ,মরিচ, ধনিয়া গুড়া, সেমাই, দুধ ও নতুন কাপড়।

এর আগে ‘পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়শা বিবির’ শিরোনামে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডক কম অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির  শিরোনামে

সংবাদটি নজরে পড়লে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশনায় ওই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

ঈদ উপহার পেয়ে আপ্লুত আয়শা বিবি বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। ওরা কেউ আমার খোঁজখবর নেয় না। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করি। এত ঈদ গেল কেউ খোঁজ নিলো না। এ বছর আমার কষ্টের কথা শুনে যে ঈদ বাজার পাঠিয়েছে তার জন্য আল্লাহ কাছে দোয়া করি। স্বামীর ভিটেতে নাড়ার ছাপড়া দেয়া ঘরে বসবাস করি। অনেক কষ্ট হয় ভাঙা ঘরটিতে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমারে ঘর করে দিলে ভালো হতো।’

আরো পড়ুন : বর্ষবরণ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পীরা

সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, আয়শা বিবির বাসস্থান নিশ্চিতে সরকারি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবো।




বর্ষবরণ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর বাউফলের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। এখানকার তৈরি মাটির পণ্যসামগ্রী ঢাকার আড়ং ব্র্যান্ড ও দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে এখন। এ বছর ঈদ এবং পহেলা বৈশাখ উৎসব একই সময়ে পড়ায় জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে বলে জানান এই মৃৎশিল্পীরা।

বাংলা বর্ষবরণ ও ঈদকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে পান্তা খাওয়ার থালা-বাসন, মগ, মিষ্টির পাতিলসহ বিভিন্ন আইটেম। এসব পণ্য তৈরির কাজ শেষ । তাই এখন বিপণন নিয়ে ব্যস্ত এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

আরো পড়ুন : স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন পার্শ্ববর্তী উপজেলায়

পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের পালপাড়া মাটির পণ্যের জন্য পরিচিত প্রায় অর্ধশতক ধরে। বৈশাখী মেলায় এ অঞ্চলের সর্বত্র এখানকার তৈরি মাটির খেলনা বিক্রি করা হতো। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর নকশার আধুনিকতায় এর বাজার ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাতেও। এখন আর শুধু খেলনা নয়, মাটির তৈরি ফুলদানি, ডিনার সেট, কাপ-পিরিচ, মগসহ বিভিন্ন শোপিস তৈরি হয় এই পালপাড়ায়। যার বাজার রয়েছে ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন মার্কেটে। কয়েক বছর ধরে দেশের বাইরেও যাচ্ছে এই মাটির পণ্যগুলো।

এখানকার মৃৎশিল্পের অন্যতম রূপকার ছিলেন রাজেশ্বর পাল। এক সময় তিনি মেলায় ঘুরে ঘুরে মাটির খেলনাসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতেন। তিনি আজ বেঁচে না থাকলেও, তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য সুনাম ছড়াচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সব প্রতিষ্ঠানে।

পালপাড়ার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকে। এ বছর ঈদ সামনে রেখে এই চাহিদার পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন পালপাড়ার এই মানুষেরা।

বাউফল পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সভাপতি বিশ্বেশর পাল বলেন, ‘সরকারিভাবে স্বল্প সুদের সহযোগিতা এবং মাটি পেলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করতে পারব তৈরি করা এই মাটির জিনিসগুলো।’

আরো পড়ুন : শেষ দিকে কুয়াকাটা সৈকত জুড়ে জমেছে ইফতার

পটুয়াখালীর ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর সিকদার বলেন, বর্তমানে এই শিল্পীরা আধুনিক কিছু পণ্য তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে কিছু পণ্য দেশের বাহিরেও রফতানি করা হচ্ছে। এই মৃৎশিল্পের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে পটুয়াখালীর শিল্প সহায়তা কেন্দ্রের। তাদের লোন কার্যক্রম ছাড়াও ঢাকা থেকে ডিজাইন সহায়তা করে থাকে বিসিক। তা ছাড়া এই মৃৎশিল্পীদের অল্প সুদে সহযোগিতা দেয়ার কথাও জানালেন এই বিসিক কর্মকর্তা।

পালপাড়ার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় অর্ধশত পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ। শুধু বর্ষবরণ নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং ঘরের শোভাবর্ধনে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এখানকার মাটির তৈরি পণ্যের।




শেষ দিকে কুয়াকাটা সৈকত জুড়ে জমেছে ইফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটায় রমজানের শেষ সময়ে ইফতারকে কেন্দ্র্র করে সৈকতে পশ্চিম দিগন্তজুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। বিকেল হতেই কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে পশ্চিম দিকে দেখা যায় দলে দলে ইফতারের প্রস্তুতির দৃশ্য।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে, ঠিক এমন গোধূলি বেলায় দেখা যায় রোজাদাররা ইফতার সামগ্রী নিয়ে রং তুলিতে সাজানো ব্লোকের উপরে বসে ইফতার সামগ্রী তৈরিতে কেউ কেউ ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত প্রার্থনায়, কেউ কেউ মনের সুখে গুনগুনিয়ে হামদ-গজল গাইছে, কারও হাতে ছোলা, মুড়ি, চপ মাখানোর ব্যস্ততা, কেউ বানায় শরবত, কেউ কেউ ফল বা তরমুজ কাটে, কেউ আবার খাবার পানি সহ সাজাচ্ছে প্লেট-গ্লাস। সৈকতের তীরে মুক্ত বাসাতে এ যেন এক অন্য রকম প্রশান্তি। সেখানেই সবার অপেক্ষা মাগরিবের আজানের।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপন

মো. মারুফ হোসেন বলেন, সবদিনই তো পরিবারের সঙ্গে ইফতার করি। আজকে সবাই মিলে কুয়াকাটা সৈকতে ইফতার করতে এসেছি। মুক্ত বাতাস অনেক ভালো লাগতেছে। মনটা ভরে গেছে এই পরিবেশে এসে।

হোটেল মিয়াদ ইন্টারন্যাশনাল এর জিএম ইব্রাহীম ওয়াহিদ বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে বিশাল সমুদ্রের বুকে মুক্ত বাতাসে ইফতার করার অন্য রকম এক অনুভূতি। ইফতারের আগের সময়টুকু সবচেয়ে ভালো লাগার। সারাদিন রোজা রেখে আল্লাহর এই বিশাল সৃষ্টির বুকে ইফতার আসলেই অন্তরকে তৃপ্তি দেয়, আলহামদুলিল্লাহ।

কুয়াকাটা বাইতুল আরজ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মান্নান বলেন, আল্লাহর রাসূল বলছেন রমজানের শেষ দিকে সাওয়াল মাসের চাঁদ খুছতে। তাই একত্রে সৈকতের পাসে ইফতার করতে এসেছি। বিশাল সাগরের গর্জন, মুক্ত বাতাস মনোরম পরিবেশ, আল্লাহর মহান এক হুকুম রোজা রেখে ইফতারের অপেক্ষায় আছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে কবুল করুক, আগামী রমজান পর্যন্ত সবাইকে সুস্থ, সুন্দর রাখুক সেই প্রত্যাশা করছি।




স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন পার্শ্ববর্তী উপজেলায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে গেছে। চরাঞ্চলে লবণাক্ত পানি, অতিরিক্ত গুমট আবহাওয়া ও সুপেয় পানির অভাবের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করছেন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা।

অথচ এ উপজেলায় কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় আক্রান্ত রোগীরা ছুটছেন পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া ও গলাচিপা উপজেলায়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর ২১ গ্রামে ঈদ উদযাপন

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনের গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ চরম আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। বয়স্করা এসে এখানে চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন এবং সেখানে বসেই পরবর্তী চিকিৎসা নিতে পারচ্ছেন। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে ঘটছে বিপত্তি। তাদেরকে এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া অথবা গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে।

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ বলেন, চরাঞ্চলের পানি লবণাক্ত এবং অনেকে অনিরাপদ ভাজাপোড়া খাচ্ছেন। এ কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপটা বেড়ে গেছে।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জানান, গলাচিপা উপজেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩০-৪০ জন ডায়রিয়ার রোগী আসছে। আবার অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।




বরিশালে ৫ হাজার পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন  করছে

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার সৌ‌দি আর‌বের সঙ্গে মিল রেখে অগ্রিম ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। বরিশাল জেলার প্রায় অর্ধশত মসজি‌দে সকাল ৯টায় প্রথম ঈদের নামাজের জামাত অনু‌ষ্ঠিত হয়।

বুধবার (১০) এপ্রিল যারা ঈদ পালন করছেন তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের  জাহাগীরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারী ভক্ত গণ। পৃথিবীর কোন প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে তার সঙ্গে মিল রেখে তারা রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাসহ যাবতীয় ধর্মীয় আচার নিয়ম নীতি পালন করেন।

ব‌রিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়া চৌধুরীবাড়ি শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদের সভাপতি মমিন উদ্দিন কালু জানান, আমা‌দের ওযার্ডে আগাম ঈদ পালন কর‌ছেন প্রায় ১ হাজার পরিবার।

বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠীর হাজী বাড়ীর জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আমীর হোসেন জানান,২৩ নম্বর ওয়ার্ডের  দক্ষিন সাগরদী, তাজকাঠীসহ আশপাশের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার ঈদ পালন করছেন।

সকাল নয়টায় ঈদের নামাজ অনু‌ষ্ঠিত হয় জাহাগিরিয়া শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদে। বুধবার তাদের ওয়ার্ডের যেসব পরিবার ঈদ পালন করছেন তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের জাহগিরিয়া শাহসুফী মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারি। বরিশাল নগরী সহ জেলার ৫০ টি মসজিদে চন্দনাইশ দরবারের অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেছে।

‌এদিকে বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জের খানপুরা,কেদারপুর, মাধবপাশাসহ ৫-৬টি গ্রামে  একহাজারের বেশী পরিবারে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।

বরিশাল জেলার মুলাদী,হিজলা,  মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় এবং সদর উপজেলার চন্দ্রমাহন,পতাং,লাহারহাট গ্রামের জাহা‌গি‌রি  সুফী দরবারের প্রায় ২ হাজার অনুসারী রয়েছেন।