বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে হঠাৎ করেই প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে দিশেহারা মানুষ। গত এক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই প্রখর রোদ আর গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। সেই সাথে পশুপাখিগুলোর হাঁসফাঁস অবস্থা। তাই গরম থেকে রক্ষা পেতে পানির ট্যাব বা পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে শরীর ভিজিয়ে ঠান্ডা করছে মানুষ।

গত দু’দিন সোমবার ও মঙ্গলবার বছরের সর্বোচ্চ গরম অনুভূত হয়েছে জেলার কলাপাড়া উপজেলায়।

আরো পড়ুন : গরুসহ আটক ২, ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা

তীব্র গরমের কারনে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটক অনেকটা কমে গেছে । তবে একটু স্বস্তির আশায় ডাব ও শরবতের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস।

এদিকে প্রচন্ড খড়তাপে মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। তপ্ত রোদে মৌসুমী সবজী চাষিরা রয়েছেন বড় দুশ্চিন্তায়। এছাড়া ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাসপাতালে বেড়েছে গরম জনিত রোগীর সংখ্যা। অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ। তবে দুই এক দিনের মধ্যে বৃষ্টির হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ভ্যানচালক চালক সোবাহান মিয়া বলেন, রোদের তীব্র তাপ। তাই ভ্যান চালানো বন্ধ রেখেছেন তিনি।

পর্যটক মাহিন বলেন, হোটেল থেকে বের হয়ে সৈকতে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু ভ্যাপসা গরমে শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। কোনো উপায় না পেয়ে ডাব খেয়েছি। তাতেও তৃষ্ণা মিটছে না।

আরো পড়ুন : শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক কবির হোসেন বলেন, সে বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি চাষ করেছেন। রোদের তেজে শুকিয়ে যাচ্ছে ক্ষেত। বৃষ্টি না হলে তিনি বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে জানিয়েছেন।

খেপুপাড়া আবহাওয়া আফিসের সিনিয়ার অবজারভার অফিসার মো. জিল্লুর রহমান জানান, গতকাল সোমবার সর্বোচ্চ ৪০.২ ডিগ্রী ও মঙ্গলবার বিকেল ৩ টা পর্যন্ত ৩৮.৪ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে, তাপমাত্রা কম বেশি হতে পারে।




গরুসহ আটক ২, ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় চুরির মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় গরুসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালের এ ঘটনায় বিকেলে পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

আটক দুজন হলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়ার মো. জামাল (৪০) ও মো. নিজাম দালাল (৪০)।

আরো পড়ুন : ছেলেকে বাঁচাতে ভিটে-বাড়ি বিক্রি করছেন মা ফরিদা

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলা সদরের কাটাখালী গ্রামে গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে গরু চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় দুজনকে গরুসহ আটক করে এলাকার লোকজন। হারুন হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির ডাকচিৎকার শুনে এলাকাবাসী গিয়ে তাঁদের আটক করে। তবে অন্য তিনজন পালিয়ে যান। পরে আটক দুজনকে দশমিনা থানায় সোপর্দ করা হয়।

হারুন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের চরাঞ্চল থেকে এভাবে বহু গরু চুরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লোক চরে এসে বিভিন্ন কাজের কারণ দেখায়। আমি পাতা বনে গরুর পাল দেখতে যাই। এ সময় দেখি গরুর পালে চার-পাঁচটি গরু নেই। তখন ওই ট্রলারের সামনে গিয়ে দেখি একটি গরু ট্রলারে বাঁধা। সেখানে দুজন ট্রলারে, তিনজন গরু হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বলে কালাইয়া থেকে এসেছে। তখন চোর চোর বলে ডাক-চিৎকার করলে এলাকার লোকজন এসে দুজনকে আটক করে। অন্য তিনজন পাতা বনে পালিয়ে যায়।’

আরো পড়ুন : শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, হাদীর চর থেকে বিভিন্ন সময় গরু চুরির ঘটনা ঘটে থাকে। খবর পেয়ে দুজনকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গরু চুরির কথা স্বীকার করেছে। এদের সঙ্গে আরও তিনজন জড়িত। থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।




বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী ও তার ভাড়াটিয়া লোকজনদের মঙ্গলবার দুপুরে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী। এর পূর্বে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

সরেজমিনে ইউপি সদস্য মোঃ মুসা আলী, আব্দুস সালামসহ নয়জন ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেন, ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী সরকার থেকে বরাদ্দ ত্রাণের টিন, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, গ্রামীণ অবকাঠামোর চাল, গম ও অর্থ আত্মসাত করেছেন।

এছাড়াও দুঃস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি চাল, ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারের ১০ লাখ টাকার কোন কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাত করেছেন। কার্ডধারী ৫১২ জেলের জন্য ৪০ কেজি করে বরাদ্দকৃত চাল কালোবাজারে বিক্রি করেছেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার খালেদ হোসেন স্বপনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী তার (স্বপন) প্রভাব বিস্তার করে একের পর এক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউপি চেয়ারম্যান অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

চেক জালিয়াতির মামলায় ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এক বছর কারাদন্ড ও ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভিজিডি ও জেলেদের চাল পাচারের সময় পাঁচ হাজার ১৫২ বস্তা চাল উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলারও আসামি চেয়ারম্যান নুরে আলম। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম,
দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে খাসজমির দলিল করে দখলের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রমানসহ তার (ইউপি চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে নয়জন ইউপি সদস্য ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ১০টি দফতর প্রধানের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আবেদনের ভিত্তিত্বে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ কবির হোসেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে তদন্তে আসেন। এসময় চেয়ারম্যান ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে পরিষদে প্রবেশ করে আবেদনকারী ইউপি সদস্যদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন। এনিয়ে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা মেম্বারদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তখন উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে একদল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

 

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে দেখা গেছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর পরই ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম ও তার সহযোগিরা মোটরসাইকেলযোগে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এলাকা ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। এ সময় সরকারের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শত শত ভূক্তভোগীরা চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিদের অবরুদ্ধ করে নানা শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিরা উপস্থিত জনতার ওপর চড়াও হলে বিক্ষুব্ধরা তাদের ধাওয়া করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় থানা পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনে চেয়ারম্যানকে রক্ষা করেন।

তবে ইউপি সদস্যদের আনীত সকল অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে অভিযুক্ত কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম বেপারী বলেন, আমার প্রতিপক্ষের লোকজনে ইউপি সদস্যদের পুঁজি করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।




বরিশালে দুর্গাসাগরে পুণ্যস্নানে নেমে কলেজছাত্রের মৃত্যু

বরিশাল অফিস : বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাসাগরে পুণ্যস্নানে নেমে মনদ্বীপ মণ্ডল (১৮) নামে এক কলেজছাত্র ডুবে মারা গেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মাধবপাশা দুর্গাসাগরে হাজারো পুণ্যার্থীর স্নানকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মাধবপাশা দুর্গাসাগরের হাজারো পুণ্যার্থীর স্নান চলাকালে মনদ্বীপ মণ্ডল নিখোঁজ হয়। আধা ঘণ্টা পর দেহ ভেসে উঠলে তাঁকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মনদ্বীপের মৃত নিশ্চিত করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম।

মনদ্বীপ বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোডের বাঁশতলা এলাকার ঘোষ বাড়ির বাসিন্দা সাগর মণ্ডলের ছেলে।

নিহতের মা চম্পা মণ্ডল জানান, অষ্টমী পুণ্য স্নানোৎসবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্গাসাগর দিঘিতে গোসল করতে নামে মনদ্বীপ। একপর্যায় সকলের অগোচরে পানি ডুবে নিখোঁজ হয় সে।

শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বর মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মারা যাওয়ার পর তাঁর দেহ ভেসে ওঠে।

 




ছেলেকে বাঁচাতে ভিটে-বাড়ি বিক্রি করছেন মা ফরিদা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মৃত ফারুক মল্লিকের ছেলে সজিব মল্লিক (৩০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সজিব ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। চার মাস আগে ঢাকা থেকে বাসে পটুয়াখালী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বাখেরগঞ্জ এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। তাকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তার বাবার রেখে যাওয়া সহায় সম্পদ ও পৈত্রিক ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে পরিবারটি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর তীরের ঝুপড়ি ঘরে শুয়ে আছেন অসুস্থ সজিব মল্লিক। বিধবা ফরিদার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে দিয়েছেন বিয়ে থাকেন পরের ঘরে। একমাত্র ছেলে সজিবকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতেন ফরিদা। একমাত্র সজিবের আয়েই চলতো পুরো পরিবার। ছেলে শয্যাশায়ী হওয়ায় দিশেহারা মা ফরিদা বেগম। স্বামী ফারুক মল্লিকের মৃত্যুর পর ফরিদা জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী এক নারী। কখনো কোমর বেঁধে নদীতে ধরতেন মাছ, বসত-ভিটের পাশেই কখনো করতেন সবজি চাষ। বর্তমানে বিধবা ফরিদা অসুস্থ থাকায় পারছেন না ছেলের চিকিৎসা করতে। অসুস্থ সজিব এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

প্রতিবেশীরা বলেন, সজিব ঢাকার দিন মজুরের কাজ করতেন। ৪ মাস আগে বাড়িতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করছি কিন্তু এতো টাকা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকার যদি একটু সহযোগিতা করতো তাহলে পরিবারটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতো। অপারেশনে বেশি দেরি হলে সজিব আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে।

বর্তমানে অর্থের অভাবে সজিবের চিকিৎসা বন্ধ। তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। অন্যথায় তার জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। অসুস্থ সজিবের অপারেশনে জন্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য সকলের দরজায় সাহায্য সহযোগিতা চেয়েও হয়নি সমাধান। তাই সজিবের চিকিৎসায় বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান এলাকাবাসীর।

সজীবের মা ফরিদা বলেন, আট বছর বয়সে সজিবের বাবা মারা যায়। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করিনি। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। অনেক স্বপ্ন ছিল, আজ সব খান খান হয়ে গেছে। ভিটে বাড়ি বিক্রি করেছি।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ঝুপড়িঘরে শয্যাশায়ী সজিব জানান, পটুয়াখালী, বরিশাল মেডিকেল শেষে ঢাকা আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন মায়ের হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বিয়া করেছি আড়াই বছরের মেয়ে আছে আমার। মা জীবনে অনেক কষ্ট করেছে আমাদের জন্য। একটু ভালো থাকার জন্য ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করতাম। গত জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ বাড়িতে আসার সময় বাখেরগঞ্জ এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় আমার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। ডাক্তার বলছে অপারেশন লাগবে নাহলে আমি সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাব। আমারে বাঁচান আমি বাঁচতে চাই বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, নিলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।




দোকান ঘর ধুয়ে ঘরে ফেরা হলো না জামালের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জামাল খাঁন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউপির লাল-সবুজ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জামাল খাঁন ওই ইউপির চান্দুপাড়া গ্রামের মৃত রশিদ খাঁনের ছেলে। জামাল দিন মজুরের কাজ করতেন। এছাড়া তিনি চান্দুপাড়া দক্ষিণ আবাসনের বাসিন্দা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিশ্বাস জানান, দুপুরে লাল-সবুজ বাজারে বাহাদুর মোল্লার দোকান ঘর পরিষ্কার করার জন্য টিয়াখালী দোন নদী থেকে পাম্প মেশিন দিয়ে পানি তুলছিলেন জামালসহ আরও এক শ্রমিক। এসময় তিনি অসাবধানতায় বিদ্যুতায়িত হন। তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, মৃত্যুর বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সাত দূর্ঘটনায় নিহত-২ আহত-৫

বরিশাল অফিস : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী অংশে গত মঙ্গলবার ৯ এপ্রিল থেকে সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত সাতটি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন নিহত সহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার বিপুল হোসেন এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঈদের ছুটি কাটাতে মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার ইল্লা বটতলা নামক এলাকায় ঢাকাগামী চেয়ারম্যান পরিবহনের একটি বাসের চাঁপায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্যালক-দুলাভাই নিহত হয়।

নিহতরা হলেন- উজিরপুর উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের হাবুল সরদারের ছেলে উজ্জল সরদার (২৭) এবং তার শ্যালক বাখেরগঞ্জ উপজেলার গুয়াখোলা এলাকার জালাল হাওলাদারের ছেলে দ্বীন ইসলাম (১৮)। এছাড়াও বিগত এক সপ্তাহে মহাসড়কের গৌরনদী অংশে পৃথক ছয়টি দুর্ঘটনায় পাঁচজন গুরুত্বর আহত হয়।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম রসুল মোল্লা জানান, ঈদ উপলক্ষে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে নিরলস ভাবে কাজ করেছেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। এরপরও কয়েকটি সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটা ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।




পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসক তৈরির নামে জোড়াতালির পাঠদানে স্বাস্থ্যখাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়াও ল্যাব-আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক সংকটেও নেই মাথাব্যথা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কার্যত কোনো ফল মিলছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজটি ২০১৪ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৬ সালে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে হস্তান্তর হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও এখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

আরো পড়ুন : পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কলেজের একাডেমিক ভবনের কাজ। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কোনো ল্যাব এখনও না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিশ্চিত হচ্ছে না গুণগত মান; রয়েছে আবাসন সংকটও।

শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর শিক্ষক সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। ৭৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। সংকটের বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ফল আসেনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্র্যাকটিক্যাল রিলেটেড ক্লাসগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পাঠদানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। তাহলে বলেন, এখানে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

আরো পড়ুন : বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন টাইগারদের নতুন কোচ

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনরিুজ্জামান বলেন, প্রতিমাসই মাসিক প্রতিবেদন আমরা অধিদফতরের পাঠাই। আমাদের কতোটা পদ খালি আছে সেটার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের একাডেমিক ভবনটা আসলে কীভাবে রেডি করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। সে বিষয়ে তাগেদাও দেয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ১০ ব্যাচসহ ৩২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।




জুনে শেষ হবে হস্তান্তর: এখনো বাকী বরিশালের গোমা সেতুর দুটি স্পাম

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ও চরাদী ইউনিয়নের গোমা পয়েন্টে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে চমৎকার নৈসর্গিক দৃশ্য সম্বলিত গোমা সেতু। এ সেতুর নামকরণ প্রস্তাবিত মরহুম ইউনুস খান (গোমা সেতু)। ইতিমধ্যেই সেডুর দুই পাশে সড়কের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওপারের গোমা অংশ সড়কটি পেয়ারপুর বাজার পর্যন্ত গিয়ে অনেকটা থমকে গেছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

আবুবকর আলম নামের এক যুবক জানান , পেয়ারপুর বাজারের ভিতর সরু সড়কের সাথে মিশেছে এই সড়ক। ফলে যানবাহন চলাচল ঐ বাজার পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে এই সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের তিন উপজেলার যাতায়াত, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটবে এবং সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। যদিও এখানের উভয় পারের ঘাট ইজারাদাররা সেতুর কাজ আরো বিলম্ব হলেই খুশী। তারা বিভিন্ন ভাবে এই কাজ যেন আরো পিছিয়ে যায় সে চেষ্টাও করছেন।

তবে এই অভিযোগ স্বীকারও করে নেন ইজারাদার সাইদুল মেম্বারের সাথীদের কয়েকজন।

 

তারা বলেন, তিন বছর আগে শেষ করার কথা বলে ছয় বছরেও শেষ করতে পারেনি যে ব্রীজ। সেই ব্রীজ খুব শীঘ্রই হবে তা আর বিশ্বাস কি। ব্রীজ না হলেতো আমাদেরই লাভ বেশি। টোল ঘরে প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের যাতায়াত। মাথাপিচু ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল ৫০ টাকা করে পারাপার এই গোপালপুর ও গোমা খেয়াঘাটে। তাই ঘাট ইজারাদারদের চাওয়া ব্রীজের উদ্বোধন যেন আরো দেরীতে হয়।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে বরিশালের দিনারেরপুল-লক্ষীপাশা -দুমকী জেলা আঞ্চলিক সড়কের চরাদি ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের এই খেয়াঘাট ঘুরে দেখা গেছে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম গামী মানুষের ভিড় শুরু হয়েছে খেয়াঘাটে। পটুয়াখালীর বাউফলের ফরিদপুর, মির্জাগঞ্জ, বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাহেরচর, দুধল, কবিরাজ থেকে আসা শহরমুখী মানুষের রীতিমতো ভিড় পরেছে খেয়া পারাপারের জন্য। ফেরীও চলছে একটি। তবে তা শুধু বাস, মাইক্রোবাস, ট্রাক লরি নিয়ে। এই নদীর নাম রাঙামাটি। নদীর উপর সড়ক ও সেতু বিভাগের অধীনে নির্মাণ প্রকল্পে ২০১৭ সালে ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩ বছর মেয়াদের ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছিল। ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান এম খান গ্রুপ এই কাজ শুরু করে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই কাজের ভিক্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২০ সালের জুনে। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করে ২০২৩ সালে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিলো।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ ৪৪ ভাগ সম্পন্ন হলেও তখন উচ্চতা নিয়ে আপত্তি তোলে বিআইডব্লিউটিএ। ফলে সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পরে দীর্ঘ ৯ মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের দফায় দফায় সভা এবং বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শনের পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতায় সেতুর সংশোধিত প্রকল্প গ্রহণ করে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রথম প্রকল্প অনুযায়ী, মাঝ বরাবর সেতুর উচ্চতা রাখা হয়েছিল সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ৭ দশমিক ৮৬ মিটার। পিলার স্থাপনের পর বিআইডব্লিউটিএ আপত্তি তুলে জানায়, এ উচ্চতায় রাঙ্গামাটি নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য উচ্চতার প্রয়োজন কমপক্ষে ১২ দশমিক ২ মিটার।

সওজ থেকে দাবি করা হয়, উচ্চতা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র চূড়ান্ত সম্মতিপত্র নিয়েই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্বের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে নিষ্পত্তি হয়।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নদীপথ সচল রাখার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র দাবি অনুযায়ী, সেতুর মাঝ বরাবর সর্বোচ্চ জোয়ারের সময় ১২ দশমিক ৪ মিটার উচ্চতা রেখে নতুন নকশা করা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

প্রকল্পে বলা হয়েছে,বরিশাল-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি জেলা সড়কের ১৪ কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর ওপর ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রশস্ত দুই লেনে সেতু নির্মিত হবে। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে বরিশালের সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন জানান, বিআইডব্লিউটিএর দাবি অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্পে সেতুর মাঝে উচ্চতা রাখা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ মিটার। এজন্য নদীর মধ্যে দুটি পিলারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং গার্ডার নির্মাণে কংক্রিটের বদলে স্টিলের পাত ব্যবহার করা হবে। সেতুর( ৩,৪) নং পিলারের গার্ডার নির্মাণ কাজের দরপত্র হয়েছে। ইতিমধ্য সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ শেষ প্রায়। ২০২৪ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।

যদিও ইতিপূর্বে এক সাক্ষাৎকারে সুমন বলেছিলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই কাজ শেষ হবে। এবার জুনে বলছেন। যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।




বরিশালের আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে নেমে ২ বোন নিখোঁজ

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মুলাদীতে আড়িয়াল খাঁ নদে গোসল করতে নেমেছিলেন বাবা-মেয়ে ও ভাতিজিসহ ৫ জন। তারা কেউ সাঁতার জানেন না। গোসলের একপর্যায়ে স্রোতের টানে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন ২ চাচাতো বোন।

রোববার বেলা ২টার দিকে উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের গলইভাঙা ঢালী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে দুই চাচাতো বোন নিখোঁজ হন।

তারা হলেন,গলইভাঙা গ্রামের মো. মাহমুদ হাসানের মেয়ে হাবিবা হাসান অর্পা (১৭) এবং মো. বাবুর মেয়ে হিজরাতুল মুনতাহা হাফসা (১৩) তারা দুইজন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাহমুদ হাসানের সঙ্গে আড়িয়াল খাঁ নদে গোসলে গিয়েছিলেন। তাদের দুইজন সাঁতার জানত না। মুলাদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা মো. নূরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অর্পার বাবা মো. মাহমুদ হাসান বলেন, ২ মেয়ে ও ভাতিজা-ভাতিজির বায়না রক্ষার জন্য গতকাল রোববার দুপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ঢালী বাড়ি লঞ্চঘাট এলাকায় গোসলে যান। ৫ জনের কেউ সাঁতার না জানায় সবাইকে অল্প পানিতে গোসল করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অসাবধানতা ও স্রোতের টানে মেয়ে ও ভাতিজা-ভাতিজি পানিতে ভেসে যাচ্ছিলো। ওই সময় এক মেয়ে ও ভাতিজাকে টেনে তীরে ওঠানো গেলেও তার মেয়ে অর্পা ও ভাতিজি হাফসা পানিতে ডুবে যায়। পরে ডাকচিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে পানিতে খুঁজে অর্পা ও হাফসাকে না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেন।

বরিশাল মুলাদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দলনেতা মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে দুইজনের নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে খোঁজ করা হয়েছে। কিন্তু রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার সকালে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের সহায়তা নিয়ে পুনরায় সন্ধান শুরু করা হবে।