জমে উঠেছে কমলাপুর ইউপি নির্বাচনী প্রচার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচার জমে উঠেছে। এ ইউনিয়নে পরিষদ নির্বাচনে ৩ চেয়ারম্যান, ৩টি সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ আসনে ২৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা আটঘাঁট বেঁধে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন।

গত মঙ্গলবার প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩টি সংরক্ষিত আসনে ৮ জন ও সাধারণ আসনে ২৬ প্রার্থী তাদের প্রতীক নিয়ে উঠান বৈঠকের পাশাপাশি রাত-দিন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান পদে তিন প্রার্থী হলেন- সাবেক চেয়ারম্যান ছালাম মৃধা (চশমা), বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মনির রহমান মৃধা (আনারস) ও মো. শফিকুল ইসলাম (ঘোড়া)। সংরক্ষিত ৩টি আসনে ৮ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলেন- ১নং সংরক্ষিত আসনে আসমা- বেগম (বই) ও ফারজানা (মাইক), ২নং সংরক্ষিত আসনে- উম্মে হানি (মাইক), খুশি (কলম) ও সাথী (বই), ৩নং সংরক্ষিত আসনে- পারভীন বেগম (বই), মোসা. আফরোজা (কলম) ও সেলি আক্তার (মাইক)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

৯টি সাধারণ ওয়ার্ডের ২৬ প্রার্থী হলেন ১নং ওয়ার্ডে- মো. আলী আকবর (মোরগ), মো. জাফর শরীফ (টিউবওয়েল), মো. নজরুল ইসলাম (তালা) ও মো. বশিরুল আলম (ফুটবল), ২নং ওয়ার্ডে- জাফর (টিউবওয়েল), মো. আ. মালেক হাওলাদার (ফুটবল), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), মো. মোশাররফ (মোরগ) ও সবুজ দাস (তালা), ৩নং ওয়ার্ডে- মো. আলাউদ্দিন মোল্লা (ফুটবল) ও মো. আশ্রাফ আলী (মোরগ), ৪নং ওয়ার্ডে- মো. বশির আহমেদ (মোরগ) ও মো. মনিরুল ইসলাম মানিক (ফুটবল), ৫নং ওয়ার্ডে- মো. বাবুল (ফুটবল) ও মো. লিটন মৃধা (মোরগ), ৬নং ওয়ার্ডে- গৌতম পাল (ফুটবল), জসিম উদ্দিন (মোরগ) ও মো. সফিকুল ইসলাম (তালা), ৭ নং ওয়ার্ডে- মনির হোসেন সিকদার (তালা), মো. ফারুক মোল্লা (ফুটবল) ও মো. সবুজ (মোরগ), ৮নং ওয়ার্ডে-  মো. ছোহরাব মোল্লা (তালা) ও মো. সুলতান পাঠান (মোরগ), ৯নং ওয়ার্ডে- আ. রাজ্জাক হাওলাদার (মোরগ), মো. কামাল হোসেন (ফুটবল) ও মো. মিজানুর রহমান (তালা)।

কমলাপুর ইউনিয়নে ২৮ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কমলাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ১৯,৮৪৫।




পটুয়াখালীতে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে সেনের হাওলা গ্রামের বাঁধ ঘাট এলাকার বদ্ধ খালের জমিতে করা পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর এক পক্ষে রয়েছেন হাফেজ আক্কাস, আর অন্য পক্ষে রাসেল মৃধা। তাদের এ বিরোধ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়।

তারা আরও জানান, সেই পুকুরে গত বছর মাছ চাষ করেছে বলে দাবি তুলে বুধবার সকালে মাছ ধরতে যান আক্কাসের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মাছ ধরতে বাধা দেন রাসেল মৃধার লোকজন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

আহতরা হলেন- সেনের হাওলা বাঁধ ঘাট এলাকার বাসিন্দা জাফর প্যাদা (৫০), হাফেজ আক্কাস (৩৫), রাকিব প্যাদা (২৮), রাশেদ প্যাদা (৩০), ইউনুস প্যাদা (৪৫), হনুফা বিবি (৫৫), খাদিজা বেগম (৩৫), সিয়াম (১৮), সোহাগ প্যাদা (২২), অনিক মৃধা (১৯), রনি (২০)। তাদের মধ্যে হাফেজ আক্কাস, হনুফা বিবি, রাকিব, ইউনুস ও জাফর গুরুতর আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, আহতদের রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আহতদের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা দেয়ার জন্য বলেছি। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করেছি।




গলাচিপায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় যথাযথ মর্যাদা ও গুরুত্বের সাথে ‘ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক’ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়েছে।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় সংগীত, পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা।

আরো পড়ুন : জন্মের ৫ ঘণ্টার মাথায় সন্তানকে হাসপাতালে রেখে চলে গেলেন মা!

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মু: সাহিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মুজিবুর রহমান, সহ সভাপতি রেজাউল করিম হাওলাদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার ও গলাচিপা থানার ওসি তদন্ত মোকাম্মেল হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহাবুব হাসান শিবলী।

বক্তব্য রাখেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালমা ওয়াহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাদের বিশ্বাস ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়।

এসময় বক্তরা ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ও মুজিবনগর সরকারের বিভিন্ন স্মৃতি  তুলে ধরেন এবং বর্তমান প্রজন্মের নিকট তুলে ধরার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন : গাবখান সেতু এলাকায় ট্রাক-প্রাইভেটকার-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ১২

এসময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, ইউপি চেয়ারম্যান, সূধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা। সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্ন গলাচিপার ঐতিহ্যবাহী ঝাউতলা বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গলাচিপা উপজেলা শাখা জাতীয় সংগীত, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।




টোল প্লাজায় কয়েকটি গাড়িকে ট্রাকের চাপা, নিহত বেড়ে ১৪

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির গাবখান সেতুর টোল প্লাজায় সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি গাড়িকে চাপা দেওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

এর আগে, বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে বরিশাল-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির গাবখান সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকটি যে গাড়িগুলোকে চাপা দিয়েছে তাদের বেশিরভাগই বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ কামাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় আমার ছোট ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র আতিকুর রহমান সাদি নিহত হয়েছেন। আমার ভাই চোখের সামনেই মারা গেল। আমি কিছুই করতে পারিনি।

এ সময় কান্নারত অবস্থায় কামাল বলেন, ব্যাটারিচালিত চারটি ইজিবাইক ও একটি মাইক্রোবাস যোগে প্রায় ২৫ জন নিয়ে গাবখান ইউনিয়নের ওস্তাখাল গ্রামে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। আমার শ্যালিকার বিয়ের বউভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। যাওয়ার পথে দুপুর দেড়টার দিকে গাবখান টোলে আমাদের গাড়িগুলো টোল দিচ্ছিল। এ সময় সেতুর দিক থেকে সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক এসে আমাদের গাড়ি, পথচারী ও টোল আদায় কর্মীদের চাপা দেয়। আমাদের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে রূপ হয়।

শেখেরহাট ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আতফি আহম্মেদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ কামাল হোসেনের শ্যালিকার বৌভাতে সবাই যাচ্ছিল। কামাল হোসেন আমাকে জানিয়েছে, মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন কামালের নিজের ও শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজন।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার কাজ শেষ করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িগুলোকে চাপা দেয়।

ঝালকাঠিতে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১২ ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক তারাহ গুল নিঝুম জানান, ঝালকাঠির গাবখান সেতু টোলপ্লাজায় সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেটকারকে পেছন থেকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার তদন্তে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিনকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 




বরিশালের উজিরপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষনকারী গ্রেফতার

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের নবম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে এক লম্পট, এ ঘটনায় ধর্ষককে আটক করেছে উজিপুর মডেল থানা পুলিশ ।

মডেল থানা পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১৫ এপ্রিল গভীর রাতে ওই স্কুল ছাত্রী (১৪) মা- বাবার ঘর থেকে দাদির কাছে ঘুমাতে গেলে পথিমধ্যে পাশের বাড়ি দেলোয়ার হোসেনের পুত্র সাজ্জাদ আহমেদ ফরহাদ (২৯) তুলে নিয়ে পাশের বাড়ির পরিত্যক্ত রান্নাঘরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানা একটি মামলা দায়ের করে, তার প্রেক্ষিতে উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুজ্জামান সোহাগ’র নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ধর্ষককে গ্রেফতার করেন। উজিরপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ জাফর আহমেদ জানান,এই ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করে মঙ্গলবার আদালতে হস্তান্তর করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাাঠানোর আদেশ দেন।




বরিশালের মেঘনায় অভিযান, জাল সহ ট্রলার জব্দ

বরিশাল অফিস : বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে জাটকা ইলিশ নিধনের প্রধান শত্রু হিসেবে পরিচিত পাই জাল সহ দুইটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিনভর হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ মৎস্য অধিদপ্তর এবং নৌ পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, জব্দকৃত ১০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ পাই জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

পাশাপাশি জব্দকৃত ট্রলার নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, নদীতে পাই জালের ব্যবহার জাটকা নিধনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে। তাই ইলিশ সম্পদ রক্ষায়
অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামাল হোসেন ও হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ তরিকুল ইসলাম অংশগ্রহন করেন।

 




উজিরপুরে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা করেন মেনন

বরিশাল অফিস : বরিশালের উজিরপুরে আগুনে বসত ঘর পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ করেন সংসদ সদস্য রাসেদ খান মেনন এমপি।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে উজিরপুর উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের মল্লিক বড়িতে গত ১৩ এপ্রিল আগুনে পুড়ে যাওয়া ছয়টি বসত ঘরের ক্ষতিগ্রস্থদের শান্তনাদেন এবং নগদ আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ করেন।

বানারীপাড়া-উজিরপুর বরিশাল ২ আসনের সংসদ সদস্য জননেতা রাশেদ খান মেনন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওত হোসেন, উপজেলা
আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী,উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ফায়জুল হক বালী ফারাহীন, সাধারণ সম্পাদক, সীমা রানী শীল, উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাফর আহমদ,ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা জহুরুল ইসলাম টুটুল, ওটরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক রাঢী,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশিদ, ফিরোজ খান, আলমগীর হোসেন মৃধা প্রমুখ।

আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণকালে মেনন বলেন আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দোয়া করবেন যেন আগুনে পুড়ে এ ধরণের ক্ষতিকারো না হয়।

 




জন্মের ৫ ঘণ্টার মাথায় সন্তানকে হাসপাতালে রেখে চলে গেলেন মা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আসার অভিযোগ উঠেছে মা সানজিদা আক্তার পপির (২২) নামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুর রবের ছেলে আলামিন ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল চৌকিদারের মেয়ে সানজিদা আক্তার পপির দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত। এ ছাড়া এ নিয়ে থানা পুলিশও হয়েছে কয়েকবার।

আরো পড়ুন : পর্যটকদের মন কাড়ছে কুয়াকাটার কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি

ভুক্তভোগী আলামিন বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার শাশুড়ি তার মেয়েকে নানান ধরনের কুবুদ্ধি দিয়ে আসছেন। এমনকি আমার সঙ্গে বিয়ের আগে সানজিদা অন্য একটা ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল তা গোপন করে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। তাও আমি মেনে নিয়ে সংসার করার চেষ্টা করেছি। একপর্যায়ে সানজিদার পেটে বাচ্চা এলে তার মা বাচ্চাকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করে; কিন্তু আমার জন্য পারেনি। গত সোমবার সানজিদাকে দুমকি হাসপাতালে নিয়ে ওষুধ খাইয়ে বাচ্চা নষ্ট করতে চেয়েছে।

কিন্তু চিকিৎসক সানজিদাকে পটুয়াখালী সদর হসপিটাল রেফার করেন এবং নরমাল ডেলিভারিতে মঙ্গলবার দুপুরে একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেন। বাচ্চা জন্ম নেওয়ার ৫ ঘণ্টার মাথায় হাসপাতাল থেকে আমার শাশুড়ি আমার নবজাতক বাচ্চা ফেলে রেখে তার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

এ বিষয়ে সানজিদার বাবা মোজাম্মেল চৌকিদার বলেন, আমার মেয়ের সন্তান ডেলিভারির সঠিক সময় হয়নি। কিন্তু আলামিন আমার মেয়ের পেটের ৮ মাসের বাচ্চা নষ্ট করতে দুমকি বাজারে বসে পেটের ওপর লাথি কিল-ঘুষিসহ মারধর করেন। একপর্যায়ে আমি আমার মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ব্লিডিং শুরু হয়। পরে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে নরমাল ডেলিভারিতে মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তবে বাচ্চা জন্ম নেওয়ার পর পরিপূর্ণ বয়স না হওয়ায় অসুস্থ ছিল। তাই আমরা বাঁচার জন্য তাদের পরিবারের হাতে বাচ্চা বুঝিয়ে দিয়ে আমার মেয়ে নিয়ে চলে আসি।




পর্যটকদের মন কাড়ছে কুয়াকাটার কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হচ্ছে শুঁটকি। সমুদ্রপাড়ে খোলা আকাশের নিচে রোদের সাহায্যে মাছ শুকিয়ে বিক্রি করা হয় ক্রেতাদের কাছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত প্রাকৃতিকভাবে দর্শনার্থীদের কাছে বিখ্যাত হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে সুনাম কুড়াচ্ছে এই পর্যটন নগরীর বিষমুক্ত শুঁটকি, যা ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কুয়াকাটার শুঁটকি এখন অন্যতম। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এ শুঁটকির রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। শুঁটকিপ্রেমীরা শুঁটকি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কুয়াকাটায়। এখানকার শুঁটকি সুস্বাদু হওয়ায় দেশে ও বিদেশের রয়েছে আলাদা চাহিদা। প্রতি বছরই এ শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

সরেজমিনে দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ সহজে পাওয়ায় কুয়াকাটায় বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। এসব পল্লীতে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম। এ কাজে অংশ নেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ পরিবারের সকল সদস্যরা। পোয়া, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল ও কোড়ালসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে খোলা জায়গায় বাঁশের মাচা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। কোনো কীটনাশক ছাড়া শুধু লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করায় এর আলাদা স্বাদ ও চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো পল্লী না থাকায় বছরের ছয় মাস চলে এ ব্যবসা।

জানা গেছে, স্বাদে ও গুণে বেশ সুনাম আছে এখানকার শুঁটকির। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ার কারণে পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটার শুঁটকি দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। যারা বেড়াতে আসেন তারা ফিরে যাওয়ার সময় আর কিছু না হোক কিছু শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক নজরুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটার শুঁটকির অনেক নাম রয়েছে। এখানে এসে নিজ চোখে শুঁটকি শুকানো করা দেখেছি। তারা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করে না। আমাদের এলাকার চেয়ে দাম অনেক কম। মানও ভালো, তবে স্থায়ী পল্লী থাকলে আরও পরিছন্নভাবে করতে পারত।

শুঁটকি শ্রমিক মো. হোসেন বলেন, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করার কোনো নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আমরা সৈকতের পাশে মাছ শুকাই। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে সব কিছু ভেঙে ফেলে। আবার শুঁটকি ব্যবসায় আসা কষ্টের হয়ে যায়। শুঁটকি ব্যবসায় আলাদা করে লোনও পাই না আমরা।

আরো পড়ুন : বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

শুঁটকি ব্যবসায়ী ফারুক ঘরামি বলেন, অনেক বছর ধরে শুঁটকি ব্যবসা করি তবে স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট না থাকায় কিছু দিন পরে উঠে যেতে হয়। কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ই হচ্ছে শুটকি। তাই সরকারের কাছে আমরা স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট চাই।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু বলেন, সারা দেশে কুয়াকাটার শুঁটকির একটা সুনাম রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রমিকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং স্থায়ী শুঁটকি পল্লীর জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে উন্নতমানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।




বরিশালে হোটেলে অনৈতিক কাজের অভিযানে ৬ নারীসহ ১৬ জন আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বরিশাল নগরীর ডজনখানেক আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬ নারীসহ ১৬ ব্যক্তিকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার দিনভর নগরীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার। বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজের খবরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তাদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদারের দিক-নির্দেশনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড পিআর) মো: তোতা মিয়া ও পুলিশ পরিদর্শক মো: আলমগীর হোসেন,পুলিশ পরিদর্শক মাসুমুর রহমান বিশ্বাস, পুলিশ পরিদর্শক কমলেশ চন্দ্র হালদার, পুলিশ পরিদর্শক মো: ছগির হোসেন এর নেতৃত্বে ডিবির সকল টিম (১৬ এপ্রিল) বিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করেন।

উক্ত অভিযানে হোটেল চীল হতে ১ জন পুরুষ ১ জন মহিলা, হোটেল চারু থেকে ১ জন পুরুষ ১ জন মহিলা ও হোটেল এর স্টাফ ১ জন, হোটেল ভোলা হতে ১ জন পুরুষ ২ জন মহিলা ও ১ জন স্টাফ, হোটেল নক্ষত্র প্যালেস হতে ১ জন পুরুষ ১ জন মহিলা এবং ১ জন হোটেলের স্টাফ, হোটেল সুইডেন প্যালেস হতে ১ জন মহিলা ১ জন পুরুষ ও হোটেল এর স্টাফ ২ জন সহ ৬ জন মহিলা, ৫জন পুরুষ ও বিভিন্ন হোটেল এর ৫জন স্টাফ] সর্বমোট ১৬ (ষোল) জনকে উক্ত হোটেল গুলোতে অনৈতিক কার্যক্রম সংঘটন ও সহায়তা করাকালে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়াও মাদক সেবন করে রাস্তায় সর্বসাধারনের শান্তিভঙ্গের কারণে বিএমপি অধ্যাদেশ ২০০৯ এর ৮১ ধারা অনুযায়ী ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।