তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরম উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতে হাজার পর্যটক। ৪৩ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও নোনা জলে জলকেলিতে প্রশান্তি খোঁজ করছেন তারা। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে স্থানীয় শরবত ও কোমল পানিয়র দোকানগুলোতে।

নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রতি সপ্তাহের ন্যায় শুক্রবার ও শনিবার পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছে। সকাল থেকে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সৈকতের তপ্ত বালিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছাতা হাতে কেউবা আবার মাথায় ক্যাপ-গামছা পেঁচিয়ে হেঁটে বেরাচ্ছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে শান্ত সমুদ্রের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  উপভোগ করছেন। তীব্র গরমের কারণে অনেকে হোটেল রুমে অবস্থান করছেন। ফলে ট্যুর গাইডগুলো অনেকটাই অলস সময় পার করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

ফরিদপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা ফয়সাল জানান, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ঘুরতে আসতে হয়েছে কেননা ইদ ছাড়া সব বন্ধুরা এক হওয়া হয় না। ঈদের পরে সবাই এক সঙ্গে ঘুরতে এসেছি আর এই গরমে সমুদ্রে সময় কাটাতে ভালোই লাগছে।

মাগুরা থেকে ঘুরতে আসা মাহাতাব হোসাইন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই প্রথমবার কুয়াকাটা এসেছি। বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কিন্তু এত গরমের মধ্য আসতে হবে বুঝতে পারিনি। সমুদ্র সৈকতে এসে বাচ্চারা অনেক খুশি কিন্তু এত গরমে বেশি সময় বিচে থাকা অসম্ভব।’

তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবেচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতের দোকানদার, অটোরিকশাচালক, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও পড়েছেন বিপাকে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকার ভ্যানচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই মৌসুমে যাত্রীর অনেক চাপ এবং ইনকামও বেশি কিন্তু সারাদিন রোদে গরমে যাত্রী আনা-নেওয়ায় খুব কষ্ট হয়।’

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ডাব ব্যবসায়ী সিদ্দিক খান বলেন, ‘প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমাদের কুয়াকাটায় অনেক লোকজন আসতেছে। এই গরমে সবাই ডাব খাইতেছে। গরমের কয়দিনে আমার ব্যবসাও ভালো হইতেছে।’

ঝিনুক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটক বেশি হলেও বিকাল ছাড়া কাস্টমার হয় না কারণ এই গরমে সবাই সমুদ্রে সময় কাটায় না হয় হোটেলে। সারাদিন কাস্টমার থাকলে বেশি বেচাকেনা হত।’

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন টুরিস্ট পুলিশ। সার্বক্ষণিক মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে পর্যটকদের। তীব্র গরমে কোন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পরলেও আমরা তার সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করবো। আমাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরাও পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কলাপাড়া স্টেশনের টহল টিম ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সৈকত এলাকায় অবস্থান করি। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল টিম সব সময় প্রস্তুত আছে। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৈরি আছি।’




মুগডাল তোলা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ২ নারীসহ আহত ৭

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জমি থেকে মুগডাল তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ নারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রাম সংলগ্ন আমলিবাড়িয়া মৌজার একটি কৃষি জমি নিয়ে একই বংশের দুই পক্ষের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। এনিয়ে ২০২২ সালে আদালতে একটি মামলাও করেন একপক্ষ। বিরোধী পক্ষ সেই জমিতে শুক্রবার সকালে মুগডাল তুলতে গেলে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে একপক্ষের পাঁচজন এবং আরেক পক্ষের দুইজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের সবুজ সরদার (৫৫), জহির আকন (৪০), সালমা (৩০), কচি বেগম (২৫), নূর মোহাম্মদ (২৫), সদর ইউনিয়নের নেতা গ্রামের আবু মিয়া (৩৫) ও  চান মিয়া (৪০)। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে এদিন দুপুরে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ ফিরোজ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গলাচিপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় মরিয়ম বেগম (৭) নামের এক শিশুর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের কালির চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শিশু মরিয়ম বেগম গোলখালীর ৫নং ওয়ার্ডের কালির চর গ্রামের মো: মনির মোল্লার একমাত্র মেয়ে। সে বাড়ির পার্শ্ববতী পূর্ব কালির চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, মরিয়ম বেগমের বংশীয় দাদা শাহজামাল মোল্লার মিশুক গাড়িতে ঘরের সামনেই চার্জ দেয়া হচ্ছিল। মরিয়ম বেগম সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চার্জের ব্যাটারির কাছে যায়। এ সময় পুরুষরা জুমার নামাজে ও মহিলারা রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকায় মরিয়মকে কেউ দেখতে পায়নি। পরে বাড়ির লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে গলাচিপা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ফেরদৌস আলম খান জানান, অভিভাবকরা এসেছিলেন। অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।




বরিশালে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১৩ গাড়িকে জরিমানা

বরিশাল অফিস :: ঈদের যাত্রা বরিশাল জেলার মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নিশ্চিত করতে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে বরিশালের জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নিরবচ্ছিন্ন ভাংগা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল জেলার গৌরনদী, উজিরপুর, বাবুগঞ্জ, বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জ উপজেলায় অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে করতে মোবাইল কোর্ট অভিযানের অংশ হিসেবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় তারা স্পিডোমিটার দিয়ে গাড়ির গতিসীমা পরীক্ষা করেন। দূরপাল্লার গাড়িগুলোকে মহাসড়কে গতিসীমা মেনে চলতে সতর্ক করা হয়। এ সময় রুটপারমিট বিহীন গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রভৃতি অপরাধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর বিধান মোতাবেক ১৩ টি মামলায় ৩২ হাজার ৫ ০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। যাত্রী ও সড়ক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন বরিশালের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 




কলাপাড়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আফছানা নামের ১৩ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে কলাপাড়া থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী গ্রামের গাজী বাড়ি এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। মৃত আফছানা ওই এলাকার নূরসায়েদ সিকদারের মেয়ে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

মৃতের ভাই আবু সাইদ জানান, প্রতিদিনের মতো বাজার করে এসে ঘরের ভিতর থেকে দরজা লাগানো দেখতে পায়। ডাকাডাকিতে কোন সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে বোনের ঝুলন্ত পাঁ দেখতে পাই। সন্দেহ হলে বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে বোনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে, কি কারণে সে গলায় ফাঁস দিতে পারে তার সঠিক কোন কারন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কলাপাড়া থানার এসআই গোলাম মাওলা জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এই ঘটনার থানার একটি ইউ ডি মামলা হয়েছে।




গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে অনুপম ভূইয়া (৩০) নামে এক যুবকের বাড়িতে অন্তরা রানী শীল (২২) নামে এক তরুণী অনশন করছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গলাচিপা সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে শের-ই-বাংলা রোড এলাকায় অনশন করেন ওই তরুণী।

অভিযুক্ত অনুপম ভূইয়া ওই এলাকার অ্যাডভোকেট অরুন ভূইয়ার ছেলে এবং অনশনকারী অন্তরা রানী শীল বরিশাল ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাশতলা, কাশিপুর নামক এলাকার কৃষ্ণ চন্দ্র শীলের মেয়ে।

আরো পড়ুন : জলকেলিতে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

অনশনকারী ওই তরুণী স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সর্ব মহলের প্রশাসনকে অবহিত করেছেন এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও চেয়েছেন।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তরা রানী শীল অভিযুক্ত অনুপম ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অন্তরা রানী শীল গলাচিপা পৌরসভায় আসেন এবং বিকেল থেকে অনুপম ভূইয়ার বাড়িতে অবস্থানসহ অনশন শুরু করেন। এ সংবাদ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ওই বাড়িতে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয়রা ভিড় করতে থাকেন।

অনশনকারী ওই তরুণী বলেন, ‘আমার মামা তাপস শীল এক সময় অনুপমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সেই সুবাদে তাদের বাসায় বেড়াতে যেতাম। যাওয়ার পর থেকে অনুপমের সাথে আমার পরিচয়। দীর্ঘ আট বছর ধরে অনুপমের সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে এমনকি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা আমাকে ঘুরতে নিয়ে যান অনুপম। ঘুরতে গিয়ে বরিশালের একটি মন্দিরে নিয়ে আমাকে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে বিয়েও করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিয়ের আগে ও পরে তিনি (অনুপম) আমার সাথে অসংখ্যবার শারীরিকভাবে মেলামেশা করেছেন। তার প্রমাণ রয়েছে। এরপর হঠাৎ আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন অনুপম। সরকারি চাকরি করবে বলে বিয়ের কথা গোপন রাখতে মিথ্যে প্রলোভনও দেন অনুপম ভূইয়া। এরপর থেকে আজ নয় কাল করে বছরের পর বছর ঘুরাতে থাকে, অনুপমের অন্যেত্রে বিয়ের খবর শুনে আমি (অন্তরা রানী শীল) স্বামীর অধিকার নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে অনুপমের পরিবার আমার সাথে খারাপ আচরণসহ বাড়ির বাহিরে বের করে দেয়ার চেষ্টা চালায় অনুপমের বাবা অরুন ভূইয়া।’

অন্তরা রানী শীল আরো বলেন, ‘স্বামীর অধিকার আদায়ের জন্য আমরণ অনশন করে আত্মহত্যা করবে বলে, খবরটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার আর কোথায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অনুপমের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো পথ নেই। তাই স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনুপমের বাড়িতে অনশন করছি।

আরো পড়ুন : জমে উঠেছে কমলাপুর ইউপি নির্বাচনী প্রচার

বর্তমানে অনুপম গা ঢাকা দিয়েছে। গলাচিপায় বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে।’

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস আলম খান বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মেয়ের সিকিউরিটির কথা চিন্তা করে মহিলা পুলিশ নিয়ে রাতে থানা হেফাজতে তরুণীকে রাখা হয়েছে। সমাধান না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, ‘বিষয়টি অবগত আছি। দুই পরিবারকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করছি।’




বরিশালে হানিফ পরিবহনের চাঁপায় সিএনজি যাত্রী নিহত

বরিশাল অফিস : ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার সানুহার নামক এলাকায় শুক্রবার সকালে ঢাকাগামী বেপরোয়াগতির হানিফ পরিবহনের একটি বাসের চাঁপায় দুমড়ে মুচরে গেছে বরিশালগামী সিএনজি।

এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম কিবরিয়া (৩৫)
নামের এক সিএনজি যাত্রী নিহত ও চালকসহ এক যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

নিহত গোলাম কিবরিয়া বরিশাল নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাবাড়ি মোড় এলাকার বাসিন্দা। উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত ) তৌহিদুজ্জামান তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ১০ টার দিকের এ মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত যাত্রী জাহিদুল ইসলাম ও সিএনজি চালক মোস্তফা হাওলাদারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি হানিফ পরিবহনের ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে।




ভোলার বঙ্গবন্ধু উদ্যান : নির্মল প্রকৃতির প্রাণের আধার

বরিশাল অফিস :: একদিকে সবুজ প্রকৃতির ছোঁয়া, তেঁতুলিয়া নদীর সলাৎ সালাৎ ঢেউ, বিকেলের সূর্যের বর্ণিল আলোচ্ছটা, প্রকৃতির নির্মল বাতাস মোহমুগ্ধ করে রাখে নানা বয়সী দর্শনার্থীদের। অন্যদিকে উদ্যানে মনকাড়া নানা আয়োজন দেখতে দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থী যখন কিছুটা ক্লান্ত; তখন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে দিনের আলো নিভে গিয়ে এক হাঁটু সন্ধ্যা নামে। ঈদ বিংবা ছুটির দিয়ে এখানে তিল ধারণের ঠাঁই থাকেনা। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তেঁতুলিয়া নদীর পাড় ঘেঁষে প্রায় ২ একর এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’। এটি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গ্রামের বাড়ির পেছনের অংশে। যদিও ভৌগলিকভাবে এর অবস্থানে ভোলা সদরে কিন্তু বলা চলে এটা ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলার মিলনস্থলে। জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্পট পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছে উদ্যানটি।

তেঁতুলিযার মাঝ থেকে দেখে মনে হয়, কোনো রাজবাড়ির ঘাট। বিকেলের মিষ্টি আলোয় বর্ণিল হয়ে ওঠে ঘাটের সিঁড়ি। ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে তেঁতুলিয়া নদীর নীল জল পর্যন্ত। ঘাটে গেলে চোখে পড়ে চারদিকের অপরূপ, নয়নাভিরাম দৃশ্য। রাস্তা থেকে পার্কে প্রবেশের বিশাল সুন্দর ফটক। সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর ¯্নহেধন্য তোফায়েল আহমেদের স্মৃতিময় ছবি সাঁটা। নিচে সড়ক থেকে উঁচু বাঁধে উঠে গেছে সমান্তরাল সড়ক। বেড়িবাঁধে উঠে, আবার সিঁড়ি নেমে গেছে নদীর জলসীমানায়। তেঁতুলিয়া নদীর তীরসহ বেড়িবাঁধ পাকা ব্লক মুড়ে দেওয়া হয়েছে। মাঝেমধ্যে জলচৌকির মতো রঙ করা আরসিসি ব্লক উঁচু রাখা হয়েছে বসার জন্য। পার্কের পূর্ব পাশ পরিচিত কান্ট্রিসাইড’ নামে, আর পশ্চিম পাশের নাম ‘রিভারসাইড’। কান্ট্রিসাইডে নানা রকম রাইড আছে শিশুদের জন্য। নৌকা, দোলনা, চরকি, নাগরদোলা। পার্কে প্রবেশ করতে বা নদীতে সাঁতার কাটতে টাকা লাগে না। বেড়িবাঁধে ওঠার জন্য অনেক সিঁড়ি। বাঁধের ওপর আছে গোলঘর। শানবাঁধানো গোল বেঞ্চ, গোলাকার টেবিল।

শানের পাকা চাল। সেখানে মানুষেরা দল বেঁধে আড্ডা দেয়, চলে গল্পগুজব। পর্যটকেরা সাধারণত দুপুরের পর এই বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ভিড় জমায়। এখানে বসে বিশাল তেঁতুলিয়া নদীর রূপ দেখা যায়। ওপরে বিস্তৃত নীল আকাশ। নিচে নীল জল।

নীল ঢেউ। কখনো ছোট, কখনো বড়। ছোট ছোট ডিঙিতে বসে জেলের জাল ফেলা, নদীর মাছ ধরা, রাজহংসের সাঁতার, নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরের ধান, হোগলা পাতার দোল, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির উড়ে চলা, এরই মধ্যে ভোঁ ভোঁ হর্ন বাজিয়ে

ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ ছুটছে যাত্রী নিয়ে। ছুটছে জেলেদের ট্রলার। গাছের ডগায় ডগায় কখনো বুলবুলি, কখনো ফিঙে উড়ছে। স্পিড বোট,নৌকা বাঁধা আছে সারি সারি।

ইচ্ছা হলে অল্প-স্বল্প টাকা দিয়ে নদীতে একচক্কর দেওয়া যায়। শিশুরা যখন নাগরদোলা, দেলনা, চরকিতে চড়ে হৈ-হুল্লোর করে তখন আবহমান বাংলার চিরায়ত ছবি ভেসে ওঠে।

২০১৩-১৪ সালের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড তেঁতুলিয়ার ভাঙন রোধে এখানে সিসি ব্লক স্থাপন করে। পরবর্তীকালে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতারুল হাসান স্বপন ব্যক্তিগত অর্থায়নে উদ্যানটি নির্মাণ করেন এবং তা

ধীরে ধীরে আধুনিকরূপ নেয়। এখনও আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ভ্রমণপিপাসুদের প্রিয় স্থান হিসেবেই মন জয় করেছে উদ্যানটি।




মামার বিয়েতে এসে লাশ হয়ে ফিরলো ভাগ্নে

বরিশাল অফিস :: মামার বিয়েতে এসে পানিতে ডুবে মারা গেছে চার বছরের ভাগ্নে মোঃ সামি। হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলার বরিশাল গৌরনদী উপজেলার গেরাকুল গ্রামে। শুক্রবার সকালে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সুমন বেপারী জানান, মৃত সামি পাশ্ববর্তী আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের সালতা গ্রামের বাসিন্দা মহসিন সরদারের ছেলে।

তিনি আরও জানান, সামি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে বুধবার সকালে মামা সবুজ বেপারীর বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে সবার অজান্তে সামি মামা বাড়ির পুকুরে পরে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর পুকুর থেকে শিশু সামিকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কত্যর্বরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।




বরিশালে ট্রাক ভর্তি আলু লুটের মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস : ট্রাক ভর্তি আলু লুটের মামলার আসামি সাইফুল ইসলামকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে জেলার গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতর বিরুদ্ধে ডাকাতি ও প্রতারনার একাধিক মামলা রয়েছে।

শুক্রবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম রসুল মোল্লা জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার তাজহাট থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি সাইফুল বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। পুলিশ সুপারের এমন বার্তা পাওয়ার পর মহাসড়কে চেকপোষ্ট বসানো হয়। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নবীনবরন পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশী চালিয়ে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার আব্দুল মাজেদের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাজহাট থানার এসআই জিল্লুর রহমান জানান, গত ৪ এপ্রিল রংপুরের রিয়াজ নামের আলু ব্যবসায়ী সাতক্ষিরায় এক ট্রাক আলু প্রেরনের জন্য সাইফুল ইসলামের ট্রাক ভাড়া করেন। পরবর্তীতে ট্রাকে ২৩৫ বস্তা আলু ভর্তি করে পাঠানো হয়।

পরেরদিনও সাতক্ষিরায় আলু না পৌঁছানোর কারণে মোবাইল ফোনে সাইফুলের সাথে যোগাযোগের পর তিনি নানা তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি ব্যবসায়ির কাছে ট্রাকের যে কাগজপত্র দেওয়া ছিলো তাও ভূয়া। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

জিল্লুর রহমান আরও জানান, বুধবার ভোলা থেকে ট্রাক চালক মোক্তার হোসেন খন্দকারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপর আসামি সাইফুলকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৌরনদী হাইওয়ে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।