বরিশালে কারেন্ট জাল ও মাছ সহ আটক ২৫

বরিশাল অফিস :: বরিশালে অঞ্চলের নৌপুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমানে কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সহ ২৫ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল অঞ্চলের নৌপুলিশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির।

গত শনিবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বরিশালের কীর্তনখোলা ,কালা বদর,আড়িয়াল খাঁ,মেঘনা ও তেতুলিয়া সহ বিভিন্ন নদীত অভিযান পরিচালনা হয়।

এসময় বরিশাল অঞ্চলে নৌ-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট পৃথক অভিযান চালিয়ে নদীতে পাতানো অবস্থায় ৫৭ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও ১৩০০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সহ ২৫ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার কফিল উদ্দিন এর নির্দেশনায় নৌ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার কফিল উদ্দিন জানান, বরিশালের কীর্তনখোলা,কালা বদর, আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা ও তেতুলিয়া সহ বিভিন্ন নদীতে নৌপুলিশ পৃথক অভিযান চালায়। এসময় বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল ও মাছ সহ মোট ২৫ জনকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং মৎস্য কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল গুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি আরো বলেন,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।




বরিশালে ধর্ষণের পর বৃদ্ধাকে হত্যা করে মেঝেতেই পুঁতে রাখা হয় লাশ

বরিশাল অফিস :: মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ পুঁতে রাখা হয় তারই ঘরের মেঝেতে। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনা উদ্ঘাটনের পর বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয় এসব তথ্য।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল গাজীর স্ত্রী রিজিয়া বেগম (৬০) একাই বসবাস করতেন।

প্রায় সাত মাস আগে নিখোঁজ হন রিজিয়া বেগম। গত ১৩ এপ্রিল রিজিয়া বেগমের ছেলে রাসেল বাড়িতে এলে ঘরের ভেতরে মাটির স্তুপ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তারা আদালতের নির্দেশে ঘরের ভেতর থেকে রিজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় বাদী হয়ে ওই দিন মামলা করেন নিহতের ভাই হাওলাদার মাসুদ। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে বরিশাল জেলা পুলিশ। প্রযুক্তির ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- একই ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও তার সহযোগী মৃত কালাম হাওলাদার কালুর ছেলে লালচাঁন (৩২)।

পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও লালচাঁন প্রতিনিয়ত ওই বৃদ্ধার ঘরে ও আশপাশে মাদক সেবন করত। সেই ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ প্রায় সাত মাস আগে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের পর গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে ফয়সাল ও লালচাঁন। এরপর বৃদ্ধার ঘরেই মাটি খুঁড়ে তাকে চাপা দেয় তারা। ফয়সাল ও লালচাঁন দুজনেই মাদকসেবী বলে জানিয়েছে পুলিশ সুপার। গ্রেফতারকৃত দুজনকে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 




বানারীপাড়ায় আমড়া গাছ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়ায় বাড়ির আমড়া গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় জহিরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ রবিবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব সৈয়দকাঠি গ্রাম থেকে মরদেহ লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। জহিরুল ভাড়ায়মোটরসাইকেল চালাতেন।

জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে জহিরুল ইসলামকে বাড়ির আমড়া গাছের সাথে ঝুলতে দেখে স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করে বানারীপাড়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানাসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে যায়।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে উপার্জিত টাকা ঠিকমত সংসারে দিতোনা জহিরুল। মাদক সেবনও করতো সে। এ নিয়ে শনিবার রাতে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে জহিরুল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো মাইনুল ইসলাম জানান, ইউডি মামলা নিয়ে জহিরুলের প্রকৃত মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

 




বরিশালে মৌসুমের তাপদাহে দিনমজুর শ্রমিকরা ক্লান্ত

বরিশাল অফিস : মৃদু তাপদাহ বিরাজ করছে বরিশালে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯.০ ডিগ্রিী সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহে অতীষ্ট প্রাণীকূল।

বিশেষ করে দৈনিক খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। আগামী এক সপ্তাহ এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে বরিশালের জনজীবন বিপন্ন। দিনের বেলা সূর্যের তাপে অতীষ্ট প্রানীকূল। অতি প্রয়োজন ছাড়া প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে চান না সাধারণ মানুষ। পেটের দায়ে কাজে নেমে হাঁসফাঁস অবস্থা দিনমজুরদের।


রিক্সাচালক আবুল হোসেন বলেন, রদ্দুরে গাড়ি চালাইতে পারতে আছি না। ২০-৩০ টাহার ভাড়া খাইট্টা ছাওয়ায় (ছায়া) বইয়া থাহি কি করমু।

কাঠুরে লোকমান মিয়া বলেন, গরমে কাজকাম করতে পারি না। ৬টা কোপ দেলে হেরপর থাহালাগে বইয়া। আগে মাল কাটতাম (লাকড়ি) ১০ থেকে ১৫ মণ। এহন ৫-৬ মনের বেশী কাটতে পারেন না।

বৃদ্ধ রহম আলী বলেন, বাইরে নামলে ছাতি মাথায় দিয়া হাটি। গাছতলায় গাছতলায় থাহি। গরমে টেকতে পারি না। মনে হয় জানডা বাইরাইয়া গেলো।

অপরদিকে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ম কির্তনখোলা নদীতে দুরান্ত শিশুরা সহ বৃদ্ধরা নদীতে নেমে ঞন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে গোসলের নামে শরীরটাকে শিতল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এছাড়া পার্কে যারা একটু শিতল হতে এসেছে তারাও বেঞ্চে বসে সময় পাড় করছে আবার কেহ কেহ ঘুমিয়ে শরীররকে শিতল করছে। এদিকে একটি বেসরকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের পথচারীদের মাঝে স্যালাইনযুক্ত ঠান্ডা পানি সরবরাহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো.মাযহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার অন্তত ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে মৃদু তাপ প্রবাহ চলছে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯.০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা
চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। আজ কিছুটা তাপমাত্রা কমে এসেছে রবিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

 




বরিশালে চাপকলে উঠছে না পানি বিপাকে মানুষ

বরিশাল অফিস : নগরের পর এবার বরিশালের আশপাশের গ্রামেও একে একে অকেজো হচ্ছে টিউবওয়েল। দীর্ঘসময় চাপার পরও এসব কলে উঠছে না পানি।

রবিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে চাপকলে পানি না ওঠার নতুন এ বিপদ যোগ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

উত্তাপের বিপদ সংকেতের মধ্যেই মাইলের পর মাইল দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংকটাপন্ন এলাকাগুলোয় ১৩০টি মেশিনে চলা পানির পাম্প বসানোর কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে তাতে সংকটের ছিটেফোঁটাও মিটবে না বলছে ওইসব এলাকার জনগণ।

বরিশাল নগর থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন। সেখানকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৫২) ছন্দ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন বলেন, গত ক’দিন এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাপার পরও একই অবস্থা।একই কথা বলেন নগরসংলগ্ন কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক কলাডেমা এলাকার বাসিন্দা রায়হান মল্লিক।

তিনি বলেন, গরমের তীব্রতা বাড়ার আগে ২-১টা টিউবওয়েলে যাও পানি উঠত এখন আর তাও মিলছে না। আশপাশের যেসব বাড়িতে টিউবওয়েলের সঙ্গে পানি ওঠানোর পাম্প (সাবমারসিবল) লাগানো আছে তারাই কেবল পানি পাচ্ছে। আমরা যারা সাধারণ টিউবওয়েল ব্যবহার করি তাদের টিউবওয়েল অনেকক্ষণ চাপার পরও পানি ওঠে না।

জাগুয়া ইউনিয়নের হুমায়ুন কবির চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, পানি না ওঠার কারণ জানতে গিয়েছিলাম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। তিনি বলেছেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে নাকি এ অবস্থা হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরিভাগ থেকে ৮-১০ ফুট নিচে থাকলে চাপকল চেপে পানি ওঠানো সম্ভব। কিন্তু বরিশাল নগরসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে টিউবওয়েল চেপে সেই পানি ওঠানো যাচ্ছে না।

এটা ঠিক এখনও মাটির ৯১০ থেকে ৯২০ ফুট নিচেই মিলছে সুপেয় পানি। কিন্তু স্তর চাপের অবস্থান ৮-১০ ফুট থেকে নেমে চলে গেছে ২৩-২৪ ফুট নিচে। যে কারণে একই সঙ্গে বিকল হয়ে পড়েছে শত শত টিউবওয়েল। এ সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরসংলগ্ন ৫ ইউনিয়নে। আবার এসব ইউনিয়নের যে জায়গাগুলো নগর থেকে খানিকটা দূরে সেখানে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে চরবাড়িয়া, চরকাউয়া, রায়পাশা-কড়াপুর, কাশিপুর এবং জাগুয়া ইউনিয়নে। সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার সময় এসব ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা নগরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্ধিত এলাকা নামে পরিচিত সেসব এলাকাতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল নগর এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নগামিতা কিন্তু আরও ভয়াবহ। মূলত তার প্রভাবই পড়ছে নগরসংলগ্ন এসব ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ স্তরে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বরিশাল নগরে টিউবওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৮-১০ বছর আগে। অগণিত বহুতল ভবন নির্মাণ ও এসব ভবনের বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিতভাবে পাম্প বসিয়ে পানি ওঠানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আনায় ভূ-উপরিতল থেকে মাত্র ৮-১০ ফুট নিচে থাকা পানির স্তর নেমে গেছে ৪২-৪৩ ফিট নিচে।

ফলে এখন যে কেবল টিউবওয়েলে পানি উঠছে না তা নয়, সুপেয় পানির স্তর পর্যন্ত তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। আগে যেখানে বরিশাল নগরে ৭৫০ থেকে ৮শ ফুট নিচে গেলেই মিলত বিশুদ্ধ পানি সেখানে এখন সাড়ে ৯শ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বরিশাল নগরে পানির হাহাকার পড়বে।

রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো ইউনিয়নে হাতে গোনা কিছু সাবমারসিবল রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহে সেগুলোতেই ছুটতে হয় মানুষকে।

এছাড়া গোসলসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে পুকুর কিংবা খালের পানি। চলমান হিট অ্যালার্মে একটু খাবার পানির জন্য মানুষ যে কতটা কষ্ট করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। কথা ছিল জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় এখানে বেশ কিছু ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় এখন নাকি তাও বসানো হবে না।

বরিশাল সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আলোচ্য ৫ ইউনিয়নে আমাদের দেড় হাজারের মতো টিউবওয়েল রয়েছে যার অধিকাংশই কাজ করছে না।

রাজস্ব খাতভুক্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে এসব ইউনিয়নে ১৩০টি টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছে। এসব টিউবওয়েলে সাবমারসিবলের পাশাপাশি জলাধার বসানোর কাজ করছি আমরা। এখানে প্রতিটি টিউবওয়েলের সাথে থাকা জলাধারেও সংরক্ষিত থাকবে পানি। আগে যেসব সাবমারসিবল বসানো হয়েছে তার সঙ্গে এগুলো যোগ হলে পানির সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে আশা করছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেই মূলত সমস্যাটা বেশি হয়। বিশেষ করে গত ২-৩ বছর যাবত। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বর্ষাকালে কিন্তু পানির স্তর ৮-১০ ফুটের মধ্যে চলে আসে। তখন সব চাপকলই কাজ করে। এ বছর গরমের শুরু থেকেই পানি উঠছে না। সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমরা। আশা করি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 




ইয়াবা সেবনে বাধা: বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ২

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধা রিজিয়া বেগমকে (৬০) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বাকেরগঞ্জের মধ্যকাটাদিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রোববার (২১ এপ্রিল) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।

গ্রেফতার যুবকরা হলেন— বাকেরগঞ্জের মধ্যকাটাদিয়া গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে মো. ফয়সাল (৩৫) ও একই এলাকার মৃত কালাম হাওলাদার কালুর ছেলে লালচাঁন (৩২)।

পুলিশ জানায়, অন্তত ৭ মাস আগে অভিযুক্তরা গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে বৃদ্ধার বসতঘরে লাশ মাটি চাপা দিয়ে রাখে। বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে রাসেল গাজী চাকরির সুবাদে স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকার সুবাদে ৬ মাস আগে সবশেষ মায়ের সঙ্গে কথা হয় বলে জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের মধ্য কাটাদিয়া গ্রামের মৃত জয়নাল গাজীর স্ত্রী রিজিয়া একাই বসবাস করতেন। প্রায় সাত মাস পূর্বে নিখোঁজ হন রিজিয়া বেগম। গত ১৩ এপ্রিল রাতে বৃদ্ধার ছেলে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলে ঘরের ভিতরে কবর সাদৃশ্য মাটির স্তূপ দেখে পুলিশে খবর দেয়। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল রিজিয়ার ভাই হাওলাদার মাসুদ অজ্ঞাত আসামি করে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে বরিশাল জেলা পুলিশ।

পুলিশ সুপার ওয়াহিদু ইসলাম আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে এ ঘটনায় জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার দুই যুবক বৃদ্ধার বসতঘরের পাশেই ইয়াবা সেবন করতো। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় ঘটনার দিন অর্থাৎ প্রায় সাত মাস আগে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায় ফয়সাল ও লালচাঁন। এরপর বৃদ্ধার ঘরেই মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দেয় তারা। গ্রেফতার দু’জনই মাদকসেবী। তাদের আদালতের মাধ্যমে রোববার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এ বিষয়ে নিহতের ছেলে রাসেল গাজী জানান, আমি ও আমার স্ত্রী চাকরির জন্য ঢাকাতে থাকি। সর্বশেষ ছয় মাস আমার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। এরপর আর আমাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এবার রোজার ঈদে বাড়িতে এসে দেখি মায়ের বসতঘর তালাবদ্ধ। তারপর ঘরের একাংশ ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে দেখি মেঝেতে একটি অংশ লেপ ও কাঠের গুঁড়ির কিছু অংশ দিয়ে ঢেকে রাখা। এতে আমার সন্দেহ হলে তা সরিয়ে কবর সাদৃশ্য কিছু দেখতে পাই। পরে আমরা মাটি খুঁড়ে আমার মায়ের লাশের সন্ধান পাই।

 




বরিশালে লাঠির আঘাতে মামাকে খুনের ঘটনায় ভাগ্নে-ভাগ্নি গ্রেফতার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের সময় লাঠির আঘাতে মামাকে খুনের ঘটনায় ভাগ্নে ও ভাগ্নিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (২১ এপ্রিল) এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিনুল হক।

শনিবার দুপুরে উপজেলার তর ইলিশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরপর নিহতের মেয়ে সনিয়া হিজলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রেক্ষিতে রোববার মেহেন্দিগঞ্জ থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত মামা আনিস খা (৪৫) ওই গ্রামের রুস্তুম আলী খানের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন নিহতের আপন বোনের ছেলে রিপন বেপারী (২৯) ও মেয়ে রিপা (২৪)। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা ও শাহজাহান বেপারীর ছেলে।

এ বিষয়ে উপজেলার দড়ির চর খাজুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মকিম তালুকদার বলেন, পারিবারিক কলহের সময় ভাগ্নের লাঠির আঘাতে মামার মৃত্যু হয়েছে। কোন বিষয়ে এ কলহের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে কেউ কিছু প্রকাশ করেনি।

বরিশাল মেহেন্দিগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় আইনানুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে। গ্রেফতার দুই ভাই-বোনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি ইয়াসিনুল হক বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ সময় ভাগ্নে রিপন লাঠি দিয়ে মামা আনিসের মাথায় সজোরে আঘাত করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের বাংলা চিকিৎসা (শেবাচিম) হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন স্বজনরা। কিন্তু, পথিমধ্যে আনিসের মৃত্যু হয়।




ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৩০

বরিশাল  অফিস :: মাদারীপুরে জেলার রাজৈরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন উভয় বাসের অন্তত ৩০ জন যাত্রী।

রোববার (২১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজধানীর ঢাকার দিকে যাচ্ছিল।

বাসটি রাজৈর উপজেলার আলমদস্তা বড় ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী কাজী পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের কমপেক্ষ ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস দুটির চালক আটকা পড়ে।
পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
প্রত্যক্ষদর্শী টুটুল বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি বলেন, দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পরে বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়ে যায়। পরে বাসের সামনের অংশ কেটে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা।

আহত এক যাত্রী মারুফ হাসান বলেন, কাজী পরিবহনের যাত্রী আমি। ভুরঘাটা নামার কথা ছিল আমার। বাসটি ভালোই চলছিল। আমি মাঝামাঝি সিটে বসা। হঠাৎ সামনে থেকে হানিফ পরিবহনের বাসটি এসে গাড়ির সামনে লাগিয়ে দিলো। পরে বিকট শব্দ আর ঝাঁকিতে বাসে থাকা সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমি সিট থেকে পড়ে গেয়েছিলাম। অল্পের মধ্যে বেঁচে গেছি।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বেশি কিছু যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস দুটির চালক ভেতরে আটকা পড়েছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা তাদের উদ্ধার করি।

দুর্ঘটনার পরে মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে ফের যান চলাচল শুরু হয় জানান ওসি।




বরিশাল বিভাগে বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

বরিশাল অফিস :: তীব্র গরমে বরিশাল বিভাগের চারটি জেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ডায়রিয়া। গত ২০ দিনে প্রায় ১৯ হাজার রোগী জেলা উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা নিয়েছেন। অর্থাৎ গড়ে ৯৪১ জন রোগী প্রতিদিন ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছেন।

রবিবার  (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানবিদ এএসএম আহসান কবির গণমাধ্যমকে জানান, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপাতালে ১১৪ জন, ভোলায় ৮৯ জন, পিরোজপুরে ৯১ জন, বরগুনায় ১৪৭ জন। বিভাগের মধ্যে ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীতে এখনো ডায়রিয়ার রোগী হাসপাতালে ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে ৪৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি বলেন, ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় মোট ১৮ হাজার ৮৩৭ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ভোলায় ৬ হাজার ৬৩৯ জন। এরপরেই বরিশালে ৫ হাজার ২৬০ জন। বরগুনায় ৩ হাজার ৪৭৭ জন, পিরোজপুরে ৩ হাজার ৪৬১ জন। এ ছাড়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ২০ দিনে ১ হাজার ৪০৩ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৮ হাজার ২৫৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বিভাগে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর সংবাদ নেই। রোগীদের যেন দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায় সেজন্য পূর্ব প্রস্তুতি মূলত পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। বিভাগে বর্তমানে ১৭ হাজার ৯২৩ পিস আইভি স্যালাইন মজুদ রয়েছে।

তিনি বলেন, সবগুলো সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া আছে ডায়রিয়া আক্রান্তদের দ্রুত সময়ে চিকিৎসার জন্য। রোগীর সংখ্যা বাড়লে আলাদা ইউনিট করে চিকিৎসা ব্যবস্থা করার।

 




বাউফলে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে বিষপানে মোসা. মৌসুমী আক্তার (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৌসুমী ওই গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন গাজীর মেয়ে এবং কনকদিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনির ছাত্রী ছিলেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে মৌসুমীর মা-বাবা দু’জনই মুগডাল তুলতে বাড়ির পাশে ক্ষেতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে মেয়ে মৌসুমী বিষপান করে। পরে মুমূর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : মামলা থেকে বাঁচতে নবজাতক রেখে চলে আসি – সানজিদা

মৃত্যুর আগে মৌসুমী একটি চিঠি লিখে রেখে গিয়েছেন। প্রেম সংক্রান্ত কারণে মৌসুমী বিষপান করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

মৌসুমীর ফুফু মোসা. পিয়ারা বেগম জানান, আত্মহত্যার পূর্বে মৌসুমী একটি চিঠি রেখে গেছে। তাতে কি লেখা রয়েছে আমরা জানিনা। চিঠিটি পড়ার আগেই পুলিশ আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গেছেন।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. আতিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সময় একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই চিঠিতে কি লেখা রয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রেম-ভালবাসা জনিত কারণে মৌসুমী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।