কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ দুই-তিনদিন থাকার জন্য এসে গরমে একদিন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এ ঈদের পর অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন : তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে সেটি বাতিল করছেন। প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে। এভাবে কমপক্ষে ২৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এ ঈদের পরে হঠাৎ পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি।
তবে প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। দুদিন আগে বুকিং দেওয়া চারটি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় এ বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এ পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আগামীতে আরও এক সপ্তাহ এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, পর্যটকদের বারবার মাইকিং করে সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের সদস্য বাড়তি নজরদারি রাখছে যাতে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলেও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।




তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের তপ্ত তাপদাহে দক্ষিণের জনপদের মাঠঘাট ফেটে চৌচির। শুকিয়ে গেছে পুকুর জলাশয়। প্রচণ্ড গরম ও পানির সংকটে অসহনীয় হয়ে উঠেছে মানুষ ও পশুপাখির জীবন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও বোরো আবাদ। দিশেহারা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ জনপদের কৃষক।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৪৫ দশমিক ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ মিলিমিটার, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ মিলিমিটার, মার্চে ১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৩ সালে জানুয়ারি-এপ্রিল জেলায় ৯৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল রোববার পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮ থেকে ৩৪ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর মধ্যে বদরপুরে ৩৪ ফুট, ইটবাড়িয়ায় ৩০ ফুট, কালিকাপুরে ২৯ দশমিক ৬ ফুট, মাদারবুনিয়ায় ২৯ ফুট, জৈনকাঠিতে ২৮ দশমিক ৭ ফুট এবং লাউকাঠিতে ২৮ ফুট নিচে রয়েছে পানির স্তর। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য ইউনিয়নেরও। এ অবস্থায় পটুয়াখালীসহ পুরো দক্ষিণ জনপদের অনেক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না । এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। সাধারণত ৬ নম্বর হ্যান্ডপাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বসানোর জন্য পানির সর্বোচ্চ স্থিতিতল হয় ২০ থেকে ২৫ ফুট। কিন্তু সদর উপজেলায় পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে নলকূপগুলোর হাতল শক্ত হয়ে পানির ডিসচার্জ কমে যায়। কিছু কিছু নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। পানির সংকট নিরসনে সাবমার্সিবল পাম্প বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ২৪১ হেক্টর, উফশী জাতের ১৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়ায় আবাদ করা মুগ ডাল, তিল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, খরা ও অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের তেমন ক্ষতি না হলেও বোরো আবাদে ক্ষতির শঙ্কা প্রবল। কৃষকরা জমিতে দুই থেকে তিন দিন পানি ধরে রাখতে পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




বরিশালে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

বরিশাল অফিস :: একটানা তাপপ্রবাহে যারপরনাই নাকাল হয়ে পড়েছে দক্ষিণের জনপদ বরিশালের মানুষ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যেন বেড়েই চলছে।

বাইরে আগুনে পোড়া গরমে জীবন দুর্বিষহ হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠছে শ্রমজীবী মানুষরা।

যেখানে সেখানে ছায়া মানুষ বিশ্রাম নিচ্ছে, স্বস্তি পেতে ঠান্ডা শরবত বা ডাব খাচ্ছে।

সব মিলিয়ে গরমে প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রায় এই তাপপ্রবাহ।

যাদের দিন আয়ে দিন চালতে হয় তাদের কাজ না করতে পেরে বেগ পেতে হচ্ছে বেশ। তারা বলেন, প্রচণ্ড গরমে কাজে নামতে পারছে না, কাজ পেলেও আগের মতো করতে পারে না বলে মজুরিও কম পাচ্ছে।

শিশু ও বৃদ্ধদের কাছে গরম এখন অসহনীয় অবস্থায়। আবার ঘরের ভেতরেও শান্তি নেই, গরমের কারণে সবাই ঘামছে, পানিশূন্যতা দেখা দিয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন।

দক্ষিণের সব থেকে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক শাখা জানিয়েছে, গরমের কারণে গত কয়েকদিনে সব থেকে বেশি মানুষ মেডিসিন ও সিসিইউতে ভর্তি হয়েছে। যাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, খিচুনিসহ নানান রোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

আর স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বরিশালের কাছাকাছি তাপমাত্রা গেল দিন তিনটায় সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ফের আজ রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুর তিনটার পর জানা যাবে তাপমাত্রা কত। তবে সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বরিশালে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অনুভুত হচ্ছে। তবুও এই তাপমাত্রা বরিশালের জনজীবনে ত্রাহি ভাব বইছে।

 




ভোলায় কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক!

বরিশাল অফিস:: ভোলায় বাপ্তা গ্রামে ৯নং ওয়ার্ডে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি নির্যাতন করায় স্বামীর বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী উম্মে হাফছা।

ভোলা প্রেস ক্লাবে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে উম্মে হাফছা তার পিতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন, মা বিবি মরিয়মের উপস্থিতিতে নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরেন।

উম্মে হাফছার স্বামী মিজানুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। বাড়ি বাপ্তা কলঘাট এলাকায়।

২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক মতে মিজানুর রহমানের সঙ্গে হাফছার বিয়ে হয়। ৯ মাস আগে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান মাহেরা রহমান। কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। শুরু হয় নতুনমাত্রায় নির্যাতন। মাদ্রাসা করার কথা বলে দাবি করেন ২ লাখ টাকা। ৭০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও হাফছাকে পাঠিয়ে দেন বাবার বাড়ি। ৯ এপ্রিল ডাকযোগে তালাকনামা পাঠান।

এ বিষয়ে হাফছা বেগম লিগ্যাল এইডে অভিযোগ করলে স্বামী মিজানুর রহমান আর এমন কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করেন; কিন্তু আদালত থেকে বেড় হয়ে ফের আগের ভূমিকা ধারণ করেন বলে জানান হাফছা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব মোল্লা সালিশি বৈঠক ডাকলে ওই বৈঠক উপস্থিত হন না মিজান।

মিজানুর রহমান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্ত্রী কথা শোনে না।

হাফছার মা বিবি মরিয়ম বেগম জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। প্রায়ই মেয়ের ওপর নির্যাতন করা হয়। এখন ৯ মাসের শিশু কন্যাকে নিয়ে হাফছা কোথায় যাবে।




দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনায় তেতুলিয়া নদীর তীরে ভেসে আসা সেই অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় জেলার সিআইডি কতৃক ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে লাশের সানক্ত করা হয়েছে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে  লাশ  সনাক্ত করেছেন মামা সবুজ হোসেন।

যুবকের নাম আল আমিন (৩৪) তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার আনন্দবাজার এলাকার জি এম রহমান মঞ্জু ছেলে। মৃত্যু আল আমিন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি এলাকায় বসবাস করতেন, সে পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন।

অজ্ঞাত লাশের সনাক্তকারি মামা সবুজ হোসেন জানান, আমি দীর্ঘ ১৫ বছর ঢাকার নারায়নগঞ্জ ফতুল্লা পঞ্চবটি থাকি। আল-আমিন আমার ভাইগনা ওর মা,বাবা, ভাই-বোন কোহই নাই সেই থেকে এখানে আমার সাথে থেকে বিভিন্ন সময় গাড়ি চালাইতো। আমি বিগত ৪-৫ মাস আগে একটি ট্রাক ক্রয় করি( ঢাকা মেট্রো ট -০৫১৩৯), সেই থেকে ভাইগাই ট্রাক চালায়।

আরো পড়ুন : বাউফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

গত ১৭ এপ্রিল রাতে আমার সাথে কথা হয় ১৩ টন রড নিয়ে বরিশাল যাই। তার পর ১৮ এপ্রিল রাত ১১ টায় কথা হয় বলে আমি বরিশাল কালিশুরি আছি। তার পর আর কথা হয়নি। পরে ফোন বন্ধ পাই অনেক জায়গায় খোজ করে  গতকাল  আামকে একজন লাাশের ছবি দেখায়। আমি দশমিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করি। ২১ এপ্রিল সকালে পটুয়াখালী মর্গে এসে দেখি ওই লাশ আমার ভাইগনা আল-আমিন এর। আমার ভাইগনার সাথে একজন হাসান নামের হেলপার ছিলো ওর বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার হবে। হাসানকে প্রধান আসামি করে দশমিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দাখিল করি।

এর আগে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামের তেঁতুলিয়া নদীর তীর থেকে (২০ এপ্রিল) শনিবার সকাল সাড়ে ৭ টায় হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অজ্ঞাত ওই যুবকের  লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার  জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশের সঠিক পরিচয় পটুয়াখালী সিআইডি টিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর মাধ্যমে সনাক্ত করা হয়েছে। সোস্যালমিডিয়ার মাধ্যমে দেখে আজ সকালে পটুয়াখালী মর্গে এসে তার মামা মোঃ সবুজ লাশের সনাক্ত করেন। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া হাউওয়ে থেকে। আল-আমিনের মামা মোঃ সবুজ বাদী হয়ে দশমিনা থানায় একজনকে আসামি করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। হেলপার হাসানের পরিচয় সনাক্ত করন ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




বাউফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ২য় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২জন এবং মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ২জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহীন শরীফ এর কাছে বিভিন্ন সময়ে প্রার্থীরা এ সব মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।

আরো পড়ুন : ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো.শাহীন শরীফ জানান, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত উপজেলা পরিষদের ২য় ধাপের তফসিল অনুযায়ী আজ রোববার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এই দিন পর্যন্ত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন খান(বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান) মোঃ মশিউর রহমান লাবলু ও সজল কুমার হালদার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো.আনিচুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদাক মো. মাহমুদ রাহাত(জামসেদ) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোসা. মরিয়ম বেগম নিশু (বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) ও মোসা. ঝর্না বেগম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে চিঠি লিখে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

তফসিল অনুযায়ী এ উপজেলায় আগামী ২১ মে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬০ জন।




ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

পটুয়াখালীে প্রতিনিধি :: রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন স্বামী। তারা দু’জনই একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন।

রোববার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আয়েশা আক্তার (২০)। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলার চারবুনিয়া গ্রামে মোশারফ পেদার মেয়ে। থাকতেন টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায়।
গুরুতর আহত হয়েছেন আয়েশার স্বামী খায়রুল ইসলাম (২০)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

পুলিশ জানায়, আজমেরী গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে গাজীপুর যাচ্ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। পথে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্টে আরেকটি গাড়ি তাদের বাসটিকে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। এসময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক আয়েশাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাসুদ মিয়া জানান, মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।




সিজার অপারেশনের পর বরিশালে এক মায়ের মৃত্যু: নারী কেটে ফেলার অভিযোগ স্বজনদের

বরিশাল অফিস :: সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার দুই মাসের মধ্যে নারী কেটে ফেলা সংক্রান্ত জটিলতায় মারা গেছেন এক তরুণী মা। গত ৫ এপ্রিল তার সিজার করা হয়েছিল বরিশালের পূর্ব বগুড়া রোডের সাউথ বেঙ্গল ক্লিনিকে। ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন তার সিজার করেন এবং তারই ত্বত্তাবধানে ১৯ এপ্রিল ঢাকায় রেফার করা হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর রোগীর মৃত্যু ঘটে বলে জানালেন স্বজনরা।

স্বজনদের অভিযোগ ডাঃ দেলোয়ার হোসেন এর ভুল চিকিৎসার কারনেই এই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবী করেন এবং দোষী চিকিৎসক ও ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবী করেন।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি থানাধীন কামারকাঠি গ্রামের আলম শেখ এর ছেলে সাব্বির শেখ মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা গ্রামের লামিয়া আক্তার রিয়া (১৯) কে। তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে এসে গত ৫ ফেব্রুয়ারী সাউথ বেঙ্গল ক্লিনিকে অপারেশন করেন ডাঃ দেলোয়ার হোসেন। অপারেশনের পরপরই কাটা স্থানে ইনফেকশন ধরা পরে। কিন্তু ডাক্তার দেলোয়ার তা গুরুত্ব না দিয়ে চারদিন পর আমাদের রিলিজ দিয়ে দেয়।

এ সময় মৃত লামিয়া আক্তার রিয়ার মা ঝর্না বেগম জানান, বাড়িতে নেয়ার পর থেকেই প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিল মেয়ের। রীতিমতো যন্ত্রণায় কাতরাতে। ডাক্তারের কাছে জানালে সে সেলাই কেটে ঘাঁ পরিষ্কার করে দেন ও ঔষধ দেন। নথুল্লাবাদে ডাক্তার দেলোয়ারের চেম্বার। সেখানে ঘাঁ থেকে রীতিমতো পঁচা গন্ধ হচ্ছিল। তা দেখে রোজার মধ্যে আবারও অপারেশন করেন ডাক্তার। কী করেছেন তিনি জানেন। তবে পায়খানা রাস্তা বন্ধ করে পাইপে মল-মুত্র বের করেন। এরপর ঈদের আগেরদিন আবারো অপারেশন করেন তিনি। তারপরও কোনো উন্নতি না হলে ১৯ এপ্রিল ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে পাঠান বলে জানান ঝর্না বেগম।

এ সময় স্বামী সাব্বির বলেন, সেখানে আইসিউ সাপোর্টে রাখার সব ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দেন ডাঃ দেলোয়ার। কিন্তু আইসিউতো দূরের কথা ঢাকার হাসপাতালে একটা বেডও পাইনি। বলতে পারেন সেখানে নেওয়ার পর বিনাচিকিৎসায় মারা গেছেন আমার স্ত্রী। এই দায় সবটাই ডাঃ দেলোয়ার ও এই সাউথ বেঙ্গল ক্লিনিকের বলে জানান তিনি।

তারা এই ক্লিনিক ও ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে জরুরী শাস্তির দাবী জানানিয়ে আর বলেন, তা না হলে এরা এভাবে ভুল চিকিৎসা করে আরো অনেকের জীবন নিয়ে খেলবে।
২১ এপ্রিল সকালে ঢাকা থেকে রিয়ার মৃতদেহ সরাসরি সাউথ বেঙ্গল ক্লিনিকে আনা হলে স্বজনদের কান্না ও অভিযোগের কারণে এই ঘটনা চারিদিকে জানাজানি হয়। সাউথ বেঙ্গল ক্লিনিকে তখন শুধু আয়া ছাড়া আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে আপোষ মিমাংসা করা হয়েছে বলে জানালেন বরিশাল মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর জিয়ারুল ইসলাম।




বরিশালে স্কুলের নতুন ভবন নির্মান নিয়ে চরম বিরোধ মানববন্ধন

বরিশাল অফিস :: ৮১ বছর পূর্বে স্থাপিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরুর পর রহস্যজনক কারণে স্থান পরিবর্তন করার ষড়যন্ত্রকে ঘিরে স্থানীয় দুইগ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরেছে। এ নিয়ে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গ্রামের উত্তেজিত শত শত নারী-পুরুষ, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবক সদস্যরা আজ রবিবার (২১) এপ্রিল সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রমজানকাঠী এলাকার।

সকাল দশটা থেকে সাড়ে এগারোটার পর্যন্ত স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন চলাকালীন সময় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, যান দেবো তবুও গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানের ৮১ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুল ভবন অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেবোনা। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জিয়াউদ্দিন মনিরের সভাপতিত্বে বক্তারা বলেন, ১৯৪৩ সালে ১নং রমজানকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত হয়। ৩০ বছর পূর্বে ১৯৯৪ সালে স্কুলের ভবন পূনঃনির্মান করা হয়েছে। শুরু থেকে অদ্যবর্ধি স্কুলটি সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি সময়ে স্কুলের নতুন ভবন বরাদ্দ করা হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মের্সাস মালাসি এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধীকারী আশিকুর রহমান শাওন ভবন নির্মান কাজের দায়িপ্ত পান।

পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে ঠিকাদার ভবন নির্মানের কাজ শুরু করেন। ঠিকাদার আশিকুর রহমান শাওন অভিযোগ করে বলেন, ভবন নির্মানের কাজ শুরুর ১৫দিন পর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম তার (ঠিকাদার) কাছে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে স্কুলের ভবন নির্মান করতে দিবেন না বলেও হুমকি প্রদর্শন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঘুষের টাকা না পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক সহকারি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম নানা অজুহাতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপজেলা প্রকৌশলীকে দিয়ে ভবন নির্মানের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার জন্য পত্র প্রেরণ করিয়েছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী সৈয়দ আবুল কালাম বলেন, সু-চতুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ঘুষের টাকা না পেয়ে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ গ্রহণ করে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যেকারণে ৮১ বছরের স্কুল ভবনটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বের উজিরপুর সীমান্তে নির্মানের জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে বরিশাল জজ কোর্টের সরনাপন্ন হওয়ার পর বর্তমান স্থানেই স্কুল ভবন নির্মানের রায় ঘোষণা করা হয়। এ রায়ের পর ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম নতুন করে ৮১ বছরের স্কুলটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।

পরবর্তীতে এলাকাবাসি হাইকোর্টের মাধ্যমে স্কুল অন্যত্র সরিয়ে না নেওয়ার জন্য স্থগিতাদেশ জারি করিয়েছেন। শিক্ষানুরাগী সৈয়দ আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে অতিসম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ভবনটি অন্যত্র নির্মানের জন্য চিঠি প্রেরণ করিয়েছেন।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসির মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ফলশ্রুতিতে বর্তমান স্থানেই নতুন ভবন নির্মানের দাবিসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শত শত গ্রামবাসি একত্রিত হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। সূত্রমতে, এরপূর্বে ঘুষ দাবির অভিযোগে ঠিকাদার উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস

বরিশাল অফিস :: তীব্র তাপদাহের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস হবে এবং পরীক্ষা সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়। রবিবার (২১ এপ্রিল) বিকাল ৪ টায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়,সারাদেশের উপর দিয়ে যে তীব্র তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রভাবে হিট স্ট্রোকসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় বরিশাল বিশ্নবিদ্যালয়ের সকল ক্লাস আগামী ২২ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সময়ে অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষাসমূহ যথারীতি চলমান থাকবে। ২১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ বিকাল ৩টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে শিক্ষার্থীদের হল অথবা বাসায় থাকাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। তবে নিরাপত্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দাপ্তরিক কাজ যথারীতি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই ছুটির ফলে ২৮ এপ্রিল খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ঢাবি, জবি, নর্থ সাউথ, এশিয়া প্যাসিফিকসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দেয়।