বরিশালে শত বছরের ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক শীতল পাটি

*নারীদের নিপুন হাতের ছোঁয়া

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে পাটিকররা তাদের নিপূণতার জন্য শত শত বৎসর যাবৎ প্রসিদ্ধ। উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের কাজলাকাঠী গ্রাম, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া, রাজাপুর গ্রাম ও গারুড়িয়া ইউনিয়নের সুখী নীলগঞ্জ ও হেলেঞ্চা গ্রামে এখনো ঐতিহ্যের অনন্য স্মারক এই শীতল পাটি। এই উপজেলায় এখন এক হাজারের বেশি পরিবার এই শীতল পাটি তৈরী করে সংসার চালাচ্ছে।

উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামে প্রবেশ করে যতদূর দু’চোখ যায় দেখা মিলে পাইত্রাগাছের বাগান। গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে দেখা মিলে বড় বড় পাইত্রা বা মোর্তাগাছের ঝোপ। বাড়ির আঙিনা, পরিত্যক্ত ফসলি জমি, পুকুরপাড়, সব জায়গাতেই বর্ষজীবী উদ্ভিদ তরতাজা পাইত্রাগাছ মাথা তুলে রয়েছে। গ্রামীণ জনপদের আভিজাত্যের স্মারক শীতলপাটি তৈরি হয় এই পাইত্রাগাছের বেতি দিয়ে।

জানা গেছে, এসব গ্রামে পাইত্রাগাছের আবাদ হয়ে আসছে শত শত বছর ধরে। পাটিকরদের পূর্বপুরুষরা যে পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, আজও সেই পেশা ধরে রেখেছেন বাকেরগঞ্জের পাটিকররা। এখনো এই সকল গ্রামগুলোতে পাটিকর পেশায় টিকে আছে প্রায় এক হাজার পরিবার। আর তাদের সবার পেশাই শীতল পাটি বুনন। ফলে উপজেলার এসব গ্রামগুলো‘পাটিকর গ্রাম নামে পরিচিত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠালিয়া, রাজাপুর ও গারুড়িয়া ইউনিয়নের সুখী নীলগঞ্জ ও হেলেঞ্চা গ্রামে এখনো গ্রামীণ সড়ক দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই ছোট ছোট টিন সেট ও আধাপাকা ঘরগুলোর বারান্দায় নারী-পুরুষ ও শিশুরা নানান রঙ্গের শীতল পাটি বুনতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

কাঠালিয়া গ্রামের সবিতা রানীর পরিবারের সবাই মিলে দিনরাত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাটি তৈরি করতে। একটু সামনে এগুতেই কথা হয় পিওলাল পাটিকরের সাথে। তিনি বলেন,পরিবারের পাঁচ সদস্য মিলে একটি পাটি তৈরি করতে কয়েকদিন চলে যায়। প্রতিজনের দৈনিক মজুরি ১০০ টাকা করেও আসেনা। তারপরেও করার কিছু নেই। বাপ-দাদার পেশা হিসেবে এখনো শীতল পাটি বুনে যাচ্ছি। একদিকে এখন গরম বেড়েছে অপরদিকে বৈশাখ মাস চলছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বৈশাখী মেলায় শীতল পাটির চাহিদা থাকে তাই পাইকাররা এসে আমাদের এলাকা থেকে পাটি ক্রয় করে নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় পাটিকররা বলেন, আমাদের তৈরি শীতল পাটি আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু প্লাস্টিক পাটির কারণে বাজারে আমাদের তৈরি শীতল পাটির চাহিদা কমে গেছে। তাই সরকারিভাবে বিদেশে শীতল পাটি রপ্তানির কোনো ব্যবস্থা করা হলে পাটিকরদের জীবন-জীবিকা ভালো থাকতো। পাশাপাশি শীতলপাটি টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া উচিত বলেও তারা উল্লেখ করেন। নয়তো এই পেশায় টিকে থাকা দুঃসাধ্য।

বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ জাইকা সংস্থার মাধ্যমে উপজেলার পাটিকরদের মাঝে বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ফলে নতুন নতুন ডিজাইনের শীতলপাটি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা তাদেরকে সরকারি বিভিন্ন রকম সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।




বরিশালে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে হীরা ধান

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঝে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা জাতের হীরা-৬ ধান। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় চাষীরা রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন হীরা-৬ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। সোমবার সকালে গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মিশন পাড়ার অনুষ্ঠিত হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় কৃষক শওকত আকন জানিয়েছেন, তিনি তার ৬০ শতক জমিতে হীরা-৬ জাতের বোরো ধান চাষ করে এবার বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আগামীতেও তিনি এ জাতের ধান চাষ করবেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে যেসব হাইব্রিড ধান চাষ হয় হীরা-৬ ধান তার মধ্যে অন্যতম। উচ্চ ফলনশীল হওয়ার কারণে এই ধান তাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

সুপ্রীম সীড কোম্পানীর আয়োজনে হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ মৃধার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীর জোনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনিতা মজুমদার। কোম্পানীর রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ আসাদুল আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় পরিবেশক দুলাল রায়, কৃষক শওকত আকন প্রমুখ।

মাঠ দিবসের আলোচনার শুরুতে অতিথিরা কৃষকদের সাথে নিয়ে হীরা-৬ ধানসহ অন্যান্য জাতের চাষ করা কয়েকটি বোরো ক্ষেত পরিদর্শন করে ধানের ছড়া সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে গণনা করে হীরা-৬ ধানের প্রতিটি শীষে গড়ে ৩০৬ থেকে ৩১০টি ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য জাতের ধানে সর্বোচ্চ ২০০টি ধান পাওয়া যায়।

এরপর অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, হীরা-৬ বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা হাইব্রিড ধান। এই জাতের ধানে অন্য যেকোন হাইব্রিড ধানের তুলনায় বেশি ফলন হয়। রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন ১৪৫ দিনের জীবন কাল হীরা-৬ ধানের জাতে প্রতি শতকে এক মনের অধিক ধান পাচ্ছেন কৃষক। পাশাপাশি এ ধানের খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় প্রতি ১০০ মন ধানে ৭৩ মনের অধিক চাল পাওয়া যায়। এছাড়াও এ ধানের চাউলের ভাত অন্যান্য জাতের মতো আঠালো হয়না। সভায় উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বোরো চাষের শুরুতে আগে ভাবতে হবে কোন ধানের বীজ বপন করে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। কারণ এটা শুধু বীজ নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, হীরা-৬ ধান চাষ করে তারা অন্যান্য জাতের চেয়ে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তাই আগামীতেও তারা হীরা-৬ ধান চাষ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যে কয়টি কোম্পানি হাইব্রিড ধানের আমদানির অনুমতি পেয়েছে তাদের মধ্যে একটি সুপ্রীম সিড। কোম্পানিটি বাংলাদেশে প্রথম চীন থেকে বাংলাদেশে হীরা ধানের বীজ এনে বাজারজাত করেন। এরপর তারা নিজস্ব উৎপাদনে যায়। বর্তমানে ৯০ শতাংশ বীজ নিজেরাই উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, হাইব্রিড ধান সাধারণত ৭০-৭৫ শতাংশ পাকলেই কাটতে হয়। কারণ ধান বেশি পাকার ফলে ক্ষেতেই ঝড়ে যায়। তখন হাইব্রিড ধানের বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা হয়। যেকারণে কৃষকদের সচেতনতার জন্যই মূলত হীরা-৬ ধানের মেগা মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে।




সেনা ইউনিটের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে না ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সেনাবাহিনীর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে, তার দেশ তা প্রত্যাখ্যান করবে। খবর বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের একটি সেনা ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সহায়তা কমানোর পরিকল্পনা করছে- এমন খবর প্রকাশের পর দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু এ কথা জানান।

রোববার তিনি বলেন, আমি আমার সমস্ত শক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করব।

এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজ সাইট তাদের প্রকাশিত একটি সংবাদে জানায়, ইসরায়েলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর নেৎজা ইয়েহুদার ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।




কলাপাড়ায় গৃহবধুর রজস্যজনক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিপা আক্তার (১৯) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার দুপুরে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব হাজিপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত নিপা ওই এলাকার শাওন সাজীর স্ত্রী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় ১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৬

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বালিয়াতলী ইউনিয়নের চরনজির গ্রামের বশির মিয়ার মেয়ে নিপা আক্তারের সঙ্গে পূর্ব হাজিপুর গ্রামের স্বপন সাজীর ছেলে শাওন সাজীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নিপা আক্তারের উপর কুনজর পড়ে শশুর স্বপন গাজীর। এছাড়া যৌতুকের জন্য প্রায়ই তাকে নির্যাতন চালাতো শ্বশুর বাড়ির লোকজন । বিষয়টি নিপা আক্তার বেশ কয়েকবার তার বাবার বাড়ির লোকজনকে অবহিত করেছিলো। সকালে শাওন সাজী সাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে যায়। পরে দুপুরে ওই বাড়ি থেকে নিপা আক্তারের গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে নিপাকে হত্যা করা হয়েছে না নিজেই গলায় ফাঁস দিয়েছে সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি কেউ।

আরো পড়ুন : দশমিনায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।




দশমিনায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনা উপজেলায় তেতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরবর্তী এলাকার জেলেদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় ০৪ নং দশমিনা ইউনিয়নে ১৮ শত ৩৬ জন জেলেদের মাঝে দুই মাসের ৮০ কেজি করে এ চাল বিতরন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইকবাল মাহমুদ লিটন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় ১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৬

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মামুন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ হেলাল উদ্দিন ,ইউপি সদস্য মোঃ শাজাহান, মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য  মোসাঃ লাইজু বেগমসহ উপকারভোগী সামুদ্রিক জেলেরা।




পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় ১ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১১৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় তাপদাহের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শুধু এপ্রিলেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন। আর আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন

রোববার রাতে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে সত্তার ফরাজী (৯০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। আর কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন।

কলাপাড়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জে এইচ খান লেলিন জানান,  এ বছরের শুধু এপ্রিল মাসেই হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩১৬ জন। এছাড়াও আক্রান্ত আরও কয়েক হাজার মানুষ আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছে।

তিনি আর জানান, কলাপাড়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি হওয়ার পর থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কলাপাড়া হাসপাতালের বাইরেও উপজেলার মহিপুর ও কুয়াকাটা হাসপাতালেও পাঁচ শতাধিক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

উপকূলে বিশুদ্ধ পানি সংকট ও তাপদাহের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়লেও হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ঔষধ সরবরাহ রয়েছে বলে জানান এই চিকিৎসক।




চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে নগদের ২০ লাখ টাকা উপহারের চেক হস্তান্তর

বরিশাল অফিস :: সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় প্রতিশ্রুতিমতো ফরচুন বরিশালের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের হাতে ২০ লাখ টাকা উপহার তুলে দিয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেড। সম্প্রতি রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে এই চেক হস্তান্তর করা হয়।

নগদের পক্ষে এই চেক তুলে দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর এ মিশুক। আর ফরচুন বরিশালের পক্ষে চেক গ্রহণ করেন দলটির স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান এবং অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ফরচুন বরিশালের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বি, সাইফউদ্দিন, শামীমসহ বরিশাল দলের খেলোয়াড়েরা এবং দলটির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বরিশাল ফরচুনের সঙ্গে নগদের সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও এই দলেরই অধিনায়ক তামিম ইকবাল বেশ কয়েক বছর ধরে নগদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাছাড়া মুশফিকুর রহিম যুক্ত আছেন নগদ ইসলামিকের সঙ্গে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মেহেদী হাসান মিরাজও নানাভাবে নগদের প্রচারের জন্য কাজ করছেন। মূলত নগদের উদ্ভাবনী শক্তি এবং চমকপ্রদ সেবা দেশসেরা তারকাদের নগদের ডেরায় ভিড়িয়েছে। তাছাড়া এবারের আসরের ‘পাওয়ার্ড বাই’ ক্যাটাগরিতে বিপিএলের সঙ্গে যুক্ত ছিল নগদ।

অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও বরিশাল ফরচুন দলের আমন্ত্রণে এবারের বিপিএল ফাইনালে খেলাও দেখতে গিয়েছিলেন নগদের প্রধান নির্বাহী তানভীর এ মিশুক। ফাইনালের আগে ব্যাট করা কুমিল্লা ছয় উইকেটে ১৫৪ রান করে। জবাবে চার উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বরিশাল। অধিনায়ক তামিম ইকবাল ২৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। তামিম টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

বরিশাল বেশ কয়েকবার ফাইনালে গিয়েও এর আগে শিরোপা জিততে পারেনি। এবারও তাদের নিয়ে কোনো হইচই ছিল না। বরং তাদের ‘বুড়োদের দল’ হিসেবেও বলেছে অনেকে। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হতেই সব আলোচনা বদলে দিয়েছেন তাঁরা। প্রবল দাপট দেখিয়ে উঠে এসেছেন তারা ফাইনালে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরেই আত্মহারা আনন্দে মেতে ওঠে বরিশাল। সেখান থেকে ভিডিও কলে তানভীর এ মিশুককে যুক্ত করেন দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তানভীরও তামিম এবং তাঁর দলকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কারের ঘোষণা দেন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দলের মধ্যে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বয়ে যায়।

এই প্রতিশ্রুত অর্থ ঈদের আগেই বরিশালের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এক অনুষ্ঠানের ভেতর দিয়ে। অর্থ হস্তান্তরের সময় বরিশালের অধিনায়ক এবং দেশ সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল বলেন, তানভীর ভাই অত্যন্ত ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ। তিনি শুরু থেকে আমাদের বরিশাল দলের সাথে ছিলেন এবং সবসময় খোজখবর রেখেছেন। কেবল আমরা এখানে খেলেছি বলে নয়, উনি ক্রিকেট প্রেমের কারণেই বরিশালের সাথে থেকেছেন। আমরা খুবই খুশি যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ওনার কাছ থেকে এই শুভেচ্ছা উপহার পেলাম। এটা দলের সবাইকে উৎসাহ জোগাবে।

ফরচুন বরিশালের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান এই অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা অনেকবার ফাইনালে উঠলেও শিরোপা এর আগে জিততে পারিনি। ফলে এবারের আনন্দটা আসলেই বিশেষ রকমের। আমাদের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করায় আমি নগদ এবং তানভীর এ মিশুক ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।

সবশেষে চেক হস্তান্তর করে তানভীর এ মিশুক বলেন, বিপিএলের একটি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে আমরা পুরো টুর্নামেন্টের সাথেই একাত্ম ছিলাম। এরমধ্যে বরিশাল দলকে সবসময় আমার নিজের দল বলে মনে হয়েছে। আমার কয়েকজন প্রিয় খেলোয়াড় ও নগদের প্রতিনিধি এই দলে খেলেছেন। ফলে আমরা এটাকে আমাদের দল বলেই মনে করেছি।

উল্লেখ করা যেতে পারে তামিম ইকবাল ও তানভীর এ মিশুকের উদ্যোগেই একটি পাঁচতারকা হোটেলে এবার ইফতারি ও নৈশভোজ করানো হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের। সেই সাথে এই কর্মীদের ৫০ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিয়েছেন নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা তানভীর এ মিশুক।




পটুয়াখালীতে প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের দাবিতে মানবন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘প্ল্যানেট বনাম প্লাস্টিক’ প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার দাবীতে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, আমরা কলাপাড়াবাসী, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড, কুয়াকাটা তরুণ ক্লাব ও কুয়াকাটা বয়েস ক্লাব এর আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন চর চাপলি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে চর চাপলি ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী আলী আহম্মেদ বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের অতি ব্যবহারের কারণে মানুষ ক্যানসারসহ প্রাণঘাতী নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তেমনি নদীনালা ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতাসহ পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে সভ্যতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পলিথিন নিষিদ্ধ আইনের কঠোর বাস্তবায়ন করার দাবি করেন।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

ধোলাই মার্কেট মৎস জেলে সমিতির সভাপতি ওবায়দুল বলেন, এক বছরে সাগরে ফেলা হয় ২২ কোটি পাউন্ড প্লাস্টিক বর্জ্য। দূষণের ক্ষেত্রে প্লাস্টিক বর্জ্য এমনিতেই ভয়াবহ। সমুদ্র দূষণের ক্ষেত্রে একক দূষক বস্তু হিসেবে এটি সবার ওপরে। এর কারনে মাছের আকাল পড়েছে।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কলাপাড়া প্রতিনিধি কামাল হাসান রনি বলেন, নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, বনভূমির ধ্বংস, কলকারখানা বৃদ্ধি, গ্রিনহাউজ গ্যাসসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক গ্যাসের নিঃসরণ, ক্ষতিকারক কেমিক্যালের ব্যবহারের কারনে আজকের মাটি,পানি,বায়ু দূষণ, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া,জীববৈচিত্র্য বিলীন হচ্ছে, পাশাপাশি জীবন সংকটে রয়েছে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন সিপিপি টিম লিডার জসিম উদ্দিন খলিফা, সমাজসেবক লুৎফুল হাসান রানা সহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থী-সুধীজনরা, বিভিন্ন পেশার মানুষ বনাঞ্চলে সেই আগের মতো সবুজ বনানী আর নির্মল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।




বরিশালে কারা মুক্তিপ্রাপ্ত ওলিউল ইসলাম এর নতুন জীবনের সূচনায় ভ্যান গাড়ি বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতি, সমাজসেবা অধিদফতর এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জামিনে মুক্তি পাওয়া একজন কয়েদিদের নতুন জীবনের সূচনার জীবিকা নির্বাহের জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের উদ্যোগে এবং অপরাধী সংশোধন ও পূনর্বাসন সমিতির পক্ষ থেকে মঙ্গলবার( ২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে ২৪ বছর সাজা প্রাপ্ত আসামি ওলিউল ইসলামকে ভ্যান গাড়ি প্রদান করা হয়।

 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুম্পা শিকদার, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার রত্না রায়, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় উপ-পরিচালক এ.কে.এম. আখতারুজ্জামান,
জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ হোসেন চৌধুরী, নারীনেত্রী প্রফেসর শাহ সাজেদা, জেলা প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, সমন্বয়কারী অবসোসালাইন লিমিটেড রফিকুল ইসলাম, সদস্য বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী বিজয় কৃষ্ণ দে, সদস্য সুরভী গ্রুপ এন্ড কোম্পানির পরিচালকসহ আরও অনেকে।

ওলিউল ইসলাম (৫৮) ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা, স্ত্রী রুশিয়া বেগম তাদের ৩ ছেলে ১ মেয়ে। ২০০০ সালের মার্চ মাসে আপন বোন জামাই এর সাথে জমি জমা সংক্রান্ত মারামারির ঘটনায় আপন ২ বছরের ভাগ্নি রজিনা বেগম এর মৃত্যু হয়। বোনের জামাই এর দায়ের করা মাডার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২৪ বছর যাবজ্জীবন কারা ভোগ শেষে গতো ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ সালে মুক্তি পান। ওলিউল ইসলাম তার নতুন জীবনের সূচনায় আজ তাকে ভ্যান গাড়ি বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য কয়েদিদের মাঝে লুঙ্গি ও শাড়ি বিতরণ করা হয়।




যুদ্ধে অর্থ ব্যয় না করে জলবায়ুতে করলে বিশ্ব রক্ষা পাবে: প্রধানমন্ত্রী

বরিশাল অফিস :: বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অস্ত্র সরবরাহ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহে অর্থ ব্যয় না করে জলবায়ুতে ব্যয় করলে বিশ্ব রক্ষা পেতো।

সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে বাংলাদেশে প্রথমবারেের মতো আয়োজিত ন্যাশনাল এডাপটেশন প্ল্যান (ন্যাপ) এক্সপো-২০২৪ এর উদ্বোধনে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় উন্নত দেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জলবায়ুর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ুর সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জলবায়ুর লজ অ্যান্ড ডেমেজ ফান্ড আদায়েও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ তৈরির লক্ষ্যে বিশ্বের সব অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণ ১.৫ এ রাখার জন্য উন্নত দেশ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বাজেট বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব দেশ ন্যাপ বাস্তবায়ন করেছে তারা যেন আর্থিক সহায়তা পায় সেদিকে সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে সহায়তা এবং অভিযোজন ও প্রশমন বাজেট প্রদান করতে হবে। আমার প্রত্যাশা এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।’