গলাচিপায় পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক ঘটনায় ঈসা (২) ও সুমাইয়া (৩) নামের দুইটি শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঈসার বাড়ি দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্টার বাজার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

শামিম বয়াতির দুই ছেলের মধ্যে ঈসা ছোট ছেলে।

জানা গেছে, শামিম বয়াতীর ঘরের সামনে উঠানে ঈসা খেলা করছিল। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে উঠানের সাথেই পুকুরে পড়ে যায়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায় ঈসাকে দেখে পানি থেকে তীরে তুলে তাৎক্ষণিক গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে।

আরো পড়ুন : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালিপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: নজির আহমেদ সরদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অপর দিকে গলাচিপা উপজেলায় রতনদী তালতলী ইউনিয়নের উলানিয়া গ্রামের রাকিব মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (৩) নামের শিশু পানিতে পড়ে মারা যাবার খবর পাওয়া গেছে। সুমাইয়াকে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত্যু ঘোষণা করে।




পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার খামখেয়ালিপনায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মহিপুরে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়– রোববার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের শাহআলমের মেয়ে শারমিন বেগমের সন্তান প্রসব বেদনা শুরু হলে পরিবারের লোকজন ওই প্রসূতিকে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ মহিপুর কেয়ার মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গাইনি বিভাগে ডা. ফারহানা রহমান সুমীর শরণাপন্ন হন। তিনি রোগীকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার ও তার গর্ভের সন্তানের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে কলাপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সে রেফার্ড করেন এবং সেখানে ভর্তি থেকে রোগীকে সিজারের পরামর্শ দেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

স্বজনদের সূত্রে আরও জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নূরজাহান বেগম প্রসূতি শারমিনের বাচ্চা নরমালে প্রসবের কথা বলে ৫ হাজার দর কষলে পরে ৩ হাজার টাকায় রাজি হন। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা নরমালে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করে সে ব্যর্থ হলে প্রসূতির পরিবারের লোকজন প্রসূতিকে সিজারে নিতে চাইলে তিনি প্রসূতি নরমাল ডেলিভারির জন্য শারমিনকে মারধর করেন বলে ভুক্তভোগীর পরিবারে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে তাহার ভুল ও অনভিজ্ঞ প্রচেষ্টার কারণে একটি মৃত্যু মেয়ে সন্তান প্রসব হয়। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের ফলে প্রসূতি এখন মৃত্যু পথযাত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নূরজাহান বেগম একই স্থানে দীর্ঘ ২৮ বছর থেকে বীরত্বের আরও বহু এরকম ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নুরজাহান বলেন, গর্ভ থেকে মৃত বাচ্চা প্রসব হয়েছে। প্রত্যেকটা প্রসবই আমি একটি ফি নিয়ে থাকি। সেই অনুপাতে তাদের সঙ্গে তিন হাজার টাকা চুক্তিতে কাজ করেছি।

ডাক্তার ফারজানা রহমান সুমি বলেন, রোববার বিকেলে রোগী আমার কাছে আসলে আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ক্রিটিক্যাল মোমেন্ট দেখতে পাই। আমি তাদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে সিজারের পরামর্শ দিয়েছি।

ফ্যামিলি প্লানিং মেডিকেল অফিসার মো. মেহেদী হাসান রনি বলেন, রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল হলে তিনি আমাদের অবগত করবে, সে যেটা করেছে এটা চরম অপরাধ, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর বিলুপ্তির পথে

বরিশাল অফিস :: আধুনিক, ডিজিটাল ও স্মাটের ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি কালচার কাচারি ঘর অস্থিত্ব হারিয়ে বিলুপ্তির পথে। এক সময় কাচারি ঘর ছিলো গ্রামের আভিজাত্যের প্রতীক। বাড়ির বাহিরের আঙ্গীনায় দরজার মাথায় অতিথি, মুসাফির, ছাত্র ও জায়গিরদের থাকার এই ঘরটিকে কাচারি ঘর নামে চিনতেন এলাকাবাসী। কাচারি ঘরটি বাড়ির দরজায় ঘাটলার কাছে স্থাপন করায় বাড়ির সৌন্দর্য অনেকাংশে বেড়ে যেত। কাচারি ঘরে অতিথি, পথচারী, মুসাফির, বাড়ির ছেলেরা রাত্রিযাপন করতেন।

যে কারণে সেই সময় রাতের বেলায় বাড়িতে চুরি-ডাকাতি কম হতো বলে অনেকে মত দেন। কাচারিতে বাড়ির স্কুল কলেজগামী ছেলে-মেয়রা পড়াশুনা করতেন পাশাপাশি সকাল বেলা এটি মোক্তব হিসেবে ব্যবহার হতো। আধুনিকতার কারণে বাড়ির সৌন্দর্য কাচারি ঘর এখন আর চোখে পড়ে না প্রায় বিলুপ্তির পথে। আলাপকালে জানা যায়, ঈশা খাঁর আমলে কর্মচারীরা বাড়ির দরজায় অবস্থিত কাচারি ঘরে বসে খাজনা আদায় করতেন। যখন দেশে জমিদারী প্রথা যখন চালু ছিলো তখনো গ্রামের প্রভাবশালী মোড়লদের বাড়ির দরজায় কাচারিতে বসে খাজনা আদায় করা হতো। শালিস বিচারসহ গ্রামের সকল সামাজিক কাজগুলি পরিচালিত হতো কাচারি ঘরে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ইট-পাথরের গাঁথুনিতে একেবারেই বিলুপ্তির পথে কাচারি ঘর। তজুমদ্দিন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে দুই-একটি বাড়িতে কাচারি ঘর দেখা গেলেও রয়েছে অযতেœ-অবহেলায় পরিত্যাক্ত অবস্থায়। নেই আর কাচারি ঘরে সেই চিরচেনা শিক্ষার্থীদের পড়া আওয়াজ, রাতের বেলায় জারীগান, লুডু খেলা অতিথিদের গল্প-আড্ডা, সকাল বেলায় মোক্তবে আরবি পড়ার মধুর সুর। এখন আর দিনের বেলায় কাজের শ্রমিকদের ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রাম নিতে দেখা যায় না কাচারি ঘরে। কোথাও কোথাও এক সময়ে বাড়ির সৌন্দর্য কাচারি ঘর অযতœ আর অবহেলার কারণে এখন গোয়াল ঘরে পরিনত হয়েছে।

চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেন মাষ্টার বাড়ির মো. আরিফুর রহমান বলেন, আমার পিতা জীবিত থাকতে আমাদের বাড়ির দরজায় অবস্থিত কাচারি ঘরটি প্রতি বছর মেরামত করতেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর থেকে কাচারি ঘরটি আর মেরামত তেমন একটা হয়। কোন কার্যক্রমও নেই। সময়ের পরিক্রমায় যে স্মৃতি কাচারি ঘরটি আছে সেটিও কখন যে হারিয়ে যাবে তা এখন দেখার বিষয়।

আলাপকালে চাঁদপুর ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও চাঁদপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জোসেব মিয়া বলেন, দেশ আধুনিক পরে ডিজিটাল ও স্মাটের ছোঁয়ায় এক সময়কার গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও পূর্ব পুরুষদের স্মৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের আড়ালিয়া আব্দুল জব্বার আলী হাওলাদার বাড়িরসহ কয়েকটি বাড়িতে শুধুমাত্র কাচারি ঘর রয়েছে। কিন্তু কাচারি ঘর থাকলেও কোন কার্যক্রম এখন চলমান নেই। ঘরগুলি রয়েছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়।




বরিশালে বিনোদন স্পটে নৌ-ভ্রমণের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ!

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর সুপরিচিত বিনোদন স্পট ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পাড়। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অসংখ্য পর্যটক আসে এই বিনোদন স্পটটিতে যাদের মধ্যে একাংশ শিক্ষার্থী ও প্রেমিক যুগল। তারা নির্জনে সময় কাটানোর জন্য বেছে নেয় নৌকা ভ্রমন।

জোড়া বেঁধে নদীর বুকে ঘুরে বেড়ায় তারা। বিকেলে সবাই আসে, মুক্ত বাতাসের খোঁজে। তবে সন্ধ্যা নামলে নৌকায় প্রেমিক যুগলের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে বিস্তর। এছাড়া মাদকেরও একটি বিস্তার রয়েছে এই স্পটটিতে।প্রশাসনে একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরও সন্ধার পরে অবাধে চলে এসব নৌকা ভ্রমন। চলে অবৈধ কার্যকলাপ ও মাদক সেবন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এখানে নৌকা ভ্রমণ বেশ জমজমাট। ঘন্টা প্রতি ৪শ থেকে ৫শ টাকায় ভাড়ায় পাওয়া যায় এসব নৌকা।

তবে প্রেমিক জুটি থাকলে বেড়ে যায় এই নৌকার ভাড়া। তখন ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকাও নেওয়া হয় ভাড়া। নৌকায় করে দুপুর থেকে প্রায়ই সন্ধ্যা এমনকি রাত পর্যন্ত ঘুরতে থাকেন প্রেমিক যুগলেরা। এ সব নৌকায় বিভিন্ন সময় নাচ-গানের আসর জমে।

আর এই প্রেমিক যুগলদের নৌকায় ঘুরিয়ে থাকেন ডজনখানেক মাঝি। অনেক মাঝির স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে কীর্তনখোলা নদী পাড়ের ত্রিশ গোডাউন। নৌকা বেয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে ভালোভাবেই তাদের সংসার চলে যায়।

এখানকার মাঝিরা জানায়, আগে তারা চরকাউয়া খেয়া ঘাটে যাত্রী পারাপার করতেন। তবে যাত্রী পারাপার থেকে বেশি আয় হয় না। এখানে বেড়াতে আসা লোকজন ঘণ্টা চুক্তিতে নদীতে ঘোরে। এতে ভালো পয়সা পাওয়া যায়। তারা আরও জানান, প্রতিদিন নৌকা বেয়ে ৮শ’ হাজার থেকে ১ হাজার টাকা আয় করেন। উৎসবের দিনে আয় ২ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়।

তবে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর ছুতোয় মাদক সেবনের হার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক সেবনের জন্য নিরাপদ জায়গা এখন ত্রিশ গোডাউনের নৌ-ভ্রমন।

তাই ঘুরতে আসা একাধিক লোক বলেন, যথাযথ কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি না দিলে অচিরেই ভয়ংকর রুপ নিবে ত্রিশ গোডাউন এলাকা। এসকল বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) ফজলুল করিম বলেন, ত্রিশ গোডাউন এলাকায় আমাদের টহল প্রতিনিয়ত কাজ করছে। আর এবিষয়টি আমার জানা ছিলোনা খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালে প্রচন্ড অগ্মিতাপদাহের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও বরিশাল ফরএভার গ্রিন পথচারিদের পাশে

বরিশাল অফিস :: দাবদাহ থেকে শ্রমজীবী মানুষকে বাঁচাতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণস্থানে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নিরাপদ পানি ও স্যালাইন সরবরাহ কেন্দ্র চালু করা সহ নগরীর নতুল্লাবাদ,রুপাতলী,চৌমাথা সহ জনবহুলস্থানে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবীতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।

একই সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগরীর বিভিন্নস্থানে তীব্রতাপদাহের মধ্যে কাজ করা শ্রমজীবী-দিন মজুর,পথচারি,রিকসা চালক সহ সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে স্যালাইন পানি সরবরাহ করে পাশাপাশি স্যালাইন ক্রয় করার জন্য পথচারিদের কাছথেকে অর্থ সংগ্রহ করে ছাত্রফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।


অপরদিকে জাতীয়পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার একবাল হোসেন তাপসের সামাজিক সংগঠন বরিশাল ফরলিভিং সোসাইটির পক্ষ থেকে ট্রাকযোগে নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রচন্ড গরম ও রৌদ্রের মধ্যে স্যালাইন পানি পথচারিদের মধ্রে সরবরাহ করে ক্ষনিকের জন্য মানুষের তৃষ্ণা মিঠাবার কাজ করেছেন তারা।

বুধবার (২৪) এপ্রিল সকাল ১১টায় নগরীর সদররোডে সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। বাসদ বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মনিষা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে এসময় তিনি বলেন আজকে এই প্রচন্ড গরমে নগরীর শ্রমজীবী মানুষ কোথাও একটু পানি পাচ্ছে না।

আমরা সিটি কর্পোরেশনে প্রর্যাপ্ত সুযোগ থাকা সত্বেও তারা করছেন না। আমরা সিটি কর্পোরেশনের কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই তারা যেন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণস্থানে শ্রমজীবী,পথচারিদের মাঝে পানি সরবরাহ করার দাবী জানাই।


এখানে আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সম্পাদক সুজন আহমেদ,মহিলা নেত্রী সম্পাঘোষ,শহিদুল ইসলাম ও মনির সরদার প্রমুখ।

একই সময় সমাজতান্ত্রি ছাত্র ফ্রন্ট তীব্র গরমে পথচারিদের মধ্যে শিতল স্যালাইন পানি সরবরাহ করা সহ সকল সাধারন মানুষের কাছথেকে স্যালাইন ক্রয় করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে তা আবার মানুষের মাঝে সরবরাহ করছেন তারা। অন্যদিকে মানবতার কল্যানে আমরা ফর এভার ইকবাল হোসেন তাপসের সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরীর গুরুত্বপূর্ণস্থানে ট্রাকযোগে ঘুড়ে ঘুড়ে পথচারিদের মাঝে স্যালাইন পানি তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবি সদস্যরা।

এদিকে গত দুইদিনে বরিশালে তীব্রতাপদাহের পাশাপাশি বাতাসের সাথে সাথে অগ্মিতাপের বাতাস বইছে এতে করে নগরীর সাধারন শ্রমজীবী মানুষ ক্লান্ত হয়ে যেখানে সেখানে বসে সময় পাড় করছে।




ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত রড উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে ট্রাকচালক আল-আমিন (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছিনতাইকৃত নয় মেট্রিক টন রড উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একতা এন্টারপ্রাইজের গোডাউন থেকে রডগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

আত্মগোপনে থাকা একতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাসুদ রানা রডগুলো ট্রাকের হেলপার হাসানের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন বলে জানা যায়। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যস্থতা করেন দশমিনার মজিবর নামের এক ঠিকাদার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজের কারাখানা থেকে ঢাকা মেট্রো -ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরের ট্রাকটি ১৩ মেট্রিক টন রড নিয়ে বাউফলের কালিশুরী বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুরীর খান এন্টারপ্রাইজে রডগুলো আনলোড করার কথা। কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকচালক আল-আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা মো. সবুজ। ২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

আরো পড়ুন : বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

পরে মামা সবুজ খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগ্নে আল-আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে আল-আমিনের লাশ পরের দিন চাঁদপুরে নিয়ে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে দশমিনা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন আল-আমিনের মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা নৌ পুলিশের এসআই আল মামুন বলেন, ট্রাকচালক আল-আমিনকে খুন করে ঘাতকরা রডগুলো কালাইয়া বাজারের একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলো গুদামে রেখে দেন। তদন্তের একপর্যায়ে নিশ্চিত হয়েই রডগুলো মঙ্গলবার রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। আর আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক আত্মগোপনে থাকা ট্রাকচালকের সহকারী হাসানকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে, রড পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকটি পুলিশ বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে জব্দ করেছে।

আল-আমিনের মামা সবুজ জানান, ছোটবেলায় আল আমিনের বাবা-মা মারা যান। এরপর থেকে তার কাছেই বড় হয় আল-আমিন। মামা সবুজের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার লামছড়ি গ্রামে। বর্তমানে তিনি থাকেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা বউবাজার এলাকায়। সবুজ তার ভাগ্নেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি ট্রাক কিনে দেন। মামার ট্রাক চালিয়ে আল-আমিন আয়-রোজগার করতেন। ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামের ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার রনজিৎ মজুমদারের সঙ্গে চুক্তি করে রডগুলো বাউফলের কালিশুরী বন্দরে পৌঁছে দেয়ার জন্য আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজের ফ্যাক্টরী থেকে রওনা দেয় আল-আমিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী হাসান । হাসানের বাড়ি পটুয়াখালী হওয়ায় এই রুট তার চেনা ছিল। আল-আমিন প্রথম এই রুটে ট্রাক নিয়ে আসেন।

তিনি আরো বলেন, আমার এতিম ভাগ্নেকে নির্মম ভাবে খুন করা হলো। আমি খুনিদের উপযুক্ত বিচার চাই।

এদিকে, কালাইয়া গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানাকে আটক করেনি পুলিশ।

ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আমি মজিবর নামের এক ঠিকাদারের কাছ থেকে রডগুলো ক্রয় করেছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলো ছিনতাইকৃত কি না তা আমার জানা ছিল না।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

নাম প্রকাশ এ অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আল-আমিনকে পরিকল্পিত ভাবে খুনের পর রড ছিনতাই করা হয়েছে। আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এন্টারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এন্টারপ্রাইজের মালিক মাসুদ রানা কোনো ভাবেই দায় এড়াতে পারেন না।

বাউফল থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার। রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযোগীতা করেছি মাত্র। এর বাইরে আর কিছুই বলতে পারছি না।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমাণিত হবে তাদের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনা হবে।




বাউফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে স্যালাইনের সংকটসহ নানা সমস্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরমে হঠাৎই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এরই জেরে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে স্যালাইনের সংকট। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা খরচা করে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগী এবং তাদের স্বজনদের।

ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেড সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে ঠাঁই নিচ্ছেন বহু রোগী।

এদিকে, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

গত সোমবার রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। নাম রিনা, বয়স ৭ বছর। সে উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের রহিম গাজীর মেয়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি তিন দিন আগে ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়। পরিবারের লোকজন হাসপাতালে না এনে বাড়িতে রাখেন। সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে শিশুটি বেঁচে যেত।’ 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাব বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, মার্চের মাঝামাঝি থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে থাকে। গত এক মাসে ৩৮৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত সাত দিনে ভর্তি হয়েছেন ৯৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালের বর্হিবিভাগ ও জরুরি বিভাগ থেকে গত সাত দিনে দেড় শতাধিক রোগীর চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গছে। এসব রোগীর প্রায় ৭০ শতাংশই শিশু ও বয়স্ক।

তবে উপজেলায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও তিনগুণ বেশি বলে দাবি করেছেন একাধিক চিকিৎসক।
তাদের ভাষ্যমতে, হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন না। তারা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।

আজ, (বুধবার) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় মেঝেতে অনেকেই বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মেঝেতেও জায়গা না হওয়ায় এক শিশুসন্তানকে স্যালাইন দেওয়া অবস্থায় কোলে করে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা।

উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ থেকে আসা মরিয়ম বেগম (২৬) নামে ওই নারী জানান, সোমবার থেকে তার আড়াই বছরের শিশুসন্তান বারবার পাতলা পায়খানা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসক তার সন্তানকে স্যালাইন দেন। তবে হাসপাতালে জায়গা না থাকায় সন্তান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

মেঝের নোংরা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। তীব্র গরমে ফ্যান না থাকায় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন রোগীর স্বজনরা। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।

সমীর শীল নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘কোনো বেড থালি না থাকায় মেঝেতেই বিছানা পেতে থাকছি। তবে মেঝের চারপাশে নোংরা পরিবেশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছেন। এতে একদিকে দুগর্ন্ধ, অন্য তীব্র গরমে রোগীর অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

হঠাৎ করে উপজেলা জুড়ে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের সংকটও দেখা দিয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় কম স্যালাইন সরবরাহ থাকায় বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে রোগীদের। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্যালাইনের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে চড়া দামে স্যালাইন বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোগীর স্বজনরা বলছেন, হাসপাতাল থেকে দুই একটি স্যালাইন দেওয়া হয়। বাকি স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতে স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা ১০০ টাকার স্যালাইন ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছেন।

এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে ২০০ ব্যাগ স্যালাইন দিয়েছি। তা দিয়েই চিকিৎসা চলছে। আরও ২০০ ব্যাগ অর্ডার দিয়েছি। সংকটের কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবেন।’




কলাপাড়ায় দখলদার মুক্ত হলো মাছের পাইকারি বাজার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত হল পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরশহরের বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বড় পাইকারী মাছের বাজার। দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি দাবী করে টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু মাছ বাজারটি থেকে ভিটি ভাড়ার নামে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে আদায় করতো। এর কিছু অংশ চৌরাস্তা বাসষ্ট্যান্ড জামে মসিজদ পেলেও সরকার এ বাজার থেকে কোন রাজস্ব পেতনা। উপজেলা প্রশাসন পাইকারী মাছ বাজারটি দখলমুক্ত ঘোষনা করে বাজার থেকে আদায়কৃত অর্থ রাজস্ব খাতে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে খুশী স্থানীয় সাধারন মানুষ সহ খুচরা, পাইকারী মাছ বিক্রেতারা। তারা ইউএনও’র এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জানা গেছে, কলাপাড়া-পটুয়াখালী মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বড় পাইকারী মাছ বাজারে ২৫-৩০টি মাছের আড়ৎ রয়েছে। বাজারটিতে প্রতিদিন ভোররাত থেকে শুরু হয় লক্ষ লক্ষ টাকার নিলামে মাছ বেচা কেনা হয়। শতকরা ৫ টাকা হারে ক্রেতা, বিক্রেতা উভয় পক্ষের কাছ থেকে খাজনার নামে টাকা উত্তোলন করা হতো।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

এছাড়া চট প্রতি দিনে ২০০ টাকা। এভাবে প্রতিদিন ৫-১০ হাজার টাকা আদায় করা হতো এ বাজার থেকে, প্রতিমাসে যার অংক দাড়ায় দেড় থেকে তিন লক্ষ টাকা।

সূত্রটি আরও জানায়, মহাসড়কের পাশের মাছ বাজারের ওই জমি সর্বশেষ বিএস জরিপে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন উন্নয়ন বোর্ডের নামে জরিপ হয়। যা এক সময় পাউবো থেকে ব্যক্তি নামে বন্দোবস্ত দাবী করা হলেও আদালত থেকে ঘোষনামূলক ডিক্রী ছাড়া বর্তমানে এর কোন ভিত্তি নেই।

টিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু বলেন, চৌরাস্তা মাছ বাজারের ওই জমি আমাদের ক্রয়কৃত রেকর্ডীয় জমি। আমরা আইনী মোকাবেলার জন্য আদালতে যাবো।

টিয়াখালী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা বলেন, মাছ বাজারটি দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারন জনগন খুশী। টিয়াখালী ইউনিয়নের জনসাধারনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

কলাপাড়া ইউএনও মো: রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন এখন থেকে ওই মাছ বাজার থেকে রাজস্ব আদায় করে সরকারী কোষাগারে জমা দেবে। এতে কেউ বিপত্তির চেষ্টা করলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বাজার ব্যক্তিগত কিংবা সরকারী জমি যেখানেই হোক না কেন রাজস্ব আদায় করার বৈধতা কেবল সরকারের। তবে সরকারের কাছ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ইজারা নিয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে খাজনা আদায় করা যেতে পারে।




পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে ৩ পুলিশ সদস্য আহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে মাদক অভিযানে গিয়ে অস্ত্রের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নে অভিযান চালাতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন তারা।

আহতরা হলেন— পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত এএসআই সাইদুর রহমান, কনেস্টবল তানভীর ও মাহাফুজ। যদিও ওই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী মো. রনি হাওলাদারকে (৩০) আটক করেছেন ডিবি। রনি ওই এলাকার রেজাউল হাওলাদার ওরফে মাসুদের ছেলে। এর আগেও ডিবির একটি অভিযানে রনিকে আটক করা হলেও তিনি হাতকড়া নিয়ে পালিয়ে যান।

আরো পড়ুন : বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

ঘটনার বরাত দিয়ে পটুয়াখালী গোয়েন্দা শাখার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক সরবরাহ করছেন রনি। পরিচয় গোপন করে রনির বিরুদ্ধে ডিবির কাছে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই সম্বিত রায়ের নেতৃত্বে উল্লেখিত ইউনিয়নে অভিযান চালান তারা।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ৩নং ওয়ার্ডস্থ বড়চত্রা এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে রনিকে আটক করে দেহ তল্লাশি চালালে তার শরীর থেকে ৩শ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। আটকের পর রনির সঙ্গে থাকা হাতলযুক্ত সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে রনি একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। ডিবির সদস্যরাও এ সময় ওই জলাশয়ে ঝাঁপ দিয়ে রনিকে আটক করেন। রনি পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ধস্তাধস্তিও করেন।




বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙন থেকে বাঁচতে শতাধিক পরিবারের আকুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউয়িনের বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ঘেঁষা বেড়িবাঁধ এখন ভাঙনের মুখে। ওই ইউনিয়নের বউবাজার থেকে মিটার বাজার পর্যন্ত নির্মিত এ বাঁধটি ভাঙলে নদীগর্ভে বিলীন হবে অসংখ্য ভিটেবাড়ি ও ফসলি জমি।

ভাঙনকবলিত এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত সোমবার দুপুরে বউবাজার এলাকার ভাঙনকবলিত বাঁধের ওপর মানববন্ধন করেছেন নদ তীরবর্তী শতাধিক নারী-পুরুষ। 

জানা গেছে, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার, হিন্দুগ্রাম, খেয়াঘাট ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামটিকে রক্ষা কবজ হিসেবে ঘিরে রেখেছে এ বাঁধটি। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরু না হতেই বাঁধ ভাঙনের মুখে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চার গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার।

আরো পড়ুন : অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া রাসেল খান বলেন, সাগর মোহনাসংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদের তীরের এ বাঁধ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বাঁধ চার এলাকায় লবণ পানি থেকে ফসল রক্ষাসহ মানুষের জানমাল রক্ষা করে আসছে। কিন্তু প্রতি বছরই নদের তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে পড়ছে। তাই জনস্বার্থে পরিকল্পিতভাবে বাঁধটি নির্মাণ প্রয়োজন।’

ভাঙনকবলিত হিন্দুগ্রামের বাসিন্দা মিলন হাওলাদার বলেন, বার বার বাঁধ মেরামত হলেও তা টেকসই হচ্ছে না। তাই ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবি আমাদের।’

একই গ্রামের সুরেন সিকদার বলেন, ‘বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙনে তিনবার তাদের বাড়িঘর সরাতে হয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি বলতে এখন তাদের কিছুই নেই। বর্তমানে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বাস করছেন তিনি। এখন ভাঙন তাদের দিকে ছুটে আসছে। পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের শেষ আশ্রয়ের ঘরও ভেঙে যাবে। এলাকার লবণ পানিতে ফসলি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ১ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩ হাজার

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বউবাজার এলাকায় ৫৫/৪ পোল্ডারের এ বাঁধটি দৈর্ঘ্য সাড়ে ৩২ কিলোমিটার। এর মধ্যে নদীর স্রোতে প্রায় তিন কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।