দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় একটি বসত ঘর থেকে ২৪টি বাচ্চাসহ একটি বিষধর কেউটে সাপ ধরা পড়েছে।বাচ্চাগুলোকে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে দুমকী গ্রামের গাজী আব্দুল হামিদ এর মেয়ে নাসিমা বেগমের বসত ঘর থেকে এই বাচ্চা ও মা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

নাসিমা’র ভাই আবু বকর গাজী জানান, সকাল ৮ টার দিকে তার ছেলে ও ভাগ্নী বোনের বাসার সামনের বারান্দায় খেলা করতে গিয়ে কেউটে সাপের বাচ্চা চলাচল করতে দেখে। এ কথা তাকে জানালে বাসার খাটের নিচে ও শোকেসের আড়াল খোঁজ করে কেউটে সাপের বাচ্চা গুলো বের করে আনা হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাচ্চাগুলো মেরে ফেলা হয়। পরে জেলা শহর থেকে সাপুড়েরা এসে চেষ্টা চালিয়ে বিকেলে মা সাপকে জীবিত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় সাপ আতংক বিরাজ করছে।

আরো পড়ুন : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

এ সময় সকলকে সচেতন হতে বলে তিনি আরও বলেন, বাসার চিপাচাপা সহ বিভিন্ন কোনাকানায় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিশেষ করে বাসার মা-বোন ও বাচ্চাদের সতর্ক হতে হবে। প্রতি বছর এ সময় বিষাক্ত সাপের ছোবলে অনেকেই নিহত হন।




লবনাক্ত জমিতে কোলেস্টেরল মুক্ত তৈলের হাতছানি দিচ্ছে হাইব্রিড সূর্যমুখী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরনের জন্য সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ ফসলের মাঠ পরিদর্শন, ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস পালন উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব ও মহাপরিচালক (বীজ) বীজ অনুবিভাগ মো. আবু জোবায়ের হোসেন বাবলু বলেন, লবনাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন কোন বাধা হতে পারেনা যদি লবন ক্ষয়িষ্ণু বীজ রোপন করা যায়৷ দক্ষিণাঞ্চলে এ মৌসুমে ৩৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। এ অনাবাদি জমি আবাদিতে রুপান্তর করতে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ব্রাক সিড। ব্রাকের উৎপাদিত সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে এনে নিজেদের উৎপাদিত তেল নিজেরা ব্যবহার করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ।

শুক্রবার (২৬এপ্রিল) বিকেলে ব্র্যাক সিড অ্যাড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের আয়োজনে মোয়াজ্জেমপুরে সূর্যমুখী হাইসান ৩৩ ফসলের সূর্যমুখী উৎপাদন পরবর্তী প্রক্রিয়াজাতকরন উদ্যোগ, এডাপটেশন ক্লিনিক পরিদর্শন, সূর্যমুখী মাঠ পরিদর্শন, ফসল কর্তন ও মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

আরো পড়ুন : আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএডিসির সদস্য পরিচালক ( বীজ ও উদ্যান) মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ও বিএডিসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শওকত ওসমান, বরিশাল এসিআই সীড বিজনেস ডাইরেক্ট সুধীর চন্দ্র নাথ, এ্যডভান্টা সীড ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি ম্যানেজার ডঃ এবিএম জিয়াউর রহমান,কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আরাফাত হোসাইনসহ প্রমূখ।

উপজেলার তথ্যমতে, এ উপজেলার প্রায় ১হাজার ৯৫০হেক্টর জমিতে সূর্যমূখী আবাদ হয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ১৩৬৫ মেট্রিকটন তেল উৎপাদন হবে। প্রতি কেজি ৩’শত টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করলে সেক্ষেত্রে ৪০ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার তেল কৃষকরা বিক্রি করবে।

লতিফপুরের স্থানীয় কৃষক মো. নুর ইসলাম আকন বলেন, এবারি প্রথম ২.৫ বিঘা জমিতে হাইব্রিড হাইসান ৩৩ এর বীজ রোপন করলাম। ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি ২০ থেকেন ২২ মন বীজ পাব। বীজ থেকে যে তৈল পাব তা দিয়ে আমার সংসারের পুরো বছরে আর তৈল ক্রয় করতে হবে না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে পথচারীদের পানির বোতল ও স্যালাইন দিচ্ছেন রেড ক্রিসেন্ট

মো. নেওয়ামুর নাসির বলেন, ব্রাকের অর্থায়নে আমাদের পতিত জমিতে লবন ক্ষয়িষ্ণু হাইব্রিড হাইসান ৩৩ বিজ দিয়েছি। আমাদের জমি সারা বছরে একবার ফসল উৎপাদন করতে পারি কিন্তু এবারেই প্রথম ব্রাকের সহায়তায় আমি ১০ বিঘা জমিতে হাইব্রিড হাইসান ৩৩ চাষ করে প্রায় ৫০ মনের বেশি বীজ পাব। যা বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারব।

বিশেষ অতিথি বিএডিসির সদস্য পরিচালক ( বীজ ও উদ্যান) মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিজটি এই অঞ্চলের জন্য আর্শীবাদ। লবনের সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে উঠে। আমাদের আর যেন তেল আমদানি না করা লাগে। সেই লক্ষে সূর্যমুখীর চাষ বেড়ে গেছে। আমাদের খাদ্য ও পুষ্টি যোগান দিবে।




ভোলায় গ্যাস প্রসেস প্লান্ট কয়েক খাতে দ্বিগুণ ব্যয়ের প্রস্তাব

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য প্রসেস প্লান্ট স্থাপন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের জন্য কয়েকটি খাতে প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে কাজ ৯০ কোটি টাকায় করা হয়েছে সেই কাজের জন্য ১৭১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, বাপেক্স কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেস প্লান্ট সংগ্রহ ও স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটির ওপর গত ২১শে মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২৩৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১লা এপ্রিল ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন শেষে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এ ছাড়া উৎপাদিত গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সভা সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস গ্যাদারিং লাইনপাইপ, প্রায় ৫৬০ মিটার ৪টি খাল ক্রসিং ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ প্রসেস প্লান্ট সংগ্রহ, স্থাপন ও কমিশনিং বাবদ ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেখানে সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯০.৯০ কোটি টাকা। সভায় অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

দ্বিগুণ ব্যয়ের বিষয়ে সভায় বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক বলেন, বার্ষিক ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার রেট বৃদ্ধির কারণে ৬০ এমএমএসসিএফ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেস প্লান্ট ও মালামালের খরচের জন্য ১০৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু মালামাল ক্রয় করতে হবে যা সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পে ছিল না।

ফলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বাপেক্সের মহা-ব্যবস্থাপক বলেন, বাপেক্সের আওতাধীন শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রে একটি ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন গ্লাইকল ডিহাইড্রেশন টাইপ প্রসেস প্লান্ট এবং একটি ২ী৩৫ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্লাইকল ডিহাইড্রেশন টাইপ প্রসেস প্লান্ট বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত প্রসেস প্লান্টের মাধ্যমে মোট ৫টি কূপ থেকে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক কমবেশি ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। ভোলা জেলার ভেদুরিয়া সংলগ্ন স্থানে ভোলা নর্থ-১ কূপটি ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত হয়।

বর্তমানে ৩টি কূপে (টবগী-১, ইলিশা-১ এবং ভোলা নর্থ-২) বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ এবং ইলিশা-১ কূপগুলো প্রস্তাবিত ভোলা নর্থ ক্ষেত্র থেকে ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত, কিন্তু শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে আলোচ্য কূপগুলো অনেক দূরবর্তী হওয়ায় অর্থনৈতিক এবং কারিগরি বিবেচনায় শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের প্রসেস প্লান্টের সঙ্গে উল্লিখিত কূপগুলোর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। সে প্রেক্ষিতে ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২, এবং ইলিশা-১ গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদিত গ্যাস প্রসেসিংয়ের নিমিত্তে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের ভেদুরিয়া ফেরিঘাট রোডের পাশে প্রসেস প্লান্ট স্থাপনের জন্য বাপেক্সের কারিগরি কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি খাতে বেশি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন থেকে প্রকল্পের প্রধান প্রধান বিভিন্ন আইটেমের সঙ্গে সমজাতীয় প্রকল্পের প্রধান প্রধান আইটেমের তুলনামূলক ব্যয় বিবরণী ও ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ডিপিপিতে সম্পাদনাজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা দূর করতে বলা হয়েছে।




আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্ববাজারে পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মৃৎ শিল্পে এসেছে বৈচিত্র্য। নিত্যপণ্যের বাইরে এখানে তৈরি হচ্ছে হরেক রকম শো-পিস। যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে বিশ্ব বাজারে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এই শিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিল্পীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ঘুরছে চাকা। দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এটেল মাটির দলা থেকে তৈরি হচ্ছে নানা পণ্য। এমন চিত্র চোখে পড়ে পটুয়াখালীর বাউফলের কুমার পাড়ায়। আগে শুধু গৃহস্থালি নিত্যপণ্য বানানো হলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন বৈচিত্র্য এসেছে এখানকার মৃৎ শিল্পে।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায় মাটির তৈজসপত্র। এমনকি দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশের বাজারও দখল করছে এ পণ্যগুলো। এতে ভাগ্য বদল হয়েছে এখানকার কুমারদের। 

এ শিল্পে উচ্চ আয়ের হাতছানি থাকলেও উদ্যোক্তাদের রয়েছে পুঁজির অভাব। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৃৎ শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নেয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

কারিগররা বলেন, মাটি যেন আমরা সহজ পদ্ধতিতে পাইতে পারি, সেটাই সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন। যাদের চাহিদা আছে তাদেরকে স্যাম্পল অনুযায়ী দিতে পারলে আরও ভালো হতো। যদি সরকারি আরও সহযোগিতার পাই তাহলে আমরা সঠিকভাবে শিল্পটাকে উপস্থাপন করতে পারবো।

এলাকার কুমারদের আরও দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা জানান এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি করার ব্যাপারে তাদেরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি মাত্র ৪ শতাংশ সুদে তাদেরকে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করে থাকে এসএমই ফাউন্ডেশন।’

বাউফলে মৃৎ মিল্পের ছোট-বড় প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫ হাজার মানুষের।




বরগুনায় দুই পা-এক হাত বিহীন ছোট্ট সুলতানার বাঁচার লড়াই!

বরিশাল অফিস :: জন্ম থেকেই নেই দুই পা। হাতের ওপর ভর দিয়ে যে চলবে তারও কোনো উপায় নেই। তাও আবার ডান হাত নেই। মুখে হাসি আর মিষ্টি কথার বুলি…। হাসি আর খেলায় মাতলেও শূন্যতা রয়েছে সুলতানার। দুই পা আর এক হাত বিহীন সুলতানার শূন্যতা তো আছেই, এ শূন্যতায় কাঁদছে পরিবার ও প্রতিবেশীরাও।

অন্য শিশুর মতো হাটাচলাও করতে পারছে না। বিছানাই যেন তার একমাত্র ভরসা। অন্য শিশুরা বাড়ির উঠানে লেখায় মেতে উঠলেও ওদের সঙ্গে খেলেত পারছে না। এখন বুঝতে শুরু করেছে সুলতানা। ওর হাত নেই, পা নেই।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এই শিশুর কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা খাদিজা বেগম। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের সুলতান মিয়ার মেয়ে সুলতানা। সুলতানার জন্ম ২০২১ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি। অনেক আদর করে বাবার নামের সঙ্গে মিল রেখে শিশুর নাম রেখেছেন সুলতানা।

প্রথম সন্তান সুমনের জন্মের ১৭ বছর পর জন্ম হয় সুলতানার। বাবার আর্থিক সচ্ছলতা না থাকার কারণে এখন দিনমজুরের কাজ করেন সুমন। এক ছেলে ও মেয়ে সুলতানাকে নিয়ে অভাবে কাটে তাদের সংসার।

সুলতানার বাবা সুলতান বলেন, আমাদের কান্না ছাড়াই আর কিছুই নেই। আমাগো শান্তিই হলো কান্না। এখন মেয়েটার বয়স ৩ বছর, দুইটা পা এবং একটি হাত নেই। মেয়েডা চলাফেরা করার জন্য অনেক আশা করে কিন্তু পারে না। সব পোলাপান খেলে, আর ও খেলতে পারে না। আমার সন্তান, আমি কোন জায়গায় ফালাইতে পারমু না। আমি যতদিন আছি, আমিই লালন পালন করমু। কিন্তু বড় হইলে ভবিষ্যতে কে দেখবে?

মা খাদিজা বেগম বলেন, মনুরে আল্লায় এইভাবে বানাইছে, মনুর বয়স এহন ৩ বছর। এখন কথা বলতে পারে, সবাই হাঁটে আর ও হাঁটতে পারে না। বলে মা মুই হাটতে পারি না ক্যা? মোর পাও নাই ক্যা। ওর কথার উত্তরে একটাই বলি ‘তোমারে আল্লায় বানাইছে’। মাঝে মাঝে সুলতানা বলে, মোর হাত-পা অইবে তো, মুই হাঁটতে পারমু? মা… মোর পা অইবে… মুই হাঁটতে পারমু…!

প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সুলতানার জন্ম থেকেই খোঁজ রাখছেন প্রতিবেশীরা। তার মা-বাবা তাকে নিয়ে খুব কষ্ট করছেন এবং দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। সুলতানার কষ্ট দেখে তারও খুব কষ্ট হয়।

সাংবাদিক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ বলেন, শিশুর স্বাভাবিক বেঁচে থাকার অধিকার যেমন আছে তেমনি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরাও তাকে সহযোগিতা করে আসছি।

সাংবাদিক জসিম ও তারিকুল ইসলাম কাজী রাকিব বলেন, সুলতানার জন্মের পরপরই প্রথম আমাদের নজরে আসে। আমরা সেই থেকেই সুলতানার খোঁজ খবর নিচ্ছি এবং যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)মো. রোকনুজ্জামান খান বলেন, আমিও খোঁজখবর নিয়েছি, আসলেই নির্মম। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রকার সহযোগিতাসহ তার পাশে থাকবে। এরই মধ্যে আমি সমাজসেবা অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্য তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাতা ব্যবস্থা করা হবে।

সুলতানাকে সাহায্য করতে চাইলে তার বাবার ০১৭১৮-৩৭৪২৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।




পটুয়াখালীতে পথচারীদের পানির বোতল ও স্যালাইন দিচ্ছেন রেড ক্রিসেন্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তিব্র তাপদাহ থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশান্তি দিতে গত কয়েকদিনের মত আজও পথচারীদের মাঝে পানির বোতল ও খবার স্যালাইন বিতরণ করছেন পটুয়াখালী যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সদস্যরা।

শুক্রবার বেলা ১১ টা থেকে শহরের সোনালী ব্যাংক মোড়ে সেচ্ছাসেবকরা দিনমজুর, রিকশা চালক সহ তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াচ্ছেন।

আর তিব্র গরমে এই সহযোগীতায় খুশি এই পথে চলাচলকারী মানুষরা।

আরো পড়ুন : বিপুল পরিমাণ শাপলা পাতা-পিতাম্বরী ও হাঙর মাছ জব্দ

যুবরেড ক্রিসেন্ট পটুয়াখালী ইউনিটের যুব প্রধান নাসিম জানান, গত কয়েকদিন থেকেই তারা বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণের কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। তিব্র তাপ দাহকে একটি দূর্যোগ হিসেবেই বিচেনা করে তারা মাঠে কাজ করছেন।

বিশেষ করে বৈশি^ক উষ্ণায়ন সবাইকেই বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে। আগেও যেমন সকল সংকটে যুব রেড ক্রিসেন্ট এর সেচ্ছাসেবকরা ঝাঁপিয়ে পরেছে, এখনও তারা নিজ উদ্যোগে সাধারন মানুষের পাশে কিছুটা হলেও প্রশান্তি দেয়ার চেষ্টা করছেন। আগামী যে কয়েকদিন তিব্র তাপ দাহ চলমান থাকবে তারা সেই পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান রাখবেন বলেও জানান সেচ্ছাসেবী সংগঠনটির যুব প্রধান।

এদিকে রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের পাশপাশি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ,পটুয়াখালী বাসী সহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে সাধারণ মানুষকে বীনামূল্যে পানি, সরবত ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করছেন।




কুয়াকাটায় রহমতের বৃষ্টি পেতে ইসতিসকার নামাজ আদায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের শুরুতেই তীব্র তাপদাহ , ঝাঁঝালো রোদ আর অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ কুয়াকাটার উপকূলীয় খেটে খাওয়া মানুষ। প্রখর রোদ আর অনাবৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। তীব্র এই গরম থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের খোলা আকাশের নিচে ইসতিসকার নামাজ ও দোয়া করেন মুসুল্লিরা। নামাজ শুরুর পূর্বে ইমাম সাহেব সকলকে তার পরনের পোশাক উল্টিয়ে নিতে বলেন।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি ও প্রচণ্ড খরা থেকে রেহাই পেতে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আরো পড়ুন : খানাখন্দে ভরা কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন, কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা রফিকুল ইসলাম সরোয়ারি। নামাজ ও দোয়ায় ছাত্র, যুবকসহ শহরের আশপাশের শতশত মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। তাওবাতুন নাসুহা বা একনিষ্ঠ তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়। মোনাজাতে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এ সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তিসহ দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা হয়।

নামাজে অংশ নেওয়া মুসল্লিরা জানান, প্রচণ্ড দাবদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে মাঠঘাট কৃষিজমি। তীব্র খরায় ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন মানুষ। এখন চাষাবাদ করতে পারছি না। তাই আল্লাহর অশেষ রহমতের জন্য এ নামাজ আদায় করা হয়েছে।




২৭ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

জিএসটি গুচ্ছভূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক (চ.দা.) মো. ফয়সাল মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।




খানাখন্দে ভরা কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা থেকে মৎস্যবন্দর মহিপুর পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কের অংশের পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়ক পথে চলাচলকারী গাড়িগুলো একবার রাস্তার এপাশ আবার ওপাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

বিআরটিসির বাসচালক ইউনুস মুন্সী বলেন, ‘গাড়ি যে চালামু, রাস্তায় হেই রহম অবস্থা নাই। রাস্তায় গর্ত আর গর্ত। একটা ট্রিপ দেলেই গাড়ি মেরামত করাইতে হয়। এই রাস্তাডা যে মানুষজন ব্যবহার করে, এই রাস্তা দিয়া যে গাড়ি চলে, হেইডা মনে হয় উপরের মহলের খেয়ালে নাই।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর ইউনিয়নের শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা একেবারেই নাজেহাল। বছরের পর বছর ধরে এই সড়ক এভাবে পড়ে আছে। এর সংস্কার আদৌ হবে কি না, তা কেউ জানে না।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটার বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল বিশাল আকৃতির কোরাল মাছ

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশে পিচঢালাই উঠে গিয়ে ইট-সুরকি বেরিয়ে গেছে। সড়কটিতে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের একপাশ দেবে গেছে। অথচ সড়কে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ অসংখ্য যানবাহনের ভিড়। গাড়িগুলো হেলে দুলে চলছে।

পাখিমারা এলাকার কলেজ শিক্ষক সোহরাব হোসেন বলেন, প্রতিদিন আমাকে এ সড়ক দিয়ে কলেজে যেতে হয়। মোটরসাইকেল চালিয়ে ঠিকই কলেজে যাই, কিন্তু ধুলাবালুতে হাত-পা-মুখ আর কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। গত কয়েক বছর ধরে এ সড়কটি মেরামত করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্য বন্দরের শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ করে খুলনার দ্য রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ কোটি টাকা। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় তখন ঠিকাদারের আট কোটি টাকার বিল আটকে দেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

সূত্রটি আরো জানায়, বিল আটকে দেয়ার ঘটনায় দ্য রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চূড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার কারণে সংস্কারকাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপর আর বড় কোনো কাজ হয়নি এ সড়কে।

পটুয়াখালী সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কটি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় এত দিন এর সংস্কার কাজ করা যায়নি। তবে উচ্চ আদালত মামলার শুনানি শেষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন। এখন আর এ সড়কের নির্মাণ বা মেরামতের জন্য কোনো বাধা নেই। আশা করছি, আগামী মাসের মধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়া যাবে।




বাংলাদেশের উন্নতি দেখে এখন লজ্জিত হই: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের অংশ। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে এই জনপদকে তখন ‘বোঝা’ মনে করতো তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী।

সময়ের পরিক্রমায় সেই ‘বোঝা’র জনপদ এখন উন্নতির নানান সূচকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তানকে।

বাংলাদেশের এ অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে ‘লজ্জা’ পান বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

সেদেশের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বুধবার (২৪ এপ্রিল) এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি। খবর ডন অনলাইনের।

১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হওয়ার পর বাঙালিদের এ ভূখণ্ড পাকিস্তানের একটি অংশ হয়ে শাসিত হতে থাকে। কিন্তু সবকিছুতে এ জনপদের মানুষের ওপর ছিল বৈষম্য।

পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একসময় মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ শেষে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

মুক্তিযুদ্ধের আগের সময়ের প্রসঙ্গ টেনে শেহবাজ শরিফ বলেন, আমি তখন অনেক তরুণ ছিলাম…তখন আমাদের বলা হতো ওই অঞ্চল (বাংলাদেশ) আমাদের জন্য বোঝা। আজ আপনারা জানেন, সেই ‘বোঝা’ কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে)। তাদের দিকে তাকালে আমি এখন লজ্জিত হই।

অনুষ্ঠানে শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সেদেশের ব্যবসায়ীদের রপ্তানি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের বিষয়েও কথা বলেন। এছাড়া দেশে ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা’র জন্য পিটিআই প্রধান ইমরান খানের প্রতি তার নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করেন শেহবাজ।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শেহবাজ।