এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুমের চাষ শুরু করেন অতিউর রহমান মিলন। শুরুর গল্পটা ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু চার বছরের ব্যবধানে পাল্টাতে শুরু করে ভাগ্যের চাকা। আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের জায়গায় এখন তিনটি শেড। বাজারজাত করছেন মাশরুমের আচার, স্যুপ পাউডার, টুথ পাউডারসহ নানান পণ্য। চার লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসে মুনাফা আসছে অন্তত ৯০ হাজার টাকা।

বিনিয়োগের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় মাশরুম চাষে ঝুঁকছেন পটুয়াখালীর উদ্যোক্তারা। তবে দরকার যথাযথ প্রশিক্ষণ আর ব্যাংক ঋণ।

প্রযুক্তির সহযোগিতায় বছর জুড়েই চাষাবাদ হয় মাসরুমের। কাঠের গুড়া, গমের ভুষি, ধানের কুড়া ও খড় দিয়ে চাষাবাদও সহজ। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বিনিয়োগেই শুরু করা যায় চাষাবাদ। লাভও মেলে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত। তাই আগ্রহ বাড়ছে তরুণদের।

আরো পড়ুন : খালে পাওয়া ‘টর্পেডো’ উদ্ধার করল নৌবাহিনী

পুষ্টিগুণের পাশাপাশি রয়েছে বাণিজ্যিক চাহিদা, রপ্তানি হতে পারে দেশের বাইরেও। নানামুখি চ্যালেঞ্জে কাজে লাগানো যাচ্ছে না সম্ভাবনার পুরোটা। যদিও চাষিদের প্রশিক্ষণসহ সরকারি নানা উদ্যোগের কথা জানান পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.নজরুল ইসলাম।

জেলায় আগের চেয়ে বাড়ছে মাশরুম চাষ। যেখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি মাসে অন্তত ১৫ টন মাশরুম।




পটুয়াখালী‌তে ক্লাস চলাকালীন ২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী‌তে তীব্র তাপদা‌হের ম‌ধ্যে ক্লাস চলাকালীন সম‌য়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চ‌লে গে‌লে দুইজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হ‌য়ে পড়েছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টার দি‌কে কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ‌্যাল‌য়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ক‌ক্ষে এ ঘটনা ঘ‌টে।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হ‌লেন- মোছা. কারীমা বেগম ও মো. ইমান ইসা।

আরো পড়ুন : ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. ওবায়দুর রহমান জানান, আহত‌দের প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা ক‌রি‌য়ে তা‌দের নিজ নিজ বাড়ি‌তে পৌঁ‌ছে দেয়া হ‌য়ে‌ছে। বর্তমা‌নে তারা মোটা‌মুটি সুস্থ র‌য়ে‌ছে। ত‌বে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ম‌ধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

তি‌নি জানান, অনেক দিন পর স্কুল খুল‌লে শিক্ষার্থীরা হাসিখুশি ম‌নেই ক্লাস কর‌ছিল। কিন্তু বাই‌রে তাপদা‌হের মধ্যে ক্লাস শুরু হ‌লে হঠাৎ বিদ‌্যুৎ চ‌লে যায়। এসময় ওই দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হ‌য়ে প‌রে। এ অবস্থা দে‌খে যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ‌্যুৎ না ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত শিক্ষার্থী‌দের নিরাপদে রাখার চেষ্টা ক‌রে‌ছি।




২৯ এপ্রিলের ভয়াল সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ। স্বজন হারাদের আঁতকে ওঠার দিন। এখনও স্বজনরা ডুকরে ডুকরে কাঁদে প্রিয়জনের স্মরণে। গণহারে কবর হয়েছিল, লাখে লাখে মরেছে মানুষ। মানুষের লাশ আর লাশ ভেসে এসেছে সেদিন।

১৯৯১ সালের এদিনে দিনগত মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন’। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। নদী-নালা, ডোবায়, খাল-বিল, সমুদ্রে ভেসেছিল মানুষের লাশ আর লাশ। গরু, মহিষ, ভেড়ার মরদেহের স্তুপ যেন ভয়াল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

আরো পড়ুন : ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাতের নিদারুণ দৃশ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখী এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো সম্মুখীন হয়নি।

পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিল জাতি। স্বজনহারানোর অস্থিরতায় বোবা কান্নায় ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিল সমগ্র দেশ।

বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতির কারণ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল আগে থেকেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার হয়েছিল। সেসময় অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে পারে নি বলে সাইক্লোন সেন্টারে যায় নি। বার বার মাইকিং করা সত্ত্বেও বাড়ি ঘর ছেড়ে যেতে চায় নি’। এটাও ঠিক যে তখন সাইক্লোন সেন্টারও যথেষ্ট ছিল না। যাবেই বা কোথায়? পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। শেষ সময়ে অনেকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে যাবার সময় বৃদ্ধ মা-বাবাকে নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে গেছেন। বাতাসের তীব্র গতিতে গাছের সাথে দুলতে দুলতে কেউ কেউ বেঁচেও গিয়েছিলেন, আবার ভেসেও গেছেন এমন দুঃখের কথাও আমরা শুনেছি রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কুয়াকাটা, কলাপাড়ার মানুষের কাছে।

কুয়াকাটার বাসিন্দা জয়নাল মৃর্ধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরে তখন আমরা যা দেখেছি পুরো উপকূল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। এলাকায় ফিরে গিয়ে দেখি তখন এক কবরে একাধিক নারী পুরুষ শিশুকে কাফন ছাড়া দাফন করা হচ্ছে। হাটে ঘাটে নালা নর্দমা পুকুরে লাশের সারি। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের আগে নারীরা বলেছিলেন আমরা গরু-ছাগল হাঁস-মুরগি রেখে যাই কেমন করে? এটা নিয়ে অনেকে হেসেছিলেন, কিন্তু ওদের কথায় এটা পরিষ্কার ছিল যে পরিবার বলতে ওদের কাছে শুধু মানুষ নয়, ঘরের পশুপাখিও তাদের পরিবারের অংশ। তাদের ফেলে যাবেন এমন স্বার্থপর তারা নন। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা তখন ছিল না, এখনও নেই। শুধু মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা। আবার এই মানুষ যখন অন্য প্রাণীর জন্যে আকুল হয় তখন তাদের সচেতনতার অভাবের কথা বলা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি। প্রলয়ঙ্করী এই ধ্বংসযজ্ঞের ৩৩ বছর পার হতে চলেছে। এখনও স্বজনহারাদের আর্তনাদ থামেনি। গৃহহারা অনেক মানুষ এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি।

রাঙ্গাবালী দ্বীপের বাসিন্দা আলম মিয়া ওই রাতের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, সে ভয়াল রাতের কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে। সেই রাতের কথা কোনো ভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। সেই উপকূল এখনো অরক্ষিত।




ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে কুয়াকাটা প্রেসক্লাব মিলনায়তে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

এসময় ছাত্রলীগ নেতা রাইসুল ইসলাম শিবলু ও মো. বায়জিদ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসার বিষয় যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে আমরা সত্যি বিস্মিত”।

প্রকাশিত ভিডিও’র অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁরা আরো বলেন, এগুলি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) দ্বারা মিথ্যা বানোয়াট ভিডিও তৈরী করা হয়েছে যা কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগকে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি কুচক্রী মহল এমন কাজ করেছে।

এসময় সাংবাদিকদের বিনীত অনুরোধ করে বলেন, আপনারা উক্ত ঘটনার সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করলেই আসল ঘটনা বের হবে। এবং ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় আরও স্পষ্ট হবে বলে আমরা মনে করি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু অনন্ত মুখার্জী, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌউস মৃধা, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেনসহ কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ও প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২৭ এপ্রিল উৎপল দাস নামক ফেসবুক আইডি থেকে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের শিবলু ও বাইজিদসহ বেশ কয়েকজনের মাদক সেবন ও আবাসিক হোটেল থেকে চাঁদা চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে মুহূর্তে ভিডিওটি ভাইরাল হয়।




পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে প্রায় এক মাস ধরে চলা তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের মতে, অতি তাপমাত্রার কারণে বোরো ধানের পরাগায়ণ বিঘ্নিত হওয়ায় ধানে কমপক্ষে ১০ শতাংশ চিটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও জেলার অন্যতম প্রধান রবি ফসল মুগডালের উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিয়েও কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা দেখা গেছে, জেলায় বর্তমানে বোরো ধান, মুগডাল, মরিচ, চিনাবাদাম, তিল, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল মাঠে রয়েছে। প্রখর রোদ আর অসহনীয় তাপদাহের কারণে এসব ফসলের বেশিরভাগের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

আরো পড়ুন : দুমকীতে ড্রামের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের হকতুল্লাহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা অনেকেই তাদের খেত থেকে মুগডাল তুলছেন। তাদের একজন আব্দুস সাত্তার হাওলাদার (৬৫) জানান, তিনি এ বছর ১ দশমিক ২০ একর জমিতে মুগডালের চাষ করেছেন। এবছর প্রখর রোদে মুগডালের ফলন কম হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় ডালের আকারও ছোট হয়েছে। বেশিরভাগ ডাল অপুষ্ট হওয়ায় ওজনেও হালকা।

তিনি আরো বলেন, গতবছর সমপরিমাণ জমিতে মুগডাল চাষ করে ১২ মণ ডাল পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর তার অর্ধেক ফলন পেতে পারি। এতে খরচই উঠবে না।

একই এলাকার চাষি শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তিনি ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এক একর জমিতে মুগডালের চাষ করেছেন। প্রতি বছর তিন বার ডাল তুলতে পারি। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে ফলন কম হয়েছে। এতে একবার বা দু’বারের বেশি ফলন পাওয়া যাবে না।
খেতে ডাল তোলায় ব্যস্ত তার স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, এ বছর ডাল অনেক কম পাওয়া যাবে। সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতের মাটি শুকিয়ে গেছে। একারণে ডালের ফলন কম হয়েছে, আকারেও ছোট হয়েছে।

আরেক কৃষক আলী আশরাফ মুগডালের পাশাপাশি চিনাবাদাম, তিল, সূর্যমুখী ও মিষ্টি আলুর চাষ করেছেন।
তিনি বলেন, সব ধরনের রবি ফসলই আবাদ করি। পাঁচ সদস্যের পরিবারে এ দিয়েই সারা বছরের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করি। কিন্তু এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং গরমের কারণে সব ধরনের ফসলের উৎপাদন কম হচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল বারেক গাজী বলেন, আগে সময়মত বৃষ্টিপাত না হলে আমরা খালের পানি দিয়ে সেচ দিতে পারতাম। কিন্তু এখন খালগুলোও ভরাট হওয়ায় সেখানে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সংকটকালে জমিতে সেচ দেয়াও যায় না। অনেকক্ষেত্রে খাল ভরাট হয়ে কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট আউলিয়াপুর গ্রামের বোরো চাষি মোজাম্মেল হোসেন মৃধা জানান, আমাদের গ্রামের কৃষকরা প্রতিবছর আমন ফসলের পর বোরো ধান চাষ করি। ভালো ফলনও পাই। তবে এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম এবং তীব্র গরমে ধান পরিপুষ্ট হতে পারছে না। এতে ফলন কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ কম হতে পারে। প্রখর রোদে খালেও পানিও শুকিয়ে গেছে। ধানখেতে সেচ দিতে পানি সংকটে ভুগছি।

আরো পড়ুন : যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানালো ইসরায়েলি সেনারা

পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, ৮৭ হাজার ৩৪১ হেক্টরে মুগডাল, ৭ হাজার ৯৪৬ হেক্টরে চিনাবাদাম, ২ হাজার ১০০ হেক্টরে সূর্যমুখী, ৪৮০ হেক্টরে সরিষা, ১৩৪ হেক্টরে তিল, ১৯ হেক্টরে সয়াবিন, ৮ হাজার ২৪২ হেক্টরে মরিচ, ২ হাজার ১১৮ হেক্টরে মিষ্টি আলু আবাদ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রখর রোদে বোরো ধানের পরাগায়ণ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ধানে চিটা হতে পারে। তাছাড়া মুগডালসহ অন্যান্য রবি ফসল উৎপাদনও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছি। অনাবৃষ্টি আর অধিক তাপমাত্রার কারণে ফসলের খেতে নানা রোগবালাই দেখা দিতে পারে। তবে দ্রুত বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা কিছুটা হলেও তাদের ক্ষতি পোষাতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খালসহ প্রাকৃতিক জলাধারগুলো সংস্কারের উদ্যোগে নেওয়া হবে।




বরিশালে সাবান চুরির সাজানো মামলায় কারাভোগ

বরিশাল অফিস :: মাত্র একটি সাবান চুরির ঘটনায় সাজানো মামলায় ঘটনাস্থলে না থেকেও প্রধান আসামি হয়ে সাতদিন কারাভোগ করতে হয়েছে মোস্তফা কামালকে।

বরিশাল নগরীর ২৮নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোজাফফর খলিফার ছেলে মোস্তফা কামালকে কারাগারে পাঠিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনে বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের দুই দফার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তড়িঘড়ি করে দ্রুত ভবন নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, সাবান চুরির ঘটনায় মারামারিটা মোস্তফা কামাল নাকি তার লোকজন দিয়ে করিয়েছে। সে কারনে তাকে আসামি করা হয়েছে। তবে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তফাকে দেখিনি।

ওই মামলায় সাতদিন কারাভোগ করে জামিনে বেরিয়ে রবিবার সকালে মোস্তফা কামাল বলেন, যে মামলায় আমি হাজতবাস করেছি, সেই ঘটনার সাথে আমার কোনধরনের সম্পৃক্ততা নেই।পুলিশ প্রশাসন এজাহার গ্রহণের পূর্বে সরেজমিনে তদন্ত করলে আমাকে কারভোগ করতে হতো না। মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে
বোরহান উদ্দিনের সাথে জমিজমা দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে আমার বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরধরে আমার জমি দখলের জন্য থানা পুলিশের সাথে আতাত করে সাবান চুরির ঘটনায় সৃষ্ট মারধরের ঘটনায় আমাকে প্রধান আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। সেই সাজানো মামলায় পুলিশ কোনধরনের তদন্ত না করেই গত ৯ এপ্রিল গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। গত ১৫ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে তিনি (মোস্তফা কামাল) দেখতে পান বোরহান উদ্দিন তার জমি দখল করে আদালতের দুইদফা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দ্রæত গতিতে ভবন নির্মান করে আসছেন।

জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ নগরীর কাশিপুর আনসার অফিসের বিপরীত পার্শ্বে নির্মাণাধীন ভবনের শ্রমিকরা পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা রুবেলের রেখে যাওয়া সাবান নিয়ে যায় শ্রমিকরা। পরে রুবেল এসে সাবান খুজে না পেয়ে শ্রমিকদের সাথে বাগবিতন্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এসময় কয়েকজন শ্রমিক মিলে রুবেলকে মারধর করেন। খবর পেয়ে রুবেলের বাড়ির লোকজন আসলে পাল্টাপাল্টি মারামারির ঘটনা ঘটে। সাবান চুরি থেকে মারামারির ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বোরহান উদ্দিন শ্রমিক আলমগীরকে দিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করিয়েছেন। ওই মামলায় মোস্তফা কামালকে প্রধান আসামি করা হয়। পুলিশ মামলার অভিযোগের তদন্ত না করেই এজাহারভূক্ত করে ঈদের আগ মুহুর্তে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করেন।

অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিন বলেন, জমিতে নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা সেটা দেখবে আদালত। মোস্তফা গংরা আমার নির্মাণাধীণ ভবনের শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়ে মালামাল নিয়ে গেছে। এ কারণে আমার শ্রমিক আলমগীর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মারামারিটা নাকি মোস্তফা কামালই তার লোকজন দিয়ে করিয়েছেন। সে কারনে তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এয়ারপোর্ট থানার এসআই সুমন চন্দ্র মজুমদার বলেন, মামলা দায়েরের পর প্রধান আসামি মোস্তফা কামালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিরা জামিনে রয়েছে।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ আলম চৌধুরী বলেন, তদন্ত শেষেই অভিযোগটি এজাহারভূক্ত করা হয়েছে। কোন নিরপরাধ ব্যক্তি হেনস্তা হবেনা।




দুমকীতে ড্রামের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে বাথরুমে রাখা প্লাস্টিকের ড্রামে পড়ে মুনতাহা নামের দুই বছরের একটি মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার(২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুনতাহা স্থানীয় ইউনুস মোল্লার ছোট ছেলে সুমন মোল্লার মেয়ে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ভেসে এসেছে টর্পেডো সাদৃশ্য বস্তু

জানা যায়, ফজরের নামাজের পরে মুনতাহাকে ঘুমে রেখে বাবা-মা বাড়ির পাশেই নিজ জমিতে মুগডাল তুলতে যায়। এসময় দাদা-দাদীর চোখের আড়ালে মুনতাহা ঘুম থেকে উঠে বসত ঘরের পেছনে পুকুর পাড়ে চলে যায়। বাড়ির লোকজন ডেকে এনে মুনতাহাকে বাসায় দিয়ে যায়। এঘটনার কিছুক্ষন পরেই মুনতাহাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রিফাত নামে মুনতাহা’র ফুফাতো ভাই ওই বাসার বাথরুমে রাখা প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে পানি তুলতে গিয়ে দেখতে পায়। সাথে সাথে উদ্ধার করে দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুনতাহকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের ১৭ ঘন্টা পর শ্রমিকের লাশ উদ্বার

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, এ ধরনের খবর আমরা পাইনি।




নিখোঁজের ১৭ ঘন্টা পর শ্রমিকের লাশ উদ্বার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বালুবাহী বলগেট জাহাজ থেকে নদীতে পড়ে শাকিল গাজী (২৩) নামের এক নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ১৭ ঘন্টা পর উদ্ধার করা করা হয়েছে।

রবিবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ৩টায় কলরাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকায় আন্ধারমানিক নদী থেকে মৃতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোজ শাকিল গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া এলাকার জাকির গাজীর ছেলে।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় বালুর জাহাজ থেকে ছিটকে পড়ে শ্রমিক নিখোঁজ

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশর অফিসার ইলিয়াস হোসাইন জানান, শনিবার রাতে তিশা-তাপসি নামের বলগেটটি বালু নিয়ে পায়রা বন্দর বন্দর সংলগ্ন এলাকা থেকে আন্ধারমানিক নদীর কলাবাড়ি এলাকায় পৌছায়।
এসময় বলগেটটি নোঙ্গর করতে গিয়ে ডান্ডি চুকানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ওই শ্রমিক নদীতে পড়ে নিখোজ হন। পরে রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস।




পটুয়াখালীতে ভেসে এসেছে টর্পেডো সাদৃশ্য বস্তু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ভেসে এসেছে একটি টর্পোডে সাদৃশ্য বস্তু। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট। রবিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর থেকে উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের মীরকান্দা গ্রামের ভাঙ্গার খালে এ টর্পেডোটি ভেসে আসে। অচেনা এ বস্তুটি দেখে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে রাবনাবাদ চ্যানেল হয়ে এই টর্পেডোটি ভাঙ্গার খালে প্রবেশ করতে পারে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কোষ্টগার্ডের সদস্যরা ছবি দেখে এটি প্রাথমিকভাবে টর্পেডো বলে জানিয়েছেন।
টর্পেডো হচ্ছে এক ধরনের স্ব-চালিত অস্ত্র। এটি জলের নিচে বা উপরে বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করে এবং লক্ষবস্তুর কাছাকাছি আসার পর বিস্ফোরিত হতে পারে।

আরো পড়ুন : মুখ ঢেকে জাল ভোট দিতে গিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড



মুখ ঢেকে জাল ভোট দিতে গিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জাল ভোট দিতে গিয়ে শাহানাজ বেগম (২৫) নামের এক নারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২৮এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে ভুড়িয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র ১৬৪ নং পশ্চিম ভায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আসামি শাহানাজ বেগম ভায়লা এলাকার নুরুল ইসলাম ফরাজির মেয়ে ও আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।

আরো পড়ুন : নাতির হাত ধরে ভোট দিতে এলেন ১০৫ বছর বয়সী আব্দুল মজিদ

এ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কেন্দ্রে ছদ্মবেশে দ্বিতীয় বারের মতো ভোট দিতে আসেন শাহানাজ বেগম। তখন অনেক এজেন্টদের তাকে সন্দেহ হয়। পরে তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি জাল ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আইনের ১৮৬০ এর ১৭১এর চ ধারা অনুযায়ী তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

শাহানাজ বেগম একজন ইউপি সদস্য প্রার্থীর পক্ষে দ্বিতীয় বার ভোট দিতে এসে ধরা খেয়েছেন বলে তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।