ইলিশ সংকটে ভোলায় জেলেদের বিশেষ দোয়া

ভোলার মেঘনার তীরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে জেলেরা আয়োজন করেছেন বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত। দিনদিন ইলিশের সংকট বাড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলেরা। আশ্বিনের মাঝামাঝি সময়েও নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় এই বিশেষ আয়োজন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে স্থানীয় জেলেরা ইলিশ প্রাপ্তি ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য সমবেত হয়ে দোয়া ও মোনাজাত করেন। এতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের শতাধিক জেলে ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

জেলেদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রতিদিন নদীতে গেলেও জালভর্তি ইলিশ নিয়ে ঘরে ফেরা তো দূরের কথা, ন্যূনতম খরচটুকু উঠছে না। এতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণ করে মাছ ধরতে নেমে এখন বিপদে।

স্থানীয় জেলে আমির হোসেন বলেন, “আগে দিনে অন্তত কিছু ইলিশ পাওয়া যেত, এখন দিন পার হলেও জাল ফাঁকা নিয়ে ফিরতে হয়। নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছি—যেন আমাদের রিজিকের রাস্তা খুলে দেন।”

আরেক জেলে রুস্তম আলী বলেন, “জ্বালানি, বরফ ও খাওয়ার খরচ মিলিয়ে প্রতিদিন ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে গেছে।”

এদিকে, জেলেরা অভিযোগ করেছেন—নদীতে বিভিন্ন সময় কারেন্ট জাল ও অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা হওয়ায় প্রকৃত মৌসুমে ইলিশ আসছে না। তারা নিয়ম মেনে মাছ ধরা এবং নদী রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি।

জেলেদের এই দোয়ায় নদী পাড়ের বৃদ্ধরাও অংশ নেন। অনেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ইলিশ না থাকলে শুধু জেলে নয়, গোটা ভোলার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ভোলা অঞ্চলে ইলিশ মৌসুমে হাজার হাজার জেলে নদীতে নামেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীতে ইলিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিদেশি জাহাজের ধাক্কায় বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবে, ১৩ জেলে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরের গভীরে ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার বিদেশি জাহাজের ধাক্কায় ডুবে গেছে। প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ট্রলারে থাকা ১৩ জেলে। সোমবার (৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ডুবুরে উদ্ধার হওয়া জেলেরা পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ঢেপসাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে সমুদ্রে ভেসে থাকা অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে অপর একটি মাছ ধরার ট্রলার। পরে তাদের উপকূলে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ট্রলার মালিক হেলাল মৃধা জানান, গত শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে মাঝি শাহাজাহান হাওলাদার ট্রলারটি নিয়ে ১৩ জন জেলেকে সঙ্গে নিয়ে ডুবলার চর এলাকায় মাছ ধরতে পাঠান। সোমবার বিকেলে ডুবলার চর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার গভীরে জাল ফেলার পরই একটি বিদেশি জাহাজ এসে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

তিনি বলেন, “জাহাজের ধাক্কায় ট্রলারটি উল্টে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই ডুবে যায়। তবু জেলেরা বাঁশ ও ফ্লোট ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করে। ভাগ্য ভালো, একটি ট্রলার তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।” ইন্দুরকানী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হোসেন জানান, “উদ্ধার হওয়া জেলেদের খোঁজ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছে। ট্রলার ডুবির ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

টানা ২২ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর জীবিত ফিরে আসায় জেলেদের পরিবার ও গ্রামজুড়ে স্বস্তির পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, বিদেশি জাহাজের চলাচল নির্দিষ্ট নিয়ম না মানলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





ফেসবুকে শীর্ষ অনুসারীতে যে ১২ নায়িকা

বাংলাদেশে সিনেমা ও নাটকের নায়িকারা শুধু পর্দায় নয়, সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। অনুসারীর সংখ্যার বিচারে দেখা গেছে, শীর্ষে অবস্থান করছেন এমন অনেক তারকা, যারা পর্দার বাইরেও ব্যক্তিজীবনের খুঁটিনাটি শেয়ার করে ভক্তদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী রয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির। তার অনুসারীর সংখ্যা ১৬ মিলিয়ন। ব্যক্তিগত নানা ঘটনা, সন্তান, সম্পর্ক, বিবাহ, বিচ্ছেদ, এমনকি মামলা—সবই নিয়মিত ফেসবুকে তুলে ধরায় তিনি সর্বাধিক আলোচিত তারকায় পরিণত হয়েছেন।

তার পরেই রয়েছেন লাক্স তারকা মেহজাবীন চৌধুরী। সাবলীল অভিনয় আর পরিশ্রম দিয়ে তিনি নাটক থেকে ওটিটিতে জায়গা করে নিয়েছেন। তার অনুসারী সংখ্যা ১০ মিলিয়ন।

পুরোনো প্রজন্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন পূর্ণিমার ফলোয়ার সংখ্যা ৯.৮ মিলিয়ন। অভিনয়ে সক্রিয় না থাকলেও তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্ব এখনো তাকে সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।

অপু বিশ্বাস এখন তেমন একটা অভিনয়ে দেখা না গেলেও, ব্যক্তি জীবনের আলোচিত ঘটনাগুলোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সদা সরব। তার ফলোয়ার সংখ্যা ৯.১ মিলিয়ন।

তরুণ প্রজন্মের আইকন নুসরাত ফারিয়ার রয়েছে ৭.১ মিলিয়ন ফলোয়ার। অভিনয়ের পাশাপাশি গান ও উপস্থাপনায়ও জনপ্রিয় তিনি।

তাসনিয়া ফারিণ, ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’ ইমেজে অল্প সময়ে ৭ মিলিয়ন ফলোয়ার পেয়েছেন। নাটক ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তিনি সমান জনপ্রিয়।

সাফা কবির (৬.৬M), বিদ্যা সিনহা মিম (৬.৫M), কেয়া পায়েল (৬.১M) – এদের জনপ্রিয়তাও চোখে পড়ার মতো। এরা প্রত্যেকে অভিনয়, স্টাইল ও ভক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অবস্থান মজবুত করেছেন।

জয়া আহসান (৫.৭M) শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতেও তার জনপ্রিয়তা চরমে। বয়স পেরিয়ে গেলেও তার সৌন্দর্য ও মেধাবী অভিনয় তাকে আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করেছে।

শবনম বুবলী (৫.১M) ও সাবিলা নূর (৩.৯M) সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সক্রিয়। সাবিলা পোস্ট প্রতি এনগেজমেন্টে অনেক শীর্ষ তারকাকেও পেছনে ফেলেছেন।

এছাড়াও জনপ্রিয়তার তালিকায় রয়েছেন:

  • রাফিয়াত রশীদ মিথিলা – ৩.৬M
  • পূজা চেরী – ৩.৬M
  • সামিরা খান মাহি – ৩M
  • জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি – ৩M
  • তানজিন তিশা – ২.৯M
  • শবনম ফারিয়া – ২.৩M
  • মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া – ২.৩M

বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে এখন ‘ডিজিটাল স্টারডম’-এর যুগ। শুধু অভিনয় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা এখন জনপ্রিয়তার অন্যতম মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় যুবদলের জেলা, সদর থানা ও পৌর কমিটি গঠন

ভোলা জেলায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের তিনটি পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে ঘোষিত এ কমিটিগুলোতে স্থান পেয়েছেন অভিজ্ঞ ও নবীন নেতারা।

গত সোমবার (৪ আগস্ট) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোলা জেলা যুবদলের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মো. জামাল উদ্দিন লিটনকে সভাপতি এবং মো. আব্দুল কাদের সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সংগঠনের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন পদে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকাও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহ-সভাপতি ১ জন, সহসভাপতি ১২ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৯ জন, সহসাধারণ সম্পাদক ১৫ জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ১ জন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ৮ জন এবং সদস্য করা হয়েছে ৫ জনকে।

এছাড়া, ভোলা সদর থানা শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আব্দুল লতিফ টিটুকে আহ্বায়ক এবং মো. বেলাল হোসেনকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়। কমিটিতে মোট ৯ জন সদস্য রয়েছেন।

অন্যদিকে, ভোলা সদর পৌর শাখার ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে মো. রিয়াদ হাওলাদারকে আহ্বায়ক এবং মো. সগির আহমেদকে সদস্যসচিব করে।

ভোলা জেলা যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন লিটন বলেন,
“ভোলা জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। নবগঠিত কমিটিগুলো সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও জানান, এর আগে ভোলা জেলা যুবদলে একটি সুপারভাইজরি কমিটি দায়িত্বে ছিল। এখন পূর্ণাঙ্গ কাঠামো অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শোভাযাত্রা শেষে ফেরার পথে বাসচাপায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা নিহত, বিক্ষোভে উত্তাল সড়ক

বরগুনার আমতলীতে গণ-অভ্যুত্থান দিবসের শোভাযাত্রা ও সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় রেজাউল করিম (৪০) নামের ইসলামী আন্দোলনের এক স্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আবদুল হক নামের আরও একজন আহত হন।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ঘটখালী গ্যাসপাম্প–সংলগ্ন এলাকায়। দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত স্থানীয়রা ও দলীয় নেতা-কর্মীরা মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে মহাসড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বাস আটক হওয়ার খবরে রাত ৯টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

নিহত রেজাউল করিম আমতলী উপজেলার ডালাচারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গুলিশাখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইসলামী আন্দোলনের আমতলী শাখার আয়োজনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবসের কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যার দিকে রেজাউল করিম আবদুল হককে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা কুয়াকাটাগামী ছন্দা পরিবহনের একটি বাস তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রেজাউল করিম প্রাণ হারান এবং আবদুল হক গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দলীয় নেতা-কর্মীরা মরদেহ নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এতে উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। পরে বাস ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মহিপুর থানায় আটক করা হয়েছে—এমন খবর পাওয়ার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

ইসলামী আন্দোলনের আমতলী উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী বলেন,
“আমরা এ দুর্ঘটনার বিচার চাই। ঘাতক চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, এটি দায়িত্বহীনতার জঘন্য উদাহরণ।”

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান,
“ঘটনার পর বাসটি আটক করা হয়েছে। চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে রেজাউলের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় এলাকাজুড়ে। দলীয় নেতাকর্মী ও সহপাঠীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে খানিক বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, দীর্ঘদিন পর খাল পুনঃখননে বড় উদ্যোগ

বরিশাল শহরে দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া খালগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)। শহরের পানি নিস্কাশনের অন্যতম মাধ্যম খালগুলো খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় শুরু হয়েছে বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ। একইসঙ্গে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ৭০১ কোটি টাকার প্রকল্প। নগরবাসী এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অতীতে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ নামে খ্যাত বরিশাল শহরের বুক চিরে প্রবাহিত ছিল আঁকাবাঁকা অসংখ্য খাল। এসব খালই এক সময় শহরের সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের মূল উৎস ছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে দখল, দূষণ, এবং অবহেলার কারণে এসব খাল একে একে হারিয়েছে স্বাভাবিক গতি ও প্রশস্ততা।

বিভিন্ন সময় খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ছিল অস্থায়ী ও ধারাবাহিকতাহীন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। মূলত খালগুলো ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন খালগুলোর পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণে সক্রিয় হয়েছে। বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে খাল খনন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। বিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব এলাকায় ঘনবসতি রয়েছে, সেসব স্থানে ১০০ মিটার পরপর এবং অপেক্ষাকৃত কম জনবহুল এলাকায় ২৫০ মিটার পরপর ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে, যাতে বাসিন্দারা খালে ময়লা না ফেলেন।

বিসিসির প্রশাসক মো. রায়হান কাওসার বলেন, ‘ধান-নদী-খাল এই তিনেই বরিশাল। আমরা এসব খাল উদ্ধার করে পরিবেশ রক্ষায় বড় পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করি, বরিশাল আবারও তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।’

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরাম-এর আহ্বায়ক শুভঙ্কর চক্রবর্তী জানান, ‘খাল পুনঃখননের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা চাই, খালগুলো আগের মতোই প্রবাহমান থাকুক। এতে বরিশালের জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং পরিবেশ হবে বাসযোগ্য।’

অতীতে ব্রিটিশ আমলে বরিশাল অঞ্চলে ১০৮টি খাল ছিল। পাকিস্তান আমলে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪৬টিতে। ১৯৭১ সালে ছিল প্রায় ২৩টি খাল, যা বর্তমানে এসে ঠেকেছে মাত্র ৭টিতে। তবে সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পদক্ষেপ সেই হারিয়ে যাওয়া খালগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

খালগুলোর পানিতে এখন হাঁসের দল খেলে বেড়াচ্ছে, কোথাও কোথাও চলছে মাছ ধরার আয়োজন—যা আগের আবর্জনায় ভরা অবস্থার সঙ্গে একেবারেই অসমান। দীর্ঘদিন পরে হলেও এমন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নগরবাসীর কাছে আশার আলো হয়ে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাথরঘাটায় নৌবাহিনীর অভিযানে অবৈধ সিগারেট জব্দ, দুইজনের কারাদণ্ড

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা এবং অনাদায়ে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালতলা বাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান (ট্যাজ), বিএন (পি নং ২৭৭৭)-এর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি সশস্ত্র দল এবং পাথরঘাটা থানা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযানে অংশ নেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান।

অভিযানে তালতলা বাজার সংলগ্ন “সাজিদ ট্রেডার্স” ভবনের নিচতলায় তল্লাশি চালিয়ে বার্গো টোবাকো কোম্পানির ২৫,৭৬০ শলাকা ‘কিংস’ ও ৬,৬৯০ শলাকা ‘ড্রাগন’ ব্র্যান্ডের অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়। এসব সিগারেট দীর্ঘ ছয় মাস ধরে অনুমোদনহীনভাবে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আটককৃত দুই ব্যক্তি হলেন—পাথরঘাটা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. নাছির হাওলাদারের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং কাঠালতলি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. হাসান (৩৫)। তারা অবৈধ সিগারেট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫০ ধারা অনুযায়ী মামলা নং-১৯/২০ অনুযায়ী উভয় আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অভিযান শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে জব্দকৃত সব অবৈধ সিগারেট উপজেলা পরিষদ মাঠে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

নৌবাহিনীর এ অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা করছেন, এমন অভিযান নিয়মিত হলে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হবে এবং বাজারে ন্যায্যতা ফিরবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বোরহানউদ্দিনে স্বামীর সঙ্গে অভিমান, গৃহবধূর আত্মহত্যা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে কীটনাশক পান করে রিক্তা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের নতুন হাকিমউদ্দিন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত রিক্তা চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রহমানের মেয়ে এবং পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হোসেন মিয়ার স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর আগে রিক্তার বিয়ে হয় হোসেন মিয়ার সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকে সম্পর্ক ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস থেকে কলহ দেখা দেয়। ঘটনার দিন স্বামী হোসেন নদীতে থাকা অবস্থায় রিক্তাকে ফোন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ফোন কিছু সময় ‘ওয়েটিং’-এ থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি স্ত্রীকে গালমন্দ করেন। এরপর অভিমান করে রিক্তা ঘরে থাকা গ্যাস ট্যাবলেট (কীটনাশক) খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এই বিষয়ে ওসি (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা আরও বলেন, “ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ ও দাম্পত্য কলহ থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়ভাবে রিক্তার মৃত্যু নিয়ে নানা আলোচনা চললেও এখনো পুলিশ কোনো পক্ষের দায় নিশ্চিত করেনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পরীমণি: ‘আমার মেয়ে কোনো বিজনেস এলিমেন্ট না’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমণি আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সামাজিক মাধ্যমে তার সন্তানদের ঘিরে চলা অনাকাঙ্ক্ষিত ট্রোল ও গুজব নিয়ে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় “দত্তক” শব্দটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিরুদ্ধে সাফ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, তার মেয়েকে ঘিরে কনটেন্ট বানানো ও কটাক্ষে তিনি বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ।

ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে পরীমণি লেখেন, “মেয়েটা আমার। কথায় কথায় দত্তক দত্তক বলে এদের কী মজা লাগে, আমি বুঝি না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, শোবিজ জগতের মানুষ হলেও তার ব্যক্তিগত জীবন সাধারণ মানুষের মতোই। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমের কিছু মানুষ সেটা নিয়ে অযথা চর্চা করে।

তিনি আরও লেখেন, “আমাদের জীবনের আনাচে-কানাচে অতি উৎসাহী লোকের কোনো ঘাটতি নেই। নিজের জীবনের সব অভাব পূরণ করতে তারা ব্যস্ত থাকে অন্যের জীবন নিয়ে। অথচ আমাদের জীবন খুবই সাদামাটা—চুলে তেল মেখে রান্না করি, বাচ্চাদের খাওয়াই, যত্ন নিই। শরীর খারাপ না থাকলে বা শুটিংয়ে না থাকলে সব কাজ আমি নিজেই করি।”

পরীমণি অভিযোগ করেন, কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার মেয়েকে নিয়ে গুজব রটাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমার মেয়ে কোনো বিজনেস এলিমেন্ট না, এটা ভালোভাবে বুঝে নিন। আমি ইচ্ছে হলে ছবি দেবো, ইচ্ছে না হলে দেবো না। এই সিম্পল কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে ফেলুন।”

পোস্টের শেষে রসিকতার ছলে তিনি লেখেন, “আমি আমার বাচ্চাদের খালে ফালায়ে দিছি হিহিহি… খুশি? হ্যাপি ফ্রেন্ডশিপ ডে।”

পরীর এই পোস্ট আবারও আলোচনায় এনেছে তার ব্যক্তিগত জীবন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিব্রিটিদের ওপর অতিমাত্রায় নজরদারির বাস্তবতা। বিশেষ করে সন্তানের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়েও যখন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ট্রল করতে ছাড়ে না, তখন প্রশ্ন ওঠে অনলাইন ভদ্রতার ভবিষ্যৎ নিয়েই।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আদালত চত্বর থেকে পলাতক আসামি আটক একদিন পর

বরগুনায় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশ হেফাজতভুক্ত আসামি পালিয়ে যাওয়ার একদিন পর আবারও আটক হয়েছে। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৮ নম্বর সদর ইউনিয়নের ক্রোক গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আটক আসামির নাম আল আমিন (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের লেমুয়া-পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও আলতাফ হোসেনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে তার প্রথম স্ত্রী পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ২ আগস্ট (শনিবার) বরগুনা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরদিন রোববার (৩ আগস্ট) আদালতে হাজিরের পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটক থেকে হাতকড়া খুলে দৌড়ে পালিয়ে যান আল আমিন। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করে।

অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় সদর থানার একটি টিম তাকে গ্রামীণ ব্যাংক সংলগ্ন এলাকা থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “আসামি আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে গেলেও আমরা তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিলাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদিনের মাথায় তাকে আবারও আটক করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আদালত চত্বরের মতো নিরাপদ এলাকায় আসামির পলায়নের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের দায়িত্ব পালনের মান ও প্রস্তুতি নিয়েও। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫