মুগডাল ভাঙানো মেশিন: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্নপূরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মুগ ডাল উৎপাদন হয়। এর বেশিরভাগ হয় পটুয়াখালী এবং বরিশাল অঞ্চলে।

বারি মুগ-৬ এই অঞ্চলে কৃষকদের এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি জমিতে রূপান্তর করেছে। মুগ ডাল আমিষের একটি অন্যতম উৎস। যা গরীব কৃষকদের আমিষের চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।

কিন্তু এই অঞ্চলে উৎপাদিত এই মুগ ডালগুলো এ অঞ্চলের কৃষকরা খুব কমই ভক্ষণ করতে পারে। কারণ এই মুগ ডালের খোসা ছাড়িয়ে খাবার উপযোগী ডাল উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি সহজলভ্য হয়নি।

নতুন উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির বিভিন্ন সুবিধাবলি যন্ত্র প্রস্তুত কারক বিজ্ঞানী সম্প্রসারণ কর্মী ও সাধারণ জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য এফএমপিই ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, গাজীপুর ও সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালীর আয়োজনে আন্তর্জাতিক গম ও ভুট্টা উন্নয়ন কেন্দ্রের সিসা-এমইএ প্রকল্পের অর্থায়ানে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার জামলাতে এক মাঠ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, লেবুখালী, পটুয়াখালী।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এ যন্ত্রটি ছড়িরিয়ে দিতে বারি উদ্ভাবিত এই যন্ত্রটির ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। মানসম্পন্ন প্রস্তুতকরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানদের প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরো পড়ুন : হবিগঞ্জে নিহত পাঁচজনের চারজনই পটুয়াখালীর এক পরিবারের

মো. মাইনুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. এইচ, এম খায়রুল বাসার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই পটুয়াখালী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী।

সভাপতি তার বক্তৃতায় তীব্রভাবে আশা পোষণ করেন যে, সদাশয় সরকার যদি এই যন্ত্রে ভর্তুকি প্রদান করেন এবং স্বল্পমূল্যে দক্ষিণাঞ্চলে কৃষকের মাঝে এই যন্ত্রটি ছড়য়ে দেয় সাথে সাথে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে তা এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মাঝে একটি অভূতপূর্ব সারা ফেলবে।




হবিগঞ্জে নিহত পাঁচজনের চারজনই পটুয়াখালীর এক পরিবারের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রাক ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রাইভেট কারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

নিহত পাঁচজনের মধ্যে একই পরিবারের চারজন। নিহতরা হলেন- পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের মৌজালী মৃধার ছেলে জামাল মৃধা (৪২) ও খোকন মৃধা (৩৫), নিহত জামাল মৃধার স্ত্রী কামরুন নাহার (৩০) ও ছেলে কাওসার (১২)। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে ড্রাইভারও মারা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হরিতলা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন : একদিকে রেকর্ড ভাঙা গরম, অন্যদিকে গাছ কাটছে বন বিভাগ

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জামাল মৃধা ঢাকার সাভারে পরিবার নিয়ে থাকতেন। জামাল মৃধার ইলেকট্রিক্যাল দোকান ছিল এবং খোকন মৃধা গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া কাওসারের মানত থাকায় সপরিবারে সিলেট শাহজালাল মাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার আগে সর্বশেষ রাত ১১টার দিকে নিহত জামাল মৃধা তার মায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন।

গলাচিপা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মরদেহ হবিগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে আছে। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ পটুয়াখালীতে কখন আনা হবে সে বিষয়ে এখনো তথ্য পাইনি।




একদিকে রেকর্ড ভাঙা গরম, অন্যদিকে গাছ কাটছে বন বিভাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চলমান অসহনীয় গরমে যখন ‘গাছ লাগাও, পরিবেশ বাঁচাও’ আওয়াজ উঠেছে, ঠিক সে সময়েই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সামাজিক বনায়নের এক হাজার ৩৭৫টি গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। সামাজিক বনায়ন বিধিমালার নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে তীব্র গরমের মধ্যেই ৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে ছায়া দেওয়া ২৪ বছরের পুরানো এসব গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে ছায়া বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ, ঠিকানা হারাচ্ছে পাখ-পাখালি। কিন্তু গাছ কাটার এমন সিদ্ধান্ত কিংবা নিয়ম জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য শুভকর নয়; বলছেন পরিবেশবিদরা।

সামাজিক বনায়নের এসব গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্র বলছে, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে রাঙ্গাবালী বন গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন সড়ক থেকে উপজেলা পরিষদ হয়ে গন্ডাদুলা এম এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে এ গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। বন বিভাগের সবুজ বেষ্টনী প্রকল্পের আওতায় ২৪ বছর আগে সড়কটির দু’পাশে মেহগনি, রেইনট্রি, আকাশমনি, অর্জুন, খইয়া, বাবলা, চাম্বুল, শিশু, কড়াই, ঝাউ, পেয়ারা ও কাঁঠাল প্রজাতির এ গাছ রোপণ করা হয়।

বন বিভাগ বলছে, সামাজিক বনায়ন বিধিমালার অনুযায়ী ২০ বছর পূর্ণ হলেই সামাজিক বনায়নের গাছ নিয়মানুযায়ী বিক্রি করার বিধান রয়েছে। সেই নিয়ম রক্ষা করতে গিয়ে ফলজ-বনজ প্রজাতির এক হাজার ৩৭৫টি গাছ নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করে বিক্রি করার জন্য গত ১৩ ডিসেম্বর দরপত্র আহ্বান করে বন বিভাগ। ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ২০০ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মো. বশির মিয়া গাছ কাটার কার্যাদেশ পান।

আরো পড়ুন : সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক দুমকি বিনির্মানে সহযোগীতা চাইলেন মেহেদী হাসান মিজান

কিন্তু গরমে যখন হাঁসফাঁস জনজীবন, ঠিক তখনই গাছ কাটা শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠফাটা রোদে একটু প্রশান্তি মেলে গাছ তলাতে। কিন্তু মাথার ওপর ছায়া দেওয়া, পাখিদের আশ্রয় দেওয়া সেই গাছে ঢাকা সড়কটি এখন প্রায় গাছ শূন্য। একের পর এক কাটা পড়ছে ছায়া বৃক্ষগুলো। তাপদাহ চলা পুরো এপ্রিল মাসজুড়েই গাছ কাটা চলে। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ও।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বন বিভাগ যে গাছগুলোতে লাল নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করেছে তা-তো কাটা হচ্ছেই, আর যেগুলো নম্বর চিহ্ন দেয়নি তাও কাটা হচ্ছে। ছোট-ছোট গাছও রক্ষা পাচ্ছে না।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের গন্ডাদুলা গ্রামের খালিদ হোসেন বলেন, ‘দু’পাশের এ গাছগুলো সড়কটিকে ছায়া দিয়ে রাখতো। ছায়া দেওয়া এসব গাছের কোনটিই রাখা হচ্ছে না। ছোট-বড় সব গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। বন বিভাগের গাছ তো নিছেই, আমাদের অনেকের লাগানো মালিকানা গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এই সড়কে গাছ থাকলে ছায়ায় চলাফেরা করতে পারতাম। গাছ না থাকার কারণে রোদের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। গরমে সড়কে চলাচল করতে পারছি না।’

ওই ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বশার হোসেন বলেন, ‘এই রাস্তায় যখন গাছ ছিল, ঠান্ডা বাতাস লাগতো। গাছ কেটে ফেলছে, এখন রোদে চলা যায় না। পথচারীরা গাছের ছায়া পাচ্ছে না। গাছগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পাখিগুলো আশ্রয় হারাচ্ছে। এই সড়কে শোনা যাবে না পাখির কিচিরমিচির শব্দ।’

বন বিভাগের রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ বসু বলেন, ‘দারিদ্র বিমোচন করতে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করে সমিতির মাধ্যমে সৃষ্ট সামাজিক বনায়নের গাছ রোপণের ২০ বছর পর কেটে নিয়মানুযায়ী বিক্রি করার বিধান রয়েছে। বিক্রি করা এই অর্থ বন অধিদপ্তর ১০ শতাংশ, ভূমি মালিক সংস্থা ২০ শতাংশ, উপকারভোগী ৫৫ শতাংশ, পুনরায় বাগান করার জন্য ১০ শতাংশ এবং ইউনিয়ন পরিষদ পাবে ৫ শতাংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সড়ক থেকে গাছ কাটা হচ্ছে সেই সড়কে পুনরায় ১০ হাজার গাছ রোপণ করা হবে।’

তবে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা রক্ষার নামে গাছ কাটার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করছেন পরিবেশবিদরা।

পরিবেশবিদরা বলছেন, সামাজিক বনায়ন বিধিমালার এই নিয়ম এখন পরিবর্তন প্রয়োজন। এমন নিয়ম করতে হবে যে গাছ কেটে উপকারভোগীদের আর টাকা দেওয়া হবে না। গাছের পরিচর্যা কিংবা দেখাশোনা করার দায়িত্ব থাকা উপকারভোগীদের অন্য ধরণের সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই গাছ কাটা যাবে না। গাছ কাটা পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক হুমকির বলে মনে করছেন তারা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বালুচাপা দেয়া হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. মো. শাহরিয়ার জামানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমাদের দেশে বনায়নের পরিমাণ অত্যন্ত কম। এটা ১২ দশমিক ৮ কিংবা হিসেব করলে এর চেয়ে আরও কম। যেটার কুফল কিন্তু এখন আমরা ভোগ করছি। আমাদের দেশের ওপর দিয়ে হিটওয়েভ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রিও ছাড়িয়েছে। যেটা ১০-১৫ বছর আগেও ছিল না।’

ড. মো. শাহরিয়ার জামান বলেন, ‘উপকূলীয় রাঙ্গাবালী এমনিতেই খরা, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের সম্মুখীন। সুতরাং সামাজিক বনায়নের যে গাছগুলো বন বিভাগ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা পরিবেশগত হানিকর সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই না। বন বিভাগই যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা কার প্রতি আস্থা রাখবো?। আমি মনে করি বন বিভাগ এমন সিদ্ধান্ত থেকে দ্রুত সরে আসবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের সুফল ভোগ করে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষজন। এর সুফল ভোগ করে সেখানকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। সুতরাং এ গাছগুলো কেটে ফেলা বা সরিয়ে ফেলা মানে ওখানকার তাপমাত্রা এমনেতেই বেড়ে যাবে। ওই জায়গার জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে। এছাড়া ১৫-২০ বছরের পুরনো গাছ যদি কেটে ফেলা হয়, সে অবস্থায় আবার ফিরে আসতে ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।’




সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক দুমকি বিনির্মানে সহযোগীতা চাইলেন মেহেদী হাসান মিজান

বরিশাল অফিস : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দুমকি উপজেলায় এবার তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৬০ শতাংশ। যারা নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করবে। এই তারণ্যকে প্রাধান্য দিয়েই নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক দুমকি বিনির্মানের লক্ষ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন চেয়ারম্যান পদ-প্রার্থী এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান।

গতকাল বিকেলে লেবুখালীর পাগলার মোড় সংলগ্ন পায়রা পয়েন্টে এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজানের প্রধান নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজানের সভাপতিত্বে দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ সুলতান আহমেদ মোল্লা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ ইব্রাহীম ফরাজী, মুরাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন চাকলাদার প্রমূখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

হাজার হাজার কর্মী সমর্থকদের মুর্হমুহু শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ।

দুমকি উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ উদ্যোক্তা নিউ ভিশন গ্রুপের এমডি মো. তরিকুল ইসলাম মনির বলেন, মেহেদী হাসান মিজানকে চিনি স্টুডেন্ট লাইফ থেকে। সে একজন সৎ এবং যোগ্য নেতৃত্ব। জনগণের উন্নয়ন ও সেবা দেওয়ার জন্যই সে নির্বাচনে এসেছে। সে নির্বাচিত হলে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুনদের বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবে। এ লক্ষে ইতিমধ্যে আমরা এখানে একটি ইন্ডাস্ট্রি করেছি এ ছাড়াও প্রতিটা ইউনিয়নে ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা সহ আরো কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। সে নির্বাচিত হলে দুমকির আমুল পরিবর্তন হবে।

তরিকুল ইসলাম মনির বলেন, স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক, এই তিনটি ধারণাকে সামনে রেখে অচিরেই আমরা একটি কর্ম পরিকল্পনা বা ইশতেহার জনগণের সামনে উপস্থাপনা করব। এসময় তিনি সাময়িক বিষয় নিয়ে প্রলুদ্ধ না হয়ে একজন যোগ্য নেতৃত্বকে নির্বাচিত করতে তরুনদের প্রতি আহবান জানান। যিনি তরুনদের ভাষা বোঝেন। তরুনদের জন্য কাজ করবেন।

তরিকুল ইসলাম মনির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পরপরই এখানে পায়রাপোর্ট ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র সহ কুয়াকাটা ট্যুরিজম কেন্দ্রিক আমাদের যে জনশক্তি দরকার হবে তা তৈরিতে এবং শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এই বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আমরা নেবো।

তিনি বলেন, মেহেদী হাসান মিজানের স্বপ্ন দুমকির যত বেকার ছেলেরা আছে, যারা পড়ালেখা করছে, তাদের ভবিষ্যৎ যাতে তারা গড়তে পারে সেই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা। বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান দুমকিতে এনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি দুমকির রাস্তাঘাটসহ আধুনিক ও উন্নত সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি। এক্ষেত্রে তিনি পায়রা পয়েন্ট স্থাপনের মাধ্যমে পাগলার দৃশ্যমান উন্নয়নের উদাহরণ দেন ।

চেয়ারম্যান প্রার্থী এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দুমকিকে একটি মডেল ও স্মার্ট উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। একটি অটো ব্রিকস করেছি যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন শত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, পায়রা সিরামিক ইন্ডাজট্রিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান ও পায়রা শপিং পয়েন্ট কমপ্লেক্সের ম্যানেজিং পার্টনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান।

এসময় তিনি “সৎ শিক্ষিত তরুণ প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন” এ শ্লোগানে সকলের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

মিজানুর রহমান নামের এক বক্তা বলেন, বিগত ১৫ বছর দুমকি উপজেলা নির্বাচন দেখেছি। বিগত দিনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কর্ম আমরা বাস্তবে দেখেছি। আমরা এখন সৎ শিক্ষিত তরুণ প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে চাই। মেহেদী মিজানের এখানে নেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এসেছেন দিতে। মেহেদী মিজান এই দুমকি উপজেলাকে একটি মাদক মুক্ত ও সন্ত্রাস মুক্ত উপজেলা হিসেবে নির্মাণ করার যে উন্নয়ন কর্মকান্ড হাতে নিয়েছেন সে লক্ষ্যে তিনি তার সর্মর্থন ব্যক্ত করে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।




পটুয়াখালীতে বালুচাপা দেয়া হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদরের বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে একটি পরিত্যক্ত ভিটায় বালুচাপা দেয়া ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যার পর শিয়ালী এসএস পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ পাশে নয়ন মৃধার পরিত্যক্ত ভিটা থেকে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাঝ বয়সী ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে ঘটনাস্থলে সদর থানার পাশাপাশি সিআইডি পুলিশ কাজ করছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পটুয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল।

আরো পড়ুন : হঠাৎ উত্তাল বঙ্গোপসাগর, নিখোঁজ জেলে

এলাকাবাসী জানায়, দুপুর থেকেই ঘটনাস্থল থেকে দুর্গন্ধ আসছিলো। বিষয়টি স্থানীয় চৌকিদারকে অবহিত করে স্থানীয়রা। বিকেলে গন্ধের সূত্র খুঁজতে গিয়ে চৌকিদার এসএস পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণ পাশে নয়ন মৃধার ভিটায় বালুর মধ্যে একটি হাত দেখতে পেয়ে বদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বালু সরিয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত দেখতে পায়।

স্থানীয়রা ও বদরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিহাব হাওলাদার জানান, মরদেহ গলে বিকৃত হওয়ায় বোঝা যাচ্ছেনা স্থানীয় কিনা। আর এলাকায় এ ধরনের কেউ নিখোঁজ নেই, তাই ধারনা করা হচ্ছে বাহিরের কারো মরদেহ হতে পারে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। বালি খুড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ডিকম্পোজ হওয়ায় চেহারা বোঝা যাচ্ছেনা। পরিচয় শনাক্তে সদর থানা পুলিশ ও সিআইডি কাজ করছে।




প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে ৫০ লাখ টাকার প্রতারণা

বরিশাল অফিস :: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে ৫০ লাখ টাকার প্রতারণা গ্রেপ্তারকৃত শাকিল আহম্মেদ কখনো তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী আবার কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা।

এমনকি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করে ঘুরতেন নগরীতে। সঙ্গে থাকতেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও। নাম শাকিল আহম্মেদ। ভারিক্কি কথাবার্তা আর গাম্ভীর্য দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি আসলে একজন দক্ষ প্রতারক। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী, সিটি কর্পোরেশনের স্টাফসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এসব পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৫০ লাখেরও বেশি টাকা।

এ সব বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করলে বরিশাল মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে প্রতারক শাকিল আহম্মেদ গ্রেপ্তার করেছে। শাকিল পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

বুধবার (১ মে) দুপুরে বরিশাল মহানগর পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান উপ-কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার।

শাকিল আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের পরপরই বেড়িয়ে আসতে শুরু করেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগকারীরা বলছেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এই প্রতারককে লোক সংগ্রহ করে দিতেন। এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করাতে সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি ব্যবহার করে শাকিল আহম্মেদকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতেন।

প্রতারণার শিকার তারিকুল ইসলাম বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ম্যানেজার হিসেবে আমি চাকরি করি। আমাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করতেন ডা. খন্দকার মনজুরুল ইসলাম শুভ। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা।

ডা. খন্দকার মনজুরুল ইসলাম শুভ আমাকে এই শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ আমাকে বলেছেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে শাকিল আহম্মেদ যোগ দেবেন। তার সঙ্গে চাকরির বিষয়ে আমাকে যোগাযোগ করতে বলেন। সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ আর শাকিল আহম্মেদ ঘুরে বেড়াতেন। ওই ডাক্তারের কথায় শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রায় ৭২ হাজার টাকা নিয়েছেন। শাকিল আহম্মেদ একদিন কল করে বলেন, ‘তারিকুল তোমারতো চাকরি হয়ে গেছে। আনসারদের মিষ্টি খাওয়াতে ২ হাজার টাকা পাঠাও।’ কাজে যোগ দেওয়ার জন্য আমি সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করতে গিয়ে জানতে পারি শাকিল আহম্মেদ একজন প্রতারক।

প্রতারণার শিকার আরেকজন কবির হোসেন সোহেল। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বর্তমানে কর্মরত। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস আমাকে নিয়ে এই শাকিল আহম্মেদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। শাকিল আহম্মেদ নিজেকে ডিএস (ডিরেক্টরেট অফ স্পোর্টস) বলে পরিচয় দিতেন। কর্পোরেশনের কাজে তাকে সব ধরনের সহায়তা আমি করি। একপর্যায়ে অসুস্থতার কথা বলে আড়াই লাখ টাকা নেয় আমার কাছ থেকে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখলাম শাকিল আহম্মেদ কোথাও চাকরি করেন না। অথচ তিনি নিজেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বড় বড় পদের কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন।

এসব বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস ও ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কল রিসিভ করেননি।

বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা প্রতারককে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার সঙ্গে যারা যারা জড়িত রয়েছেন তারা যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ দায়িত্ব পালনকালে স্বপন কুমার দাস ও ডা. খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ নগর ভবনে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।




বরিশালের হিজলায় ৯ জেলে সহ জাল-ট্রলার জব্দ

বরিশাল অফিস :: বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে অবৈধ ভাবে মৎস্য শিকারের সময় অভিযান চালিয়ে ৯ জেলেকে আটক এবং জাল-ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। মৎস্য দপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও নৌ পুলিশ সদস্যরা যৌথ ভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

বুধবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, একটি চর ঘেরা জাল ও একটি ট্রলার জব্দ এবং ৯ জেলেকে আটক করা হয়।

পরে জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯ জেলের প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা করে মোট ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও জব্দকৃত ট্রলার ৭০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক। এসময় নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আলী আজম
উপস্থিত ছিলেন।




গৌরনদীতে গাছের সাথে বেঁধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :: টর্চ লাইট চুরির কথিত অভিযোগ তুলে হাসিব প্যাদা (১৪) নামের এক শিশুকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতিত শিশুর স্বজনরা তাকে গুরুত্বর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামের।

আহত শিশুর পিতা জুয়েল প্যাদা অভিযোগ করে বলেন, চর্ট লাইট চুরির কথিত অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে বসতঘর থেকে ডেকে নিয়ে শিশু হাসিবের হাত-পা বেঁধে অকথ্য নির্যাতন চালায় একই বাড়ির গফুর প্যাদা ও তার ছেলে আল আমিন প্যাদা এবং জিয়ারুল প্যাদা।

এ সময় শিশুর ডাকচিৎকার শুনে আমার অসুস্থ স্ত্রী রোকসানা বেগম এগিয়ে আসলে তাকেও কিল-ঘুসি মেরে আহত করা হয়। তবে গফুর প্যাদা ও তার ছেলেরা ঘটনাটি সম্পূর্ন মিথ্যে বলে দাবী করেছেন।

অভিযোগ প্রাপ্তির তথ্যে নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাজহারুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




বরিশালে গৌরনদীতে চার কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ি গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদীতে গাঁজা ও ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ি জসিম ফকির (৩২) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে নয়টার দিকে পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড বড় কসবা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জসিম ওই এলাকার আব্দুল মজিদ ফকিরের ছেলে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাজহারুল ইসলাম জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই হৃদয় চাকলাদার, ইলিয়াস মাহমুদ, এএসআই সুজন ও ফিরোজ রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে চার কেজি গাঁজা ও ১০৩ পিচ ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ি জসিমকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।




পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এক ডজনেরও বেশী প্রার্থী মাঠে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আসছে ২৯ মে অনুষ্ঠিতব্য পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে এক ডজনেরও বেশী সম্ভাব্য প্রার্থী ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা রাত-দিন হাট বাজারে, গ্রামে-গঞ্জে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রার্থী হওয়ার ঘোষনা দিয়ে দোয়া ও ভোট কামনা করছেন।

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ এর ৩য় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৩ এর বিধি ১৩ অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষনা মোতাবেক পটুয়াখালী সদর উপজেলার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন ২৯ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে।

আরো পড়ুন : বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

এ নির্বাচনে রির্টানিং অফিসার ও সহকারী রির্টানিং অফিসারের নিকট অনলাইনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২ মে বৃহষ্পতিবার, মনোনয়নপত্র বাছাই ৫ মে রবিবার, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রির্টানিং অফিসারের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬-৮ মে, আপিল নিষ্পত্তি ৯-১১ মে, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১২ মে রবিবার, প্রতীক বরাদ্দ ১৩ মে সোমবার এবং ভোট গ্রহন ২৯ মে বুধবার।

উক্ত নির্বাচনে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে দোয়া ও ভোট চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার, জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক নেতা মোঃ রেজাউল করিম সোয়েব, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যন মোঃ মিজানুর রহমান (মনির খান) ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ (কালাম মৃধা)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য মোঃ আফজাল সিকদার, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ হাসান সিকদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চিন্ময় বণিক সুমন, সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম এবং জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন মাস্টার ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দড়িতালুক মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন দুলাল।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা কর্মশালা

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা বেবী, পৌর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহানা হোসেন মিকি, জেলা মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাঃ নাসিমা আক্তার। এ ছাড়াও রয়েছেন কামরুন্নাহার শিমুল এবং ফৌজিয়া ইয়াসমিন।

এ উপজেলায় ১ টি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছে ২,৯৫,১৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৪৮,৬৪৭ ও মহিলা ভোটার ১,৪৬,৪৯০ জন।