শখের বসে কোয়েল পালনে সফল নাহিদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তরুণ উদ্যোক্তা নাহিদ। শখের বসে কোয়েল পালন থেকে এখন চাষি। পটুয়াখালী পৌর শহরের উপজেলা সড়কের হেতালিয়া বাধঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. নাহিদ ইসলাম একজন সফল কোয়েল চাষি। নাহিদ ৩ বছর আগে শখের বসে ৮ জোড়া কোয়েল পাখি দিয়ে যাত্রা শুরু করেন।

বর্তমানে যখন অনলাইন গেমস আর মাদকের সাথে মিলেমিশে যাচ্ছে যুব সমাজ ঠিক সে সময়ে টগবগে যুবক মো. নাহিদ ইসলাম নিজ বাড়িতে পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে তুলেছেন কোয়েল পাখির খামার। শখের বসে বাজার থেকে প্রথমে কিছু কোয়েল পাখি কিনে বাসায় একটি খাঁচায় রেখে পালন করতে শুরু করলেও বর্তমানে তার রয়েছে ২টি খামার। তাতে তিন হাজারেরও বেশি কোয়েল পাখির দেখাশুনা করছেন। প্রতিদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পাখিদের খাবার দেয়া, পরিচর্যা এবং ডিম সংগ্রহের কাজ করে দিন পার হয় এই যুবকের । বর্তমানে কোয়েল পাখিগুলো ডিম দেয়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তরুণ এ উদ্যোক্তা। প্রতিদিন এ সব পাখি থেকে ২৪০০ থেকে ২৫০০ ডিম সংগ্রহ করা হয় তাতে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আয় হচ্ছে বলে জানান তরুণ উদ্যোক্তা নাহিদ।

নাহিদ জানান, আমার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল ছোটবেলা থেকেই। শখের বসে কোয়েল পালন শুরু করে এটাকে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখলাম কোয়েল পালন সহজ ও লাভজনক। তাই ব্যাপকভাবে এর লালন পালন শুরু করি। আজ আমার খামারে তিন হাজারেরও বেশি কোয়েল পাখি আছে।

আরো পড়ুন : ধর্ষণের পর হত্যা, ঝুলিয়ে রাখা হয় লাশ, গ্রেপ্তার যুবক

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক সরদার বলেন, কোয়েল পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। হাঁস মুরগির তুলনায় জায়গা এবং খাবার কম লাগে। এলাকায় তেমন বেশি কোয়েল পালন হয় না। দু’চার জনে কোয়েল পালন করে এবং তারা লাভজনক পর্যায়ে আছে। কোয়েলের ডিম হাঁস মুরগির ডিমের পাশাপাশি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারে।

পোলট্রিতে এগারোটি প্রজাতি রয়েছে, তারমধ্যে কোয়েল একটি ছোট আকারের গৃহপালিত পাখি। অন্যান্য পোলট্রির তুলনায় কোয়েলের মাংস এবং ডিম গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট। আনুপাতিক হারে কোয়েলের ডিমে কোলেস্টেরল কম এবং আমিষ বেশি। একটি মুরগির পরিবর্তে ৮টি কোয়েল পালন করা সম্ভব। কোয়েল পাখি প্রতিপালন করে পারিবারিক পুষ্টি জোগানের সাথে সাথে অতিরিক্ত কিছু আয় করাও সম্ভব। স্বল্প মূল্যে, অল্প জায়গায়, অল্প খাদ্যে কোয়েল পালন করা যায়। কোয়েল পালনের সুবিধা কোয়েল দ্রুত বাড়ে। ৬-৭ সপ্তাহে ডিমপাড়া শুরু করে এবং বছরে ২৫০-২৬০ পাড়ে ডিমে দেয়। কোয়েল ১৭-১৮ দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়, রোগবালাই খুব কম এবং খাবার খুবই কম লাগে বাংলাদেশের আবহাওয়া কোয়েল পালনের উপযোগী। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোয়েল পালন দেশের পুষ্টি ঘাটতি মেটাতে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।




ধর্ষণের পর হত্যা, ঝুলিয়ে রাখা হয় লাশ, গ্রেপ্তার যুবক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় ১০ বছরের শিশু সানিয়াকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে তার লাশ গলায় ওড়না দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ মেহেদী হাসান (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

এছাড়া পুলিশের উদ্যোগে ওই শিশুর লাশ ময়নাতদন্ত করা ছাড়াও ধর্ষণের আলামত জব্দ করা হয়েছে। নির্মম এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সোমবার (৬ মে) সকালে সানিয়া, তার মা সাহিদা বেগম (৩৫) ও ছোট বোন সারামনির (৫) সঙ্গে সকালে বাড়ির কাছের বিলে মরিচ তুলতে যায়। সকাল নয়টার দিকে সানিয়া ভাত খাওয়ার জন্য বাড়িতে যায়।

এর ঘন্টাখানেক পরে সাহিদা বেগম বাড়ি ফিরে তার মেয়ে সানিয়াকে বসতঘরের মাঝখানের কক্ষের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। সাহিদা বেগমের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে এবং লাশ নামায়। ওইদিনই পুলিশ সানিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

আরো পড়ুন : দুমকী নির্বাচনে অবৈধ ক্যাম্প ভেঙে দিলেন ইউএনও

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর পরই একই বাড়ির আবুল কালাম বিশ্বাসের ছেলে মেহেদী হাসানকে বসতঘরের পিছন দিয়ে জমির দিকে হেটে যেতে দেখা গেছে।

সানিয়ার মা সাহিদা বেগম ও বাবা মো. মফিজুল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসান তার মেয়েকে ঘরের মধ্যে একা পেয়ে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে লাশের গলায় ওড়না পেচিয়ে আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় মফিজুল বিশ্বাস তার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় হাসানসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস আলম খান জানান, সানিয়ার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। একই বাড়ির হাসান (২২) নামে এক যুবককে আটক করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।




দুমকী নির্বাচনে অবৈধ ক্যাম্প ভেঙে দিলেন ইউএনও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের স্থাপিত অবৈধ নির্বাচনী ক্যাম্পগুলো ভেঙে দিয়েছেন দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন মাহমুদ।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপজেলার থানা ব্রিজ, নতুন বাজার, পাগলার মোড় এলাকায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে স্থাপিত ওই ক্যম্পগুলো ভেঙে দেন।

আরো পড়ুন : গলাচিপা উপজেলা নির্বাচনে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

এ ছাড়া বিকেলে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পাগলার মোড় এলাকার বিভিন্ন প্রার্থীর অবৈধ ব্যানার ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ড. হারুন-অর রশীদ হাওলাদার নির্বাচনী কাজে সরকারী গাড়ি অবৈধভাবে ব্যবহার করায় গাড়ি জব্দ করেন ইউএনও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন মাহমুদ জানান, নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুযায়ী আসন্ন ১৩ তারিখের পরে অর্থাৎ প্রতীক বরাদ্দের পরে অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থীরা ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন।




গলাচিপা উপজেলা নির্বাচনে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম।

আজ (বুধবার) ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলালের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার খান আবি শাহানুর খান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাসিম রেজা, সহকারী পুলিশ সুপার (গলাচিপা সার্কেল) মো. মোর্শেদ তোহা, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদাউস আলম খান, গলাচিপা প্রেস ক্লাব সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয় প্রমুখ।

আরো পড়ুন : লেবুখালি হাবিবুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ নিয়ে আ’লীগ নেতার বক্তব্যে দুমকীতে তোলপাড়!

এ ছাড়া নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীগণ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, নির্বাচনে কোন প্রার্থী প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা। সকলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে নির্বচনী দায়িত্ব পালন করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রশাসন জিরো টলারেন্স।




বরিশালে অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে

বরিশাল অফিস :: নির্বাচন কমিশন কৃর্তৃক ঘোষিত প্রথমধাপে বরিশাল সদর উপজেলা ও জেলার বাখেরগঞ্জে ভোট কেন্দ্রগুলো বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বয়ে কঠোর প্রহরায় অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাবে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ভোটারের উপস্থিতি কম হলেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ বুধবার (৮) মে ৬ষ্ঠ বারের মত বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে।

ভোর রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ের পাশাপাশি মুশলধারে বৃষ্টি শুরু হয়্ যা সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বৃষ্টি থেমে গেলে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামগঞ্জ এলাকার মহিলা ও পুরুষ ভোটার গণ ধিরে ধিরে ভোট কেন্দ্র এসে যে যার মত করে তাদের পচন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করে চলে যায়।

অপরদিকে ভোট কেন্দ্রের বাহিরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটারদের নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।

তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের সংক্ষা বাড়তেও দেখা যায়। এসময় বেশ কিছু কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বলেন সকালে আমরা যখন ব্যালট পেপার নিয়ে আসি তখন ভেবে ছিলাম ভোটার আসবে কি করে। এখন বৃষ্টি কমে
আসায় ও আবহাওয়া পরিবেশ ভালোর দিকে যাচ্ছে মনে হয় ভোটারের উপস্থিতি আরো বাড়বে।

বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সাবেক বিসিসি কাউন্সিলর এস এম জাকির হোসেন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সমাজসেবক মাহমুদুল হক খান মামুন, , বরিশাল সদর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও সদ্য পদত্যাগপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম (ছবি) বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাড, মো. মাহাবুবুর রহমান মধু ও সমাজেসেবক মো.আব্দুল মালেক সহ ৫জন।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ ফাইজুল ইসলাম (সজিব), বরিশাল মহানগর সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক ভাইসচেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগ নেতা শহিদ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, ও মো.মাহিদুর রহমান (মাহাদ) সহ ৪জন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়াই করবেন আওয়ামী লীগ নেত্রী ও শিক্ষিকা নেহার বেগম, একই পরিবারে (জা) মারিয়া আক্তার ও এ্যাড, মোসাম্মৎ হালিমা বেগম হ্যাপি সহ ৩ জন।

অপরদিকে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিশ্বাস মুতিউর রহমান (বাদশা), রাজিব আহম্মদ তালুকদার সহ ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মো. সাইফুর রহমান, মো. শাহবাজ মিঞা, কামরুল হোসেন ও আব্দুস সালাম সহ ৪জন। মহিলা ভাই চেয়ারম্যান পদে ২ জন তহমিনা বেগম ও জাহানারা বেগম।

উল্লেখ্য, বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোট ভোটার এক লাখ ৯৫ হাজার ২৯৯ জন, এর মধ্যে ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ৯৫ হাজার ১৩৫ জন নারী ও ১ লাখ ১৬১ জন পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট কেন্দ্র ৬৮ ও কেন্দ্র ৩২টি।

অপরদিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১ হাজার ২১১ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৮৪ জন ও ভোটার নারী ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ২২৪ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছে ৩ জন। ভোট কেন্দ্র ১১৩ ও ভোট কক্ষ ৬৯৮টি।




পিরোজপুরে ৯০ পদের সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চাকরি

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের, পিরোজপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও এর অধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছয় ক্যাটাগরির পদে মোট ৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এসব পদে শুধু পিরোজপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দারা আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী অন লাইনে আবেদন করতে হবে।

১. পদের নাম: পরিসংখ্যানবিদ

পদসংখ্যা: ৫

যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান/গণিত/অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড–১৪)

২. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর

পদসংখ্যা: ১

যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সাঁটলিপি লিখনে সর্বনিম্ন গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ৪৫ শব্দ ও ইংরেজিতে ৭০ শব্দ এবং কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে সর্বনিম্ন গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ২৫ শব্দ ও ইংরেজিতে ৩০ শব্দ থাকতে হবে। কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ই-মেইল, ফ্যাক্স মেশিন ইত্যাদি চালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বেতন স্কেল: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)

৩. পদের নাম: স্টোরকিপার

পদসংখ্যা: ৫

যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পাশ। কম্পিউটার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থাকতে হবে।

বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

৪. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক

পদসংখ্যা: ৩

যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পাশ। কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডাটা এন্ট্রি, ই-মেইল, টাইপিং, ফ্যাক্স মেশিন ইত্যাদি চালনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে বাংলায় সর্বনিম্ন ২০ ও ইংরেজিতে ২০ শব্দের গতি থাকতে হবে।

বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

৫. পদের নাম: স্বাস্থ্য সহকারী

পদসংখ্যা: ৭৪

যোগ্যতা: এইচএসসি বা সমমান পাশ।

বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড–১৬)

৬. পদের নাম: ড্রাইভার

পদসংখ্যা: ২

যোগ্যতা: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (অষ্টম শ্রেণি) পাশ বা সমমানের পরীক্ষায় পাশ হতে হবে। হালকা গাড়ি চালনার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। এসএসসি পাশ ও অধিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বেতন স্কেল: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)

আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীদের এই ওয়েবসাইটে ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের সময়সীমা: ২৩ মে ২০২৪, বিকাল ৫টা পর্যন্ত।




পটুয়াখালীতে হাসপাতালে নববধূর লাশ ফেলে পালিয়ে গেলেন স্বামী

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর বাউফলের মোসা. তাকিয়া বেগম (১৯) নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ মে) বিকেলে উপজেলার বিলবিলাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, প্রায় ১ বছর আগে বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকার ফজলু গাজীর ছেলে মিরাজ গাজীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে সূর্যমণি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের হোসেন হাওলাদারের মেয়ে তাকিয়ার বিয়ে হয়ে।

নিহত তাকিয়ার ভাই সোহরাব জানান, বিয়ের পর থেকে চাচতো বোন বলতো তাকিয়ার স্বামী যখন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে তখন যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করতো। আগে যদি জানতাম ছেলে মাদকাসক্ত তাহলে বোনকে বিয়ে দিতাম না। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতাম স্বামী-স্ত্রীর বিষয় আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কে জানতো এমন ঘটনা ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, সকালে বোনের স্বামী মিরাজ তাকিয়াকে শারিরীক নির্যাতন চালায়। এতে তার বোনের হাত ভেঙে যায়। এ সময় তাকিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়লে তার গলায় শাড়ি পেচিয়ে গলায় ক্ষত সৃষ্টি করে আত্মহত্যার নাটক সাজায়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় বোনের লাশ হাসপাতালে ফেলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই হত্যা না আত্মহত্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




বরগুনায় সুপেয় পানির সংকট, বিপাকে তিন লাখ মানুষ

বরিশাল অফিস :: বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ৩৮৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট বিশাল জলরাশি, যার তিন দিকেই রয়েছে বড় বড় নদী। চারদিকে অথৈ জলরাশি থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। মাটির নিচে পাথরের মতো শক্ত বস্তু থাকায় নলকূপ বসানো যায় না। ফলে বিপাকে পড়েছেন এ উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

পানির সংকট ক্রমান্বয়ে তীব্র হচ্ছে এবং সারাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ বরগুনার পাথরঘাটায় চলমান তীব্র দাবদাহে ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার অস্বাভাবিক গরমের পাশাপাশি নেই স্বস্তির বৃষ্টি। উপকূলীয় জনপদে চলছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। প্রতিদিন পানির চাহিদা বাড়লেও বাড়ছে না সুপেয় পানির পরিমাণ। পানির উৎস পুকুর, দীঘি, জলাশয়, নদ-নদী, খাল-বিল শুকিয়ে হ্রাস পাচ্ছে নিরাপদ পানির চাহিদা।

নদীমাতৃক এলাকার চারদিকে বিভিন্ন নদ-নদীতে অথৈ পানি থাকার পরেও বিশুদ্ধ পানির তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই এই এলাকায়। ফলে বাধ্য হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে অনেকেই অতিমাত্রায় লবণ ও কাদাযুক্ত পুকুরের পানি পান করে আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিল রোগে।

ছবি : চন্দ্রদীপ নিউজ

বঙ্গোপসাগর মোহনায় পাথারঘাটা উপজেলার চারদিক ঘিরে বিভিন্ন নদ-নদীসহ পানির পর্যাপ্ত উৎস থাকলেও সুপেয় পানির নেই তেমন কোনো ব্যবস্থা। এতে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এখানকার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে এই উপজেলার প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি এলাকায় রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।

এছাড়া এই উপজেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি এলাকায় রয়েছে মাঝারি ধরনের পানির সংকট। স্বাভাবিকভাবে পানিতে লবণের মাত্রা ৬০০ পিপিএম (প্রতি মিলিয়ন অংশ) পর্যন্ত থাকলে সেই পানি খাবার উপযোগী ধরা হয়।

তবে পাথরঘাটার ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণের মাত্রা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত। এতে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি পেতে গভীর নলকূপ বসালেও লবণাক্ততার কারণে নলকূপগুলো কোনো কাজেই আসছে না। এছাড়া অনেক এলাকায় নলকূপ বসালেও কাদাযুক্ত পানি ওঠায় সে পানি কোনো কাজে ব্যবহারে করা যায় না।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় ৮৬টি টিউবওয়েল, ৬৮টি সোলার পিএসএফসহ ৪৫২০টি পানির ট্যাংক ২০২৫ সালের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়াও ৪৮টি পুকুর খনন করা হয়েছে, তবুও পানির তীব্র সংকটে উপজেলাজুড়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, বৈশাখের তীব্র রোদে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির নলকূপ বা ভিন্ন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পানি সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পৌর সভার ব্যবস্থাপানায় ও বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে কিছু পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় হেঁটে হেঁটে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করেছেন অনেকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা সব সময়ই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতে ভিড় লেগে থাকে প্রত্যেকটি পানির ফিল্টারে। একদিকে চাহিদার তুলনায় পানির ফিল্টার কম, অপরদিকে কাছাকাছি পানির ব্যবস্থা না থাকায় বাড়িতে নিয়ে মেপে পানি পান করতে হয় এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

পাথরঘাটা বাদুরতলা এলাকায় বাংলাদেশ বন্ধু ফাউন্ডেশন (বন্ধু) সংগঠন তাদের নির্মিত একটি মাত্র ফিল্টারের পানিতে চাহিদা মেটে ঐ এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। তাও আবার মাসিক চাঁদা দিতে হয় ৩০ টাকা করে, এখানে প্রতি মাসে একটি পরিবার ১৫ দিন পানি দিতে পারে ২ কলস করে।

ফিল্টার থেকে পানি নিতে আসা ঐ এলাকার বাসিন্দা রাব্বি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো নলকূপ বসানো যায় না। যদি কেউ বসায় তাহলে তা দিয়ে লবণ পানি ওঠে, খাওয়া যায় না। এলাকার বাইরে চরে অনেকগুলো পরিবারের পানির জন্য মাত্র একটি ফিল্টার। এর সঙ্গে সংযোগ দেওয়া পুকুরটিও ছোট হওয়ায় অনেক সময় শুকনো মৌসুমে পানি শুকিয়ে গেলে আর পানি পাওয়া যায় না।

চরলাঠিমারা গ্রামের বাসিন্দা আবুল ফরাজি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো টিউবওয়েল বসানো যায় না। তারপরও যা আছে তা দিয়ে লবণ পানি ওঠে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানিও ধরে রাখা যায় না, পানি নষ্ট হয়ে যায়। এসব পানি খেলে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

বরগুনা জেলা জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী রাইসুল ইসলাম বলেন, বরগুনার ৬টি উপজেলার মধ্যে পাথরঘাটার ভৌগোলিক অবস্থা একটু বিচিত্র ধরনের। এখানাকার বিভিন্ন ইউনিয়নসহ পাথারঘাটা সদরেও গভীর নলকূপ বসানো যায় না। আমরা পরীক্ষামূলক কিছু নলকূপ বসিয়েছি। তবে দেখা গেছে, ১২০০ থেকে ১৩০০ ফুট গভীরে যাওয়ার পরেও পানির ভালো স্তর পাওয়া যায়নি। এ কারণে এসব উপকূলীয় এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বৃষ্টি পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

তবে এগুলো পর্যাপ্ত না হওয়ায় পুকুর খনন করে পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহারের পাশাপাশি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাথরঘাটায় সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে।




ভোলায় এক উপজেলাতেই ১২৬ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা

বরিশাল অফিস :: চলতি বছর ভোলার লালমোহন উপজেলায় ১২৬ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার বোরো ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিমাণের দিক থেকে ৬৩ হাজার ৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলায়। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান উৎপাদন হবে ১৮ হাজার ৬৩২ মেট্রিক টন এবং উফশি জাতের ধান উৎপাদন হবে ৪৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন।

চলতি বছর লালমোহন উপজেলার কৃষকরা ১১ হাজার ২০৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। যার পরিমাণ গত বছর ছিল ৯ হাজার ৯১৫ হেক্টর। লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা গেছে, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় লালমোহন উপজেলার ধান চাষিরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার প্রায় ৩০ শতাংশ জমির ধান কর্তন করেছেন কৃষকরা। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে লালমোহন উপজেলার সব জমির ধান কর্তন সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের মুন্সির হাওলা এলাকার বোরো ধান চাষি রতন হাওলাদার বলেন, কৃষি অফিসের প্রণোদনার হাইব্রিড ধান পেয়ে এ বছর ১২০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। এরমধ্যে জমির সব ধান কাটা হয়ে গেছে। এ বছর চাষ করা ১২০ শতাংশ জমিতে অন্তত দেড়শত মণ ধান হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরের ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। যার ফলে খরচ বাদে এ বছর ধান চাষ করে অন্তত পৌনে এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে।

ছবি : চন্দ্রদীপ নিউজ
ছবি : চন্দ্রদীপ নিউজ

ওই ইউনিয়নের উত্তর ফুলবাগিচা এলাকার মো. আমির হোসেন মিস্ত্রি নামে আরেক কৃষক জানান, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই ধান চাষ করছি। এ বছর ৩৫০ শতাংশ জমিতে উফশি জাতের বোরো ধানের চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর ধানের ফলনও অনেক ভালো হয়েছে। এরইমধ্যে জমির সমস্ত ধান কাটা হয়ে গেছে। ৩৫০ শতাংশ জমির ধান চাষের সব খরচ বাদে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছে।

উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী এলাকার ধান চাষি মো. জামাল হাওলাদার বলেন, চলতি বছর ২০০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। ক্ষেতের ফলনও আল্লাহর রহমেত ভালো দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে ধান কাটা শুরু করবো। ২০০ শতাংশ জমিতে ধান চাষে ৬০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি এ জমি থেকে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ধান বিক্রি করতে পারবো।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় এ বছর উপজেলার বোরো ধান চাষিরা আশানূরূপ ফলন পেয়েছেন। বাজারেও চলতি বছর ধানের দাম ভালো। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ধান চাষিরা অধিক লাভবান হবেন। এছাড়া ধান চাষিদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সব সময় পাশে ছিলেন। আমরাও সঠিকভাবে তদারকি করেছি। আমাদের লক্ষ্য কৃষকরা যেন চাষাবাদ করে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।




বরিশালের মুলাদীর মেঠোপথে শোভা ছড়ানো সোনাইল আজ বিলুপ্তির পথে

বরিশাল অফিস :: বরিশালের মুলাদী উপজেলার গ্রামগঞ্জে সোনাইল নামেই বেশি পরিচিত। এক সময় গ্রামের পথে ঘাটে দেখা যেত অনেক সোনালু গাছ। আমাদের ঘর-বাড়ির চারপাশেও ছিল অনেক গাছ। এখন খুঁজলে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি পাওয়া যাবে।

সোনার ঝুমকা নয়, সোনার সাথে কোনো মিল আছে কি-না জানি না। তারপরও সোনাইল ফুল জয় করে আছে প্রকৃতি। নামটা তার সোনামাখা সোনাইল রয়ে গেছে। গ্রাম বাংলায় হোনাইল বা সোনালু নামে অধিক পরিচিত। এই গ্রীষ্মের দুপুরে ঝুমকা ফুলের মতো সারি ঝুলে থাকে গাছ জুড়ে। দেখলে পরাণ ঝুড়িয়ে যায় পথিকের। এ গাছের দিকে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যাবে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সোনালু ফুলের বাহারে। কী অপরূপ শোভা! মন ছুঁয়ে যায় যে কারো। বিভিন্ন এলাকায় সোনালুর দোল দেখে মনে হয় এ যেন প্রকৃতির হলুদাভ উষ্ণ অভ্যর্থনা। সোনালু দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তার নামেও আছে বাহার।

শীতকালে সব পাতা ঝরার পর বসন্তে একেবারেই মৃতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে গাছটি। গ্রীষ্মের শুরুতে দু’একটি কচিপাতার সাথে ফুল ফুটতে শুরু করে। হলুদ সোনালি রঙের অসংখ্য ফুল সারা গাছজুড়ে ঝাড় লণ্ঠনের মতো ঝুলতে থাকে।

স্থানীয়ভাবে যে নামেই চেনেন না কেন, ইংরেজিতে সোনালুকে বলা হয় ‘গোল্ডেন শাওয়ার ট্রি’। বৈজ্ঞানিক নাম কেসিয়া ফিসটুলা (Cassia Fastula), পরিবার লেগুমোনোসাই (Legumonosae), এর ফল লম্বা লাঠির আকৃতির হয়ে থাকে যা বানরের বিশেষ খাবার হিসেবেও পরিচিত। শক্ত ফলের কারণে গাছের নাম হয়েছে বাঁদর লাঠি। এজন্য স্থানীয়ভাবে এটাকে বানরের লাঠি বা বান্দর লাঠি, সোনালু বা সোনাইল নামে ডাকা হয়। সাধারণত সোনাইল গাছ বা বৃক্ষ মধ্যম আকৃতির হয়ে থাকে। গাছের ফুলগুলো মঞ্জুরিতে জন্মায়। অনেকটা কানের ঝুমকা ফুলের মতো। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের রঙ উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে। ফল লম্বা নলাকার।

ফুলটির আদিনিবাস পূর্ব এশিয়া। গাঢ় সবুজ রঙের পাতাগুলো যৌগিক, মসৃণ ও ডিম্বাকৃতির। ফুল এক থেকে দেড় ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হয়। গ্রীষ্মে প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে, তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকা থোকা থোকা ফুলের কারণে এ গাছ সহজে দৃষ্টি এড়ায় না কারো।

বৈশাখের খরতাপে পুড়ছে প্রকৃতি। এর মধ্যেই মুলাদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলম হাওলাদার বাড়ির সামনে হলুদের পসরা সাজিয়ে বসেছে সোনালু। রাস্তার দু’পাশে থোকায় থোকায় হলুদ ফুলে দৃষ্টি কেড়ে নেয় পথিকের।

দখিন হওয়ার দোলুনিতে সোনাইন ফুল দুলতে দেখে সুপ্ত প্রাণ জেগে না ওঠে পারে না পথিকের। এই সময় গ্রামবাংলার অনেক কিশোরীর কানে ঝুমকোর মতো দুলতে দেখা যায় সোনাইল ফুল। গ্রীষ্মের উন্মাতাল উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের সোনাইল ফুল যে কাউকে আকৃষ্ট করে। তাই বোধ করি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘দখিন হাওয়া জাগো জাগো, জাগাও জাগাও জাগাও আমার সুপ্ত এ প্রাণ.. ।

এক সময় সোনাইল গাছ নেই এমন গ্রাম খুঁজে পাওয়া যেত না। বর্তমানে প্রাকৃতিক বন উজার করার কারণে এখন প্রায় দুর্ভল জাতের তালিকায় নাম ওঠাতে যাচ্ছে সোনাইল গাছ। প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সাজতে শুরু করে। তার সাথে মিল রেখে সোনাইল ছাড়াচ্ছে সোনার আলো। তবে শহরের আধুনিক শিক্ষার্থীদের অনেকে চেনেই না এটার পরিচয়। অথচ এর রয়েছে অনেক ঔষধি গুণ। সোনাইল ফলের মজ্জা, গাছের ছাল উৎকৃষ্ট জোলাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ব্যাপকভাবে ব্যহৃত হয়। অন্যদিকে, গ্যাসট্রিকের ব্যাথা, ক্ষুধামন্দায়, বাতের চিকিৎসায় এবং টনসিলের চিকিৎসায় এর ফল ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া সোনাইল গাছের পাতার রস বাত রোগ, ক্ষয় ও মেহ রোগের উপকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠ খুব একটা দামি নয় বলে কিংবা গাছটি খুব ধীরে বাড়ে বলেই কেউ আর তেমন উৎসাহ নিয়ে সোনালু গাছ রোপণ করেন না।

বরিশাল মুলাদী সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোসা: তাছলিমা বেগম বলেন, ‘সোনাইল ফুল গাছ হিসেবে প্রকৃতির একটি বড় অংশ দখল করে আছে। অথচ এর ঔষধি গুণ সম্পর্কে তেমন কোনো প্রচার পায়নি। এর ঔষধি গুণ যা আমাদের অনেকেরই জানার বাইরে। কিন্তু এত সুন্দর এই জাতটি প্রকৃতি থেকে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একে রক্ষা করতে সকলের উদ্যোগ নিতে হবে।’