অবহেলায় দক্ষিণাঞ্চল: সড়ক, সেতু, স্বাস্থ্য ও সৈকত রক্ষায় অগ্রগতি নেই

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আবারও বছরের পর বছর অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হলো। ‘জুলাই বিপ্লব’-এর পর উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধলেও বাস্তবে পূরণ হয়নি ফরিদপুর–কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি, ভোলা–বরিশাল সেতুর স্বপ্ন কিংবা উন্নত স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতও রয়ে গেছে ভয়াবহ ভাঙনের হুমকিতে।
ছয় লেনের সড়ক থমকে
পদ্মা সেতু চালুর পর মাত্র ৩ ঘণ্টায় বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হলেও ফরিদপুর–কুয়াকাটা মহাসড়ক এখনও অনেক জায়গায় মাত্র ১৮–২৪ ফুট চওড়া। ২০১৮ সালে একনেক বৈঠকে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য জমি অধিগ্রহণ অনুমোদন পেলেও ৭ বছরে মাত্র ৩৮ একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
কুয়াকাটার ভাঙন ও প্রকল্প স্থবিরতা
বিশ্বখ্যাত কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিকবার প্রকল্প পাঠালেও অনুমোদন মেলেনি। মাত্র দেড় মাসে সমুদ্র গ্রাস করেছে মেরিন ড্রাইভের ৫ কিলোমিটার অংশসহ বহু স্থাপনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বহু আগেই এই সংকট সমাধান সম্ভব ছিল।
ভোলা সেতুর কোনো খবর নেই
প্রায় চার যুগ ধরে ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবি ঝুলে আছে। ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে থাকলেও বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্যসেবা সংকটে দক্ষিণাঞ্চল
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন ৫ হাজারের বেশি রোগী, কিন্তু জনবল কাঠামো এখনো ৫০০ শয্যার মানে সীমিত। চিকিৎসকের ৮৭টি পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি।
বরিশাল নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ— বিপ্লবের মাধ্যমে গঠিত সরকারের কাছে জনগণের বহু প্রত্যাশা থাকলেও দক্ষিণাঞ্চল উন্নয়নের ক্ষেত্রে বছরের পর বছর অবহেলিত রয়ে গেছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








