আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর বসবে বরিশালে-জাহিদ ফারুক

বরিশাল অফিস :: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন, বরিশাল শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অচিরেই শেষ হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর বসবে।

শনিবার (১৮ মে) দুপুরে স্টেডিয়ামের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক মানের পিচ নির্মাণের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বরিশাল স্টেডিয়ামকে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামে পরিণত করার কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন এবং আধুনিকমানের ক্রিকেট পিচ নির্মাণের লক্ষ্যে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ চলছে।

পরিদর্শনকালে মাঠের নানা বিষয়ে খোঁজ খবর নেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। এ সময় বরিশাল বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উন্নয়নের সুযোগ দিন: আনারস প্রার্থী মেহেদী মিজান

বরিশাল অফিস  :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ করার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ যে প্রকল্প সেটি বাস্তবায়নের লক্ষে দুমকী উপজেলাকে নির্বাচন করেছেন। এমন বাস্তবতায় সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে উন্নয়ন করার সুযোগ চেয়েছেন আনারস মার্কার উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান।

আজ শনিবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় লেবুখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গাজী বাড়ি উঠান বৈঠকে এ কথা বলেন।

মেহেদী হাসান মিজান জানান,বাংলাদেশের ১২ টি উপজেলাকে ৪ টি প্যাকেজ এ তিনটি করে নির্ধারণ করেছেন। প্রথম ধাপের প্যাকেজে এই দুমকী উপজেলা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পগুলো বিশেষ করে আয়তনে ছোট উপজেলা থেকে শুরু হয়। বিগত দিনেও আপনারা উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসাবে দুমকী বাংলাদেশে প্রথম শতভাগ বিদ্যুতায়ন হয়েছিল।

তিনি জানান,আমার গ্রাম আমার শহর এই প্রকল্পে দুমকী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আমাদের লেবুখালী ইউনিয়নের কৃতি সন্তান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত মো: হারুন আর রশীদ। তার কাছে আমরা দুমকীর জনগণ কৃতজ্ঞতা জানাই । তার মতো একজন দক্ষ ও মেধাবী চৌকস অফিসার আমাদের দুমকীর জনপদে ছিল বলেই এই দুমকী উপজেলাটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি দুমকী উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্ব নির্বাচিত করে উপজেলা উন্নয়ন করার সুযোগ দিন। ইতিমধ্যেই সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করুন এই নির্বাচনীয় স্লোগান হিসাবে আনারস মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছি। এই তিনটি গুনেরও সমন্বয়ে যে ব্যাক্তি নির্বাচিত হবে তিনি এই দুমকীকে একটি আধুনিক দুমকীতে ও স্মার্ট উপজেলা হিসাবে রুপান্তরিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে প্রকল্প আপনাদের দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়নের জন্য একজন দক্ষ, সৎ, শিক্ষিত,তরুন জনসেবক দরকার। যদি আমার ভিতরে এই গুনগুলো থাকে তাহলে আগামী ২৯ তারিখ আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে সকলের সেবা করার সুযোগ দিন।


এডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান জানান, খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান এবং বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করতে চাই । তরুণ উদ্যোক্তা হিসাবে তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজ করতে চাই বিশেষ করে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। ইতোমধ্যেই আমি দুমকীতে ২টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। নির্বাচিত হলে আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করবো ।

এ সময় উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,লেবুখালী ইউনিয়নের সমাজ সেবক সোবহান ফরাজি, ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: মোতাহার শিকদার, দুমকি উপজেলা শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি মাসুদ মৃধা। দুমকি উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রাকিব মৃধা সহ ছাত্র লীগের রাব্বি  আরও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও কয়েক শত মহিলা পুরুষ ও যুবরা। এর আগে দলে দলে সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বৈঠকে অংশ গ্রহণ করেন ।




দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে মোটরসাইকেল প্রার্থীকে জরিমানা করলেন ম্যাজিস্ট্রেট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুন অর রশীদ হাওলাদারকে শুক্রবার দুই দফায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ।

প্রথমে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নে বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য আচরণ বিধি তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে একই অভিযোগে পাংগাশিয়ার নলদোয়ানিতে অপর এক জনসভায় আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন : দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

উল্লেখ্য, এর আগে প্রতীক বরাদ্দের দিন বিকেলে ঢাকা কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে শোকজ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। ১৯ তারিখের মধ্যে শোকজের জবাব দেয়ার কথা।




দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে বিরোধী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আসন্ন দুমকী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদার ওরফে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে। গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে মুরাদিয়া ইউনিয়নে আনারস মার্কার ৩ কর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর ভিতর দুজনকেই সরাসরি মাল্টা কাওসার মেরেছেন এমন অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

সরেজমিনে প্রতক্ষদর্শী ও ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ দুপুরে মুরাদিয়ার কাবিলওলায় মাল্টা কাওসার তার ১০/১২ জন সহযোগী নিয়ে আনারস মার্কার সর্মথক চরগরবদী গ্রামের মো: খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে মো. ঝন্টু হাওলাদার ও আতাহার শরীফের ছেলে আবদুর রাজ্জাককে বেদম মারধর করেন।

মারধরের শিকার আনারসের কর্মী ঝন্টু হাওলাদার জানান, আজ (শুক্রবার) দুপুরে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এমন সময় মাল্টা কাওসারের গাড়ী দেখে তার অটোচালককে থেমে সাইড দিতে বলে। ওপাশে গিয়েই ওকে দেখে মাল্টা কাওসার তার কর্মীদের বলে খা-ন-কীর পোলাগো একেকটাকে ধর, গলা কা-ই-টা ফ্যালা। আমি তখন তাকে ডাক দিলে সে না দাড়িঁয়ে গাড়ী টেনে চলে যায়। আমিও বাড়ির দিকে হাটঁতে থাকি। কিছুক্ষণ পরে দেখি ১০/১২ জন লোক নিয়ে সে আমার কাছে আসে। এর মধ্যে টিপু নামের একটা ছেলে গেঞ্জির কলার ধরে আর মাল্টা কাওসার এই শু-য়ো-রে-র বাচ্চা কী বললি বলেই মারধর শুরু করে। এরপর তার লোকজন আমাকে যে যেভাবে পারে মারতে থাকে। এসময় সাথে থাকা ৫০ হাজার টাকাও তার লোকজন নিয়ে যায়। এরপর মাটিতে ফেলে দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকলে আমার চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে ছেড়ে দেয়।

ঝন্টুকে বাচাঁতে এলে একই গ্রামের ষাটোর্দ্ধ আবদুর রাজ্জাককেও মারধর করে মাল্টা কাওসার ও তার লোকেরা। মারধরের শিকার ব্যক্তিরা জানান, দুমকী, লেবুখালী ও পাংগাশিয়ার সর্মথকরা মাল্টা কাওসারের সাথে ছিল। এজন্য সবাইকে চিনতে পারেননি। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনী জনসংযোগকালে আচরণবিধি ভংগ করার অভিযোগে মাল্টা কাওসারের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা জরিমান করেন আচরণ বিধি ম্যাজিষ্ট্রেট।

এর আগে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আনারস মার্কার সমর্থক গঞ্জর হোসেন খানের ছেলে মো: ফারুক হোসেন খানকে মারধর করে গুরুতর আহত করে কাপ-পিরিচ মার্কার প্রার্থী কাওসার আমিন হাওলাদারের লোকজন। গুরুতর আহত ফারুক এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মাল্টা কাওসার এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হলেও আনারস মার্কার প্রার্থী মেহেদী হাসান মিজান জানান, নির্বাচনী মাঠে টিকতে না পেরে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বিরোধী পক্ষ। তবে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি স্থানীয় থানাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলেও তিনি জানান। তিনি এক ফেসবুক লাইভে বিরোধীদের ফাদেঁ পা না দিয়ে সর্মথকদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালানোর জন্য কর্মী সমর্থকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।




আজ টিভিতে যা দেখবেন




বরিশালে ডায়রিয়ার লাগামহীন দাপটের মধ্যে ডেঙ্গুর হানা

বরিশাল অফিস :: দফায় দফায় তাপ প্রবাহের সাথে নিম্নমানের পথ খাবারে বরিশাল অঞ্চলে ডায়রিয়া সহ পেটের পীড়ার সাথে ডেঙ্গুও আবার ফিরে আসছে। গত দেড়মাসে সরকারি হাসপাতালেই দু,জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন হলেও এসব রোগ প্রতিরোধের তেমন কোন সমন্বিত উদ্যোগ নেই। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া সহ নানা ধরনের পেটের পীড়া নিয়ে প্রায় ৬ হাজার রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ১ মাসে সংখ্যাটা ছিল প্রায় ১১ হাজার। আর বছরের প্রথম সাড়ে ৪ মাসে প্রায় ৩৮ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া সহ নানা পেটের পীড়া নিয়ে বরিশালের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি সহ চিকিকৎসা গ্রহণ করেছেন।

অপরদিকে চলতি মাসের প্রথম ১৫দিনে নতুন করে ৭৫জন ডেঙ্গু রোগী বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশালে ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৪১০ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ২১৮ জনের। গতমাসে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ৫৭ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছিল ১ জনের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা গত মাসের ৩০ দিনের তুলনায় ১৮জন বেশী । ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরোধের কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বর্ষা শুরুর আগেই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

ডায়রিয়া ব্যবস্থাপনা নিয়েও চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের নাজেহাল অবস্থা। রোগীর অস্বাভাবিক ভীড়ে সুষ্ঠু চিকিৎসা দূরের কথা অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেও স্থান দেয়া যাচ্ছে না। স্যালাইন সহ চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব না থাকলেও চিকিৎসক সংকটের সাথে অত্যাধিক রোগীর চাপে সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অবশ্য ‘৩৭৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে’ বলে জানান হলেও মঞ্জুরীকৃত চিকিৎসকের অর্ধেকেরও বেশী পদ শূন্য থাকায় এসব টিমে প্রায় কোনটিতেই চিকিৎসক নেই। তবে দু-তিনটি টিমের জন্য একজন করে চিকিৎসক দায়িত্বে আছেন বলা জানান হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসেও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ১২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া নিয়ে আরো কয়েকগুন রোগী বিভিন্ন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বার এবং বেসরকারী ক্লিনিক সহ বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেব বলছে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহেও সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর আগমনের সংখ্যাটা ছিল সাড়ে ৩ হাজারের বেশী। আর গত ১ জানুয়ারী থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার ৫১০ জনে। গত বছরও বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭২ হাজার ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যে সংখ্যাটা আগের বছর ছিল ৭৭ হাজারের বেশী। আর ২০২১ সালে করোনা মহামারীর সর্বোচ্চ সংক্রমনের মধ্যেও বরিশালে প্রায় ৮০ হাজার ডায়রিয়া রোগী সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য আসেন।

এবার গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই দফায় দফায় তাপ প্রবাহের সাথে ডায়রিয়ার বিস্তৃতি ক্রমে বাড়ছে। চৈত্রের মধ্যভাগ থেকেই বরিশালে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকে ৬-৭ ডিগ্রী ওপরে রয়েছে। ফলে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতিও অব্যাহত আছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, বরিশাল অঞ্চলে বছরজুড়েই কমবেশী ডায়রিয়া রোগী থাকলেও এবার অস্বাভাবিক তাপ প্রবাহ পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে।

আবহাওয়া বিভাগের হিসেবে চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসের স্থলে তাপমাত্রার পারদ মে মাসের প্রথম দিন ৩৮ ডিগ্রীতে উঠে যায়। গত রোববার বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরে তাপমাত্রা কিছুটা নিচে নামলেও গত দুদিন ধরেই তা আবার বাড়ছে। বৃহস্পতিবারেও বরিশালে তাপমাত্রা পারদ ছিল স্বাভাবিকের প্রায় ৩ ডিগ্রী বেশী, ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। অথচ চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তপামাত্রা থাকার কথা ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এমনকি অব্যাহত অস্বাভাবিক তাপ প্রবাহের মধ্যেই নজিরবিহীন বৃষ্টির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। গত এপ্রিলে বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমান ছিল স্বাভাবিকের ৮৬% কম।

আবহাওয়া বিভাগ থেকে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের খবর জানিয়ে ৬-৮ দিনে বরিশালে ১২০ থেকে ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিলেও মাসের শেষের যোগ ফলে মাত্র ১৯ মিলি বৃষ্টি জমেছে। তবে গতমাসে সারা দেশেই স্বাভাবিকের ৮১% কম বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। মার্চ মাসেও বরিশালে স্বাভাবিকের ৩০% কম বৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ার বিস্তৃতি পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলছে। চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ২৪৫ মিলিমিটারের স্থলে ২৬০-৩১০ মিলি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হলেও মাসের প্রথম ১৫ দিনে বৃষ্টি হয়েছে ১৩৭ মিলিমিটার। এরমধ্যে গত ৬ মে এক দিনেই প্রায় ৭৫ মিলি ও ১২ মে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর থেকেই তাপমাত্রা পারদ ক্রমশ বাড়ছে। বৃষ্টিরও আর দেখা নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল গরমের অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ পানি সহ প্রয়োজনে খাবার স্যালাইন পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পথ খাবারের দোকানের খাবার সম্পূর্ণ পরিহারের কোন বিকল্প নেই বলেও জানিয়েছেন। বিভাগীয় পরিচালক ডায়রিয়া চিকিৎসায় বরিশালে প্রায় ২৭ হাজার ব্যাগ আইভি স্যালাইন এবং ক্যাপসুল সহ সব ধরনের চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদের কথা জানিয়েছেন।




বানারীপাড়ায় বাবা-মায়ের কোলে ফিরলেন আব্দুল্লাহর নাবিক আলী

সোমালিয়ার জলদস্যুরা ছিলো হিংস্র প্রকৃতির

বরিশাল অফিস :: নিজ গ্রামে ফিরেছে সোমালিয়ান জলদস্যুদের জিম্মি থেকে মুক্তি পাওয়া বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউপির পশ্চিম উমারের পাড় গ্রামের বাসিন্দা ও এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের নাবিক মো. আলী হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে একাই তিনি বাড়ী ফেরেন। বরিশালের বানারীপাড়ার উপজেলার খেয়াঘাট এলাকায় তাকে বরণ করেন বাবা, স্ত্রী, চাচা ও বন্ধু। পরে তারা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়।

সেখানে নাবিক আলী হোসেন জানান, সোমালিয়ান জলদস্যুদের ছিনতাই করার একদিন পর নেভির একটি জাহাজ আসছিলো “এটাকিং পজিশন নিয়ে” আমাদের রেসকিউ করতে। ওই দিন আমাদের ভয়াবহ অবস্থা ছিলো। তখন কাউন্ট ডাউন করে ফায়ারিংয়ের জন্য প্রিপারেশন নিয়েছিলো। তখন জলদস্যুরা হুমকি দিয়ে বলেছিলো লিভ দ্যা ভ্যাসেল, আদার ওয়াইজ উই উইল ফায়ার। ওরা যখন কাউন্ট ডাউন করতে ছিলো ‘ওয়ান থেকে টেন। সবাই তখন ফ্লোরের মধ্যে শুয়ে গেছিলো। ওরা তখন ওপেন ফায়ার করছিলো, জাহাজের দিকে না “খোলা আকাশের দিকে”। তখন আমাদের জাহাজের ক্যাপ্টেন তখন ওদের চলে যেতে বলেছিলো। তখন আমাদের অনেক হুমকি ধামকি দিয়েছিলো। ওরা তখন বলছিলো আমাদের জীবন বাঁচলে তোদের টা বাঁচবে। তখন সবাই ভয় পেয়েছিলাম ক্রস ফায়ারে মারা যাওয়ার। কিংবা গুলি লেগে আহত হলেও সমুদ্রে তো কোন চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা ছিলো না। তাই সকলের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছিলো। প্রথম এক সপ্তাহ আমরা ভয়ংকর আতংকের মধ্যে ছিলাম।

এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজের অয়েলার পদের নাবিক আলী হোসেন আরো বলেন, নেভির কোন বোট এলে ওরা সেইভাবে প্রিপারেশন নিতো। ওদের কাছে অনেক ভারী অস্ত্র ছিলো। যেগুলো আমরা মুভিতে দেখেছি। আমরা সব অস্ত্রের নামও জানি না। একে ৪৭, মেশিনগান, রকেট লাঞ্চার অনেক ভারী অস্ত্র ছিলো। যেগুলার সামনে আমাদের সাধারন মানুষের করার কিছু ছিলো না। তাই আমরা ওদের কমান্ড ফলো করেছি। ওরা একদম হিংস্র প্রকৃতির। সভ্যতা ওদের কাছে পৌঁছেনি। ওদের খাবার-দাবার চাল চলন এখনো হিংস্র প্রকৃতির। ওদের সাথে সাধারন মানুষের সার্ভাইভ করা কঠিন।

মুক্ত হওয়ার খবরটা ওদের কাছ থেকে শুনিনি। তবে ওদের আচার-আচরনে ঈদের দুইদিন আগে বুঝতে পেরেছি আমরা মুক্তি পাচ্ছি।

আমাদের কোম্পানী সরকারের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ করতে পেরেছে এই কারনে আমাদের সাথে কোন টর্চার করেনি। ওরা বলেছে “আমাদের কোম্পানী অনেক ভাল। তারা দ্রুত যোগাযোগ করেছে।

মুক্ত হওয়ার আগে একটু সমস্যা হয়েছিলো জানিয়ে আলী হোসেন বলেন, ঈদের সময় নামাজের একটি ছবি লিক হয়েছিলো। ওদের একজন ট্রান্সলেটার বিষয়টি দেখে ঈদের পরেরদিন সবাইকে ডেকে ব্রীজে নিয়ে গেছে। তখন তারা বলেছে এই ছবি কে লিক করেছে “কাম টু ফরওয়ার্ড”। তাকে সামনে আসতে বলছে। ইফ সেইভ মাই স্কিন, আই উইল সেইভ ইউ। আমার চামড়া বাঁচলে তোমাদের চামড়া বাঁচবে। ওই দিনটাও আমাদের জন্য ভয়াবহ ছিলো। কিন্তু কোম্পানীর সাথে মীমাংসার পর্যায় চলে যাওয়ায় আমাদের কোন সমস্যা হয়নি।

মা-বাবার কাছে ফিরে আসতে পেরে খুশি আলী হোসেন বলেন, এটা একটা অনাকাঙ্খিত বিষয় ছিলো। এখান থেকে ফিরে আসবো ভাবি নাই। সবাইকে কাছ আসতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ খুশি। নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর প্রতিবেশিরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধরা ছুটে আসেন। তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন আলী হোসেন।

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ার ঘটনার বর্ননায় আলী হোসেন জানান, ১২ মার্চ আমার ডিউটি অফ ছিল, আরকি আমার অফ ডে। ঘটনার সময় আমি ঘুমাচ্ছিলাম। তখন ইমারজেন্সি এলার্ম বেজে ওঠে। আর আমি ঘুম থেকে উঠে ব্রিজের দিক যেতে যেতে মাইকে শুনছিলাম সন্দেহভাজন একটি বোট আমাদের জাহাজের কাছাকাছি আসার কথা।
আমরা সবাই ব্রিজে গিয়ে দেখতে পাই একটি বোট জাহাজের বাম দিক থেকে আসছে। তবে সেখান থেকে তারা জাহাজে উঠতে না পেরে পেছন থেকে ঘুরে ডান দিকে আসে। পরে লেডার আর জ্যাক টাইপের কিছুর সাহায্যে জাহাজে উঠে যায় তারা।

যেটুকু শুনেছি এক দেড়মাস আগে ইরানিয়ান একটি ফিশিং বোট ওরা জিম্মি করে আর সেটা নিয়ে মধ্যসাগরে ওরা ঘুরছিলো বড় জাহাজ আটকানোর জন্য। স্পিডবোট দিয়ে তো অতদূর যাওয়া সম্ভব না। যা হোক আমাদের ধরার পর ওদের (ইরানি জাহাজ) রিলিজ করে দেয়।

তিনি বলেন, এরআগেই আমাদের ক্যাপ্টেন সবার সাথে যোগাযোগ করছিল, আর ইঞ্জিন রুমের একজন ছাড়া আমাদের সবাইকে জাহাজের গোপন রুমে নিয়ে রাখে চিফ অফিসার। তবে ওরা জাহাজে উঠেই আমাদের ক্যাপ্টেন আর চিফ অফিসারকে আটকে ফেলায় বাধ্য হয়ে আমাদের স্যারেন্ডার করতে হয়। তখন হাত উপরে দিয়ে অনেকটা মুরগির মতো করে সবাইকে ব্রিজে যেতে হয়। হাটু গেড়ে সবাই সেখান অবস্থান নিয়ে দেখি দস্যুদের সবার হাতে অস্ত্র। সেগুলো না চিনলেও দেখা মুভির সাথে মিলিয়ে মনে হয়েছে একে ৪৭ হবে।

তিনি বলেন, প্রথম দফায় ওরা চারজন থাকলেও পরে আরও এসে ১৩-১৪ জন হয়। পরে একটু রিলিজ দিলে সবাই যে যার মতো করে বাসায় ও অফিসে যোগাযোগ করে। এরপর ওরা ফোন নিয়ে নেয় এবং আমাদের সবাইকে ব্রিজেই থাকতে হয়েছে।

পোর্ট থেকে বের হলেই জাহাজে এক থেকে দেড়মাসের খাবার সবার জন্য নিয়ে নেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, রমজান মাস হওয়ায় ক্যাপ্টেন স্যারই পর্যাপ্ত বাজার করেছিলো। তারওপর সে নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে কোম্পানিকে বলে বেশি পানি নিয়ে নিয়েছিল। পানি না থাকলে আমাদের দুঃখ ছিল, এজন্য ক্যাপ্টেন স্যারকে ধন্যবাদ। তবে শেষ দিক ছাড়া খাবারের কারনে তেমনভাবে কষ্ট হয়নি।
তিনি বলেন, জাহাজে ফ্রেশ ওয়াটার না থাকলে আমরা থাকতে পারতাম না। গ্যাপ দিয়ে হলেও ওরা ফ্রেশ ওয়াটারের ব্যবস্থা করেছে।

প্রথমে চাচ্ছিলাম না যে পরিবারকে জানাবো, তবে কি হবে সেই চিন্তায় বড়ভাইকে জানিয়ে বলেছিলাম নেটওয়ার্ক সমস্যার দোহাই দিয়ে যেন তিনি বাসায় সবাইকে বুঝিয়ে রাখে। পরে পরিস্থিতি খারাপ দেখে, জীবনে আর কথা বলতে পারবো কিনা এমন শঙ্কায় সবার সাথে কথা বলেছি। আর যখনই কথা হয়েছি তখনই ভাল কিছু বলার চেষ্টা করেছি বাসায়, যাতে তারা উদ্বিগ্ন না হয়।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে তো ব্রিজ থেকে নামারই সুযোগ দিত না, আর সেখানে মাত্র একটা ওয়াশরুম ছিল সেটিও ওরা ভেঙ্গে ফেলেছিল। ফলে খুবই কষ্ট হয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রথম দিকে ওদের আসার কারণই আমরা বুঝতে পারছিলাম না। তবে মুসলিম দেখে কিছুটা শিথিল আচরণ দেখিয়েছে মাঝে মাঝে। আমরাও চেষ্টা করেছি ওরা যাতে অ্যাগ্রেসিভ না হয় সেভাবে চলার।
তিনি বলেন, প্রথমে ১৩ জন থাকলেও আড়াই দিন পর সোমালিয়া পৌছালে জাহাজে ৩০-৩৫ জন ওঠে। আর শেষ দিকে ৬০-৬৫ জন হয়ে যায়। এরপর ওরা আমাদের সকল খাবার খেয়ে শেষ করে ফেলে।

তিনি বলেন, মুক্তির দিন বেলা ১১ টার দিকে সবাইকে একটি জায়গায় সারিবদ্ধভাবে দাড়াতে বলে। এরপর ছোট একটি বিমান থেকে তিনটি বস্তা ফেলতে দেখি, তবে তার মধ্যে কি ছিল অনুমান করতে পারিনি। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর জানতে পারি ডলার ছিল বস্তায়।

দস্যু আক্রমনের সাথে সাথে আমার থেকেও পরিবারের কথা বেশি মাথায় এসেছিল। বাবা- মা, স্ত্রীর কি হবে এটা ভেবেই কষ্ট লেগেছে বেশি। ওইসময় গুলো মৃত্যুর চেয়েও খারাপ মনে হয়েছিল। মৃত্যু হয়তো হঠাৎ করেই হয়ে যায়, কিন্তু এখান থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব তা কেউ বুঝতে ছিলাম না।

সন্তান বাড়ি আসার সাথে সাথে তাকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন “আজ আমার ঈদের দিন। তাই ছেলের পছন্দের খাবার রান্না করেছেন তিনি।

দেশী মুরগী, শোল ও চিংড়ি মাছ, শাক রান্না করার করেছেন জানিয়ে আলীর মা কোম্পানী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।গত ৯ জুলাই বিয়ে করা স্ত্রী ইয়ামনি ইসলামকে বাড়ী রেখে গত ২৫ নভেম্বর বাড়ি থেকে যান আলী। গত ২৫ নভেম্বর জাহাজে রওনা দেয় সে।

আলীর নববধূ ইয়ামনি ইসলাম বলেন, অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছি। আল্লাহর উপর ভরসা ছিলো তাকে ফিরিয়ে দেবেন। রমজান শেষে আমাদের ঈদ হয়নি। আজ ঈদ আনন্দ।ইয়ামনি ইসলাম দাবি এরপরে যেন এ ধরনের কোন ঘটনার পূনরাবৃত্তি না হয় সেই ধরনের ব্যবস্থা করার। ছেলেকে ফিরে পেয়ে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলীর বাবা ইমাম হোসেন।




কলাপাড়ায় বাবার কাছে চিরকুট লিখে মেয়ের আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা গ্রামে বাবার কাছে চিরকুট লিখে রেখে ঘরের শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে মেয়ে সাদিয়া।

বুধবার সন্ধায় মহিপুর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। সে মহিপুর কো অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও খাজুরা গ্রামের মো. সোলাইমানের মেয়ে।

নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার দুপুরের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে যায় সাদিয়া। কিছুক্ষণ পরে ঘরে থাকা সৎ মা সেফা বেগম সাদিয়া কে ডাকাডাকি করে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে টিনের চালের ফাঁক দিয়ে সাদিয়াকে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ সময় তার ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে তার মরদেহ নামলেও সে আগেই মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

আরো পড়ুন : বাউফলে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউপি সদস্যসহ আহত ২

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, নিহত সাদিয়ার বালিশের নিচ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। পিতার কাছে লেখা চিরকুটে সাদিয়া লিখেছেন- আব্বু আমারে তুমি মাফ কইরা দিও-প্লিজ.. আমি তোমারে অনেক কষ্ট দিছি। বাবা আমি একা থাকি সব সময়। এদুখো আর নিতে পারি নাই আমি। আমি তোমাদের যোগ্য সন্তান হতে পারি নাই কখনো, আমার মরার জন্য কেউই দাই নেই। শুধু এই মিথ্যা দুর্নীয়াটা আমার ভালো লাগে না। আব্বু-আম্মু তোমাদের বোঁজা হয়েই তো ছিলাম এত দিন। আমার বোন টারে দেইখা রাইখো। উড়ে কখনো বাষ্ট দিও না..আর আমার জন্য কোনো কান্না কইরো না, ১০ বছর তো শুধু আমি ছিলাম তোমাদের মেয়ে আর এখন তো রওজ্যও হইছে তাই না এমন বারবা আগের মতো। আগে রওজা ছিল না আমি ছিলাম কিন্তু এখন আমার বোন থাকবে আমি থাকবো না । আল্লাহ হাফেজ।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।




বাউফলে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউপি সদস্যসহ আহত ২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে সাইদুর রহমান নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার বগা ইউনিয়নের শাপলাখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।

আহত সাইদুর রহমান সুমন ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরের নতুন জেটিতে ভিড়ল বিদেশি জাহাজ

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসারেফ হোসেনের এক সমর্থকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল মোতালেবের ভাগ্নে সাইদুর রহমান সুমনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

সাইদুর রহমান সুমনের স্বজনরা জানান, তার অসুস্থ পিতাকে দেখতে বরিশালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন সুমন। পথিমধ্যে অন্য প্রার্থীর সমর্থকরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।




যাত্রী সংকটে বরিশাল-ঢাকা রুটে চলছে একটি লঞ্চ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল ঢাকা নৌ-পথে যাত্রী সংকট চরম আকার ধারন করেছে। এ কারনে এখন জনপ্রিয় এই রুটে একটিমাত্র লঞ্চ চলাচল করছে। মঙ্গলবার বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে মাত্র একটি লঞ্চ। গতকাল বুধবার ছেড়ে গেছে দুইটি। যা সাধারন মানুষের কাছে বিস্ময় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথে যাত্রী সংকট শুরু হয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পূর্বে প্রতিদিন উভয় রুটে ৭ থেকে ৮ টি লঞ্চ চলাচল করতো। সেখান থেকে কমে অর্ধেকে নেমে আসে। এখন তা একটিতে নেমে এসেছে।

বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি পারাবত-১২ লঞ্চের যাত্রী মো. লোকমান হোসেন বলেন, বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে মাত্র একটি লঞ্চ চলবে তা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। এ বিষয়ে বরিশাল নৌ-বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রী সংকটের ফলে মালিক পক্ষের রোটেশনের কারনে একটি করে লঞ্চ চালানো হচ্ছে। কিন্তু দুইটি করে লঞ্চ চালানোর কথা ছিলো।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিদিন ৫/৭ শ’র বেশি যাত্রী হয় না। একটি লঞ্চ দিয়ে তা পরিবহন সম্ভব। তাই হয়তো মালিকরা মিলে একটি করে লঞ্চ চালাচ্ছে।

একটি করে লঞ্চ চালানোর জন্য যাত্রী ভোগান্তি হয় বলে মন্তব্য করেছেন বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সদ্য অবসরে যাওয়া পরিদর্শক মো. কবির হোসেন। তিনি বলেন, বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলের জন্য ২০ টি লঞ্চ রয়েছে।

প্রতিদিন ঢাকা থেকে ৬/৭টি এবং একইভাবে বরিশাল থেকে ৬/৭টি ছেড়ে যেতো। ঈদ ও কোরবানীর সময় একেকদিন ২০/২৫ টি লঞ্চও চলাচল করেছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যাত্রী সংকট শুরু হয়। বর্তমানে যে যাত্রী রয়েছে তাতে দুইটি লঞ্চ ঠিক ছিলো। কিন্তু একটি লঞ্চ চলাচল যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটি লঞ্চ চালানোর কারনে কেবিন নিয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ নয়, ছয় করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটি লঞ্চে ঠাসা যাত্রী। তবে সেটি ধারনক্ষমতার বেশি নয়। লঞ্চের নিচতলা ও দুই তলার ডেকে যাত্রীভর্তি।

লঞ্চ যাত্রীরা জানিয়েছেন, দুইটি লঞ্চ থাকলে তারা স্বাচ্ছন্দে যেতে পারতেন। কিন্তু একটি লঞ্চ হওয়ায় গাদাগাদি করে যেতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লঞ্চ কর্মচারীরা জানান, যে যাত্রী রয়েছে তা নিয়ে দুইটি লঞ্চ চললে আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই একটি লঞ্চ চালানো হচ্ছে। তারা স্বীকার করেছেন, একটি লঞ্চ চলাচল করায় যাত্রীরা একটু গাদাগাদি হয়।

দেশের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় নৌ-রুট বরিশাল-ঢাকা। লিফটসহ নানা অত্যাধুনিক সুবিধার লঞ্চগুলোতে এক সময় যাত্রীদের উপচে পড়া ভীড় থাকতো। ভিভিআইপি, ভিআইপি, সেমি ভিআইপি, প্রথম শ্রেণির এক শয্যা ও দুই শয্যার কেবিন, সোফা পেতে ধর্না ধরতে হতো। কিন্তু পদ্মা সেতু পাল্টে দেয় সেই চিত্র। যাত্রী সংকটের কারনে লঞ্চের সংখ্যা কমতে শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, যাত্রী সংকটের অজুহাত দিয়ে বরিশাল-ঢাকা রুটের লঞ্চ মালিকরা সিন্ডিকেট করে। তারা রোটেশনের মাধ্যমে লঞ্চের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। এখনো যে পরিমান যাত্রী রয়েছে। তাতে প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লঞ্চ প্রয়োজন। কিন্তু মালিকরা বিআইডব্লিউটিএ ও যাত্রীদের জিম্মি করে একটি/দুইটি লঞ্চ চালায়। এতে ভোগান্তিতে যাত্রীরা।

তবে লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, যাত্রী সংকটে লঞ্চ এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রত্যেক লঞ্চ মালিক কম বেশি ঋন নিয়েছেন। তারা এখন ঠিকমতো ঋনের টাকা পরিশোধ করতে পারেন না। একটি লঞ্চ ব্যাংক নিয়ে গিয়ে কেটে বিক্রি করছে। এক স্বনামধন্য কোম্পানীর একটি লঞ্চ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

শুধু ঢাকা বরিশাল নয়, দক্ষিনাঞ্চলের সকল রুটে যাত্রী নেই জানিয়ে সুন্দরবন নেভিগেশনের মালিক রিন্টু বলেন, এ ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এজন্য সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে।